সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

১৩ হাজার ডলারের পুরোনো টেসলাও এক চার্জে চলে ২২১ মাইল, অবাক নতুন মালিক!

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ২১:৫৮
১৩ হাজার ডলারের কম দামে কেনা পুরোনো টেসলা মডেল এস এক চার্জে চলেছে ২২১ মাইল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
১৩ হাজার ডলারের কম দামে কেনা পুরোনো টেসলা মডেল এস এক চার্জে চলেছে ২২১ মাইল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে আলোচনায় এসেছে ১৩ হাজার ডলারেরও কম দামে কেনা একটি পুরোনো টেসলা মডেল এস। প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার মাইল চালানোর পরও গাড়িটি একবার চার্জে ২২১ মাইল চলতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি গাড়ি বিষয়ক গবেষণা ও পর্যালোচনা প্রতিষ্ঠান এডমন্ডসের পরিচালিত এক পরীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। নতুন অবস্থায় প্রায় ৭০ হাজার ডলার বা তার বেশি দামের এই বিলাসবহুল গাড়ি এখন মূল দামের তুলনায় অনেক কম খরচে পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও গাড়িটির এমন পারফরম্যান্স পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

 

এডমন্ডস জানিয়েছে, তারা ১৩ হাজার ডলারের কম দামে গাড়িটি কেনার পর নিজেদের প্রচলিত ইভি রেঞ্জ টেস্টের মাধ্যমে এর কার্যক্ষমতা যাচাই করে। পরীক্ষায় বাস্তব পরিস্থিতিতে এক চার্জে গাড়িটি ২২১ মাইল চলেছে। গাড়ি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনসাইডইভিএস এই ফলাফলকে গাড়িটির ক্রয়মূল্য বিবেচনায় বেশ ভালো পারফরম্যান্স হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে ১ লাখ ৩৫ হাজার মাইল চলার পরও গাড়িটি যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করতে পেরেছে, তা পুরোনো টেসলা কেনার সম্ভাব্যতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

 

গাড়িটির সুনির্দিষ্ট ট্রিম বা সংস্করণ নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এর চলার দূরত্ব ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় এটি টেসলা মডেল এস ৮৫ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংস্করণের নতুন অবস্থায় ঘোষিত রেঞ্জ ছিল প্রায় ২৬৫ মাইল। সেই হিসাবে পরীক্ষায় পাওয়া ২২১ মাইল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। তবে এটি গাড়িটির ব্যাটারির অবশিষ্ট সক্ষমতার চূড়ান্ত পরিমাপ নয়, বরং নির্দিষ্ট পরীক্ষায় পাওয়া বাস্তব রেঞ্জ।

 

শুধু ব্যাটারির পারফরম্যান্স নয়, গাড়িটির গতিও পরীক্ষকদের নজর কেড়েছে। পুরোনো ও একে অপরের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন টায়ার ব্যবহার করা সত্ত্বেও গাড়িটি শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছাতে সময় নিয়েছে মাত্র ৫ সেকেন্ড। এক-চতুর্থাংশ মাইলের দৌড় শেষ করতেও সময় লেগেছে ১৩ দশমিক ৩ সেকেন্ড। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও গাড়িটির এমন গতিশীলতা এর মোটর ও ড্রাইভিং পারফরম্যান্স সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দিয়েছে।

 

এডমন্ডসের পরীক্ষায় গাড়িটির ভেতরের পরিবেশও বেশ প্রশংসা পেয়েছে। পরীক্ষকদের মতে, গাড়িটি এখনো বেশ নীরব, আরামদায়ক এবং রাস্তায় স্থিতিশীল। পুরোনো হলেও এর বিলাসবহুল অনুভূতি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। তবে সবকিছুই যে ভালো অবস্থায় রয়েছে, তা নয়। গাড়িটির পেছনের মোটর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ আসছে, চালকের সামনের ডিসপ্লেতে ক্ষতি রয়েছে এবং পাওয়ার টেইলগেটের কার্যক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে এসব অংশে মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে।

 

গাড়িটি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর কোনো ওয়ারেন্টি নেই। ফলে ব্যাটারি, মোটর কিংবা গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে মেরামতের পুরো খরচ নতুন মালিককেই বহন করতে হবে। কম দামে বিলাসবহুল টেসলা কেনার সুযোগ থাকলেও ভবিষ্যতের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নতুন মালিকের জন্য বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউ ইয়র্ক থেকে ১৪৯ দিনে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মাইল হেঁটে ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছান চান্টজ রিভেরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
১৪৯ দিন হেঁটে নিউ ইয়র্ক থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায়, পৌঁছাতেই চুরির শিকার যুবক

নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কস থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মাইল পথ পায়ে হেঁটে ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছেছিলেন চান্টজ রিভেরা। দীর্ঘ ১৪৯ দিনের এই যাত্রায় নিজের সব জিনিসপত্র একটি শপিং কার্টে করে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই তরুণ। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পরপরই চুরির শিকার হন তিনি। সান ফ্রান্সিসকোর একটি ম্যাকডোনাল্ডস থেকে তাঁর ব্যাগসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস খোয়া যায়।   সান ফ্রান্সিসকো স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩১ মে ব্রঙ্কস থেকে যাত্রা শুরু করেন রিভেরা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য পেরিয়ে ২৬ অক্টোবর তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় এলাকায় পৌঁছান। পুরো পথ পাড়ি দিতে তাঁর সময় লাগে ১৪৯ দিন। যাত্রাপথে কখনো সড়কের পাশে তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটিয়েছেন, কখনো অপরিচিত মানুষের আতিথেয়তা পেয়েছেন। প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আকারে প্রকাশ করায় তাঁর অনুসারীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছানোর পরদিন তিনি ফিলমোর স্ট্রিট ও গোল্ডেন গেট অ্যাভিনিউয়ের কাছের একটি ম্যাকডোনাল্ডসে যান। সেখানে তাঁর একটি ব্যাগ চুরি হয়। ব্যাগটিতে বহনযোগ্য চার্জারের পাশাপাশি মেমোরি কার্ড ও ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ ছিল। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত হননি রিভেরা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অসুস্থ ও ক্লান্ত থাকায় জিনিসপত্র হারানোর বিষয়টি তখন তাঁর কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি।   পরে বুঝতে পারেন, মেমোরি কার্ড ও ফ্ল্যাশ ড্রাইভে পুরো যাত্রার অনেক ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত ছিল। সান ফ্রান্সিসকো স্ট্যান্ডার্ডকে তিনি বলেন, ওই ভিডিওগুলো আর নতুন করে কেনা সম্ভব নয়। যাত্রাপথের অনেক অপ্রকাশিত দৃশ্যও সেখানে ছিল। তাই চার্জারের চেয়ে স্মৃতিগুলো হারানোই তাঁকে বেশি কষ্ট দিয়েছে।   এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে থাকাকালে উপহার পাওয়া এক জোড়া জুতাও হারান তিনি। শপিং কার্টটি কিছু সময়ের জন্য অরক্ষিত রেখে ফিরে এসে দেখেন, জুতাসহ কার্টটি আর সেখানে নেই। এ ঘটনায় নিজের অসতর্কতাকেও দায়ী করেছেন রিভেরা। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি তাঁর জন্য হোটেল বুক করার কথা জানালেও সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, কক্ষের জন্য অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।   তবে ক্যালিফোর্নিয়ায় সব অভিজ্ঞতাই তাঁর জন্য খারাপ ছিল না। সান ফ্রান্সিসকোর টিমব্রি হোটেলের একজন ব্যবস্থাপক তাঁকে বিনা মূল্যে দুই রাত থাকার ব্যবস্থা করে দেন। আরেক ব্যক্তি তাঁকে পিৎজা খাওয়ানোর পাশাপাশি শহরের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা টুইন পিকস ঘুরিয়ে দেখান। দীর্ঘ যাত্রার পর কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রিভেরা।   যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এই পদযাত্রার সময় রিভেরা ১১টি অঙ্গরাজ্য পাড়ি দেন। যাত্রা শুরুর আগে তিনি মাত্র ২৫০ ডলার সঙ্গে নিয়েছিলেন। পরে মানুষের সহযোগিতায় তাঁর তহবিলে ১৩ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর যাত্রার ভিডিওও ব্যাপক সাড়া পায়। সান ফ্রান্সিসকোতে কয়েক দিন কাটিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এরপর বিমানে করে নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসে ফিরে যাওয়ার কথা।   সূত্র: সান ফ্রান্সিসকো স্ট্যান্ডার্ড, এনবিসি বে এরিয়া।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ২২:২১
১৩ হাজার ডলারের কম দামে কেনা পুরোনো টেসলা মডেল এস এক চার্জে চলেছে ২২১ মাইল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

১৩ হাজার ডলারের পুরোনো টেসলাও এক চার্জে চলে ২২১ মাইল, অবাক নতুন মালিক!

নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী মূল্যে বড় বাড়ির খোঁজে ম্যানহাটন ছেড়ে কুইন্সে পাড়ি জমাচ্ছেন বেশিরভাগ ক্রেতা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ম্যানহাটনের বদলে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে কুইন্স

২০২৪ সালের নির্বাচনে নাগরিকত্ব ছাড়াই ভোট দেওয়ার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশি প্রবাসী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে মামলা

ডোরড্যাশের ইনস্টাকার্ট অধিগ্রহণের প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রাহক ও কর্মীদের ক্ষতির শঙ্কায় ডোরড্যাশের নতুন চুক্তির বিরোধিতা করলেন নিউ ইয়র্কের মেয়র মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের খাবার ও পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডোরড্যাশের ১৭ বিলিয়ন ডলারে ইনস্টাকার্ট অধিগ্রহণের প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তাঁর আশঙ্কা, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের একীভূত হওয়ার ফলে পণ্যের দাম বাড়তে পারে, শ্রমিকদের ওপর চাপ ও শোষণ বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও গভীর হতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অধিগ্রহণের ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।   মামদানি লিখেছেন, ‘করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূত হওয়ার ফলে নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য দাম বাড়বে, শ্রমিকদের শোষণ আরও কঠোর হবে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এর আগেও এসব বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। সেই অবস্থান এখনো বদলায়নি।’   অন্যদিকে ডোরড্যাশের প্রধান নির্বাহী টনি শু দাবি করেছেন, ইনস্টাকার্ট অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে গ্রাহকেরা কম দামে পণ্য পাবেন এবং সরবরাহের সময়ও কমবে। পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করা পণ্য সরবরাহকারীদের আয়ের সুযোগ বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।   মামদানির আপত্তির পেছনে নিউ ইয়র্কে ডোরড্যাশের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক একটি আর্থিক নিষ্পত্তির বিষয়ও রয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর শহরটির ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগ (ডিসিডব্লিউপি) ডেলিভারি কর্মীদের পারিশ্রমিক নিয়ে তদন্তের পর ডোরড্যাশের সঙ্গে ১৩ কোটি ১৫ লাখ ডলারের একটি নিষ্পত্তিতে পৌঁছায়। এর মধ্যে ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের দেওয়ার কথা রয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ডেলিভারি কর্মী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আওতায় রয়েছেন।   এ ছাড়া গ্রাহকদের পণ্য কেনার সময়ই ডেলিভারি কর্মীদের বকশিশ দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে নিউ ইয়র্ক সিটি এর আগে আইন প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। উবার ইটস ও ডোরড্যাশের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও এ নিয়ম কার্যকরের বিষয়ে নজরদারি করেছে শহর কর্তৃপক্ষ। ফলে নতুন অধিগ্রহণ চুক্তিকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে মেয়র প্রশাসনের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে।   নিউ ইয়র্ক সিটির ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগের কমিশনার স্যামুয়েল এ এ লেভিনও প্রস্তাবিত অধিগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, বড় করপোরেশনগুলোর একীভূত হওয়ার প্রবণতা শ্রমিক ও ভোক্তাদের বিভক্ত করার পাশাপাশি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে। অধিগ্রহণ চুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হোক বা না হোক, ডেলিভারি কর্মীদের অধিকার রক্ষায় শহর কর্তৃপক্ষ কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করবে বলেও জানান তিনি।   ডোরড্যাশ ও ইনস্টাকার্টের ঘোষণায় বলা হয়েছে, চুক্তিটির আওতায় ইনস্টাকার্টের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৫ ডলার। অধিগ্রহণের মোট শেয়ারমূল্য প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। চুক্তিটি কার্যকর হলে দুই প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক একসঙ্গে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে অধিগ্রহণ সম্পন্ন করতে ইনস্টাকার্টের শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ছাড়পত্র প্রয়োজন। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৮ সালের প্রথমার্ধে চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে।   সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার, নিউ ইয়র্ক সিটির ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগ (ডিসিডব্লিউপি) এবং ডোরড্যাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ২১:৩১
আইসিইর আটক অভিযান

ক্যালিফোর্নিয়ায় চেহারা ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আইসিইর আটক অভিযান নিষিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বন্ড শুনানি নিয়ে নতুন রায়

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বন্ড শুনানি নিয়ে নতুন রায়, মুক্তির সুযোগে অনিশ্চয়তা

ছবি: মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান বা বসুরহাট পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মেরিল্যান্ড বিএনপি নেতা কাজল

বোরখা পরিহিত নারী
ফ্লোরিডায় সরকারি সভায় আজানের অডিও চালিয়ে বোরখা পরিহিত নারীর ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি মসজিদ সম্প্রসারণের বিরোধিতা চলাকালে সরকারি সভায় বোরখা পরে আজানের অডিও চালিয়েছেন এক নারী। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পিনেলাস কাউন্টি কমিশনের সভায় বক্তব্য দেওয়ার নির্ধারিত সময়ে তিনি মাইক্রোফোনের সামনে গিয়ে আজানের রেকর্ডিং চালু করেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপকে মৌন প্রতিবাদ হিসেবে দেখার সুযোগ থাকলেও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রায় এক মিনিট আজান চলার পর সভার চেয়ারম্যান রেকর্ডিং বন্ধের নির্দেশ দেন। নির্দেশ না মানায় পুলিশ তাঁকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।   ঘটনাটি ঘটে ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটারে পিনেলাস কাউন্টি বোর্ড অব কাউন্টি কমিশনার্সের সভায়। ওই দিন স্থানীয় একটি মসজিদ সম্প্রসারণের অনুমোদন নিয়ে বাসিন্দারা নিজেদের মতামত জানাচ্ছিলেন। কেউ সম্প্রসারণের পক্ষে, আবার কেউ এর বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন। এ সময় বোরখা পরা ওই নারী বক্তব্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হন। কিন্তু কোনো কথা না বলে তিনি একটি ডিভাইস থেকে আজানের অডিও চালু করেন।   আজানের রেকর্ডিং শুরু হলে সভাকক্ষে উপস্থিত ব্যক্তিদের দৃষ্টি তাঁর দিকে যায়। তিনি কোনো মৌখিক বক্তব্য না দিয়ে অডিও চালিয়ে যেতে থাকেন। প্রায় এক মিনিট পর কমিশনের চেয়ারম্যান ডেভ এগার্স তাঁকে রেকর্ডিং বন্ধ করতে বলেন। চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, কাউন্টি কমিশনের সভায় জনসাধারণের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকলেও আগে থেকে ধারণ করা অডিও বাজানোর অনুমতি নেই। নারীটি নির্দেশ না মানায় শেরিফ কার্যালয়ের একজন ডেপুটি তাঁর কাছে এগিয়ে যান।   এরপর পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীকে সভাকক্ষ থেকে বের করে ভবনের বাইরে নিয়ে যান। ঘটনাটি ঘিরে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। কেউ কেউ চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে ডেভ এগার্স সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সভায় প্রত্যেকের মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে, তবে সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।   পরে চেয়ারম্যান ব্যাখ্যা করেন, ওই নারীকে তাঁর পোশাক বা আজানের ধর্মীয় বিষয়বস্তুর কারণে বের করে দেওয়া হয়নি। বরং সভার নিয়ম অনুযায়ী রেকর্ডিং চালানোর অনুমতি না থাকায় তাঁকে তা বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা চাইলে কার্যক্রম রেকর্ড করতে পারেন, কিন্তু বক্তব্য দেওয়ার নির্ধারিত সময়ে রেকর্ড করা অডিও বাজাতে পারেন না। নির্দেশ না মানার কারণেই ওই নারীকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   তবে ঘটনাটি যে পরিবেশে ঘটেছে, সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মুসলিম কমিউনিটির অধিকার নিয়ে বিতর্ক চলছিল। স্থানীয় মাসজিদ আল রহমান নামের একটি মসজিদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে পিনেলাস কাউন্টিতে মতবিরোধ রয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর কাউন্টি কমিশন চার-তিন ভোটে মসজিদটির জমির ব্যবহারসংক্রান্ত একটি সংশোধনী অনুমোদন করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরোনো ভবনের পরিবর্তে প্রায় এক হাজার বর্গফুট বড় একটি নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   মসজিদ সম্প্রসারণের বিরোধিতাকারীদের একাংশ স্থানীয় যান চলাচল, ভবনের আকার এবং আশপাশের এলাকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে কয়েকজন বক্তা ইসলাম ধর্ম এবং মুসলিমদের উপাসনালয় সম্প্রসারণ নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন। একজন নারী দাবি করেন, মসজিদ সম্প্রসারণের অনুমোদন দিলে এলাকায় ইসলামের প্রভাব বাড়বে এবং তা নারীদের অধিকারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য ব্যক্তিগত মতামত, যা মুসলিম জনগোষ্ঠী সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়।   অন্যদিকে মসজিদ সম্প্রসারণের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপাসনালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাঁদের মতে, মসজিদ কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে আরও উপযোগী করতে এবং মক্কার দিকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুনভাবে নির্মাণ করতে চায়। কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, দীর্ঘদিন পাশাপাশি বসবাস করেও মসজিদের কার্যক্রম নিয়ে তাঁদের উল্লেখযোগ্য সমস্যা হয়নি। ফলে প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।   মসজিদটির সম্প্রসারণসংক্রান্ত সরকারি নথিতে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কাউন্টি কমিশনার ভিন্স নাউইকি জানতে চান, প্রকল্পটিকে সরাসরি মসজিদ হিসেবে উল্লেখ না করে কেন ‘কমিউনিটি অ্যাসেম্বলি ফ্যাসিলিটি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি নথিতে প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি সহজে বুঝতে পারেন। কাউন্টির পরিকল্পনাবিষয়ক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় জোনিং বিধিমালায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও জনসমাবেশের স্থাপনার জন্য বিস্তৃত শ্রেণিবিন্যাস ব্যবহার করা হয়।   এদিকে আজানের অডিও চালানো নারীর পরিচয় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি নিজে মুসলিম কি না, মসজিদ সম্প্রসারণের সমর্থক নাকি বিরোধী, অথবা তাঁর পদক্ষেপের মাধ্যমে ঠিক কী বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে নিশ্চিতভাবে ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে প্রতিবাদ কিংবা মসজিদের বিরোধিতায় পরিচালিত কোনো কর্মকাণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।   তবে সরকারি সভার মতো একটি আনুষ্ঠানিক পরিবেশে বক্তব্যের পরিবর্তে আজানের অডিও চালানোর ঘটনাটি উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ একে ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সভার নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছেন। কিন্তু ওই নারীর নিজের ব্যাখ্যা ছাড়া তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   পিনেলাস কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় জানিয়েছে, ওই নারীকে সভাকক্ষ থেকে বের করার পর আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগও আনা হবে না। ফলে আজানের অডিও চালানোর কারণে তিনি অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন কিংবা কোনো আইনি শাস্তি পেয়েছেন, এমন দাবি সঠিক নয়।   যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধানের প্রথম সংশোধনী দ্বারা সুরক্ষিত। মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্ধারণ এবং সভার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিছু নিয়ম প্রয়োগ করতে পারে। তবে এসব নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় বা বক্তব্যের বিষয়বস্তুর কারণে বৈষম্য করা যাবে না।   সব মিলিয়ে ফ্লোরিডার সরকারি সভায় বোরখা পরা নারীর আজানের অডিও চালানোর ঘটনা মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সভার চেয়ারম্যান নিয়ম ভঙ্গের কথা বলে তাঁকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও কোনো মামলা হয়নি। অন্যদিকে মাসজিদ আল রহমানের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ম এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সূত্র: ফক্স নিউজ

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৭:১৮
বয়স্ক সদস্য

বয়স্ক সদস্যের দেখাশোনায় বছরে পরিবারের খরচ ১১ হাজার ডলার, পাঁচ বছরে ব্যয় বেড়েছে ৫৯ শতাংশ

টেসলার মানবসদৃশ রোবট

ঘরের কাজে আসছে টেসলার মানবসদৃশ রোবট, গৃহিণীদের কাজ কতটা সহজ করবে নতুন প্রযুক্তি?

যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি থেকেই বাড়তি আয়ের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি থেকেই বাড়তি আয়ের সুযোগ, চাকরি না থাকলেও রয়েছে একাধিক পথ

0 Comments