সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের সহায়তার কোটি কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৮:৩৫
সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীন মানুষের আবাসন ও সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় চতুর্থ এক ব্যক্তি অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় কোটি কোটি ডলারের সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত খরচ, ব্যবসা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

 

১৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি কার্যালয় জানায়, গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ অর্থের অপব্যবহার ও দুর্নীতি তদন্তে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযানের অংশ হিসেবে এসব মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ‘হোম অ্যাট লাস্ট’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ইয়ং, ‘দ্য বিগ ব্লু আমব্রেলা’র প্রধান নির্বাহী ডনিয়ে মিচেল এবং ‘স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপস’-এর কর্মী লাকিয়া ম্যালোন। চতুর্থ ব্যক্তি আলেকজান্ডার সুফার ‘অ্যাবানড্যান্ট ব্লেসিংস’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন।

 

মাইকেল ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গৃহহীনদের আবাসন ও সেবা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ ৭৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ তিনি ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও বিলিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। পরে সেই অর্থের একটি অংশ বাণিজ্যিক সম্পত্তি, বিলাসবহুল ভ্রমণ, পুরোনো গাড়ি সংস্কার এবং একটি রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাব নির্মাণে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ।

 

কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়ং কাল্পনিক বা ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের কোম্পানি হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া দরপত্র, জাল স্বাক্ষর ও মিথ্যা চালান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী, কার্যকর কার্যালয় বা স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।

 

অভিযোগের একটি অংশে বলা হয়েছে, ইয়ং ইনগেলউডে ‘সিক্স সেভেন ফাইভ লাউঞ্জ’ নামে একটি বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাব চালু করতে সরকারি অর্থের ১০ লাখ ডলারের বেশি ব্যবহার করেন। ওই ব্যবসার মদের লাইসেন্স, স্থপতি, নির্মাণকাজ এবং অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার খরচেও করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ওই অর্থ দিয়ে গৃহহীনদের আবাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বাণিজ্যিক সম্পত্তিও কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটির কাছ থেকে পাওয়া অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, হোম অ্যাট লাস্টকে দেওয়া চুক্তিগুলো ২০২৬ সালের জুনে বাতিল করে লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, অনিয়মের শক্ত প্রমাণ পাওয়া এবং চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থতার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

দ্বিতীয় মামলায় ডনিয়ে মিচেলের বিরুদ্ধে ১২ লাখ ডলারের বেশি অনুদান প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মিচেল ‘দ্য বিগ ব্লু আমব্রেলা’র প্রধান নির্বাহী ও নির্বাহী পরিচালক। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির অর্থায়নে পরিচালিত একটি সংস্থার কাছে নিজের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও গৃহহীনদের আবাসন দেওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে ওই অর্থ পান।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ পাওয়ার পর মিচেল প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন ও ব্যয়ের তথ্যেও অসত্য তথ্য দেন। সরকারি অনুদানের অর্থের একটি অংশ নিজের জামিনের খরচ, ক্রেডিট কার্ডের দেনা, পরিবারের সদস্যদের কাছে অর্থ পাঠানো, বাসাভাড়া এবং ভিডিও গেম কেনার মতো ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলার দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থা মিচেলের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।

 

মিচেলের বিরুদ্ধে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ লাখ ডলারের বেশি অনুদান প্রতারণার অভিযোগে তারের মাধ্যমে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে। তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রেপ্তার হননি এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাকে পলাতক হিসেবে বিবেচনা করছে।

 

তৃতীয় ঘটনায় স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপসের কর্মী লাকিয়া ম্যালোনের বিরুদ্ধে ২১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি আলেকজান্ডার সুফারের কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি ঘুষ ও অবৈধ অর্থ নিয়েছেন। বিনিময়ে তিনি গৃহহীনদের আবাসন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লোক পাঠাতেন। এসব ব্যক্তির মধ্যে এমন কথিত ‘ভুয়া অংশগ্রহণকারী’ও ছিল, যারা বাস্তবে সংশ্লিষ্ট আবাসনকেন্দ্রে থাকতেন না।

 

তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব কাল্পনিক অংশগ্রহণকারীর জন্য ভুয়া স্বাগতপত্র, উপস্থিতির তালিকা এবং যোগ্যতার নথি তৈরি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে সুফারের প্রতিষ্ঠান স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপসের কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ম্যালোনকে এসব কথিত সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল বলে প্রসিকিউটরদের দাবি।

 

এই মামলার সঙ্গে যুক্ত চতুর্থ ব্যক্তি আলেকজান্ডার সুফার তারের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থপাচারের একটি করে অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি স্বীকার করেছেন যে গৃহহীনদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার তিনি পেয়েছিলেন। এর অন্তত ২০ লাখ ডলার ব্যক্তিগত সুবিধা ও গৃহহীনদের আবাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যবসায় ব্যবহারের কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।

 

সুফার অবৈধভাবে পাওয়া অর্থ সরকারের কাছে ফেরত দিতে সম্মত হয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার দোষ স্বীকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

 

মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব মামলার তদন্তে এফবিআই, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ বা আইআরএসের অপরাধ তদন্ত শাখা এবং আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় কাজ করছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা আরও চলবে।

 

মার্কিন আবাসন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী স্কট টার্নার বলেছেন, গৃহহীনদের সহায়তার জন্য দেওয়া সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রথম সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসাইলিও বলেছেন, এসব ঘটনায় সরকারি অর্থের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এসেছে।

 

তবে মামলাগুলোর সব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতেও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র ও ফৌজদারি অভিযোগ কেবল প্রসিকিউশনের অভিযোগ তুলে ধরে। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত সবাই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

 

সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলারে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকানরা এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে ধনী, দারিদ্র্যও নেমেছে রেকর্ড সর্বনিম্নে

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে নতুন সরকারি পরিসংখ্যানে। ইউএস সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর দেশটির পরিবারের মধ্যম আয় বেড়ে ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ১৯৬৭ সালে এই হিসাব শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে দেশটির সরকারি দারিদ্র্যের হার কমে ১০ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড সর্বনিম্ন।    সেন্সাস ব্যুরো ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ২০২৫ সালের আয়, দারিদ্র্য ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় মূল্যস্ফীতি সমন্বিত মধ্যম পরিবারের আয় বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। এর আগে ২০১৯ সালে এই আয় ছিল ৮৫ হাজার ৩২০ ডলার। অর্থাৎ মহামারির আগের সময়ের তুলনায় প্রকৃত আয় বেড়েছে, তবে ব্যবধানটি খুব বড় নয়।    আয়ের পাশাপাশি দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ সরকারি দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। ২০২৪ সালের তুলনায় দারিদ্র্যের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের সরকারি দারিদ্র্যসীমা ছিল ৩২ হাজার ৬৪৯ ডলার।    শিশুদের ক্ষেত্রেও দারিদ্র্যের হার ঐতিহাসিকভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে শিশুদের সরকারি দারিদ্র্যের হার নেমে আসে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশে। হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যের হারও ১৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে, যা এই জনগোষ্ঠীর জন্য সেন্সাস ব্যুরোর রেকর্ডে সর্বনিম্ন। তবে সব আয়ের স্তরের পরিবার সমানভাবে লাভবান হয়নি। সেন্সাসের বিশ্লেষণে দেখা যায়, আয় বণ্টনের নিচের দিকে থাকা পরিবারগুলোর আয় একইভাবে বাড়েনি।    ট্যাক্স ও সরকারি সুবিধা, যেমন খাদ্য সহায়তা এবং অন্যান্য সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে হিসাব করা সাপ্লিমেন্টাল পভার্টি মেজার বা এসপিএমের হার ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। এই মাপটি সরকারি দারিদ্র্যের হিসাবের চেয়ে বিস্তৃত এবং এতে ট্যাক্স, সরকারি সহায়তা, কাজের খরচ, আবাসন ব্যয় ও চিকিৎসা ব্যয়ের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিকিৎসা ব্যয় এসপিএমের হিসাবে ৭৭ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলে দেওয়ার প্রভাব ফেলেছে।    নারীদের আয়েও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। পূর্ণকালীন, সারা বছর কাজ করা নারীদের মধ্যম আয় ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। পুরুষদের আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে নারী ও পুরুষের আয়ের ব্যবধান কিছুটা কমেছে। তবে সেন্সাসের তথ্য অনুযায়ী, নারীরা এখনও পুরুষদের প্রতি এক ডলারের বিপরীতে প্রায় ৮৪ সেন্ট আয় করেছেন।    অন্যদিকে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ, পুরো বছর কোনো হেলথ ইন্স্যুরেন্স ছাড়া ছিলেন। সেন্সাস ব্যুরো বলেছে, এই হার ২০২৪ সালের তুলনায় পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি।    তবে রেকর্ড আয় মানেই সব পরিবারের আর্থিক চাপ একইভাবে কমেছে, এমনটি বলছে না পরিসংখ্যান। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকৃত মধ্যম পরিবারের আয় বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এর বিপরীতে ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের ছয় বছরে একই আয় বেড়েছিল প্রায় ১৯ শতাংশ। ফলে নতুন রেকর্ডের পেছনে দীর্ঘ সময়ের মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির ধীর গতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।    সেন্সাস ব্যুরোর নতুন তথ্য মূলত ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে। এতে দেখা যাচ্ছে, একদিকে পরিবারের মধ্যম আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সরকারি দারিদ্র্যের হার রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমেছে, অন্যদিকে আয় বৃদ্ধির সুফল সব স্তরের পরিবারের মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থার সামগ্রিক চিত্র বুঝতে শুধু মধ্যম আয় বা দারিদ্র্যের একটি সূচক নয়, আয় বণ্টন, জীবনযাত্রার খরচ ও হেলথ কেয়ারের ব্যয়ের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৯:২৯
সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের সহায়তার কোটি কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসনাল জেলার সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে কোটি কোটি মানুষের নির্বাচনী জেলা বদলে গেছে। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাসে বদলে গেল ৩ কোটি ৪৮ লাখ মার্কিন নাগরিকের কংগ্রেসনাল জেলা

তিন বছর পর নীতিগত সুদহার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ। ছবি: সংগৃহীত

৩ বছর পর সুদের হার বাড়াল মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক, প্রভাব পড়তে পারে অর্থনীতিতে

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায়, ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম ঠেকাতে ২২ রাজ্য ও ডিসির মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই তা ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়। একই সময়ে নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে কয়েকটি শহর ও কাউন্টিও পৃথক মামলা করেছে। নতুন নিয়মটি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।    নতুন নীতিতে গ্রিন কার্ড, নির্দিষ্ট ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন পর্যালোচনার সময় কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির মতো কিছু সরকারি সুবিধা বিবেচনায় আসতে পারে। রাজ্যগুলো বলছে, এতে বৈধভাবে এসব সুবিধা ব্যবহার করা অভিবাসী পরিবারগুলো গ্রিন কার্ডের আবেদন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।    মামলাকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, কলোরাডোসহ মোট ২২টি রাজ্য রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াও যুক্ত হয়েছে। মামলাটি নিউইয়র্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে করা হয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, নতুন নীতিটি ডিএইচএসের আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নিয়মও লঙ্ঘন করেছে।    অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে পৃথক একটি মামলায় শিকাগো, সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো এবং কয়েকটি কাউন্টি ও স্থানীয় সরকার যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোর দাবি, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবারগুলো মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য বৈধ সরকারি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। এতে শুধু অভিবাসীদের নয়, এসব কর্মসূচি পরিচালনাকারী রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের ওপরও আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে তারা আদালতে যুক্তি দিয়েছে।    ডিএইচএস অবশ্য নতুন নীতিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে এমন ব্যক্তিদের গ্রিন কার্ড বা ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কোনো আবেদনকারীর পরিস্থিতি কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।    নতুন নিয়মটি ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে চালু করা অনুরূপ নীতির সঙ্গে মিল রয়েছে। পরে বাইডেন প্রশাসন সেই নীতি বাতিল করে ২০২২ সালে তুলনামূলকভাবে সীমিত একটি কাঠামো চালু করেছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডিএইচএস সেই ২০২২ সালের বিধান বাতিলের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, নতুন নিয়ম ১৮ সেপ্টেম্বর কার্যকর হবে।    মামলার ফলে এখন ফেডারেল আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুন নীতিটি আইন অনুযায়ী বৈধভাবে কার্যকর করা হয়েছে কি না এবং তা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ১৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত কার্যকর তারিখ ঘিরে গ্রিন কার্ড ও সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নিয়মে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তির গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন সরল নিয়ম নয়; কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৬:২৮
আইসিইর ধরপাকড় ও বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারাবে ৬০ লাখ

আইসিইর ধরপাকড় ও বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারাবে ৬০ লাখ, নতুন প্রতিবেদন

পানির বোতলে ব্লিচ ঢেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে খাওয়ান হোমকেয়ার

পানির বোতলে ব্লিচ ঢেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে খাওয়ান হোমকেয়ার, ভিডিও ভাইরাল

দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে কূটনৈতিক বিরোধ

যুক্তরাষ্ট্রে বড় মজুরি পরিবর্তনের প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রে বড় মজুরি পরিবর্তনের প্রস্তাব, ঘণ্টায় ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭ দশমিক ২৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫ ডলার করার প্রস্তাব উঠেছে কংগ্রেসে। ‘সবার জন্য জীবিকার উপযোগী মজুরি আইন’ নামে প্রস্তাবিত বিলটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সিনেটে উত্থাপন করা হয় এবং পরে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে এটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭ দশমিক ২৫ ডলার। নতুন প্রস্তাবে একবারে মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত করার পরিবর্তে কয়েক ধাপে তা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ১২ ডলারে উন্নীত করা হবে। এরপর কয়েকটি ধাপে মজুরি বাড়িয়ে ঘণ্টাপ্রতি ২৫ ডলারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রস্তাবিত আইনে বড় ও ছোট ব্যবসার জন্য আলাদা সময়সীমা রাখার কথা বলা হয়েছে। বড় নিয়োগদাতাদের ২০৩২ সালের মধ্যে কর্মীদের ঘণ্টায় ২৫ ডলার মজুরি দেওয়ার লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। ছোট ব্যবসাগুলোকে এই পরিবর্তনের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সময় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে সময়সীমা ২০৩৯ সাল পর্যন্ত যেতে পারে।   বিলটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভবিষ্যতে ন্যূনতম মজুরি কীভাবে সমন্বয় করা হবে। ২৫ ডলারে পৌঁছানোর পর জাতীয় মধ্যম মজুরির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি নিয়মিত সমন্বয় করার প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও দেশের সামগ্রিক মজুরি কাঠামোর পরিবর্তনের সঙ্গে ন্যূনতম মজুরি সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।   প্রস্তাবটির সমর্থকেরা মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি অপরিবর্তিত থাকায় কর্মীদের আয় জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামগ্রিক মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি। তাদের মতে, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হলে কম আয়ের কর্মীদের উপার্জন বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, বড় ধরনের মজুরি বৃদ্ধিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রম ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব পণ্যের দাম, নিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসাগুলোর ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।   তবে প্রস্তাবিত এই বিলকে বর্তমান আইন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই বিলটি সিনেটে উত্থাপনের পর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও পেনশনবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ এটি এখনো আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরসহ আরও কয়েকটি ধাপ পেরোতে হবে।   ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী, নিয়োগদাতা ও ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিতর্ক সামনে এনেছে। কর্মীদের বেশি মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বাড়তি ব্যয়, পণ্যের দাম এবং কর্মসংস্থানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘণ্টাপ্রতি ২৫ ডলারের মজুরি কেবল একটি প্রস্তাব, এটি কার্যকর কোনো আইন নয়।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ২৩:৪০
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের চেক

ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের চেক: মাত্র ২১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন প্রতিশ্রুত অর্থ দেবেন তিনি

ট্রাকে গাদাগাদি করে ৩১ অভিবাসী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্ডার প্যাট্রোলের হাতে আটক

ট্রাকে গাদাগাদি করে ৩১ অভিবাসী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্ডার প্যাট্রোলের হাতে আটক

যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত - ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত - ডোনাল্ড ট্রাম্প

0 Comments