মামলার শুনানির পর আদালতের বাইরে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সেই দম্পতি, মিলতে পারে আইনি ছাড়
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় উঠে প্রেম নিবেদনের ঘটনায় অভিযুক্ত এক দুঃসাহসী যুগল ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে হাজিরা দিয়েছেন। গত সোমবার আদালতে হাজিরার পর এই জুটির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আইনি সমঝোতা বা প্লি ডিল হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। আর এই খবর শোনার পরই আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে প্রকাশ্যেই অন্তরঙ্গভাবে উদযাপন করতে দেখা গেছে তাদের।
নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ৩৩ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ এবং তার ৩২ বছর বয়সী প্রেমিক ইভান কুজনেটসভ গত জুলাই মাসে নিজেদের বাগদানের জন্য এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে উঠেছিলেন। এই বিপজ্জনক ও বেআইনি কাজের জন্য তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। সোমবার শুনানির পর আদালত ভবনের বাইরে একটি হটডগের দোকানের কাছে তারা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
সে সময় তাদের হাতে খেলনা হাতকড়া পরা ছিল। প্রায় আধা মিনিট ধরে তারা একে অপরকে চুম্বন করেন। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের প্রায় এক হাজার ফুটেরও বেশি উঁচুতে ইভান হাঁটু গেড়ে বসে অ্যাঞ্জেলাকে যে আংটি দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটিও এদিন প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রদর্শন করেন অ্যাঞ্জেলা।
তবে আদালতে যাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি অদ্ভুত ভিডিও পোস্ট করেছিলেন অ্যাঞ্জেলা। সেখানে তাকে একটি ল্যাটেক্স বডিস্যুট পরে হাতে ছুরি নিয়ে তার প্রেমিকের মাথায় জিহ্বা লাগাতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন কোর্ট প্রেপ বা আদালতের প্রস্তুতি।
শুনানির দিন বিচারক বেভারলি টাথামের সামনে আইনজীবীদের পেছনে দাঁড়িয়ে তারা একে অপরের হাত ধরে রেখেছিলেন। শুনানিতে ম্যানহাটনের সহকারী ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসিকা ওয়াল্ডম্যান জানান, এই যুগলের সঙ্গে তাদের সক্রিয় আইনি সমঝোতার আলোচনা চলছে। এই সম্ভাব্য চুক্তির শর্তগুলো ঠিক কী হতে পারে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে চুরি এবং বেপরোয়াভাবে জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টির মতো যেসব গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, গত মাসে নিউইয়র্কের অন্যতম প্রধান এই স্থাপনায় ওঠার সময় তারা প্রায় দুই হাজার ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি করেছেন। এছাড়া তাদের কারণে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সম্প্রচার অ্যান্টেনার বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই রাত ৯টার দিকে ওই যুগল এক হাজার ৪৫৪ ফুট উঁচু এই ভবনে প্রবেশের জন্য টিকিট কাটেন। এরপর তারা সেখানে সারারাত লুকিয়ে থাকেন। পরদিন ভোর ৫টার দিকে তারা ভবনের ১০২ তলার একটি হ্যাচ বা ঢাকনা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
এরপর তারা ভবনের অ্যান্টেনা বেয়ে উঠতে শুরু করেন এবং সেখানে একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেন। ব্যানারে লেখা ছিল, যখন ক্ষমতার প্রতি ভালোবাসার চেয়ে ভালোবাসার ক্ষমতা জয়ী হয়, তখন বিশ্ব শান্তি লাভ করে। এই মুহূর্তের ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ওই যুগল নিজেরাই ধারণ করেছিলেন। অ্যান্টেনা থেকে নিচে নামার পর ইভান একটি কালো বিড়ালের মুখোশ পরা অ্যাঞ্জেলাকে হাঁটু গেড়ে বসে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইভান ভানিয়া বিয়ারকাস নামেও পরিচিত।
এই ঘটনার পর অ্যাঞ্জেলা এবং ইভানের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চুরি, বেপরোয়া আচরণ এবং অপরাধমূলক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। এর পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে চুরির সরঞ্জাম রাখা এবং অবৈধভাবে অনধিকার প্রবেশের মতো ছোটখাটো অভিযোগও রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই যুগল ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্সের একটি প্রামাণ্যচিত্র স্কাইওয়াকার্স: অ্যা লাভ স্টোরি এর মূল চরিত্র ছিলেন। প্রামাণ্যচিত্রটি ওই বছর সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছিল। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের আবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নামে থাক বারাক ওবামা এলিমেন্টারি স্কুলে মোল্ডের নতুন উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর স্কুলটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবনটিতে ইঁদুরের উপস্থিতির খবরও পাওয়া গেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় এমন পরিস্থিতিতে স্কুলটির শিক্ষার্থীদের সাময়িকভাবে অন্য একটি স্কুলে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রিচমন্ড পাবলিক স্কুলস। সোমবার, ২৪ আগস্ট শিক্ষক ও স্টাফরা শ্রেণিকক্ষ প্রস্তুত করতে স্কুল ভবনে প্রবেশের পর নতুন কয়েকটি জায়গায় মোল্ড দেখতে পান। এর মধ্যে বুলেটিন বোর্ডের কাগজের পেছনেও মোল্ড পাওয়া যায়। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সবাইকে ভবন থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং নতুন করে পরিষ্কার ও মোল্ড পরীক্ষা শুরু করা হয়। রিচমন্ড পাবলিক স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন কামরাস জানিয়েছেন, ভবনটি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে শিক্ষার্থী বা স্টাফদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে না। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে পরিষ্কার, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ট্রিটমেন্ট এবং প্রতিটি কক্ষের এয়ার কোয়ালিটি পরীক্ষা করা হবে। এর আগে স্কুলের এইচভিএসি সিস্টেমে সমস্যার পর ভবনের বেসমেন্ট ও কিছু আসবাবপত্রে মোল্ড শনাক্ত হয়েছিল। পরবর্তী এয়ার কোয়ালিটি পরীক্ষায়ও কিছু এলাকায় মোল্ড স্পোরের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেশাদার কন্ট্রাক্টর নিয়োগ করে এইচভিএসি ডাক্ট পরিষ্কার, এয়ার ফিল্টার পরিবর্তন এবং মোল্ড রিমিডিয়েশন শুরু করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি কক্ষে ইঁদুর দেখা যাওয়ায় এক্সটারমিনেটরও নিয়োগ করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, রিমিডিয়েশনের সময় একটি সাপ্লাই ক্লোজেটের সিলিংয়ের ওপরে লুকানো আর্দ্র পাইপকে মোল্ডের সম্ভাব্য প্রধান উৎস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই জায়গা পরিষ্কার করার পর মোল্ডের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তবে নতুন করে মোল্ড শনাক্ত হওয়ায় আবারও পুরো ভবনে পরীক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে। রিচমন্ড পাবলিক স্কুলস জানিয়েছে, বারাক ওবামা এলিমেন্টারি আপাতত এই সপ্তাহে চালু হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লার্ক স্প্রিংস এলিমেন্টারি স্কুলকে অস্থায়ী স্থান হিসেবে প্রস্তুত করার কাজ চলছে। তবে মূল স্কুল ভবনে শিক্ষার্থীরা কবে ফিরতে পারবে, তা নতুন পরীক্ষার ফল ও রিমিডিয়েশন কাজ শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করছে। স্কুলটি এর আগেও মোল্ড সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল। ২০২৪ সালের একটি রিপোর্টে সেখানে অল্প পরিমাণে মোল্ড বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া যায় এবং তখন সেটি পরিষ্কার করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্কুল ভবনের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মাত্র দুই সপ্তাহেই মেরিল্যান্ড-ভার্জিনিয়ায় ১,৩২৮ জনকে আটক করেছে আইসিই
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ইউক্রেন-ইরান সংঘাতে বাড়ছে চাপ
মামলার শুনানির পর আদালতের বাইরে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সেই দম্পতি, মিলতে পারে আইনি ছাড়
বিশ্বখ্যাত মডেল বেলা হাদিদ তার শৈশব, পারিবারিক বিচ্ছেদ এবং নিজের মুসলিম ও ফিলিস্তিনি শিকড় থেকে দূরে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলায় মুসলিমদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিবেশে বড় হতে না পারা এবং বাবার সঙ্গে থেকে নিজের ধর্মীয় সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ না পাওয়া তার জীবনের অন্যতম বড় আফসোস। ২০২২ সালে জিকিউ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেলা এসব কথা বলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার সেই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মাত্র চার বছর বয়সে তার জীবনের পরিবেশ অনেকটাই বদলে যায়। তিনি মা ইয়োলান্ডা হাদিদের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় চলে যান এবং বাবার ফিলিস্তিনি পরিবারের কাছ থেকে দূরে বড় হতে থাকেন। বেলার বাবা মোহাম্মদ হাদিদ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী এবং মা ইয়োলান্ডা হাদিদ ডাচ মডেল। বেলার বড় বোন গিগি হাদিদ এবং ছোট ভাই আনোয়ার হাদিদও পরিচিত মডেল। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সন্তানদের বড় করার দায়িত্ব মূলত মায়ের সঙ্গে থাকলেও বেলার ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে তার বাবার দিকের ফিলিস্তিনি ও মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে দৈনন্দিন যোগাযোগ অনেকটাই কমে যায়। সান্তা বারবারায় বেড়ে ওঠার সময় বেলা তার স্কুলে প্রায়ই একমাত্র আরব মেয়ে ছিলেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, কৈশোরে কখনো কখনো তাকে বর্ণবাদী মন্তব্যেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা তাকে নিজের পরিচয় নিয়ে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি দিয়েছিল। জিকিউকে বেলা বলেছিলেন, দীর্ঘ সময় তিনি নিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে ফেলেছেন বলে মনে করতেন। এই অনুভূতি তাকে অনেক বছর ধরে দুঃখী ও একাকী করে রেখেছিল বলে জানান তিনি। নিজের সবচেয়ে বড় আফসোসের কথা বলতে গিয়ে বেলা জানান, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মুসলিম মানুষের পরিবেশে বড় হতে পারেননি তিনি। বাবার সঙ্গে প্রতিদিন থাকা, ধর্মীয় বিষয় শেখা এবং নিজের বিশ্বাস চর্চা করার সুযোগ থাকলে তার শৈশব অন্যরকম হতে পারত বলে মনে করেন এই মডেল। “আমি প্রতিদিন বাবার সঙ্গে থাকতে, পড়াশোনা করতে এবং নিজের ধর্ম পালন করতে চেয়েছিলাম। মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে বড় হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই সুযোগ আমি পাইনি”, জিকিউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেন বেলা। তার জীবনে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ‘রামি’ নামের মার্কিন টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার পর। এটি মিশরীয়-আমেরিকান এক মুসলিম তরুণের জীবন, বিশ্বাস ও পরিচয় নিয়ে নির্মিত সিরিজ। বেলা এতে অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পান। এই ধারাবাহিকের সেটে গিয়ে বেলা প্রথমবার এমন একটি পরিবেশ পান, যেখানে আরব ও মুসলিম পরিচয়ের সঙ্গে তার নিজের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পান। প্রথম দিন সেটে পৌঁছানোর পর সেখানে কর্মীরা তাকে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা একটি টি-শার্ট উপহার দিয়েছিলেন। ঘটনাটি তাকে এতটাই আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল যে তিনি কেঁদে ফেলেন বলে জানান। বেলার ভাষায়, আরব হিসেবে বেড়ে ওঠার পর সেটিই ছিল প্রথমবার যখন তিনি নিজের মতো চিন্তা করা মানুষের মধ্যে নিজেকে দেখতে পেয়েছিলেন। ‘রামি’র অভিনেতা ও নির্মাতা রামি ইউসুফের সঙ্গে বেলার বন্ধুত্বও তার নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করে। বেলা জানান, রমজান মাসে একবার রামি তার সঙ্গে নামাজ পড়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের অন্যতম সুন্দর মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। বেলার এই অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত পরিচয়ের প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলে আসছেন। নিজের পারিবারিক শিকড় এবং ফিলিস্তিনি পরিচয়কে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন। জিকিউর সাক্ষাৎকারে বেলা আরও বলেন, তিনি মনে করেন মডেলিংই তার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। নিজের পরিচয়, বিশ্বাস ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে কথা বলার সুযোগকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। মডেল হিসেবে নিজের পেশাগত অবস্থান ঝুঁকিতে পড়লেও এসব বিষয়ে কথা বলা থেকে পিছিয়ে যেতে চান না বলে জানান তিনি। বেলার বক্তব্যে উঠে এসেছে, শৈশবে নিজের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কাছ থেকে দূরে থাকা কীভাবে একজন মানুষের আত্মপরিচয় ও মানসিক অনুভূতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। ‘রামি’ ধারাবাহিকে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার জন্য সেই হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংযোগের কিছুটা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করেছিল বলে মনে করেন তিনি। তবে বেলার এই বক্তব্য নতুন কোনো সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের নয়। তিনি মূলত ২০২২ সালে জিকিউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেই এসব কথা বলেছিলেন। বর্তমানে তার পুরোনো বক্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনায় আসায় বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। সূত্র: জিকিউ, দ্য ন্যাশনাল, আরব নিউজ ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
১ হাজারের বেশি পিঁপড়ার কামড়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নার্সিংহোমে ৮৩ বছরের বৃদ্ধার মৃত্যু
২৫ সপ্তাহে গর্ভের বাইরে এনে শিশুর ফুসফুসের চিকিৎসা, এরপর আবার গর্ভেই ফিরিয়ে দিলেন চিকিৎসকেরা
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভিসা বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, ঝুঁকিতে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থী
নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বাসিন্দাদের জন্য মঙ্গলবার ভোরে আকাশে দেখা যেতে পারে বিরল ও দৃষ্টিনন্দন এক মহাজাগতিক দৃশ্য। আকাশ পরিষ্কার থাকলে স্পেসএক্সের একটি রকেট উৎক্ষেপণের পাশাপাশি এর পেছনে তৈরি হওয়া উজ্জ্বল ‘জেলিফিশ মেঘ’ বা জেলিফিশের মতো দেখতে আলোকিত ধোঁয়ার বিস্তারও দেখা যেতে পারে। মঙ্গলবার ভোরে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশনের স্পেস লঞ্চ কমপ্লেক্স-৪০ থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেট উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। এই মিশনের নাম ‘স্টারলিংক গ্রুপ ১০-৪৯’। এতে ২৯টি স্টারলিংক উপগ্রহ নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো হবে। উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় ভোর ৫টা ৩৩ মিনিট পূর্বাঞ্চলীয় সময়। উৎক্ষেপণের পর রকেটটি উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে যাবে, মোটামুটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের সমান্তরাল পথে। ফলে ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও আশপাশের ত্রিরাজ্য এলাকায় থাকা মানুষজন আকাশে রকেটটির গতিপথ দেখতে পারেন। তবে এই দৃশ্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হতে পারে রকেটের পেছনে তৈরি হওয়া ‘জেলিফিশ’ আকৃতির আলোকিত মেঘ। এটি আসলে কোনো মেঘ নয়। রকেটের ইঞ্জিন থেকে বের হওয়া গ্যাস ও ধোঁয়ার বিস্তৃত নির্গমন বা নিষ্কাশন ধারা উচ্চ বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের সময় মাটিতে তখনও অন্ধকার থাকলেও রকেট ও এর ধোঁয়ার অংশটি যখন অনেক ওপরে উঠে যায়, তখন তা সূর্যের সরাসরি আলো পেতে পারে। ফলে অন্ধকার আকাশের পটভূমিতে ধোঁয়ার বিস্তার উজ্জ্বল হয়ে জেলিফিশের মতো আকৃতি তৈরি করতে পারে। এই ধরনের দৃশ্যকে সাধারণভাবে ‘জেলিফিশ ইফেক্ট’ বলা হয়। ভোর বা সন্ধ্যার কাছাকাছি সময়ে রকেট উৎক্ষেপণ হলে এ ধরনের আলোকিত নিষ্কাশন ধারা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। জুলাইতেও ফ্লোরিডায় একটি স্পেসএক্স উৎক্ষেপণের সময় একই ধরনের জেলিফিশ আকৃতির উজ্জ্বল দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। মঙ্গলবারের উৎক্ষেপণের জন্য আবহাওয়াও মোটামুটি অনুকূল থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে আকাশে মেঘের উপস্থিতি দৃশ্যটি কতটা পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে, সেটিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এই মিশনে ব্যবহৃত ফ্যালকন-৯ রকেটের প্রথম ধাপের বুস্টারটির নাম বি১০৬৭। এটি রকেটটির ৩৭তম মিশন হতে যাচ্ছে, যা ফ্যালকন-৯-এর পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। উৎক্ষেপণের পর প্রথম ধাপটি আটলান্টিক মহাসাগরে থাকা ‘এ শর্টফল অব গ্র্যাভিটাস’ নামের ড্রোন জাহাজে অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২৯টি স্টারলিংক উপগ্রহ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। এসব উপগ্রহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা দিতে ব্যবহৃত হয়। তবে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বাসিন্দাদের জন্য এই উৎক্ষেপণের আকর্ষণ শুধু মহাকাশযাত্রা দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে ভোরের অন্ধকার আকাশে রকেটের উজ্জ্বল গতিপথ এবং তার পেছনে সূর্যের আলোয় আলোকিত বিশাল ধোঁয়ার বিস্তার একসঙ্গে দেখা যেতে পারে, যা অনেকটা আকাশে ভাসমান জেলিফিশের মতো দেখাবে। উৎক্ষেপণের সময় বা দৃশ্যমানতা আবহাওয়া ও রকেটের প্রকৃত গতিপথের ওপর নির্ভর করবে। তাই আকাশ পরিষ্কার থাকলেও সব স্থান থেকে একই মাত্রায় দৃশ্যটি দেখা যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। সূত্র: পিক্স১১
ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মুসলিম অধিকারকর্মী, এবার ফেডারেল মামলা
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ৯ মাস সমুদ্রে মার্কিন নৌসেনা, দেশে ফেরার আগেই বাবাকে আটক করল আইসিই