সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বয়স্ক সদস্যের দেখাশোনায় বছরে পরিবারের খরচ ১১ হাজার ডলার, পাঁচ বছরে ব্যয় বেড়েছে ৫৯ শতাংশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৬:৫৬
বয়স্ক সদস্য
বয়স্ক সদস্য

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের বয়স্ক, অসুস্থ কিংবা প্রতিবন্ধী সদস্যের দেখাশোনা করতে গিয়ে ক্রমেই বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন স্বজনেরা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির যত্ন নিতে একজন সেবাদানকারীকে বছরে গড়ে নিজের পকেট থেকে ১১ হাজার ৫০৮ ডলার খরচ করতে হচ্ছে। ২০২১ সালে এই ব্যয় ছিল ৭ হাজার ২৪২ ডলার। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে খরচ বেড়েছে প্রায় ৫৯ শতাংশ। একই সঙ্গে পরিচর্যার দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেককে চাকরির সময়সূচি পরিবর্তন, সঞ্চয় কমানো কিংবা ঋণ নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এএআরপি বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক গবেষণায় এসব তথ্য জানিয়েছে। ২০২৬ সালের জুন ও জুলাইয়ে ২ হাজার ৫৩৮ জন পারিবারিক সেবাদানকারীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, পরিচর্যার ব্যয় একজন সেবাদানকারীর পরিবারের বার্ষিক আয়ের গড়ে ৩১ শতাংশের সমান। ফলে নিজেদের সংসারের খরচের পাশাপাশি অন্যের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে পরিবারের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হচ্ছে।

 

এএআরপির হিসাব অনুযায়ী, বছরে ১১ হাজার ৫০৮ ডলার খরচের অর্থ মাসে গড়ে প্রায় ৯৫৯ ডলার। এই অর্থ শুধু চিকিৎসার জন্য ব্যয় হচ্ছে না। খাবার, বাসস্থান, ওষুধ, যাতায়াত, চিকিৎসাসামগ্রী এবং বাড়িতে পরিচর্যার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খরচ এর অন্তর্ভুক্ত। অনেক পরিবারকে বয়স্ক সদস্যের চলাচলের সুবিধার্থে বাড়িতে পরিবর্তন আনতে হয়। আবার কর্মজীবী সেবাদানকারীদের কেউ কেউ কাজের সময় পরিবারের সদস্যের দেখাশোনার জন্য অন্য ব্যক্তির সহায়তা নেন।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, পরিচর্যাসংক্রান্ত ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ যাচ্ছে বাসস্থান ও গৃহস্থালির প্রয়োজনে। এই খাতে বছরে গড়ে ৪ হাজার ৭৯৭ ডলার খরচ হচ্ছে, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৪২ শতাংশ। চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যয় বছরে গড়ে ৩ হাজার ৩১৩ ডলার, যা মোট খরচের প্রায় ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ বাসস্থান ও চিকিৎসা মিলিয়ে একজন সেবাদানকারীর মোট ব্যয়ের প্রায় ৭১ শতাংশ চলে যাচ্ছে।

 

চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যয়ের মধ্যেও একাধিক খাত রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম, কো-পে, কো-ইনস্যুরেন্স এবং সরাসরি চিকিৎসাসেবার মূল্য পরিশোধে চিকিৎসা খরচের ৩৭ শতাংশের বেশি ব্যয় হচ্ছে। এর বাইরে প্রেসক্রিপশন ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার খরচও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিমা থাকলেও সব ধরনের সেবার ব্যয় পুরোপুরি বহন করা হয় না। ফলে পরিবারের সদস্যদের নিজেদের পকেট থেকে অর্থ দিতে হচ্ছে।

 

কম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর এই চাপ আরও বেশি। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৪০ হাজার ডলারের কম, তাদের পরিচর্যার জন্য বছরে গড়ে ১১ হাজার ৪৪৮ ডলার খরচ হচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, এই ব্যয় সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারীদের পরিবারের বার্ষিক আয়ের গড়ে ৭৬ শতাংশের সমান। তবে ৭৬ শতাংশ একটি জরিপভিত্তিক গড় অনুপাত, সব পরিবারের আয়ের একই অংশ ব্যয় হচ্ছে এমন নয়। এর ফলে বাড়িভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ বিল ও নিজেদের চিকিৎসার মতো প্রয়োজনীয় খরচ চালানো অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

 

অন্যদিকে আলঝেইমার কিংবা অন্য ধরনের ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের দেখাশোনার ব্যয় তুলনামূলক বেশি। এ ধরনের রোগীর পরিচর্যায় বছরে গড়ে ১৫ হাজার ৮৪৬ ডলার খরচ করছেন সেবাদানকারীরা। ডিমেনশিয়া নেই এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গড় ব্যয় ১০ হাজার ২২১ ডলার। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দৈনন্দিন কাজে সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এসব কারণে পরিচর্যার খরচও বেড়ে যেতে পারে।

 

শুধু অর্থনৈতিক ব্যয় নয়, পরিবারের সদস্যের দেখাশোনার দায়িত্ব কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া কর্মজীবী সেবাদানকারীদের ৬৫ শতাংশ জানিয়েছেন, পরিচর্যার কারণে তাঁদের চাকরি বা কাজের সময়সূচিতে অন্তত একবার পরিবর্তন আনতে হয়েছে। কেউ কাজের সময় কমিয়েছেন, কেউ ছুটি নিয়েছেন, আবার কেউ পরিচর্যার খরচ মেটাতে অতিরিক্ত কাজ করেছেন। এসব পরিবর্তন পরিবারের বর্তমান আয় এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনার ওপরও প্রভাব ফেলছে।

 

এএআরপির গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাঁরা পরিচর্যার দায়িত্ব পালনের জন্য পরিকল্পনার আগেই অবসরে গেছেন, তাঁদের বছরে গড়ে ১৮ হাজার ৯৪০ ডলার খরচ হচ্ছে। এটি জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি। আগেভাগে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কারণে নিয়মিত আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি অবসরকালীন সঞ্চয় বাড়ানোর সুযোগও সীমিত হয়ে যেতে পারে। ফলে পরিবারের অন্য সদস্যের যত্ন নিতে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

 

গবেষণায় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ব্যয়ের মধ্যেও পার্থক্য পাওয়া গেছে। এশীয় আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জীয় বংশোদ্ভূত সেবাদানকারীদের বছরে গড় ব্যয় ১৬ হাজার ৭১৬ ডলার, যা জরিপে অন্তর্ভুক্ত জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গ সেবাদানকারীরা নিজেদের পরিবারের বার্ষিক আয়ের গড়ে ৫২ শতাংশ পরিচর্যার পেছনে ব্যয় করছেন। তবে এসব পরিসংখ্যান থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য পৃথক গড় খরচ নির্ধারণ করা যায় না।

 

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে পরিবারের সদস্য বা পরিচিত ব্যক্তির নিয়মিত যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন বলে এএআরপি জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে বিনা বেতনে এই দায়িত্ব পালন করেন। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, ওষুধ খাওয়ার সময় মনে করিয়ে দেওয়া, খাবার তৈরি এবং দৈনন্দিন চলাফেরায় সহায়তার মতো কাজ তাঁদের নিয়মিত করতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পরিবারগুলো প্রিয়জনের পাশে থাকতে পারলেও সেবাদানকারীদের ওপর আর্থিক ও সময়ের চাপ তৈরি হচ্ছে।

 

এএআরপির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেবরা হুইটম্যান জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের পরিচর্যায় বছরে সাড়ে ১১ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় অনেক মানুষের আর্থিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। তাঁর মতে, এই পরিমাণ অর্থ গড় সোশ্যাল সিকিউরিটি রিটায়ারমেন্ট সুবিধার প্রায় অর্ধবছরের সমান। অন্যদিকে সংস্থাটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ন্যান্সি লিয়ামন্ড বলেছেন, পরিবারের সদস্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তা হারানো উচিত নয়।

 

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিচর্যাকারীদের জন্য ট্যাক্স ক্রেডিট, সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়িতে সেবা, সাময়িক বিকল্প পরিচর্যার ব্যবস্থা এবং চাকরির সুরক্ষাসহ বেতনযুক্ত পারিবারিক ছুটির সুযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে এএআরপি। পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী পরিবারের সদস্যদের পরিচর্যার জন্য অর্থ দেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব সব অঙ্গরাজ্যে কার্যকর কোনো নতুন সরকারি সুবিধার ঘোষণা নয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা বয়স্ক বাবা-মা, অসুস্থ স্বজন বা প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যের দেখাশোনা করছেন, তাঁদের জন্য চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের পাশাপাশি চাকরির সময় সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। অঙ্গরাজ্যভেদে মেডিকেইডের হোম অ্যান্ড কমিউনিটি-বেইজড সার্ভিসেস, স্থানীয় প্রবীণসেবা সংস্থা এবং কর্মক্ষেত্রের ছুটিসংক্রান্ত সুবিধা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। তবে এসব সুবিধার যোগ্যতা ও প্রাপ্যতা এক নয়।

 

এএআরপির সর্বশেষ গবেষণা দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যের যত্ন নেওয়া এখন অনেক মানুষের জন্য বড় আর্থিক দায়িত্ব। পাঁচ বছরে খরচ প্রায় ৫৯ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি কর্মজীবন, সঞ্চয় এবং অবসর পরিকল্পনাতেও এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে কম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর চাপ বেশি। ফলে পরিচর্যাকারীদের আর্থিক সহায়তা এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বোরখা পরিহিত নারী
ফ্লোরিডায় সরকারি সভায় আজানের অডিও চালিয়ে বোরখা পরিহিত নারীর ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি মসজিদ সম্প্রসারণের বিরোধিতা চলাকালে সরকারি সভায় বোরখা পরে আজানের অডিও চালিয়েছেন এক নারী। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পিনেলাস কাউন্টি কমিশনের সভায় বক্তব্য দেওয়ার নির্ধারিত সময়ে তিনি মাইক্রোফোনের সামনে গিয়ে আজানের রেকর্ডিং চালু করেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপকে মৌন প্রতিবাদ হিসেবে দেখার সুযোগ থাকলেও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রায় এক মিনিট আজান চলার পর সভার চেয়ারম্যান রেকর্ডিং বন্ধের নির্দেশ দেন। নির্দেশ না মানায় পুলিশ তাঁকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।   ঘটনাটি ঘটে ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটারে পিনেলাস কাউন্টি বোর্ড অব কাউন্টি কমিশনার্সের সভায়। ওই দিন স্থানীয় একটি মসজিদ সম্প্রসারণের অনুমোদন নিয়ে বাসিন্দারা নিজেদের মতামত জানাচ্ছিলেন। কেউ সম্প্রসারণের পক্ষে, আবার কেউ এর বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন। এ সময় বোরখা পরা ওই নারী বক্তব্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হন। কিন্তু কোনো কথা না বলে তিনি একটি ডিভাইস থেকে আজানের অডিও চালু করেন।   আজানের রেকর্ডিং শুরু হলে সভাকক্ষে উপস্থিত ব্যক্তিদের দৃষ্টি তাঁর দিকে যায়। তিনি কোনো মৌখিক বক্তব্য না দিয়ে অডিও চালিয়ে যেতে থাকেন। প্রায় এক মিনিট পর কমিশনের চেয়ারম্যান ডেভ এগার্স তাঁকে রেকর্ডিং বন্ধ করতে বলেন। চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, কাউন্টি কমিশনের সভায় জনসাধারণের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকলেও আগে থেকে ধারণ করা অডিও বাজানোর অনুমতি নেই। নারীটি নির্দেশ না মানায় শেরিফ কার্যালয়ের একজন ডেপুটি তাঁর কাছে এগিয়ে যান।   এরপর পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীকে সভাকক্ষ থেকে বের করে ভবনের বাইরে নিয়ে যান। ঘটনাটি ঘিরে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। কেউ কেউ চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে ডেভ এগার্স সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সভায় প্রত্যেকের মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে, তবে সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।   পরে চেয়ারম্যান ব্যাখ্যা করেন, ওই নারীকে তাঁর পোশাক বা আজানের ধর্মীয় বিষয়বস্তুর কারণে বের করে দেওয়া হয়নি। বরং সভার নিয়ম অনুযায়ী রেকর্ডিং চালানোর অনুমতি না থাকায় তাঁকে তা বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা চাইলে কার্যক্রম রেকর্ড করতে পারেন, কিন্তু বক্তব্য দেওয়ার নির্ধারিত সময়ে রেকর্ড করা অডিও বাজাতে পারেন না। নির্দেশ না মানার কারণেই ওই নারীকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   তবে ঘটনাটি যে পরিবেশে ঘটেছে, সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মুসলিম কমিউনিটির অধিকার নিয়ে বিতর্ক চলছিল। স্থানীয় মাসজিদ আল রহমান নামের একটি মসজিদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে পিনেলাস কাউন্টিতে মতবিরোধ রয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর কাউন্টি কমিশন চার-তিন ভোটে মসজিদটির জমির ব্যবহারসংক্রান্ত একটি সংশোধনী অনুমোদন করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরোনো ভবনের পরিবর্তে প্রায় এক হাজার বর্গফুট বড় একটি নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   মসজিদ সম্প্রসারণের বিরোধিতাকারীদের একাংশ স্থানীয় যান চলাচল, ভবনের আকার এবং আশপাশের এলাকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে কয়েকজন বক্তা ইসলাম ধর্ম এবং মুসলিমদের উপাসনালয় সম্প্রসারণ নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন। একজন নারী দাবি করেন, মসজিদ সম্প্রসারণের অনুমোদন দিলে এলাকায় ইসলামের প্রভাব বাড়বে এবং তা নারীদের অধিকারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য ব্যক্তিগত মতামত, যা মুসলিম জনগোষ্ঠী সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়।   অন্যদিকে মসজিদ সম্প্রসারণের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপাসনালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাঁদের মতে, মসজিদ কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে আরও উপযোগী করতে এবং মক্কার দিকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুনভাবে নির্মাণ করতে চায়। কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, দীর্ঘদিন পাশাপাশি বসবাস করেও মসজিদের কার্যক্রম নিয়ে তাঁদের উল্লেখযোগ্য সমস্যা হয়নি। ফলে প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।   মসজিদটির সম্প্রসারণসংক্রান্ত সরকারি নথিতে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কাউন্টি কমিশনার ভিন্স নাউইকি জানতে চান, প্রকল্পটিকে সরাসরি মসজিদ হিসেবে উল্লেখ না করে কেন ‘কমিউনিটি অ্যাসেম্বলি ফ্যাসিলিটি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি নথিতে প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি সহজে বুঝতে পারেন। কাউন্টির পরিকল্পনাবিষয়ক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় জোনিং বিধিমালায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও জনসমাবেশের স্থাপনার জন্য বিস্তৃত শ্রেণিবিন্যাস ব্যবহার করা হয়।   এদিকে আজানের অডিও চালানো নারীর পরিচয় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি নিজে মুসলিম কি না, মসজিদ সম্প্রসারণের সমর্থক নাকি বিরোধী, অথবা তাঁর পদক্ষেপের মাধ্যমে ঠিক কী বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে নিশ্চিতভাবে ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে প্রতিবাদ কিংবা মসজিদের বিরোধিতায় পরিচালিত কোনো কর্মকাণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।   তবে সরকারি সভার মতো একটি আনুষ্ঠানিক পরিবেশে বক্তব্যের পরিবর্তে আজানের অডিও চালানোর ঘটনাটি উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ একে ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সভার নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছেন। কিন্তু ওই নারীর নিজের ব্যাখ্যা ছাড়া তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   পিনেলাস কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় জানিয়েছে, ওই নারীকে সভাকক্ষ থেকে বের করার পর আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগও আনা হবে না। ফলে আজানের অডিও চালানোর কারণে তিনি অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন কিংবা কোনো আইনি শাস্তি পেয়েছেন, এমন দাবি সঠিক নয়।   যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধানের প্রথম সংশোধনী দ্বারা সুরক্ষিত। মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্ধারণ এবং সভার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিছু নিয়ম প্রয়োগ করতে পারে। তবে এসব নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় বা বক্তব্যের বিষয়বস্তুর কারণে বৈষম্য করা যাবে না।   সব মিলিয়ে ফ্লোরিডার সরকারি সভায় বোরখা পরা নারীর আজানের অডিও চালানোর ঘটনা মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সভার চেয়ারম্যান নিয়ম ভঙ্গের কথা বলে তাঁকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও কোনো মামলা হয়নি। অন্যদিকে মাসজিদ আল রহমানের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ম এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সূত্র: ফক্স নিউজ

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৭:১৮
বয়স্ক সদস্য

বয়স্ক সদস্যের দেখাশোনায় বছরে পরিবারের খরচ ১১ হাজার ডলার, পাঁচ বছরে ব্যয় বেড়েছে ৫৯ শতাংশ

টেসলার মানবসদৃশ রোবট

ঘরের কাজে আসছে টেসলার মানবসদৃশ রোবট, গৃহিণীদের কাজ কতটা সহজ করবে নতুন প্রযুক্তি?

যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি থেকেই বাড়তি আয়ের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি থেকেই বাড়তি আয়ের সুযোগ, চাকরি না থাকলেও রয়েছে একাধিক পথ

হারলেমে গান গেয়ে একাকিত্বের বিরুদ্ধে লড়ছেন প্রবীণেরা
স্মৃতি হারালেও হারায়নি সুরের টান, হারলেমে গান গেয়ে একাকিত্বের বিরুদ্ধে লড়ছেন প্রবীণেরা

নিউইয়র্কের হারলেমে স্মৃতিশক্তির সমস্যায় থাকা মানুষদের জীবনে আনন্দ ও সামাজিক যোগাযোগ ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে একটি বিশেষ সংগীতদল। ‘দ্য আনফরগেটেবলস’ নামের এই দলটিতে অংশ নিচ্ছেন স্মৃতিভ্রংশসহ বিভিন্ন ধরনের স্মৃতিজনিত সমস্যায় থাকা মানুষ এবং তাঁদের পরিচর্যাকারীরা।   ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এ সিবিএস নিউইয়র্কের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু গান শেখানো নয়; বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষ একসঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন, অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন এবং নিজেদের একাকিত্ব কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবেন।    স্মৃতিশক্তি কমে গেলে অনেক মানুষের দৈনন্দিন জীবন কঠিন হয়ে ওঠে। পরিচিত মানুষের নাম ভুলে যাওয়া, সাম্প্রতিক ঘটনা মনে রাখতে না পারা কিংবা সাধারণ কথোপকথনে অসুবিধা তৈরি হওয়া তাঁদের সামাজিক জীবনকেও প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও পরিচর্যাকারীদের ওপরও বাড়তি দায়িত্ব এসে পড়ে।   এমন পরিস্থিতিতে সংগীত একটি অর্থবহ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। পরিচিত সুর, ছন্দ এবং একসঙ্গে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। সংগীতচিকিৎসক ডা. কেন্দ্রা রে সিবিএস নিউইয়র্ককে জানান, মানুষের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে গেলেও সংগীতের সঙ্গে পরিচিতি ও আবেগের সংযোগ অনেক সময় দীর্ঘদিন বজায় থাকতে পারে।    এই উদ্যোগে পরিচর্যাকারীদের অংশগ্রহণও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যাঁরা প্রতিদিন প্রিয়জনের দেখাশোনা করেন, তাঁদের জন্যও অন্য পরিবারের মানুষের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি হয়। পরিচর্যার দায়িত্বের বাইরে নিজেদের জন্য কিছু সময় পাওয়া এবং সামাজিকভাবে যুক্ত থাকা তাঁদের জীবনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।   সামাজিক যোগাযোগ, অর্থপূর্ণ কার্যক্রম এবং নিয়মিত মানুষের সঙ্গে মেলামেশা প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। তবে গান গাওয়া স্মৃতিভ্রংশের চিকিৎসা বা নিরাময় নয়; এটি সহায়ক কার্যক্রম হিসেবে উপকার দিতে পারে।   হারলেমের এই উদ্যোগের মানবিক বার্তা হলো—স্মৃতিশক্তি দুর্বল হলেও মানুষের অনুভূতি, সম্পর্ক ও একসঙ্গে থাকার প্রয়োজন শেষ হয়ে যায় না। কখনো পরিচিত একটি সুর, কখনো অন্য কারও সঙ্গে গলা মেলানো, আবার কখনো একটি হাসি—এসব ছোট মুহূর্তও মানুষের জীবনে আনন্দ ফিরিয়ে আনতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৪:৩০
শোকের ছায়া এলাকায়

ব্রুকলিনে এক মুহূর্তেই থেমে গেল ৩০ বছর বয়সী নারীর জীবন, শোকের ছায়া এলাকায়

নিউইয়র্কে শীতের বিল দিতে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার সহায়তা

নিউইয়র্কে শীতের বিল দিতে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার সহায়তা, ২ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে সাদ্দাম হোসেনকে অর্থায়নের অভিযোগ থাকা চ্যারিটির বোর্ডে মিশিগানের সিনেট প্রার্থীর বাবা
যুক্তরাষ্ট্রে সাদ্দাম হোসেনকে অর্থায়নের অভিযোগ থাকা চ্যারিটির বোর্ডে মিশিগানের সিনেট প্রার্থীর বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সেনেট পদপ্রার্থী আবদুল এল-সাঈদের বাবার বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গেছে, তার বাবা ইমাম ড. মোহাম্মদ এল-সাঈদ এমন একটি ইসলামিক চ্যারিটি সংস্থার বোর্ডে যুক্ত রয়েছেন, যেটির বিরুদ্ধে একসময় ইরাকের প্রয়াত একনায়ক সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগ ছিল।   কর সংক্রান্ত নথিপত্র অনুযায়ী, ড. মোহাম্মদ অন্তত ২০২০ সাল থেকে ‘লাইফ ফর রিলিফ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (এলআরডি) নামের ওই চ্যারিটির বোর্ড সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। ওয়াশিংটন ফ্রি বিকন-এর এক প্রতিবেদনে সাদ্দাম হোসেনকে অর্থায়নকারী এই চ্যারিটির সাথে সিনিয়র এল-সাঈদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রথম সামনে আনা হয়।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং এফবিআই বাগদাদে এলআরডি-এর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ২০ বাক্স নথিপত্র ও ১২টি কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত করেছিল। তখন সংস্থাটির বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সহায়তার সন্দেহ করা হয়েছিল।   পরবর্তীতে চ্যারিটিটির জনসংযোগ সমন্বয়ক মুথান্না আল-হানুতির বিরুদ্ধে সাদ্দাম সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয় এবং তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘনের দায় স্বীকার করেন।   মার্কিন সরকারের অভিযোগ ছিল, সংস্থাটি জর্ডান হয়ে ইরাকে সাদ্দামের কাছে আমেরিকার তহবিল পাচারের ষড়যন্ত্র করেছিল। ওই সময় মার্কিন সরকার জানিয়েছিল, এলআরডি-এর সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা পর্ষদ এই নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি জানত এবং তারাই জর্ডানের মাধ্যমে ইরাকে অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। শেষমেশ ২০১৪ সালে ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বিশাল জরিমানার বিনিময়ে মার্কিন সরকারের সাথে রফা করতে বাধ্য হয় সংস্থাটি।   সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে অর্থ পাঠানোর ইতিহাস ছাড়াও সংস্থাটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। ২০০৬ সালে মিশিগান-ভিত্তিক এই চ্যারিটিতে এফবিআই অভিযান চালায় এবং ২০০৭ সালে এর তৎকালীন প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগে গ্র্যান্ড জুরিতে অভিযোগ গঠন করা হয়। ওই সময় এফবিআই 'ইসলামিক আফ্রিকান রিলিফ এজেন্সি' সম্পর্কিত বিভিন্ন নথি বাজেয়াপ্ত করে, যা পরবর্তীতে আল-কায়েদাকে সমর্থন করার দায়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।   উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এল-সাঈদের জন্মদাত্রী মা ফাতেন ফাথি এলকোমিও কিছু সময় ওই আফ্রিকান রিলিফ এজেন্সিতে কাজ করেছিলেন। এছাড়া, এলআরডি এমন একটি সংস্থাকেও অর্থ পাঠিয়েছিল, যেটিকে পরে হামাসের জর্ডান শাখা বলে চিহ্নিত করে এফবিআই। এল-সাঈদের শ্বশুর জুকাকু তায়েবও একসময় এলআরডি-এর বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।   এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে মন্তব্য জানতে দ্য পোস্টের পক্ষ থেকে এল-সাঈদের নির্বাচনী প্রচার শিবির এবং এলআরডি-এর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে, রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকস-এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের চেয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন আবদুল এল-সাঈদ। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে পরিবারের এমন বিতর্কিত অতীত সামনে আসায় তার ভোটব্যাংকে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১২:৪৪
প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে ইনস্টাকার্টকে অধিগ্রহণের চুক্তি করেছে খাবার ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ডোরড্যাশ। ছবি: সংগৃহীত

১৭ বিলিয়ন ডলারে ইনস্টাকার্ট কিনছে ডোরড্যাশ, এক ছাতার নিচে আসছে দুই ডেলিভারি জায়ান্ট

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে ফেরা ক্রিস্টা পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড বহাল রাখার ইঙ্গিত গভর্নরের

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে ফেরা ক্রিস্টা পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড বহাল রাখার ইঙ্গিত গভর্নরের

জানুয়ারি থেকে আমেরিকায় বাড়তি ভাতা

জানুয়ারি থেকে আমেরিকায় বাড়তি ভাতা, কারা পাবেন মাসে আরও ৭৫ ডলার

0 Comments