যুক্তরাষ্ট্রে 'স্টুডেন্ট লোনে' সুদ কমানোর প্রস্তাব বিবেচনায় ট্রাম্প, উপকৃত হতে পারেন লাখো ঋণগ্রহীতা
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের সুদের হার কমানোর একটি প্রস্তাব বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য আনা পলিনা লুনার উত্থাপিত এ প্রস্তাবে ফেডারেল শিক্ষাঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এই বক্তব্য শিক্ষাঋণ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে প্রস্তাবটি সমর্থন করে আইনে পরিণত করার বিষয়ে তিনি এখনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেননি।
গত ২৪ অক্টোবর ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পকে লুনার প্রস্তাব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি অবশ্যই বিবেচনা করবেন। লুনার প্রশংসা করে ট্রাম্প জানান, তিনি শুরু থেকেই তাঁর সমর্থক। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লুনা লেখেন, প্রেসিডেন্ট শিক্ষাঋণের সুদ ২ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত করার প্রস্তাবকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে সরাসরি সমর্থনের ঘোষণা ছিল না, বরং বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছিল।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বেশি সুদের হারে ঋণ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য তা উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। বর্তমানে ঋণের ধরন ও ঋণ বিতরণের সময় অনুযায়ী ফেডারেল শিক্ষাঋণের সুদের হার ভিন্ন। নিউজউইকের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ হাজার ডলার ঋণের বিপরীতে ২ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে বছরে সুদ দিতে হবে প্রায় ২৫০ ডলার। তুলনায় স্নাতক পর্যায়ের ঋণে বর্তমান ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ হারে ৬৫২ ডলার, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ হারে ৮০৭ ডলার এবং প্লাস ঋণে ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ হারে ৯০৭ ডলার সুদ দিতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের বোঝা কতটা বড়, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট শিক্ষাঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার কোটি ডলারে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। শিক্ষাঋণের কিস্তি ও সুদের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেক পরিবার খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের শিক্ষাঋণ পরিশোধ ও ঋণ মওকুফ কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার কারণে ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্যারেন্ট প্লাস ঋণগ্রহীতাদের একটি অংশ আয়ভিত্তিক পরিশোধ ও ঋণ মওকুফের কিছু সুবিধা হারিয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঋণ মওকুফসংক্রান্ত বিদ্যমান কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে। ফলে সুদের হার কমানোর নতুন প্রস্তাবটি সামনে আসায় ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথে এখনো বেশ কিছু আইনি ও রাজনৈতিক ধাপ বাকি। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের পক্ষে এটি কার্যকর করা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, কংগ্রেসের সরকারি নথিতে লুনার আনা এইচ. রেজল্যুশন ১৩৮৬-এর মাধ্যমে শিক্ষাঋণের সুদ ২ শতাংশে নামানোর প্রস্তাবসংবলিত এইচ.আর. ২০০৩ বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে আলোচনার জন্য তোলার উদ্যোগ দেখা যায়। অর্থাৎ সংবাদমাধ্যমে আলোচিত ২ দশমিক ৫ শতাংশের সীমা এবং কংগ্রেসের নথিতে থাকা ২ শতাংশের প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে আপাতত সম্ভাব্য সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শিক্ষাঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পেলেও ঋণগ্রহীতাদের প্রকৃত স্বস্তি নির্ভর করবে কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী আইন প্রণয়নের ওপর।
সংবাদসূত্র: নিউজউইক, ফেডারেল রিজার্ভ ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কংগ্রেসনাল নথি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক মহানগর এলাকায় বাড়ির মালিক হওয়ার চেয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন উচ্চ আয়ের মানুষের একটি বড় অংশ। বছরে অন্তত ১০ লাখ ডলার আয় করেন, এমন ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে বেড়েছে ১৬৭ শতাংশ। ভাড়া আবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেন্টক্যাফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো মহানগর এলাকার তুলনায় নিউ ইয়র্কেই এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চ আয়ের ভাড়াটে পরিবার রয়েছে। রেন্টক্যাফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নিউ ইয়র্ক মহানগর এলাকায় বছরে অন্তত ১০ লাখ ডলার আয় করা ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ২৯৬। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৭৩০। অর্থাৎ চার বছরে বেড়েছে ৪ হাজার ৫৬৬টি পরিবার। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সান ফ্রান্সিসকোতে এমন পরিবারের সংখ্যা ১ হাজার ৮৬৩, যা নিউ ইয়র্কের তুলনায় অনেক কম। লস অ্যাঞ্জেলেসে রয়েছে ১ হাজার ৫৩২টি পরিবার। শুধু ভাড়াটের সংখ্যায় নয়, বছরে ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি আয় করেন এবং নিজস্ব বাড়িতে থাকেন, এমন পরিবারের সংখ্যাতেও শীর্ষে রয়েছে নিউ ইয়র্ক। ২০২৪ সালে মহানগর এলাকায় এ ধরনের বাড়ির মালিক পরিবার ছিল ৩৩ হাজার ১৩৪টি। ২০২০ সালে সংখ্যাটি ছিল ১৪ হাজার ৩৩৯। চার বছরে বেড়েছে ১৩১ শতাংশ। ভাড়াটে ও বাড়ির মালিক, দুই শ্রেণি মিলিয়ে নিউ ইয়র্ক মহানগর এলাকায় উচ্চ আয়ের পরিবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৪৩০। পরিসংখ্যান বলছে, নিউ ইয়র্কের উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোর প্রায় পাঁচটির মধ্যে চারটিই নিজস্ব বাড়িতে থাকে। তবে বাড়ির মালিকদের তুলনায় ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এ প্রবণতার পেছনে শুধু বাড়ি কেনার সামর্থ্যের অভাব কাজ করছে না। বরং অনেক ধনী পরিবার ইচ্ছা করেই ভাড়া বাসায় থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এতে সহজে স্থান পরিবর্তনের সুযোগ থাকে, বাড়ি কেনাবেচার ঝামেলা এড়ানো যায় এবং বিপুল অর্থ আবাসন খাতে আটকে না রেখে অন্য বিনিয়োগে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। নিউ ইয়র্কের বিলাসবহুল আবাসন বাজারেও এ প্রবণতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ম্যানহাটনে অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া এক লাখ ডলার বা তারও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক উচ্চ আয়ের ব্যক্তি কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি কেনার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ভাড়া বাসায় থাকছেন। বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি মালিকানার দায় এড়ানোর পাশাপাশি জীবনযাত্রায় নমনীয়তা ধরে রাখাই তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে বাড়ি কেনা ও ভাড়া থাকার খরচের ব্যবধানও বড় হয়ে উঠেছে। রিয়েলটর ডটকমের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক সিটিতে মাঝারি দামের একটি বাড়ি কিনতে মাসে আনুমানিক ১০ হাজার ৭৩৭ ডলার খরচ হতে পারে। বিপরীতে, সেখানে বাড়ি ভাড়ার মধ্যম চাহিদামূল্য ৩ হাজার ৭৮৫ ডলার। অর্থাৎ বাড়ি কেনার মাসিক ব্যয় ভাড়ার তুলনায় প্রায় ৭ হাজার ডলার বেশি। যদিও এ হিসাব সাধারণ আবাসন বাজারের, শুধু উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোর নয়। নিউ ইয়র্কের এসব ধনী ভাড়াটের সবাই এককভাবে বছরে ১০ লাখ ডলার আয় করেন না। রেন্টক্যাফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭ হাজার ২৯৬টি পরিবারের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ২৭৪ জন ভাড়াটে ব্যক্তি নিজে বছরে অন্তত ১০ লাখ ডলার আয় করেন। অর্থাৎ অধিকাংশ পরিবারের আয় একাধিক সদস্যের উপার্জন মিলিয়ে ১০ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। এতে বোঝা যায়, এ শ্রেণির ভাড়াটেদের মধ্যে উচ্চ আয়ের দম্পতি কিংবা একাধিক উপার্জনকারী সদস্যের পরিবারও উল্লেখযোগ্য। জাতীয় পর্যায়েও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বছরে অন্তত ১০ লাখ ডলার আয় করা ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে ২২৯ শতাংশ। একই সময়ে বাড়ির মালিক উচ্চ আয়ের পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে ১৯৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে দেশজুড়ে এমন ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ হাজার ৪০০। তাঁদের মধ্যে মাত্র ৪ হাজার ৪৬২ জন ব্যক্তি নিজে বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেন। বাকি পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে একাধিক সদস্যের সম্মিলিত আয় বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রজন্মভিত্তিক হিসাবেও পরিবর্তন স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আয়ের ভাড়াটে পরিবারের প্রায় ৪৯ শতাংশই সহস্রাব্দ প্রজন্মের, যাদের বয়স সাধারণত ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এ প্রজন্মের উচ্চ আয়ের ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে ৩৯২ শতাংশ। জেনারেশন জেডের অংশ এখনো মাত্র ২ শতাংশ হলেও তাদের সংখ্যা এক ডজনেরও কম থেকে বেড়ে ৪০০ ছাড়িয়েছে। প্রযুক্তি উদ্যোগ, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অনলাইন কনটেন্টভিত্তিক ব্যবসা থেকে আয় করা তরুণদের এ প্রবণতায় ভূমিকা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউ ইয়র্কের বাইরে সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস, সান হোসে ও মায়ামিতেও উচ্চ আয়ের ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সান ফ্রান্সিসকোতে এ সংখ্যা বেড়েছে ২৭৩ শতাংশ, লস অ্যাঞ্জেলেসে ৬০৯ শতাংশ এবং সান হোসেতে ২১৫ শতাংশ। মায়ামিতে বেড়েছে ৯৫৫ শতাংশ। তবে সংখ্যার হিসাবে নিউ ইয়র্ক এখনো অন্য সব মহানগর এলাকার চেয়ে অনেক এগিয়ে। রেন্টক্যাফের এ বিশ্লেষণ যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২০ ও ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে এবং আইপিউএমএসের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এখানে ‘মিলিয়নিয়ার ভাড়াটে’ বলতে ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ নয়, পরিবারের বার্ষিক আয় অন্তত ১০ লাখ ডলার এমন ভাড়া বাসায় থাকা পরিবারকে বোঝানো হয়েছে। ফলে বাড়ি বা বিনিয়োগসহ মোট সম্পদের ভিত্তিতে তাঁদের মিলিয়নিয়ার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি। সূত্র: রেন্টক্যাফে, নিউ ইয়র্ক পোস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রে 'স্টুডেন্ট লোনে' সুদ কমানোর প্রস্তাব বিবেচনায় ট্রাম্প, উপকৃত হতে পারেন লাখো ঋণগ্রহীতা
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইমে অন্ধকারে স্কুলে যেতে হবে শিশুদের, বাড়বে দুর্ঘটনা ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসে না দেখেই সস্তায় অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া, পরে জানলেন সেটি বৃদ্ধদের আবাসন
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে মুসলিমদের উপাসনালয় ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার দুটি উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ভার্জিনিয়ার নর্টন শহরে একটি ইসলামিক সংগঠন সাবেক ব্যাংক ভবন কিনে সেখানে কমিউনিটি সেন্টার ও নামাজের স্থান প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্ক শহরে নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদনের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন বার্নালিলো কাউন্টির কমিশনাররা। ভার্জিনিয়ার নর্টনে অবস্থিত সাবেক ব্যাংক অব আমেরিকার ভবনটি ৩ লাখ ডলারে কিনেছে মেরিল্যান্ডভিত্তিক একটি ইসলামিক অলাভজনক সংগঠন। গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার ভবনটির ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কার্ডিনাল নিউজ জানিয়েছে, ভবনটির নির্ধারিত মূল্য ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ ডলার। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আইমান নাসার জানিয়েছেন, এ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ১৯০ জনের বেশি দাতা সহায়তা দিয়েছেন। তবে কেন্দ্রটি চালুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রটিতে শুধু মুসলিমদের নামাজের ব্যবস্থাই থাকবে না, বরং সব ধর্মের মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তরুণদের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কর্মসূচিও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ভবনটির প্রথম তলায় এসব কার্যক্রম শুরু হতে পারে। নাসারের হিসাব অনুযায়ী, নর্টন ও ওয়াইজ কাউন্টিতে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ জন মুসলিম বসবাস করেন। বর্তমানে তাঁদের নিকটতম মসজিদে যেতে টেনেসির জনসন সিটিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা গাড়ি চালাতে হয়। নর্টনে এই উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গত ২০ অক্টোবর শহরের কাউন্সিল সভায় এক ডজনের বেশি বাসিন্দা পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেন। তাঁদের কয়েকজন ইসলাম ধর্ম নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন। সভার আগে মেয়র জো ফাউবুশ জানান, ভবনটি শহরের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার আওতাভুক্ত, যেখানে গির্জা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কার্যালয় পরিচালনার অনুমতি রয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত কার্যক্রমের জন্য এখন পর্যন্ত নগর কর্তৃপক্ষের কোনো বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন হয়নি। শহরের ব্যবস্থাপক জেফ শুপে কার্ডিনাল নিউজকে বলেন, ভবনটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় এর বিক্রয়প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের নেই। তবে ভবনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তন করে নতুন ব্যবহার শুরু করতে হলে সংশ্লিষ্ট অনুমতিপত্র নিতে হবে। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা মাইকেল স্টাবলফিল্ড ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের কথা উল্লেখ করে উদ্যোগটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। গত ২৭ অক্টোবর আয়োজিত এক উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে ১৬ জন অংশ নেন। তাঁদের অনেকেই তরুণদের উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান। আলবুকার্কের মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। শহরের নর্থ ভ্যালি এলাকায় সেকেন্ড স্ট্রিট এনডব্লিউ ও আলামেডা বুলেভার্ডের কাছে নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন বহাল রেখেছেন বার্নালিলো কাউন্টির কমিশনাররা। গত ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত শুনানিতে ৪-১ ভোটে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ হয়। নিউ মেক্সিকো সেন্টিনেল ও দ্য পেপার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় একটি প্রতিবেশী সংগঠনের সভাপতি প্যাট হাউজার এই আপিল করেছিলেন। তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রকল্পটির কারণে আশপাশের সড়কে যানজট বাড়তে পারে এবং এলাকাটির বিদ্যমান অবকাঠামো অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পারবে কি না, তা যথেষ্টভাবে যাচাই করা হয়নি। বর্তমানে আলবুকার্ক ইসলামিক সেন্টারের মসজিদে জায়গার সংকট রয়েছে। প্রকল্পের প্রকৌশলী জোসেফ তাহাত কমিশনারদের জানান, শুক্রবারের জুমার নামাজে প্রায় ১২০টি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য আসে, অথচ বর্তমান ভবনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র ৬৪টি গাড়ির। নতুন স্থাপনায় ২৩৫টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে আপিলকারী পক্ষের প্রতিনিধি আন্দ্রেয়া আর্চুলেটা স্পষ্ট করে বলেন, তাঁদের আপত্তি কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নয়, বরং যানবাহন চলাচল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে। আপিল খারিজ হলেও মসজিদ নির্মাণের জন্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। অনুমোদনের সঙ্গে মোট ১৫টি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ভবনের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২৬ ফুট রাখার পাশাপাশি সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং ভবনের বাইরে মাইকে শব্দ প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্মাণকাজের অনুমতিপত্র পাওয়ার আগে বার্নালিলো কাউন্টি, আলবুকার্ক নগর কর্তৃপক্ষ এবং নিউ মেক্সিকো পরিবহন বিভাগের অনুমোদনসহ যানবাহন চলাচলের ওপর প্রভাবসংক্রান্ত সমীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। প্রকল্পের কারণে সড়কের উন্নয়ন প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ও মসজিদ কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হতে পারে। দুই শহরের ঘটনায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স্থানীয় পরিকল্পনা বিধিমালার বিষয়টিও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন ‘রিলিজিয়াস ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনালাইজড পারসনস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ভূমি ব্যবহারের বিধিনিষেধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট আইনি শর্ত মানতে হয়। ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ কিংবা অযৌক্তিকভাবে ধর্মীয় কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করাও এই আইনের আওতায় বিবেচিত হতে পারে। ফলে ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোর ঘটনাগুলো শুধু দুটি স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নয়, যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনার অধিকার এবং স্থানীয় প্রশাসনিক বিধিমালার প্রয়োগ নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সংবাদসূত্র: কার্ডিনাল নিউজ, নিউ মেক্সিকো সেন্টিনেল ও দ্য পেপার।
যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ মিলিয়ন ডলারের কারাগার কিনল ৪৯৫ মিলিয়নে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
৫০ বছর ধরে পানি পান করেন না ওয়ারেন বাফেট, তৃষ্ণা মেটান যে পানীয় দিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় যৌ ন অসদাচরণের অভিযোগে হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে এইচ-১বি (H-1B) ভিসাধারী কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (টিডিএ) জানিয়েছে, বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল এমন কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত রাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু অনুদান দেওয়া হবে না। টেক্সাসের কৃষিমন্ত্রী সিড মিলার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে জানান, অঙ্গরাজ্যটির স্থানীয় কর্মীদের কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে সরকারি তহবিল নির্দেশ করার লক্ষ্যেই এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই নীতি ঘোষণার সময় কৃষিমন্ত্রী সিড মিলার যুক্তি দেন, টেক্সাসের সাধারণ মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে কর দেন। তাই এই করের টাকায় সাময়িক বিদেশি শ্রমিকের বদলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া উচিত। তিনি টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটসহ রাজ্যের অন্যান্য নির্বাচিত কর্মকর্তাদের প্রতিও নিজ নিজ দপ্তরে ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে এমন বিধিনিষেধ চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্কিলস্টর্ম-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হানি গিরগিস এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, কোম্পানিগুলো চাইলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতেই পারে, কিন্তু করদাতাদের অর্থে সেই সিদ্ধান্তের ভর্তুকি দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। তবে এই বিধিনিষেধের কিছু নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। স্বাধীন বোর্ড বা কমিশনের অধীনে পরিচালিত অনুদান, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান এবং রাজ্য সরকারের ঋণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে এই নিয়ম সরাসরি প্রযোজ্য হবে না। এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বিভিন্ন বিশেষায়িত কাজের জন্য বিদেশি পেশাদারদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। তবে কর্মক্ষেত্রে আমেরিকানদের সাথে বিদেশিদের প্রতিযোগিতার কারণে এই ভিসা কর্মসূচি নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। স্থানীয়দের কাজের সুযোগ বাড়াতে টেক্সাসের এই নতুন নীতি সেই বিতর্কে এখন নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্র্যান্সজেন্ডার জামাতাকে হ ত্যার দায় স্বামীর ওপর চাপালেন অভিযুক্ত ৭৭ বছর বয়সী শাশুড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে আগুনে পুড়ল মসজিদ, আগেই পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন অভিযুক্ত