ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য প্রধান উন্নয়নমূলক প্রকল্প গড়ে তোলার প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র। নিরাপত্তা পরিষদে ২০২৮-২০২৯ মেয়াদের জন্য ভারতের অস্থায়ী সদস্য পদের নির্বাচনী প্রচারণার উদ্বোধনের সময় এবং ব্রাসেলসে ফিলিস্তিন দাতা গোষ্ঠীর বৈঠকে ভারতের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই প্রতিশ্রুতির অধীনে তিনটি প্রকল্প রয়েছে—একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, একটি কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন কেন্দ্র এবং একটি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট।
The Embassy of the State of Palestine welcomes the announcement by External Affairs Minister Dr. S. Jaishankar's commitment to establish three major development projects for the Palestinian people, a Specialty Hospital, an Artificial Limb Fiument Centre, and a Vocational Training… pic.twitter.com/s0GMP61d0G
— ANI (@ANI) July 15, 2026
বুধবার ভারতের নয়া দিল্লিতে অবস্থিত ফিলিস্তিন দূতাবাস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণাকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিশেষ করে চলমান যুদ্ধ ও ইসরায়েলি দখলের কারণে গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতালগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে, চিকিৎসকদের আটক বা হত্যা করা হয়েছে এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। এই পরিস্থিতিতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি যারা হাত-পা হারিয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনে ভারতের প্রস্তাবিত বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন কেন্দ্রটি চিকিৎসা সেবা জোরদার করবে। এছাড়া, প্রস্তাবিত বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটটি ধ্বংসযজ্ঞের পর তরুণদের দক্ষ করে তুলতে এবং অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করবে।
এর পাশাপাশি, আলোচনার মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি 'দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান', জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ অর্জন এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য চলমান মানবিক ও উন্নয়নমূলক সহায়তার প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনরুক্তি করার বিষয়টিকেও স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন। ভারতের এই অব্যাহত বন্ধুত্ব এবং শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অঙ্গীকারের জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিন দূতাবাস।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ‘গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬’-এ টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের খেতাব জিতেছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। স্থিতিশীলতা, উন্নত অবকাঠামো এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে শতভাগ নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও সংস্কৃতিতেও দারুণ স্কোর করেছে সাইকেলবান্ধব এই ইউরোপীয় শহরটি। কোপেনহেগেনের ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা। গত বছরও দ্বিতীয় স্থানে থাকা এই শহরটি এবার স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় পূর্ণ নম্বর পেয়েছে এবং এর নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা ও হাঁটার উপযোগী চমৎকার পরিবেশের জন্য ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ইউরোপের এই দুই শহরের পর তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার দুই শহর যথাক্রমে মেলবোর্ন এবং সিডনি। উন্নত সংস্কৃতি ও পরিবেশের জন্য মেলবোর্ন এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার জন্য সিডনি এই তালিকায় ওপরের দিকে জায়গা করে নিয়েছে। সারা বিশ্বের ১৭৩টি শহরের ওপর চালানো এই জরিপে মূলত পাঁচটি মানদণ্ড—স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো বিবেচনা করা হয়েছে। এবারের শীর্ষ দশের তালিকায় থাকা অন্য শহরগুলো হলো জুরিখ, জেনেভা, ওসাকা, অ্যাডিলেড, ভ্যাঙ্কুভার এবং টোকিও। পুরো উত্তর আমেরিকা থেকে একমাত্র ভ্যাঙ্কুভার নবম স্থান দখল করে শীর্ষ দশে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে। ইআইইউ-এর এই বার্ষিক প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাব এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের সুফলও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলোতে স্থিতিশীলতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসেবায় ধারাবাহিক বিনিয়োগের ফলে এশিয়ার শহরগুলোর বাসযোগ্যতার মান উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, নিউইয়র্কের মতো উত্তর আমেরিকার শহরগুলোতেও স্থিতিশীলতার উন্নতি লক্ষ করা গেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সংঘাতের মতো বড় বিষয়গুলো অনেক শহরের বাসযোগ্যতায় প্রভাব ফেললেও, শীর্ষস্থানীয় শহরগুলো জীবনযাত্রার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করে নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষী হামলা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে গড়ে প্রতি পাঁচ দিনে একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটছে। মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণা পর্যবেক্ষণে ব্রিটিশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অংশীদার ‘ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্ট’ (বিএমটি)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, গত ১২ মাসে যুক্তরাজ্যে মসজিদকেন্দ্রিক অন্তত ৭০টি হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে, যার মধ্যে শারীরিক আক্রমণ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অপরাধ রয়েছে। এসব হামলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে লন্ডন, গ্রেটার ম্যানচেস্টার এবং ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস তালিকার একেবারে শীর্ষে অবস্থান করছে। সাম্প্রতিক কিছু হামলার ধরন বেশ উদ্বেগজনক। উদাহরণস্বরূপ, গত বছরের (২০২৫) অক্টোবরে পূর্ব সাসেক্সের পিসহ্যাভেনে এক ব্যক্তি একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে, ওই বছরের জুলাই মাসে শেফিল্ডের একটি মসজিদের বাইরে এক ব্যক্তি ইঁদুর ছেড়ে দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। উদ্ভূত এমন পরিস্থিতির মুখে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) ‘প্রোটেক্টিভ সিকিউরিটি ফর মস্কস স্কিম’-এর আওতায় মসজিদ, মুসলিম স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোর নিরাপত্তায় ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন) পাউন্ড পর্যন্ত বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেয়। এই অর্থ নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অ্যালার্ম স্থাপনসহ অন্যান্য নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপে ব্যয়ের কথা জানানো হয়েছিল। তবে ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্ট অভিযোগ করেছে, সরকারি এই তহবিলের অর্থ পেতে মসজিদগুলোকে আগে প্রমাণ করতে হয় যে তারা ইতিমধ্যে হামলার শিকার হয়েছে। অনেক মসজিদকে এই সহায়তা পেতে ১৮ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার কোনো কোনো আবেদন বিনা ব্যাখ্যাতেই সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। নতুন এই পরিসংখ্যানের বিষয়ে বিএমটি-এর প্রধান নির্বাহী আকিলা আহমেদ বলেন, মসজিদগুলোর নিরাপত্তায় সরকারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। হামলার মাত্রা যে ক্রমশ বাড়ছে, তা অনুধাবন করে এখনই যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। শুধু মসজিদ হওয়ার কারণেই এসব উপাসনালয় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি তহবিল বিতরণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করতে এর বিকেন্দ্রীকরণের পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, তারা সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অব্যাহতির পর এবার সেই শূন্য পদে নতুন মুখ এনেছে কেন্দ্র। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সাবেক মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর বিজেপি সরকারের জ্যেষ্ঠ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই এই রদবদলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। বর্তমানে প্রহ্লাদ ভেঙ্কটেশ জোশী কেন্দ্রীয় ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবন্টন এবং নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এর পাশাপাশি এখন থেকে তিনি দেশের শিক্ষা খাতেরও তদারকি করবেন। ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় প্রত্যাবর্তন করা এই পাঁচবারের সংসদ সদস্যকে দলের শীর্ষ মহলে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬২ সালের নভেম্বর মাসে উত্তর কর্ণাটকের একটি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদ কৈশোরেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে তাঁর আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ধারওয়াদ-হুব্বালী লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পা রাখেন এবং এরপর থেকে প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে জয় ধরে রেখে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। ২০১৯ সালে মোদির প্রথম মেয়াদের মন্ত্রিসভায় তিনি সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী এবং কয়লা ও খনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় কর্ণাটকের প্রভাবশালী লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের একাংশের বিরোধিতার মুখে পড়তে হলেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা সহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে সেই সংকট দ্রুত কেটে যায়। সমস্ত রাজনৈতিক বাধা ও সমালোচনা পেরিয়ে তিনি কর্ণাটক রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।