১৬ ঘণ্টার টহল উড়ান, আকাশেই জ্বালানি নেওয়ার সক্ষমতা পরীক্ষা রুশ টিইউ–১৬০-এর
রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী বোমারু বিমান টিইউ–১৬০ ব্যারেন্টস সাগর ও নরওয়েজিয়ান সাগরের ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় টানা ১৬ ঘণ্টা টহল উড়ান সম্পন্ন করেছে। এ সময় আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি নেওয়ার সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় মন্ত্রণালয় জানায়, এটি ছিল নিয়মিত টহলের অংশ। দীর্ঘ এই উড়ানের সময় বোমারু বিমানটির সঙ্গে ছিল মিগ–৩১ যুদ্ধবিমান, যা নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ ঘণ্টার এই মিশনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিদেশি যুদ্ধবিমানও আকাশে উপস্থিত হয়ে টিইউ–১৬০-কে অনুসরণ বা নজরদারি করেছে। তবে সেসব যুদ্ধবিমান কোন দেশের ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আকাশে জ্বালানি গ্রহণের সক্ষমতা যাচাই করা এই ধরনের মহড়া দীর্ঘপাল্লার অভিযানে কৌশলগত বোমারু বিমানের কার্যকারিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চলে টানা টহল বা নজরদারি চালাতে এ ধরনের প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও এ অঞ্চলের গুরুত্ব অনেক। রাশিয়ার উত্তরে ন্যাটোভুক্ত দেশ নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে, ফলে এই এলাকায় সামরিক তৎপরতা প্রায়ই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর কাড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা জোট ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উড়ানকে অনেকেই শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেও দেখছেন।
তবে মস্কোর দাবি, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই তাদের বিমানগুলো এই টহল পরিচালনা করেছে এবং এতে কোনো আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreকানাডায় টিউটর উড়োজাহাজে শেষ পাবলিক এয়ার শো শেষ করেছে রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের স্নোবার্ডস। গ্যাটিনো-অটোয়া এলাকায় আয়োজিত অ্যারো গ্যাটিনো-অটোয়া শো শেষে দলটি তাদের ঘাঁটি মোজ জ-তে ফিরছে। পরিবারের সঙ্গে স্বল্প সময়ের বিশ্রামের পর আবার শেষ প্রদর্শনীর প্রস্তুতি নেবে দলটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় স্নোবার্ডস জানায়, অ্যারো গ্যাটিনো-অটোয়া ছিল কানাডায় টিউটর উড়োজাহাজে তাদের শেষ পাবলিক শো। আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে দলটি বলেছে, গত ৫৫ বছর ধরে তাদের প্রতিটি প্রদর্শনী সম্ভব হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় আয়োজকদের সহযোগিতায়। স্নোবার্ডসের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে কানাডার বিভিন্ন বিমানঘাঁটি, সমুদ্রসৈকত ও বিভিন্ন এলাকার মানুষের সামনে তারা প্রদর্শনী করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে কানাডীয়দের সমর্থন তাদের আরও উঁচুতে উড়তে এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়। তবে টিউটর যুগের সমাপ্তি হলেও স্নোবার্ডসের প্রদর্শনী পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। দলটি জানিয়েছে, কানাডীয়দের সঙ্গে তাদের শেষ সাক্ষাৎ হবে ক্যালগেরিতে গ্রে কাপ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে। স্নোবার্ডস বলেছে, টিউটর উড়োজাহাজের যুগ শেষের দিকে এগোলেও দলের সেই চেতনা অব্যাহত থাকবে। ৫৫ বছরের এই অধ্যায়ের জন্য কানাডার জনগণ, স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা ক্যালগেরিতে আবার দেখা করার বার্তা দিয়েছে। রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের স্নোবার্ডস কানাডার অন্যতম পরিচিত সামরিক এয়ার শো দল। দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও এয়ার শোতে দলীয় উড্ডয়ন প্রদর্শনের মাধ্যমে কানাডার প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। সোর্স: রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্স স্নোবার্ডস
ইরান যুদ্ধ ও কূটনীতির টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে ওঠানামা করছে তেলের দাম
আকাশপথে কানাডায় ঢুকেই অ্যাসাইলাম চাইলেন মার্কিন নারী, হাতে ছিল চিরকুট
গাজায় হুইলচেয়ার, টয়লেটও প্রবেশে নিষেধ করেছে ইসরাইল
ইংল্যান্ডের কেন্টে বাড়ির রান্নাঘর সম্প্রসারণের কাজ করতে গিয়ে প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো মানুষের কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় এক দম্পতির বাড়ি পরিণত হয়েছিল সম্ভাব্য অপরাধস্থলে। ২০১৯ সালের সেই ঘটনায় পুলিশ ও বিশেষজ্ঞরা তদন্ত শুরু করলেও পরে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ আধুনিক কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ছয় বছর পর চলতি বছরের আগস্টে স্থানীয় একটি গির্জার কবরস্থানে সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সমাহিত করা হয়েছে। ঘটনাটি ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কেন্টের ওয়াই এলাকায়। ২০১৯ সালের বসন্তে ৪৯ বছর বয়সী রস স্লেজার কর্মস্থলে ছিলেন। এ সময় তার বাড়িতে রান্নাঘর সম্প্রসারণের কাজ করছিলেন এক নির্মাণশ্রমিক। মাটি খোঁড়ার সময় তিনি কিছু হাড় দেখতে পান। প্রথমে স্লেজারও বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তার ধারণা ছিল, এগুলো হয়তো কোনো খামারের প্রাণী বা পোষা প্রাণীর হাড়। কিন্তু নির্মাণশ্রমিক জানান, হাড়গুলো মানুষের হতে পারে। বিষয়টি জানার পর স্লেজার বাড়িতে ফিরে এসে বুঝতে পারেন, ঘটনাটি সাধারণ কোনো নির্মাণকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িটিতে যায় এবং জায়গাটিকে সম্ভাব্য অপরাধস্থল হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করে। প্রায় ১০ জন পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে তদন্তকারীরা আরও একজন মানুষের দেহাবশেষের অংশ খুঁজে পান। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া অংশগুলোর মধ্যে ছিল একটি উরুর হাড়, দুটি মাথার খুলি, পাঁজরের হাড়, শ্রোণিচক্রের একটি অংশ এবং বাহু ও আঙুলের হাড়ের কিছু অংশ। স্লেজার পরে জানান, পুলিশি তদন্তের কারণে তার বাড়ির পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। রাতেও সেখানে পুলিশ পাহারা ছিল। একজন কর্মকর্তা গাড়িতে অবস্থান করতেন এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর গাড়ি থেকে বের হয়ে জায়গাটি পর্যবেক্ষণ করতেন। গাড়ির আলোতে প্রতিবেশীদের বাড়ির বাতি জ্বলে উঠত এবং তার কুকুরও ঘেউ ঘেউ করত। ফলে সে রাতে তাদের ঘুমাতেও সমস্যা হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে প্রাথমিক তদন্তের প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া হাড়গুলো আধুনিক সময়ের কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। পরে পরীক্ষায় এগুলোকে অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগের মানুষের দেহাবশেষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বয়স আনুমানিক এক হাজার বছর বলে ধারণা করা হয়। এরপরও স্লেজার পরিবারের জন্য বিষয়টি পুরোপুরি শেষ হয়নি। বাড়ির বাগানে কৃত্রিম ঘাস বসানোর সময় স্লেজার আরও কিছু হাড়ের অংশ দেখতে পান। সেগুলো দেখে আবারও তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন, কারণ নির্মাণকাজ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন। তবে পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, এগুলোও একই প্রাচীন দেহাবশেষের অংশ। পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পর হাড়গুলো স্থানীয় ঐতিহাসিক সংগঠনের কাছে রাখা হয়। পরে সেগুলো স্থানীয় গির্জার পুরোহিতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে প্রাচীন দেহাবশেষ কোথায় এবং কীভাবে সমাহিত করা হবে, তা নির্ধারণ করতে কিছুটা সময় লাগে। প্রয়োজনীয় অনুমতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে দাফন পিছিয়ে যায় বলে স্লেজার জানান। অবশেষে ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট ওয়াইয়ের সেন্ট গ্রেগরি অ্যান্ড সেন্ট মার্টিন চার্চের কবরস্থানে দেহাবশেষগুলো পুনরায় সমাহিত করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ২৫ জনের বেশি মানুষ অংশ নেন। গির্জার রেক্টর রেভারেন্ড রবি হলি বলেন, দেহাবশেষগুলোর পরিচয় জানা না গেলেও তারা মানুষ ছিলেন এবং তাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়াই উচিত। অনুষ্ঠানে উইলিয়াম ব্লেকের বিখ্যাত গান ‘জেরুজালেম’ গাওয়া হয়। স্লেজার বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেহাবশেষগুলোর একটি যথাযথ শেষ ঠিকানা হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষও তাদের সম্মান জানানোর সুযোগ পেয়েছেন। স্থানীয় ইতিহাসও এই আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িত। ওয়াই হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির আর্কাইভিস্ট মোরিন ডি-স্যাক্স জানান, ওই এলাকায় ১৯৩০-এর দশকে বাড়িঘর নির্মাণের সময়ও কয়েকটি কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। ফলে জায়গাটিতে প্রাচীন সমাধিস্থল থাকার সম্ভাবনার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আগে থেকেই কিছুটা জানা ছিল। সাধারণ একটি বাড়ির সংস্কারকাজ থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত স্থানীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। প্রথমে সম্ভাব্য অপরাধের তদন্ত, পরে প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং সবশেষে যথাযথ সমাহিতকরণ, প্রায় এক হাজার বছর আগের অজ্ঞাত দুই মানুষের দেহাবশেষকে ঘিরে ছয় বছর ধরে চলা এই ঘটনাটির সমাপ্তি হয়েছে স্থানীয় গির্জার কবরস্থানে।
বিদেশি হামলা মোকাবিলায় সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি
সাগরের তলদেশে সোলার প্যানেল বসিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা বিজ্ঞানীদের সাফল্য
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। তবে তার সফরসঙ্গী হিসেবে নিযুক্ত গণমাধ্যম ও যোগাযোগ দলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে জাতিসংঘের ৮১তম বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে একটি বিশেষ যোগাযোগ ও সংবাদকর্মী দলের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাদের ভিসা আবেদন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পেজেশকিয়ানের এটিই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। আগামী বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই ঘটনাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নজিরবিহীন ও বৈরী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে ইরনা। আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজও একই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ আব্বাসির বরাতে তারা জানায়, প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দলকে ভিসা না দেওয়া হলেও নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোর খবর জনসাধারণের কাছে ঠিকই পৌঁছে দেওয়া হবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মাসুদ পেজেশকিয়ানই প্রথম কোনো উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। তবে ভিসা দিলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবার ইরানি প্রতিনিধিদলের ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এমনকি নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তারা কোনো বিলাসবহুল পণ্য বা নির্দিষ্ট কিছু সামগ্রী কিনতে পারবেন না বলেও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউইয়র্কে অবস্থিত হওয়ায় চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিতে যুক্তরাষ্ট্র একপ্রকার বাধ্য। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা বৈদেশিক নীতির কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন সময় মার্কিন প্রশাসন বেশ কিছু দেশের প্রতিনিধি ও তাদের সফরসঙ্গীদের ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা এই বৈরিতার কারণে প্রায়ই ইরানি কর্মকর্তাদের ভিসা প্রদানে জটিলতা সৃষ্টি করে ওয়াশিংটন। এর আগেও বিভিন্ন সময় জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা প্রদানে বিলম্ব বা সরাসরি অস্বীকৃতির ঘটনা ঘটেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনারই একটি নতুন রূপ এই ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ইরানের সম্পর্ক বেশ শীতল। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের ভিসা না দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজক দেশের ভূমিকা এবং ভিসা নীতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। সাধারণত ভিসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার কথা বলে মার্কিন প্রশাসন এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে। সূত্র: ইরনা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
বিচার শেষ হওয়ার আগেই ইতালিতে ইমাম ডিপোর্ট! যে আইনে নড়ল আবাসনও, জানুন
পড়তে-লিখতে না জেনেও ৭১ বছর বয়সে পুরো কোরআন হিফজ করলেন মিশরীয় নারী