যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধ, প্রভাব পড়বে অভিবাসীদের ওপর
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন স্থায়ী করেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের আবেদন করলেও আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতির মেয়াদ বাড়বে না। ফলে নতুন অনুমোদন পেতে দেরি হলে অনেক অভিবাসীকে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে হতে পারে। এই পরিবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এইচ-১বি ভিসাধারীদের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রী এবং গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য, যাঁরা আলাদা ওয়ার্ক পারমিটের ওপর নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস, ইউএসসিআইএস, নতুন চূড়ান্ত বিধিমালার মাধ্যমে আগের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর প্রথম অন্তর্বর্তী নিয়ম কার্যকর করা হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের অক্টোবরে সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শ্রেণির ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের আবেদনে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধের নীতি স্থায়ী রূপ পেয়েছে।
আগের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী তাঁদের এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট বা ইএডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের আবেদন করলে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পেতে পারতেন। ইউএসসিআইএসের কাছে আবেদন বিচারাধীন থাকলেও যোগ্য আবেদনকারীরা নির্দিষ্ট শর্তে চাকরি চালিয়ে যেতে পারতেন। এতে নতুন কার্ড হাতে পেতে দেরি হলেও অনেকের আয় বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমত।
কিন্তু ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর বা তার পরে জমা দেওয়া নির্দিষ্ট শ্রেণির নবায়ন আবেদনের ক্ষেত্রে সেই স্বয়ংক্রিয় সুবিধা আর প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ সময়মতো আবেদন জমা দেওয়া এবং ইউএসসিআইএসের কাছ থেকে রিসিট নোটিশ পাওয়া মানেই কাজের অনুমতির মেয়াদ বেড়ে যাওয়া নয়। পুরোনো অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কাজ বন্ধ রাখতে হতে পারে, যদি তাঁর অন্য কোনো বৈধ কাজের অনুমতি না থাকে।
নতুন নিয়মের প্রভাব পড়তে পারে এইচ-৪ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ব্যক্তিদের ওপর। সাধারণত এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যরা এইচ-৪ স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। তবে সব এইচ-৪ ভিসাধারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতি পান না। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী স্বামী বা স্ত্রী ইউএসসিআইএসের কাছে আলাদা ইএডি কার্ডের আবেদন করতে পারেন।
এইচ-৪ ভিসাধারী কোনো ব্যক্তির কাজের অনুমতি যদি ইএডি কার্ডের ওপর নির্ভর করে, তাহলে নবায়ন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব তাঁর চাকরির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, তাঁদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সময় এবং ইউএসসিআইএসের সিদ্ধান্ত পাওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একই ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আবেদন জমা দেওয়া ব্যক্তিরা। তাঁদের মধ্যে অনেকে আই-৪৮৫ আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আলাদা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে চাকরি করেন। এই শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্যও নির্দিষ্ট শর্তে আগে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা ছিল। নতুন নিয়মে সেই সুবিধা বন্ধ হওয়ায় অনুমোদন পেতে দেরি হলে কর্মজীবনে বিরতি তৈরি হতে পারে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন নিয়ম সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। যেসব অভিবাসী তাঁদের নিজস্ব ভিসা স্ট্যাটাসের ভিত্তিতেই কাজের অনুমতি পান, তাঁদের ক্ষেত্রে ইএডি কার্ডের নিয়ম আলাদা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী এল-২ এবং ই ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রীরা তাঁদের বৈধ স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে কাজের অনুমতি পেতে পারেন। ফলে ইএডি কার্ডের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধ হওয়া মানেই তাঁদের সবার কাজের অনুমতি বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়।
নতুন বিধিমালায় আগের আবেদনকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যাঁরা ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের আগে যোগ্য শ্রেণিতে সময়মতো ইএডি নবায়নের আবেদন করেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আগের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বহাল থাকতে পারে। তবে আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া, সঠিক ক্যাটাগরিতে থাকা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করা জরুরি।
ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য পুরোনো আবেদনকারীরা তাঁদের মেয়াদোত্তীর্ণ ইএডি কার্ডের সঙ্গে নির্দিষ্ট আই-৭৯৭সি রিসিট নোটিশ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিনের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধার প্রমাণ দেখাতে পারেন। তবে এই সুবিধা সব ধরনের ইএডি কার্ডের জন্য প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর ক্যাটাগরি এবং রিসিট নোটিশের তারিখের ওপর যোগ্যতা নির্ভর করে।
এ ছাড়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএসের মতো নির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় কিছু ব্যক্তির জন্য আলাদা আইন বা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নির্দেশনার মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবস্থা থাকতে পারে। এসব বিশেষ সুবিধা নতুন সাধারণ নিয়মের বাইরে বিবেচিত হতে পারে। তাই শুধু ইএডি কার্ডের মেয়াদ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো কাজের অনুমতি নবায়নের আগে আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই নিশ্চিত করা। সরকারের অবস্থান হচ্ছে, শুধু নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতে নতুন মেয়াদের কাজের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া উচিত নয়। নতুন সময়ের জন্য অনুমোদন দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন করতে চায় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে এই পরিবর্তনের কারণে অভিবাসী কর্মী এবং তাঁদের নিয়োগকর্তাদের জন্য বাস্তব সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএসের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। কোনো কর্মীর বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন অনুমোদন না এলে তাঁকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বিরত থাকতে হতে পারে। এতে পরিবারের নিয়মিত আয়, রেন্ট, মর্টগেজ এবং অন্যান্য খরচ পরিচালনায় চাপ তৈরি হতে পারে।
নিয়োগকর্তাদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী নিয়োগের সময় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে কাজের অনুমতি যাচাই করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো কর্মীর বৈধ কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং অন্য কোনো অনুমোদন না থাকলে নিয়োগকর্তা তাঁকে আগের মতো কাজে বহাল রাখতে পারবেন না। ফলে কর্মী ও প্রতিষ্ঠান উভয়েরই আগাম পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এই পরিবর্তনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশি পেশাজীবী এইচ-১বি ভিসায় কাজ করেন এবং তাঁদের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রী এইচ-৪ স্ট্যাটাসে বসবাস করেন। আবার অনেকে গ্রিন কার্ডের আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ইএডি কার্ডের মাধ্যমে চাকরি করছেন। এসব পরিবারের কোনো সদস্যের কাজের অনুমতি নবায়নে বিলম্ব হলে তা পারিবারিক আয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই যাঁদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হবে, তাঁদের এখন থেকেই নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ইউএসসিআইএস সাধারণত যোগ্য আবেদনকারীদের বর্তমান ইএডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ১৮০ দিন আগে নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়। তবে আবেদন আগে জমা দিলেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া নিশ্চিত নয়।
নবায়নের জন্য সাধারণত ফর্ম আই-৭৬৫ ব্যবহার করা হয়। আবেদনকারীর বর্তমান অভিবাসন স্ট্যাটাস, কাজের অনুমতির ক্যাটাগরি এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক নথির ওপর আবেদন প্রক্রিয়া নির্ভর করে। ভুল ক্যাটাগরি নির্বাচন, অসম্পূর্ণ তথ্য কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত বিলম্ব হতে পারে।
ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনকারীরা তাঁদের মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফর্মের প্রসেসিং টাইম এবং সরকারি নির্দেশনা নিয়মিত যাচাই করা যেতে পারে। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে কেস ইনকোয়ারি করার সুযোগও রয়েছে।
বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু আবেদনকারী দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের অনুরোধ করতে পারেন। তবে এক্সপেডাইট রিকোয়েস্ট অনুমোদন করা হবে কি না, তা ইউএসসিআইএসের নিজস্ব নীতিমালা এবং আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। শুধু চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকলেই দ্রুত অনুমোদন নিশ্চিত হয় না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের অনুমতি শেষ হয়ে যাওয়া সব সময় একই বিষয় নয়। কোনো ব্যক্তি বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস বজায় রেখেও সাময়িকভাবে কাজ করার অনুমতি হারাতে পারেন। আবার কিছু ভিসা ক্যাটাগরিতে ইএডি কার্ড ছাড়াও কাজের অনুমতি থাকতে পারে। তাই ব্যক্তির নির্দিষ্ট অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম বুঝতে হবে।
২০২৬ সালের অক্টোবরে চূড়ান্ত করা এই বিধিমালা মূলত ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া পরিবর্তনকে স্থায়ী করেছে। এটি নতুন করে সব বিদেশি কর্মীর কাজের অনুমতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নয়। বরং নির্দিষ্ট শ্রেণির ইএডি নবায়ন আবেদনকারীদের জন্য আগের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে।
যাঁরা বর্তমানে এইচ-৪, গ্রিন কার্ড আবেদনকারী কিংবা অন্য কোনো ইএডিনির্ভর ক্যাটাগরিতে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো কার্ডের মেয়াদ, আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ এবং নিজের ক্যাটাগরির নিয়ম যাচাই করা। প্রয়োজনে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে আগেভাগে নবায়নের ব্যবস্থা করলে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মবিরতির ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের ১৯ বছর বয়সী ক্যালেব প্রুইট আগামী ১ নভেম্বর নিউইয়র্ক নগরীর ৫৫তম ম্যারাথনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। তাঁর লক্ষ্য, ডাউন সিনড্রোম নিয়ে এই দৌড় শেষ করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি অর্জন করা। ক্যালেবের এই যাত্রায় সবচেয়ে বড় সঙ্গী তাঁর মা কারেন। মা-ছেলে এরই মধ্যে লন্ডন ও শিকাগোর বড় ম্যারাথনে অংশ নিয়ে দৌড় শেষ করেছেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে অর্ধম্যারাথন শেষ করেও তিনি বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিলেন। নিউইয়র্কের কঠিন দৌড়ের প্রস্তুতির জন্য কয়েক মাস ধরে ফ্লোরিডার প্রচণ্ড গরমে নিয়মিত অনুশীলন করেছেন ক্যালেব ও তাঁর মা। তাঁদের সামনে এখন ২৬ দশমিক ২ মাইল বা প্রায় ৪২ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। তবে ক্যালেবের কাছে এই দৌড় শুধু সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়। তিনি চান দর্শকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে, পথে পথে হাত মেলাতে এবং নাচতে নাচতে শেষ সীমায় পৌঁছাতে। তাঁর মা কারেনের বক্তব্য, অনুশীলনই কঠিন পরিশ্রম, আর প্রতিযোগিতার দিনটি হবে উদ্যাপনের। পরিবারের কাছে ছেলের অংশগ্রহণ ও শেষ পর্যন্ত পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় আনন্দ। এবারের নিউইয়র্ক ম্যারাথনে প্রায় ৬০ হাজার দৌড়বিদ অংশ নেবেন বলে আয়োজকদের হিসাব। পাঁচটি বরো ঘুরে যাওয়া এই আয়োজনে প্রায় ২০ লাখ দর্শক রাস্তার দুই পাশে উপস্থিত থাকতে পারেন। ক্যালেবের গল্প এখন শুধু একটি দৌড়ের প্রস্তুতির খবর নয়; এটি অন্তর্ভুক্তি, পারিবারিক ভালোবাসা এবং নিজের সামর্থ্যকে কাজে লাগানোর অনুপ্রেরণামূলক গল্প। তাঁর লক্ষ্য পূরণ হলে তা ডাউন সিনড্রোম নিয়ে বসবাসকারী আরও অনেক মানুষের জন্য উৎসাহের কারণ হতে পারে।
ইবোলা আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্রগামী সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম সিডিসির
নিজের পথে যাচ্ছিল, হঠাৎ আগুনের ঘরে আটকে থাকা ১৩ শিশুর জীবন বাঁচালেন অপরিচিত ব্যক্তি
যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধ, প্রভাব পড়বে অভিবাসীদের ওপর
বড় ধরনের যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য নিহত হলে তাঁদের মরদেহ কীভাবে দ্রুত ও নিরাপদে সাময়িকভাবে সমাহিত করা হবে, তা নিয়ে বিশেষ মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। নর্থ ক্যারোলাইনায় অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে গণকবর খোঁড়া এবং মরদেহ সংরক্ষণের পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর হিসাবে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল থাকলে একটি ইঞ্জিনিয়ার ইউনিট ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ মরদেহ সাময়িকভাবে সমাহিত করার ব্যবস্থা করতে পারবে। মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক ও সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটির কাছে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এর নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন ড্রাগন কভেন্যান্ট। মহড়ার দ্বিতীয় পর্যায়ে অংশ নেন সেনাবাহিনীর থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ড, টোয়েন্টিয়েথ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড, চিকিৎসা সহায়তাকারী দল এবং সামরিক ধর্মীয় কর্মকর্তারা। এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল বড় ধরনের যুদ্ধের সময় নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহ দ্রুত সরিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা। বিশেষ করে শত্রুপক্ষের আক্রমণ, আকাশপথে চলাচলের সীমাবদ্ধতা কিংবা পরিবহনব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে যুদ্ধক্ষেত্রেই সাময়িক সমাধিস্থ করার প্রয়োজন হতে পারে। সে পরিস্থিতিতে মরদেহের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা যথাসম্ভব অক্ষত রেখে পরবর্তী সময়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় মার্কিন সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর এত বড় পরিসরে যুদ্ধক্ষেত্রে সাময়িক সমাধিস্থ করার ব্যবস্থা ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়েনি। ইরাক ও আফগানিস্তানে দীর্ঘ দুই দশকের যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যদের মরদেহ তুলনামূলক দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। তবে ভবিষ্যতে বড় কোনো সামরিক শক্তির সঙ্গে সংঘাত হলে একই ব্যবস্থা কার্যকর রাখা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা। এবারের মহড়ায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গণকবর তৈরির গতি এবং সমাহিত মরদেহের সুরক্ষার ওপর। সেনাবাহিনীর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, একটি অস্থায়ী সমাধিস্থলে পাঁচটি সমান্তরাল পরিখা থাকার কথা। প্রতিটি পরিখায় ২০টি করে মোট ১০০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা থাকে। প্রশিক্ষণে এই পদ্ধতি বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা করা হয়েছে। আগের পরীক্ষাগুলোতে সাধারণ ব্যাকহো এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ১০টি মরদেহ রাখার উপযোগী একটি পরিখা খুঁড়তে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগত। এবার ডি৬ বুলডোজার ব্যবহার করে ২০টি মরদেহ রাখার মতো পরিখা গড়ে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিটে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এই ফলাফলের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর পরিকল্পনাকারীরা হিসাব করেছেন, আটটি বুলডোজার ও চারটি বিশেষ সামরিক এক্সকাভেটর নিয়ে একটি ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানি বিরতিহীনভাবে কাজ করলে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ মরদেহ সমাহিত করার জন্য পরিখা তৈরি ও মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। তবে এটি একটি পরীক্ষামূলক সক্ষমতার হিসাব। বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে মাটির ধরন, আবহাওয়া, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সরঞ্জামের প্রাপ্যতার ওপর কাজের গতি নির্ভর করবে। সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, এই মহড়া থেকে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতের সামরিক নির্দেশনা ও পরিকল্পনা উন্নত করতে ব্যবহার করা হবে। মহড়ায় প্রকৃত মরদেহ ব্যবহার করা হয়নি। মানুষের কঙ্কালের আদলে তৈরি মডেল এবং পানিভর্তি বিশেষ পাত্র ব্যবহার করে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এসব মডেল মরদেহ বহনের ব্যাগে রেখে পরিখায় স্থাপন করা হয়। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে মাটি ফেলে সেগুলো ঢেকে দেওয়া হয়। পরে আবার মাটি সরিয়ে পরীক্ষা করা হয়, চাপের কারণে ভেতরের মডেল ও পাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পরীক্ষায় ব্যবহৃত মডেলগুলো অক্ষত ছিল। ফলে ভবিষ্যতে সাময়িকভাবে সমাহিত মরদেহ উদ্ধার, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং পরিচয় শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে। মহড়ায় অংশ নেওয়া ইঞ্জিনিয়ার কর্মকর্তা ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট কনর থম্পসন জানান, শুধু দ্রুত পরিখা খুঁড়লেই হবে না, মরদেহের কোনো ক্ষতি না করে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। শুকনো বালু, শক্ত মাটি, কাদা কিংবা বরফে জমে থাকা জমিতে একই যন্ত্রপাতি ভিন্নভাবে কাজ করে। তাই বাস্তব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব পরিস্থিতির জন্য কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের ফ্যাটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস ডেলবার্ট রুয়েড বলেন, উচ্চমাত্রার সংঘাতের মধ্যে নিহত সেনাসদস্যদের মর্যাদার সঙ্গে কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা এই মহড়ার মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতির জন্য আগে থেকে কার্যকর পদ্ধতি তৈরি না থাকলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হতো। এবারের প্রশিক্ষণে সামরিক ধর্মীয় কর্মকর্তাদেরও বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রে সাময়িক সমাধিস্থ করার ধর্মীয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় পরিসরে মহড়া করেছেন সামরিক চ্যাপলেইন ও ধর্মীয় সহায়তাকারী কর্মকর্তারা। মহড়ায় বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় ১৩০ জন ধর্মীয় সহায়তাকারী অংশ নেন। তাঁদের কাজ ছিল এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা, যাতে ব্যাপক প্রাণহানির পরিস্থিতিতেও নিহত ব্যক্তিদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মর্যাদার প্রতি যথাসম্ভব সম্মান দেখানো যায়। সামরিক চ্যাপলেইন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাসকা জানান, তীব্র যুদ্ধের মধ্যে ২৪ ঘণ্টা চলমান সমাধিস্থ কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়ও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে না। তাই সামরিক কর্মকর্তারা বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের পরামর্শ নিয়ে সমাধিস্থল প্রস্তুত করার আগেই সম্মিলিত ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতিমালা অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। তবে নিরাপত্তাঝুঁকি, পরিবহন সংকট কিংবা রাসায়নিক, জৈবিক ও পারমাণবিক অস্ত্রের কারণে সৃষ্ট বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে সমাহিত করার অনুমতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং মরদেহের মর্যাদা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের বিধান অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত শত্রুপক্ষের সদস্যদের মরদেহের ক্ষেত্রেও সম্মানজনক আচরণ এবং পরিচয় শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব রয়েছে। ফলে এই প্রশিক্ষণ শুধু মার্কিন সেনাসদস্যদের জন্য নয়, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত অন্য ব্যক্তিদের মরদেহ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অপারেশন ড্রাগন কভেন্যান্টের তৃতীয় পর্যায়ের মহড়া ২০২৭ সালের বসন্তে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা দল, চিকিৎসা ইউনিট, মরদেহ সংগ্রহকেন্দ্র এবং রাতের অন্ধকারে কাজ করার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে। নাইট ভিশন সরঞ্জাম ব্যবহার করে একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতিও নেওয়া হবে। সামরিক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই মহড়া ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বড় যুদ্ধের জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশে নতুন সামরিক অভিযান শুরু কিংবা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। বরং বড় ধরনের সংঘাতে বিপুল প্রাণহানি ঘটলে নিহতদের পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা করে কীভাবে তাঁদের মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে, সেই সক্ষমতা তৈরিই প্রশিক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য।
হ্যালোইন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের উড়োজাহাজের আকস্মিক উড্ডয়ন, চমকে গেলেন অনেকে
যুক্তরাষ্ট্রে ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসায় গ্রিন কার্ড, আবেদন থেকে স্থায়ী হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া
ডিভি লটারি চালুর নির্দেশে স্থগিতাদেশ, ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড আবেদন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ এখন নিয়মিত খাবার খাওয়ার খরচও সামলাতে পারছেন না। নতুন এক জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক মানুষ জানিয়েছেন, খাবারের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে তাঁদের কখনো কখনো খাবার বাদ দিতে হয়েছে। শুধু খাবারের পরিমাণ কমানো নয়, স্বাস্থ্যকর খাবার কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের জন্য। আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেলফ ফাইন্যান্সিয়ালের জরিপে উঠে আসা এই তথ্য দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৩৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ জানান, খাবারের দাম বাড়ার কারণে তাঁরা খাবার বাদ দিয়েছেন। আরও ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, খরচ সামলাতে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। তবে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বয়স ও লিঙ্গের অনুপাত যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে না। ফলে এই ফলাফল থেকে দেশের অর্ধেক মানুষই খাবার বাদ দিচ্ছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর গ্রোসারি খরচ বেড়েছে। যাঁদের খরচ বেড়েছে, তাঁদের মাসে গড়ে অতিরিক্ত ১৫২ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। সেই হিসাবে বছরে অতিরিক্ত খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৮২৪ ডলার। একই আয়ে বাড়তি এই ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে অনেক পরিবারকে অন্যান্য খরচ কমাতে হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের আয়ের বড় অংশ রেন্ট, মর্টগেজ, গাড়ির কিস্তি ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে চলে যায়, তাদের জন্য গ্রোসারি খরচ বৃদ্ধি বাড়তি চাপ তৈরি করছে। খাবারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবারের মাসিক বাজেটেই সীমাবদ্ধ নেই। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়েছেন, বেশি দামের কারণে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে কেনাকাটার সময় তুলনামূলক সস্তা পণ্য বেছে নিচ্ছেন কিংবা খাবারের পরিমাণ কমাচ্ছেন। জরিপে খাবারের উচ্চমূল্য মানুষের মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে উঠে এসেছে। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মূল্যস্ফীতির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রোসারি পণ্যের দাম সামগ্রিকভাবে প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে গ্রাউন্ড বিফের দাম প্রায় ৬৭ শতাংশ এবং কফির দাম প্রায় ১০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সব খাদ্যপণ্যের দাম একই হারে বাড়েনি। বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পার্থক্যের কারণে পরিবারের খাদ্যাভ্যাস ও কেনাকাটার ধরনের ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত খরচের পরিমাণও ভিন্ন হচ্ছে। খাবারের দাম নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি অন্য জরিপেও উঠে এসেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইপসোস পরিচালিত জরিপে ৬৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জানান, তাঁদের কাছে গ্রোসারি পণ্যের দাম অসহনীয় মনে হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ। বছরে ৫০ হাজার ডলারের কম আয়ের পরিবারের মধ্যে ৮২ শতাংশ খাবারের দামকে অসহনীয় বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয়ের পরিবারের মধ্যেও ৫৬ শতাংশ একই মত দিয়েছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের অক্টোবরের জরিপেও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত পরিচালিত ওই জরিপে ৭৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক খাবার ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ৬৯ শতাংশ হেলথ কেয়ারের খরচ এবং ৬৬ শতাংশ আবাসন ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, শুধু গ্রোসারি নয়, পরিবারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খরচ একসঙ্গে সামলানো অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও খাবারের দাম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে যেসব পরিবারে সদস্যসংখ্যা বেশি কিংবা একাধিক নির্ভরশীল সদস্য রয়েছেন, সেখানে মাসিক গ্রোসারি বাজেটের পরিবর্তন সরাসরি পারিবারিক ব্যয়ে প্রভাব ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে ডিসকাউন্ট স্টোর থেকে কেনাকাটা, সাপ্তাহিক অফার ব্যবহার এবং তুলনামূলক কম দামের পণ্য বেছে নেওয়ার মাধ্যমে খরচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। আয় ও অন্যান্য শর্ত পূরণকারী পরিবারগুলো স্ন্যাপের মতো সরকারি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির সুবিধাও পেতে পারেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রাজনৈতিক আলোচনাতেও গুরুত্ব পাচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। তবে খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণে ঠিক কত মানুষ নিয়মিত খাবার বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন, তা নির্ধারণে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক গবেষণা প্রয়োজন। সেলফ ফাইন্যান্সিয়ালের জরিপটি অন্তত এটুকু দেখাচ্ছে, উচ্চমূল্যের চাপ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কেনাকাটার অভ্যাস বদলানোর বাইরে গিয়ে দৈনন্দিন খাবার গ্রহণেও প্রভাব ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৪৩ শতাংশ কিশোর জুয়ায় জড়িয়েছে, নতুন জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টে গড়ে ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার, জেনে নিন বাস্তবতা