গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায়, ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম ঠেকাতে ২২ রাজ্য ও ডিসির মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই তা ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়। একই সময়ে নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে কয়েকটি শহর ও কাউন্টিও পৃথক মামলা করেছে। নতুন নিয়মটি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন নীতিতে গ্রিন কার্ড, নির্দিষ্ট ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন পর্যালোচনার সময় কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির মতো কিছু সরকারি সুবিধা বিবেচনায় আসতে পারে। রাজ্যগুলো বলছে, এতে বৈধভাবে এসব সুবিধা ব্যবহার করা অভিবাসী পরিবারগুলো গ্রিন কার্ডের আবেদন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।
মামলাকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, কলোরাডোসহ মোট ২২টি রাজ্য রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াও যুক্ত হয়েছে। মামলাটি নিউইয়র্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে করা হয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, নতুন নীতিটি ডিএইচএসের আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নিয়মও লঙ্ঘন করেছে।
অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে পৃথক একটি মামলায় শিকাগো, সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো এবং কয়েকটি কাউন্টি ও স্থানীয় সরকার যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোর দাবি, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবারগুলো মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য বৈধ সরকারি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। এতে শুধু অভিবাসীদের নয়, এসব কর্মসূচি পরিচালনাকারী রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের ওপরও আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে তারা আদালতে যুক্তি দিয়েছে।
ডিএইচএস অবশ্য নতুন নীতিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে এমন ব্যক্তিদের গ্রিন কার্ড বা ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কোনো আবেদনকারীর পরিস্থিতি কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
নতুন নিয়মটি ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে চালু করা অনুরূপ নীতির সঙ্গে মিল রয়েছে। পরে বাইডেন প্রশাসন সেই নীতি বাতিল করে ২০২২ সালে তুলনামূলকভাবে সীমিত একটি কাঠামো চালু করেছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডিএইচএস সেই ২০২২ সালের বিধান বাতিলের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, নতুন নিয়ম ১৮ সেপ্টেম্বর কার্যকর হবে।
মামলার ফলে এখন ফেডারেল আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুন নীতিটি আইন অনুযায়ী বৈধভাবে কার্যকর করা হয়েছে কি না এবং তা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ১৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত কার্যকর তারিখ ঘিরে গ্রিন কার্ড ও সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নিয়মে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তির গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন সরল নিয়ম নয়; কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীন মানুষের আবাসন ও সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় চতুর্থ এক ব্যক্তি অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় কোটি কোটি ডলারের সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত খরচ, ব্যবসা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি কার্যালয় জানায়, গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ অর্থের অপব্যবহার ও দুর্নীতি তদন্তে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযানের অংশ হিসেবে এসব মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ‘হোম অ্যাট লাস্ট’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ইয়ং, ‘দ্য বিগ ব্লু আমব্রেলা’র প্রধান নির্বাহী ডনিয়ে মিচেল এবং ‘স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপস’-এর কর্মী লাকিয়া ম্যালোন। চতুর্থ ব্যক্তি আলেকজান্ডার সুফার ‘অ্যাবানড্যান্ট ব্লেসিংস’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। মাইকেল ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গৃহহীনদের আবাসন ও সেবা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ ৭৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ তিনি ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও বিলিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। পরে সেই অর্থের একটি অংশ বাণিজ্যিক সম্পত্তি, বিলাসবহুল ভ্রমণ, পুরোনো গাড়ি সংস্কার এবং একটি রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাব নির্মাণে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়ং কাল্পনিক বা ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের কোম্পানি হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া দরপত্র, জাল স্বাক্ষর ও মিথ্যা চালান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী, কার্যকর কার্যালয় বা স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। অভিযোগের একটি অংশে বলা হয়েছে, ইয়ং ইনগেলউডে ‘সিক্স সেভেন ফাইভ লাউঞ্জ’ নামে একটি বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাব চালু করতে সরকারি অর্থের ১০ লাখ ডলারের বেশি ব্যবহার করেন। ওই ব্যবসার মদের লাইসেন্স, স্থপতি, নির্মাণকাজ এবং অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার খরচেও করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ওই অর্থ দিয়ে গৃহহীনদের আবাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বাণিজ্যিক সম্পত্তিও কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটির কাছ থেকে পাওয়া অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, হোম অ্যাট লাস্টকে দেওয়া চুক্তিগুলো ২০২৬ সালের জুনে বাতিল করে লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, অনিয়মের শক্ত প্রমাণ পাওয়া এবং চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থতার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্বিতীয় মামলায় ডনিয়ে মিচেলের বিরুদ্ধে ১২ লাখ ডলারের বেশি অনুদান প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মিচেল ‘দ্য বিগ ব্লু আমব্রেলা’র প্রধান নির্বাহী ও নির্বাহী পরিচালক। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির অর্থায়নে পরিচালিত একটি সংস্থার কাছে নিজের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও গৃহহীনদের আবাসন দেওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে ওই অর্থ পান। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ পাওয়ার পর মিচেল প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন ও ব্যয়ের তথ্যেও অসত্য তথ্য দেন। সরকারি অনুদানের অর্থের একটি অংশ নিজের জামিনের খরচ, ক্রেডিট কার্ডের দেনা, পরিবারের সদস্যদের কাছে অর্থ পাঠানো, বাসাভাড়া এবং ভিডিও গেম কেনার মতো ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলার দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থা মিচেলের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। মিচেলের বিরুদ্ধে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ লাখ ডলারের বেশি অনুদান প্রতারণার অভিযোগে তারের মাধ্যমে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে। তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রেপ্তার হননি এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাকে পলাতক হিসেবে বিবেচনা করছে। তৃতীয় ঘটনায় স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপসের কর্মী লাকিয়া ম্যালোনের বিরুদ্ধে ২১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি আলেকজান্ডার সুফারের কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি ঘুষ ও অবৈধ অর্থ নিয়েছেন। বিনিময়ে তিনি গৃহহীনদের আবাসন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লোক পাঠাতেন। এসব ব্যক্তির মধ্যে এমন কথিত ‘ভুয়া অংশগ্রহণকারী’ও ছিল, যারা বাস্তবে সংশ্লিষ্ট আবাসনকেন্দ্রে থাকতেন না। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব কাল্পনিক অংশগ্রহণকারীর জন্য ভুয়া স্বাগতপত্র, উপস্থিতির তালিকা এবং যোগ্যতার নথি তৈরি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে সুফারের প্রতিষ্ঠান স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপসের কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ম্যালোনকে এসব কথিত সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল বলে প্রসিকিউটরদের দাবি। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত চতুর্থ ব্যক্তি আলেকজান্ডার সুফার তারের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থপাচারের একটি করে অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি স্বীকার করেছেন যে গৃহহীনদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার তিনি পেয়েছিলেন। এর অন্তত ২০ লাখ ডলার ব্যক্তিগত সুবিধা ও গৃহহীনদের আবাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যবসায় ব্যবহারের কথাও তিনি স্বীকার করেছেন। সুফার অবৈধভাবে পাওয়া অর্থ সরকারের কাছে ফেরত দিতে সম্মত হয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার দোষ স্বীকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব মামলার তদন্তে এফবিআই, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ বা আইআরএসের অপরাধ তদন্ত শাখা এবং আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় কাজ করছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা আরও চলবে। মার্কিন আবাসন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী স্কট টার্নার বলেছেন, গৃহহীনদের সহায়তার জন্য দেওয়া সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রথম সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসাইলিও বলেছেন, এসব ঘটনায় সরকারি অর্থের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে মামলাগুলোর সব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতেও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র ও ফৌজদারি অভিযোগ কেবল প্রসিকিউশনের অভিযোগ তুলে ধরে। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত সবাই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস
নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাসে বদলে গেল ৩ কোটি ৪৮ লাখ মার্কিন নাগরিকের কংগ্রেসনাল জেলা
৩ বছর পর সুদের হার বাড়াল মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক, প্রভাব পড়তে পারে অর্থনীতিতে
গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায়, ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম ঠেকাতে ২২ রাজ্য ও ডিসির মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসন ধরপাকড় ও বহিষ্কার কার্যক্রমের প্রভাব শুধু অনিবন্ধিত অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মার্কিন নাগরিকদের চাকরিতেও পড়তে পারে বলে দাবি করেছে নতুন এক প্রতিবেদনে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) ও এএফএল-সিআইওর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক বর্তমানে মার্কিন নাগরিকদের দখলে। ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘সিটিজেনশিপ অ্যান্ড দ্য অ্যাফোর্ডেবিলিটি এজেন্ডা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংগঠন দুটি দাবি করেছে, ব্যাপক ডিপোর্টেশন শ্রমবাজারে কর্মী সংকট তৈরি করছে এবং নির্মাণ, হসপিটালিটি ও কেয়ারগিভিংয়ের মতো অভিবাসী কর্মী নির্ভর খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। তাদের মতে, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার দাম এবং কর্মসংস্থানের ওপরও পড়তে পারে। প্রতিবেদনের সবচেয়ে আলোচিত হিসাবটি এসেছে ইকোনমিক পলিসি ইনস্টিটিউটের একটি প্রক্ষেপণ থেকে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপোর্টেশন কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। এর প্রায় অর্ধেক চাকরি বর্তমানে মার্কিন নাগরিকরা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রক্ষেপণ, ইতোমধ্যে হারিয়ে যাওয়া চাকরির পরিসংখ্যান নয়। ACLU ও এএফএল-সিআইও আরও দাবি করেছে, অভিবাসন ধরপাকড়ের কারণে অনেক এলাকায় মানুষ কর্মস্থলে যাওয়া, কেনাকাটা ও রেস্টুরেন্টে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে থাকছেন। তাদের প্রতিবেদনে একটি হিসাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বছরে প্রায় ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন কম ভিজিট এবং ৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের কম ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালে ব্যবসাগুলোর সাপ্তাহিক ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির আরেকটি দাবি হলো, অভিবাসন এনফোর্সমেন্টের ফলে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লে কিছু নিয়োগকর্তার জন্য কর্মীদের কম মজুরি দেওয়া বা শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সংগঠন দুটি বলছে, এর প্রভাব শুধু অভিবাসীদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না এবং অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিক উভয় ধরনের কর্মী থাকা একই শিল্পে মজুরি ও কর্মপরিবেশের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এসব দাবির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন একমত নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত অভিবাসন বৃদ্ধিই মার্কিন নাগরিকদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং মজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে প্রশাসনের অবস্থান। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মার্কিন কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য। অভিবাসন নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ সালের মে মাসে ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, বেশি ICE গ্রেপ্তার হওয়া এলাকাগুলোতে অনিবন্ধিত কর্মীদের কর্মসংস্থান ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমেছিল। একই গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চমাধ্যমিক বা তার নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কিন নাগরিক পুরুষদের কর্মসংস্থানও কমেছে। ওই গবেষণায় আরও দেখা যায়, অনিবন্ধিত পুরুষ কর্মীদের প্রতি ছয়জন চাকরি হারানোর বিপরীতে প্রায় একজন মার্কিন নাগরিক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। গবেষকরা বিশেষ করে কৃষি, নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে এর প্রভাব দেখতে পেয়েছেন। গবেষণাটি ২০২৫ সালে ICE গ্রেপ্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল এমন এলাকাগুলোর মাসভিত্তিক কর্মসংস্থান তথ্য বিশ্লেষণ করে তুলনা করেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের সমর্থকদের যুক্তি হলো, অনিবন্ধিত কর্মীদের শ্রমবাজার থেকে সরিয়ে দিলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে নতুন ACLU ও এএফএল-সিআইও প্রতিবেদন এবং প্রশাসনের অবস্থানের মধ্যে মূল বিরোধটি হলো, অভিবাসন ধরপাকড় শেষ পর্যন্ত মার্কিন কর্মীদের জন্য চাকরি ও মজুরি বাড়াবে, নাকি শ্রমবাজার ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকুচিত করে উল্টো প্রভাব ফেলবে। নতুন প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরি ও মজুরি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনও সামনে রয়েছে। তবে প্রতিবেদনটির ৬০ লাখ চাকরি হারানোর হিসাব একটি প্রক্ষেপণ এবং এর সঙ্গে অভিবাসন নীতির পাশাপাশি অর্থনীতির অন্যান্য পরিবর্তনশীল কারণও জড়িত থাকতে পারে। তাই এটিকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ফলাফল হিসেবে নয়, বরং একটি নীতি বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবের হিসাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পানির বোতলে ব্লিচ ঢেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে খাওয়ান হোমকেয়ার, ভিডিও ভাইরাল
দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে কূটনৈতিক বিরোধ
যুক্তরাষ্ট্রে বড় মজুরি পরিবর্তনের প্রস্তাব, ঘণ্টায় ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলার
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫ হাজার ডলারের “ডিভিডেন্ড” নিয়ে আমেরিকানদের মধ্যে আগ্রহ থাকলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন কি না, সে বিষয়ে আস্থা রয়েছে মাত্র ২১ শতাংশের। ১১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পরিচালিত ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৪৬১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ৪৮ শতাংশ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাবকে তারা সমর্থন করেন। ৪০ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। অর্থাৎ সরাসরি ৫ হাজার ডলার পাওয়ার ধারণার প্রতি উল্লেখযোগ্য সমর্থন থাকলেও, ট্রাম্প সেই অর্থ বাস্তবে দেবেন কি না, সে প্রশ্নে চিত্রটি ভিন্ন। ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২১ শতাংশ ভোটার মনে করেন ট্রাম্প সম্ভবত বা নিশ্চিতভাবে এই ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড দেবেন। বিপরীতে ৫৭ শতাংশ মনে করেন, তিনি সম্ভবত বা নিশ্চিতভাবে তা করবেন না। জরিপটির মার্জিন অব এরর প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট। দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেও এই পার্থক্য স্পষ্ট। জরিপে ৪৫ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, ট্রাম্প এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন বলে তারা মনে করেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার মাত্র ৪ শতাংশ। ট্রাম্প গত ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মিডটার্ম কনভেনশনে ঘোষণা দেন, নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তিনি প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের “ট্রাম্প ডিভিডেন্ড” দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। তবে প্রস্তাবটির অর্থায়ন, যোগ্যতার শর্ত এবং কীভাবে অর্থ বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে একই সময়ে পরিচালিত রয়টার্স/ইপসস জরিপেও প্রস্তাবটি নিয়ে ভিন্ন ধরনের সংশয় দেখা গেছে। ১ হাজার ১৪৩ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৬৩ শতাংশ ট্রাম্পের এই ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিকে অনুপযুক্ত বলে মনে করেছেন। জরিপটির মার্জিন অব এরর ৩ শতাংশ পয়েন্ট। তবে ৫ হাজার ডলারের অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবটি এখনো কোনো অনুমোদিত ফেডারেল বেনিফিট নয়। এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও আইনি কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ১৫ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের এক শুনানিতে বলেন, ট্রেজারি বিভাগ এমন উপায় খতিয়ে দেখছে যাতে প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় এবং একই সঙ্গে ফেডারেল ঘাটতিও না বাড়ে। প্রয়োজন হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার পথেও প্রশাসন এগোতে পারে বলে তিনি জানান। প্রস্তাবটির সম্ভাব্য ব্যয়ও বড় একটি প্রশ্ন। সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হলে মোট ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে হিসাব করা হয়েছে। তবে কারা এই অর্থ পাবেন, কোনো আয়সীমা থাকবে কি না এবং অর্থের নির্দিষ্ট উৎস কী হবে, এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সাম্প্রতিক দুটি জরিপের ফলাফলে তাই দুটি আলাদা বিষয় সামনে এসেছে। একদিকে ৫ হাজার ডলার পাওয়ার ধারণার প্রতি ভোটারদের একটি বড় অংশের সমর্থন রয়েছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত অর্থ বাস্তবে পাওয়া যাবে কি না এবং প্রস্তাবটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ট্রাকে গাদাগাদি করে ৩১ অভিবাসী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্ডার প্যাট্রোলের হাতে আটক
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত - ডোনাল্ড ট্রাম্প