সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

লস অ্যাঞ্জেলেসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের, স্বপ্নের পেশাতেই শেষ যাত্রা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৬:১১
লস অ্যাঞ্জেলেসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের, স্বপ্নের পেশাতেই শেষ যাত্রা
লস অ্যাঞ্জেলেসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের, স্বপ্নের পেশাতেই শেষ যাত্রা

লস অ্যাঞ্জেলেসে এক ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেস (NBCLA)-এর সংবাদ প্রতিবেদক এলিয়ানা মোরেনো। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর এক আবেগঘন বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের নীরবতা ভেঙেছে তার শোকাহত পরিবার। এলিয়ানার ভাই জোহান মোরেনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই বিবৃতিটি শেয়ার করেছেন।

 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাত্র ১১ বছর বয়স থেকেই এলিয়ানা একজন সংবাদ প্রতিবেদক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। নিজের কঠোর পরিশ্রম ও সাহসিকতার মাধ্যমে তিনি সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন। পরিবার আরও জানায়, এলিয়ানা ছোটবেলা থেকে যে কাজের প্রতি তীব্র আবেগ লালন করতেন, সেই প্রিয় কাজটি করতে করতেই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন—এই ভেবে তারা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা খুঁজছেন।

 

গত মঙ্গলবার লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রো বাসের সাথে একটি এসইউভি (SUV)-এর ভয়াবহ সংঘর্ষের খবর আকাশ থেকে সংগ্রহ করতে গিয়ে এলিয়ানা মোরেনো এবং পাইলট জর্জ মার্সিনিউকে বহনকারী এনবিসি-র একটি হেলিকপ্টার হঠাৎ ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় এলিয়ানা ও জর্জ ছাড়াও নিচে থাকা এডি গুতেরেজ মেজিয়া নামের এক পথচারী প্রাণ হারান।

 

এলিয়ানার পরিবার তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, তারা তাকে নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত এবং তাকে নিজেদের পরিবারের সদস্য হিসেবে পেয়ে তারা ধন্য। ৩৮ বছর বয়সী এই সাংবাদিক তার পেছনে রেখে গেছেন পাঁচ ভাইবোন, বাগদত্ত, সৎ সন্তান এবং পোষা কুকুর।

 

এর আগে এক শোকবার্তায় এলিয়ানার ভাই জোহান লিখেছিলেন, "শান্তিতে ঘুমাও বোন, আমি তোমাকে অনন্তকাল ভালোবাসব। আমাদের পরিবার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন পার করছে।" পাশাপাশি জোহান সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, তাদের পরিবারের নামে কেউ যদি অনলাইনে অর্থ সংগ্রহ করে, তবে তা যেন কেউ বিশ্বাস না করেন, কারণ তারা কোনো আর্থিক সহায়তা নিচ্ছেন না।

 

প্রায় এক বছর আগে রবার্ট ব্যারিয়েন্টোসের সাথে এলিয়ানার বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। এই দক্ষ 'এরিয়াল রিপোর্টার' বা আকাশ থেকে সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিক ২০১০ সাল থেকে এনবিসি-র নিউজ চপার-এ কাজ করছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওপর থেকে পুলিশি ধাওয়া, দাবানল বা বড় দুর্ঘটনার সরাসরি খবর দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে তিনি "এলি ইন দ্য হেলি" নামে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

 

ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) বর্তমানে এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। নিজের স্বপ্নের পেশায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় এলিয়ানার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার সহকর্মী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে নতুন জীবন পেল মাথা জোড়া লাগানো দুই বোন, প্রথমবার দেখল একে অপরকে
যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে নতুন জীবন পেল মাথা জোড়া লাগানো দুই বোন, প্রথমবার দেখল একে অপরকে

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসের একটি হাসপাতালে দীর্ঘ ও জটিল অস্ত্রোপচারের পর মাথা জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেওয়া ইথিওপিয়ার দুই যমজ বোনকে সফলভাবে আলাদা করা হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি 'এসএসএম হেলথ কার্ডিনাল গ্লেনন চিলড্রেনস হসপিটাল'-এ প্রায় ৩০ জন চিকিৎসকের একটি বিশেষজ্ঞ দল টানা ২৫ ঘণ্টা কাজ করে এই অসাধ্য সাধন করেন।   বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফল অস্ত্রোপচারের কথা ঘোষণা করে। হিয়াব এবং উহবতো নামের এই যমজ বোনেরা 'ক্র্যানিওপ্যাগাস' (craniopagus) নামক একটি বিরল শারীরিক অবস্থা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিল। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের তথ্যমতে, প্রতি ২৫ লাখ জীবিত শিশুর মধ্যে গড়ে মাত্র একটি ক্ষেত্রে এমন মাথা জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম হয়, যা জোড়া লাগানো যমজ জন্মের মোট ঘটনার ৬ শতাংশেরও কম।   এই দুই বোনকে স্বাধীন ও স্বাভাবিক জীবন দেওয়ার লক্ষ্যে চিকিৎসকরা প্রায় এক বছর ধরে তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং অস্ত্রোপচারের নিবিড় প্রস্তুতি নেন। জন্মের পর থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে হিয়াব এবং উহবতো একে অপরের দিকে পেছন ফিরে মাথা জোড়া লাগানো অবস্থায় জীবন কাটিয়েছিল।   একে অপরের গলার আওয়াজ শুনতে পেলেও অস্ত্রোপচারের আগে তারা কখনোই একে অপরকে সামনাসামনি দেখেনি। কার্ডিনাল গ্লেনন চিলড্রেনস হাসপাতালের চিকিৎসক ড. জোয়ানা কেম্প জানান, এভাবে জোড়া লাগানো অবস্থায় থাকলে ভবিষ্যতে তাদের বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকির মুখে পড়তে হতো। এমনকি উন্নত চিকিৎসার অভাবে তাদের পক্ষে নিজ দেশ ইথিওপিয়ায় ফেরাও সম্ভব ছিল না।   অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধাপে ধাপে এই জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন সার্জনরা। অস্ত্রোপচারের পর জীবনের প্রথমবারের মতো দুই বোন একে অপরকে সামনাসামনি দেখার ও একসাথে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছে।   হাসপাতালটির কর্মী কেট করবেট আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, "এর আগে তারা কখনোই একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে বা স্পর্শ করতে পারেনি।" ইথিওপিয়া থেকে এক ভিডিও বার্তায় যমজ বোনদের অভিভাবক আবেবে ফান্টাহুন সেন্ট লুইসের ওই মেডিকেল টিমের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।   তিনি বলেন, "কার্ডিনাল গ্লেনন হাসপাতাল ও র‌্যাঙ্কেন জর্ডানের চিকিৎসক দল যে মমতা ও নিষ্ঠার সাথে তাদের চিকিৎসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।"

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৭:১৮
পোষা কুকুরের ১৮০ বার কামড়ে নবজাতকের মৃ ত্যু, বাবার ১৬ বছরের কারাদণ্ড

পোষা কুকুরের ১৮০ বার কামড়ে নবজাতকের মৃ ত্যু, বাবার ১৬ বছরের কারাদণ্ড

মিশিগানে নদী থেকে উদ্ধার দুই নিখোঁজ নারীর ম রদেহ, ৭০ ফুট নিচে গাড়ি পড়া নিয়ে রহস্য

মিশিগানে নদী থেকে উদ্ধার দুই নিখোঁজ নারীর ম রদেহ, ৭০ ফুট নিচে গাড়ি পড়া নিয়ে রহস্য

লস অ্যাঞ্জেলেসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের, স্বপ্নের পেশাতেই শেষ যাত্রা

লস অ্যাঞ্জেলেসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের, স্বপ্নের পেশাতেই শেষ যাত্রা

মার্কিন কংগ্রেসউইম্যান ইলহান ওমরকে ভিনেগার নিক্ষেপকারী চরমপন্থীর ১৪ মাসের কারাদণ্ড
মার্কিন কংগ্রেসউইম্যান ইলহান ওমরকে ভিনেগার নিক্ষেপকারী চরমপন্থীর ১৪ মাসের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসউইম্যান ইলহান ওমরকে লক্ষ্য করে আপেল সিডার ভিনেগার নিক্ষেপ করার দায়ে এক ব্যক্তিকে ১৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার মিনিয়াপোলিসের ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সাথে একটি আপস চুক্তির (প্লি এগ্রিমেন্ট) অংশ হিসেবে ৫৬ বছর বয়সী অ্যান্টনি কাজমিয়ারজ্যাক এই সাজা মেনে নেন।   কারাদণ্ডের পাশাপাশি মুক্তির পর তাকে তিন বছর কড়া আইনি নজরদারিতে (সুপারভাইজড রিলিজ) থাকতে হবে এবং এই সময়ের মধ্যে তিনি 'স্কোয়াড' খ্যাত এই কংগ্রেসউইম্যানের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ করতে পারবেন না।   গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ইলহান ওমরের আয়োজিত একটি টাউন হল সভায় এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটে। সেসময় অ্যান্টনি হঠাৎ করে মঞ্চের দিকে তেড়ে যান এবং একটি সিরিঞ্জ থেকে পানি ও আপেল সিডার ভিনেগারের মিশ্রণ ইলহান ওমরের দিকে ছুঁড়ে মারেন।   এ সময় তিনি চিৎকার করে বলছিলেন যে, ইলহান ওমর "মিনেসোটাকে বিভক্ত করছেন।" ওমরের নিরাপত্তারক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিবৃত্ত করেন এবং পরবর্তীতে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় কেউ আহত না হলেও সেখানে উপস্থিত মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিলের সদস্য লাট্রিশা ভেতাওয়ের গায়ে কিছুটা ভিনেগার লাগায় পরবর্তীতে তিনি বমি করেছিলেন।   হামলার আগে নিজের এক প্রতিবেশীকে অ্যান্টনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন। তার ভাই তাকে একজন 'ডানপন্থী চরমপন্থী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিপক্ষে বিভিন্ন পোস্ট করতেন।   পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ইলহান ওমর জানান, সোমালি অভিবাসীদের বহিষ্কার করার বিষয়ে ট্রাম্পের আদেশের ধীরগতি নিয়ে হামলাকারী ক্ষুব্ধ ছিলেন। ইলহান ওমর সোমালিদের রক্ষা করছেন, এমনটা ভেবেই তিনি তার ওপর হামলা চালান। তবে আদালতে বিচারক যখন তাকে হামলার কারণ জিজ্ঞেস করেন, তখন তিনি কেবল বলেন, "বিষয়টি আমার কাছে অস্পষ্ট।"   উল্লেখ্য, এই ঘটনার সময় মিনেসোটার টুইন সিটিস এলাকায় কেন্দ্রীয় ইমিগ্রেশন এজেন্টদের অভিযান এবং এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের কারণে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।   অন্যদিকে, অ্যান্টনির এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন যে, তিনি পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত এবং কয়েক বছর আগে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ার পর থেকে কড়া ওষুধের ওপর নির্ভরশীল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, আসামিপক্ষের মেমোতে অ্যান্টনির অ্যালকোহল আসক্তি এবং মানসিক ও আবেগজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার ইতিহাসও উল্লেখ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৫:৪৫
লস অ্যাঞ্জেলেসে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বাস দু র্ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

লস অ্যাঞ্জেলেসে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বাস দু র্ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

সেনেটে আটকে যাওয়ায় আইস প্রধানের মনোনয়ন প্রত্যাহার করল হোয়াইট হাউস

সেনেটে আটকে যাওয়ায় আইস প্রধানের মনোনয়ন প্রত্যাহার করল হোয়াইট হাউস

ব্রেকআপ মেনে নিতে না পেরে প্রাক্তন প্রেমিকাকে গুলি করে হ ত্যা, বিচারের মুখোমুখি অভিযুক্ত

ব্রেকআপ মেনে নিতে না পেরে প্রাক্তন প্রেমিকাকে গুলি করে হ ত্যা, বিচারের মুখোমুখি অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের পাশে প্রায় ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টা বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশে ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ল

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের পাশে প্রায় ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রানওয়ের কাছে থাকা একটি পয়ঃনিষ্কাশন উত্তোলন কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রানওয়ে ১০-২৮-এর পশ্চিম প্রান্তের কাছে থাকা পয়ঃনিষ্কাশন উত্তোলন কেন্দ্র থেকে পয়ঃবর্জ্য বের হয়ে পাশের একটি বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকা সুলিভান খালের পাশেই অবস্থিত।   ঘটনার কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রায় ৯০ মিনিট পর সংশ্লিষ্ট উত্তোলন কেন্দ্রটি আবার স্বাভাবিকভাবে চালু করা হয়।   ছড়িয়ে পড়া পয়ঃবর্জ্যের প্রভাব কমাতে ক্ষতিগ্রস্ত মাটিতে একটি নিরপেক্ষকরণ উপাদান প্রয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিচের দিকে থাকা পানির মান পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। জর্জিয়া পরিবেশ সুরক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পানির মান পর্যবেক্ষণের এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় কোনো ফ্লাইট বা যাত্রীসেবা ব্যাহত হয়নি। বিমানবন্দরের কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।   পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রকাশ্যে জানিয়েছে। কারণ, কোনো সরকারি মালিকানাধীন পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন সংস্থার মাধ্যমে ১০ হাজার গ্যালনের বেশি পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়লে আইন অনুযায়ী গণমাধ্যমকে তা জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব সীমিত রাখতে তারা স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। ঘটনার কারণ ও এর প্রভাব নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১২:২৩
এড শিরানের 'লুপ ট্যুর' থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলারের পুরো অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত

এড শিরানের সফরের ১০ লাখ ডলার ফিলিস্তিনিদের জন্য দান করবেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর

যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে বাড়ি কেনার দিক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস সবচেয়ে কম সাশ্রয়ী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য এখন সবচেয়ে কঠিন লস অ্যাঞ্জেলেস, নতুন রিপোর্টে গ্রেড 'এফ'

জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত লাখ লাখ গোপন নথি প্রকাশ ঠেকাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তার প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প সরাসরি এপস্টেইন ফাইল গোপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন, দাবি ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপকের

0 Comments