সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বিটিভির বিতর্কমঞ্চ থেকে হার্ভার্ড: বাংলাদেশের রেবেকা শাফির বিস্ময়কর সাফল্যযাত্রা

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১০:৫৮
বিটিভির সাবেক বিতর্কিক রেবেকা শাফি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক গবেষণাজগতের পরিচিত মুখ। ছবি: সংগৃহীত
বিটিভির সাবেক বিতর্কিক রেবেকা শাফি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক গবেষণাজগতের পরিচিত মুখ। ছবি: সংগৃহীত

নুরুল্লাহ সাঈদ । আমেরিকা বাংলা

 

বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিতর্কমঞ্চে কিশোরী বয়সে যুক্তি ও বাগ্মিতার পরিচয় দেওয়া রেবেকা শাফি আজ যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক গবেষণাজগতের একজন পরিচিত গবেষক। বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই গবেষক ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন নিয়ে গবেষণার মধ্য দিয়ে তাঁর বৈজ্ঞানিক কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। পরে তিনি গবেষণার ক্ষেত্র বিস্তৃত করে মানুষের মস্তিষ্কের গঠন, স্নায়ুবিজ্ঞান ও জিনতত্ত্বের দিকে এগিয়ে যান। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর এই পথচলা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য জ্ঞানচর্চা, অধ্যবসায় ও নতুন বিষয় অনুসন্ধানের এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।

 

রেবেকার গল্পের শুরু বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জাতীয় স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সেরা বক্তার স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি। কৈশোরে বিতর্কের মঞ্চে তাঁর বক্তব্য ও উপস্থাপনা দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। বহু বছর পর সেই সময়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। অনেকেই জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, একসময় টেলিভিশনের পর্দায় দেখা সেই কিশোরী এখন কোথায়, কী করছেন। তবে তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য দিক শুধু সেই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সাফল্য নয়, বরং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞান গবেষণায় যুক্ত হওয়ার দীর্ঘ যাত্রা।

 

রেবেকার নিজের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই বেড়ে উঠেছেন। তাঁর শিক্ষাজীবনের একটি ব্যতিক্রমী দিক হলো, তিনি বাংলাদেশের এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষাক্রমের পাশাপাশি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ও-লেভেল ও এ-লেভেল পরীক্ষাও একই সময়ে সম্পন্ন করেন। দুটি শিক্ষাব্যবস্থার পড়াশোনা সামলানোর এই অভিজ্ঞতা তাঁর প্রাথমিক শিক্ষাজীবনকে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য করে তুলেছে। তবে তাঁর সাফল্যের পেছনে শুধু একাধিক শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করার বিষয়টিই নয়, বরং দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের আগ্রহ এবং কঠিন বিষয় শেখার মানসিকতাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

 

উচ্চশিক্ষার জন্য রেবেকা পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। তাঁর গন্তব্য ছিল ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, যা বিশ্বজুড়ে ক্যালটেক নামে পরিচিত। ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠান পদার্থবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণায় আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনা করে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এই পর্যায়ে তাঁর বৈজ্ঞানিক শিক্ষার ভিত্তি তৈরি হয়, যা পরবর্তী সময়ে মহাবিশ্বের জটিলতম বিষয়গুলোর একটি কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণায় কাজে আসে। ক্যালটেক থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি আরও উচ্চতর গবেষণার জন্য বোস্টনে যান।

 

রেবেকার পরবর্তী গন্তব্য ছিল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত হন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন পরিমাপ। কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্বের এমন এক অঞ্চল, যার মহাকর্ষ এত প্রবল যে নির্দিষ্ট সীমার ভেতর থেকে আলোও বেরিয়ে আসতে পারে না। এর ভর, ঘূর্ণন এবং আশপাশের পদার্থের আচরণ সম্পর্কে ধারণা পেতে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও গাণিতিক মডেল ব্যবহার করেন। রেবেকার গবেষণাও এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের অংশ ছিল। হার্ভার্ডের গবেষণা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর পিএইচডি অভিসন্দর্ভের শিরোনাম ছিল ‘মেজারিং ব্ল্যাক হোল স্পিন’। ২০০৯ সালে তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

 

কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন নিয়ে গবেষণা কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে হলে মহাবিশ্বের এই রহস্যময় বস্তুগুলোর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার। কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন আশপাশের পদার্থের গতিবিধি এবং সেখান থেকে নির্গত বিকিরণের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকেরা কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে ঘূর্ণায়মান উত্তপ্ত পদার্থ থেকে নির্গত এক্স-রে বিশ্লেষণ করে এর ঘূর্ণন সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। রেবেকা শাফির পিএইচডি গবেষণায় এ ধরনের পরিমাপের পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে কাজ করা হয়। তাঁর গবেষণার সঙ্গে হার্ভার্ডের অধ্যাপক রমেশ নারায়ণ ও জেফ্রি ম্যাকক্লিনটকের নাম যুক্ত ছিল।

 

হার্ভার্ডে তাঁর গবেষণার স্বীকৃতিও আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর থিওরি অ্যান্ড কম্পিউটেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে তাত্ত্বিক জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে সেরা পিএইচডি অভিসন্দর্ভের জন্য প্রদত্ত এরিক আর. কেটো পুরস্কার যৌথভাবে পান রেবেকা শাফি ও ম্যাট ম্যাককুইন। রেবেকার অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন পরিমাপ। এই স্বীকৃতি তাঁর গবেষণাকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি একটি গবেষণাক্ষেত্রে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের দিকে এগিয়ে যান।

 

পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জনের পর রেবেকা গবেষণার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন স্নায়ুবিজ্ঞান। পরে তিনি মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যকারিতার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে কাজ শুরু করেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মস্তিষ্কবিষয়ক গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত থাকার পর তিনি ব্রড ইনস্টিটিউট অব এমআইটি অ্যান্ড হার্ভার্ডে জিনতত্ত্বভিত্তিক গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তাঁর এই পরিবর্তন দেখায়, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের আগ্রহ একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয় না। পদার্থবিজ্ঞানে অর্জিত গাণিতিক বিশ্লেষণ, জটিল তথ্য ব্যাখ্যা এবং বৈজ্ঞানিক মডেল ব্যবহারের দক্ষতা অন্য গবেষণাক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে।

 

বর্তমানে রেবেকা শাফি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের সেকশন অন ডেভেলপমেন্টাল নিউরোজিনোমিকসে গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর গবেষণার মূল আগ্রহের মধ্যে রয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যকারিতার সঙ্গে জিনগত বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক বোঝা। মানুষের মস্তিষ্কের গঠন কেন ব্যক্তি ভেদে আলাদা হয়, জিনগত বৈচিত্র্য এসব পার্থক্যের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত এবং নির্দিষ্ট কিছু স্নায়বিক ও মানসিক রোগের ঝুঁকির পেছনে কী ধরনের জৈবিক বৈশিষ্ট্য ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে আধুনিক বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন। রেবেকার কাজও এই বিস্তৃত গবেষণাক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত।

 

২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘নেচার কমিউনিকেশন্স’ সাময়িকীর একটি গবেষণাপত্রে সহলেখক হিসেবে যুক্ত ছিলেন রেবেকা শাফি। গবেষণাটিতে মানুষের মস্তিষ্কের গঠনসংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যের জিনগত ভিত্তি এবং নারী ও পুরুষের মধ্যে এসব জিনগত সম্পর্কের সম্ভাব্য পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়। এ ধরনের গবেষণায় বৃহৎ জিনগত তথ্যভান্ডার, মস্তিষ্কের চিত্র এবং পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জৈবিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করা হয়। গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে নতুন অনুসন্ধানের পথ তৈরি করতে পারে, যদিও কোনো একটি গবেষণার ফলাফলকে সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

 

রেবেকার জীবনযাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি গবেষণার বিষয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রেখেছেন। কৃষ্ণগহ্বরের মতো মহাজাগতিক বস্তু থেকে মানুষের মস্তিষ্কের জিনগত বৈশিষ্ট্য, এই দুই ক্ষেত্রের মধ্যে বিষয়গত পার্থক্য অনেক। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই জটিল তথ্য বিশ্লেষণ, প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অজানা বিষয় সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর কর্মজীবন দেখায়, একজন গবেষক নতুন বিষয় শেখার মাধ্যমে নিজের জ্ঞানের পরিসর বাড়াতে পারেন এবং পূর্বের অভিজ্ঞতাকে নতুন ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারেন।

 

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য রেবেকা শাফির গল্পের গুরুত্ব এখানেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণায় যুক্ত হতে হলে কেবল একটি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, মৌলিক বিষয়ের ওপর দক্ষতা, গবেষণার সুযোগ এবং কঠিন সমস্যার সমাধানে ধৈর্য ধরে কাজ করার মানসিকতা। একই সঙ্গে তাঁর যাত্রা মনে করিয়ে দেয়, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও দক্ষতা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। কেউ পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে শুরু করে পরবর্তী সময়ে জীববিজ্ঞান বা স্নায়ুবিজ্ঞানে কাজ করতে পারেন। জ্ঞানচর্চার এই আন্তবিষয়ক পথ আধুনিক বিজ্ঞানে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

বিটিভির বিতর্কমঞ্চ থেকে ক্যালটেক, হার্ভার্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত রেবেকা শাফির পথচলা তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে বেড়ে ওঠা একজন মানুষের আন্তর্জাতিক গবেষণায় যুক্ত হওয়ার বাস্তব উদাহরণ। তাঁর অর্জনকে অতিরঞ্জিত না করেও বলা যায়, পদার্থবিজ্ঞান থেকে স্নায়ুবিজ্ঞান ও জিনতত্ত্বে বিস্তৃত এই গবেষণাযাত্রা তরুণদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়। যে কিশোরী একসময় বিতর্কের মঞ্চে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন, তিনি পরবর্তী জীবনে বিজ্ঞানের জটিল প্রশ্ন নিয়ে কাজ করার পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁর এই যাত্রার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হলো, জানার আগ্রহকে ধরে রেখে নতুন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে থাকা এবং শেখার জন্য নিজের দিগন্তকে বারবার প্রসারিত করা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারের পর ব্রাজিলের ডানপন্থী নেতা ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে পৌঁছেছেন। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনে হারের পর ব্রাজিল ছাড়লেন ফ্লাভিও বলসোনারো, পরিবার নিয়ে পৌঁছালেন মায়ামিতে

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামিতে পৌঁছেছেন ডানপন্থী নেতা ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি সেখানে পৌঁছান। অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্তের মধ্যে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর দেশ ছাড়ার ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা না দিয়ে তিনি ভোটের ফল বাতিলের দাবিও তুলেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার তাঁর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আর্জেন্টিনার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ফ্লাভিও তাঁর স্ত্রী ফার্নান্দা আন্তুনেস ফিগেইরা বলসোনারো এবং দুই মেয়ে ক্যারোলিনা ও লুইজাকে নিয়ে ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা একটি বেসরকারি উড়োজাহাজে ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিলে যান। সেখান থেকে উড়োজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার উদ্দেশে রওনা হয়। বুধবার সকালে মায়ামির কাছে ওপা-লক্কা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণ করে।   ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েস ফ্লাভিওকে মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে তাঁর সাধারণ ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অর্থপাচারের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ফ্লাভিও সেই নির্দেশ পালন করেছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো অপরাধের কথা স্বীকার করেননি।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে আসার বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। ট্রাম্প এর আগে ফ্লাভিওর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করেছিলেন।   ফ্লাভিওর বাবা ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোও ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হারের পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ব্রাজিলে ফিরে আসেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে জাইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় সাজা ভোগ করছেন।   এদিকে নির্বাচনে জয়ী লুলা ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ব্রাজিলে থেকেই ফ্লাভিওর উচিত ছিল নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়া। অন্যদিকে ফ্লাভিওর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জানিয়েছেন, তিনি পরিবারের সঙ্গে নিরাপদে আছেন।   ফ্লাভিওর দেশত্যাগ ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। নির্বাচনের ফল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত নিয়ে সামনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা এখন দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১১:২৭
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কম্বোডিয়ায় বিশ্বভ্রমণ স্থগিত করেছে মার্কিন ক্রুজ জাহাজ এমভি ওডিসি। ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ জ্বালানি তেলের ব্যয়ে ৩ বছরের বিশ্বভ্রমণ স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুস জাহাজ! অনিশ্চয়তায় ২০৩ যাত্রী

বিটিভির সাবেক বিতর্কিক রেবেকা শাফি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক গবেষণাজগতের পরিচিত মুখ। ছবি: সংগৃহীত

বিটিভির বিতর্কমঞ্চ থেকে হার্ভার্ড: বাংলাদেশের রেবেকা শাফির বিস্ময়কর সাফল্যযাত্রা

ঢাকার মেয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজের জ্যোতির্বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. লামিয়া মওলা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মহাবিশ্বের গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা থেকে মহাবিশ্বের গভীরে: বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা লামিয়া মওলার জ্যোতির্বিজ্ঞানে অসাধারণ অগ্রযাত্রা

ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা চাইছে সংগঠনগুলো
অভিবাসন অভিযান ঘিরে উদ্বেগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা চাইছে সংগঠনগুলো

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান ঘিরে অভিবাসী পরিবারগুলোর উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে জরুরি আর্থিক সহায়তা, আইনি সুরক্ষা এবং সমন্বিত সরকারি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার সংগঠন। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো রাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অন্যান্য নির্বাচিত কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়।   সংগঠনগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসনবিষয়ক ফেডারেল অভিযান নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক পরিবার দৈনন্দিন কাজকর্ম, কর্মস্থলে যাতায়াত, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় সরকারি ও সামাজিক সেবা গ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। তবে এসব উদ্বেগের ব্যাপ্তি সম্পর্কে রাজ্যজুড়ে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান ওই বিবৃতিতে দেওয়া হয়নি।   স্যাক্রামেন্টো, সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় অঞ্চল, লস অ্যাঞ্জেলেস, সান দিয়েগো, মধ্য উপকূল এবং মধ্য উপত্যকার বিভিন্ন সংগঠন এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে। তাদের দাবি, অভিবাসন অভিযানে কোনো পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য আটক হলে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া, খাবার, শিশুদের দেখাশোনা এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।   সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা চালুর পাশাপাশি আইনি অধিকার সম্পর্কে সহজবোধ্য তথ্য সরবরাহের দাবি জানিয়েছে। ইংরেজিতে সীমিত দক্ষতা রয়েছে এমন পরিবারগুলোর জন্য বিভিন্ন ভাষায় নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, অভিবাসনসংক্রান্ত কোনো অভিযান বা আটকের পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো যেন দ্রুত আইনি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবার সন্ধান পায়, সে জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো দরকার।   এ ছাড়া স্থানীয় নগর পরিষদ ও কাউন্টি প্রশাসনগুলোর প্রতি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি এবং অভিবাসীদের সহায়তায় কাজ করা সংগঠনগুলোর জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য বা উদ্বেগ প্রকাশ যথেষ্ট নয়; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।   এই দাবি এমন সময় সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে অভিবাসননীতি রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, অভিবাসন অভিযান নিয়ে ভীতি ও অনিশ্চয়তা কিছু মানুষের জনজীবনে অংশগ্রহণ এবং ভোটসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে। এটি সংগঠনগুলোর বক্তব্য; এর প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণে আরও তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৯:৪৮
ঘড়ির সময় পরিবর্তন বন্ধে সিনেটকে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে ঘড়ির কাঁটা বদলের সময় ঘনিয়ে আসছে, আইন পাসে সিনেটকে ফের তাগিদ দিলেন ট্রাম্প

ভোটের অভিযোগে আইনি জটিলতায় নিউইয়র্কের মারভা কুক

নাগরিকত্ব নেই জানতেন না নিউইয়র্কের নারী, ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোট দেওয়ায় ফৌজদারি অভিযোগ

অভিবাসন নীতির পরিবর্তনে স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে উদ্বেগ

চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা, আমেরিকায় স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা হারানোর ঝুঁকি

সেন্ট্রাল পার্কে ম্যারাথনের শেষ মুহূর্ত দেখার বিশেষ সুযোগ
১ নভেম্বর নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথন, সেন্ট্রাল পার্কে দর্শকদের জন্য ৩৫০ বিনামূল্যের টিকিট

উইয়র্ক সিটির জনপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজন টিসিএস নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনের শেষ মুহূর্তগুলো সরাসরি দেখার সুযোগ করে দিতে ৩৫০টি বিনামূল্যের টিকিট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নগর প্রশাসন। এসব টিকিটের মাধ্যমে নির্বাচিত দর্শকেরা সেন্ট্রাল পার্কে ফিনিশিং লাইনের শেষ ২০০ মিটার অংশের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে বসে দৌড়বিদদের প্রতিযোগিতা শেষ করার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারবেন। গত ২২ অক্টোবর মেয়র জোহরান মামদানির কার্যালয় এ উদ্যোগের কথা জানায়।   এ বছরের নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১ নভেম্বর, রোববার। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবার প্রায় ৬০ হাজার দৌড়বিদ এতে অংশ নেবেন। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ভেরাজানো-ন্যারোজ ব্রিজ থেকে শুরু হয়ে প্রতিযোগীরা নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো অতিক্রম করে ২৬ দশমিক ২ মাইল পথ পাড়ি দেবেন। তাঁদের গন্তব্য সেন্ট্রাল পার্কের ফিনিশিং লাইন। ম্যারাথন ঘিরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দুই মিলিয়নেরও বেশি দর্শক ও সমর্থকের সমাগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে দৌড়বিদদের লক্ষ্যপূরণের মুহূর্ত দেখতে প্রতিবছরই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ থাকে। এবার বিনামূল্যের টিকিটের উদ্যোগের ফলে নির্বাচিত দর্শকেরা গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে বসে কাছ থেকে সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির পর দৌড়বিদেরা পাঁচটি বরো পেরিয়ে ফিনিশিং লাইনের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় দর্শকদের উপস্থিতি তাঁদের উৎসাহ জোগায় এবং প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তোলে। বিনামূল্যে টিকিট দেওয়ার উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো আরও বেশি নিউইয়র্কবাসীকে এই বড় ক্রীড়া আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং খেলাধুলা উপভোগের সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া। টিকিট পেতে আগ্রহীদের অনলাইনে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। আবেদনের শেষ সময় ছিল ২৬ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। নিউইয়র্ক রোড রানার্সের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে লটারির মাধ্যমে টিকিটপ্রাপ্তদের বেছে নেওয়ার কথা জানানো হয়। আবেদনকারীদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। নির্বাচিত প্রত্যেকে সর্বোচ্চ দুটি টিকিট পেতে পারেন। দ্বিতীয় টিকিটটি যেকোনো বয়সের নিউইয়র্কবাসী ব্যবহার করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। নিউইয়র্ক রোড রানার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রব সিমেলখায়ার বলেন, ম্যারাথন নগরীর পরিচয়, কমিউনিটির সংহতি এবং মানুষের দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন। পাঁচটি বরো নিয়ে ম্যারাথন আয়োজনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিটি প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ আরও বেশি মানুষকে ফিনিশিং লাইনের আবেগঘন মুহূর্ত সরাসরি উপভোগের সুযোগ দেবে। গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে বসে ম্যারাথনের সমাপ্তি দেখার টিকিটের সাধারণ মূল্য শুরু হয় ৫৫ ডলার থেকে। ফলে বিনামূল্যের টিকিট পাওয়া দর্শকেরা কোনো টিকিটমূল্য ছাড়াই প্রতিযোগিতার শেষ অংশ দেখার সুযোগ পাবেন। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, বড় ক্রীড়া আয়োজনকে সাধারণ মানুষের আরও নাগালে নিয়ে আসার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ এই উদ্যোগ। এ পরিকল্পনার আওতায় বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচের জন্য সাশ্রয়ী টিকিটের সুযোগ, ২০২৬ সালের ইউএসএ ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড আউটডোর ও প্যারা ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে বিনামূল্যের টিকিট এবং গথাম এফসি নারী ফুটবল দলের ম্যাচে ১৫ ডলারের টিকিটের উদ্যোগও রয়েছে। এ ছাড়া গ্রীষ্মকালে বাস্কেটবল কোর্ট, সকার মাঠ ও অন্যান্য ক্রীড়াক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার হাজার ঘণ্টা খেলার সুযোগ তৈরির কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিক্সের প্লে-অফ ম্যাচ বিনামূল্যে দেখানো, চ্যাম্পিয়নশিপ উদ্‌যাপনে বিনামূল্যের টিকিট দেওয়া এবং পাঁচটি বরোতে বিশ্বকাপ ফ্যান ফেস্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও এর অন্তর্ভুক্ত। সিটি প্রশাসনের লক্ষ্য, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নিউইয়র্কবাসীর জন্য খেলাধুলায় অংশ নেওয়া এবং বড় ক্রীড়া আয়োজন উপভোগের সুযোগ বাড়ানো। নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনের ফিনিশিং লাইনে বিনামূল্যে দর্শক প্রবেশের এই ব্যবস্থাও সেই পরিকল্পনার অংশ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৭:১৮
ভোটার তদন্ত ঘিরে নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটিতে উদ্বেগ

ভোটার জালিয়াতির তদন্তে বাড়ি বাড়ি ফেডারেল এজেন্ট, নিউইয়র্কে অভিবাসীদের উদ্বেগ

ট্রাম্প পরিবারের মুনাফা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হিলারি

ট্রাম্প পরিবারের প্রেসিডেন্সিকাল মুনাফায় ১৩ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তা সম্ভব, দাবি হিলারি ক্লিনটনের

অভিবাসীদের নির্বাসন মামলা সাময়িক স্থগিতের ক্ষমতা পুনর্বহালের আবেদন নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাসন মামলা স্থগিতের সুযোগ বন্ধই থাকছে

0 Comments