দাম বাড়ায় স্ট্রিমিং থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন মার্কিনরা, খরচ কমাতে বাতিল হচ্ছে একের পর এক সাবস্ক্রিপশন
যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন স্ট্রিমিং সেবার সাবস্ক্রিপশন ফি বাড়তে থাকায় খরচ কমানোর দিকে ঝুঁকছেন অনেক গ্রাহক। নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাসসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত অর্থ খরচের চাপ সামলাতে কেউ সাবস্ক্রিপশন বাতিল করছেন, কেউ কম দামের বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজ বেছে নিচ্ছেন, আবার কেউ বিনা মূল্যের স্ট্রিমিং সেবায় চলে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জরিপেও বিনোদন খাতে বাড়তি ব্যয় নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে।
নিউ জার্সিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্ট্রিমিং সেবার বাড়তি খরচের কারণে গ্রাহকদের সাবস্ক্রিপশন ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে।
রিভিউজ ডটঅর্গের ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, গত ১২ মাসে স্ট্রিমিং সেবার দাম বাড়ার কারণে ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা কোনো একটি সেবার সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছেন অথবা কম খরচের প্যাকেজে পরিবর্তন করেছেন। একই জরিপে ৪৩ শতাংশ জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে অন্তত একটি স্ট্রিমিং সেবার সাবস্ক্রিপশন বাতিল করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক হাজার মার্কিন নাগরিকের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে আরও দেখা যায়, একজন মার্কিন গ্রাহক গড়ে প্রায় তিনটি পেইড স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করেন। ফলে একাধিক প্ল্যাটফর্মের মাসিক বিল একসঙ্গে যোগ হয়ে অনেক পরিবারের বিনোদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সাবস্ক্রিপশন বাতিল করলেও অনেক গ্রাহক স্থায়ীভাবে কোনো প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাচ্ছেন না। জরিপে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, আগে বাতিল করা কোনো স্ট্রিমিং সেবায় পরে আবার সাবস্ক্রাইব করেছেন। অন্যদিকে, ৪৮ শতাংশ বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনো অনুষ্ঠান বা খেলা দেখার জন্য সাবস্ক্রিপশন নিয়ে পরে তা বাতিল করেছেন।
খরচ কমানোর আরেকটি উপায় হিসেবে বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজ জনপ্রিয় হচ্ছে। জরিপে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা গত এক বছরে বিজ্ঞাপনবিহীন পেইড প্যাকেজ থেকে কম দামের বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ৫৫ শতাংশ বলেছেন, বাড়তি সাবস্ক্রিপশনের খরচ বহন করা কঠিন হওয়ায় তাঁরা বিনা মূল্যের বিজ্ঞাপননির্ভর স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করেন।
ইউটিউবের বিনা মূল্যের ভিডিও, টিউবি, দ্য রোকু চ্যানেল ও প্লুটো টিভির মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এ ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রচলিত টিভি চ্যানেল দেখার জন্যও কেউ কেউ ওভার দ্য এয়ার অ্যান্টেনা ব্যবহার করছেন।
স্ট্রিমিং সেবার দাম নিয়ে অসন্তোষ নতুন নয়। ইউগভের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, গত ছয় মাসে ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তাঁদের স্ট্রিমিং সাবস্ক্রিপশনে পরিবর্তন এনেছেন। যাঁরা অন্তত একটি সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ দামকে বাতিলের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
গ্রাহকদের এই প্রবণতা স্ট্রিমিং কোম্পানিগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে দর্শকেরা পছন্দের সিনেমা, সিরিজ ও খেলাধুলা দেখতে চান, অন্যদিকে একাধিক সেবার মাসিক খরচ তাঁদের বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে কোন প্ল্যাটফর্মে কতটা সময় কাটাচ্ছেন এবং কোন সাবস্ক্রিপশন থেকে বাস্তবে কতটা সুবিধা পাচ্ছেন, তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকদের ধরে রাখতে স্ট্রিমিং কোম্পানিগুলোকে মূল্য নির্ধারণ, প্যাকেজের সুবিধা এবং কনটেন্টের মানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। অন্যথায়, গ্রাহকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়াতে পারেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে করোনা মহামারির সময় শিশুদের খাবার সরবরাহের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ২৫ কোটি ডলারের তহবিল জালিয়াতির মামলায় সালিম সাঈদের বিরুদ্ধে ৪০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছে ফেডারেল প্রসিকিউটররা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে তাঁর সাজা ঘোষণার কথা রয়েছে। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে মহামারিকালীন সরকারি তহবিল জালিয়াতির অন্যতম আলোচিত বিচারিক কার্যক্রম। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ৯-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালিম সাঈদকে এই জালিয়াতি চক্রের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে বিবেচনা করছেন প্রসিকিউটররা। আদালতে দাখিল করা সাজাসংক্রান্ত আবেদনে তাঁকে পুরো জালিয়াতি কার্যক্রমের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের যুক্তি, অপরাধের ব্যাপকতা এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁর দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হওয়া প্রয়োজন। সালিম সাঈদ মিনিয়াপোলিসের সাফারি রেস্টুরেন্টের সাবেক সহমালিক। ২০২০ সালের এপ্রিলে তাঁর রেস্টুরেন্টটি ফিডিং আওয়ার ফিউচার কর্মসূচির আওতায় শিশুদের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত হয়। করোনা মহামারির সময় শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার এই কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থায়ন করেছিল। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাঈদ ও তাঁর সহযোগীরা প্রকৃতপক্ষে যত খাবার সরবরাহ করা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি খাবার বিতরণের দাবি করে সরকারি অর্থ নেন। এ জন্য ভুয়া হাজিরা তালিকা, শিশুদের নাম ও বয়সসংবলিত নথি এবং অতিরঞ্জিত খাবার বিতরণের হিসাব ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, সাফারি রেস্টুরেন্টের মাধ্যমে সাঈদ প্রতিদিন হাজার হাজার শিশুকে খাবার দেওয়ার দাবি করেছিলেন। কিন্তু তদন্তকারীদের নজরদারিতে রেস্টুরেন্টটিতে বাস্তবে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল দাবির তুলনায় অনেক কম। এভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ ব্যক্তিগত সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ ছয় সপ্তাহের বিচার শেষে ফেডারেল জুরি সাঈদকে ২১টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল ওয়্যার ফ্রড, অর্থাৎ ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে জালিয়াতি, জালিয়াতির ষড়যন্ত্র, সরকারি কর্মসূচিসংশ্লিষ্ট ঘুষ এবং মানি লন্ডারিং। এই মামলায় ফিডিং আওয়ার ফিউচারের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক অ্যাইমি বকও দোষী সাব্যস্ত হন। ২০২৬ সালের মে মাসে তাঁকে ৫০০ মাস, অর্থাৎ ৪১ বছর ৮ মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে প্রসিকিউটররা ৫০ বছরের সাজা চেয়েছিলেন। ফিডিং আওয়ার ফিউচার মামলায় করোনা মহামারির সময় শিশুদের পুষ্টি কর্মসূচির অর্থ কীভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছিল, তা তদন্তে উঠে আসে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় মিনেসোটাজুড়ে ২৫০টির বেশি খাবার বিতরণকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছিল। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়। সালিম সাঈদের সাজা ঘোষণার শুনানিতে সভাপতিত্ব করার কথা বিচারক ন্যান্সি ব্রাসেলের। তবে প্রসিকিউটরদের ৪০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদনই চূড়ান্ত সাজা নয়। আদালত শুনানি ও প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে সাজা নির্ধারণ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর বরফঢাকা পাহাড়ে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী, মিলল শুধু ধসে পড়া তাঁবু
নিউইয়র্কে আজ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আয়োজন, চাকরি প্রস্তুতি থেকে অভিবাসন ও আইনি সচেতনতা সব একত্রে
নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভোটের লড়াইয়ে নামছে নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটি
যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন স্ট্রিমিং সেবার সাবস্ক্রিপশন ফি বাড়তে থাকায় খরচ কমানোর দিকে ঝুঁকছেন অনেক গ্রাহক। নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাসসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত অর্থ খরচের চাপ সামলাতে কেউ সাবস্ক্রিপশন বাতিল করছেন, কেউ কম দামের বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজ বেছে নিচ্ছেন, আবার কেউ বিনা মূল্যের স্ট্রিমিং সেবায় চলে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জরিপেও বিনোদন খাতে বাড়তি ব্যয় নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। নিউ জার্সিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্ট্রিমিং সেবার বাড়তি খরচের কারণে গ্রাহকদের সাবস্ক্রিপশন ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে। রিভিউজ ডটঅর্গের ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, গত ১২ মাসে স্ট্রিমিং সেবার দাম বাড়ার কারণে ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা কোনো একটি সেবার সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছেন অথবা কম খরচের প্যাকেজে পরিবর্তন করেছেন। একই জরিপে ৪৩ শতাংশ জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে অন্তত একটি স্ট্রিমিং সেবার সাবস্ক্রিপশন বাতিল করার সম্ভাবনা রয়েছে। এক হাজার মার্কিন নাগরিকের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে আরও দেখা যায়, একজন মার্কিন গ্রাহক গড়ে প্রায় তিনটি পেইড স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করেন। ফলে একাধিক প্ল্যাটফর্মের মাসিক বিল একসঙ্গে যোগ হয়ে অনেক পরিবারের বিনোদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাবস্ক্রিপশন বাতিল করলেও অনেক গ্রাহক স্থায়ীভাবে কোনো প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাচ্ছেন না। জরিপে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, আগে বাতিল করা কোনো স্ট্রিমিং সেবায় পরে আবার সাবস্ক্রাইব করেছেন। অন্যদিকে, ৪৮ শতাংশ বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনো অনুষ্ঠান বা খেলা দেখার জন্য সাবস্ক্রিপশন নিয়ে পরে তা বাতিল করেছেন। খরচ কমানোর আরেকটি উপায় হিসেবে বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজ জনপ্রিয় হচ্ছে। জরিপে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা গত এক বছরে বিজ্ঞাপনবিহীন পেইড প্যাকেজ থেকে কম দামের বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ৫৫ শতাংশ বলেছেন, বাড়তি সাবস্ক্রিপশনের খরচ বহন করা কঠিন হওয়ায় তাঁরা বিনা মূল্যের বিজ্ঞাপননির্ভর স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করেন। ইউটিউবের বিনা মূল্যের ভিডিও, টিউবি, দ্য রোকু চ্যানেল ও প্লুটো টিভির মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এ ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রচলিত টিভি চ্যানেল দেখার জন্যও কেউ কেউ ওভার দ্য এয়ার অ্যান্টেনা ব্যবহার করছেন। স্ট্রিমিং সেবার দাম নিয়ে অসন্তোষ নতুন নয়। ইউগভের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, গত ছয় মাসে ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তাঁদের স্ট্রিমিং সাবস্ক্রিপশনে পরিবর্তন এনেছেন। যাঁরা অন্তত একটি সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ দামকে বাতিলের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। গ্রাহকদের এই প্রবণতা স্ট্রিমিং কোম্পানিগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে দর্শকেরা পছন্দের সিনেমা, সিরিজ ও খেলাধুলা দেখতে চান, অন্যদিকে একাধিক সেবার মাসিক খরচ তাঁদের বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে কোন প্ল্যাটফর্মে কতটা সময় কাটাচ্ছেন এবং কোন সাবস্ক্রিপশন থেকে বাস্তবে কতটা সুবিধা পাচ্ছেন, তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেকে। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকদের ধরে রাখতে স্ট্রিমিং কোম্পানিগুলোকে মূল্য নির্ধারণ, প্যাকেজের সুবিধা এবং কনটেন্টের মানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। অন্যথায়, গ্রাহকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়াতে পারেন।
ভার্জিনিয়ায় ৩ শিশুকে হন্টেড বাড়িতে আটকে বছরের পর বছর নির্যাতন, দম্পতির বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা
হ্যালোইন উৎসবে শিশুদের জন্য নানা আয়োজন, নিউইয়র্কে পরিবার নিয়ে আনন্দের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কম বয়সীদের প্রায় অর্ধেকই থাকছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে, বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে গত জানুয়ারিতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর তদন্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করেছেন তাঁর বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, ছেলের মৃত্যুর তদন্ত সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না দিয়ে এবং ফেডারেল ভিকটিমস রাইটস আইনের অধীনে পরিবারের অধিকার ক্ষুণ্ন করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাঁদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে। মাইকেল ও সুসান প্রেত্তি ২৭ অক্টোবর মিনিয়াপোলিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁদের ছেলে অ্যালেক্স পেশায় একজন নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের নার্স ছিলেন। ২৪ জানুয়ারি অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ও ফেডারেল অভিবাসন অভিযান ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তিনি গুলিতে নিহত হন। ঘটনার প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। পরিবারের আইনজীবী স্টিভ শ্লাইখার জানান, অ্যালেক্সের মৃত্যুর তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে এবং কী ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবার স্পষ্ট তথ্য চায়। তাঁদের অভিযোগ, বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাচ্ছে না এবং তদন্তের পূর্ণ নথি রাজ্য পর্যায়ের তদন্তকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে না। চলতি বছরের জুলাইয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চকে পাঠানো এক চিঠিতে পরিবারের আইনজীবী অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগের কাছ থেকে তাঁরা তদন্তের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো হালনাগাদ তথ্য পাননি। চিঠিতে সরকারের আচরণকে নিষ্ঠুর ও বেআইনি বলে বর্ণনা করা হয়। পরিবারটির বক্তব্য, তদন্তের বিষয়ে যোগাযোগের অভাব তাঁদের শোক ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। ফেডারেল ভিকটিমস রাইটস আইনে অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর তদন্তে প্রমাণ প্রকাশের দাবি পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর প্রায় নয় মাস পরও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা-মা। তাঁদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাঁদের অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখছে। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ২৭ অক্টোবর মিনিয়াপোলিসে প্রকাশ্যে দাবি জানান মাইকেল ও সুসান প্রেত্তি। ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেত্তি ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের নার্স হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৪ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের মধ্যে তিনি গুলিতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। পরিবারের আইনজীবী স্টিভ শ্লাইখারের মাধ্যমে জুলাই মাসে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, অ্যালেক্সের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে বিচার বিভাগের কাছ থেকে পরিবার উল্লেখযোগ্য কোনো হালনাগাদ তথ্য পায়নি। চিঠিতে সরকারের আচরণকে অগ্রহণযোগ্য ও বেআইনি বলে অভিযোগ করা হয়। মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে অ্যালেক্সের বাবা-মা বলেন, ছেলের মৃত্যুর পর থেকে তাঁরা সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাননি। তাঁদের অভিযোগ, বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁদের উপেক্ষা করেছেন, বিভ্রান্ত করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বদলে তাঁদের আড়াল করছেন। অ্যালেক্সের মা সুসান প্রেত্তি অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে নিয়ে প্রশাসনের প্রাথমিক বক্তব্য তাঁর স্মৃতিকে কলঙ্কিত করেছে। ঘটনার পর তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম তাঁকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে গুলির আগে অ্যালেক্সের হাতে মোবাইল ফোন দেখা গেছে। গুলির ঠিক আগের মুহূর্তে তাঁকে অস্ত্র প্রদর্শন বা কর্মকর্তাদের আক্রমণ করতে দেখা গেছে, এমন কোনো ভিডিও প্রকাশিত হয়নি। তদন্তের তথ্য নিয়ে ফেডারেল ও মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিরোধ চলছে। অ্যালেক্স প্রেত্তি ও রেনে গুডের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ পাওয়ার জন্য মিনেসোটার কর্মকর্তারা মার্চ মাসে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাজ্য কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্বাধীন তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য তাদের হাতে নেই। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন এবং গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসাবাদের রেকর্ডিংসহ আরও কিছু উপাদান চেয়েছেন। ফেডারেল প্রসিকিউটররা প্রমাণ ভাগাভাগি বন্ধ করে দেওয়ার পর তদন্তে সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে রাজ্য কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার সীমিত। অ্যালেক্সের বাবা-মা জানিয়েছেন, ছেলের মৃত্যুর খবর তাঁরা প্রথম জানতে পারেন একজন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকের কাছ থেকে। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার দিন ফেডারেল সরকারের কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। অথচ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমে তাঁদের ছেলেকে নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, তাঁরা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না। তাঁরা চান, তদন্তের সব প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশ করা হোক, রাজ্য তদন্তকারীদের প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেওয়া হোক এবং আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ভিকটিমস রাইটস আইন অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কিছু অধিকার নিশ্চিত করে। এর মধ্যে রয়েছে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে আচরণ পাওয়ার অধিকার, মামলার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য জানার সুযোগ এবং বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কিছু অধিকার। তবে অ্যালেক্সের পরিবারের অভিযোগের আইনি পরিণতি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর তদন্ত চলমান। তবে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে বিভাগটির বিস্তারিত জবাব তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্তের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ এবং দায় নির্ধারণের দাবিতে পরিবারটি তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
বাঙালি পরিচয় নিয়ে নিউ ইয়র্কে ব্যতিক্রমী আয়োজন, ‘আপনাকে বাঙালি মনে হয় না’
নির্বাচনে হারের পর ব্রাজিল ছাড়লেন ফ্লাভিও বলসোনারো, পরিবার নিয়ে পৌঁছালেন মায়ামিতে