সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধের রায়ে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভারতের মুসলিম নারী সাংবাদিক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১০:১৯
স্কুলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক মুসলিম ছাত্রীর হিজাব পরার আবেদন গ্রহণ করেনি এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
স্কুলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক মুসলিম ছাত্রীর হিজাব পরার আবেদন গ্রহণ করেনি এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়ে স্কুলে এক মুসলিম ছাত্রীর হিজাব পরার আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। আদালতের যুক্তি ছিল, স্কুলগুলো অভিন্ন ও বৈষম্যহীন পোশাকবিধি নির্ধারণ করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেই নিয়ম কার্যকর করা যেতে পারে।

 

এই রায়কে ঘিরে হিজাব পরা মুসলিম নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পছন্দের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের মুসলিম নারী সাংবাদিক সামাহ কুন্দিল। তাঁর মতে, কোনো নারীকে জোর করে হিজাব পরানো যেমন তার স্বাধীনতার পরিপন্থী, তেমনি নিজের ইচ্ছায় হিজাব পরতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়াও ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকার কেড়ে নেওয়ার শামিল।

 

সামাহ কুন্দিল লিখেছেন, হিজাবকে অনেক সময় নারীর ওপর পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তবে তাঁর মতে, এই ধারণার মাধ্যমে হিজাব পরা নারীদের নিজেদের জীবনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাকে খাটো করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কোনো নারী হিজাব পরার সিদ্ধান্ত নিলে সেই সিদ্ধান্তকেও ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

 

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ঐতিহ্যে হিজাব শুধু মাথা ঢাকার কাপড়কে বোঝায় না। এর সঙ্গে শালীনতার একটি বিস্তৃত ধারণা যুক্ত রয়েছে। এই শালীনতার নির্দেশনা শুধু নারীদের জন্য নয়, পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পুরুষদেরও শালীন পোশাক পরা, দৃষ্টি সংযত রাখা এবং আচরণে সংযম বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

 

সামাহ কুন্দিলের মতে, হিজাব পরার বিষয়ে জোর করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি কোনো নারী নিজের ইচ্ছায় হিজাব পরতে চাইলে তাকে তা থেকে বিরত রাখাও একইভাবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাকে সীমিত করে। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, নারীর পোশাকের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নারীর নিজের থাকা উচিত।

 

এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একটি সাধারণ মাথার কাপড় স্কুলের কর্তৃত্ব, পোশাকের অভিন্নতা, শৃঙ্খলা বা শিক্ষার পরিবেশকে আসলে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাঁর মতে, স্কুলের পোশাকবিধির গুরুত্ব থাকলেও হিজাব পরাকে শুধু সেই নিয়মের আলোকে বিচার করার আগে বিষয়টির ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় দিকও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যে ছাত্রী হিজাব পরার আবেদন করেছিলেন, তিনি এর আগে বহু বছর ধরে হিজাব পরে আসছিলেন। ফলে তার ধর্মীয় অনুশীলন এতদিন প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলার সঙ্গে সহাবস্থান করার পর নতুন করে সমস্যাটি কেন তৈরি হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিকটি।

 

সামাহ কুন্দিল আরও মনে করেন, হিজাব বর্তমানে শুধু ধর্মীয় অনুশীলনের বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধর্ম, ধর্মনিরপেক্ষতা ও নারীর অধিকার নিয়ে বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে। এসব বিতর্কের মধ্যে হিজাব পরা নারী ও মেয়েদের নিজেদের মতামত অনেক সময় আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, একটি উদার সমাজে নারীদের কী পরা উচিত বা কী পরা উচিত নয়, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। নারীদের জোরপূর্বক কোনো সিদ্ধান্ত থেকে রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি তারা নিজেদের বিশ্বাস ও পছন্দ অনুযায়ী পোশাক বেছে নিতে চাইলে সেই স্বাধীনতাকেও সম্মান করা প্রয়োজন।

 

সামাহ কুন্দিলের লেখার মূল বক্তব্য হলো, কোনো নারী হিজাব পরতে চাইলে তার সেই সিদ্ধান্তকে শুধু ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার প্রশ্নে বিচার করা উচিত নয়। হিজাব পরা বা না পরা উভয় ক্ষেত্রেই নারীর নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

সূত্র: দ্য প্রিন্ট

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার পর রানওয়েতে রোবটসহ তদন্ত ও নিষ্ক্রিয়করণ কাজে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত
লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি জার্মানির

জার্মানি লিপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য রাশিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও দেশটি কাজ করছে বলে জার্মান সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ভেল্ট আম সনটাগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানি সরাসরি রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এসব পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তুত করা নতুন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে লিপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনায় জার্মানি সরাসরি রাশিয়ার সরকারকে দায়ী করবে, নাকি রুশ কোনো ব্যক্তিকে বা অপারেটিভকে দায়ী করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তদন্তের ফলাফল পর্যালোচনার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে দায় নির্ধারণ করা হবে।   ভেল্ট আম সনটাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানি এর আগে রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার বা বার্লিনে রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধের মতো যেসব পদক্ষেপ বিবেচনা করেছিল, নতুন পরিকল্পনা তার চেয়ে কঠোর হতে পারে। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে আরও নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনকে অতিরিক্ত অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ও থাকতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ গত সপ্তাহে লিপজিগের ঘটনার পেছনে যারা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে তিনি সরাসরি রাশিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। মের্জ বলেছিলেন, জার্মান সরকার বিভিন্ন ধরনের গোপন হামলার জন্য দায়ীদের মূল্য দিতে বাধ্য করবে এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে এবং শিগগিরই সরকার এর ফলাফল প্রকাশ করবে।   এদিকে জার্মান সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে লিপজিগ বিমানবন্দরের ড্রোন হামলার চেষ্টাকে প্রথম দিকের ধারণার চেয়ে বেশি গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের একটি আন্তোনভ কার্গো বিমানে হামলার চেষ্টায় ব্যবহৃত ড্রোনে বিস্ফোরক সংযুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনডিআর ও ডব্লিউডিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে একটি নয়, একাধিক ড্রোন জড়িত থাকার ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।   লিপজিগের ঘটনার পাশাপাশি বার্লিনের কাছে একটি অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনাও জার্মান সরকারের অবস্থান আরও কঠোর করেছে বলে ভেল্ট আম সনটাগ জানিয়েছে। চলতি মাসে দেশটির কর্তৃপক্ষ রাজধানীর কাছের একটি জঙ্গলে মাটির নিচে পেশাদারভাবে তৈরি একটি গোপন স্থাপনা থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটররা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এমন গুরুতর সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে বিষয়টি তদন্ত করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ধারণা করছে, এসব অস্ত্র রুশ গুপ্তচরদের জন্য মজুত করা হয়েছিল এবং মস্কোর নির্দেশে তাদের দিয়ে হত্যাকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা থাকতে পারে।   লিপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনা ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগ নিয়ে বার্লিনের অবস্থান কঠোর হলেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোতে হত্যাকাণ্ড, নাশকতা ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মস্কো পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রুশবিরোধী আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ করেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১২:৩
গাজায় ইউনিসেফের পুষ্টি সহায়তার গুদাম ধ্বংস এবং তীব্র সংকটের মধ্যে শিশুদের খাবার পানি সংগ্রহের চেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪ শিশু নিহত, ধ্বংস ইউনিসেফ-সহযোগিতায় নির্মিত পানির স্থাপনা

স্কুলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক মুসলিম ছাত্রীর হিজাব পরার আবেদন গ্রহণ করেনি এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধের রায়ে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভারতের মুসলিম নারী সাংবাদিক

আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি: এএ ফটো

ইসরায়েলি হুমকি মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এরদোয়ানের

নেপালে বন্যায় ভেসে আসা ব্যাংকের সেফ ভেঙে টাকা লুটের অভিযোগে ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
বন্যার পানিতে ভেসে এলো সিন্দুক, ভেঙে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ২৯ জন আটক

নেপালে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে ভেসে আসা একটি ব্যাংকের সেফ ভেঙে ভেতরের নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগে ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ধাদিং জেলার ত্রিশূলী নদীর তীরে পাওয়া ওই সেফ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৫ নেপালি রুপি।    পুলিশ জানিয়েছে, রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি এলাকায় বন্যার পানিতে সেফটি ভেসে যায়। পরে সেটি ত্রিশূলী নদীর স্রোতে ভেসে ধাদিং জেলার গালছি গ্রামীণ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেলখুখোলা এলাকায় গিয়ে আটকে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন সেখানে সেফটি দেখতে পেয়ে সেটি ভেঙে ভেতরের নগদ টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ।   ঘটনার খবর পেয়ে নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে ২৯ জনকে আটক করে তাদের কাছ থেকে মোট ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৫ নেপালি রুপি উদ্ধার করা হয়।    তবে সেফটিতে শুরুতে মোট কত টাকা ছিল, এর মালিক কে এবং টাকা কোন ব্যাংক থেকে এসেছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অর্থের বাইরে আরও টাকা কেউ নিয়ে গেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই ধাদিংয়ের গালছি এলাকার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৯:১৯
নাবালকদের যৌ ন ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, নাইজেরিয়া থেকে দুইজনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ

নাবালকদের যৌ ন ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, নাইজেরিয়া থেকে দুইজনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ

বন্দে মাতরম কর্মসূচিতে ‘পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর’ দখলের হুঙ্কার শুভেন্দু অধিকারীর

বন্দে মাতরম কর্মসূচিতে ‘পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর’ দখলের হুঙ্কার শুভেন্দু অধিকারীর

ইরানের ক্ষে পণাস্ত্র ঠেকানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নেই, দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির

ইরানের ক্ষে পণাস্ত্র ঠেকানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নেই, দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির

স্ত্রী এবং ৫ মাসের সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে আফ্রিকায় ডিপোর্ট, আইসিইর সিদ্ধান্তে অসহায় বাবা
স্ত্রী এবং ৫ মাসের সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে আফ্রিকায় ডিপোর্ট, আইসিইর সিদ্ধান্তে অসহায় বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাসরত ৩৫ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলার এক নাগরিককে প্রায় ৬ হাজার মাইল দূরে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ায় নির্বাসন দিয়েছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)।   কার্লোস টেলেজ সানচেজ নামের ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ফ্লাইট ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি জানতে পারেন যে তাকে সিয়েরা লিওন এবং আইভরি কোস্টের মধ্যবর্তী দেশ লাইবেরিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। এর আগে তিনি কখনো এই দেশটির নামও শোনেননি।   হাতকড়া পরা অবস্থায় আটলান্টিকের ওপর দিয়ে ১৫ ঘণ্টার দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে বর্তমানে তিনি পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে আটকা পড়েছেন।   স্ত্রী এবং পাঁচ মাস বয়সী মার্কিন নাগরিক সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়ে তিনি সিবিএস নিউজকে এক ভিডিও কলে বলেন, "আমি বুঝতে পারি না, যে দেশ নিজেকে 'গ্লোবাল হিরো' বা বিশ্বনেতা বলে দাবি করে, তারা একজন মানুষের সাথে কীভাবে এমন অমানবিক আচরণ করতে পারে।"   ২০২১ সালে নিজ দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে পালিয়ে বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন সানচেজ। এরপর থেকে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য দিনের বেলা ডালাসের একটি গাড়ির শোরুমে এবং রাতে উবার ইটসের চালক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন ছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে এক ইমিগ্রেশন বিচারক সানচেজকে ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন, কারণ সেখানে তার নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল।   কিন্তু সেই আইনি আদেশ আইসিই-কে তাকে অন্য কোনো তৃতীয় দেশে নির্বাসন দেওয়া থেকে আটকাতে পারেনি। ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি নিয়মিত ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টে গিয়ে আইসিই-এর হাতে আটক হন সানচেজ। আট মাস ডিটেনশন সেন্টারে থাকার পর শেষমেশ তাকে আফ্রিকায় নির্বাসন দেওয়া হয়।   গত দেড় বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের কয়েক ডজন দেশের সাথে তথাকথিত "তৃতীয় দেশ" বা থার্ড কান্ট্রি নির্বাসন চুক্তি করেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সুদান এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের মতো বিপজ্জনক দেশও রয়েছে।   লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়া থেকে এক ঘণ্টারও বেশি দূরত্বের একটি অস্থায়ী হোটেলে সানচেজ এখন সময় কাটাচ্ছেন, যেখানে তার মতো ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং হন্ডুরাস থেকে নির্বাসিত অন্যান্যরাও রয়েছেন। ডালাসে বসবাসরত সানচেজের ভাই হুয়ান টেলেজ জানান, তার ভাইকে কেন লাইবেরিয়ায় পাঠানো হলো তার কোনো ব্যাখ্যা কেউ দেয়নি।   তিনি তার ভাইকে একজন ভালো ও কঠোর পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার সাথে যা ঘটেছে তা কোনোভাবেই তার প্রাপ্য নয়। এই ঘটনায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি। এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে লাইবেরিয়ায় থাকা সানচেজ আক্ষেপ করে বলেন, "এটি এমন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি, যা আমি আমার শত্রুর জন্যও কামনা করি না।"

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৬:১১
জিভের ক্যানসারকে সাধারণ ঘা ভেবে ভুল রোগ নির্ণয়, অবশেষে পা কেটে জিভ পুনর্গঠন

জিভের ক্যানসারকে সাধারণ ঘা ভেবে ভুল রোগ নির্ণয়, অবশেষে পা কেটে জিভ পুনর্গঠন

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে ভারতীয় তরুণীকে কুপিয়ে হ ত্যা, ৮ মাস পর আগ্রায় গ্রেপ্তার প্রধান সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে ভারতীয় তরুণীকে কুপিয়ে হ ত্যা, ৮ মাস পর আগ্রায় গ্রেপ্তার প্রধান সন্দেহভাজন

জার্মানিতে মার্কিন পর্যটককে ধ র্ষণের পর হ ত্যা, ৩২ বছর পর ডিএনএ প্রমাণে ৮১ বছরের বৃদ্ধের যাবজ্জীবন

জার্মানিতে মার্কিন পর্যটককে ধ র্ষণের পর হ ত্যা, ৩২ বছর পর ডিএনএ প্রমাণে ৮১ বছরের বৃদ্ধের যাবজ্জীবন

0 Comments