যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় দুটি বড় আকারের কুকুরের হিংস্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছে জেসিওন গেটস নামের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার কিছু আগে চার্লসটন শহরের প্রায় ২০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে ল্যাডসন এলাকায় শিশুটির কেয়ারগিভারের (তত্ত্বাবধায়ক) বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এ সময় কুকুরের হামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কাউন্টি শেরিফ ডিপার্টমেন্ট।
পুলিশ জানায়, বুল ম্যাস্টিফ এবং পিটবুল টেরিয়ার জাতের দুটি কুকুর শিশুটির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ডরচেস্টার কাউন্টি শেরিফ অফিসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলার পরপরই তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে কুকুর দুটিকে জব্দ করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কোন কুকুরটি প্রথমে আক্রমণ করেছিল বা মূল হামলাকারী ছিল, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কুকুর দুটির চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট প্রাণী নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।
পরিবারের কাছে অত্যন্ত আদরের জেসিওন ছিল অটিজমে আক্রান্ত, তবে সে ছিল দারুণ প্রাণবন্ত ও উচ্ছল। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যয়ভার বহন এবং শোকাহত মা ও বোনকে সহায়তার জন্য আত্মীয়রা 'গোফান্ডমি'-তে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছেন। ১০ হাজার ডলার লক্ষ্যমাত্রার এই তহবিলে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ডলার জমা পড়েছে।
এছাড়া আগামী ৫ জুলাই শিশুটির স্মরণে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রিয় 'লিটল ওয়ারিয়র' বা খুদে যোদ্ধাকে সম্মান জানাতে অংশগ্রহণকারীদের পাওয়ার রেঞ্জার, প ট্রল এবং গাড়ির থিমযুক্ত বেলুন নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক শিশু মৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনে বর্তমানে স্টেট ল এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন, ডিপার্টমেন্ট অব চাইল্ড ফ্যাটালিটিস এবং স্থানীয় শেরিফ অফিস যৌথভাবে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
হলিউড সিনেমা ‘আনকাট জেমস’-এ অভিনয় করে খ্যাতি পাওয়া নিউইয়র্কের ডায়মন্ড ডিস্ট্রিক্টের প্রখ্যাত জুয়েলার মাকসুদ আগাদজানির বিরুদ্ধে প্রাক্তন প্রেমিকাকে চরম হেনস্থা ও তার জীবন ধ্বংস করার অভিযোগ উঠেছে। ৩৮ বছর বয়সী এই ধনকুবের ট্র্যাক্সএনওয়াইসি (TraxNYC)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। স্নুপ ডগ, কার্ডি বি থেকে শুরু করে মিস্টার বিস্টের মতো তারকারা তার ক্লায়েন্ট। সম্প্রতি ২৭ বছর বয়সী মেলিসা কুল্লা নামের তার এক প্রাক্তন কর্মী ও প্রেমিকা ফেডারেল আদালতে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার দুই বছর পর মাকসুদের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি মেলিসার ওপর এই অমানবিক মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, মাকসুদ তার প্রাক্তন প্রেমিকাকে উদ্দেশ্য করে অসংখ্য অকথ্য ও হুমকিমূলক টেক্সট মেসেজ পাঠান। এমনকি মেলিসার আলবেনিয়ান বংশপরিচয় নিয়ে কটূক্তি করে তাকে বারবার 'আলবেনিয়ান মাঙ্কি' এবং 'স্টুপিড মাঙ্কি-ব্রেইনড' বলে চরম বর্ণবাদী গালিগালাজ করেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মাকসুদ পুনরায় তাদের সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মেলিসা যখন কমেডিয়ান পিট ডেভিডসনের মতো পুরুষ সেলিব্রিটি ক্লায়েন্টদের সাথে পেশাগত কারণে কথা বলতেন, তখন মাকসুদ ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে অকারণে অপদস্থ করতেন। এর কয়েক সপ্তাহ পর মাকসুদ হঠাৎ বিয়ের প্রস্তাব দিলে মেলিসা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন, আর এরপর থেকেই শুরু হয় এই ভয়ংকর মানসিক নির্যাতন। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, গালিগালাজ ও মানসিক চাপের কারণে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে মেলিসা চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু তাতেও মাকসুদের প্রতিহিংসা থামেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার লাখ লাখ অনুসারীকে ব্যবহার করে তিনি মেলিসাকে ডায়মন্ড ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুরোপুরি বয়কট করার ব্যবস্থা করেন। যেসব ব্যবসায়ী মেলিসার সাথে কাজ করার চেষ্টা করেছেন, তাদেরও প্রকাশ্যে হুমকি দেন তিনি। মাকসুদ ইনস্টাগ্রামে তার ৪১ লাখ ফলোয়ারের উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তা দিয়ে মেলিসার চরিত্র নিয়ে চরম আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং তাকে পথে বসানোর প্রকাশ্য হুমকি দেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে মেলিসা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন এবং আদালতের কাছ থেকে একটি সুরক্ষা আদেশ (অর্ডার অব প্রটেকশন) লাভ করেন। কিন্তু মাকসুদ আদালতের সেই নির্দেশ অমান্য করে মেলিসার রুমমেটকেও হেনস্থা করেন। এমনকি 'মিকি বি' নামের তৃতীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে মেলিসার অত্যন্ত ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত তথ্য ইউটিউবে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। মেলিসার আইনজীবী মিশেল কাইওলা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কারও যত ফলোয়ার বা প্রভাবই থাকুক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ক্রমাগত এমন ভয়ংকর হুমকির কারণে মেলিসা বর্তমানে গভীর বিষণ্নতা ও আত্মঘাতী চিন্তায় ভুগছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের চিকিৎসা ও খাবারের টাকা চুরি করে বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনডুকা লুইস একপেনিয়ং নামের ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি 'মেডিকেইড' প্রোগ্রামের আওতায় শিশুদের জন্য বরাদ্দ করা দামি স্পেশাল ফর্মুলা না দিয়ে সস্তা মানের পিডিয়াশিওর (PediaSure) সরবরাহ করতেন। এরপর সরকারের কাছে দামি ফর্মুলার বিল জমা দিয়ে মাঝখানের বিপুল পরিমাণ পার্থক্য নিজের পকেটে পুরতেন। এভাবেই তিনি সরকারের প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস। আদালতে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, লুইস ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ব্রুকলিনভিত্তিক তার কোম্পানি 'ডিউক মেডিকেল এলএলসি'-এর মাধ্যমে এই জালিয়াতি চালিয়ে যান। চিকিৎসকরা যখন অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য বিশেষ ও দামি ফর্মুলার নির্দেশ দিতেন, তখন লুইসের কোম্পানি সেই শিশুদের হাতে সস্তা মানের ওভার-দ্য-কাউন্টার পণ্য ধরিয়ে দিত। এমনকি অনেক সময় তারা শিশুদের কোনো খাবারই সরবরাহ করত না। অথচ কাগজে-কলমে সরকারের কাছে চড়া মূল্যের বিল ঠিকই আদায় করে নেওয়া হতো। এর ফলে বহু দরিদ্র পরিবারের শিশু তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অমানবিক এই প্রতারণার টাকায় লুইস গড়ে তুলেছিলেন এক রাজকীয় জীবন। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি নিউইয়র্কের অভিজাত হিউলেট এলাকায় ১.৬ মিলিয়ন ডলারের একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কেনেন। এছাড়া ৭০ হাজার ডলারের একটি কালো বেন্টলি, ৬৭ হাজার ডলারের রেঞ্জ রোভারসহ আরও নানা শৌখিন জিনিস কেনেন তিনি। এমনকি বাড়ির সামনে মার্বেল পাথরের ফোয়ারা, আউটডোর কিচেন এবং নিজের নামের আদ্যক্ষর লেখা একটি বিশাল লাল রঙের বাস্কেটবল কোর্টও তৈরি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, নিজের প্রেমিকার জন্য ৩৩ হাজার ডলারের একটি মার্সিডিজ গাড়িও কেনেন তিনি, অথচ সেই প্রেমিকা নিজেও সরকারি মেডিকেইড সুবিধার তালিকাভুক্ত ছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস এক বিবৃতিতে এই জালিয়াতিকে 'হৃদয়হীন প্রতারণা' বলে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, তার অফিস এই ঘৃণ্য চক্রটি চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে। যখন লুইস প্রতারণার টাকায় বিলাসবহুল গাড়ি কিনছিলেন, তখন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে সংগ্রাম করছিল। লুইসের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড লারসিনি (বড় অঙ্কের চুরি) এবং স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি চুরি হওয়া ২.৬ মিলিয়ন ডলারসহ মোট প্রায় ৭.৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে তার বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলাও দায়ের করেছে প্রসিকিউটররা।
প্রায় দুই দশক আগে বিশ্বের প্রথম ‘গর্ভবতী পুরুষ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন টমাস বিটি। তবে ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার আদায়ের এই পথিকৃৎ এবার অপ্রাপ্তবয়স্কদের জেন্ডার পরিবর্তনের (জেন্ডার-অ্যাফার্মিং কেয়ার) তাড়াহুড়োর তীব্র সমালোচনা করেছেন। বর্তমানে ৫৩ বছর বয়সী এবং চার সন্তানের এই পিতা জানিয়েছেন, বয়ঃসন্ধিকালে এমন চিকিৎসার বর্তমান যে প্রবণতা চলছে, তা যদি ১৮ বছর আগেও থাকত, তবে তার পক্ষে হয়তো কখনোই নিজের পরিবার গঠন করা সম্ভব হতো না। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরেই তিনি সার্জারির মতো বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টমাস বলেন, "আমি আনন্দিত যে আমি আজকের দিনে কিশোর নই। কারণ তা হলে হয়তো অল্প বয়সেই হরমোন গ্রহণ করতাম এবং দ্রুত সার্জারি করে ফেলতাম। ফলে আজ আমার যে সন্তানরা আছে, তাদের হয়তো আমি পেতাম না।" তিনি আরও বলেন, এত বেশি তথাকথিত 'সমর্থন' দেখে হয়তো অপরিপক্ব বয়সেই অন্যদের মতো তিনিও একই কাজ করতেন। তার মতে, অল্প বয়সে মনে হয় যেন সবকিছু বুঝে ফেলেছি, কিন্তু বাস্তবে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত মানুষের মস্তিষ্কের পুরোপুরি বিকাশ ঘটে না। বয়ঃসন্ধিকালীন ব্লকার বা হরমোন ট্রিটমেন্ট নিয়ে ফেললে ভবিষ্যতে নিজের পরিবার গঠনের সম্ভাবনা চিরতরে মুছে যায় বলে তিনি কিশোর-কিশোরীদের সতর্ক করেন। জন্মগতভাবে নারী টমাস পরবর্তীতে জেন্ডার-অ্যাফার্মিং টপ সার্জারি করান। ২০০৭ সালে দাড়িওয়ালা ও গর্ভবতী অবস্থায় তার ছবি প্রকাশ্যে এলে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। প্রথম স্ত্রী ন্যান্সি জরায়ু অস্ত্রোপচারের কারণে সন্তান জন্মদানে অক্ষম হওয়ায় টমাস নিজেই গর্ভধারণের সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রথম 'বৈধ' গর্ভবতী পুরুষ হিসেবে পরিচিতি পান। ২০০৮ সালে প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ২০১২ সালে বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত এই দম্পতির ঘরে আরও দুই সন্তান আসে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্ত্রী অ্যাম্বারের সঙ্গে তার চতুর্থ সন্তান জন্ম নেয় (অ্যাম্বার জন্ম দেন)। টমাস জানান, তিনি কখনোই নিজেকে মা হিসেবে অনুভব করেননি, বরং তিনি ছিলেন পৃথিবীতে নতুন প্রাণ আনার একটি মাধ্যম মাত্র। সমাজে তার ভূমিকা সর্বদা একজন স্বামী ও বাবারই ছিল এবং আছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসাসেবা বর্তমানে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়। সমালোচকদের মতে, স্থায়ী পরিবর্তনের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শিশু-কিশোররা যথেষ্ট পরিপক্ব নয়। অন্যদিকে, সমর্থকদের দাবি—এই চিকিৎসা লিঙ্গগত অসন্তোষ (জেন্ডার ডিসফোরিয়া) দূর করে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। উল্লেখ্য, ১৯ বছরের কম বয়সীদের জেন্ডার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সীমিত করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন, তবে সে পদক্ষেপটি বর্তমানে ফেডারেল আদালতের নির্দেশে সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।