যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী শহর ডেল রিওতে পাঁচ সন্তানের জননী ক্যারোলিন "ক্যারো" পেনা হত্যাকাণ্ডে ১৯ বছর বয়সী আমায়া "কুকি" ডিয়াজই ছুরিকাঘাত করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া নথির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩২ বছর বয়সী পেনার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে কুকি ডিয়াজ তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় কুকির পাশাপাশি তার ২১ বছর বয়সী বোন কিটি মিয়া ডিয়াজ এবং তাদের বন্ধু ২১ বছর বয়সী কিয়ান্দ্রা রেনি ফাজের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার টেক্সাসের একটি আদালত তিন আসামির প্রত্যেকের জামিন পাঁচ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিয়ান্দ্রা ফাজ পুলিশকে জানান, পেনা তার বাড়িতে গিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তকারীরা পরে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পেনার কালো রঙের ডজ পিকআপ ট্রাকটি ফাজের বাড়ির সামনে এসে থামে। কিছুক্ষণ পর একটি কালো ক্রাইসলার ৩০০ গাড়িতে করে কুকি ও কিটি সেখানে পৌঁছান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নেমেই কুকি ডিয়াজ পেনার দিকে এগিয়ে যান। তার ডান হাতে ছুরির মতো একটি ধারালো বস্তু ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। ভিডিওতে দেখা যায়, কুকি পেনার পিঠে আঘাত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার জামা রক্তে ভিজে যায়। এরপর কিটি ডিয়াজ ও কিয়ান্দ্রা ফাজও হামলায় অংশ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পেনাকে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। আহত পেনাকে তার ভাতিজা স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে হামলার প্রায় সাত ঘণ্টা পর, রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে তিন অভিযুক্তই নিজেদের পক্ষে আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে পাঁচ সন্তানের এক মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই বোনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ক্যারোলিন "ক্যারো" পেনা (৩২) হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক মিনিট আগে তার দীর্ঘদিনের এক বান্ধবীকে ফোন করেছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১টা ৩৫ মিনিটে ক্যারোলিন পেনা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্রিস্টিনা সালিনাসকে ফোন করেন। তবে ফোনটি রিসিভ করা হয়নি। এর কয়েক মিনিট পরই ডেল রিও এলাকায় তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কিটি মিয়া ডিয়াজ (২১), আমায়া "কুকি" ডিয়াজ (১৯) এবং কিয়ান্দ্রা রেনে ফাজ (২১) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরও পড়ুন...নিউইয়র্কের কারাগারের অন্ধকার জগৎ: নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টিনা সালিনাস বলেন, তিনি যদি ফোনটি ধরতে পারতেন, তাহলে হয়তো ঘটনাটি এভাবে ঘটত না। তিনি বলেন, "আমার মনে হয় আমি যদি ফোনটি ধরতাম, তাহলে আমি তার সঙ্গে থাকতাম। হয়তো এমন কিছু ঘটত না।" সালিনাস জানান, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যারোলিন পেনাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে বিমানযোগে সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও সেখানে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি রক্তাক্ত ছবি দেখে চুল বাঁধার ধরন ও পোশাক দেখে তিনি বুঝতে পারেন সেটি তারই বন্ধু। বন্ধুকে স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় সালিনাস লেখেন, "তুমি একা চলে যেতে, আমি কখনও তা হতে দিতাম না। তুমি নেই, কিন্তু কখনও ভুলে যাওয়ার নও।" তিনি তাদের একসঙ্গে তোলা সর্বশেষ একটি ছবিও প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নিজের বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, "তোমার আমার বাড়িতে আসা, একসঙ্গে খাওয়া, গল্প করা আর হাসির মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।" এদিকে গ্রেপ্তারের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত কিটি ডিয়াজকে হাসিমুখে পুলিশি গাড়ির দিকে যেতে দেখা যায়। অন্যদিকে তার বোন আমায়া ডিয়াজকে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে "রেকর্ড করা বন্ধ করো" বলতে শোনা যায়। আরও পড়ুন... ‘সাইকেলে ধাওয়া করে অপহৃত ৫ বছরের শিশুকে উদ্ধার করেছিল ১৫ বছরের কিশোর স্বাধীন সাংবাদিক মাইকেল এলিজোন্ডোর দাবি, গ্রেপ্তারের পর আমায়া ডিয়াজকে বেশ হাসিখুশি দেখা গেছে। পুলিশের গাড়ির জানালা দিয়ে মুখ বের করে জিভ দেখানোসহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিও করেন তিনি। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসন শহরে বন্দুক হামলায় দুই নারী ও দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। জ্যাকসন পুলিশ বিভাগের প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি জানান, শনিবার রাত প্রায় ১০টা ১০ মিনিটে কুইন আলেকজান্দ্রিয়া লেনের ৩০০ নম্বর ব্লকে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পৌঁছে তারা দুই নারী ও একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের তথ্যমতে, নিহত দুই নারীর বয়স ২৬ ও ২০ বছর। তিনজনের শরীরেই একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। রোববার ভোরে পুলিশ জানায়, হামলার পর একটি লাল রঙের মিতসুবিশি মিরাজ গাড়িতে করে পালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে সশস্ত্র এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেই তিনি জড়িত। পরে রোববার দেওয়া হালনাগাদ তথ্যে পুলিশ জানায়, উত্তর জ্যাকসন এলাকায় সন্দেহভাজনের ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গাড়িটি উদ্ধারের সময় সেখানে কেউ ছিল না। অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনার পর জ্যাকসনের মেয়র জন হর্ন শহরে বন্দুক-সহিংসতা দমনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে বন্দুক হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। কোনো পরিবারই সহিংসতার কারণে প্রিয়জনকে হারানোর কষ্ট পাওয়ার যোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের ঘটনাকে শহরের স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হতে দেওয়া হবে না। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নরওয়ের যুবরাজবধূ মেটে-মারিটের বড় ছেলে মারিয়াস বোর্গ হইবিকে ধর্ষণের দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। আজ সোমবার অসলোর জেলা আদালত ৪টি ধর্ষণ মামলার মধ্যে ২টিতে হইবিকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা ঘোষণা করেন। বাকি দুটি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হলেও মারধর ও পারিবারিক নির্যাতনের আলাদা অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের পক্ষ থেকে দণ্ডিত হইবিকে ভুক্তভোগী নারীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, উনত্রিশ বছর বয়সী হইবির বিরুদ্ধে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চারজন নারীকে ঘুমন্ত বা অবশ অবস্থায় যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মারধর, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যসহ মোট ৪০টি ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এই দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় হইবি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও অন্যান্য ছোটখাটো অপরাধের কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেছিলেন। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অসলো জেলা আদালতের কাছে হইবির জন্য সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস চেয়ে এবং অন্যান্য স্বীকার করা অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ আঠারো মাসের সাজা দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। তবে আজ সোমবার রায় ঘোষণার সময় হইবি শারীরিক অসুস্থতার কারণে সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি কারাগার থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে আদালতের এই রায় শোনেন। গত মার্চ মাসে শেষ হওয়া এই ছয় সপ্তাহের দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় একাধিক ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং হইবির মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন বার্তা, ছবি ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অবশ্য এই রায়ই চূড়ান্ত নয় এবং হইবি চাইলে এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। অভিযুক্ত মারিয়াস বোর্গ হইবি রাজপরিবারের সরাসরি সদস্য না হওয়ায় তাঁর কোনো রাজকীয় উপাধি বা অফিশিয়াল দায়িত্ব নেই। তিনি নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ হাকোনের সাথে মেটে-মারিটের বিয়ের আগের সম্পর্কের সন্তান। তবে ভবিষ্যৎ রাজার পরিবারে একসঙ্গে বড় হওয়ার কারণে এই মামলাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। যুবরাজবধূ মেটে-মারিটের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই মামলা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে। ফুসফুসের জটিল রোগে আক্রান্ত মেটে-মারিট বর্তমানে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যে রায়ের আগে হইবিকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে আইনি লড়াই চললেও আদালত রায় ঘোষণা পর্যন্ত তাঁকে কারাগারেই রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় মোবাইল ফোন ছিনতাই ঠেকাতে গিয়ে গুলিতে নিহত হয়েছেন ২২ বছর বয়সী পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিলি শ্মিট। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তার বাবা বলেছেন, তিনি চান ছেলের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। স্থানীয় সময় শনিবার ভোর প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ ফিলাডেলফিয়ায় পরিবারের বাড়ির অদূরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, বিলি শ্মিট বন্ধুদের সঙ্গে একটি বারে এনবিএ ফাইনাল খেলা দেখে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় দুই মুখোশধারী ব্যক্তি তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোন ছিনতাইয়ের পর দুই সন্দেহভাজন পালিয়ে গেলে বিলি তাদের পিছু নেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, একজন সন্দেহভাজন তার মুখোমুখি হওয়ার পর দুজনই দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং বিলি তাদের ধাওয়া করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে একজন ছিনতাইকারী মোবাইল ফোনটি রাস্তায় ফেলে দেয় এবং একটি পার্ক করা গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। অন্যজন ঘুরে দাঁড়িয়ে বিলির বুকে গুলি করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে বিলি বলছিলেন, “আমার ফোনটা ফেরত দাও।” বিলির বাবা বিল শ্মিট স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি ওই দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে চাই এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে চাই।” তিনি বলেন, “সে খুব ভালো একজন মানুষ ছিল। সবার প্রতি তার আন্তরিকতা ছিল। সে কখনও কারও ক্ষতি করেনি। এমন একজন মানুষের এভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক।” ঘটনার পর বিলিকে দ্রুত Penn Presbyterian Medical Center-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিলির বোন আনা শ্মিট বলেন, “কেউ কীভাবে আমার এবং আমার পরিবারের সঙ্গে এমনটা করতে পারে, আমি বুঝতে পারছি না। আমি তাকে খুব মিস করছি।” পরে বিলির বাবা রাস্তার পাশে একটি গাড়ির নিচে পড়ে থাকা তার মোবাইল ফোনটি খুঁজে পান এবং সেটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তিনি বলেন, “ফোনটি ছিনতাই হওয়ার পর সে তাদের পিছু নিয়েছিল, এটা জেনে আমি বিস্মিত হয়েছি। পরে জানতে পারি, মোড়ের কাছে পৌঁছালে আরেকজন বেরিয়ে এসে তাকে গুলি করে।” এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ ও প্রসিকিউটররা আশা করছেন, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনে থাকা ডিএনএ নমুনা সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। ফিলাডেলফিয়ার সহকারী জেলা অ্যাটর্নি বিল ফ্রিটজে বলেন, তদন্তকারীরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন এবং ঘটনাস্থলে পুনরায় গিয়ে সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অপরাধ দমনে এক কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। এখন থেকে দেশটিতে গুরুতর অপরাধের দায়ে ১২ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দেশটির সরকার এই নতুন আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে, যা আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে-এর নেতৃত্বাধীন সরকার গ্যাং সহিংসতা ও অপরাধ নির্মূলে গত দুই বছর ধরে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে রেখেছে। সেই কঠোর নীতির অংশ হিসেবেই এই আইনি সংশোধন আনা হলো। নতুন আইন অনুযায়ী, হত্যা, সন্ত্রাসবাদ বা ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকলে শিশুদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এই আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে। ইউনিসেফের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোর শাস্তি আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের পরিপন্থী এবং এটি শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমালোচকরা বলছেন, অপরাধ দমনের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে। তবে প্রেসিডেন্ট বুকেলে এই সমালোচনার জবাবে জানিয়েছেন, খুনি এবং ধর্ষকদের কারাগারে আটকে রাখাই নাগরিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ কারাবন্দী হারের রেকর্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ৭ বছর বয়সী শিশু এথেনা স্ট্র্যান্ডকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে বিচারপ্রক্রিয়া। অভিযুক্ত পার্সেল সরবরাহকারী চালক ট্যানার হার্নের আদালতে হঠাৎ করেই নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার ফোর্ট ওয়ার্থের আদালতে শুনানির সময় তিনি শিশু অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর ফলে নির্ধারিত বিচার কার্যক্রম শুরুর আগেই মামলাটি সরাসরি শাস্তি নির্ধারণের পর্যায়ে চলে যায়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে একটি পার্সেল পৌঁছে দিতে গিয়ে শিশুটিকে তার বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে একটি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, অপহরণের পর শিশুটি কিছু সময় সরবরাহ ভ্যানের ভেতরে ছিল—যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সংবেদনশীলতার কারণে এ সংক্রান্ত ছবি প্রকাশ করা হয়নি। অভিযুক্ত ট্যানার হার্নের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফেডেক্স এর হয়ে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। এখন জুরিবোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে—এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, নাকি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা এবং পার্সেল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নিউ ইয়র্কে একদল অপেশাদার চোর মিডটাউনের একটি পার্কিং গ্যারেজ থেকে বিলাসবহুল গাড়ি চুরি করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পার্কিং গেটের বাধায় ব্যর্থ হয়, জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার ভোর ৬টার কিছু আগে ম্যানহাটনের হেলস কিচেন এলাকায় ওয়েস্ট ৪৩তম স্ট্রিটের একটি গ্যারেজে ৪-৫ জন চোর প্রবেশ করে। তারা একটি নীল ম্যাকলারেন, একটি মার্সিডিজ জি-ওয়াগনসহ বেশ কয়েকটি দামী গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে সেগুলো নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। একজন চোর ২০২০ সালের ম্যাকলারেনটি নিয়ে বের হতে সক্ষম হলেও বেশি দূর যেতে পারেনি। কয়েক লাখ ডলারের এই স্পোর্টস কারটি কাছের একটি খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। গাড়িটির মালিক পরে বলেন, এটা খুবই হতাশাজনক। নিউ ইয়র্কে এমন গাড়ি আগে দেখেছি, কিন্তু প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি এটা আমার গাড়ি। নিশ্চিত হওয়ার পর মাথায় হাজারটা চিন্তা ঘুরছিল। এদিকে, এক তৎপর পার্কিং কর্মী গ্যারেজের সামনের ধাতব গেট নামিয়ে দিয়ে বাকি চোরদের পালাতে বাধা দেন। তবে এ সময় একটি সাদা রেঞ্জ রোভার ক্ষতিগ্রস্ত হয় গেটটি গাড়িটির হুডের ওপর পড়ে। আরেক ভুক্তভোগী, যার ভলভো গাড়িটিও টার্গেট করা হয়েছিল, বলেন, আমি হতবাক। আমার গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে গেছে। গাড়ির চাবি ভেতরেই ছিল। চোররা শেষ পর্যন্ত নিজেদের একটি ধূসর বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। সর্বশেষ খবর পর্যন্ত তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের মারধরে ছোট ভাই শাহীন হোসেন (৩০) নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে আহত অবস্থায় মারা যান তিনি। নিহত শাহীন হোসেন উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের রাউতি গ্রামের রওশন আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানা এর পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রওশন আলীর দুই ছেলে বাবুল ও শাহীন আলাদা সংসারে বসবাস করতেন। বড় ছেলে বাবুল বাবার ভরণপোষণ করতেন। গত ২৮ মার্চ দুপুরে বাবার ভাত খাওয়া নিয়ে বাবুলের সঙ্গে তার বাবার তর্ক হয়। এ সময় ছোট ভাই শাহীন বিষয়টি নিয়ে বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বড় ভাই বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে শাহীনকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। বুধবার রাতে ঢাকায় নেওয়ার পথে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন প্রয়োজনীয় টাকা সংগ্রহের জন্য। এ সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং বাড়িতেই তিনি মারা যান। পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।
Cox's Bazar শহরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে সমুদ্র সৈকতের কবিতাচত্বর পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খোরশেদ আলম শহরের পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারিন নামের এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সংঘটিত গণধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মোসাদ্দেক খান (২৫)। গত সোমবার রাতে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের চিনচিনা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৪, সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির। র্যাব জানায়, গত ২৪ জানুয়ারি গভীর রাতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মোসাদ্দেক নিজেকে বাড়ির ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে দরজায় নক করেন। এ সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। ভুক্তভোগীর স্বামী দরজা খুললে অভিযুক্তরা ঘরে প্রবেশ করে তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং কাবিননামা দেখতে চায়। একপর্যায়ে তারা স্বামীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী ও তার স্বামীকে হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মোসাদ্দেক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মান্দা উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউনিয়নের কালীগ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহত সারওয়ার জাহান (৪৫) স্থানীয় বাসিন্দা। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে বসতবাড়ি কেনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাজু আহমেদ ও তার সহযোগীরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। ঈদের আগেও তাদের বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছিল বলে জানান ভুক্তভোগীর স্ত্রী। রোববার দুপুরে একই দাবিতে অভিযুক্তরা সারওয়ার জাহানকে কালীগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনে নিয়ে গিয়ে হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাজু আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম মাসুদ রানা জানান, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।