কৈলাস তীর্থযাত্রায় গিয়ে নিখোঁজ লং আইল্যান্ডের ৬৭ বছরের নারী, ফিরে আসার আশায় স্বামী
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডের রোজলিন হাইটসের বাসিন্দা অমিতা আমিন। চলতি সপ্তাহে ওই অঞ্চলের গ্রাম ও উপত্যকাগুলোতে আকস্মিক বন্যার পানি আছড়ে পড়লে সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর যে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, ৬৭ বছর বয়সী অমিতা তাদেরই একজন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, অমিতা একটি ট্যুর গ্রুপের সঙ্গে নেপাল থেকে তিব্বতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতে এটি ছিল তার সপ্তম তীর্থযাত্রা। তার ছেলে ডা. ধ্রুব আমিন জানান, নিখোঁজ হওয়ার আগে তার মায়ের সর্বশেষ অবস্থান ছিল এমন একটি ভবনে, যা পরবর্তীতে বন্যার ভয়াবহ আঘাতে বিধ্বস্ত হয়।
অমিতার সঙ্গে ধ্রুব আমিনের শাশুড়ি তেজাল ব্যোমেশ প্যাটেল এবং পারিবারিক বন্ধু জিতেন্দ্র মনুভাই প্যাটেলও ছিলেন। অমিতার স্বামী মহেন্দ্র আমিন জানান, ঘটনার পর থেকে ওই গ্রুপের কোনো সদস্যের সঙ্গেই তারা আর যোগাযোগ করতে পারছেন না।
গত বুধবার আঘাত হানা এই প্রলয়ংকরী বন্যার পর ওই অঞ্চলে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৫৪৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্তত দুই হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধারকর্মীরা যখন ধ্বংসস্তূপ ও প্লাবিত এলাকায় নিরলস তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন অমিতা আমিনের পরিবারও তাকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছে।
স্ত্রীর উদ্দেশ্যে মহেন্দ্র আমিনের আবেগঘন বার্তা— 'তুমি যদি আমাকে দেখে থাকো, তবে ফিরে এসো। আমরা সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।'
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreনেপাল-তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডের রোজলিন হাইটসের বাসিন্দা অমিতা আমিন। চলতি সপ্তাহে ওই অঞ্চলের গ্রাম ও উপত্যকাগুলোতে আকস্মিক বন্যার পানি আছড়ে পড়লে সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর যে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, ৬৭ বছর বয়সী অমিতা তাদেরই একজন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, অমিতা একটি ট্যুর গ্রুপের সঙ্গে নেপাল থেকে তিব্বতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতে এটি ছিল তার সপ্তম তীর্থযাত্রা। তার ছেলে ডা. ধ্রুব আমিন জানান, নিখোঁজ হওয়ার আগে তার মায়ের সর্বশেষ অবস্থান ছিল এমন একটি ভবনে, যা পরবর্তীতে বন্যার ভয়াবহ আঘাতে বিধ্বস্ত হয়। অমিতার সঙ্গে ধ্রুব আমিনের শাশুড়ি তেজাল ব্যোমেশ প্যাটেল এবং পারিবারিক বন্ধু জিতেন্দ্র মনুভাই প্যাটেলও ছিলেন। অমিতার স্বামী মহেন্দ্র আমিন জানান, ঘটনার পর থেকে ওই গ্রুপের কোনো সদস্যের সঙ্গেই তারা আর যোগাযোগ করতে পারছেন না। গত বুধবার আঘাত হানা এই প্রলয়ংকরী বন্যার পর ওই অঞ্চলে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৫৪৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্তত দুই হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা যখন ধ্বংসস্তূপ ও প্লাবিত এলাকায় নিরলস তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন অমিতা আমিনের পরিবারও তাকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছে। স্ত্রীর উদ্দেশ্যে মহেন্দ্র আমিনের আবেগঘন বার্তা— 'তুমি যদি আমাকে দেখে থাকো, তবে ফিরে এসো। আমরা সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।'
মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক শিক্ষার পুরো খরচ দেবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সরকার
পাঞ্জাবে গাছে বেঁধে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে আ গুনে পুড়িয়ে হ ত্যা
কানাডায় বাকপ্রতিবন্ধী ছেলের সঙ্গে কথা বলার জন্য মায়ের হাতে কীবোর্ডের ট্যাটু
ভারতের তেলেঙ্গানার সূর্যাপেট জেলার এররাগাড্ডা থান্ডায় বাড়ির পাশে থাকা একটি নিমগাছ নিয়ে দুই পরিবারের প্রায় ২৫ বছরের পুরোনো বিরোধ ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। শনিবারের ওই সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মেল্লাচেরুভু থানার উপপরিদর্শক নবীন কুমারও আহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের বিরোধের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল বাড়ির সীমানার পাশে থাকা একটি নিমগাছ। শনিবার সকালে ৬২ বছর বয়সী মান্ধা ভেঙ্কটেশ্বরলু যাদব শ্রমিক নিয়ে গাছটি কাটতে যান। এ সময় প্রতিপক্ষের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি তীব্র আকার ধারণ করে এবং উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কুঠারসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের মধ্যে ভুকিয়া রামু কুঠার দিয়ে ভেঙ্কটেশ্বরলুকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গুরুতর আঘাতে ভেঙ্কটেশ্বরলু ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে সংঘর্ষে হস্তক্ষেপ করতে গেলে রামু নিজের বাবা ভুকিয়া সাইদাকেও আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫৮ বছর বয়সী সাইদা গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। দুইজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের বাড়ির কাছে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশি হস্তক্ষেপের সময় উপপরিদর্শক নবীন কুমারের মাথায় আঘাত লাগে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হুজুরনগর এলাকার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তার আঘাতের বিস্তারিত অবস্থা প্রতিবেদনে জানানো হয়নি। ঘটনার পর পুলিশ মামলা দায়ের করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ শুরু করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ঘটনাস্থল পরীক্ষা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত রামুকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এররাগাড্ডা থান্ডায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ঠেকাতে এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছিল এবং পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি জার্মানির
গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪ শিশু নিহত, ধ্বংস ইউনিসেফ-সহযোগিতায় নির্মিত পানির স্থাপনা
স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধের রায়ে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভারতের মুসলিম নারী সাংবাদিক
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের মতপার্থক্য দূরে রেখে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর না করে মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার ইস্তাম্বুলের হালিচ কংগ্রেস সেন্টারে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এরদোয়ান। সেখানে তিনি বলেন, মুসলিমদের অন্যদের ওপর আশা রেখে কোনো অগ্রগতি হবে না। নিজেদের অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এরদোয়ান বলেন, মুসলিমদের নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় শক্তিশালী হতে হবে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ঐক্যের মধ্যেই শক্তি রয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারেরও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এরদোয়ান বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান সরকার যুদ্ধের প্রতি আসক্ত এবং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে সম্ভাব্য সব পথ অনুসরণ করছে। তার মতে, ইসরায়েলের নীতি শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য নয়, আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের জন্যও হুমকি তৈরি করছে। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরোধিতা শুধু তুরস্কের জাতীয় স্বার্থের কারণে নয়। ধর্ম বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে পুরো অঞ্চলের মানুষের প্রতি উদ্বেগ থেকেই তুরস্ক এ অবস্থান নিয়েছে। গাজার মানবিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, সেখানে ফিলিস্তিনিরা এখনো মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে ভুগছে। পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে মানুষের বাস্তুচ্যুতি ও প্রাণহানির বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, বিভক্ত অবস্থায় প্রতিক্রিয়া জানালে পুরো অঞ্চল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোকে সংহতি ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। ইতিহাসের বিভিন্ন নৃশংসতার উদাহরণ টেনে এরদোয়ান বলেন, গুরুতর লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যথাসময়ে পদক্ষেপ না নিলে তার ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি অ্যাডলফ হিটলার ও কম্বোডিয়ার খেমার রুজ নেতা পল পটের সময়কার নৃশংসতার কথা উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ব সম্প্রদায়েরও সমালোচনা করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড বন্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বৃহত্তর বিশ্ব সম্প্রদায় যথেষ্ট দৃঢ়তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। কার্যকর প্রতিক্রিয়ার অভাবেই এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শেষে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করে সহযোগিতা বাড়ানো এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর আবারও জোর দেন এরদোয়ান। নিজেদের অধিকার রক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় মুসলিম দেশগুলোকে একসঙ্গে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। সূত্র: ডেইলি সাবাহ
বন্যার পানিতে ভেসে এলো সিন্দুক, ভেঙে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ২৯ জন আটক
নাবালকদের যৌ ন ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, নাইজেরিয়া থেকে দুইজনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ