সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

পেপ্যালের পরিচয়ে ফোন প্রতারণার ফাঁদে ৭৭ বছরের বৃদ্ধ, হারালেন অবসরের ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৯:২৮
নিউ জার্সির ৭৭ বছর বয়সী জেফরি মাস প্রতারণার শিকার হয়ে অবসরের সঞ্চয় থেকে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সির ৭৭ বছর বয়সী জেফরি মাস প্রতারণার শিকার হয়ে অবসরের সঞ্চয় থেকে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ৭৭ বছর বয়সী জেফরি মাস প্রতারণার শিকার হয়ে অবসরের সঞ্চয় থেকে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। প্রতারকেরা প্রথমে পেপ্যালের পরিচয় দিয়ে তাকে ফোনে ফাঁদে ফেলে, পরে ভুল ব্যাংক লেনদেনের তথ্য দেখিয়ে সোনা কিনতে বাধ্য করে।

 

২০২৪ সালের ৫ জুন মাসের কাছে নরটন অ্যান্টিভাইরাসের নামে একটি ই-মেইল আসে। সেখানে ৬৯১ ডলার ৫ সেন্টের একটি পেমেন্টের কথা জানানো হয়। তিনি এমন কোনো সেবা নেননি বুঝতে পেরে ই-মেইলে দেওয়া হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন।

 

ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে পেপ্যালের কর্মকর্তা ‘জেসন গ্রিন’ পরিচয় দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এর মাধ্যমে প্রতারকেরা মাসের কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরে প্রতারক মাসকে একটি জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখিয়ে দাবি করে, ভুল করে তার অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ ডলার জমা হয়েছে। এই অর্থ ফেরত না দিলে আইআরএসের জরিমানা হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়।

 

এরপর আরেক প্রতারক তাকে সোনা কিনে সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দেয়। প্রতারকদের নির্দেশে মাস নিজের ব্যাংক থেকে ৩ লাখ ডলার স্থানান্তর করে নিউ জার্সির একটি মূল্যবান ধাতু বিক্রেতার কাছে। সেখানে গিয়ে সোনা কিনে তা প্রতারকদের লোকজনের হাতে তুলে দেন।

 

পরদিন একই কৌশলে তাকে আবার জানানো হয়, তার অ্যাকাউন্টে আরও ১ লাখ ডলার জমা হয়েছে। এবার তিনি ব্যাংক থেকে আরও ৯০ হাজার ডলার তুলে সোনা কেনেন।

 

পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে মাস পুলিশে অভিযোগ করেন। তদন্তে সোনা সংগ্রহ করতে আসা এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পুলিশ। জয়নেশ প্যাটেল নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

 

ঘটনার পর মাস তার ব্যাংকের কাছে লেনদেনগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এই প্রতারণার ঘটনায় মাসের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যেরও গুরুতর প্রভাব পড়ে। প্রচণ্ড মানসিক চাপের কারণে তিনি দুবার জ্ঞান হারান এবং দুইবারই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে সামাজিক উদ্বেগ ও মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে চলার সমস্যাতেও ভুগেছেন বলে জানান তিনি।

 

ঘটনাটি নিয়ে মাস ব্যাংক ও সোনা বিক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগে ব্যাংকের কর্মীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের লেনদেনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যথেষ্ট প্রশ্ন না করার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে ব্যাংক ও সোনা বিক্রেতার পক্ষ থেকে অভিযোগের দায় অস্বীকার করা হয়েছে।

 

অবসরের পর স্ত্রীকে নিয়ে ইউরোপ ভ্রমণ, নাতি-নাতনিদের জন্য অর্থ রাখা এবং সন্তানদের উত্তরাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল মাস দম্পতির। প্রতারণায় সেই সঞ্চয়ের প্রায় অর্ধেক হারানোর পর এখন অন্যদের সতর্ক করতে চান ৭৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
পারিবারিক সংকট ও দীর্ঘ সংগ্রাম পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন কুমিল্লার হোসাইন আহমেদ সোহাগ। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কুমিল্লার সোহাগের অনুপ্রেরণার গল্প

পারিবারিক সংকট, দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, বারবার ব্যর্থতা আর আর্থিক অনিশ্চয়তা পেরিয়ে কুমিল্লার হোসাইন আহমেদ সোহাগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়াশোনা করা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া পর্যন্ত তার পথচলাটি ছিল দীর্ঘ ও কঠিন।   পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হয়নি সোহাগের। ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। চার বছরের অনার্স শেষ করতে তার সময় লাগে সাত বছর। ফলাফলও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়তেন বলে একসময় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিতেও সংকোচ বোধ করতেন তিনি। এর অন্যতম কারণ ছিল তার বড় ভাইয়ের সিলেট মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা।   ২০১৩ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজিতে এমএস শুরু করেন সোহাগ। কিন্তু পরিবারের ক্লিনিকসংক্রান্ত সংকটের কারণে আবারও পড়াশোনা থেমে যায়। পরে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএস করেন। সেখানে ৩ দশমিক ৪২ সিজিপিএ নিয়ে ১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম হন তিনি।   পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণায়ও যুক্ত হন সোহাগ। তার গবেষণার ফল নিয়ে প্রকাশিত হয় নয়টি গবেষণাপত্র, যার মধ্যে দুটি এলসেভিয়ারে প্রকাশিত হয়েছে বলে তার দেওয়া তথ্যে জানা যায়।   এরপর শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি। ইংরেজি ও গণিতের ভিত্তি দুর্বল থাকায় জিআরই পরীক্ষাকে শুরু থেকেই কঠিন মনে হতো তার কাছে। এমনকি প্রথমবার পরীক্ষায় বসার আগেও কয়েকবার পরিকল্পনা পিছিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত জিআরইতে ৩০৫ এবং আইইএলটিএসে ৬ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন।   তবে সেখানেও দ্রুত সাফল্য আসেনি। একের পর এক আবেদন, ফান্ডিং না পাওয়া, করোনা মহামারির প্রভাব এবং পরীক্ষার স্কোরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পথ আরও দীর্ঘ হয়। ২০২১ সালে আটটি পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাননি তিনি।   তবুও থেমে থাকেননি সোহাগ। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রচেষ্টার পর অবশেষে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালি থেকে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজিতে ফুল ফান্ডিংসহ মাস্টার্স করার সুযোগ পান। ২০২৫ সালে সেই ডিগ্রি শেষ করার পর এখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন তিনি।   যে তরুণ একসময় পারিবারিক সংকটের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিই নিতে পারেননি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়ার কারণে নিজের পরিচয় দিতে সংকোচ বোধ করতেন, সময়ের ব্যবধানে তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছেন।   সোহাগের এই যাত্রা দেখিয়েছে, শিক্ষাজীবনে শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও ধারাবাহিক চেষ্টা, গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং ব্যর্থতার পরও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা একজন শিক্ষার্থীর পথ বদলে দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১০:২২
ব্রুস উইলিসের পরিবার তাঁর মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দান করার পরিকল্পনা করেছে। ছবি: সংগৃহীত

ব্রুস উইলিসের মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক বিজ্ঞান গবেষণায় দানের সিদ্ধান্ত পরিবারের

প্রথম কয়েক মাসে অতিরিক্ত ব্যালান্স রাখা বা পেমেন্টে দেরি করা ক্রেডিট স্কোরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ছবি: সংগৃহীত

ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার প্রথম ৬ মাসে যে ভুলগুলো নষ্ট করতে পারে ক্রেডিট স্কোর

নিউ জার্সির ৭৭ বছর বয়সী জেফরি মাস প্রতারণার শিকার হয়ে অবসরের সঞ্চয় থেকে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

পেপ্যালের পরিচয়ে ফোন প্রতারণার ফাঁদে ৭৭ বছরের বৃদ্ধ, হারালেন অবসরের ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার

নিউইয়র্কে টিউশন-ফি ছাড়াই বিনামূল্যে পড়ার নতুন সুযোগ
নিউইয়র্কে টিউশন-ফি ছাড়াই বিনামূল্যে পড়ার নতুন সুযোগ

নিউইয়র্কে মাঝপথে পড়াশোনা থেমে যাওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সানি রিকানেক্ট কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কর্মসূচিতে উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, জরুরি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পণ্য সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার মতো চাহিদাসম্পন্ন নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন, ফি, বই ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের খরচ ছাড়াই পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন।   সানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী নিউইয়র্কবাসী, যাঁদের কোনো কলেজ ডিগ্রি নেই, তাঁরা অনুমোদিত সহযোগী ডিগ্রি কর্মসূচিতে ভর্তি হয়ে এই সুবিধা পেতে পারেন। শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীনভাবে পড়াশোনা করতে পারবেন। অন্যান্য প্রযোজ্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর অবশিষ্ট টিউশন, ফি, বই ও শিক্ষা উপকরণের খরচ কর্মসূচির আওতায় বহন করা হবে।   ২০২৫ সালের শরতে চালু হওয়া কর্মসূচিটির প্রথম বছরেই প্রায় ৫ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হন। কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য হলো এমন প্রাপ্তবয়স্কদের আবার কলেজে ফেরানো, যাঁরা অর্থের অভাব, চাকরি কিংবা পারিবারিক দায়িত্বের কারণে উচ্চশিক্ষা শেষ করতে পারেননি।   প্রথম বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, নার্সিং ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শিক্ষকতা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় কর্মসূচির আওতায় ছিল। এবার এর সঙ্গে উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, জরুরি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পণ্য সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার মতো আরও কয়েকটি ক্ষেত্র যুক্ত হয়েছে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে নার্সিংয়ে। ২০২৬ সালের শরৎ থেকে অন্য কোনো বিষয়ে আগে থেকেই কলেজ ডিগ্রি থাকা ব্যক্তিরাও নির্দিষ্ট নার্সিং ডিগ্রি কর্মসূচিতে ভর্তি হয়ে এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। নিউইয়র্কে নার্সিং ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মীর চাহিদা পূরণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।   এবার কর্মসূচির পরিধিও শুধু কমিউনিটি কলেজে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্দিষ্ট সহযোগী ডিগ্রি কর্মসূচির জন্য চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি প্রদানকারী কিছু সানি প্রতিষ্ঠানও এতে যুক্ত হয়েছে। তবে কোন কলেজে কোন বিষয়ের কর্মসূচি রয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে।   তবে টিউশন-ফি ছাড়ের সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীদের অন্যান্য প্রযোজ্য আর্থিক সহায়তার জন্যও আবেদন করতে হবে। নিউইয়র্কের টিউশন সহায়তা কর্মসূচির মতো আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর অবশিষ্ট যোগ্য শিক্ষাখরচ সানি রিকানেক্টের মাধ্যমে বহন করা হয়।   নিউইয়র্কের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও সানি রিকানেক্ট সম্প্রসারণে নতুন অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কর্মসূচিটির মাধ্যমে চাহিদাসম্পন্ন পেশায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি মাঝপথে থেমে যাওয়া শিক্ষাজীবন আবার শুরু করার সুযোগ পাচ্ছেন নিউইয়র্কের আরও অনেক প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৭:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষাঋণ পরিশোধব্যবস্থা চালু

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভুগছেন নতুন জটিলতায়, ভুল তথ্যে বিপাকে ঋণগ্রহীতারা

মাধুর মেহতা ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

এইচ-১বি ভিসা পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ঘর-সংসার নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মাধুর

মেয়র জোহরান মামদানি

নিউইয়র্কে মেয়রের সরকারি মুদি দোকানে ৩০ শতাংশ কম দামে নিত্যপণ্য, পরিকল্পনা ব্যয় নিয়ে বিতর্ক

বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পাল্টাপাল্টি ট্যারিফ আরোপের পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন ও অটোয়া।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করে আলোচনাকারী দলকে দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরপরই কানাডার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ ট্যারিফ কার্যকর হয়।   এর জবাবে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর রিটালিয়েটরি ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। স্টিল, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম, কৃষি যন্ত্রপাতি, পাল্প ও পেপার এবং ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন খাতে এসব শুল্ক বসানো হবে।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির অভিযোগ, আলোচনা শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র শেষ মুহূর্তে ‘পাওয়ার প্লে’ করেছে। কানাডার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক, অটো শিল্প এবং দেশটির সংস্কৃতি ও ফরাসি ভাষার সুরক্ষা নিয়ে নতুন কিছু দাবি তোলায় আলোচনা ভেঙে পড়ে বলে জানান তিনি।   কার্নির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বেশি চেয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে কম প্রস্তাব দিয়েছে।   তবে কানাডার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে স্টিল, গাড়ি ও কাঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ট্যারিফ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু কানাডা আগের সমঝোতার শর্ত থেকে সরে গেছে বলে অভিযোগ তার।   এদিকে কানাডার পাল্টা পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে ওয়াশিংটন। গ্রিয়ার জানিয়েছেন, কানাডার সঙ্গে নতুন কোনো বাণিজ্য আলোচনা এখনো নির্ধারিত হয়নি।   অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কানাডার বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করেছেন। ট্রুথ সোশ্যাল -এ তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্য হওয়ার সুবিধা নিতে চায়। একই সঙ্গে মার্কিন কৃষকদের ওপর কানাডার দীর্ঘদিনের ট্যারিফ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।   দুই দেশের পাল্টাপাল্টি শুল্ক ও হুঁশিয়ারিতে উত্তর আমেরিকার দুই ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য অংশীদারের সম্পর্ক নতুন করে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৪:৫৭
গণিতের কৌশল ব্যবহার করে  লটারি জিতলেন চারবার

গণিতে পিএইচডি, গণিতের কৌশল ব্যবহার করে লটারি জিতলেন চারবার, পেলেন ২ কোটি ১০ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা, পাশে ছিল মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে

0 Comments