মামলার শুনানির পর আদালতের বাইরে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সেই দম্পতি, মিলতে পারে আইনি ছাড়
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় উঠে প্রেম নিবেদনের ঘটনায় অভিযুক্ত এক দুঃসাহসী যুগল ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে হাজিরা দিয়েছেন। গত সোমবার আদালতে হাজিরার পর এই জুটির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আইনি সমঝোতা বা প্লি ডিল হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। আর এই খবর শোনার পরই আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে প্রকাশ্যেই অন্তরঙ্গভাবে উদযাপন করতে দেখা গেছে তাদের।
নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ৩৩ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ এবং তার ৩২ বছর বয়সী প্রেমিক ইভান কুজনেটসভ গত জুলাই মাসে নিজেদের বাগদানের জন্য এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে উঠেছিলেন। এই বিপজ্জনক ও বেআইনি কাজের জন্য তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। সোমবার শুনানির পর আদালত ভবনের বাইরে একটি হটডগের দোকানের কাছে তারা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
সে সময় তাদের হাতে খেলনা হাতকড়া পরা ছিল। প্রায় আধা মিনিট ধরে তারা একে অপরকে চুম্বন করেন। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের প্রায় এক হাজার ফুটেরও বেশি উঁচুতে ইভান হাঁটু গেড়ে বসে অ্যাঞ্জেলাকে যে আংটি দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটিও এদিন প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রদর্শন করেন অ্যাঞ্জেলা।
তবে আদালতে যাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি অদ্ভুত ভিডিও পোস্ট করেছিলেন অ্যাঞ্জেলা। সেখানে তাকে একটি ল্যাটেক্স বডিস্যুট পরে হাতে ছুরি নিয়ে তার প্রেমিকের মাথায় জিহ্বা লাগাতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন কোর্ট প্রেপ বা আদালতের প্রস্তুতি।
শুনানির দিন বিচারক বেভারলি টাথামের সামনে আইনজীবীদের পেছনে দাঁড়িয়ে তারা একে অপরের হাত ধরে রেখেছিলেন। শুনানিতে ম্যানহাটনের সহকারী ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসিকা ওয়াল্ডম্যান জানান, এই যুগলের সঙ্গে তাদের সক্রিয় আইনি সমঝোতার আলোচনা চলছে। এই সম্ভাব্য চুক্তির শর্তগুলো ঠিক কী হতে পারে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে চুরি এবং বেপরোয়াভাবে জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টির মতো যেসব গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, গত মাসে নিউইয়র্কের অন্যতম প্রধান এই স্থাপনায় ওঠার সময় তারা প্রায় দুই হাজার ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি করেছেন। এছাড়া তাদের কারণে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সম্প্রচার অ্যান্টেনার বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই রাত ৯টার দিকে ওই যুগল এক হাজার ৪৫৪ ফুট উঁচু এই ভবনে প্রবেশের জন্য টিকিট কাটেন। এরপর তারা সেখানে সারারাত লুকিয়ে থাকেন। পরদিন ভোর ৫টার দিকে তারা ভবনের ১০২ তলার একটি হ্যাচ বা ঢাকনা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
এরপর তারা ভবনের অ্যান্টেনা বেয়ে উঠতে শুরু করেন এবং সেখানে একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেন। ব্যানারে লেখা ছিল, যখন ক্ষমতার প্রতি ভালোবাসার চেয়ে ভালোবাসার ক্ষমতা জয়ী হয়, তখন বিশ্ব শান্তি লাভ করে। এই মুহূর্তের ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ওই যুগল নিজেরাই ধারণ করেছিলেন। অ্যান্টেনা থেকে নিচে নামার পর ইভান একটি কালো বিড়ালের মুখোশ পরা অ্যাঞ্জেলাকে হাঁটু গেড়ে বসে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইভান ভানিয়া বিয়ারকাস নামেও পরিচিত।
এই ঘটনার পর অ্যাঞ্জেলা এবং ইভানের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চুরি, বেপরোয়া আচরণ এবং অপরাধমূলক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। এর পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে চুরির সরঞ্জাম রাখা এবং অবৈধভাবে অনধিকার প্রবেশের মতো ছোটখাটো অভিযোগও রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই যুগল ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্সের একটি প্রামাণ্যচিত্র স্কাইওয়াকার্স: অ্যা লাভ স্টোরি এর মূল চরিত্র ছিলেন। প্রামাণ্যচিত্রটি ওই বছর সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছিল। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের আবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউ জার্সিতে এক কনের বিয়ের আনন্দের মুহূর্তটি শেষ পর্যন্ত বড় দুশ্চিন্তায় পরিণত হতে যাচ্ছিল। তিনি নিউ জার্সি ট্রানজিটের একটি ট্রেনে নিজের বিয়ের পোশাক ফেলে রেখে বিমান ধরতে নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলে যান। পোশাকটি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বিপাকে পড়েন। খবরটি জানার পর নিউ জার্সি ট্রানজিটের কর্মীরা দ্রুত তৎপর হন। পরিবহন সংস্থার কর্মীরা বিভিন্ন ট্রেনের অবস্থান শনাক্ত করেন, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই ট্রেনের কামরাগুলোতে পোশাকটি খুঁজতে থাকেন। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে পোশাকটি উদ্ধার করে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে কনে বিমানে ওঠার আগেই নিজের বিয়ের পোশাক ফিরে পান। পরিবহন সংস্থাটি ঘটনাটিকে ‘২০ মিনিটের অলৌকিক সাফল্য’ বলে বর্ণনা করেছে। ব্যস্ত সময়ে ট্রেনে ব্যাগ, নথি বা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ফেলে যাওয়া সহজেই ঘটে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবহন সংস্থার কর্মীদের জানানো এবং ট্রেনের নম্বর, যাত্রার সময় ও ওঠানামার স্টেশন জানাতে পারলে জিনিস খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, দ্রুত যোগাযোগ ও কর্মীদের সমন্বয় কীভাবে একজন যাত্রীর বিশেষ দিন নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে।
নিউজার্সিতে খামারের পার্কিংয়ে এসইউভির চাপায় প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুর, অল্পের জন্য বাঁচলেন দাদি
আকাশে তীব্র ঝাঁকুনি, আতঙ্কের পর হাসপাতালে ৮ যাত্রী! মিয়ামিতে নামল নিউইয়র্কগামী বিমান
নিউজার্সিতে ট্রেনে বিয়ের গাউন ফেলে গেলেন কনে, ২০ মিনিটেই উদ্ধার করে দিল এনজে ট্রানজিট
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কানাডা সীমান্তবর্তী শহর লকপোর্টে একটি পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ওসমান। বাফেলো শহরের বাসিন্দা ওসমানের উদ্যোগে ভবনটি মুসলমানদের নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রমের উপযোগী করে তোলার কাজ চলছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়া বিবরণে জানা গেছে। একসময় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত ভবনটির বাইরে এখন মসজিদের নামসংবলিত সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে। তবে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর সময় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত ৩১ আগস্ট লকপোর্ট শহর পরিদর্শনের একটি বিবরণে পুরোনো গির্জাটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজের বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, শহরটিতে কোনো বাংলাদেশির সঙ্গে দেখা না হলেও একটি গির্জা ভবনকে মসজিদে রূপান্তরের কাজ নজরে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন বাফেলোপ্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ ওসমান। লকপোর্ট নিউইয়র্কের নায়াগ্রা কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্র। ঐতিহাসিক ইরি খালের পাশে গড়ে ওঠা শহরটি বাফেলো থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। কানাডা সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় শহরটির ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির মতো বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসতি এখানে না থাকলেও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন দেশের মানুষের বসবাস রয়েছে। মোহাম্মদ ওসমানের উদ্যোগে যে পুরোনো গির্জাটিকে মসজিদে রূপান্তরের কথা জানা গেছে, সেটি আগে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তী সময়ে ভবনটির আগের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায় বলে পাওয়া বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে সেটিকে নতুন ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে গির্জাটির পূর্ববর্তী নাম, সুনির্দিষ্ট ঠিকানা, মালিকানা হস্তান্তরের তারিখ এবং ক্রয়মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ভবনটির সংস্কারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভবনটির সংস্কার ও ব্যবহারসংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ ওসমান নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে বসবাস করেন। বাফেলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বসতি গড়ে ওঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির তুলনায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন, বাড়ি কেনার সুযোগ এবং জীবনযাত্রার খরচের কারণে অনেক বাংলাদেশি পরিবার বাফেলোতে বসবাস শুরু করেছেন। ২০০৬ সালের পর থেকে নিউইয়র্ক সিটি, ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর বাফেলোতে আসার প্রবণতা বাড়ে বলে স্থানীয় কমিউনিটির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। ধীরে ধীরে শহরটিতে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গ্রোসারি স্টোর, রেস্টুরেন্ট এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন গড়ে ওঠে। বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে বাফেলোতে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের চাহিদাও বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নতুন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পুরোনো ভবন সংস্কার করে ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাফেলোর ওয়ালডেন অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থিত বাফেলো ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, যা মসজিদ বাইতুল আমান নামেও পরিচিত, স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির একটি পরিচিত প্রতিষ্ঠান। সেখানে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি কোরআন শিক্ষা, শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় কার্যক্রম এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন পরিচালিত হয়। বাফেলোর ইস্ট সাইড এলাকাতেও পুরোনো গির্জা ভবন নতুনভাবে ব্যবহারের নজির রয়েছে। শহরটির ঐতিহাসিক সেন্ট অ্যানস চার্চ অ্যান্ড শ্রাইন ভবন ২০২২ সালের নভেম্বরে বাফেলো ক্রিসেন্ট হোল্ডিংসের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ডাউনটাউন ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ভবনটি একটি ইসলামিক ও কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা ছিল। তবে সেন্ট অ্যানস চার্চের প্রকল্পটি লকপোর্টে মোহাম্মদ ওসমানের উদ্যোগ থেকে পৃথক। সেন্ট অ্যানস ভবনটি বাফেলো শহরে অবস্থিত এবং সেটি নিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বাফেলো টরন্টো পাবলিক মিডিয়া ও ডব্লিউকেবিডব্লিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ওই স্থাপনায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে ভবনটির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সমস্যার কারণে মালিকপক্ষকে আদালতের মুখোমুখি হতে হয়। এই প্রেক্ষাপটে বাফেলো ও আশপাশের এলাকায় পুরোনো ধর্মীয় ভবন নতুন কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো গির্জার নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভবনগুলো বিক্রি করা হয়। নতুন মালিকেরা স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সেসব স্থাপনা ধর্মীয়, শিক্ষামূলক কিংবা সামাজিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তর করতে হলে শুধু ভবন কেনা বা সংস্কার করাই যথেষ্ট নয়। ভবনটির বর্তমান অনুমোদিত ব্যবহার, স্থানীয় জোনিং বিধি, নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তার শর্ত এবং জনসমাগমের উপযোগিতা বিবেচনা করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সিটি প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ও থাকতে পারে। লকপোর্টের প্রকল্পটির ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা জানা যায়নি। একইভাবে নতুন মসজিদে কতজন মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা থাকবে, সেখানে ইসলামিক শিক্ষা বা কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, মোহাম্মদ ওসমানের মূল লক্ষ্য পুরোনো ভবনটিকে মুসলমানদের ইবাদতের উপযোগী করে তোলা। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভবনটি কিনেছেন, নাকি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। বাফেলোতে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ার মধ্যে নিকটবর্তী লকপোর্টে এমন একটি উদ্যোগ স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় চাহিদা পূরণের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদিও সেখানে বর্তমানে কতটি মুসলিম পরিবার বসবাস করে কিংবা সম্ভাব্য মসজিদটি কতজন ব্যবহার করবেন, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। একসময় খ্রিষ্টানদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত একটি ভবনকে নতুন করে মুসলমানদের নামাজের জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল অভিবাসী সমাজের একটি দিক তুলে ধরছে। তবে লকপোর্টের পুরোনো গির্জাটি কবে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ হিসেবে চালু হবে, তা নির্ভর করছে সংস্কারকাজ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং উদ্যোক্তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের স্মার্ট কার্ড দিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রতিনিধি দিয়েও সংগ্রহের সুযোগ
হানিমুনে জলহস্তীর আক্রমণ থেকে স্বামীকে বাঁচাতে জলহস্তীকেই ঘুষি মারলেন স্ত্রী
দক্ষিণ জর্জিয়ায় প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল বিরল হলুদ কিং পেঙ্গুইনের, ছবি ঘিরে বিস্ময়
যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি গবেষক নাদিয়া তাসনিম আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শুরু করা এই গবেষক ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি (ভিসিইউ) থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ বিষয়ে চালু হওয়া প্রথম পিএইচডি প্রোগ্রামের প্রথম গ্র্যাজুয়েট হিসেবে স্বীকৃতি পান তিনি। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জটিল আণবিক প্রক্রিয়া, যা ভবিষ্যতে রোগ শনাক্তকরণ ও নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনে সহায়ক হতে পারে। ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাদিয়া তাসনিমের এই অর্জনের তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম পিএইচডি ডিগ্রিধারী হওয়ার মধ্য দিয়ে নাদিয়া শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই নতুন অধ্যায় যোগ করেননি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একটি একাডেমিক প্রোগ্রামের ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছেন। নাদিয়ার উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু বাংলাদেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে পড়াশোনার পর তিনি ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শুরুতে ফার্মাসিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা থাকলেও ধীরে ধীরে গবেষণার প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে নতুন ওষুধ উদ্ভাবন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল সমস্যা সমাধানে গবেষণার ভূমিকা তাঁকে আকৃষ্ট করে। সেই আগ্রহ থেকেই উচ্চতর গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রে এসে নাদিয়া ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ফার্মাসিউটিক্যাল ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ে আরেকটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন। সেখানেও তিনি প্রোগ্রামটির প্রথম দিকের শিক্ষার্থীদের একজন ছিলেন। এই পড়াশোনার মাধ্যমে ওষুধ তৈরিতে ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার, নতুন ধরনের ড্রাগ ডেলিভারি পদ্ধতি এবং আধুনিক গবেষণার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেন। এরপর ২০২০ সালে ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ফার্মেসিতে ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিষয়ে পিএইচডি শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নাদিয়া। ঠিক সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চালু হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি প্রোগ্রাম। নতুন এই প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সান্দ্রো দা রোচার সঙ্গে আলোচনার পর প্রোগ্রামটির প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভিসিইউর এই পিএইচডি প্রোগ্রামটি স্কুল অব ফার্মেসি এবং কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য ওষুধ উৎপাদন, নতুন ওষুধের উপাদান তৈরি, ড্রাগ ডেলিভারি, ন্যানোম্যাটেরিয়ালস এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণায় বিশেষজ্ঞ তৈরি করা। প্রচলিত ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন শাখাকে যুক্ত করাই প্রোগ্রামটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গবেষণাকালে নাদিয়া মূলত ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির সঙ্গে সম্পর্কিত আণবিক পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেন। সিওপিডি ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যার কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয় এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। রোগটির সঙ্গে ফুসফুসে প্রদাহ এবং টিস্যুর ক্ষতির সম্পর্ক রয়েছে। নাদিয়া তাঁর গবেষণায় মাস স্পেকট্রোমেট্রি নামের একটি উন্নত বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে আণবিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রোটিনের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। বিশেষভাবে তিনি নিউট্রোফিল ইলাস্টেজ নামের একটি এনজাইমের কার্যক্রম নিয়ে কাজ করেন। এই এনজাইম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফুসফুসের প্রদাহ ও টিস্যুর ক্ষতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় তিনি ম্যাক্রোফেজ নামের রোগপ্রতিরোধী কোষের ওপর নিউট্রোফিল ইলাস্টেজের প্রভাব বোঝার চেষ্টা করেন। ম্যাক্রোফেজ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। নাদিয়ার গবেষণায় এই কোষগুলোর কার্যক্রমে পরিবর্তন এবং ফুসফুসের রোগের সঙ্গে তার সম্ভাব্য সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের গবেষণা ভবিষ্যতে সিওপিডির সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন বায়োমার্কার শনাক্ত এবং চিকিৎসাপদ্ধতি উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। তবে এটি মূলত রোগের আণবিক প্রক্রিয়া বোঝার গবেষণা। এর মাধ্যমে নতুন কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি ইতোমধ্যে উদ্ভাবিত হয়েছে বা রোগটির নিরাময় সম্ভব হয়েছে, এমন দাবি বিশ্ববিদ্যালয় করেনি। পিএইচডি গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন নাদিয়া। তিনি ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ, গবেষণায় সহযোগিতা এবং একাডেমিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এই সংগঠনের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা ও একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নাদিয়া প্রোগ্রামটির প্রথম এক্সিলেন্স ইন ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ভিসিইউর স্কুল অব ফার্মেসির অধ্যাপক অ্যাডাম হকরিজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি নাদিয়ার গবেষণার প্রতি আগ্রহ, অধ্যবসায়, স্বাধীনভাবে কাজ করার দক্ষতা এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতার প্রশংসা করেন। নাদিয়া নিজের পিএইচডি সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানান, গবেষণাপত্রের চূড়ান্ত প্রতিরক্ষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রথমবার তাঁকে ডক্টর আহমেদ বলে সম্বোধন করার মুহূর্তটি ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ গবেষণার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে এই অর্জনে পৌঁছানো তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। পিএইচডি শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএতে গবেষণার সুযোগ পান নাদিয়া। তিনি ওক রিজ ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড এডুকেশন বা ওরাইসের ফেলো হিসেবে এফডিএর গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত হন। ভিসিইউর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসআইআরএনএ অলিগোনিউক্লিওটাইডভিত্তিক ওষুধের উপাদানের বিশুদ্ধতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন বিশ্লেষণের পদ্ধতি উন্নয়নে কাজ করেন। এই গবেষণায়ও তিনি মাস স্পেকট্রোমেট্রি প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। ওষুধের উপাদানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বা অমিশ্রণ শনাক্ত করা ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে নতুন ধরনের ওষুধের গুণগত মান ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য এসব বিশ্লেষণ প্রয়োজন হয়। ভিসিইউর অ্যালামনাই তালিকাতেও নাদিয়া তাসনিম আহমেদকে ২০২৪ সালের ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি গ্র্যাজুয়েট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এফডিএতে ওরাইস ফেলো হিসেবে তাঁর প্রথম কর্মজীবনের তথ্যও রয়েছে। ভবিষ্যতে ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে অ্যানালিটিক্যাল সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে উচ্চশিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে ন্যানোটেকনোলজিতে দ্বিতীয় মাস্টার্স, এরপর দেশটির প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি প্রোগ্রামের প্রথম গ্র্যাজুয়েট হওয়ার মধ্য দিয়ে নাদিয়া তাসনিম আহমেদের শিক্ষাজীবনে যুক্ত হয়েছে একাধিক উল্লেখযোগ্য অর্জন। তাঁর এই সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি গবেষকদের অংশগ্রহণের আরেকটি উদাহরণ হয়ে রয়েছে। সূত্র: পাবলিকিয়ান
টেক্সাসে মেয়রের স্বামীকে গ্রেপ্তার করল আইসিই, মেয়রকেও জিজ্ঞাসাবাদ
নিউইয়র্কে ফেরি ভাড়া বাড়ছে ১৯ অক্টোবর, এক যাত্রায় খরচ হবে ৫ ডলার