যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্কেনেকটাডি শহরে পাঁচ বছর বয়সী কন্যাশিশুকে মাসের পর মাস একটি কক্ষে তালাবদ্ধ রেখে খাবার ও পানি না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় বাবা রবার্ট এস. বাসকি জুনিয়র (৩৫) ২৭ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। একই মামলায় একটি শিশুকে নিয়ন্ত্রিত মাদক দেওয়ার অভিযোগেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।
স্কেনেকটাডি কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাসকি দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা এবং একটি শিশুকে নিয়ন্ত্রিত মাদক দেওয়ার অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেন। চলতি বছরের ৩ এপ্রিল আদালত তাকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে আরও দুই বছরের সাজা দেন। ফলে তার মোট সাজা দাঁড়ায় ২৭ বছর থেকে যাবজ্জীবন। একই সঙ্গে বেঁচে থাকা ছেলের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের যোগাযোগের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল জরুরি সেবাকর্মীরা স্কেনেকটাডির একটি বাড়িতে পৌঁছে পাঁচ বছর বয়সী শার্লট বাসকির নিথর দেহ উদ্ধার করেন। শিশুটিকে একটি শোবার ঘরে বাইরে থেকে অতিরিক্ত তালা ও টেপ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল, যাতে সে বের হতে না পারে। ঘরের ভেতরে ছিল কেবল একটি ছোট পোর্টেবল শিশু খাট (প্যাক-অ্যান্ড-প্লে), যেখানে স্বাভাবিকভাবে শোয়াও সম্ভব ছিল না।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে পর্যাপ্ত খাবার থাকলেও শার্লটকে ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি থেকে বঞ্চিত করা হয়। ময়নাতদন্তে দেখা যায়, শিশুটি মারাত্মক অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় মারা গেছে। তার শরীর ছিল চরম রকমের ক্ষয়প্রাপ্ত এবং পাকস্থলীতে কোনো খাবারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর সময় তার ওজন ছিল মাত্র ৩০ পাউন্ড, যা আড়াই বছর বয়সে তার ওজনের চেয়েও কম ছিল।
তদন্তে আরও উঠে আসে, শার্লটের তিন বছর বয়সী ভাইকেও বাড়ির ডাইনিং রুমে তৈরি করা একটি অস্থায়ী খাঁচায় আটকে রাখা হতো। দুই শিশুর শরীরেই কোকেনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। আদালতে বাসকি একটি শিশুকে নিয়ন্ত্রিত মাদক দেওয়ার অভিযোগও স্বীকার করেন।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, অভিযুক্ত বাবা সন্তানদের তালাবদ্ধ করে রেখে নিজে মাদক সেবন ও ভিডিও গেম খেলতেন। তদন্তে আরও জানা যায়, শিশুরা দীর্ঘদিন বাইরের বিশ্বের সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিল। তারা নিয়মিত চিকিৎসা বা স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ থেকেও বঞ্চিত ছিল।
সাজা ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, একজন অভিভাবকের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো নিজের সন্তানকে নিরাপদ রাখা। কিন্তু এই মামলায় সেই দায়িত্ব চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। আদালত বাসকির কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও মানবতাবিরোধী বলে উল্লেখ করেন।
এই ঘটনাটি নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত শিশু নির্যাতন ও হত্যার মামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তদন্তকারীদের ভাষায়, এটি ছিল এমন এক ট্র্যাজেডি যেখানে একটি শিশুকে ধীরে ধীরে অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, অথচ একই বাড়িতে পর্যাপ্ত খাবার মজুত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে প্রকাশ্য রাস্তায় বন্দুক হামলায় ১২ বছর বয়সী এক ছেলে নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার বিকেলে মাউন্ট ইডেন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এবং তদন্ত চলছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু আগে ওয়ালটন অ্যাভিনিউ ও এলিয়ট প্লেসের কাছে গুলির ঘটনা ঘটে। ১২ বছর বয়সী শিশুটি কাঁধে গুলিবিদ্ধ হলে তাকে দ্রুত লিংকন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত শিশুর পরিচয় পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিতম্বে এবং ৩৪ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলি ছোড়া হয়। তবে নিহত ১২ বছর বয়সী শিশুটি ওই সংঘর্ষে জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার হয়নি এবং সন্দেহভাজনদের সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কড়াকড়ির কারণে বাণিজ্যিক ট্রাকচালকদের লাইসেন্স হারানো বা কর্মক্ষেত্র ছাড়তে বাধ্য হওয়া চালকদের বিকল্প হিসেবে সামরিক ভেটেরানদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস। প্রশাসনের লক্ষ্য, ট্রাকচালকের ঘাটতি কমিয়ে পণ্য পরিবহন খাত সচল রাখা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে বাণিজ্যিক গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা বা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ থাকা সামরিক ভেটেরানদের ট্রাকচালক হিসেবে নিয়োগে উৎসাহিত করা যায়। পরিকল্পনাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নীতি ঘোষণা করা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাকচালকদের জন্য ইংরেজি ভাষাজ্ঞান ও অন্যান্য ফেডারেল বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের ফলে কিছু অভিবাসী চালকের বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পরিবহন খাতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশ। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সামরিক বাহিনীতে ভারী যানবাহন পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা অনেক ভেটেরান এই খাতে দক্ষ জনবল হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তবে পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক অভিজ্ঞতা থাকলেও বেসামরিক ট্রাক পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে। এদিকে, ট্রাকিং শিল্পের কিছু প্রতিনিধি ও শ্রমসংগঠন বলছে, শুধু নতুন চালক নিয়োগ নয়, বরং বিদ্যমান চালকদের ধরে রাখা, কর্মপরিবেশ উন্নত করা এবং প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, পরিবহন শিল্প এবং কংগ্রেসের সঙ্গে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বার্গেন কাউন্টিতে স্বল্প আয়ের বাসিন্দাদের জন্য মাসিক মাত্র ৫৯৪ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একটি নতুন আবাসন প্রকল্পের আওতায় মোট সাতটি সাশ্রয়ী মূল্যের ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ভাড়াটিয়া নির্বাচন করা হবে। প্রকল্পটিতে স্টুডিও, এক, দুই ও তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। মাসিক ভাড়া ইউনিটের ধরন এবং আবেদনকারীর আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া ৫৯৪ ডলার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন আয়ের শ্রেণি অনুযায়ী বাড়তে পারে। আবেদনকারীদের নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দিতে হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়া সব বৈধ আবেদন একটি র্যান্ডম লটারিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। লটারিতে যাদের নাম আগে আসবে, তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ের পর পর্যায়ক্রমে অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হবে। বার্গেন, হাডসন, পাসাইক ও সাসেক্স কাউন্টিতে বসবাসকারী বা কর্মরত আবেদনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। নিউ জার্সিতে দীর্ঘদিন ধরেই সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের চাহিদা বেশি। রাজ্যের ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন শহর ও কাউন্টিতে আয়ভিত্তিক ভাড়ার বাসা বরাদ্দে লটারির ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য তুলনামূলক কম খরচে নিরাপদ আবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা। আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আবেদন জমা পড়ার পর লটারির মাধ্যমে নির্বাচিতদের সঙ্গে পরবর্তী ধাপে যোগাযোগ করা হবে এবং আয় ও অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই শেষে চূড়ান্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে।