সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

রেকর্ড গড়ল আমেরিকানদের পারিবারিক আয়, ২০২৫ সালে বেড়েছে ২.৬ শতাংশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৫:৩০
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মধ্যম আয় বেড়ে রেকর্ড ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলারে পৌঁছেছে
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মধ্যম আয় বেড়ে রেকর্ড ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলারে পৌঁছেছে

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির সেন্সাস ব্যুরোর নতুন তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মার্কিন পরিবারের মধ্যম আয় ছিল ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলার। ২০২৪ সালের ৮৫ হাজার ২১০ ডলারের তুলনায় এই আয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

 

সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য বলছে, ১৯৬৭ সাল থেকে আয় সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর ২০২৫ সালেই পরিবারের মধ্যম আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিবারের আয়েও পরিবর্তন দেখা গেছে। শ্বেতাঙ্গ পরিবারের মধ্যম আয় ৩ শতাংশ এবং হিস্পানিক নন এমন শ্বেতাঙ্গ পরিবারের আয় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এশীয় ও হিস্পানিক পরিবারের মধ্যম আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

 

নারী ও পুরুষের আয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে নারীদের মধ্যম আয় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, বিপরীতে পুরুষদের আয় সামান্য কমেছে। পূর্ণকালীন ও বছরজুড়ে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে নারীদের আয় পুরুষদের আয়ের ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ৮০ দশমিক ৬ শতাংশের চেয়ে বেশি।

 

কর পরিশোধের পর পরিবারের হাতে থাকা আয়ের হিসাবেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪ সালে মধ্যম পোস্ট-ট্যাক্স পারিবারিক আয় ছিল ৭৩ হাজার ৭৬০ ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৬০ ডলারে, যা ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটির সরকারি হিসাবে দারিদ্র্যের হার ১০ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ২০২৫ সালের গড় দারিদ্র্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার।

 

শিশুদের দারিদ্র্যের হারও ২০২৫ সালে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর সরকারি দারিদ্র্যের হার কমে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এই গোষ্ঠীর জন্যও রেকর্ড সর্বনিম্ন।

 

তবে কর, সরকারি সুবিধা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া ‘সাপ্লিমেন্টাল পভার্টি মেজার’ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি প্রচলিত হিসাবের তুলনায় এই মাপকাঠিতে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

 

স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল না। এই হার ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি।

 

২০২৫ সালে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে মেডিকেয়ারের আওতা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে, অন্যদিকে মেডিকেইডের আওতা কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতাও কমে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
কারাগারে থেকেও রিমোট কাজ, ঘণ্টায় ২৫ ডলার বেতনের সুযোগ
কারাগারে থেকেও ঘণ্টায় ২৫ ডলার আয়, ব ন্দি দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মসূচি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে কা রা ব ন্দিদের জন্য রিমোট কাজের সুযোগ তৈরি করতে নতুন একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নির্বাচিত ব ন্দি রা কারাগারে থেকেই সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা রিমোট কাজ করবেন এবং প্রতি ঘণ্টায় ২৫ ডলার করে বেতন পাবেন। ম্যাসাচুসেটস ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন (ডিওসি) ১৭ সেপ্টেম্বর কর্মসূচিটি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ছয় মাসের এই পাইলট কর্মসূচিতে শুরুতে দুজন ব ন্দি অংশ নেবেন। তাঁরা দুজনই বোস্টন কলেজের প্রিজন এডুকেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে। কর্মসূচিটি ম্যাসাচুসেটস ডিওসি ও ‘অ্যালায়েন্স ফর হায়ার এডুকেশন ইন প্রিজন’-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা এমসিআই-শার্লির নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে কাজ করবেন এবং কা রা কর্তৃপক্ষের কর্মীরা সেখানে তাঁদের সরাসরি তদারকি করবেন। নির্বাচিত দুজন বিভিন্ন গবেষণা ও শিক্ষা-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ইনকারসারেটেড স্কলার্স কনফারেন্সের জন্য উপকরণ তৈরি, বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সহায়তা, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কারাগারে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা এবং শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ তৈরির কাজ রয়েছে। এই কাজের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গবেষণা, যোগাযোগ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও তথ্য-উপকরণ তৈরির মতো পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। ডিওসি কমিশনার শন জেনকিন্স বলেন, কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো ব ন্দি দের বর্তমান চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করা এবং মুক্তির পর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করা। ম্যাসাচুসেটস ডিওসি জানিয়েছে, কা রা ব ন্দি দের শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নের জন্য তারা আগে থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে কম্পিউটার কোডিং, প্রিন্টিং, কম্পিউটার-এইডেড ডিজাইন, রান্নাবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ধাতব কাজসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ রয়েছে। নতুন এই কর্মসূচি ডিওসির পাঁচ বছরের ‘অ্যালাইন ইনিশিয়েটিভ’-এরও অংশ। ওই পরিকল্পনায় কা রা ব ন্দি দের মুক্তির পর সমাজে ফিরে গিয়ে কাজ করার প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং রিমোট ও সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র দুজনকে নিয়ে কর্মসূচিটি শুরু হলেও ছয় মাসের পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এর কার্যক্রম ও ফলাফল মূল্যায়ন করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৮:৮
ডাউন সিনড্রোমে বেড়ে ওঠা দুই সন্তানকে নিয়ে আইসক্রিম ব্যবসায় বাবা

ডাউন সিনড্রোমের কারণে চাকরি না পাওয়া দুই সন্তানের জন্য আইসক্রিমের ব্যবসা গড়লেন বাবা

বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের স্থায়ী বসবাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়ম

নতুন আবেদনকারীদের গ্রিন কার্ড পেতে মানতে হবে শর্ত, জানাল ডিএইচএস

ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ভুল শনাক্তকরণ নিয়ে আলোচিত মামলা

ফেসিয়াল রিকগনিশনের ভুলে গ্রে প্তার নারী, মুক্তির পর ১০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা

আইআরএসে দাবি না করা কর ফেরত, অঙ্গরাজ্যভেদে বড় পার্থক্য
কর ফেরত নিতে ভুলছেন অনেকে, যুক্তরাষ্ট্রের যে অঙ্গরাজ্যে পাওনা সবচেয়ে বেশি

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখ লাখ ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত নেওয়া হয়নি। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে কিছু অঙ্গরাজ্যে এই ফেরত না নেওয়া অর্থের পরিমাণ অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস)-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য উঠে এসেছে।   কর প্রস্তুতকারী সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান সিগমা ট্যাক্স প্রোর করা বিশ্লেষণে ২০১৮ থেকে ২০২২ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের আইআরএস তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে কত ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত নেওয়া হয়নি, তা হিসাব করা হয়েছে।   ২০২২ সালকে বিশ্লেষণের শেষ বছর হিসেবে নেওয়া হয়েছে। কারণ, ওই বছরের কর ফেরত পাওয়ার দাবির তিন বছরের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আইআরএসে ফেরত না নেওয়া অর্থের তথ্য পাওয়া যায়।   আলাস্কায় প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৮ ডলার। ২০২২ সালে অঙ্গরাজ্যটিতে আনুমানিক ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত দাবি করা হয়নি। সেখানে সম্ভাব্য ফেরতের মধ্যম পরিমাণ ছিল ৭২১ ডলার।   পাঁচ বছরের প্রতিটি বছরেই জনসংখ্যার অনুপাতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণে আলাস্কা শীর্ষে ছিল। অঙ্গরাজ্যটিতে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে আনুমানিক ৫৫৪ জনের সম্ভাব্য কর ফেরত পাওনা ছিল।   আলাস্কার পর ছিল ওয়াশিংটন, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই ও নেভাদা।   অন্যদিকে, সবচেয়ে কম সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল উইসকনসিনে। ২০২২ সালে সেখানে আনুমানিক ১ কোটি ৪৮৭ লাখ ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত দাবি করা হয়নি। জনসংখ্যার অনুপাতে এই পরিমাণ ছিল প্রতি এক লাখ বাসিন্দায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৯ ডলার। অঙ্গরাজ্যটিতে সম্ভাব্য ফেরতের মধ্যম পরিমাণ ছিল ৬৫৮ ডলার।   উইসকনসিনের পর ছিল সাউথ ক্যারোলাইনা ও ইউটা। প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ লাখ ৫৯ হাজার ২৮৭ ও ২ লাখ ৭১ হাজার ৪১৭ ডলার।   পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অবস্থানে বড় পরিবর্তনও দেখা গেছে। ২০১৮ সালে ৪০তম অবস্থানে থাকা মন্টানা ২০২২ সালে ২৩তম স্থানে উঠে আসে। অ্যারিজোনা ২৬তম থেকে ১১তম এবং মিসিসিপি ৪১তম থেকে ৩০তম অবস্থানে উঠে আসে।   অন্যদিকে, সবচেয়ে বড় পতন দেখা যায় কলোরাডোতে। ২০১৮ সালে ১৩তম অবস্থানে থাকা অঙ্গরাজ্যটি ২০২২ সালে ৩৫তম স্থানে নেমে যায়।   বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইয়ান গার্ডনার বলেন, করব্যবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাব কিংবা আইআরএসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অডিট বা অতিরিক্ত করের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগের কারণে অনেকে তাদের পাওনা কর ফেরত দাবি করেন না। তবে তার মতে, কয়েকশ ডলারের মধ্যম পরিমাণের এই সম্ভাব্য ফেরত অনেক মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থ হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৬:৪১
সুদের হার বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি বিক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা

সুদের হার বাড়তেই চাপে আমেরিকার বাড়ির মালিকরা, কমতে পারে বাড়ির দাম

ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা, যেখানে শিক্ষার্থী ঋণের বোঝা তুলনামূলকভাবে কম

শিক্ষার্থী ঋণে ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থান ৪৯তম, কম ঋণের পেছনে যে কারণ

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মধ্যম আয় বেড়ে রেকর্ড ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলারে পৌঁছেছে

রেকর্ড গড়ল আমেরিকানদের পারিবারিক আয়, ২০২৫ সালে বেড়েছে ২.৬ শতাংশ

কারাগারে বন্দিদের নির্যাতনের ঘটনায় আলশেখকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড
সিরিয়ায় বন্দিদের নি র্যাতন, সাবেক আসাদ কর্মকর্তার ৬০ বছরের কারাদণ্ড সাজা দিল যুক্তরাষ্ট্রের আদালত

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে বন্দিদের নি র্যাতনের দায়ে দেশটির এক সাবেক সামরিক কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালত সামির উসমান আলশেখকে এই সাজা দেন।   আলশেখ ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার কুখ্যাত আদরা কারাগারের দায়িত্বে ছিলেন। চলতি বছরের মার্চে একটি জুরি তাকে নি র্যাতনের ষড়যন্ত্রের এক অভিযোগ এবং নি র্যাতনের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতে প্রমাণ হয়, কারাগারে থাকা কয়েকজন বন্দিকে নি র্যাতনের জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং এতে সরাসরি অংশও নিয়েছিলেন। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন করতে আলশেখ কিছু বন্দিকে আদরা কারাগারের একটি বিশেষ অংশে পাঠাতেন। সেখানে তাদের ছোট ছোট একাকী কক্ষে আটকে রাখা হতো এবং বিভিন্নভাবে নি র্যাতন করা হতো। দুই সপ্তাহের বিচার চলাকালে তিনজন ভুক্তভোগী আদালতে তাদের ওপর চালানো নি র্যাতনের বর্ণনা দেন। তারা জানান, তাদের দীর্ঘ সময় ধরে ছাদের পাইপের সঙ্গে ঝুলিয়ে মারধর করা হতো। এছাড়া শরীর ভাঁজ করে ফেলার মতো একটি যন্ত্র ব্যবহার করেও নি র্যাতন করা হয়েছিল বলে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রসিকিউটররা আদালতে বলেন, আলশেখ জানতেন তার কর্মকাণ্ড বেআইনি ও ভুল ছিল। তারপরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বন্দিদের ওপর নি র্যাতনের নির্দেশ দেন এবং তাতে অংশ নেন বলে প্রসিকিউটরদের দাবি। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির কারাগারগুলোতে ব্যাপক নি র্যাতন ও বেআইনি আটকের অভিযোগ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, হাজার হাজার মানুষকে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের না জানিয়েই আটক রাখা হয়েছিল। আলশেখ ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পরে নাগরিকত্বের আবেদন করেন। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, তিনি নিজের অতীত সম্পর্কে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নি র্যাতনের মামলার পাশাপাশি মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড নেওয়া এবং মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। প্রসিকিউটররা আলশেখের জন্য কমপক্ষে ৮০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। অন্যদিকে তার আইনজীবীরা পাঁচ বছরের সাজা চেয়ে যুক্তি দেন, আলশেখের বয়স ৭৪ বছর এবং তার গুরুতর শারীরিক ও জ্ঞানগত সমস্যা রয়েছে। তারা আরও জানান, সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হলে তিনি সেখানে নতুন সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে প্রস্তুত ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের আকস্মিক অভিযানে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের একটি বড় অধ্যায়ের অবসান ঘটে। তবে এরপরও দেশটিতে বিভিন্ন সময় সহিংসতা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৫:১৯
নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে ৪ মিলিয়ন ডলারের এক বছর মেয়াদি পাবলিক টয়লেট প্রকল্প চালু করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে মামদানির ৪ মিলিয়ন ডলারের টয়লেট, ১০ মিনিট পরই খুলবে দরজা

হুবহু চেহারার মিলের কারণে নির্দোষ হয়েও কানসাসে প্রায় ১৭ বছর কারাদণ্ড ভোগ করেছেন রিচার্ড অ্যান্থনি জোন্স। ছবি: সংগৃহীত

অপরাধীর সঙ্গে চেহারা, নাম হুবহু মেলায় ১৭ বছর জেল! বেরিয়ে এলো সত্য

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার মহাসড়কে উবার থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর গাড়ির ধাক্কায় নিহত ২৩ বছর বয়সী তরুণী এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কার। ছবি: সংগৃহীত

মহাসড়কে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যু, উবারকে ৪০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

0 Comments