ফ্লোরিডায় শিক্ষার্থীর রেকর্ড ১১.৯৯ জিপিএর জেরে বদলাতে হচ্ছে স্কুলের গ্রেডিং নীতিমালা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বৈভব ভাস্কর নামের এক শিক্ষার্থী হাইস্কুলে ব্যতিক্রমী রুটিন অনুসরণ করে অবিশ্বাস্য ১১.৯৯ জিপিএ অর্জন করেছেন। তার এই ঐতিহাসিক ফলাফলের পর স্থানীয় স্কুলগুলো তাদের কোর্সের মান মূল্যায়নের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। পাম বিচ পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈভব বর্তমানে ফিন্যান্স ও ইকোনমিকস পড়ার জন্য ডিউক ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার এই অভাবনীয় ফলাফল ফ্লোরিডার পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ ১১.৮৪ জিপিএর রেকর্ড ভেঙে রাজ্যে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
নিজের এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলো পূরণের জন্য বৈভব একটি হোয়াইটবোর্ডের সাহায্য নিতেন। দ্য পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দশম গ্রেডে পড়ার সময়ই তিনি তার রুমে থাকা হোয়াইটবোর্ডে হাইস্কুল জীবনের পাঁচটি মূল লক্ষ্য লিখে রেখেছিলেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল 'ভ্যালিডিকটোরিয়ান' (সেরা শিক্ষার্থী) হওয়া এবং 'রাজ্যের জিপিএ রেকর্ড ভাঙা'। লক্ষ্য নির্ধারণের পর তার কাজ করার দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টে যায়। তিনি জানান, যেকোনো মূল্যে লক্ষ্যগুলো অর্জনের মানসিকতা তৈরি করার পর পুরো বিষয়টি কেবল ধৈর্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে তিনি জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। তার এই দীর্ঘ একাডেমিক যাত্রায় ৪৪টি অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট (এপি) এবং ডুয়াল কলেজ এনরোলমেন্ট ক্লাস অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার সম্মিলিত ভারেই তার জিপিএ এমন আকাশছোঁয়া পর্যায়ে পৌঁছায়।
হিলসবরো কাউন্টির স্কুল কর্মকর্তারা বৈভবের এই অসামান্য কৃতিত্বের প্রশংসা করলেও তারা জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে, কোনো শিক্ষার্থীরই আসলে ১১.৯৯ জিপিএ অর্জনের সুযোগ থাকা উচিত নয়। প্রিন্সিপাল টিফানি ইউয়েল গ্রেডিং সিস্টেমের এই ফাঁকফোকরটিকে একটি "অস্ত্র প্রতিযোগিতা" বা অসম প্রতিযোগিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা মূলত জেলা কর্তৃপক্ষকে তাদের নীতি সংশোধনে বাধ্য করেছে। বর্তমানে অনেক স্কুলেই জিপিএর কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা নেই। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি অফিসে নিজেদের আরও বেশি যোগ্য প্রমাণ করার জন্য শিক্ষার্থীরা চরম মাত্রায় পড়ালেখার চাপ নিতে প্ররোচিত হয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় পাম বিচ স্কুল সিস্টেমের মতো অনেক জেলা এখন 'অনার্স পয়েন্ট অ্যাভারেজ' (এইচপিএ) পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, যা গ্রেডগুলো স্তূপ করার বদলে গড় করে এবং শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা বার্নআউট থেকে রক্ষা করে।
মজার বিষয় হলো, বৈভব নিজেও এই নীতি পরিবর্তনের বিষয়টিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। জিপিএকে ৫-পয়েন্ট স্কেলে সীমাবদ্ধ করার মানসম্মত পদ্ধতিটি তারও পছন্দ। তিনি বলেন, "আমি পুরোপুরি এই পরিবর্তনের সঙ্গে একমত, কারণ এটি জিপিএ গণনার অনেক বেশি প্রমিত একটি পদ্ধতি।" তিনি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, জেলার স্কেলে তার ১১.৯৯ জিপিএ স্ট্যান্ডার্ড ৫.০ স্কেলে সম্ভবত ৪.৯৩-এর সমান হবে এবং স্কেল যাই হোক না কেন, কলেজগুলো সবসময় নিজেদের মতো করেই জিপিএ পুনর্মূল্যায়ন করে থাকে। তবে পুরোনো ব্যবস্থার কিছু মজাদার দিকও তিনি হাসিমুখে স্বীকার করেছেন। রসিকতা করে তিনি বলেন, "আমার স্কেলে পাওয়া ওই বিশাল সংখ্যাগুলো দেখতে বেশ ভালোই লাগে, কারণ ৪.৯৩-এর চেয়ে ১১.৯৯ শুনতে নিঃসন্দেহে অনেক বেশি আকর্ষণীয় শোনায়!" এই বিশাল অর্জনের পর বৈভব এখন তার গ্রীষ্মের ছুটি দারুণভাবে উপভোগ করছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরি করতে চান এমন গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফেডারেল, স্টেট ও স্থানীয় সরকারের চাকরির যোগ্যতার নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ফেডারেল সরকারের বেশিরভাগ চাকরিতে মার্কিন নাগরিকত্ব প্রয়োজন হলেও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই গ্রিন কার্ড থাকলেই সব ধরনের সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট বা সরকারি কর্মী ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে ফেডারেল সরকারের চাকরিতে কাজ করতে হলে আবেদনকারীকে মার্কিন নাগরিক বা জাতীয় হতে হয়। বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশ ১১৯৩৫ অনুযায়ী মার্কিন নাগরিক বা জাতীয় ছাড়া কাউকে নিয়োগ দেওয়া যায় না। তবে ফেডারেল সরকারের সব চাকরিকে একই নিয়মে দেখা যাবে না। সরকারি কর্মী ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরি মূলত প্রতিযোগিতামূলক চাকরি, বিশেষ নিয়োগের আওতাভুক্ত চাকরি এবং জ্যেষ্ঠ নির্বাহী চাকরি - এই তিন ধরনের কাঠামোর মধ্যে পড়ে। বিশেষ নিয়োগের আওতাভুক্ত কিছু পদে নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে ভিন্ন যোগ্যতা থাকতে পারে। তাই প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। ফেডারেল চাকরির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কেন্দ্রীয় চাকরির ওয়েবসাইট ইউএসএজবস ব্যবহার করা হয়। সেখানে প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে কারা আবেদন করতে পারবেন, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত কোনো পদে সাধারণত মার্কিন নাগরিক বা জাতীয়রা আবেদন করতে পারেন। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে অ-মার্কিন নাগরিকদের জন্যও ব্যতিক্রম থাকতে পারে। এ কারণে গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য প্রথম ধাপ হলো শুধু সরকারি চাকরি খোঁজা নয়, বরং নির্দিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর যোগ্যতার শর্ত দেখা। কোনো পদে মার্কিন নাগরিকত্ব বাধ্যতামূলক হলে গ্রিন কার্ড থাকলেও সেই পদে আবেদন করা যাবে না। তবে সুযোগ শুধু ফেডারেল সরকারের চাকরিতে সীমাবদ্ধ নয়। স্টেট ও স্থানীয় সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগের যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট স্টেট, কাউন্টি, সিটি বা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব নিয়মের ওপর নির্ভর করে। তাই গ্রিন কার্ডধারী কোনো ব্যক্তি স্টেট বা স্থানীয় সরকারের নির্দিষ্ট পদে আবেদন করতে পারবেন কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তের ওপর নির্ভর করবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু কাজের অনুমতি থাকলেই সব সরকারি পদে আবেদন করার অধিকার তৈরি হয় না। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের শর্ত, নিয়োগের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট পদের অন্যান্য যোগ্যতা আলাদাভাবে পূরণ করতে হয়। প্রয়োজনীয় নিয়োগের শ্রেণির আওতায় না পড়লে আবেদন গ্রহণ নাও করা হতে পারে। ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করার সময় জীবনবৃত্তান্তের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন প্রক্রিয়া উল্লেখ থাকে। পদভেদে জীবনবৃত্তান্ত, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ, কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য এবং অন্যান্য নথি জমা দিতে হতে পারে। কিছু পদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই বা নিরাপত্তা ছাড়পত্রও প্রয়োজন হতে পারে। তাই গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য সহজ নিয়ম হলো, ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে প্রথমে নাগরিকত্বের শর্ত যাচাই করা। এরপর বিজ্ঞপ্তিতে কারা আবেদন করতে পারবেন, সেই অংশটি দেখা এবং সবশেষে সংশ্লিষ্ট পদের যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজের তথ্য মিলিয়ে আবেদন করা। স্টেট, কাউন্টি, সিটি বা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রিন কার্ড থাকলেই সরকারি চাকরি করা যায় না - এমন কথা যেমন সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়, তেমনি গ্রিন কার্ড থাকলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যায় - এটিও সঠিক নয়। চাকরির স্তর, নিয়োগের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট যোগ্যতার ওপর সুযোগ নির্ভর করে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতার শর্ত যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
এইচ-১বি ভিসায় পাঁচ কোম্পানি নিষিদ্ধ, কোম্পানি ব্যান হলে কী হয়, জেনে নিন
নিউইয়র্কে মদ্যপ অবস্থায় টেসলা চালিয়ে নিজের বান্ধবীকেই হত্যা করলেন তরুণী
নিউইয়র্কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গেল পণ্যবাহী ট্রাক, নিহত ৭৭ বছরের বৃদ্ধ, আহত ২
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম আইন ও এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির নিয়ম ভঙ্গের কারণে বর্তমানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এইচ-১বি কর্মসূচিতে নতুন কর্মী নেওয়া বা সংশ্লিষ্ট সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির শ্রম বিভাগ। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সরকারি তালিকা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর এক থেকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের মজুরি ও কর্মঘণ্টা বিভাগ (WHD) প্রতি মাসে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ বা অযোগ্য ঘোষিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর সর্বশেষ তালিকায় রয়েছে গোয়ারাটেক এলএলসি, রেনোটেক গ্রুপ এলএলসি, সিলোজ ইনক., শেরউড অ্যাট মাউন্ট ডোরা ইনক. এবং দা ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনক. শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গোয়ারাটেক এলএলসিকে ১২ মে ২০২৫ থেকে ১১ মে ২০২৭ পর্যন্ত, রেনোটেক গ্রুপ এলএলসিকে ৮ আগস্ট ২০২৫ থেকে ৭ আগস্ট ২০২৭ পর্যন্ত এবং সিলোজ ইনক.-কে ৪ মার্চ ২০২৬ থেকে ৩ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শেরউড অ্যাট মাউন্ট ডোরা ইনক., যা শেরউড একাডেমি নামে ব্যবসা করে, ২৬ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৮ পর্যন্ত এবং দা ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনক., যা দা ভিঞ্চি একাডেমি নামে পরিচালিত, ৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে ২ আগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গোয়ারাটেকের ক্ষেত্রে ছয়টি এবং রেনোটেকের ক্ষেত্রে ৩৪টি এইচ-১বি আবেদন সংশ্লিষ্ট তথ্য সরকারি নথিতে পাওয়া যায়। সিলোজের ক্ষেত্রে চারটি এইচ-১বি আবেদন ছিল। সর্বশেষ দুই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারি তথ্য থেকে সংশ্লিষ্ট এইচ-১বি আবেদনের সংখ্যা স্পষ্ট নয়। তবে এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে নিষিদ্ধ তালিকায় থাকলেও শ্রম বিভাগের আলাদা ‘উইলফুল ভায়োলেটর’ বা গুরুতর নিয়মভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা অনেক বড়। সেখানে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে গোয়ারাটেক, রেনোটেক, সিলোজ, শেরউড একাডেমি এবং দা ভিঞ্চি একাডেমিও রয়েছে। অন্যদিকে সব ‘উইলফুল ভায়োলেটর’ প্রতিষ্ঠান একই সময়ে সক্রিয়ভাবে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ থাকে না। দুটি তালিকা তাই এক নয়। এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ কী এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে কোনো নিয়োগকর্তাকে নিষিদ্ধ করা হলে সেটি সাধারণভাবে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব বিদেশি কর্মীর ভিসা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদ্যমান এইচ-১বি কর্মীদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। তবে নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় নিয়োগকর্তা নতুন এইচ-১বি অনুমোদন নিতে পারে না এবং অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর্মীর ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা স্থায়ী বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিতে পারে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন পরিকল্পনা করা বিদেশি কর্মীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কোনো কর্মীর বর্তমান অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি চলে এলে তাকে অন্য যোগ্য নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়ার পথ খুঁজতে হতে পারে। তবে কোনো নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বলেই সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছাড়তে হবে বা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, এমন নিয়ম নেই। শ্রম বিভাগের বিধিতে গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ওপর জরিমানা, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অভিবাসন কর্মসূচি থেকে নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। লঙ্ঘনের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ সাধারণত এক থেকে দুই বছর হতে পারে, আর কিছু গুরুতর ক্ষেত্রে তা তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে। কেন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয় এইচ-১বি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের সুযোগ দেওয়া। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে থাকা মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকানোর ব্যবস্থা রয়েছে। শ্রম বিভাগ বলছে, এইচ-১বি নিয়োগদাতাদের সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রচলিত মজুরি বা নিজেদের একই ধরনের কর্মীদের দেওয়া প্রকৃত মজুরি, যেটি বেশি, সেটি দিতে হয়। বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়া উচিত নয়। গুরুতর নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ধরনের ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের জন্য প্রতি ঘটনায় সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত সব অভিবাসন কর্মসূচি থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিধান রয়েছে। মার্কিন কর্মীদের চাকরি কি বাড়ে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পদগুলো শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত হয় কি না, সেটি নিয়ে পরিষ্কার সরকারি তথ্য নেই। কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে না পারলে স্থানীয় কর্মী নিয়োগ করতে পারে, আবার কাজের ধরন পরিবর্তন, অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করানো, বিদেশে কাজ সরিয়ে নেওয়া বা প্রতিষ্ঠানের অন্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করার পথও বেছে নিতে পারে। ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের এইচ-১বি সুবিধা বন্ধ হলেই একই সংখ্যক চাকরি মার্কিন কর্মীদের কাছে চলে যাবে, এমন সরল সমীকরণ করা যায় না। এই বিষয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কির্ক ডোরান, আলেকজান্ডার গেলবার ও অ্যাডাম আইসেনের গবেষণায় এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অন্য কর্মীদের কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। তবে গবেষকেরা এটিও দেখেছেন যে এই প্রভাব প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের ধরনভেদে ভিন্ন হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর সঙ্গে যুক্ত গবেষণায় ২০০৭ সালের এইচ-১বি লটারির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশি এইচ-১বি কর্মী পাওয়ার সুযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ, ব্যবসার আকার ও টিকে থাকার হার বেড়েছিল। গবেষণাটিতে সামগ্রিকভাবে একই প্রতিষ্ঠানে জন্মসূত্রে মার্কিন কলেজশিক্ষিত কর্মীদের সরাসরি স্থানচ্যুত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ছোট, দক্ষতানির্ভর এবং উচ্চ উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রভাব আরও বেশি ছিল। শুরু ও নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রেও গবেষণার ফল একমুখী নয়। ২০২১ সালে ‘ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, এইচ-১বি লটারিতে বেশি কর্মী পাওয়ার সুযোগ পাওয়া স্টার্টআপগুলো বেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংগ্রহ, বেশি পেটেন্ট এবং অধিগ্রহণ বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার মতো সফলতার ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল। মজুরি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে এইচ-১বি কর্মসূচিকে ঘিরে আরেকটি বড় বিতর্ক হলো বিদেশি কর্মীদের মজুরি। ২০২৬ সালে অর্থনীতিবিদ জর্জ বোরহাসের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, শিক্ষা, পেশা, বয়স ও অবস্থানের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে এইচ-১বি কর্মীরা তুলনামূলক মার্কিন কর্মীদের চেয়ে কম আয় করেন। গবেষণায় গড়ে প্রায় ১৬ শতাংশ মজুরি ব্যবধানের হিসাব পাওয়া গেছে। তবে এই ফলকে পুরো এইচ-১বি কর্মসূচির চিত্র হিসেবে দেখা উচিত নয়। সমর্থকেরা বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান এমন বিশেষায়িত দক্ষতার কর্মী খুঁজে পায় না, যাদের জন্য এইচ-১বি ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। শ্রম বিভাগের নিয়মেও নিয়োগকর্তাদের বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত মজুরি ও কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত শ্রম বিভাগের সরকারি তালিকায় সক্রিয়ভাবে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পাঁচ। সংখ্যাটি পুরো এইচ-১বি কর্মসূচির তুলনায় খুবই ছোট হলেও, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সেখানে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব কর্মীর দীর্ঘমেয়াদি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরিকল্পনা নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা নিষিদ্ধ হলে ভবিষ্যৎ ভিসা নবায়ন বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সময়ে, নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই পদগুলো শেষ পর্যন্ত মার্কিন কর্মীদের হাতে যাচ্ছে কি না, তা পরিমাপ করার মতো পূর্ণাঙ্গ সরকারি তথ্য এখনো নেই। এই কারণেই এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিয়োগকর্তাকে নিষিদ্ধ করার নীতির প্রভাব শুধু কতটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হলো, তা দিয়ে বিচার করা কঠিন। এর প্রভাব বুঝতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরবর্তী কর্মসংস্থান, নতুন ভিসা গ্রহণ, গ্রিন কার্ডের আবেদন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ নীতির পরিবর্তনও দেখতে হবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ, নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো ও ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ।
চাকরি হারালে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, ঝুঁকিতে ভারতীয় কর্মীরা
ডাউন সিনড্রোম জয় করে ১৭ বছর বয়সেই আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট শ্যানি
নিজ দেশের রাজনীতি ও ব্যয়বহুল জীবন ছেড়ে প্যারিসে বাড়ি কিনছেন মার্কিনীরা
যুক্তরাষ্ট্রে ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের দাবি, আগের প্রশাসনের সময়ে স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থার অতিরিক্ত ফি গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছিল। সেই অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ এখন ফেরত দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিস থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যোগ্য গ্রাহকদের কাছে ৫০০ ডলারের ফেরত অর্থ পাঠানো শুরু হবে অক্টোবর থেকে। তবে এই অর্থ সব ওবামাকেয়ার গ্রাহক পাবেন না। প্রাথমিকভাবে তাদের জন্যই ফেরতের অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে, যারা ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বাজার, অর্থাৎ Healthcare.gov ব্যবহার করেন এবং স্বাস্থ্যবিমার মাসিক প্রিমিয়াম পরিশোধে সরকারি ভর্তুকি পান না। এই সুবিধা ৩০টি অঙ্গরাজ্যের গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসনের সময়ে ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ‘ইউজার ফি’ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নেওয়া হয়েছিল। এসব ফি শেষ পর্যন্ত বিমার প্রিমিয়ামের মাধ্যমে গ্রাহকদের ওপর পড়েছিল। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বড় একটি তহবিল উদ্বৃত্ত থেকে যায়, যা গ্রাহকদের সুবিধায় ব্যবহার করা হয়নি। ট্রাম্প তার ভিডিও বার্তায় বলেন, অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়াই তার প্রশাসনের লক্ষ্য এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। হোয়াইট হাউস এই অর্থকে আগের প্রশাসনের সময়ে নেওয়া অতিরিক্ত ফি ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে। যেসব অঙ্গরাজ্যের গ্রাহক এই ফেরত পাওয়ার আওতায় থাকবেন, সেগুলো হলো আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং। এই ৩০টি অঙ্গরাজ্য ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বাজার ব্যবহার করে তাদের ওবামাকেয়ার বাজার পরিচালনা করে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কের মতো যেসব অঙ্গরাজ্য নিজেদের স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থা পরিচালনা করে, সেগুলো এই তালিকায় নেই। তবে এই ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার অর্থ ঠিক কোন উৎস থেকে আসবে এবং এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিষ্কার করা হয়নি। একই সঙ্গে প্রত্যেক যোগ্য গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে ৫০০ ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করেছিলেন কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ফেরতের অর্থের সঙ্গে আগের সময়ে সংগৃহীত অব্যবহৃত ইউজার ফি তহবিলের সম্পর্ক থাকতে পারে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পুরো দায় কেবল বাইডেন প্রশাসনের ওপর দেওয়ার বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার খরচ বর্তমানে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেওয়া অতিরিক্ত সরকারি সহায়তা শেষ হওয়ার পর অনেক গ্রাহকের স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়েছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপরও রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা তার আরেকটি বড় আর্থিক প্রতিশ্রুতির পরপরই এসেছে। এর একদিন আগে তিনি রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাবের কথা বলেন। তবে সেই প্রস্তাব আলাদা এবং এর বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয় জড়িত। অন্যদিকে ৫০০ ডলারের ওবামাকেয়ার ফেরতকে প্রশাসন অতিরিক্ত ফি ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে অর্থ পাঠানো শুরু হবে অক্টোবর ২০২৬ থেকে। সূত্র: হোয়াইট হাউস, রয়টার্স
ফ্লোরিডায় স্টোর থেকে শিশুখাদ্য চুরি করে বিক্রি, ১১ লাখ ডলারের চক্রের মূল হোতা দম্পতি গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেনের বার্ষিকী ঘিরে বাড়ছে ইসলামভীতি, সতর্ক ডালাসের মসজিদগুলো