যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ হচ্ছে, বয়স যাচাইয়ে আসছে চার পদ্ধতি
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রস্তুতি এগোচ্ছে। ২০২৭ সালের বসন্তে নতুন নিয়ম চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মে ১৬ বছরের কম বয়সীরা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে না। তবে কার বয়স কত, তা যাচাই করতে কী পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে—এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম।
২৯ অক্টোবর প্রকাশিত মূল্যায়নে অফকম জানিয়েছে, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়স নিশ্চিত করতে চারটি পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। এগুলো হলো ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র যাচাই, ব্যাংকিং তথ্যের মাধ্যমে বয়স নিশ্চিত করা, ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং মুখের ছবি বিশ্লেষণ করে বয়স অনুমান করার প্রযুক্তি। সংস্থাটির মতে, এসব পদ্ধতি যথাযথভাবে ব্যবহার করা হলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বয়সসীমা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো নথির তথ্য ব্যবহার করা হবে। নথিতে থাকা ছবির সঙ্গে বয়স যাচাইয়ের সময় ব্যবহারকারীর সরাসরি তোলা ছবির মিল পরীক্ষা করা হতে পারে। অফকমের হিসাবে, যুক্তরাজ্যে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের প্রায় ৯৪ শতাংশের পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। তবে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী প্রায় দেড় লাখ তরুণের কাছে এ দুটির কোনোটিই নেই।
ব্যাংকিং পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর সম্মতি নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা বয়সসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সাধারণত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। ফলে ব্যাংকের কাছে সংরক্ষিত তথ্য ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে বয়স যাচাই সহজ হতে পারে। অফকমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের প্রায় ৯০ শতাংশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ব্যবহারকারী একবার নিজের পরিচয় ও বয়স নিশ্চিত করতে পারবেন। এরপর প্রতিবার পাসপোর্ট বা অন্য নথি দেখানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। ডিজিটাল পরিচয় যাচাইয়ের এই ব্যবস্থা বিভিন্ন অনলাইন সেবায় ব্যবহার করা সম্ভব।
চতুর্থ পদ্ধতিটি হলো মুখের ছবি বিশ্লেষণ করে বয়স অনুমান করা। এ প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর মুখের গঠন ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বয়স নির্ধারণ করে। তবে ১৬ বছর বয়সের কাছাকাছি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তির অনুমানে কয়েক বছরের ব্যবধান থাকতে পারে। অর্থাৎ ১৬ বছরের একজনকে ১৪ বা ১৮ বছর বয়সী বলে ভুল শনাক্ত করার ঝুঁকি রয়েছে।
এ কারণে অফকম ‘চ্যালেঞ্জ এজ’ পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছে। অর্থাৎ মুখের ছবি বিশ্লেষণে কারও বয়স ১৬ বছরের কাছাকাছি মনে হলে দ্বিতীয়বার পরিচয় যাচাই করতে হতে পারে। দোকানে মদ বিক্রির সময় ক্রেতাকে ২৫ বছরের কম মনে হলে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ার যে পদ্ধতি প্রচলিত, এটি তার অনুরূপ।
সব প্রাপ্তবয়স্ককেও যে নতুন করে বয়স প্রমাণ করতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের কাছে ব্যবহারকারীর বয়স সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আলাদা যাচাইয়ের প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীকে বয়স নিশ্চিত করতে বলা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য আগে থেকেই নির্ধারিত অন্যান্য যাচাইপদ্ধতিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
অফকম জানিয়েছে, ক্রেডিট কার্ড যাচাই, মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরের তথ্য এবং ইমেইলভিত্তিক বয়স অনুমান ১৮ বছরের বেশি বয়স নিশ্চিত করতে কার্যকর হতে পারে। কিন্তু ১৬ বছর বা তার বেশি বয়স নির্ধারণের জন্য এগুলোকে যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য মনে করা হচ্ছে না। একইভাবে, ব্যবহারকারী নিজে বয়স লিখে দিলেই তা গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু স্বঘোষিত বয়সকে কোনো বয়সেই কার্যকর যাচাইপদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করছে না সংস্থাটি।
নতুন নিয়ম কার্যকর হলেও কিছু শিশু বয়স যাচাইয়ের বাধা এড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে অফকম। সংস্থাটির মতে, কোনো বয়স যাচাইব্যবস্থাই শতভাগ ফাঁকিমুক্ত নয়। কেউ অন্যের পরিচয় ব্যবহার করতে পারে, আবার কেউ প্রযুক্তিগত উপায়েও বিধিনিষেধ পাশ কাটানোর চেষ্টা করতে পারে।
এ ঝুঁকি কমাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত ও রিপোর্ট করার ব্যবস্থা সহজ করতে বলা হতে পারে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর অনলাইন আচরণ বিশ্লেষণ করে বয়স অনুমানের প্রযুক্তিও সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি সরাসরি প্রবেশের অনুমতি বা নিষেধাজ্ঞা নির্ধারণের একমাত্র উপায় হতে পারবে না। কারণ, ব্যবহারকারীকে আগে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে হয়, এরপর তাঁর আচরণ বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
অফকমের প্রধান নির্বাহী ডেম মেলানি ডস বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা অনলাইনে শিশুদের ভবিষ্যৎ ব্যবহারের ধরন বদলে দিতে পারে। তাই এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। তাঁর মতে, শিশুদের বয়স যাচাইয়ে কার্যকর ব্যবস্থা ব্যবহার করলে নিষেধাজ্ঞা কাজ করতে পারে। তবে কিছু শিশু নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে—এটি স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোরও সেই ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিধিমালা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে। এরপর অফকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বয়স যাচাইসংক্রান্ত নির্দেশিকার খসড়া প্রকাশ করে পরামর্শ গ্রহণ করবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মানছে কি না, তা তদারকির প্রস্তুতিও নিচ্ছে সংস্থাটি।
এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় কোন কোন প্ল্যাটফর্ম থাকবে, তার চূড়ান্ত তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়ার মডেল অনুসরণ করে ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ফেসবুক ও এক্সের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো মেসেজিং সেবা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেই বলে সরকার জানিয়েছে।
নতুন নিয়মে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্যও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে। তবে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন। তাঁদের ক্ষেত্রে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ব্যবহারে সীমা, ওই সময়ে নোটিফিকেশন বন্ধ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু ও ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানোর সুবিধা ডিফল্টভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার ভূমিকা রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সরকারের পরামর্শ গ্রহণ কার্যক্রমে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ মতামত দেন। তাঁদের মধ্যে অভিভাবক, শিশু-কিশোর, শিক্ষক, চিকিৎসক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছিলেন। সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মতামত দেওয়া অভিভাবকদের ৯০ শতাংশ ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ছিলেন। তরুণদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশও অন্তত কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সসীমা নির্ধারণের পক্ষে মত দেন।
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু করে। যুক্তরাজ্য সরকারও সেই মডেল অনুসরণের কথা জানিয়েছে। তবে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করছে, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই হবে না; বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতি নির্ভরযোগ্য করতে হবে এবং নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা শনাক্ত করার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
সরকারের লক্ষ্য ২০২৭ সালের বসন্তে নতুন নিয়ম কার্যকর করা। তবে চূড়ান্ত বিধিমালা ও প্ল্যাটফর্মভিত্তিক নির্দেশনা প্রকাশের পরই নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
মিডিয়া
View moreযুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রস্তুতি এগোচ্ছে। ২০২৭ সালের বসন্তে নতুন নিয়ম চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মে ১৬ বছরের কম বয়সীরা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে না। তবে কার বয়স কত, তা যাচাই করতে কী পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে—এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম। ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত মূল্যায়নে অফকম জানিয়েছে, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়স নিশ্চিত করতে চারটি পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। এগুলো হলো ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র যাচাই, ব্যাংকিং তথ্যের মাধ্যমে বয়স নিশ্চিত করা, ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং মুখের ছবি বিশ্লেষণ করে বয়স অনুমান করার প্রযুক্তি। সংস্থাটির মতে, এসব পদ্ধতি যথাযথভাবে ব্যবহার করা হলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বয়সসীমা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব। ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো নথির তথ্য ব্যবহার করা হবে। নথিতে থাকা ছবির সঙ্গে বয়স যাচাইয়ের সময় ব্যবহারকারীর সরাসরি তোলা ছবির মিল পরীক্ষা করা হতে পারে। অফকমের হিসাবে, যুক্তরাজ্যে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের প্রায় ৯৪ শতাংশের পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। তবে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী প্রায় দেড় লাখ তরুণের কাছে এ দুটির কোনোটিই নেই। ব্যাংকিং পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর সম্মতি নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা বয়সসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সাধারণত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। ফলে ব্যাংকের কাছে সংরক্ষিত তথ্য ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে বয়স যাচাই সহজ হতে পারে। অফকমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের প্রায় ৯০ শতাংশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ব্যবহারকারী একবার নিজের পরিচয় ও বয়স নিশ্চিত করতে পারবেন। এরপর প্রতিবার পাসপোর্ট বা অন্য নথি দেখানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। ডিজিটাল পরিচয় যাচাইয়ের এই ব্যবস্থা বিভিন্ন অনলাইন সেবায় ব্যবহার করা সম্ভব। চতুর্থ পদ্ধতিটি হলো মুখের ছবি বিশ্লেষণ করে বয়স অনুমান করা। এ প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর মুখের গঠন ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বয়স নির্ধারণ করে। তবে ১৬ বছর বয়সের কাছাকাছি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তির অনুমানে কয়েক বছরের ব্যবধান থাকতে পারে। অর্থাৎ ১৬ বছরের একজনকে ১৪ বা ১৮ বছর বয়সী বলে ভুল শনাক্ত করার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে অফকম ‘চ্যালেঞ্জ এজ’ পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছে। অর্থাৎ মুখের ছবি বিশ্লেষণে কারও বয়স ১৬ বছরের কাছাকাছি মনে হলে দ্বিতীয়বার পরিচয় যাচাই করতে হতে পারে। দোকানে মদ বিক্রির সময় ক্রেতাকে ২৫ বছরের কম মনে হলে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ার যে পদ্ধতি প্রচলিত, এটি তার অনুরূপ। সব প্রাপ্তবয়স্ককেও যে নতুন করে বয়স প্রমাণ করতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের কাছে ব্যবহারকারীর বয়স সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আলাদা যাচাইয়ের প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীকে বয়স নিশ্চিত করতে বলা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য আগে থেকেই নির্ধারিত অন্যান্য যাচাইপদ্ধতিও ব্যবহার করা যেতে পারে। অফকম জানিয়েছে, ক্রেডিট কার্ড যাচাই, মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরের তথ্য এবং ইমেইলভিত্তিক বয়স অনুমান ১৮ বছরের বেশি বয়স নিশ্চিত করতে কার্যকর হতে পারে। কিন্তু ১৬ বছর বা তার বেশি বয়স নির্ধারণের জন্য এগুলোকে যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য মনে করা হচ্ছে না। একইভাবে, ব্যবহারকারী নিজে বয়স লিখে দিলেই তা গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু স্বঘোষিত বয়সকে কোনো বয়সেই কার্যকর যাচাইপদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করছে না সংস্থাটি। নতুন নিয়ম কার্যকর হলেও কিছু শিশু বয়স যাচাইয়ের বাধা এড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে অফকম। সংস্থাটির মতে, কোনো বয়স যাচাইব্যবস্থাই শতভাগ ফাঁকিমুক্ত নয়। কেউ অন্যের পরিচয় ব্যবহার করতে পারে, আবার কেউ প্রযুক্তিগত উপায়েও বিধিনিষেধ পাশ কাটানোর চেষ্টা করতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত ও রিপোর্ট করার ব্যবস্থা সহজ করতে বলা হতে পারে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর অনলাইন আচরণ বিশ্লেষণ করে বয়স অনুমানের প্রযুক্তিও সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি সরাসরি প্রবেশের অনুমতি বা নিষেধাজ্ঞা নির্ধারণের একমাত্র উপায় হতে পারবে না। কারণ, ব্যবহারকারীকে আগে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে হয়, এরপর তাঁর আচরণ বিশ্লেষণ করা সম্ভব। অফকমের প্রধান নির্বাহী ডেম মেলানি ডস বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা অনলাইনে শিশুদের ভবিষ্যৎ ব্যবহারের ধরন বদলে দিতে পারে। তাই এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। তাঁর মতে, শিশুদের বয়স যাচাইয়ে কার্যকর ব্যবস্থা ব্যবহার করলে নিষেধাজ্ঞা কাজ করতে পারে। তবে কিছু শিশু নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে—এটি স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোরও সেই ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিধিমালা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে। এরপর অফকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বয়স যাচাইসংক্রান্ত নির্দেশিকার খসড়া প্রকাশ করে পরামর্শ গ্রহণ করবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মানছে কি না, তা তদারকির প্রস্তুতিও নিচ্ছে সংস্থাটি। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় কোন কোন প্ল্যাটফর্ম থাকবে, তার চূড়ান্ত তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়ার মডেল অনুসরণ করে ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ফেসবুক ও এক্সের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো মেসেজিং সেবা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেই বলে সরকার জানিয়েছে। নতুন নিয়মে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্যও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে। তবে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন। তাঁদের ক্ষেত্রে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ব্যবহারে সীমা, ওই সময়ে নোটিফিকেশন বন্ধ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু ও ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানোর সুবিধা ডিফল্টভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার ভূমিকা রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সরকারের পরামর্শ গ্রহণ কার্যক্রমে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ মতামত দেন। তাঁদের মধ্যে অভিভাবক, শিশু-কিশোর, শিক্ষক, চিকিৎসক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছিলেন। সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মতামত দেওয়া অভিভাবকদের ৯০ শতাংশ ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ছিলেন। তরুণদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশও অন্তত কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সসীমা নির্ধারণের পক্ষে মত দেন। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু করে। যুক্তরাজ্য সরকারও সেই মডেল অনুসরণের কথা জানিয়েছে। তবে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করছে, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই হবে না; বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতি নির্ভরযোগ্য করতে হবে এবং নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা শনাক্ত করার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৭ সালের বসন্তে নতুন নিয়ম কার্যকর করা। তবে চূড়ান্ত বিধিমালা ও প্ল্যাটফর্মভিত্তিক নির্দেশনা প্রকাশের পরই নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এক বছর ধরে মিস্টার বিস্টের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা, ৩৬৫তম দিনে পেলেন ১০ হাজার ডলার
৫০০ কোটি টাকার সম্পদ, তবু ঘরের বাসন ধোয়া থেকে রান্নাঘর পরিষ্কার করেন শ্রেয়া ঘোষালের স্বামী
নিউইয়র্কে কিংবদন্তি অভিনেতা আফজাল হোসেন-এর জন্মদিনে ভক্তের আবেগঘন স্ট্যাটাস
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, ইরান যুদ্ধ, কূটনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। পাশাপাশি প্রশাসনিক অনিয়ম ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিও গুরুত্ব পেয়েছে। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো— কালের কণ্ঠ: ‘বিষাদে বিলীন ঈদ আনন্দ’ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর টানা উদ্ধার অভিযানে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সব মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে যার মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্যও আছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন যাত্রী আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে নতুন করে কেউ না আসায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে এত বড় দুর্ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। একসঙ্গে এত প্রাণহানিতে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ফেরিতে ওঠার সময় তাড়াহুড়ো এবং প্রতিযোগিতাও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্ঘটনার পরপরই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে নিহতদের দাফন ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হচ্ছে। অনেক পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। কেউ হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, আবার কেউ হারিয়েছেন সন্তান বা স্বজন। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতেও এমন দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে। দেশ রূপান্তর: ‘সর্বনাশী পদ্মায় বিষাদের ঢেউ’ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মহান স্বাধীনতা দিবসে যেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন স্বজন হারানোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি মুহূর্তের মধ্যেই পানিতে তলিয়ে যায়। কেউ কেউ জানালা ও দরজা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ যাত্রী বের হতে পারেননি। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় ডুবে যাওয়া বাসটি পন্টুনে তোলা হয়। ওই সময় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখে পরদিন বিকেল পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ডুবুরি দল নদীর তলদেশে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। এই দুর্ঘটনায় বহু পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে। কারও একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, আবার কারও সন্তান বা স্বজন হারিয়ে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেরিঘাটের অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি এড়ানো যায়। আজকের পত্রিকা: ‘তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ’ এই খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) এবং আট হাজারের বেশি কনস্টেবল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জেলা কোটা লঙ্ঘন, স্থায়ী ঠিকানা গোপন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে অনিয়ম করে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, এসব নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে এবং তদন্তে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশগামী জ্বালানি জাহাজ চলাচলে ইরানের সম্মতি’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জ্বালানি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানকেও এই সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। সমকাল: ‘জ্বালানি তেল ও গ্যাস আনতে বিকল্প আট দেশে নজর’ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত, অ্যাঙ্গোলা ও থাইল্যান্ডসহ আটটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব দেশ থেকে জ্বালানি বহনকারী ২১টি জাহাজ এসেছে এবং আরও চালান আসার কথা রয়েছে। যদিও এসব উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল, তবে হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইত্তেফাক: ‘জ্বালানি আমদানি ব্যয় ৪৮০ কোটি ডলার বাড়ার আশঙ্কা’ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ব্যয় বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় চাপ তৈরি করবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। দ্য ডেইলি স্টার: ‘ছুটির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন’ ঈদের দীর্ঘ ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ব্যাংক বন্ধ থাকায় অর্থ লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এপ্রিল মাসের জন্য পরিকল্পিত অনেক জ্বালানি চালান এখনো নিশ্চিত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। প্রথম আলো: ‘ফেরিঘাটে অব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অরক্ষিত পন্টুন’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলিংবিহীন পন্টুন, ভাঙাচোরা সংযোগ সড়ক, ফেরিতে আগে ওঠার প্রতিযোগিতা এবং নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচল ফেরিঘাটকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বণিক বার্তা: ‘সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে আসছে না প্রকৃত হতাহতের তথ্য’ সাম্প্রতিক সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বেসরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে সরকারি হিসাবের বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবল সংকট ও দক্ষতার অভাবে এই তথ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। মানবজমিন: ‘সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ’ স্বাধীনতা দিবসে সারা দেশে শহীদদের স্মরণ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজ করার অঙ্গীকার