যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইমে অন্ধকারে স্কুলে যেতে হবে শিশুদের, বাড়বে দুর্ঘটনা ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইম বা ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে রাখার নিয়মটি যদি সারা বছরের জন্য স্থায়ী করা হয়, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই নিয়ম চালু হলে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের স্কুল যাত্রায় অন্তত ২০০ কোটি বার অন্ধকারের মুখোমুখি হতে হবে।
কারেন্ট বায়োলজি নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে গত ২৯ অক্টোবর গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘড়ির সময় পরিবর্তন বন্ধ করার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবগুলো তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, বিকেলে অতিরিক্ত সূর্যালোক পাওয়ার অর্থ হলো শীতকালে সকালের দিকে আলোর ঘাটতি তৈরি হওয়া, যা শিশুদের স্কুল যাত্রায় বড় প্রভাব ফেলবে।
গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হোরাসিও দে লা ইগলেসিয়া বলেন, কোনো অভিভাবকই চান না তাদের সন্তান অন্ধকারে স্কুলে যাক। গবেষক দলটি ১৪টি অঙ্গরাজ্যের স্কুলের সময়সূচি, শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং স্কুলের অবস্থান বিশ্লেষণ করেছেন। কেন্দ্রীয় আইনে অনুমোদন পেলে এই রাজ্যগুলো স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালু করতে সম্মত হয়েছে।
গবেষকরা হিসাব করে দেখেছেন যে, বর্তমান নিয়মে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের কারণে সূর্যোদয়ের আগে কতগুলো স্কুল যাত্রা হয় এবং স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালু হলে এই সংখ্যা কত দাঁড়াবে। ফলাফল অনুযায়ী, স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালু হলে শুধু ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যেই অন্ধকারে স্কুল যাত্রার সংখ্যা ৩.৫ কোটি বেড়ে যাবে। অন্যদিকে, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এই বৃদ্ধি হবে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭.১ কোটি।
যুক্তরাষ্ট্রের টাইম জোনগুলোর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এলাকাগুলো এবং যে স্কুলগুলো সকালে আগে শুরু হয়, সেখানে এই পরিবর্তনের প্রভাব হবে সবচেয়ে বেশি। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমান নিয়মে আলাবামা এবং মিসিসিপিতে বছরে প্রায় ২০ লাখবার সূর্যোদয়ের আগে স্কুল যাত্রা হয়। কিন্তু নতুন নিয়ম চালু হলে এই সংখ্যা প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে দুই কোটির বেশি ছাড়িয়ে যাবে।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, সকাল ৮টায় শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে বের হবে এমনটি ধরে নিয়ে দেশজুড়ে স্কুল যাত্রায় অতিরিক্ত ২০০ কোটি বার অন্ধকারের হিসাব করা হয়েছে। তবে গবেষণার প্রধান লেখক গুয়াদালুপ রদ্রিগেজ ফেরান্তে জানান, এই সময়টা বেশ দেরি, তাই প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সকালে অন্ধকারে স্কুলগামী শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঝুঁকি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্র্যাফিক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে।
গবেষকদের মতে, সকালের আলো মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যা ঘুম, মেজাজ এবং রুচির উপর প্রভাব ফেলে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সানশাইন প্রটেকশন অ্যাক্ট নিয়ে আলোচনা চলছে, যার অধীনে ডেলাইট সেভিং টাইম স্থায়ী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিলটি গত ১৪ জুলাই প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও বর্তমানে সিনেটে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের সুদের হার কমানোর একটি প্রস্তাব বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য আনা পলিনা লুনার উত্থাপিত এ প্রস্তাবে ফেডারেল শিক্ষাঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এই বক্তব্য শিক্ষাঋণ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে প্রস্তাবটি সমর্থন করে আইনে পরিণত করার বিষয়ে তিনি এখনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেননি। গত ২৪ অক্টোবর ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পকে লুনার প্রস্তাব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি অবশ্যই বিবেচনা করবেন। লুনার প্রশংসা করে ট্রাম্প জানান, তিনি শুরু থেকেই তাঁর সমর্থক। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লুনা লেখেন, প্রেসিডেন্ট শিক্ষাঋণের সুদ ২ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত করার প্রস্তাবকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে সরাসরি সমর্থনের ঘোষণা ছিল না, বরং বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছিল। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বেশি সুদের হারে ঋণ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য তা উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। বর্তমানে ঋণের ধরন ও ঋণ বিতরণের সময় অনুযায়ী ফেডারেল শিক্ষাঋণের সুদের হার ভিন্ন। নিউজউইকের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ হাজার ডলার ঋণের বিপরীতে ২ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে বছরে সুদ দিতে হবে প্রায় ২৫০ ডলার। তুলনায় স্নাতক পর্যায়ের ঋণে বর্তমান ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ হারে ৬৫২ ডলার, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ হারে ৮০৭ ডলার এবং প্লাস ঋণে ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ হারে ৯০৭ ডলার সুদ দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের বোঝা কতটা বড়, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট শিক্ষাঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার কোটি ডলারে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। শিক্ষাঋণের কিস্তি ও সুদের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেক পরিবার খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের শিক্ষাঋণ পরিশোধ ও ঋণ মওকুফ কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার কারণে ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্যারেন্ট প্লাস ঋণগ্রহীতাদের একটি অংশ আয়ভিত্তিক পরিশোধ ও ঋণ মওকুফের কিছু সুবিধা হারিয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঋণ মওকুফসংক্রান্ত বিদ্যমান কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে। ফলে সুদের হার কমানোর নতুন প্রস্তাবটি সামনে আসায় ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথে এখনো বেশ কিছু আইনি ও রাজনৈতিক ধাপ বাকি। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের পক্ষে এটি কার্যকর করা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, কংগ্রেসের সরকারি নথিতে লুনার আনা এইচ. রেজল্যুশন ১৩৮৬-এর মাধ্যমে শিক্ষাঋণের সুদ ২ শতাংশে নামানোর প্রস্তাবসংবলিত এইচ.আর. ২০০৩ বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে আলোচনার জন্য তোলার উদ্যোগ দেখা যায়। অর্থাৎ সংবাদমাধ্যমে আলোচিত ২ দশমিক ৫ শতাংশের সীমা এবং কংগ্রেসের নথিতে থাকা ২ শতাংশের প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে আপাতত সম্ভাব্য সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শিক্ষাঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পেলেও ঋণগ্রহীতাদের প্রকৃত স্বস্তি নির্ভর করবে কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী আইন প্রণয়নের ওপর। সংবাদসূত্র: নিউজউইক, ফেডারেল রিজার্ভ ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কংগ্রেসনাল নথি।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইমে অন্ধকারে স্কুলে যেতে হবে শিশুদের, বাড়বে দুর্ঘটনা ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসে না দেখেই সস্তায় অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া, পরে জানলেন সেটি বৃদ্ধদের আবাসন
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোতে এগোচ্ছে মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে একটি পরিত্যক্ত কারাগার কেনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 'কেএআরই ১১'-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অ্যাপলটন শহরের ওই পরিত্যক্ত কারাগারটি একসময় মাত্র ৭৫ মিলিয়ন ডলারে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল এর মালিকানা প্রতিষ্ঠান 'কোরসিভিক' (CoreCivic, Inc.)। কিন্তু মাত্র এক বছর পরই ট্রাম্প প্রশাসন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (ICE) জন্য সেই একই পরিত্যক্ত কারাগারটি রেকর্ড ৪৯৫.৬ মিলিয়ন ডলারে কিনে নেয়। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচের ঘটনায় খোদ মিনেসোটার কারা কমিশনার পল স্খনেল বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন যে এটি একেবারেই "অবিশ্বাস্য ও ব্যাখ্যাতীত" একটি ঘটনা। প্রায় ১৬ বছর ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা এই কারাগারটি মিনেসোটার ইতিহাসের সবচেয়ে দামি সম্পত্তি কেনাবেচা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গত বছর মে মাসে কোরসিভিক কর্র্তৃপক্ষ এটি মিনেসোটা সরকারের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। অথচ, ট্রাম্প প্রশাসন সেটিই কয়েকগুণ বেশি দামে কিনেছে। কোরসিভিক নামের এই কোম্পানিটি মূলত অভিবাসী আটকের কেন্দ্র হিসেবে এসব পরিত্যক্ত কারাগার ব্যবহার করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেছে। মজার বিষয় হলো, কোম্পানিটি ট্রাম্পের নির্বাচনী তহবিলে প্রায় ৫ লাখ ডলার অনুদানও দিয়েছিল। তবে কোরসিভিক এই অস্বাভাবিক মূল্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা কেবল এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছে যে স্বাধীন মূল্যায়নকারীদের মাধ্যমে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নির্দলীয় সংস্থা 'গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস' (GAO) আইসিই-এর এমন অস্বাভাবিক কেনাকাটাকে করদাতাদের অর্থের বড় ধরনের অপচয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি বেটি ম্যাককলাম এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন, যাতে সাধারণ করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
৫০ বছর ধরে পানি পান করেন না ওয়ারেন বাফেট, তৃষ্ণা মেটান যে পানীয় দিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় যৌ ন অসদাচরণের অভিযোগে হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে সরকারি অনুদান না দেওয়ার ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের ট্র্যান্সজেন্ডার জামাতা জোনাথান ম্যাককিনসিকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক বৃদ্ধা তার জামিন আবেদনে চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন। ৭৭ বছর বয়সী শিলি চেন নামের ওই নারী তার মুক্তির জন্য এই হত্যাকাণ্ডের পুরো দায়ভার তার স্বামী এবং সহ-অভিযুক্ত শাউইয়ং ঝাংয়ের ওপর চাপিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডের পার্কিং লটে নিউইয়র্ক টাইমসের কর্মকর্তা ম্যাককিনসিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। চেনের আইনজীবী কার্টিস ব্রিগস আদালতে দাবি করেছেন, ম্যাককিনসিকে প্রথম গুলিটি চেন করেননি, বরং তার স্বামী ঝাং-ই এই মারাত্মক গুলি চালান। আইনজীবীর ভাষ্যমতে, চেন শুধু দেখেছিলেন যে তার স্বামী ম্যাককিনসিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছেন। এরপর স্বামী হামলার শিকার হতে পারেন ভেবে গাড়ি থেকে নেমে চেন ম্যাককিনসির নিথর শরীরে আরও কয়েকটি গুলি চালান। আইনজীবী জানান, চেন তার স্বামীর নির্দেশেই সেখানে গিয়েছিলেন এবং ভেবেছিলেন তারা শুটিং রেঞ্জে যাওয়ার জন্য বন্দুক সাথে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, পুলিশি তদন্তে জানা গেছে যে, ঝাংয়ের মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল ম্যাককিনসি তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন, যাতে তিনি 'পূর্ণ স্বাধীনতা' পেতে পারেন। এমনকি ঝাংয়ের ধারণা ছিল, এর আগে সাইকেল চালানোর সময় দুবার তার ওপর যে গাড়ির ধাক্কা লেগেছিল, তার পেছনেও ম্যাককিনসির হাত ছিল। তদন্তে দম্পতির অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চাঞ্চল্যকর সব আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে ম্যাককিনসির এমন কিছু ছবি পাওয়া যায়, যেগুলোর মুখ কেটে ফেলা হয়েছিল এবং বুকে ও ডান চোখে কালো দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা ছিল, যা পরে তার শরীরে হওয়া গুলির ক্ষতের সাথে মিলে যায়। চেনের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, ঝাং ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম রোগে ভুগছিলেন। চেন বর্তমানে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন উল্লেখ করে তার আইনজীবী বলেন, সান্তা রিটা কারাগারে রাখা হলে তা এই বৃদ্ধার জন্য 'মৃত্যুদণ্ড' হতে পারে। আগামী ৪ নভেম্বর তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে আগুনে পুড়ল মসজিদ, আগেই পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন অভিযুক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ময়লার ব্যাগে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির ম রদেহ, তদন্তে পুলিশ