সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কম বয়সীদের প্রায় অর্ধেকই থাকছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে, বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১২:২১
মূল্যস্ফীতি ও আবাসন ব্যয়ের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪৯ শতাংশ তরুণ-তরুণী বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন। ছবি: সংগৃহীত
মূল্যস্ফীতি ও আবাসন ব্যয়ের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪৯ শতাংশ তরুণ-তরুণী বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি, বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয়ের চাপের মধ্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করছেন ৩০ বছরের কম বয়সী প্রায় অর্ধেক তরুণ-তরুণী। ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ পারিবারিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে এই বয়সী ৪৯ শতাংশ তরুণ-তরুণী বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন। ২০১৯ সালে করোনা মহামারির আগে এ হার ছিল ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ ছয় বছরে হার বেড়েছে ১২ শতাংশ পয়েন্ট।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ১১অ্যালাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা তরুণদের স্বাধীনভাবে বসবাসের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাড়িভাড়া, বাড়ি কেনার উচ্চ সুদের হার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং জ্বালানির ব্যয় সামলাতে গিয়ে অনেক তরুণ পরিবার ছেড়ে আলাদা বাসায় উঠতে পারছেন না।

 

ফেডারেল রিজার্ভের জরিপ অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাসকারী ৩০ বছরের কম বয়সীদের হার বেড়েছে ৬ শতাংশ পয়েন্ট। এর অর্থ, মহামারির পরও তরুণদের আবাসনসংকট পুরোপুরি কাটেনি। বরং বাড়তি ব্যয় ও আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে পরিবারের সঙ্গে থাকার প্রবণতা আরও বেড়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে বসবাস শুরু করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি আবাসন ব্যয়। অনেক শহরে বাসাভাড়া ও বাড়ি কেনার খরচ তরুণদের আয়ের তুলনায় বেশি। এর সঙ্গে মর্টগেজের উচ্চ সুদের হার যুক্ত হওয়ায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে চাকরি বা পড়াশোনা শেষ করার পরও অনেককে বাবা-মায়ের বাসায় থাকতে হচ্ছে।

 

শুধু আবাসন নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও তরুণদের বাজেটে চাপ তৈরি করছে। বাজারসদাই, গ্যাস ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আলাদা বাসায় থাকা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং সঞ্চয় গড়ে তোলা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে চাকরি পাওয়া ও ধরে রাখার অনিশ্চয়তা তরুণদের আর্থিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

 

ফেডারেল রিজার্ভের ২০২৫ সালের জরিপে তরুণদের আর্থিক অবস্থার অবনতির বিষয়টিও উঠে এসেছে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, গত ১২ মাসে পরিবারের বাইরের কারও কাছ থেকে কোনো না কোনো খরচ মেটাতে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। এই সহায়তা দৈনন্দিন বিল, ফোনের খরচ কিংবা অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে কাজে লেগেছে।

 

তবে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাসের অর্থ এই নয় যে সব তরুণই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। কেউ কেউ পড়াশোনা শেষ করা, ঋণ পরিশোধ কিংবা ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে পরিবারের সঙ্গে থাকছেন। কিন্তু বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় ও চাকরির বাজারের চাপ অনেকের জন্য এই ব্যবস্থাকে পছন্দের বদলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তে পরিণত করেছে।

 

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ব্যয় ও তরুণদের আর্থিক স্বাধীনতার বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে নিজের বাসায় থাকা একসময় প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের স্বাভাবিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য অর্জনে অনেক বেশি সময় লাগছে।

 

ফেডারেল রিজার্ভের জরিপের এই পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও প্রাসঙ্গিক। উচ্চশিক্ষা, চাকরি ও স্বাধীনভাবে বসবাস শুরু করার পরিকল্পনা করা তরুণদের অনেকেই আবাসন ও দৈনন্দিন ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকা এখন শুধু পারিবারিক পছন্দের বিষয় নয়, বরং অর্থনৈতিক বাস্তবতারও প্রতিফলন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বন্ড শুনানি নিয়ে নতুন রায়
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বন্ড শুনানি নিয়ে নতুন রায়, মুক্তির সুযোগে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক অভিবাসীদের বন্ড শুনানি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৩ অক্টোবর ফেডারেল পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালত রায় দিয়েছেন, আইনগত অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা এবং নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক আটকের বিধানের আওতায় থাকা অভিবাসীদের বন্ড শুনানি পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নেই। আদালতের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের ১৭ বিচারকের মধ্যে ১০ জন এই সিদ্ধান্তের পক্ষে এবং সাতজন বিপক্ষে মত দিয়েছেন। রায়টি সরাসরি টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে প্রযোজ্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সব আটক অভিবাসীর বন্ড শুনানি বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ অরলিন্সভিত্তিক ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের সিদ্ধান্তটি ট্রাম্প প্রশাসনের বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন ডিটেনশন নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনি রায়। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুরক্ষা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ড শুনানির অধিকার তৈরি হয় না। তবে প্রত্যেক আটক অভিবাসীর জন্য একই আইন প্রযোজ্য নয়।   মামলাটি মূলত দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তিন অভিবাসীর আটকাদেশকে কেন্দ্র করে। তাঁরা ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া চলাকালে আইসিইর হেফাজতে ছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, প্রত্যেকের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা না করে বন্ড শুনানির সুযোগ ছাড়াই আটক রাখা সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। নিম্ন আদালতগুলো তাঁদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে।   এর আগে গত ২ জুলাই পঞ্চম সার্কিটের তিন বিচারপতির একটি প্যানেল অভিবাসীদের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের আটক রাখার যৌক্তিকতা পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বন্ড শুনানির সুযোগ দিতে হতো। সেখানে বিচারক বিবেচনা করতেন, আটক ব্যক্তি সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কি না এবং মুক্তি পেলে পরবর্তী আদালত শুনানিতে হাজির হওয়ার সম্ভাবনা কতটা। তবে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পুনঃশুনানির সিদ্ধান্তের পর আগের রায় বাতিল হয়। পরে ২৩ অক্টোবর নতুন রায়ে নিম্ন আদালতগুলোর সিদ্ধান্তও উল্টে দেওয়া হয়।   সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে রায় লেখেন বিচারক কোরি উইলসন। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীরা অভিবাসন আইনের ১২২৫ ধারার অধীনে বাধ্যতামূলক আটকের আওতায় পড়েন। তাই তাঁদের মুক্তির জন্য সংবিধানের ভিত্তিতে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত শুনানির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। বিচারক আরও মন্তব্য করেন, আটক ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে বাস্তবে দেশত্যাগের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের আইনি ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এক নয়।   অন্যদিকে সাত বিচারক এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিদের স্বাধীনতা সীমিত করার ক্ষেত্রে যথাযথ বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ভিন্নমত দেওয়া বিচারকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বন্ড শুনানির অধিকার সীমিত হলে সরকার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি যাচাই ছাড়াই অভিবাসীদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখতে পারবে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তই বর্তমানে সংশ্লিষ্ট আদালতের কার্যকর রায়।   এই রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বন্ড শুনানির সাংবিধানিক অধিকার এবং অভিবাসন আইনে বন্ড পাওয়ার সুযোগ এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের ১২২৫ ধারায় নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক আটকের বিধান রয়েছে। অন্যদিকে ১২২৬ ধারার আওতায় কিছু অভিবাসীর ক্ষেত্রে বন্ডের মাধ্যমে মুক্তির আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। কোন ধারা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ইতিহাস, ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং আটকের আইনগত ভিত্তির ওপর।   এ নিয়ে বিভিন্ন ফেডারেল আপিল আদালতের অবস্থানও এক নয়। পঞ্চম ও অষ্টম সার্কিট অভিবাসন আইনের ১২২৫ ধারার ব্যাপক প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিপরীতে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, নবম, দশম ও একাদশ সার্কিটের আপিল আদালতগুলো সংশ্লিষ্ট আইনের ব্যাখ্যায় ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এই নয়টি আদালত একই সাংবিধানিক প্রশ্নে অভিন্ন রায় দিয়েছে, এমন নয়। তাদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো মূলত কোন আইনি ধারার আওতায় আটক অভিবাসীরা পড়বেন, সেই প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত।   অষ্টম সার্কিটের এখতিয়ারে রয়েছে মিনেসোটা, মিসৌরি, আইওয়া, নেব্রাস্কা, আরকানসাস, নর্থ ডাকোটা ও সাউথ ডাকোটা। ফলে এই অঙ্গরাজ্যগুলোতেও সংশ্লিষ্ট বাধ্যতামূলক আটকনীতি নিয়ে অভিবাসীদের আইনি পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। তবে পঞ্চম ও অষ্টম সার্কিটের সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি পুরোপুরি এক নয়। পঞ্চম সার্কিটের সর্বশেষ রায়ে সাংবিধানিক প্রশ্নটি সরাসরি বিবেচনা করা হয়েছে, যেখানে অন্য কয়েকটি আদালতের সিদ্ধান্ত মূলত অভিবাসন আইনের ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে।   এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সর্বোচ্চ আদালত ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বাধ্যতামূলক আটক বিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে একটি মামলা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে মূল প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আটক নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ক্ষেত্রে কোন আইনি ধারা প্রযোজ্য হবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের গৃহীত মামলাটি পঞ্চম সার্কিটের ২৩ অক্টোবরের রায়ে আলোচিত সাংবিধানিক প্রশ্নের সঙ্গে পুরোপুরি অভিন্ন নয়। তাই সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের পরও কিছু আইনি প্রশ্ন পৃথকভাবে বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে।   এদিকে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার রয়েছে। অন্য অঙ্গরাজ্য থেকে আটক ব্যক্তিদেরও এসব কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। ফলে শুধু ওই তিন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের ওপরই রায়ের প্রভাব পড়বে, এমন নয়। কোনো অভিবাসীকে অন্য অঙ্গরাজ্যে আটক করার পর পঞ্চম সার্কিটের আওতাধীন কোনো ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হলে তাঁর আইনি প্রতিকার চাওয়ার প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।   তবে বন্ড শুনানির সুযোগ সীমিত হওয়া এবং ডিপোর্টেশনের চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। বন্ড শুনানিতে সাধারণত কোনো ব্যক্তিকে ডিপোর্টেশন মামলা চলাকালে আটক রাখা প্রয়োজন কি না, তা পর্যালোচনা করা হয়। অন্যদিকে ডিপোর্টেশন মামলায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ওই ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অধিকার রয়েছে কি না। ফলে বন্ড শুনানি না পাওয়ার অর্থ মামলায় পরাজিত হওয়া কিংবা অবিলম্বে ডিপোর্টেশন নিশ্চিত হওয়া নয়।   একইভাবে এই রায় সব গ্রিন কার্ডধারী, বৈধ ভিসাধারী কিংবা অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। তাঁদের আটকের আইনগত ভিত্তি আলাদা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বন্ড শুনানির সুযোগ থাকতে পারে, আবার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক আটকও প্রযোজ্য হতে পারে। তাই কোনো ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা মামলার বিস্তারিত না জেনে তিনি বন্ড পাবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের জন্য এই পার্থক্যগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আইসিইর হাতে আটক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের উচিত আটকের কারণ, প্রযোজ্য আইনি ধারা এবং মামলাটি কোন আদালতের এখতিয়ারে রয়েছে, তা যাচাই করা। বন্ড শুনানির সুযোগ না থাকলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাসের আবেদনসহ অন্যান্য আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এসব আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফল মামলাভেদে ভিন্ন হতে পারে।   সব মিলিয়ে পঞ্চম সার্কিটের ২৩ অক্টোবরের রায় যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এসে দীর্ঘদিন বসবাস করার পর আটক হওয়া ব্যক্তিদের জন্য বন্ড শুনানির সুযোগ সীমিত হয়েছে। তবে দেশজুড়ে একই নিয়ম কার্যকর হয়নি এবং বিভিন্ন আপিল আদালতের মধ্যে আইনি মতপার্থক্য এখনো রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এই বিরোধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস, Sosnava Rodriguez v. Vergara, রয়টার্স

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৯:২৬
ছবি: মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান বা বসুরহাট পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মেরিল্যান্ড বিএনপি নেতা কাজল

বোরখা পরিহিত নারী

ফ্লোরিডায় সরকারি সভায় আজানের অডিও চালিয়ে বোরখা পরিহিত নারীর ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

বয়স্ক সদস্য

বয়স্ক সদস্যের দেখাশোনায় বছরে পরিবারের খরচ ১১ হাজার ডলার, পাঁচ বছরে ব্যয় বেড়েছে ৫৯ শতাংশ

টেসলার মানবসদৃশ রোবট
ঘরের কাজে আসছে টেসলার মানবসদৃশ রোবট, গৃহিণীদের কাজ কতটা সহজ করবে নতুন প্রযুক্তি?

যুক্তরাষ্ট্রের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা তাদের মানবসদৃশ রোবট ‘অপটিমাস’-এর প্রাথমিক উৎপাদন শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের পরিকল্পনা, ভবিষ্যতে এই রোবট শিল্পকারখানার পাশাপাশি মানুষের বাড়িতেও দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করবে। কাপড় ভাঁজ করা, জিনিসপত্র গোছানো এবং ঘরের বিভিন্ন পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে রোবটটির। তবে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এর বিক্রি শুরু হয়নি। টেসলার লক্ষ্য, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বাইরের গ্রাহকদের কাছে রোবট সরবরাহ শুরু করা। এই সময়সীমা অবশ্য নিশ্চিত নয়।   টেসলার তৃতীয় প্রান্তিকের আয়সংক্রান্ত আলোচনায় মাস্ক স্বীকার করেছেন, রোবটকে বাস্তব জীবনের নানা ধরনের কাজে কার্যকর করে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও যান্ত্রিক সক্ষমতার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে অপটিমাসকে শিল্পকারখানায় বিপজ্জনক ও একঘেয়ে কাজের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর উৎপাদন বাড়লে সাধারণ মানুষের জন্য বাজারজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে রোবটটির চূড়ান্ত দাম, সাধারণ পরিবারের জন্য এর পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা এবং বিক্রির নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।   প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও এ নিয়ে সতর্কতা রয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ভার্জের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির রোবোটিকস অধ্যাপক কেন গোল্ডবার্গ রোবটের সফটওয়্যার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম হলো, রোবট তৈরি করা সম্ভব হলেও বাস্তব পরিবেশে সেটিকে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করানোর প্রযুক্তি এখনো যথেষ্ট উন্নত নয়। কাপড় ভাঁজ করা, ভঙ্গুর বাসনপত্র সামলানো কিংবা রান্নাঘরের জটিল পরিস্থিতিতে নিরাপদে কাজ করার জন্য রোবটকে আরও নির্ভুল হতে হবে।   একটি কারখানায় নির্দিষ্ট পরিবেশে কাজ করা এবং বাড়ির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সামলানো এক বিষয় নয়। ঘরে ছড়িয়ে থাকা খেলনা, বিভিন্ন আকৃতির জিনিসপত্র কিংবা গরম পানি ও ধারালো সরঞ্জামের মতো ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হলে রোবটকে পরিবেশ বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রদর্শনীতে কোনো কাজ সফলভাবে দেখানো গেলেও সেটি মানুষের সাহায্য ছাড়া বারবার নির্ভরযোগ্যভাবে করা সম্ভব কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ ছাড়া উৎপাদন বাড়ানো, যন্ত্রাংশের স্থায়িত্ব এবং সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতাও টেসলার সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।   ভবিষ্যতে অপটিমাস নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ঘর গোছানো, কাপড় ভাঁজ করা এবং জিনিসপত্র সরানোর মতো কাজে এটি সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে যেসব গৃহিণী প্রতিদিন ঘরের নানা কাজ সামলান, তাঁদের দৈনন্দিন পরিশ্রম কমাতে এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ভূমিকা রাখতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তি বা শারীরিকভাবে সীমাবদ্ধ মানুষের দৈনন্দিন কাজেও সহায়তার সুযোগ রয়েছে। তবে রোবটটির দাম, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। টেসলা এখনো সাধারণ পরিবারের জন্য চূড়ান্ত মূল্য ঘোষণা করেনি।   সব মিলিয়ে, টেসলার অপটিমাস গৃহস্থালি কাজে রোবট ব্যবহারের সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে উৎপাদন শুরু হওয়া মানেই ঘরের কাজের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রোবট বাজারে চলে আসা নয়। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বাইরের গ্রাহকদের কাছে সরবরাহের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির উন্নয়ন, নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং উৎপাদন সক্ষমতার ওপর।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৬:৭
যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি থেকেই বাড়তি আয়ের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি থেকেই বাড়তি আয়ের সুযোগ, চাকরি না থাকলেও রয়েছে একাধিক পথ

হারলেমে গান গেয়ে একাকিত্বের বিরুদ্ধে লড়ছেন প্রবীণেরা

স্মৃতি হারালেও হারায়নি সুরের টান, হারলেমে গান গেয়ে একাকিত্বের বিরুদ্ধে লড়ছেন প্রবীণেরা

শোকের ছায়া এলাকায়

ব্রুকলিনে এক মুহূর্তেই থেমে গেল ৩০ বছর বয়সী নারীর জীবন, শোকের ছায়া এলাকায়

নিউইয়র্কে শীতের বিল দিতে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার সহায়তা
নিউইয়র্কে শীতের বিল দিতে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার সহায়তা, ২ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরু

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শীতের মৌসুমে বাড়ির তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধে আর্থিক সহায়তার নতুন মৌসুম শুরু হচ্ছে ২ নভেম্বর। অঙ্গরাজ্যের হোম এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা হিপ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার, বয়স্ক নাগরিক এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বাসিন্দারা এই সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।   অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ১৬ অক্টোবর কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত শীত মৌসুমে নিউইয়র্কে ১৫ লাখের বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এবারও প্রায় একই সংখ্যক সুবিধাভোগীকে সহায়তা দেওয়ার প্রত্যাশা করছে অঙ্গরাজ্য সরকার।   ২০২৬–২০২৭ সালের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব পরিবার তেল, কেরোসিন বা প্রোপেনের মতো বাড়িতে সরবরাহ করা জ্বালানি দিয়ে ঘর গরম করে, তারা যোগ্য হলে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারে। কাঠ, কাঠের গুঁড়ি থেকে তৈরি জ্বালানি বা কয়লা ব্যবহারকারী যোগ্য পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ সহায়তার পরিমাণ ৭০০ ডলার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।   তবে এই অর্থ সবাই পাবেন না। পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা, ঘর গরম করার প্রধান ব্যবস্থা এবং অন্যান্য যোগ্যতার ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। ৯৯০ ও ৭০০ ডলার সর্বোচ্চ সীমা—নিশ্চিত অর্থপ্রদানের পরিমাণ নয়।   প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, চার সদস্যের একটি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৮২ হাজার ২৩০ ডলার মোট আয় করলেও নির্ধারিত আয়ভিত্তিক যোগ্যতার মধ্যে পড়তে পারে। মাসিক হিসাবে এই অঙ্ক প্রায় ৬ হাজার ৮৫২ ডলার।   তবে আয়সীমার মধ্যে থাকলেই সহায়তা নিশ্চিত নয়। পরিবারের সদস্যদের অবস্থা, জ্বালানির ধরন এবং কর্মসূচির অন্যান্য নিয়মও বিবেচনা করা হবে। আবেদনকারীর পরিবারের কেউ ছয় বছরের কম বয়সী শিশু, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি কিংবা স্থায়ী প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন হলে কিছু ক্ষেত্রে তা যোগ্যতা নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।   যাঁরা ইতিমধ্যে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি বা স্ন্যাপ, অথবা নির্দিষ্ট সরকারি আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছেন, তাঁদের একটি অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিপের সুবিধা পেতে পারেন। অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, স্ন্যাপ বা সরকারি সহায়তা পাওয়া ১১ লাখের বেশি নিউইয়র্কবাসীর জন্য স্বয়ংক্রিয় সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে।   তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও সরকারি নথির ওপর নির্ভর করে। তাই সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও নিশ্চিত না হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করুন। অন্য যোগ্য পরিবারগুলোকে ২ নভেম্বর থেকে আবেদন করতে হবে।   নিউইয়র্ক শহরের বাসিন্দারা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন ACCESS HRA ওয়েবসাইটের মাধ্যমে: https://access.nyc.gov/programs/home-energy-assistance-program-heap/   নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য এলাকার বাসিন্দারা সরকারি হিপ ওয়েবসাইট https://otda.ny.gov/programs/heap/ থেকে নিজেদের এলাকার আবেদনপদ্ধতি ও কার্যালয়ের তথ্য জানতে পারবেন।   আবেদনের সময় পরিচয়, পরিবারের সদস্যদের তথ্য, আয় এবং বাড়ির তাপ সরবরাহসংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তথ্য বা সাক্ষাৎকার চাইতে পারে। সহায়তার অর্থ সাধারণত জ্বালানি সরবরাহকারী বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়; অর্থপ্রদানের পদ্ধতি পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।   নিউইয়র্ক শহরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২০২৭ সালের নিয়মিত হিপ সুবিধার আবেদন ২ নভেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ১৬ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত চলার কথা। তবে তহবিল ও কর্মসূচির নিয়মের কারণে আবেদনের সুযোগে পরিবর্তন হতে পারে। তাই শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত আবেদন করা ভালো।   যাঁদের বাড়ির হিটিং ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে, তাঁদের জন্য মেরামত বা প্রতিস্থাপনের আলাদা কর্মসূচিও রয়েছে। ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে চালু হওয়া এই সুবিধায় যোগ্য বাড়ির মালিকেরা হিটিং যন্ত্র মেরামতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ডলার এবং প্রতিস্থাপনে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। এই সুবিধার জন্য আলাদা যোগ্যতা ও আবেদনপ্রক্রিয়া রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৩:১৭
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে সাদ্দাম হোসেনকে অর্থায়নের অভিযোগ থাকা চ্যারিটির বোর্ডে মিশিগানের সিনেট প্রার্থীর বাবা

যুক্তরাষ্ট্রে সাদ্দাম হোসেনকে অর্থায়নের অভিযোগ থাকা চ্যারিটির বোর্ডে মিশিগানের সিনেট প্রার্থীর বাবা

প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে ইনস্টাকার্টকে অধিগ্রহণের চুক্তি করেছে খাবার ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ডোরড্যাশ। ছবি: সংগৃহীত

১৭ বিলিয়ন ডলারে ইনস্টাকার্ট কিনছে ডোরড্যাশ, এক ছাতার নিচে আসছে দুই ডেলিভারি জায়ান্ট

0 Comments