সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

‘মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে বড় হতে না পারা আমার বড় আফসোসগুলোর একটি’: বেলা হাদিদ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ২৩:২৮
মুসলিম ও ফিলিস্তিনি শিকড় নিয়ে নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা ও আক্ষেপের কথা বলেছেন মডেল বেলা হাদিদ। ছবি: সংগৃহীত
মুসলিম ও ফিলিস্তিনি শিকড় নিয়ে নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা ও আক্ষেপের কথা বলেছেন মডেল বেলা হাদিদ। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বখ্যাত মডেল বেলা হাদিদ তার শৈশব, পারিবারিক বিচ্ছেদ এবং নিজের মুসলিম ও ফিলিস্তিনি শিকড় থেকে দূরে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলায় মুসলিমদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিবেশে বড় হতে না পারা এবং বাবার সঙ্গে থেকে নিজের ধর্মীয় সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ না পাওয়া তার জীবনের অন্যতম বড় আফসোস।

 

২০২২ সালে জিকিউ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেলা এসব কথা বলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার সেই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মাত্র চার বছর বয়সে তার জীবনের পরিবেশ অনেকটাই বদলে যায়। তিনি মা ইয়োলান্ডা হাদিদের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় চলে যান এবং বাবার ফিলিস্তিনি পরিবারের কাছ থেকে দূরে বড় হতে থাকেন।

 

বেলার বাবা মোহাম্মদ হাদিদ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী এবং মা ইয়োলান্ডা হাদিদ ডাচ মডেল। বেলার বড় বোন গিগি হাদিদ এবং ছোট ভাই আনোয়ার হাদিদও পরিচিত মডেল। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সন্তানদের বড় করার দায়িত্ব মূলত মায়ের সঙ্গে থাকলেও বেলার ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে তার বাবার দিকের ফিলিস্তিনি ও মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে দৈনন্দিন যোগাযোগ অনেকটাই কমে যায়।

 

সান্তা বারবারায় বেড়ে ওঠার সময় বেলা তার স্কুলে প্রায়ই একমাত্র আরব মেয়ে ছিলেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, কৈশোরে কখনো কখনো তাকে বর্ণবাদী মন্তব্যেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা তাকে নিজের পরিচয় নিয়ে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি দিয়েছিল।

জিকিউকে বেলা বলেছিলেন, দীর্ঘ সময় তিনি নিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে ফেলেছেন বলে মনে করতেন। এই অনুভূতি তাকে অনেক বছর ধরে দুঃখী ও একাকী করে রেখেছিল বলে জানান তিনি।

 

নিজের সবচেয়ে বড় আফসোসের কথা বলতে গিয়ে বেলা জানান, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মুসলিম মানুষের পরিবেশে বড় হতে পারেননি তিনি। বাবার সঙ্গে প্রতিদিন থাকা, ধর্মীয় বিষয় শেখা এবং নিজের বিশ্বাস চর্চা করার সুযোগ থাকলে তার শৈশব অন্যরকম হতে পারত বলে মনে করেন এই মডেল।

“আমি প্রতিদিন বাবার সঙ্গে থাকতে, পড়াশোনা করতে এবং নিজের ধর্ম পালন করতে চেয়েছিলাম। মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে বড় হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই সুযোগ আমি পাইনি”, জিকিউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেন বেলা।

 

তার জীবনে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ‘রামি’ নামের মার্কিন টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার পর। এটি মিশরীয়-আমেরিকান এক মুসলিম তরুণের জীবন, বিশ্বাস ও পরিচয় নিয়ে নির্মিত সিরিজ। বেলা এতে অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পান।

এই ধারাবাহিকের সেটে গিয়ে বেলা প্রথমবার এমন একটি পরিবেশ পান, যেখানে আরব ও মুসলিম পরিচয়ের সঙ্গে তার নিজের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পান। প্রথম দিন সেটে পৌঁছানোর পর সেখানে কর্মীরা তাকে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা একটি টি-শার্ট উপহার দিয়েছিলেন। ঘটনাটি তাকে এতটাই আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল যে তিনি কেঁদে ফেলেন বলে জানান।

 

বেলার ভাষায়, আরব হিসেবে বেড়ে ওঠার পর সেটিই ছিল প্রথমবার যখন তিনি নিজের মতো চিন্তা করা মানুষের মধ্যে নিজেকে দেখতে পেয়েছিলেন।

‘রামি’র অভিনেতা ও নির্মাতা রামি ইউসুফের সঙ্গে বেলার বন্ধুত্বও তার নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করে। বেলা জানান, রমজান মাসে একবার রামি তার সঙ্গে নামাজ পড়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের অন্যতম সুন্দর মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।

 

বেলার এই অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত পরিচয়ের প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলে আসছেন। নিজের পারিবারিক শিকড় এবং ফিলিস্তিনি পরিচয়কে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

জিকিউর সাক্ষাৎকারে বেলা আরও বলেন, তিনি মনে করেন মডেলিংই তার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। নিজের পরিচয়, বিশ্বাস ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে কথা বলার সুযোগকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। মডেল হিসেবে নিজের পেশাগত অবস্থান ঝুঁকিতে পড়লেও এসব বিষয়ে কথা বলা থেকে পিছিয়ে যেতে চান না বলে জানান তিনি।

 

বেলার বক্তব্যে উঠে এসেছে, শৈশবে নিজের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কাছ থেকে দূরে থাকা কীভাবে একজন মানুষের আত্মপরিচয় ও মানসিক অনুভূতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। ‘রামি’ ধারাবাহিকে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার জন্য সেই হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংযোগের কিছুটা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করেছিল বলে মনে করেন তিনি।

তবে বেলার এই বক্তব্য নতুন কোনো সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের নয়। তিনি মূলত ২০২২ সালে জিকিউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেই এসব কথা বলেছিলেন। বর্তমানে তার পুরোনো বক্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনায় আসায় বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

 

সূত্র: জিকিউ, দ্য ন্যাশনাল, আরব নিউজ ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম রেকর্ড উচ্চতায়
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ইউক্রেন-ইরান সংঘাতে বাড়ছে চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম আগস্ট মাসের জন্য রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সোমবার জাতীয়ভাবে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল গ্যালনপ্রতি ৪.০৫ ডলার, যা বছরের এই সময়ে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ও তেল সরবরাহে অস্থিরতার কারণে সামনে দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকেরা।   অঙ্গরাজ্যভেদে পরিস্থিতি আরও কঠিন। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের অনেক এলাকায় গ্যালনপ্রতি গ্যাসের দাম ইতোমধ্যে ৫ ডলারের ওপরে উঠেছে। এ এ এ -এর তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় গড় দাম ছিল ৪.১০ ডলার, যা ওই তারিখের জন্য রেকর্ড সর্বোচ্চ। চলতি আগস্টে গড় দাম ৪.০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের আগস্টের ৩.৯৭ ডলারের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।   জ্বালানি বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হানের মতে, শুধু অপরিশোধিত তেলের দাম নয়, বিশ্বজুড়ে রিফাইনারি সক্ষমতার ওপর চাপও গ্যাসের দাম বাড়ার বড় কারণ হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ধারাবাহিক হামলার কারণে রাশিয়ার বেশ কিছু রিফাইনারি সক্ষমতা ব্যাহত হয়েছে। ফলে পরিশোধিত জ্বালানি, বিশেষ করে গ্যাসোলিন ও ডিজেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে।   ডি হান বলেন, রাশিয়া বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধনকারী দেশগুলোর একটি। দেশটির রিফাইনারিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুধু অপরিশোধিত তেলের বাজার নয়, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারেও চাপ বাড়ছে।   ডিজেলের বাজারে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট। ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু এলাকায় ডিজেলের দাম আবার গ্যালনপ্রতি ৭ ডলারের ওপরে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডিজেলের গড় দামও গত এক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ৮০ ডলারের ওপরে থাকায় তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের পাম্পের দামে।   দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন স্বাভাবিক সময়ের প্রায় আড়াই সপ্তাহ আগেই শীতকালীন ব্লেন্ডের গ্যাসোলিন বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এই ধরনের গ্যাসোলিন উৎপাদন তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।   তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, সামনে ঝুঁকি এখনও অনেক। যুক্তরাষ্ট্রে হারিকেন মৌসুম চলমান থাকায় গালফ কোস্টের রিফাইনারি ও জ্বালানি সরবরাহ যেকোনো সময় ব্যাহত হতে পারে। একই সময়ে ভূরাজনৈতিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে তেলের বাজারে অস্থিরতাও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভও কমছে। অনুমোদিত তেল ছাড়ের কারণে মজুত প্রায় ২৯৫ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে তা আরও কমে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ব্যারেলে নামতে পারে বলে জ্বালানি বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হান জানিয়েছেন।   সব মিলিয়ে আগস্ট ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল গ্যাসোলিনের মাস হতে চলেছে। বিশেষ করে লেবার ডে উইকেন্ড সামনে থাকায় জাতীয় গড় দাম প্রথমবারের মতো ৪ ডলারের ওপরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে লেবার ডে-তে সর্বোচ্চ জাতীয় গড় দাম ছিল ২০১২ সালে, যখন তা ৩.৮৩ ডলারে উঠেছিল।   জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা কতদিন থাকবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ, ইরানকে ঘিরে সংঘাত, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, রিফাইনারি সক্ষমতা এবং হারিকেন মৌসুম - সবগুলো বিষয় একসঙ্গে গ্যাসের দামের ওপর চাপ তৈরি করছে। ফলে আগামী কয়েক মাসেও যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িচালকদের জন্য পাম্পের দাম বড় একটি উদ্বেগ হয়ে থাকতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ০:২৮
ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টের বাইরে আলোচিত স্কাইওয়াকার্স যুগল অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ ও ইভান কুজনেটসভ। ছবি: সংগৃহীত

মামলার শুনানির পর আদালতের বাইরে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সেই দম্পতি, মিলতে পারে আইনি ছাড়

মুসলিম ও ফিলিস্তিনি শিকড় নিয়ে নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা ও আক্ষেপের কথা বলেছেন মডেল বেলা হাদিদ। ছবি: সংগৃহীত

‘মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে বড় হতে না পারা আমার বড় আফসোসগুলোর একটি’: বেলা হাদিদ

দক্ষিণ ক্যারোলিনায় পিঁপড়ার কামড় ও দংশনের পর ৮৩ বছর বয়সী শেলবা ক্যাটারটনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

১ হাজারের বেশি পিঁপড়ার কামড়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নার্সিংহোমে ৮৩ বছরের বৃদ্ধার মৃত্যু

চিকিৎসার পর শিশুটিকে আবার মায়ের গর্ভে ফিরিয়ে দিয়ে আরও কয়েক সপ্তাহ গর্ভাবস্থা চালিয়ে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
২৫ সপ্তাহে গর্ভের বাইরে এনে শিশুর ফুসফুসের চিকিৎসা, এরপর আবার গর্ভেই ফিরিয়ে দিলেন চিকিৎসকেরা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিরল ও জটিল এক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাণঘাতী শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত এক শিশুর জীবন বাঁচিয়েছেন চিকিৎসকেরা। গর্ভাবস্থার ২৫ সপ্তাহে অস্ত্রোপচারের জন্য শিশুটিকে মায়ের গর্ভ থেকে আংশিকভাবে বের করে আনা হয়। চিকিৎসকেরা তার শ্বাসনালিতে একটি নল স্থাপন করে ফুসফুসে জমে থাকা তরল বের করার ব্যবস্থা করেন। এরপর শিশুটিকে আবার মায়ের গর্ভে ফিরিয়ে দিয়ে গর্ভাবস্থা আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে দেওয়া হয়।   শিশুটির নাম ক্যাসিয়ান জুবার্ট। ২০২৫ সালের জুনে অরল্যান্ডো হেলথ উইনি পামার হাসপাতাল ফর উইমেন অ্যান্ড বেবিজে এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। তখন ক্যাসিয়ানের গর্ভকাল ছিল ২৫ সপ্তাহ। পরবর্তীতে আগস্ট ২০২৫ সালে তার জন্ম হয়। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সে ভালো আছে। ঘটনাটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি বিরল ও নজিরবিহীন পদ্ধতির সফল প্রয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   ক্যাসিয়ানের মা কেইশেরা জুবার্টের গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে করা আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় শিশুটির গুরুতর শারীরিক জটিলতা ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা দেখতে পান, তার শ্বাসনালিতে একটি বাধা রয়েছে। এর ফলে ফুসফুস থেকে স্বাভাবিকভাবে তরল বের হতে পারছিল না। তরল জমে ফুসফুস অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠছিল এবং হৃদযন্ত্রের ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছিল।   এই অবস্থাটির চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম কনজেনিটাল হাই এয়ারওয়ে অবস্ট্রাকশন সিনড্রোম বা সিএইচএওএস। এটি অত্যন্ত বিরল একটি জন্মগত সমস্যা। সাধারণত গর্ভের শিশুর ফুসফুসে তৈরি হওয়া তরল শ্বাসনালির মাধ্যমে বের হয়ে যায়। কিন্তু শ্বাসনালিতে সম্পূর্ণ বা গুরুতর বাধা থাকলে সেই তরল আটকে যায়। এতে ফুসফুস ফুলে ওঠে এবং আশপাশের অঙ্গের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। চিকিৎসা না হলে এই জটিলতা প্রাণঘাতী হতে পারে।   ক্যাসিয়ানের ক্ষেত্রে প্রথমে গর্ভের ভেতর থেকেই শ্বাসনালির বাধা দূর করার চেষ্টা করা হয়। চিকিৎসকেরা লেজার-ভিত্তিক একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে বাধাটি খুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এরপর চিকিৎসক ইমানুয়েল ভ্লাসতোস ও তার দলের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত আসে। শিশুটিকে স্বাভাবিকভাবে গর্ভে রেখে দিলে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম ছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা একটি ব্যতিক্রমী পদ্ধতির পরিকল্পনা করেন। শিশুটিকে পুরোপুরি জন্ম না দিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শুধু মাথা, ঘাড় ও কাঁধের অংশ গর্ভের বাইরে আনা হবে এবং তাকে নাভিরজ্জু ও প্লাসেন্টার মাধ্যমে মায়ের শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত রেখেই চিকিৎসা করা হবে। অস্ত্রোপচারের সময় ক্যাসিয়ানের মাথা ও ঘাড় গর্ভের বাইরে আনার পর তার শ্বাসনালিতে একটি বিশেষ নল প্রবেশ করানো হয়। এর মাধ্যমে ফুসফুসে জমে থাকা তরল বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরো প্রক্রিয়ার সময় শিশুটি মায়ের সঙ্গে নাভিরজ্জু ও প্লাসেন্টার মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল।   তরল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পর চিকিৎসকেরা শিশুটির শরীরের উপরের অংশ আবার মায়ের জরায়ুর ভেতরে ফিরিয়ে দেন। এরপর জরায়ু বন্ধ করে দেওয়া হয়। ক্যাসিয়ান তখনও মায়ের গর্ভেই থেকে যায় এবং আরও কয়েক সপ্তাহ তার বিকাশ অব্যাহত থাকে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শিশুটিকে এমন অবস্থায় রাখা, যাতে সে বাইরে শ্বাস নেওয়া শুরু না করে। কারণ সে যদি নিজে শ্বাস নিতে শুরু করত, তাহলে রক্ত সঞ্চালনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসত এবং তাকে আবার নিরাপদে গর্ভে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হতো না। অস্ত্রোপচারের সময় মায়ের জরায়ুর পেশি শিথিল রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ জরায়ু সংকুচিত হয়ে গেলে আগেভাগে প্রসব এবং অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারত।   এ ধরনের পদ্ধতি সাধারণত শিশুর জন্মের সময় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ক্যাসিয়ানের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার মাত্র ২৫ সপ্তাহে এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং চিকিৎসার পর তাকে আবার গর্ভে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, এত কম গর্ভকালীন সময়ে এভাবে শ্বাসনালিতে নল স্থাপন করে শিশুকে আবার জরায়ুতে ফিরিয়ে দেওয়ার নজির তারা আগে দেখেননি।   অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকদের একটি নৈতিক কমিটির অনুমোদনও নিতে হয়েছিল। কারণ মা ও অনাগত শিশুর জন্য এটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। তবু ক্যাসিয়ানের বাবা-মা চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে এই প্রচেষ্টায় সম্মতি দেন। চিকিৎসকদের মতে, প্রচলিত চিকিৎসায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় নতুন পদ্ধতিটি চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর কেইশেরা আরও কয়েক সপ্তাহ গর্ভাবস্থা চালিয়ে যান। প্রায় ছয় সপ্তাহ পর আগস্টে তার প্রসববেদনা শুরু হয় এবং ক্যাসিয়ানের জন্ম হয়। এরপর তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে ক্যাসিয়ান সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে বলে চিকিৎসক ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অরল্যান্ডো হেলথের ফিটাল কেয়ার সেন্টারে উচ্চঝুঁকির গর্ভাবস্থা ও গর্ভের শিশুর বিভিন্ন জটিলতার চিকিৎসায় বিশেষায়িত দল কাজ করে। সেখানে মাতৃ ও ভ্রূণ চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ, প্রসূতি চিকিৎসক, শিশু সার্জন, নবজাতক বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকেরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন। সিএইচএওএসও তাদের চিকিৎসাসেবার আওতায় থাকা জটিলতাগুলোর একটি।   ক্যাসিয়ানের ঘটনাটি চিকিৎসকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সিএইচএওএস অত্যন্ত বিরল হওয়ায় এই রোগের সব ক্ষেত্রে অনুসরণ করার মতো একক ও প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসাপদ্ধতি নেই। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা আশা করছেন, এই সফল অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে একই ধরনের জটিলতায় আক্রান্ত অন্য শিশুদের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ক্যাসিয়ানকে আক্ষরিক অর্থে দুবার জন্ম নেওয়া বলা ঠিক নয়। তবে অস্ত্রোপচারের সময় তাকে আংশিকভাবে গর্ভের বাইরে আনা এবং পরে আবার জরায়ুর ভেতরে ফিরিয়ে দেওয়ার কারণে তার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ‘দুইবার জন্ম নেওয়া শিশু’ হিসেবে আলোচিত হয়েছে।   সূত্র: অরল্যান্ডো হেলথ, লাইভ সায়েন্স, এবিসি নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ান

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ২১:২৪
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভিসা বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, ঝুঁকিতে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থী

স্পেসএক্সের রকেট উৎক্ষেপণের সময় উচ্চ আকাশে সূর্যের আলোয় তৈরি হতে পারে জেলিফিশের মতো উজ্জ্বল ধোঁয়ার মেঘ। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক-নিউজার্সির আকাশে দেখা যেতে পারে ‘জেলিফিশ মেঘ’, ভোরে চোখে পড়তে পারে বিরল দৃশ্য

মুসলিম অধিকারকর্মী জাহরা বিলুর

ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মুসলিম অধিকারকর্মী, এবার ফেডারেল মামলা

আটক ব্যক্তি লুইস ম্যানুয়েল অ্যাভিলেস রোয়া
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ৯ মাস সমুদ্রে মার্কিন নৌসেনা, দেশে ফেরার আগেই বাবাকে আটক করল আইসিই

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা এক মার্কিন নৌসেনা দেশে ফেরার পথে জানতে পারলেন, তার বাবাকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আটক করেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা নৌসেনা জোশুয়া অ্যাভিলেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার আটকের খবর প্রকাশ করেন।    আটক ব্যক্তি লুইস ম্যানুয়েল অ্যাভিলেস রোয়া, ৪৮ বছর বয়সী নিকারাগুয়ার নাগরিক। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি  জানিয়েছে, ২২ আগস্ট ফ্লোরিডার কী ওয়েস্টে একটি গাড়ি থামানোর সময় বর্ডার প্যাট্রোল তাকে আটক করে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তাকে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে রিমুভাল প্রসিডিংস চলছে।    জোশুয়া অ্যাভিলেস জানান, তিনি নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে দায়িত্ব পালন করছেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন দিতে জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ছিল। দেশে ফেরার পথে বাবাকে আইসিই আটক করেছে জানতে পেরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গভীর উদ্বেগের কথা জানান।    জোশুয়া লেখেন, তার বাবা একজন পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। বাবার আটকের খবর পাওয়ার পর ১২ ঘণ্টার বেশি সময়ের শিফটে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়া তার জন্য মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।    পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, লুইস অ্যাভিলেস প্রায় ১৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তার ড্রাইভার লাইসেন্স, সোশ্যাল সিকিউটি কার্ড এবং ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে। পরিবারের দাবি, তারা তার গ্রিন কার্ডের জন্য ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিল এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। পরিবারের সদস্যরা আরও জানিয়েছেন, তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড সম্পর্কে তারা জানেন না।    তার স্ত্রী আর্জেলিয়া অ্যাভিলেসের ভাষ্য, ঘটনার দিন লুইস গাড়ি মেরামতের জন্য মেকানিকের কাছে যাচ্ছিলেন। তখনই তাকে বর্ডার প্যাট্রোল আটক করে।    তবে ডিএইচএস পরিবারের বক্তব্যের পাশাপাশি নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে। সংস্থাটি বলেছে, কোনো ব্যক্তির পরিবারের সদস্য মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কাজ করলেই ইমিগ্রেশন আইন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছাড় পাওয়া যায় না। ডিএইচএস এর মতে, কর্তৃপক্ষ কংগ্রেসের অনুমোদিত ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগ করছে।    এদিকে জোশুয়া অ্যাভিলেস যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে দায়িত্ব পালন করছেন, সেটিও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। ইরান যুদ্ধের সময় দীর্ঘ মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা এই বিমানবাহী রণতরী ২০০ দিনেরও বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে ছিল, যা আধুনিক মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম দীর্ঘ টানা সমুদ্রযাত্রার রেকর্ড তৈরি করেছে। দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে নৌসেনাদের পরিবার ও আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছিল।    বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ফিরছে। আর সেই ফেরার সময়ই জোশুয়ার পরিবারের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন এক অনিশ্চয়তা। দীর্ঘ নয় মাসের সামরিক দায়িত্ব শেষে দেশে ফিরতে থাকা এই নৌসেনা এখন বাবার সঙ্গে কবে দেখা করতে পারবেন, সেটিই পরিবারের বড় উদ্বেগ। লুইস অ্যাভিলেস আপাতত আইসিই হেফাজতে রয়েছেন এবং তার ইমিগ্রেশন মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে তার ভবিষ্যৎ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৯:২২
লং আইল্যান্ডে একটি প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা

লং আইল্যান্ডের সংরক্ষিত এলাকায় ১৪ বছরের কিশোরীর সঙ্গে নগ্ন অবস্থায় যুবক আটক

নিহত শিক্ষার্থী অ্যালি রেনি সিং

ক্যালিফোর্নিয়ায় ক্লিফ থেকে সাগরে গাড়ি পড়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আবাসন বাজারে বাড়ি

বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া থাকলেই মাসে সাশ্রয় $১,০০০, যুক্তরাষ্ট্রের যে ৭ শহর

0 Comments