আমেরিকা

আমেরিকায় ভয়াবহ দাবানল, ১৬০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস ও হাজার হাজার মানুষ উচ্ছেদ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১১:১০
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো সিটির কাছে অ্যাসপেন এক্রেস দাবানল নিয়ন্ত্রণে পানি বর্ষণ করছে একটি অগ্নিনির্বাপক বিমান | ছবি: এপি
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো সিটির কাছে অ্যাসপেন এক্রেস দাবানল নিয়ন্ত্রণে পানি বর্ষণ করছে একটি অগ্নিনির্বাপক বিমান | ছবি: এপি

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভার শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে এক ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। তীব্র ও প্রতিকূল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত কলোরাডোর দুটি কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবারের মধ্যে ১৬০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ও স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আগুনের তীব্রতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ওই অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

 

অ্যাস্পেন একরস নামের এই ভয়াবহ দাবানলটি বর্তমানে আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে জ্বলতে থাকা প্রায় ৪০টি বড় অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকাণ্ডের একটি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত কয়েক মাসের চরম শুষ্ক আবহাওয়া এবং গত শীতকালে রেকর্ড পরিমাণ কম তুষারপাতের কারণেই এই অঞ্চলের বনাঞ্চলগুলো এতটা অগ্নিঝুঁকিতে পড়েছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এই আগুন প্রায় ১১৫ বর্গমাইল এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পুয়েবলো জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। পুয়েবলো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ২ হাজার ২০০ বাসিন্দার বসতি কলোরাডো সিটিসহ বিউলাহ, রাই এবং সান ইছাবেল শহরের সমস্ত মানুষকে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

আগুনের ভয়াবহতা এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় কাস্টার ও পুয়েবলো কাউন্টির সড়কগুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বা চেকপয়েন্ট তদারকি করতে শুক্রবার ন্যাশনাল গার্ডের প্রায় ৫০ জন সেনাকে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহের কাজ নির্বিঘ্ন করতে সাধারণ নৌকাগুলোকে দূরে রাখার কাজে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা স্টেট পার্ক রেঞ্জারদের সহায়তা করছেন।

 

রকি পর্বতের পশ্চিম দিকে কলোরাডো ও ইউটা সীমান্তের স্নাইডার ফায়ার নামের আরেকটি দাবানলের প্রায় ৬৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন দমকলকর্মীরা। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সেখানে আগুন নেভানোর কাজ করার সময় অগ্নিশিখার কবলে পড়ে একটি হেলিকপ্টার দলের তিন সদস্য নিহত এবং আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এছাড়া ইউটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কটনউড আগুন এবং দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ব্যাবিলন আগুনও দ্রুত বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
মিশিগানে শক্তিশালী বজ্রঝড়ের পর বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে কথা বলছেন স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী | ছবি: আমেরিকা বাংলা
ঝড়ে অন্ধকারে মিশিগানের বহু এলাকা, তীব্র গরমে দুর্ভোগে বাংলাদেশি পরিবার

মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় আঘাত হানা শক্তিশালী বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় ৬০ মাইলের বেশি গতির দমকা হাওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ডেট্রয়েট মেট্রো এলাকাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪০ জন গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন। পরে রাত ১১টা নাগাদ ডিটিই ও কনজিউমার্স এনার্জির সেবা এলাকাসহ পুরো মিশিগানে বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা ৪ লাখেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়।     শনিবার সকাল পর্যন্তও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ডিটিই এনার্জি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত, উপড়ে পড়া গাছ সরানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের কাজ চলছে।     এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক পরিবারও চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান ও রেফ্রিজারেটর বন্ধ রয়েছে। ফলে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক পরিবার।   এ পরিস্থিতিতে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলেন মিশিগান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝড়ের পর থেকে তার নিজের বাসাতেও বিদ্যুৎ নেই।   মিনহাজ চৌধুরী বলেন, “গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমাদের বাসায় বিদ্যুৎ নেই। প্রচণ্ড গরমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব কষ্টে সময় কাটছে। শুধু আমাদের নয়, আশপাশের অনেক বাংলাদেশি পরিবারেরও একই অবস্থা। সবাই অপেক্ষা করছেন কখন বিদ্যুৎ ফিরে আসবে।”   তিনি আরও বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবে ইউটিলিটি কোম্পানির কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।   উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই মিশিগানসহ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট একসঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া এবং বিদ্যুৎ না থাকলে নিরাপদ ও শীতল স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১২:১
মিনেসোটায় দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক হকি খেলোয়াড়কে যৌন নিপীড়নের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত অ্যালিসন শার্ডিন ও তাঁর পাশে থাকা স্বামী অ্যান্থনি শার্ডিন | ছবি: ফেসবুক/অ্যালিসন শার্ডিন

কিশোরদের যৌন নির্যাতনকারী স্ত্রীর পাশে থাকার ঘোষণা দিলেন মার্কিন স্বামী

২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ভবিষ্যৎ অখণ্ডতা নিয়ে নাগরিকদের সংশয় | ছবি: রয়টার্স/হ্যানা বেয়ার

আমেরিকার ২৫০তম বার্ষিকী, আরও ২৫০ বছর টিকে থাকা নিয়ে সংশয়ে ৪০ শতাংশ নাগরিক

বাল্টিমোরে পুলিশের ট্রাফিক সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোপেড চালকের মৃত্যু | ছবি: সিবিএস নিউজ

আমেরিকায় ট্রাফিক পুলিশের তাড়া খেয়ে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা, মোপেড চালকের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে গিগ ইকোনমির মাধ্যমে বৈধভাবে অতিরিক্ত বা নিয়মিত আয় করার বিভিন্ন সুযোগ | ছবি: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি থাকলে আয়ের ১১ কার্যকর উপায়, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রে একটি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগত গাড়ি শুধু দৈনন্দিন যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি নিয়মিত বা অতিরিক্ত আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদও হতে পারে। গিগ ইকোনমি, ই-কমার্স এবং অন-ডিমান্ড সেবার ব্যাপক বিস্তারের ফলে বর্তমানে একটি গাড়ি ব্যবহার করে ফুল-টাইম, পার্ট-টাইম কিংবা অবসর সময়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মূল চাকরির পাশাপাশি কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করে মাসে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত আয় করছেন।   তবে যেকোনো ধরনের কাজ শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার শর্ত, ড্রাইভিং রেকর্ড, বীমা, কর-সংক্রান্ত নিয়ম এবং স্থানীয় আইন সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত।   ১। রাইডশেয়ার সেবা - যাত্রী পরিবহন সেবা বর্তমানে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে আয়ের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। Uber ও Lyft-এর মতো প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করে নিজের সুবিধামতো সময়ে যাত্রী পরিবহন করা যায়। কর্মব্যস্ত সময়, সপ্তাহান্ত কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানের সময় সাধারণত আয়ের সুযোগ বেশি থাকে।   ২। খাবার ডেলিভারি - DoorDash, Uber Eats এবং Grubhub-এর মতো প্ল্যাটফর্মে রেস্টুরেন্টের খাবার গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিয়ে আয় করা যায়। যাত্রী বহনের প্রয়োজন না থাকায় অনেকেই এই কাজকে তুলনামূলক সহজ মনে করেন। নিয়মিত ডেলিভারি ও ভালো সেবার মাধ্যমে টিপস থেকেও অতিরিক্ত আয় সম্ভব।   ৩। গ্রোসারি ডেলিভারি - অনলাইনে বাজার করার প্রবণতা বাড়ায় Instacart, Walmart Spark Driver এবং Shipt-এর মতো সেবায় কাজের সুযোগও বেড়েছে। এসব কাজে দোকান থেকে পণ্য সংগ্রহ করে গ্রাহকের বাসায় পৌঁছে দিতে হয়।   ৪। প্যাকেজ ডেলিভারি - ই-কমার্সের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে পার্সেল ডেলিভারির চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। Amazon Flex, Roadie কিংবা Veho-এর মতো প্ল্যাটফর্মে নির্দিষ্ট রুটে প্যাকেজ সরবরাহ করে আয় করা যায়। বিশেষ করে ছুটির মৌসুমে এ ধরনের কাজের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।   ৫। মেডিকেল কুরিয়ার - হাসপাতাল, ক্লিনিক, ল্যাবরেটরি ও ফার্মেসির জন্য ওষুধ, পরীক্ষার নমুনা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনের কাজও একটি সম্ভাবনাময় আয়ের ক্ষেত্র। এই ধরনের কাজে সময়নিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব বেশি।   ৬। ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া দিয়ে আয় - নিজের গাড়ি প্রতিদিন ব্যবহার না করলে সেটি ভাড়ায় দিয়েও আয় করা সম্ভব। Turo-এর মতো কার-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে গাড়ি তালিকাভুক্ত করে ঘণ্টা, দিন বা সপ্তাহভিত্তিক ভাড়া দেওয়া যায়। বিশেষ করে বিমানবন্দর, পর্যটন এলাকা এবং বড় শহরগুলোতে এ ধরনের সেবার চাহিদা তুলনামূলক বেশি। একাধিক গাড়ি থাকলে এটিকে ছোট পরিসরের ব্যবসায়ও রূপ দেওয়া সম্ভব।   ৭। মোবাইল সার্ভিস ব্যবসা - গাড়ি ব্যবহার করে গ্রাহকের বাড়ি বা কর্মস্থলে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া যায়। যেমন—মোবাইল কার ওয়াশ, গাড়ি ডিটেইলিং, মোবাইল নোটারি, কম্পিউটার মেরামত বা প্রযুক্তিগত সহায়তা। দক্ষতা থাকলে এটি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হতে পারে।   ৮। রিয়েল এস্টেট ও ফিল্ড সেলস - রিয়েল এস্টেট এজেন্ট, বীমা প্রতিনিধি, ফিল্ড মার্কেটিং বা আউটসাইড সেলসের মতো পেশায় নিয়মিত বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। নির্ভরযোগ্য গাড়ি থাকলে এসব পেশায় কাজ করা সহজ হয় এবং কমিশনভিত্তিক ভালো আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।   ৯। স্থানীয় ব্যবসার ডেলিভারি - অনেক স্থানীয় রেস্টুরেন্ট, ফুলের দোকান, বেকারি, ফার্মেসি ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ডেলিভারি চালক নিয়োগ দিয়ে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বা খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কাজের সুযোগ রয়েছে।   ১০। একাধিক প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজ - অনেক অভিজ্ঞ চালক একটি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর না করে দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করেন। যেমন সকালে প্যাকেজ ডেলিভারি, দুপুরে গ্রোসারি ডেলিভারি এবং সন্ধ্যায় রাইডশেয়ার বা খাবার ডেলিভারির কাজ করে আয়ের সুযোগ বাড়ানো যায়।   ১১। ছোট পরিবহন ও মুভিং সার্ভিস - যাদের এসইউভি, মিনিভ্যান বা পিকআপ ট্রাক রয়েছে, তারা ছোটখাটো আসবাবপত্র পরিবহন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে কেনা পণ্য সরবরাহ কিংবা বাসা বদলের মতো কাজে সেবা দিয়ে ভালো আয় করতে পারেন। অনেক এলাকায় এ ধরনের সেবার চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি গাড়ি ব্যবহার করে আয় করার ক্ষেত্রে শুধু আয়ের দিকটি নয়, জ্বালানি খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ, বীমা, কর এবং গাড়ির অবচয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা, নিরাপদ ড্রাইভিং এবং সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত গাড়িকে নিয়মিত আয়ের কার্যকর উৎসে পরিণত করা সম্ভব।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১১:১৪
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো সিটির কাছে অ্যাসপেন এক্রেস দাবানল নিয়ন্ত্রণে পানি বর্ষণ করছে একটি অগ্নিনির্বাপক বিমান | ছবি: এপি

আমেরিকায় ভয়াবহ দাবানল, ১৬০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস ও হাজার হাজার মানুষ উচ্ছেদ

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সমালোচিত ও নিজস্ব ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে শতকোটি ডলার আয় করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: কেভিন ওয়ার্ম/রয়টার্স

প্রেসিডেন্ট হয়েই ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের আয় ১০০ কোটি ডলার! ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন মার্কিনিরা

অ্যারিজোনায় ডাক্তার কর্তৃক মৃত ঘোষণার সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর মর্গের কোল্ড রুম থেকে জীবন্ত উদ্ধার হওয়া শিশু | ছবি: গোফান্ডমি

মৃত ঘোষণার সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর মর্গে জীবন্ত মিলল শিশু, মার্কিন ডাক্তারের চরম গাফিলতি!

সান ফ্রান্সিসকোতে ওপেনএআই-এর শেয়ার দিয়ে বাড়ি কেনাবেচার মাধ্যমে আবাসন বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের প্রভাব | ছবি: সংগৃহীত
সান ফ্রান্সিসকোতে ওপেনএআই এর প্রি-আইপিও শেয়ারে বাড়ি কেনাবেচা, নেট দুনিয়ায় ভাইরাল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উত্থান শুধু প্রযুক্তি শিল্পেই নয়, আবাসন বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। নগদ অর্থের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর শেয়ার দিয়ে বাড়ি কেনাবেচার ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের (প্রি-আইপিও) শেয়ার দিয়ে বাড়ি কেনার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সম্প্রতি এক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের রিয়েল এস্টেট এজেন্টের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের একটি অংশ প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, সান ফ্রান্সিসকোর নোয়ে ভ্যালি এলাকার একটি বাড়ি কেনার জন্য তিনি বিক্রেতার চাওয়া দামের চেয়ে চার লাখ ডলার বেশি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়নি।   পরে তার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট জানান, বাড়ির মালিক এমন একজন ক্রেতাকে বেছে নিয়েছেন, যিনি নগদ অর্থের পরিবর্তে ওপেনএআই-এর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের শেয়ার দিয়ে মূল্য পরিশোধ করতে সম্মত হয়েছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রযুক্তি ও রিয়েল এস্টেট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   বিলাসবহুল আবাসন প্রতিষ্ঠান সাদেবিসের (Sotheby’s) সহযোগী ব্রোকার কেভিন ও’কনরের ভাষ্য, সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় এলাকায় এ ধরনের লেনদেন এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তার দাবি, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রি-আইপিও শেয়ার দিয়ে সম্পদ কেনাবেচার আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছে।   তার মতে, অনেক বাড়ির মালিক মনে করছেন, দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। তাই নগদ অর্থ গ্রহণের পরিবর্তে তারা এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। অনেক বিক্রেতার বিশ্বাস, কয়েক বছর পর এসব শেয়ারের মূল্য বর্তমান নগদ অর্থের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।   সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আহমেদ বানাফা বলেন, এই প্রবণতা শুধু বাড়ির বিক্রেতাদের জন্যই নয়, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্যও ইতিবাচক হতে পারে। কারণ যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অর্থের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হতে শুরু করে, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দৃঢ় হয় এবং শেয়ারের বাজারমূল্যও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারে।   তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের লেনদেনের সঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর যদি প্রত্যাশামতো শেয়ারের মূল্য না বাড়ে বা কমে যায়, তাহলে সেই শেয়ারের মালিক আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বড় অঙ্কের করের বোঝার মুখেও পড়তে পারেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সান ফ্রান্সিসকোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের কারণে গত এক বছরে আবাসন বাজারে বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বহু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও উদ্যোক্তা এখন শহরের অভিজাত এলাকায় বাড়ি কিনতে প্রতিযোগিতা করছেন। এর ফলে প্রচলিত নগদ লেনদেনের পাশাপাশি নতুন ধরনের সম্পদ বিনিময়ের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।   বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বেশি আবাসন লেনদেনে প্রি-আইপিও শেয়ার ব্যবহারের ঘটনা দেখা যেতে পারে। যদিও ওপেনএআই এখন পর্যন্ত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবুও বাজারে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য মূল্য নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। সেই কারণেই অনেক বিনিয়োগকারী ও সম্পত্তি বিক্রেতা এসব শেয়ারকে ভবিষ্যতের উচ্চমূল্যের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১০:২২
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের এক পাইলটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া বার্ষিক বেতনের স্লিপ | ছবি: রয়টার্টস

বছরে সাড়ে ৪ লাখ ডলার বেতন! মার্কিন পাইলটের বেতনের ছবি দেখে নেট দুনিয়ায় তোলপাড়

২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বিশ্বের শীর্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা | ছবি: সংগৃহীত

টেসলার গাড়ি বিক্রি লাফিয়ে বেড়েছে, তিন মাসে গ্রাহকের হাতে পৌঁছেছে প্রায় ৫ লাখ গাড়ি

নিউইয়র্ক সিটির ফুটপাত থেকে আবর্জনা সরাতে এবং ইঁদুরের উপদ্রব কমাতে পার্কিং স্পটে বসানো বিশেষ কনটেইনার ‘এম্পায়ার বিন’ | ছবি: সংগৃহীত

আবর্জনা ও ইঁদুরের উপদ্রব ঠেকাতে নিউইয়র্কে ৩০ হাজার পার্কিং স্পটের জায়গায় বসানো হবে ‘এম্পায়ার বিন’

0 Comments