সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করল প্রশাসন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৮:৪৮
দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করল প্রশাসন
দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করল প্রশাসন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দ্বৈত নাগরিকদের (যাদের যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্য দেশেরও নাগরিকত্ব রয়েছে) জন্য ভ্রমণ নীতিমালায় কড়াকড়ি আরোপ করে নতুন সতর্কতা জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং দেশ ত্যাগের ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনোভাবেই বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে প্রবেশ করা যাবে না।

 

ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, দ্বৈত নাগরিকরা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইএসটিএ (ESTA)-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন না। কেউ বিদেশি পাসপোর্ট দিয়ে এই আবেদন করলে তা নিয়মিতভাবেই বাতিল করে দেওয়া হবে। মূলত, মার্কিন নাগরিকদের জন্য কোনো ধরনের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বা ইএসটিএ সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

 

এই কঠোর নিয়মটি প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হবে। কোনো শিশুর পিতা-মাতা মার্কিন নাগরিক হলে, সেই শিশুটির মার্কিন নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক নথিপত্র বা ডকুমেন্টেশন না থাকলেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা ত্যাগ করতে চাইলে অভিভাবকদের অবশ্যই শিশুটির জন্য একটি মার্কিন পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।

 

এছাড়া, যেসব মার্কিন নাগরিক বিদেশে বসবাস করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের পাসপোর্ট মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগেই তা নবায়ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দেশে প্রবেশের তারিখ থেকে পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকা বাঞ্ছনীয়।

 

ভ্রমণ সংক্রান্ত নির্দেশনার পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসন দ্বৈত নাগরিকদের কর বিষয়ক আইনি বাধ্যবাধকতার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে তাদের দেশটির কর আইন মেনে চলা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য দ্বৈত নাগরিকদের আয়কর রিটার্ন দাখিলে অভিজ্ঞ কোনো কর উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মিশিগানের হ্যামট্রামেকে মেয়র নির্বাচিত বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ
মিশিগানের হ্যামট্রামেকে মেয়র নির্বাচিত বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ, আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রামেক সিটির মেয়র নির্বাচন নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে চলা আইনি জটিলতায় গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি রায় দিয়েছেন, মেয়র পদে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় বসবাসের শর্ত পূরণ করেছেন মাহমুদ। একই সঙ্গে নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা বিতর্কিত ৩৭টি ব্যালটের ভিত্তিতে ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্টিফাই করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্লিকঅনডেট্রয়েটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতের এই সিদ্ধান্তে হ্যামট্রামেকের মেয়র হিসেবে মুহিত মাহমুদের দায়িত্ব গ্রহণের পথে বড় আইনি বাধা দূর হয়েছে। তবে এখনই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র ঘোষণা করা হচ্ছে না। ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্সের মাধ্যমে সংশোধিত নির্বাচনী ফলাফল সার্টিফাই হওয়ার পর পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হ্যামট্রামেকের মেয়র নির্বাচনের পর থেকেই ফলাফল নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। নির্বাচনের পরদিন সিটির ক্লার্ক অফিসে খোলা খামের মধ্যে ৩৭টি ব্যালট পাওয়া যায়। এসব ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে। শেষ পর্যন্ত গত সেপ্টেম্বরে আদালত ব্যালটগুলো গণনার নির্দেশ দেন।   আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স বিতর্কিত ব্যালটগুলো যাচাই ও গণনা করে। এতে পাল্টে যায় মেয়র নির্বাচনের আগের ফলাফল। সংশোধিত অনানুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, মুহিত মাহমুদ পান ২ হাজার ৮৯ ভোট। অন্যদিকে বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি পান ২ হাজার ৭৭ ভোট। অর্থাৎ মাত্র ১২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে যান মাহমুদ। তবে ভোটের হিসাবে এগিয়ে গেলেও মাহমুদের মেয়র হওয়ার বিষয়টি তখনো নিশ্চিত হয়নি। তাঁর হ্যামট্রামেক সিটিতে বসবাসের যোগ্যতা নিয়ে আদালতে মামলা চলছিল। এ কারণে সংশোধিত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্টিফাই করতে পারেনি ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স।   মামলার মূল প্রশ্ন ছিল, মুহিত মাহমুদ প্রকৃতপক্ষে হ্যামট্রামেকের বাসিন্দা কি না এবং তিনি মেয়র পদে দায়িত্ব পালনের জন্য সিটির নির্ধারিত বসবাসের শর্ত পূরণ করেছেন কি না। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে উঠে আসে, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা মিশিগানের ট্রয় সিটিতে বসবাস করেন। পাশাপাশি হ্যামট্রামেকের বাইরে তাঁর অন্য বাড়িও রয়েছে। গত ২২ অক্টোবর ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাক্ষীদের বক্তব্য শোনা হয় এবং বসবাসের যোগ্যতা সম্পর্কিত বিভিন্ন ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করা হয়। এসব তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনার পর শুক্রবার বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি মাহমুদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন।   আদালত স্বীকার করেছেন, মুহিত মাহমুদের হ্যামট্রামেকের বাইরে বাড়ি রয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা প্রধানত ট্রয় সিটিতে থাকেন। তবে শুধু এসব কারণে তাঁকে হ্যামট্রামেকের মেয়র পদে দায়িত্ব পালনের অযোগ্য ঘোষণা করা যায় না। বিচারকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় বসবাসের শর্ত পূরণের ক্ষেত্রে মাহমুদের অবস্থান আইনসম্মত। ৩০ অক্টোবরের আদেশে বিচারক উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুহিত মাহমুদই হ্যামট্রামেকের বৈধ মেয়র হওয়ার অধিকারী বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করে আদালত নিশ্চিত হয়েছেন, নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় বসবাসের শর্ত তিনি পূরণ করেছেন।   হ্যামট্রামেকের বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে বিতর্কিত ৩৭টি ব্যালট গণনার পর নির্বাচনী ফলাফলে পরিবর্তন আসায় তাঁর পরিবর্তে মুহিত মাহমুদের মেয়র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আদালতের সর্বশেষ রায় সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। মাত্র ১২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকা মাহমুদের জন্য প্রতিটি ব্যালটই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ৩৭টি ব্যালটের গণনা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিয়েছে। এর সঙ্গে বসবাসের যোগ্যতা নিয়ে আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় এখন মূলত আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা।   আদালতের নির্দেশের পর ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্সের সংশোধিত ফলাফল সার্টিফাই করার কথা রয়েছে। তবে বোর্ড কবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্টিফাই হলে হ্যামট্রামেকের মেয়র পদে পরিবর্তনের পরবর্তী ধাপ স্পষ্ট হবে। আপাতত আদালতের রায় ও সংশোধিত ভোটের হিসাব দুটিই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদের পক্ষে রয়েছে।  

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ০:১৮
জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পরিবার সঞ্চয় ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে সঞ্চয়ের হার চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে

এফএইচএ ঋণে বাড়ি কিনতে যোগ্য ক্রেতাদের ডাউন পেমেন্ট সহায়তা দেবে জিলো হোম লোনস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩ অঙ্গরাজ্যে বাড়ি কিনতে ডাউন পেমেন্টের পুরো অর্থ দেবে জিলো, পাঁচ বছর পর ঋণ মওকুফ

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০৩০ সালের নতুন ব্যাচে শিক্ষার্থীদের জাতিগত অনুপাতে পরিবর্তন দেখা গেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এশীয় শিক্ষার্থী বেড়ে ৪৩.২ শতাংশ, কৃষ্ণাঙ্গ কমে ৯.৩ শতাংশ

নিউ জার্সির কয়েকটি শহরে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনার সম্ভাব্য সুযোগ রয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউ জার্সিতে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনার সুযোগ, তালিকায় রয়েছে ১০ শহর

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউ জার্সিতে বাড়ি কেনার কথা ভাবলেই অনেকের কাছে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। তবে অঙ্গরাজ্যটির কিছু শহর ও আবাসিক এলাকায় এখনো দেড় লাখ ডলার বা তার কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। কোথাও ছোট আকারের বাড়ি, কোথাও পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি, আবার কোথাও নির্দিষ্ট বয়সীদের জন্য গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্পে তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন ১০টি এলাকার কথা তুলে ধরেছে আবাসন ও ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস।   তালিকার প্রথমে রয়েছে ওশান কাউন্টির ম্যানচেস্টার টাউনশিপের হোয়াইটিং এলাকা। এখানে ক্রেস্টউড ভিলেজের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে এক ও দুই শয়নকক্ষের ছোট বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। কিছু বাড়ির দাম ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের নিচেও থাকতে পারে। এলাকাটি মূলত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও শান্ত পরিবেশে থাকতে আগ্রহীদের কাছে জনপ্রিয়। তবে ক্রেস্টউড ভিলেজের কয়েকটি প্রকল্প ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারিত। ফলে বাড়ি কেনার আগে বয়সসংক্রান্ত শর্ত, সমবায় মালিকানার নিয়ম এবং মাসিক ফি যাচাই করা জরুরি।   দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিলাডেলফিয়ার কাছের ক্যামডেন শহর। এখানে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি বা রো-হোম পাওয়া যেতে পারে। কিছু বাড়ি বসবাসের উপযোগী অবস্থায় থাকলেও অন্যগুলোর সংস্কার প্রয়োজন হতে পারে। ডেলাওয়্যার নদীর অপর পাশে ফিলাডেলফিয়া হওয়ায় কর্মসূত্রে শহরটিতে যাতায়াতকারীদের জন্য ক্যামডেন ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক। তবে শহরের সব এলাকায় আবাসন পরিস্থিতি এক নয়। তাই বাড়ি কেনার আগে পাড়া, নিরাপত্তা, পরিবহন এবং সম্পত্তির প্রকৃত অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করা প্রয়োজন।   ডেলাওয়্যার নদীর তীরে অবস্থিত ফিলিপসবার্গও কম দামের বাড়ির সম্ভাব্য ঠিকানা হিসেবে প্রতিবেদনে রয়েছে। নিউ জার্সির পশ্চিম প্রান্তের এই শহরে পুরোনো ছোট বাড়ি ও টাউনহোম ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নদীর অপর পাশে পেনসিলভানিয়ার ইস্টন শহর থাকায় বাসিন্দারা দুই এলাকার সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। তবে কম দামের অনেক বাড়িতে সংস্কার বা মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে। তাই কেনার আগে কাঠামোগত অবস্থা ও সংস্কারের সম্ভাব্য খরচ হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ।   সমুদ্রসৈকত ও পর্যটনকেন্দ্রের জন্য পরিচিত আটলান্টিক সিটিও তালিকায় রয়েছে। শহরটির পর্যটন এলাকা থেকে কিছুটা দূরের আবাসিক পাড়ায় ছোট বাংলো ও কন্ডো দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। সমুদ্রসৈকত, বোর্ডওয়াক এবং পর্যটনকেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার সুযোগ এ এলাকার আকর্ষণ। তবে কন্ডো কেনার ক্ষেত্রে ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ফি, পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নিয়ম জানা জরুরি। সম্পত্তির অবস্থান ও মূল্যায়নের ওপর করের পরিমাণও ভিন্ন হতে পারে। ফলে শুধু কেনার দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মাসিক ও বার্ষিক ব্যয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।   ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও তুলনামূলক শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত সালেম শহরও সাশ্রয়ী আবাসনের সম্ভাব্য জায়গা। সালেম কাউন্টির এই শহরে পুরোনো একক পরিবারের বড় বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু বাড়িতে চার বা তার বেশি শয়নকক্ষ এবং প্রশস্ত বসার জায়গা রয়েছে। শহরটির ইতিহাস ১৬০০-এর দশক পর্যন্ত বিস্তৃত। গ্রামীণ পরিবেশ, স্থানীয় দোকানপাট ও কৃষিপণ্যের বাজার এখানকার জীবনযাত্রার অংশ। তবে পুরোনো বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ছাদ, বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির লাইন ও ভিত্তির অবস্থা পরীক্ষা করা জরুরি।   ফিলাডেলফিয়ার কাছাকাছি গ্লুচেস্টার সিটিও তালিকায় রয়েছে। ডেলাওয়্যার নদীর তীরে ক্যামডেনের দক্ষিণে অবস্থিত এ শহরে পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি ও ছোট কটেজ ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। বেন ফ্র্যাঙ্কলিন ও ওয়াল্ট হুইটম্যান সেতু দিয়ে ফিলাডেলফিয়ায় যাতায়াতের সুযোগ থাকায় কর্মজীবীদের কাছে এলাকাটি আকর্ষণীয় হতে পারে। সাম্প্রতিক বাজারের তালিকাতেও গ্লুচেস্টার সিটিতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের নিচে বাড়ির বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। তবে প্রতিটি বাড়ির অবস্থা ও অবস্থান আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।   ওশান কাউন্টির লিটল এগ হারবার টাউনশিপে রয়েছে মিস্টিক শোরস নামের আবাসন প্রকল্প। এখানে ছোট আকারের সংযুক্ত বাড়ির দাম প্রায় দেড় লাখ ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। তবে এটি ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারিত আবাসন হওয়ায় সব ক্রেতা এখানে বাড়ি কেনার যোগ্য নন। প্রকল্পটিতে সাধারণ সুবিধা, পরিচর্যা করা উন্মুক্ত জায়গা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ রয়েছে। বারনেগেট বে এবং লং বিচ আইল্যান্ডের সৈকত কাছাকাছি হওয়ায় মাছ ধরা, নৌভ্রমণ ও সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানোর সুযোগও রয়েছে।   কাম্বারল্যান্ড কাউন্টির বৃহত্তম শহর ভিনল্যান্ডও কম বাজেটের ক্রেতাদের জন্য একটি সম্ভাব্য এলাকা। এখানে একতলা র‌্যাঞ্চ ধরনের বাড়ি ও সংস্কার প্রয়োজন এমন পুরোনো বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেতে পারে। শহরটির কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, খোলা জায়গা এবং স্থানীয় কৃষিপণ্যের বাজার জীবনযাত্রায় আলাদা বৈশিষ্ট্য যোগ করেছে। তবে সাম্প্রতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ভিনল্যান্ড অঞ্চলে বাড়ির মধ্যম বিজ্ঞাপিত মূল্য প্রায় ৩ লাখ ডলার। ফলে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি খুঁজতে হলে নির্দিষ্ট কিছু কম দামের বা সংস্কার প্রয়োজন এমন সম্পত্তির দিকে নজর দিতে হবে।   নিউ ইয়র্কের কাছাকাছি থাকতে চান, এমন ক্রেতাদের জন্য তালিকায় রয়েছে এসেক্স কাউন্টির ইস্ট অরেঞ্জ। এখানে ছোট স্টুডিও ও এক শয়নকক্ষের কন্ডো ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এনজে ট্রানজিটের রেলসেবা ব্যবহার করে ইস্ট অরেঞ্জ থেকে নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশনে যাওয়া যায়। ভবনের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে বাইরের রক্ষণাবেক্ষণ ও সাধারণ জায়গার দেখভাল করে। তবে কন্ডো কেনার আগে মাসিক সমিতি ফি, ভবনের আর্থিক অবস্থা এবং মেরামতের সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।   তালিকার শেষের দিকে রয়েছে বার্লিংটন কাউন্টির পেমবার্টন টাউনশিপের ব্রাউনস মিলস এলাকা। পাইনল্যান্ডস অঞ্চলের বনভূমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত এই এলাকায় দুই শয়নকক্ষের ছোট কটেজ দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। কাছাকাছি রয়েছে জয়েন্ট বেস ম্যাকগুইয়ার-ডিক্স-লেকহার্স্ট সামরিক ঘাঁটি। এ কারণে সামরিক বাহিনীর সদস্য, তাঁদের পরিবার এবং ঘাঁটিতে কর্মরত বেসামরিক ব্যক্তিদের একটি অংশ এলাকায় বসবাস করেন। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য হাঁটার পথ, কায়াকিং এবং বনাঞ্চলে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে।   প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল। তবে তালিকায় থাকা সব এলাকায় দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি সব সময় পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাড়ির দাম, বাজারের চাহিদা ও বিক্রির জন্য থাকা সম্পত্তির সংখ্যা নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। নিউ জার্সির আবাসন বাজারে সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপিত দামের সঙ্গে তালিকার কিছু এলাকার দামের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য। তাই সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাড়ির বর্তমান দাম, সম্পত্তি কর, সংস্কার ব্যয়, কন্ডো বা সমবায় ফি এবং বয়সসংক্রান্ত বিধিনিষেধ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস, রিয়েলটর ডটকম ও জিলো।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ২৩:১৭
বাড়ি কেনার সামর্থ্য থাকলেও ভাড়া বাসায় থাকতে আগ্রহী হচ্ছেন নিউ ইয়র্কের অনেক ধনী পরিবার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বাড়ি কেনার বদলে ভাড়ায় থাকছেন ধনীরা, নিউ ইয়র্কে বাড়ির মালিকদের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে মিলিয়নিয়ার ভাড়াটে

শিক্ষাঋণের সুদের হার কমানোর প্রস্তাব বিবেচনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে 'স্টুডেন্ট লোনে' সুদ কমানোর প্রস্তাব বিবেচনায় ট্রাম্প, উপকৃত হতে পারেন লাখো ঋণগ্রহীতা

যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইম স্থায়ী হলে শীতকালে সকালে অন্ধকারে স্কুলে যেতে হবে শিশুদের। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইমে অন্ধকারে স্কুলে যেতে হবে শিশুদের, বাড়বে দুর্ঘটনা ঝুঁকি

মাত্র ৩৫০ ডলার মাসিক ভাড়ায় দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট পেয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন ম্যাডিসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসে না দেখেই সস্তায় অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া, পরে জানলেন সেটি বৃদ্ধদের আবাসন

যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যে মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রবীণদের আবাসনে উঠে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন ম্যাডিসন কহাউট। ওকলাহোমা থেকে আরকানসাসে যাওয়ার পর মাসে মাত্র ৩৫০ ডলারে দুই শোবার ঘরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া পান তিনি। ভাড়া তুলনামূলক কম হওয়ায় সরেজমিনে বাসাটি না দেখেই চুক্তি করে ফেলেন। কিন্তু সেখানে ওঠার কয়েক দিন পরই বুঝতে পারেন, তাঁর প্রতিবেশীদের প্রায় সবাই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী।   প্রথমে বিষয়টি তাঁর কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হলেও এর কারণ বুঝতে পারেননি ম্যাডিসন। নতুন বাসায় ওঠার পর কাজ খোঁজা এবং ঘর গোছানোর ব্যস্ততায় আশপাশের পরিবেশ ভালোভাবে খেয়াল করার সুযোগ হয়নি। প্রায় এক সপ্তাহ পর বাইরে বেরিয়ে আবাসিক ভবনের সামনে একটি সাইনবোর্ড দেখতে পান তিনি। সেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল ‘সিনিয়র সিটিজেন অ্যাপার্টমেন্টস’। তখনই বুঝতে পারেন, অজান্তেই প্রবীণ নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত আবাসনে উঠে পড়েছেন তিনি।   তবে বিষয়টি জানার পর বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি ম্যাডিসন। কারণ, কম ভাড়ায় পাওয়া দুই শোবার ঘরের বাসাটি তাঁর প্রয়োজনের সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই মিলে গিয়েছিল। পাশাপাশি আবাসনটি সমান সুযোগের ভিত্তিতে ভাড়া দেওয়া হতো, যেখানে বয়সের কারণে কাউকে বসবাস থেকে বাদ দেওয়া হতো না। ফলে ১৯ বছর বয়সী ম্যাডিসনের সেখানে থাকার ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না। আবাসিক ভবনটিতে তিনিই ছিলেন একমাত্র তরুণ বাসিন্দা।   ম্যাডিসনের কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হয়ে ওঠে তাঁর বয়স্ক প্রতিবেশীদের আন্তরিকতা। তাঁরা তাঁকে আপনজনের মতো গ্রহণ করেন। কেউ বাড়িতে রান্না করা খাবার খেতে আমন্ত্রণ জানান, আবার কেউ তাঁর দরজার সামনে খাবার রেখে যান। প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এতটাই ভালো হয়ে ওঠে যে তাঁদের নিজের অতিরিক্ত দাদা-দাদি ও নানা-নানির মতো মনে করেন তিনি। নতুন পরিবেশে একাকিত্বের বদলে এভাবেই প্রতিবেশীদের স্নেহ ও সহযোগিতা পেয়েছেন তরুণী।   ম্যাডিসনের এই অভিজ্ঞতা ২০২১ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে। তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওও ব্যাপক সাড়া ফেলে। এনপিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন বাসার পরিবেশ ও প্রতিবেশীদের আন্তরিকতায় তিনি এতটাই সন্তুষ্ট ছিলেন যে দ্রুত সেখান থেকে চলে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। অপ্রত্যাশিতভাবে প্রবীণদের আবাসনে উঠে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সেটিই তাঁর কাছে হয়ে ওঠে ভালোবাসা ও আন্তরিকতার এক নতুন ঠিকানা।   সংবাদসূত্র: এনপিআর, নিউজউইক ও শেয়ারেবলি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ২১:১৪
যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে মুসলিমদের উপাসনালয় ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগে অগ্রগতি হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোতে এগোচ্ছে মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ মিলিয়ন ডলারের কারাগার কিনল ৪৯৫ মিলিয়নে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ মিলিয়ন ডলারের কারাগার কিনল ৪৯৫ মিলিয়নে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

৫০ বছর ধরে পানি পান করেন না ওয়ারেন বাফেট

৫০ বছর ধরে পানি পান করেন না ওয়ারেন বাফেট, তৃষ্ণা মেটান যে পানীয় দিয়ে

0 Comments