হঠাৎ জ্বালানি তেলের ব্যয়ে ৩ বছরের বিশ্বভ্রমণ স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুস জাহাজ! অনিশ্চয়তায় ২০৩ যাত্রী
জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ার কম্বোডিয়ায় বিশ্বভ্রমণ স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবাসিক ক্রুজ জাহাজ এমভি ওডিসি। এর ফলে জাহাজটিকে দীর্ঘমেয়াদি ভাসমান বাসা হিসেবে ব্যবহার করা ২০৩ যাত্রীকে নেমে যেতে বলা হয়েছে। তিন বছর ধরে বিশ্বের সাত মহাদেশ ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে যাত্রা শুরু করা জাহাজটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিলা ভি রেসিডেন্সেস পরিচালিত জাহাজটি ২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করে। এর বিশেষত্ব ছিল, যাত্রীরা জাহাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন। জাহাজটির কেবিনকে স্থায়ী বাসস্থানের বিকল্প হিসেবেও প্রচার করা হয়েছিল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটির প্রতি কেবিনে মাসিক জ্বালানি ব্যয় আগে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার ছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার কিছু এলাকায় সেই ব্যয় বেড়ে আনুমানিক ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান।
ব্যয় কমাতে জাহাজের গতি কমানো এবং বন্দরে বেশি সময় অবস্থানের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এভাবে লোকসান নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না। জ্বালানির পুরো বাড়তি ব্যয় যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও বাস্তবসম্মত সমাধান নয় বলে তাদের বক্তব্য।
গত ২৩ অক্টোবর কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল বন্দরে পাঁচ দিনের সফরের জন্য পৌঁছায় ওডিসি। এরপর জাহাজটির ভিয়েতনামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও সেটি বন্দরে অবস্থান করছে। যাত্রীদের জাহাজ থেকে নেমে যেতে বলা হয়েছে। তবে ১৫টি দেশের নাগরিকদের মধ্যে অধিকাংশই মার্কিন নাগরিক। জাহাজটিতে আরও ১৫৬ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাঁদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
জাহাজটির কিছু যাত্রী জানিয়েছেন, জ্বালানি খরচ ছাড়াও পরিচালনা ও সেবার মান নিয়ে তাঁদের অসন্তোষ ছিল। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ওডিসির বিশ্বভ্রমণসূচি ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। কিন্তু জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক সংকটের কারণে সেই পরিকল্পনা এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যাত্রী, ক্রু ও কর্মীদের সহায়তা এবং ব্যবসা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার দিকে তারা মনোযোগ দিচ্ছে।
জাহাজটিতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য কেবিন কেনার দাম প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার থেকে শুরু হয়েছিল। ফলে যাত্রীদের কাছে এটি কেবল অবকাশযাত্রা নয়, বরং দীর্ঘদিনের বাসস্থানের পরিকল্পনাও ছিল। হঠাৎ যাত্রা স্থগিত হওয়ায় তাঁদের সামনে এখন অস্থায়ী আবাসন ও পরবর্তী ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে তিন শিশুর ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং অবহেলার অভিযোগে এক দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা হয়েছে। জ্যাকসন কাউন্টির শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্তের পর এরিকা লিন সেয়ার, ৪৫, এবং তাঁর স্বামী ক্লিফোর্ড গেইল সেয়ার, ৪৬, ছয়টি করে অভিযোগের মুখে পড়েছেন। শিশুদের ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় শেরিফের ভাষায়, শিশুদের বসবাসের পরিবেশ ছিল ‘ভয়াবহ নির্যাতনের বাড়ি’। তদন্তকারীদের বরাতে জানা গেছে, শিশুদের অভিযোগ অনুযায়ী, বছরের পর বছর তাঁদের মারধর করা, শ্বাসরোধ করার চেষ্টা, খাবার ও পানি থেকে বঞ্চিত করা এবং টয়লেট ব্যবহারে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তদন্তে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, শাস্তি হিসেবে শিশুদের বিছানায় ব্যবহৃত বিড়ালের নোংরা লিটার ফেলে দেওয়া হতো এবং তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রে কুকুরের মল লাগানো হতো। কখনো কখনো পাথরকুচি ছড়ানো রাস্তার ওপর খালি পায়ে দৌড়াতে বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। শিশুদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘরের বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তাঁদের মারধর করা হতো, এতে কারও কারও শরীরে রক্তপাতের মতো আঘাতের সৃষ্টি হয়। তাঁদের নোংরা মোজা মুখে দিতে বাধ্য করা এবং জোর করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শিশু জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক একটি যন্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। এতে রক্তপাত হলেও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। আরেক শিশুকে নির্যাতনের কথা শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষকে জানালে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। শিশুদের মৃত জৈবিক বাবা-মাকে নিয়েও কটূক্তি ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক শিশু আবেগাপ্লুত হয়ে জানায়, সে ওই বাড়িতে আর ফিরতে চায় না। অন্য এক শিশু বছরের পর বছর নির্যাতনের কথা তুলে ধরে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে। শেরিফের কার্যালয়ের অভিযোগ, ক্লিফোর্ড সেয়ার বারবার নির্যাতনের ঘটনা দেখেও তা বন্ধ করার উদ্যোগ নেননি। বরং একটি ঘটনায় তিনি এক শিশুর হাত ধরে রেখেছিলেন, আর এরিকা ক্ষুর দিয়ে তার চুল কাটছিলেন। এতে শিশুটি আহত হয় বলে অভিযোগ। জ্যাকসন কাউন্টির শেরিফ রস মেলিঙ্গারের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, তদন্তকারীরা শিশুদের শরীরে এমন কিছু দাগ পেয়েছেন, যা তাদের বর্ণিত নির্যাতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শিশুদের বক্তব্যের মধ্যেও মিল পাওয়া গেছে। তদন্তে একাধিক সাক্ষাৎকার, চিকিৎসা পরীক্ষা এবং ছবি সংগ্রহের তথ্য উঠে এসেছে। মামলায় এরিকার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের কারণ হওয়া শিশু নির্যাতনের তিনটি এবং আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে এমন শিশু অবহেলার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্লিফোর্ডের বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের কারণ হওয়া শিশু অবহেলার তিনটি এবং আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে এমন শিশু অবহেলার তিনটি অভিযোগ রয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধেই মোট ছয়টি করে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুজনই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এরিকার প্রাথমিক শুনানির তারিখ ২০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্লিফোর্ডের শুনানিও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
হ্যালোইন উৎসবে শিশুদের জন্য নানা আয়োজন, নিউইয়র্কে পরিবার নিয়ে আনন্দের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কম বয়সীদের প্রায় অর্ধেকই থাকছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে, বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়
অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত মার্কিন নাগরিককের তথ্য গোপন করছে বিচার বিভাগ, বাবা মায়ের ক্ষোভ
নিউইয়র্কের কুইন্সে বাঙালি পরিচয়, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশেষ আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। ‘আলাপ—বাঙালি পরিচয় সিরিজ’-এর আওতায় বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজক বাঙালি মেন্টাল হেলথ মুভমেন্ট। অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে জ্যাকসন হাইটসের আপিচা কমিউনিটি হেলথ সেন্টার। প্রকাশিত অনুষ্ঠানতথ্য অনুযায়ী, এতে অংশগ্রহণ বিনা মূল্যে। এবারের আলোচনার শিরোনাম ‘বাট ইউ ডোন্ট লুক বেঙ্গলি?’—বাংলা অর্থ, ‘আপনাকে তো বাঙালি মনে হয় না!’ পরিচয় ও সংস্কৃতি নিয়ে মানুষের প্রচলিত ধারণাকে সামনে রেখেই এই আলোচনার বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। কারও চেহারা, ভাষা, পোশাক, উচ্চারণ কিংবা সাংস্কৃতিক অভ্যাস দেখে তাঁর বাঙালি পরিচয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের ভাবনার সুযোগ তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল বিষয়। বিদেশে বসবাসকারী অনেক বাঙালিকে একাধিক সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়। পরিবারে এক ধরনের ভাষা ও সংস্কৃতি, কর্মক্ষেত্রে অন্য ধরনের পরিবেশ এবং বৃহত্তর সমাজে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে নিজের সাংস্কৃতিক শিকড় ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে বহুসাংস্কৃতিক সমাজে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, ভুল ধারণা কিংবা অন্যের প্রত্যাশার সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার অমিল কখনো অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। আয়োজকদের ‘আলাপ’ উদ্যোগটি বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সংযোগ নিয়ে কথোপকথনের সুযোগ তৈরির সঙ্গে যুক্ত। এ ধরনের আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে, অন্যের কথা শুনতে এবং পরিচয় ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি জানতে পারেন। তবে এই অনুষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা বা পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। অনুষ্ঠানটি নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে আপিচা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিকানা ৮২-১১, ৩৭তম অ্যাভিনিউ, কুইন্স, নিউইয়র্ক। প্রকাশিত তালিকায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো প্রবেশমূল্য উল্লেখ করা হয়নি। আগ্রহীদের অংশগ্রহণের আগে নিবন্ধন, আসনসংখ্যা এবং প্রবেশসংক্রান্ত শর্ত আয়োজকের প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের জন্য পরিচয় ও সংস্কৃতি শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি পরিবার, সামাজিক সম্পর্ক, আত্মপরিচয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের সাংস্কৃতিক বিকাশের সঙ্গেও সম্পর্কিত। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে, ‘আপনাকে তো বাঙালি মনে হয় না’—এমন একটি সাধারণ মন্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ নিয়ে আলোচনা করার এই আয়োজন কমিউনিটির মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।
নির্বাচনে হারের পর ব্রাজিল ছাড়লেন ফ্লাভিও বলসোনারো, পরিবার নিয়ে পৌঁছালেন মায়ামিতে
হঠাৎ জ্বালানি তেলের ব্যয়ে ৩ বছরের বিশ্বভ্রমণ স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুস জাহাজ! অনিশ্চয়তায় ২০৩ যাত্রী
বিটিভির বিতর্কমঞ্চ থেকে হার্ভার্ড: বাংলাদেশের রেবেকা শাফির বিস্ময়কর সাফল্যযাত্রা
নুরুল্লাহ সাঈদ । আমেরিকা বাংলা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বেড়ে ওঠা এক তরুণী এখন মহাবিশ্বের আদি গ্যালাক্সি, নক্ষত্রের জন্ম এবং ছায়াপথের বিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণায় যুক্ত। তিনি লামিয়া মওলা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজের জ্যোতির্বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক এই বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানী জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তথ্য ব্যবহার করে প্রাচীন মহাবিশ্বের একটি নবীন গ্যালাক্সি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন। ২০২৪ সালে তাঁর সহলেখকত্বে প্রকাশিত গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে স্থান পায়। বর্তমানে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপকে ঘিরে নতুন বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানেও তাঁর আগ্রহ ও সম্পৃক্ততা রয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষাজীবন ও অভিজ্ঞতা থেকে আন্তর্জাতিক গবেষণায় পৌঁছানোর এই পথচলা তাঁকে বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত করে তুলেছে। ঢাকার আকাশ থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথে লামিয়া মওলার জীবনের গল্পের একটি বিশেষ দিক হলো, ছোটবেলায় আকাশের তারা দেখা তাঁর নিয়মিত অভিজ্ঞতা ছিল না। ওয়েলেসলি কলেজের ২০২৬ সালের একটি ফিচারে তিনি জানিয়েছেন, ঢাকায় বেড়ে ওঠার সময় শহরের ধোঁয়া ও কৃত্রিম আলোর কারণে আকাশে তারা দেখার স্মৃতি তাঁর খুব একটা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়তে যাওয়ার পর তাঁর সামনে খুলে যায় এক নতুন জগৎ। ওয়েলেসলি কলেজের পর্যবেক্ষণাগারে টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাকাশ দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট করে। মজার বিষয় হলো, কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় তাঁর পরিকল্পনা ছিল স্নায়ুবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার। কিন্তু প্রথম সেমিস্টারে স্নায়ুবিজ্ঞানের একটি প্রাথমিক কোর্সে ভর্তি হতে না পেরে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি ক্লাসে অংশ নেন। নক্ষত্রের জীবনচক্র, সুপারনোভা এবং কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে জানার পর বিষয়টির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহই ধীরে ধীরে তাঁর শিক্ষাজীবনের গতিপথ বদলে দেয়। পরে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের গবেষণায় মনোনিবেশ করেন এবং পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণাকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন। ওয়েলেসলি কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করার পর লামিয়া ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করেন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ওয়েলেসলি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ে গ্যালাক্সির গঠন ও বিবর্তন। এ জন্য তিনি হাবল ও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ এবং মহাজাগতিক সিমুলেশন ব্যবহার করেন। ফায়ারফ্লাই স্পার্কল: মহাবিশ্বের শৈশবের এক ঝলক লামিয়া মওলার গবেষণাকর্মের আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি হলো ‘ফায়ারফ্লাই স্পার্কল’ নামের একটি নবীন গ্যালাক্সি। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে তিনি সহপ্রধান লেখক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। নাসা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং কানাডীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তথ্য ব্যবহার করে গবেষকেরা গ্যালাক্সিটির গঠন ও তারাগুচ্ছগুলো বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায়, ফায়ারফ্লাই স্পার্কল এমন এক সময়ের গ্যালাক্সি, যখন বিগ ব্যাংয়ের পর মহাবিশ্বের বয়স ছিল আনুমানিক ৬০ কোটি বছর। অর্থাৎ, আজকের মহাবিশ্বের তুলনায় এটি অত্যন্ত প্রাচীন এক সময়ের দৃশ্য তুলে ধরে। গ্যালাক্সিটিতে ১০টি ঘন তারাগুচ্ছ শনাক্ত করা হয়, যেগুলোর বৈশিষ্ট্য গবেষকেরা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেন। গ্যালাক্সিটির ভরও এমন পর্যায়ের ছিল, যা একই বয়সে আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সম্ভাব্য ভরের সঙ্গে তুলনীয়। এই আবিষ্কারের গুরুত্ব বোঝার জন্য মনে রাখতে হবে, দূরবর্তী গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ মানে আসলে অতীতের দিকে তাকানো। আলো আমাদের কাছে পৌঁছাতে সময় নেয়। তাই বহু কোটি আলোকবর্ষ দূরের কোনো গ্যালাক্সির আলো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের অতীতের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন। ফায়ারফ্লাই স্পার্কলের মতো গ্যালাক্সি গবেষকদের দেখার সুযোগ দেয়, মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট ছোট তারাগুচ্ছ কীভাবে একত্রিত হচ্ছিল এবং সময়ের সঙ্গে গ্যালাক্সি কীভাবে বিকশিত হতে পারে। গবেষণাটিতে লামিয়া ও তাঁর সহকর্মীরা গ্যালাক্সিটির বিভিন্ন অংশ আলাদাভাবে শনাক্ত করে বিশ্লেষণ করেন। এত প্রাচীন একটি গ্যালাক্সিকে একাধিক স্বতন্ত্র তারাগুচ্ছের সমন্বয়ে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হওয়া বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে গ্যালাক্সি গঠনের প্রাথমিক পর্যায় সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। তবে এই একটি গবেষণাই মিল্কিওয়ের জন্ম ও বিবর্তনের সব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। বরং এটি মহাবিশ্বের প্রাথমিক ইতিহাস বোঝার জন্য নতুন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করেছে। জেমস ওয়েবের তথ্য থেকে নতুন সম্ভাবনা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও প্রাচীন বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর শক্তিশালী ইনফ্রারেড যন্ত্রের সাহায্যে এমন সব গ্যালাক্সি দেখা সম্ভব হচ্ছে, যেগুলো থেকে আসা আলো মহাবিশ্বের প্রসারণের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তরঙ্গদৈর্ঘ্যে পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ের গ্যালাক্সি, নক্ষত্রের জন্ম এবং গ্যালাক্সির বিবর্তন নিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন তথ্য পাচ্ছেন। লামিয়া মওলার গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি শুধু দূরবর্তী গ্যালাক্সির ছবি বিশ্লেষণ করেন না; সেই ছবির মধ্যে থাকা বিভিন্ন কাঠামোর ভৌত বৈশিষ্ট্য বোঝার চেষ্টা করেন। একটি গ্যালাক্সির ভর, তারাগুচ্ছের বিন্যাস এবং নক্ষত্র গঠনের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা অনুমান করতে পারেন, প্রাথমিক মহাবিশ্বে গ্যালাক্সি কীভাবে বেড়ে উঠেছিল। এসব পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে বিদ্যমান তাত্ত্বিক মডেল পরীক্ষা করতেও সাহায্য করে। ফায়ারফ্লাই স্পার্কল নিয়ে গবেষণা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানজগতে আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এই গবেষণার গুরুত্ব শুধু একটি নতুন গ্যালাক্সি শনাক্ত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেখায়, উন্নত টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাবিশ্বের প্রাচীনতম পর্যায়ের বস্তুগুলোকে আরও বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি গ্যালাক্সি বিশ্লেষণ করা গেলে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন, ফায়ারফ্লাই স্পার্কলের মতো গ্যালাক্সি কতটা সাধারণ ছিল এবং সেগুলো কীভাবে পরবর্তী সময়ের বৃহৎ ছায়াপথে পরিণত হয়েছে। রোমান স্পেস টেলিস্কোপ নিয়ে নতুন প্রত্যাশা মহাবিশ্ব গবেষণার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। নাসার এই পর্যবেক্ষণাগারটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে একবারে আকাশের অনেক বড় অংশ পর্যবেক্ষণ করা যায়। এর ওয়াইড ফিল্ড ইনস্ট্রুমেন্ট হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় অন্তত ১০০ গুণ বড় আকাশের এলাকা দেখতে সক্ষম। এর ফলে বিশাল পরিসরে গ্যালাক্সি, গ্রহ এবং মহাবিশ্বের গঠন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। রোমান স্পেস টেলিস্কোপ ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর থেকে মহাকাশযানটির যন্ত্রপাতি পরীক্ষা, ক্যালিব্রেশন এবং পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি চলছে। নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, টেলিস্কোপটির প্রথম ছবি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে প্রকাশের প্রত্যাশা রয়েছে। ফলে এখনো এর পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের ফলাফল সামনে আসেনি। লামিয়া মওলা তাঁর পেশাগত যোগাযোগমাধ্যমে রোমান টেলিস্কোপের প্রথম ছবিগুলো বিশ্লেষণকারী গবেষকদের একজন হতে পারার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁর নির্দিষ্ট গবেষণার ভূমিকা এবং কোন পর্যবেক্ষণ প্রকল্পে তিনি কাজ করবেন, সে সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়া জরুরি। রোমান মিশন নাসার একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ; একে কোনো একজন গবেষকের ব্যক্তিগত প্রকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রোমান টেলিস্কোপের বড় সুবিধা হলো, এটি অল্প সময়ে আকাশের বিশাল অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি মহাজাগতিক বস্তুর তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে। বিজ্ঞানীরা এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে অন্ধকার শক্তি, গ্যালাক্সির গঠন, বহির্গ্রহ এবং মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে নতুন প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন। লামিয়ার মতো পর্যবেক্ষণভিত্তিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য এ ধরনের তথ্য ভবিষ্যতের গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার সুযোগ লামিয়া মওলার পরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর গবেষণাগত সংযোগ। তিনি বাংলাদেশের ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসের সহযোগী সদস্য। ২০২৪ সালে ফায়ারফ্লাই স্পার্কল নিয়ে গবেষণা প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁর অবদান তুলে ধরে। এই সংযোগ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে আগ্রহ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান এখন আর শুধু বড় টেলিস্কোপের মাধ্যমে ছবি তোলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জটিল গাণিতিক বিশ্লেষণ, কম্পিউটার সিমুলেশন, বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং আন্তর্জাতিক গবেষক দলের সহযোগিতা। ফলে পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও পরিসংখ্যানের শিক্ষার্থীদের জন্যও এই ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে মহাবিশ্বের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন ধারণা তৈরি করা এখন গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণার সুযোগ বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণের দক্ষতা তৈরি করা এই ক্ষেত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। লামিয়া মওলার পথচলা দেখায়, একজন শিক্ষার্থী আগ্রহ ও উপযুক্ত সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণায় অবদান রাখতে পারেন। তাঁর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সামনে জ্যোতির্বিজ্ঞানকে পেশা হিসেবে বিবেচনা করার একটি বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরে। সাফল্যের গল্পের আড়ালে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সাফল্য সাধারণত একদিনে আসে না। এর পেছনে থাকে দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, গবেষণার পদ্ধতি শেখা, তথ্য বিশ্লেষণের দক্ষতা তৈরি এবং সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা। লামিয়া মওলার ক্ষেত্রেও তাঁর স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি, পর্যবেক্ষণাগারে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী গবেষণার ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর গল্পের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি শুরু থেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানকে নিজের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেননি। কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় স্নায়ুবিজ্ঞানে আগ্রহী থাকা একজন শিক্ষার্থী পরে জ্যোতির্বিজ্ঞানে নিজের পথ খুঁজে পান। নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, প্রশ্ন করা এবং আগ্রহের জায়গা আবিষ্কার করার এই অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা একজন গবেষক হিসেবে লামিয়া মওলার আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক অবদান গর্বের বিষয়। তবে তাঁর সাফল্যের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হলে শুধু নামী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নয়, গবেষণায় তাঁর নির্দিষ্ট অবদানও তুলে ধরা দরকার। ফায়ারফ্লাই স্পার্কল নিয়ে গবেষণায় তাঁর ভূমিকা, জেমস ওয়েবের তথ্য ব্যবহার এবং গ্যালাক্সির গঠন ও বিবর্তন বোঝার প্রচেষ্টা তাঁর কাজের বাস্তব গুরুত্ব তুলে ধরে। ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবন থেকে মহাবিশ্বের প্রাচীন গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণা, লামিয়া মওলার এই যাত্রা বাংলাদেশের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। তাঁর কাজ মনে করিয়ে দেয়, বিজ্ঞান এগিয়ে যায় কৌতূহল, প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান এবং নতুন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্য দিয়ে। মহাবিশ্বের শৈশৎকালীন গ্যালাক্সি নিয়ে তাঁর গবেষণা যেমন আমাদের অতীতকে বুঝতে সাহায্য করছে, তেমনি রোমান স্পেস টেলিস্কোপের মতো নতুন পর্যবেক্ষণাগার ভবিষ্যতে আরও অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সুযোগ তৈরি করবে। সেই বৈজ্ঞানিক যাত্রায় বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা একজন গবেষকের অবদান দেশের তরুণ প্রজন্মকে নতুন সম্ভাবনার কথা ভাবতে উৎসাহিত করতে পারে।
অভিবাসন অভিযান ঘিরে উদ্বেগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা চাইছে সংগঠনগুলো
যুক্তরাষ্ট্রে ঘড়ির কাঁটা বদলের সময় ঘনিয়ে আসছে, আইন পাসে সিনেটকে ফের তাগিদ দিলেন ট্রাম্প