ইসরায়েল

যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর
যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর

ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যকে এবার ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার সম্প্রচারিত ইসরায়েলের আর্মি রেডিওর (গ্যালি জাজাল) পডকাস্ট ‘মেলেখ ব্লিটজার হাইম’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।   গাজা যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের কড়া সমালোচনা করতে গিয়েই মূলত তিনি এই প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সাংবাদিক ও উইনস্টন চার্চিলের ছেলে র‍্যান্ডলফ চার্চিলের ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান ব্রিটেনে এ ধরনের ইসরায়েলপন্থি অবস্থান খুঁজে পাওয়া একেবারেই বিরল। এ সময় তিনি চরম ব্যঙ্গাত্মক সুরে বর্তমান যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।   সাক্ষাৎকার চলাকালে মার্কিন রাজনীতিক জেডি ভ্যান্সের করা পূর্বের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ একজন বলেছিলেন যে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী বিশ্বের প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হতে যাচ্ছে এই ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’। তবে ইসরায়েল যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করবে যেন ইরানে এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই কড়া হুঁশিয়ারিও তিনি তার বক্তব্যে যোগ করেন।   নেতানিয়াহুর এমন ইসলামোফোবিক ও চরম ডানপন্থি বাগাড়ম্বরের পর যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠনগুলোর পাশাপাশি খোদ ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিকরাও এর তীব্র সমালোচনা করেছেন।   ‘মুভমেন্ট ফর প্রগ্রেসিভ জুডাইজম’-এর নেতা রাব্বি চার্লি বাগিনস্কি ও রাব্বি জশ লেভ এক যৌথ বিবৃতিতে এই মন্তব্যকে চরম বিদ্বেষপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, বর্তমান এই সামাজিক বিভাজনের সময়ে এ ধরনের বিপজ্জনক ভাষা ব্যবহার অনুচিত এবং নেতানিয়াহু কোনোভাবেই ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। ইসরায়েলি বিরোধী নেতা আভি দাবুশও এই মন্তব্যের জেরে নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন।   ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে স্পষ্ট টানাপোড়েন শুরু হয়। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় ইসরায়েলের কিছু অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়।   এছাড়া ফ্রান্স ও কানাডার মতো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মিত্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্য স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পথে হেঁটেছে।   সম্প্রতি বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধে আরও কঠোর চাপ প্রয়োগ এবং অস্ত্র ও বাণিজ্যসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। মূলত এই ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দূরত্বের কারণেই নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে এমন আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ভবিষ্যৎ চুক্তির উদ্দেশ্যে ১৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল
ভবিষ্যৎ চুক্তির উদ্দেশ্যে ১৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল

হামাসের কাছে কোনো ইসরায়েলি বন্দি না থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে বন্দি বিনিময় চুক্তিতে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের শিন বেত প্রধান। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎস মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে শীর্ষ পর্যায়ের ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক আলোচনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।   হারেৎসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের হাতে থাকা মরদেহগুলোর বেশিরভাগই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। তবে এসব মরদেহের মধ্যে বেসামরিক ফিলিস্তিনিও রয়েছেন। মরদেহগুলো ভবিষ্যতে কোনো বন্দি বা মরদেহ বিনিময় চুক্তিতে ইসরায়েলের জন্য আলোচনার হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।   ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখা ইসরায়েলের নতুন কোনো নীতি নয়। পশ্চিম তীর ও গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মরদেহ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে রাখার অভিযোগ রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বহু বছর ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছে।   হারেৎসের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহ আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ে সাম্প্রতিক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে কোনো বিনিময় চুক্তির প্রয়োজন হলে এসব মরদেহকে আলোচনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।   মরদেহ আটকে রাখার এই নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে মৃতদের মর্যাদা রক্ষা এবং যথাযথভাবে তাদের দাফন বা সৎকারের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি আরও গভীর মানবিক সংকট তৈরি করেছে। স্বজনের মৃত্যুর পরও মরদেহ ফিরে না পাওয়ায় অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করতে পারছে না। একই সঙ্গে মরদেহগুলোকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বা সামরিক দর-কষাকষিতে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   হারেৎসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হাতে থাকা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মরদেহের বিষয়টি এখন ভবিষ্যৎ বিনিময় আলোচনার সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে সামনে এসেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মরদেহ আটকে রাখার নীতি নতুন করে আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার মহলের নজরে এসেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিসজুড়ে ৩৬ স্থানে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, নাগরিকদের পরিচয় প্রকাশেও সতর্ক করল ইসরায়েল
গ্রিসজুড়ে ৩৬ স্থানে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, নাগরিকদের পরিচয় প্রকাশেও সতর্ক করল ইসরায়েল

গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে গ্রিসজুড়ে অন্তত ৩৬টি স্থানে একযোগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। রাজধানী এথেন্সসহ দেশটির বিভিন্ন শহর ও জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এই কর্মসূচি পালিত হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্রিসে অবস্থানরত ও ভ্রমণরত ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তায় নাগরিকদের বিক্ষোভস্থল ও বড় জমায়েত থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয় বহন করে এমন কোনো প্রতীক বা চিহ্ন প্রদর্শন না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে নাগরিকদের গ্রিস ভ্রমণ বাতিল করতে বলা হয়নি; মূলত বিক্ষোভ চলাকালে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতেই এই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন সমন্বিতভাবে এই বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বিশেষ করে যেসব পর্যটন এলাকায় ইসরায়েলিদের আনাগোনা বেশি, সেগুলোকে এই কর্মসূচিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিক্ষোভ শুধু বড় শহরের কেন্দ্রস্থলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, তা ছড়িয়ে পড়ছে পর্যটকদের উপস্থিতিবহুল এলাকাগুলোতেও। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদই এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য।   তবে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ হলেই ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামলা হবে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এর আগে গত বছরও একই ধরনের কর্মসূচির সময় ইসরায়েল এমন সতর্কতা জারি করেছিল, যা কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল। তাই এবারের নির্দেশনাকেও একটি আগাম নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রকাশ্যে ইহুদি পরিচয় গোপনের নির্দেশনার বিষয়টি স্পষ্ট করে যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনের অসহায় শিশু ও ফোর্স।ছবি:সংগৃহীত
গড়ে প্রতিদিন ছয়টিরও বেশি ইসরায়েলি হামলার ঘটনা, চলতি বছর বাস্তুচ্যুত ২,৩০০ ফিলিস্তিনি

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, সম্পত্তি ধ্বংস ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা চলতি বছরে আরও বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর ওসিএইচএ’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে পশ্চিম তীরজুড়ে ১ হাজার ৩৩০টির বেশি বসতি স্থাপনকারী-সংশ্লিষ্ট হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনা ঘটেছে প্রায় ২৫০টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ে গড়ে প্রতিদিন ছয়টিরও বেশি হামলার ঘটনা।    এই পরিস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৬ জুলাই পর্যন্ত পশ্চিম তীরের ১২৩টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি সম্প্রদায় পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। এই সময়ে ৬ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ হাজারের বেশি শিশু। শুধু ২০২৬ সালেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ।   হামলার প্রভাব শুধু বাড়িঘরেই সীমাবদ্ধ নেই। পানি সরবরাহের ব্যবস্থা, কৃষিজমি, জীবিকার অবকাঠামো, স্কুল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি বছরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় প্রায় ১৬০টি পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস বা দখল হয়েছে। এর মধ্যে পানির ট্যাংকই অর্ধেকের বেশি।   জাতিসংঘ বলছে, বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় হতাহতের ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০ জুলাই পর্যন্ত ২০২৬ সালে এ ধরনের হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যেখানে ২০২৫ সালের পুরো বছরে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৭। নিহতদের মধ্যে ১২ জনকে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা হত্যা করেছে বলে ওসিএইচএ জানিয়েছে; তিনজন ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত এবং আরও তিনজনের ক্ষেত্রে দায় কার, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৮০ ফিলিস্তিনি বসতি স্থাপনকারী-সংশ্লিষ্ট হামলায় আহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭২০ জন সরাসরি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন।   সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে। রামাল্লার পূর্বে দেইর জারির গ্রামে জুলাইয়ের মাঝামাঝি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হন। আবার নাবলুসের দক্ষিণে তেল গ্রামে প্রায় ৪০ জন মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারী একটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে ওসিএইচএ জানিয়েছে। পরিবারটি আগুনে বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার কয়েক মিনিট আগে পালিয়ে যায় এবং পাঁচজন বাস্তুচ্যুত হন।   পশ্চিম তীরের বেদুইন ও পশুপালননির্ভর সম্প্রদায়গুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। হামলা, জমিতে প্রবেশের বাধা, বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস এবং পানির উৎসে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।   জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পরিস্থিতি শুধু তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে না; বারবার বাস্তুচ্যুতি ও জীবিকার অবকাঠামো হারানোর কারণে এসব সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জেডি ভ্যান্স
ইসরায়েল নিয়ে সমালোচনার ব্যাখ্যা চাইতে ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক ইসরায়েল-বিষয়ক সমালোচনা নিয়ে ওয়াশিংটনে একান্ত বৈঠকে আলোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় মঙ্গলবার ব্লেয়ার হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিষয়টি সরাসরি উত্থাপন করেন তিনি বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।   অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, বৈঠকে ভ্যান্সের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা এটিকে “স্পষ্ট ও খোলামেলা” আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনা সরাসরি হলেও সেটি কোনোভাবেই সংঘাতপূর্ণ ছিল না।   এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, বৈঠকে দুই নেতা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন। তার ভাষায়, বৈঠকটি ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ।   মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে তুলনামূলক সংযত অবস্থানের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে সম্প্রতি আলোচনায় আসেন জেডি ভ্যান্স। জুন মাসে তিনি ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তার সমালোচনা করে বলেন, তিনি ইসরায়েল সরকারের সদস্য হলে দেশটির “একমাত্র শক্তিশালী মিত্র” যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন অবস্থান নিতেন না।   চলতি মাসের শুরুতে জনপ্রিয় পডকাস্ট দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স-এ ভ্যান্স আরও বলেন, ইসরায়েলের কিছু নেতা যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক পথ থেকে সরে এসে তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করেছিলেন।   এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, চলতি বছরের শুরুতে ইরানকে ঘিরে টেলিফোনে নেতানিয়াহু ও ভ্যান্সের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল। সে সময় ভ্যান্স নাকি ইসরায়েলের সেই মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে।   তবে মতপার্থক্য থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ককে শক্তিশালী বলেই উল্লেখ করে আসছেন ভ্যান্স। গত মাসে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু অবশ্যই কিছু বিষয়ে ভুল করেছেন, কিন্তু তিনি এখনো একজন ভালো অংশীদার। আমরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব। তবে যেখানে দুই দেশের স্বার্থ ভিন্ন হবে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে।”   হোয়াইট হাউস ও ইসরায়েল সরকার এখন পর্যন্ত মঙ্গলবারের ওই বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। প্রথমে এ তথ্য প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সহায়তা নিয়ে পেন্টাগনকে সতর্ক করেছেন জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানি হামলা থেকে ইসরায়েলকে বাঁচাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র নেই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে!

ইরানের সম্ভাব্য আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা এই মুহূর্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে নেই বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনে পাঠানো মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষপর্যায়ের একটি গোপন চিঠির বরাতে এই উদ্বেগজনক খবরটি সামনে এনেছে আমেরিকার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’।   সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনে সম্প্রতি পাঠানো এক গোপন বার্তায় সরাসরি এই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যে নজিরবিহীন নৌ অবরোধ বা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা হয়েছে, তার ফলেই মূলত এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল এলাকাজুড়ে মার্কিন সামরিক সম্পদ ও প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতার ওপর। পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে জেনারেল গ্রিনকিউইচ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিদ্যমান অস্ত্রসংকটের কারণে ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীকে হয়তো একপর্যায়ে ইসরায়েলকে সুরক্ষিত রাখার চেয়ে নিজেদের বাহিনীর সুরক্ষাকেই বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলকে আকাশপথে সুরক্ষা দিতে দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে শক্তিশালী রাডার ও আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সম্বলিত যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে আরব সাগরে ১১টি যুদ্ধজাহাজ এবং দুটি বিশাল বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। এভাবে পুরো অঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি ছড়িয়ে দেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অস্ত্রসংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।   পেন্টাগনের এই গোপন বার্তা ফাঁস হওয়ার আগেও অন্য এক মার্কিন কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার অস্ত্রের যে মজুত ছিল, তা ধীরে ধীরে কমে আসছে। বর্তমান চিত্র অনুধাবন করে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যদি দীর্ঘমেয়াদি বা সর্বাত্মক কোনো সংঘাত তৈরি হয়, তবে সে পরিস্থিতিতে টানা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
দুই ‘মোসাদ’ গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান
দুই ‘মোসাদ’ গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান

ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই ইরানি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা নীতির কঠোর অবস্থানের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত চলাকালে তারা ইসরায়েলের কাছে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থানসহ সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। এসব অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।   তবে অভিযুক্তদের নাম-পরিচয়, বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের স্থান ও সময় সম্পর্কে ইরানি কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।   এদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ-পরবর্তী সময়ে জুলাই পর্যন্ত অন্তত ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি, শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছিল।   অন্যদিকে, ইরানের বিচার বিভাগ বরাবরই দাবি করে আসছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানে এ ধরনের মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।   ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুপ্তচরবৃত্তি এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলাগুলোতে তেহরানের কঠোর অবস্থান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও দৃশ্যমান হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতেই ইরান এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখছে, যদিও এসব বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
নিম্ন আদালতের জরিমানার রায় বাতিল করে নতুন সিদ্ধান্ত দিয়েছে আপিল আদালত। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলকে নাৎসিদের সঙ্গে তুলনা করা অপরাধ নয়: জার্মান আদালতের রায়

ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নাৎসি শাসনব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা কোনো অপরাধ নয় বলে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে জার্মানির একটি উচ্চতর আদালত। নাগরিকের বাকস্বাধীনতার অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে এক নারীকে সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং জার্মানির আইন বিষয়ক খবরের ওয়েবসাইট বেক অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত। অভিযুক্ত নারী তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে নাৎসি শাসনামলের অপরাধের তুলনা করে একটি তালিকা প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে নাৎসিদের ব্যবহৃত স্বস্তিকা চিহ্ন এবং নাৎসি পার্টির পতাকার ছবি যুক্ত কিছু গ্রাফিক্স ব্যবহার করেছিলেন তিনি।   এ ছাড়া অন্য একটি পোস্টে একটি দেয়ালচিত্রের ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে ডেভিড তারকার মাঝে স্বস্তিকা চিহ্ন আঁকা ছিল। চিত্রে দেয়ালের ওপর থেকে সৈন্যদের গুলি ছোঁড়ার দৃশ্য এবং নিচ দিয়ে রক্ত বয়ে যাওয়ার ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। পোস্টগুলোতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে এবং গাজায় সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছিল।   জার্মানির সংবিধানে নিষিদ্ধ বা অসাংবিধানিক সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগে দেশটির লুদভিগসহাফেন শহরের একটি নিম্ন আদালত ওই নারীকে ২ হাজার ৪০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা) অর্থদণ্ড দেয়। নিম্ন আদালতের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাইব্রুকেনের একটি উচ্চতর আঞ্চলিক আদালতে মামলাটির শুনানি হয়।   আপিল শুনানির পর জাইব্রুকেনের উচ্চতর আঞ্চলিক আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া ওই দণ্ড আদেশ পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অসাংবিধানিক সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের যে আইনি বাধা রয়েছে, এই ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। কারণ সংশ্লিষ্ট নারী কোনো নিষিদ্ধ আদর্শের প্রচার বা উসকানি দিতে এটি করেননি; বরং ইসরায়েল রাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করতে গিয়ে বাকস্বাধীনতার অংশ হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি নেই বলে পেন্টাগনকে সতর্ক করেছেন ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ। বিষয়টি সামনে আসায় ইরান-সংঘাতের জেরে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ও বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল গ্রিনকেভিচ সম্প্রতি পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় জানান, অতিরিক্ত একটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার না পেলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা এবং ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হতে পারে। পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হবেন।  প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে এসেছে এবং একই সঙ্গে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সামরিক সম্পদ বণ্টন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।  পেন্টাগনের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, এ ধরনের সতর্কবার্তা সামরিক কমান্ডাররা প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতি বা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে বিষয়টি বর্তমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ কতটা বেড়েছে, সেটিও স্পষ্ট করে।      এর আগেও ওয়াশিংটন পোস্টের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এবং ইসরায়েলকে রক্ষায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার ও সামরিক বাজেটের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটাতে পেন্টাগনকে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খাতের অর্থ পুনর্বিন্যাস করতেও হয়েছে।  সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক প্রস্তুতিকেও প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সম্পদ ধরে রাখা এখন পেন্টাগনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

Unknown আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলকে ৩৯-৩৮ পয়েন্টে হারিয়ে ৭৫ বছর পর দলগত পদক জিতেছে মিশর। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বমঞ্চে ফেন্সিংয়ে ইসরায়েলকে হারিয়ে ৭৫ বছর পর ব্রোঞ্জ জয় মিশরের

হংকংয়ে অনুষ্ঠিত সিনিয়র বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে মিশর। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৩৯-৩৮ পয়েন্টের রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্ব ফেন্সিংয়ের দলগত ইভেন্টে ৭৫ বছর পর পদকের দেখা পেল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।   বুধবার অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। একপর্যায়ে স্কোর ৩৮-৩৮ সমতায় পৌঁছে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ‘গোল্ডেন টাচ’-এ নির্ণায়ক পয়েন্ট এনে মিশরকে ৩৯-৩৮ ব্যবধানে জয় উপহার দেন দেশটির তারকা ফেন্সার মোহাম্মদ এল-সায়েদ।   এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৫১ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপের দলগত ইভেন্টে পদক জিতল মিশর। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় পর এমন সাফল্য দেশটির ফেন্সিং ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ম্যাচ শেষে মোহাম্মদ এল-সায়েদ ও তার সতীর্থদের উচ্ছ্বসিত উদযাপনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মিশরীয় খেলোয়াড়রা আবেগঘন উদযাপনে মেতে ওঠেন।   এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবিও ছড়িয়ে পড়ে যে ম্যাচ শেষে এল-সায়েদ ইসরায়েলের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে করমর্দান করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে আন্তর্জাতিক ফেন্সিং ফেডারেশন (এফআইই) বা আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হংকংয়ে ২২ থেকে ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্বের শীর্ষ ফেন্সাররা অংশ নেন। প্রতিযোগিতাটি প্রথমবারের মতো আয়োজন করে হংকং, যেখানে ব্যক্তিগত ও দলগত—উভয় বিভাগেই পদকের জন্য লড়েছেন বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়রা।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্রোঞ্জ পদক শুধু একটি ক্রীড়া সাফল্য নয়; বরং আন্তর্জাতিক ফেন্সিংয়ে মিশরের ধারাবাহিক উন্নতিরও প্রতিফলন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির ফেন্সাররা ব্যক্তিগত পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন, আর এবার দলগত ইভেন্টেও ইতিহাস গড়ল মিশর।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
গাজা নিয়ে নতুন শান্তি পরিকল্পনায় শর্তসাপেক্ষ নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিয়েছে হামাস। ছবি: সংগৃহীত
গাজা সংকটে ঐতিহাসিক মোড়: সেনা প্রত্যাহারের শর্তে ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণে রাজি হামাস

গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে নতুন একটি শান্তি উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত একটি ধাপভিত্তিক রোডম্যাপে শর্তসাপেক্ষে নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিয়েছে হামাস। তবে সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করলেই কেবল তারা নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে।   আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ জানিয়েছেন, নিরস্ত্রীকরণ কোনো একতরফা পদক্ষেপ হবে না। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে ইসরায়েল চুক্তির অধীনে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে কি না তার ওপর। তার ভাষায়, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরুর নিশ্চয়তা মিললেই ধাপে ধাপে অস্ত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার দাবি করেন, ‘বোর্ড অব পিস’ হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতায় পৌঁছেছে। তার দাবি, এই পরিকল্পনার আওতায় ধাপে ধাপে হামাসের অস্ত্র অপসারণ করা হবে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলও পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা পরিকল্পনায় হামাসের অস্ত্র একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কারিগরি কমিটির তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণের কথা রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে গাজায় নতুন একটি বেসামরিক প্রশাসন গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।   তবে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা কার্যকর হয়নি। হামাস বলছে, ইসরায়েল যদি সেনা প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং পুনর্গঠনের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে না। অন্যদিকে ইসরায়েল সরকারও এখন পর্যন্ত পরিকল্পনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়নি এবং এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আপত্তি রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   এই পরিকল্পনা মূলত চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত একটি ১৫ দফা রোডম্যাপের ধারাবাহিকতা। সেখানে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি, গাজার প্রশাসন একটি নিরপেক্ষ ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির হাতে হস্তান্তর, ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ এবং পরে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গাজার দীর্ঘ সংঘাত নিরসনের পথে বড় অগ্রগতি হতে পারে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং চুক্তির প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়নের জটিলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও বাস্তবায়নের পথ সহজ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে  ২,৫৯৬ অস্ত্র পাঠিয়েছে ভারত
গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে ২,৫৯৬ অস্ত্র পাঠিয়েছে ভারত

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ভারত রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরায়েলে অন্তত ২ হাজার ৫৯৬টি চালানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ভারত সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পাঠানো চালানগুলোর মধ্যে ছিল মেশিনগানের যন্ত্রাংশ, ১৫৫ মিলিমিটার কামানের গোলা, ড্রোনের ওয়ারহেড, সাঁজোয়া যানের উপাদান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম। অ্যামনেস্টির দাবি, এসব চালানের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার বিস্ফোরক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং প্রায় ৩ লাখ ৯১ হাজার ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।    অ্যামনেস্টি বলেছে, তারা উন্মুক্ত বাণিজ্য তথ্য ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত রক্ষণশীল পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করেছে। ফলে প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়েও ভারতের প্রকৃত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের পরিমাণ বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটির ধারণা। প্রতিবেদনে ভারতের নয়টি কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।   অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনা ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বিবেচনায় ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনে সহায়তার শামিল হতে পারে। তিনি দেশগুলোর প্রতি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানান।  প্রসঙ্গত, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে একাধিক দেশের নীতির সমালোচনা করে আসছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকার ও প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তবে ভারতের বিরুদ্ধে অ্যামনেস্টির সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন নেতানিয়াহু

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার কার্যালয় জানিয়েছে, সফরকালে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও অংশ নেবেন। গ্রাহাম দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে নেতানিয়াহু বলেন, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকা সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে ইরান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরিধি বাড়ানো এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।   নেতানিয়াহু বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার অভিজ্ঞতায় এমন সংকটপূর্ণ সময়ে দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতা, উভয়ই প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করা।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এটি হবে দুই নেতার অষ্টম বৈঠক। তার দাবি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অন্য যেকোনো বিশ্বনেতার তুলনায় তার সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি বৈঠক হয়েছে ট্রাম্পের। নেতানিয়াহুর ভাষায়, এটি যেমন সম্মানের বিষয়, তেমনি দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় দায়িত্বও।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, এই বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও কূটনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি, লেবানন সীমান্তের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্বাভাবিকীকরণ উদ্যোগ এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য নীতিও আলোচনায় স্থান পেতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের জন্যই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বৈঠক শেষে কী ধরনের সিদ্ধান্ত বা যৌথ ঘোষণা আসে, তার ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
সিরিয়া-ইসরায়েল নিরাপত্তা চুক্তির পথে
সিরিয়া-ইসরায়েল নিরাপত্তা চুক্তির পথে? গোলান মালভূমির অধিকার ছাড়বে না দামেস্ক

ইসরায়েলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ‘আল মুকাবলা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এমন একটি চুক্তি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত শান্তির পথ তৈরি করতে পারে।   তবে সম্ভাব্য কোনো নিরাপত্তা সমঝোতা হলেও ইসরায়েলের দখলে থাকা গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার ঐতিহাসিক ও আইনগত অধিকার কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন শারা।   গোলান মালভূমি একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পার্বত্য অঞ্চল, যা ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল দখল করে নেয়। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে ইসরায়েল ওই অঞ্চল নিজেদের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দিলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ তা স্বীকৃতি দেয়নি।   সিরীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, তার সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়িয়ে চলতে চায়। দুই দেশের মধ্যে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি একটি স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।   বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আহমেদ আল-শারা ক্ষমতায় আসেন। এরপর থেকে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা, সীমান্ত উত্তেজনা এবং বিমান হামলার ঘটনা নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এমন এক সংঘাতপূর্ণ পরিবেশেই ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির সম্ভাবনার কথা সামনে আনলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট।   এদিকে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সিরিয়ার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, লেবাননে হিজবুল্লাহকে মোকাবিলায় সিরিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকতে পারে।   তবে সেই সম্ভাবনা নাকচ করে আহমেদ আল-শারা জানিয়েছেন, লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা নেই সিরিয়ার। বরং তার সরকার লেবাননের বৈধ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার পথ খুঁজছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ার এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ। দীর্ঘদিনের শত্রুতার পর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করলে তা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন
বিল ক্লিনটনের পুরোনো মন্তব্য ঘিরে আবারও আলোচনায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের স্থায়ী সমাধান কেন আজও সম্ভব হয়নিএ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের দুই দশকেরও বেশি পুরোনো মন্তব্য আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক আলোচনায় সামনে এসেছে। ২০০০ সালের ক্যাম্প ডেভিড শান্তি সম্মেলনে ক্লিনটনের মধ্যস্থতায় তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এবং ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির চেষ্টা করেছিলেন। আলোচনায় সীমান্ত, জেরুজালেমের মর্যাদা, নিরাপত্তা, শরণার্থী এবং সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের মতো সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি।   সম্মেলন শেষে বিল ক্লিনটন বলেন, উভয় পক্ষই ইতিহাসের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে নজিরবিহীন আলোচনা করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, তবুও মূল বিষয়গুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল এবং শান্তির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। বর্তমানে প্রো-ইসরায়েল অবস্থানের অনেক বিশ্লেষক ও রক্ষণশীল রাজনীতিক দাবি করছেন, অতীতের বিভিন্ন শান্তি প্রস্তাব ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এই ইতিহাস বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনায় প্রায়ই উপেক্ষিত হয় এবং তা সংঘাতের বাস্তব চিত্র বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তারা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের স্বীকৃতির বিষয়টিকেও আলোচনার কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানান।   অন্যদিকে সমালোচক ও বহু গবেষক মনে করেন, সংঘাতের ব্যর্থতার জন্য একক কোনো পক্ষকে দায়ী করা যায় না। তাদের মতে, সীমান্ত নির্ধারণ, ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ, জেরুজালেমের ভবিষ্যৎ, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের দাবি, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস—এসব দীর্ঘদিনের জটিল ইস্যু শান্তিচুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ক্যাম্প ডেভিড আলোচনার ব্যর্থতা এখনো মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সেই আলোচনা এবং বিল ক্লিনটনের মন্তব্য নতুন করে মূল্যায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার জেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো ফিলিস্তিনি মসজিদ
অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার জেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো ফিলিস্তিনি মসজিদ

দখলকৃত পশ্চিম তীরে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা এবং দুটি মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে নাবলুসের কাছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। ওই ঘটনার পরই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিম তীরে।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে তাল গ্রামের কাছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের একটি দল প্রবেশ করলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা তাদের প্রতিহত করতে বাড়িঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। একপর্যায়ে সেখানে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারান। নিহত দুই সেনার একজন স্থানীয় নিরাপত্তা সমন্বয়কের দায়িত্বেও ছিলেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সংঘর্ষের সময় এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তি ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে একটি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালান। তবে পুরো ঘটনার পরিস্থিতি ও কার গুলিতে কারা নিহত হয়েছেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।   এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর রোববার ভোরে পশ্চিম তীরের কয়েকটি ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলার অভিযোগ ওঠে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। নাবলুসের দক্ষিণ-পূর্বে কুসরা গ্রামে একটি সদ্য নির্মিত মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। গ্রামের পরিষদপ্রধান আবদেল আজিম ওয়াদি বলেন, হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘ইহুদি প্রতিশোধ’সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে যায়। নিহত এক ইসরায়েলির নামও সেখানে লেখা হয়েছিল বলে তিনি জানান।   ওয়াদি বলেন, ২০১১ সাল থেকে কুসরা গ্রাম বারবার হামলার শিকার হয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   একই দিনে তুলকারেম শহরের দক্ষিণ-পূর্বে কুর গ্রামের একটি মসজিদেও আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গ্রামের পরিষদ সদস্য ফারিদ জিয়ুসির ভাষ্য, ভোরে তিনজন বসতিস্থাপনকারী মসজিদটিতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন। তবে মুসল্লিরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলায় তা মসজিদের মূল অংশে ছড়িয়ে পড়েনি। ওই মসজিদের দেয়ালেও হিব্রু ভাষায় গ্রাফিতি লেখা হয়েছে বলে তিনি জানান।   ঘটনার পর কুসরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে অগ্নিসংযোগের আলামত ও গ্রাফিতি দেখতে পেয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছে। প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পুলিশ সদস্যদেরও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ধর্মীয় স্থাপনায় হামলাসহ এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, এলাকায় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলায় কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।   পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অধিকাংশ দেশ ও জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে রয়েছে।   ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ফিলিস্তিনিরা গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিকদের একটি অংশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।   সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ ও মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম তীরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও হামলার আশঙ্কা করছেন, আর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নিচ্ছেন ইসরায়েলিরা
ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নিচ্ছেন ইসরায়েলিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন যানবাহনে হামলা এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। একই সময়ে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার খবরে বলা হয়েছে, সালফিত ও কালকিলিয়া গভর্নরেটকে সংযুক্তকারী সড়কে বসতি স্থাপনকারীরা সড়ক অবরোধ করে ফিলিস্তিনিদের চলাচলকারী একাধিক গাড়িতে পাথর ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকটি গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।    ওয়াফা আরও জানায়, কালকিলিয়ার পূর্বাঞ্চলের আন-নবি ইলিয়াস গ্রামের প্রবেশপথে ইসরায়েলি বাহিনী একটি লোহার গেট বন্ধ করে রেখেছে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলে উল্লেখযোগ্য বাধার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।    অন্যদিকে, তুবাসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের খিরবেত আল-রাস আল-আহমার এলাকায় এক ফিলিস্তিনির ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। মানবাধিকারকর্মী আরেফ দারাঘমেহ ওয়াফাকে জানান, ফিলিস্তিনি নাগরিক সুলেইমান জামিল বানি ওদেহকে আটকে রেখে তার ব্যক্তিগত গাড়িটি নিয়ে যায় বসতি স্থাপনকারীরা।    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, কৃষিজমি ও যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের একাধিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে।    এদিকে, রয়টার্সের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর পশ্চিম তীরে নিহত ফিলিস্তিনিদের একটি অংশ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।    উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ওই ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ বলে জাতিসংঘসহ অধিকাংশ দেশ মনে করলেও ইসরায়েল এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হ ত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি I ছবি: সংগৃহীত
অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হ ত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরের ‘তেল’ গ্রামে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর এক চাঞ্চল্যকর পাল্টা আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই এক ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে গুলি করে হত্যা করে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সমগ্র পশ্চিমতীরজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পাল্টা তাণ্ডব শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।   হত্যাকাণ্ড ও সংঘাতের পর রাতভর সমগ্র পশ্চিমতীরজুড়ে ব্যাপক অভিযান ও তাণ্ডব চালিয়েছে দখলদার বাহিনী। অভিযানের নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের অজুহাতে আরও কয়েকশ সাধারণ মানুষকে চরম হেনস্তা ও হয়রানি করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তেল গ্রামে অবৈধ সেটেলারদের সাথে সংঘাতের পর সেখান থেকেই ১১ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অন্তত ৮০ জনের বেশি মানুষকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।   অন্যদিকে, পশ্চিমতীরের জেনিন এলাকায় প্রায় ৩০০টিরও বেশি স্থানে একযোগে চিরুনি অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা। সেখান থেকেও বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, আটককৃত সকলেই আন্তর্জাতিক কিংবা স্থানীয়ভাবে 'ওয়ান্টেড' তালিকায় ছিল এবং সশস্ত্র সংগঠন হামাসসহ অন্যান্য স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিস্ফোরক দিয়ে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলেও দাবি করা হয়, তবে এই অভিযোগের সপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ বা তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি দখলদার বাহিনী।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে নতুন শর্ত ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক ঠিক করার সময় হয়েছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এগিয়ে নেওয়া হবে না। তার ভাষায়, সৌদি আরবকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এ যোগ দিতে হবে।   শুক্রবার (২৪ জুলাই) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবের এখন আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার সময় এসেছে। তিনি দাবি করেন, এই শর্ত নতুন নয়; বরং শুরু থেকেই এটি দুই পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়ার অংশ ছিল। এর আগে বুধবার মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও সহায়তায় বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তিটি এখন পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে।   তবে চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করে, তাহলে এই পরমাণু চুক্তি কার্যকর হবে না। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি শুধু শান্তিপূর্ণ বেসামরিক ব্যবহারের জন্য হবে এবং এতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না। শুক্রবারও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করেননি। তবে তার দাবি, সৌদি আরব এবং সংশ্লিষ্ট সবাই জানত যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাই চুক্তির অন্যতম শর্ত।   এদিকে ট্রাম্পের নতুন শর্তের বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় পথ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। এই অবস্থান সৌদি আরব একাধিকবার প্রকাশ্যে পুনর্ব্যক্ত করেছে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।   হোয়াইট হাউসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা কয়েক দশকব্যাপী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এই ধরনের চুক্তি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তির বিস্তার নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তবে মার্কিন প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, চুক্তিটি কেবল শান্তিপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনের জন্য এবং এটি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডার একটি রিসোর্টে মারা গেছেন ইসরায়েলি-আমেরিকান টিভি ব্যক্তিত্ব ইয়াকির লেভি। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডার হোটেলের ২৮ তলা থেকে নিচে পড়ে ইসরায়েলি-মার্কিন তারকা ইয়াকির লেভির মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ইসরায়েলি-আমেরিকান রিয়েলিটি টেলিভিশন তারকা ও ব্যবসায়ী ইয়াকির লেভি মারা গেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   টিএমজেড, জেরুজালেম পোস্ট এবং মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফ্লোরিডার সানি আইলস বিচ এলাকার অ্যাকুয়ালিনা রিসোর্ট অ্যান্ড রেসিডেন্সেস থেকে জরুরি সহায়তার জন্য পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়।   ঘটনাস্থলে পৌঁছে সানি আইলস বিচ পুলিশ বিভাগ এবং মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ সদস্যরা ইয়াকির লেভিকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আলামত পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, ঘটনার সময় ৪৫ বছর বয়সী লেভি একাই ছিলেন। তবে কী পরিস্থিতিতে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন সন্তানের জনক ইয়াকির লেভিকে ইসরায়েলে দাফন করা হবে।   তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনেরা শোক প্রকাশ করেন। ফেসবুকে লেভির বোন পরিচয়ে এক নারী লেখেন, “আমার প্রিয় ভাই, আমি তার আত্মাকে সৃষ্টিকর্তার কাছে সমর্পণ করছি। কেউ যেন আমাকে এই দুঃস্বপ্ন থেকে জাগিয়ে দেয়।”   ইসরায়েলের রামলা শহরে জন্ম নেওয়া ইয়াকির লেভি চ্যানেল ১৩-এর জনপ্রিয় তথ্যচিত্রভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘দ্য আমেরিকানস’-এ অংশ নিয়ে পরিচিতি পান। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন গড়তে আসা অভিবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত ওই অনুষ্ঠানে তার সংগ্রামের গল্প দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।   অনুষ্ঠানে লেভি জানিয়েছিলেন, মাত্র ৩০০ মার্কিন ডলার নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে বন্যা, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের ব্যবসার মাধ্যমে তিনি সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: টিএমজেড, জেরুজালেম পোস্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স
মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক জোট শক্ত করার ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিলে ‘না’ ভোট চান স্যান্ডার্স

আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার লক্ষ্যে উত্থাপিত এক প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের ‘না’ ভোট দেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ এখন স্পষ্ট ও উচ্চকণ্ঠে বার্তা দিচ্ছেন যে—চরমপন্থী নেতানিয়াহু সরকারের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা আর বাড়িয়ে দেওয়া সহ্য করা হবে না।   নিজের পোস্টের সঙ্গে বার্নি স্যান্ডার্স ‘কোয়িন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট’-এর গবেষক বেন ফ্রিম্যানের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে ফ্রিম্যান জানান, দুই দেশের সামরিক বাহিনীকে এভাবে এক সুতোয় গাঁথার প্রস্তাবটি মূলত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকেই পেশ করা হয়েছিল। এই প্রস্তাব পাস হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা এবং ড্রোন প্রযুক্তি থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের প্রায় সব ধরনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে এক অভূতপূর্ব সহযোগিতা গড়ে উঠবে।   উল্লেখ্য, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ সম্প্রতি ১.১৫ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ১৫ হাজার কোটি) ডলারের ঐতিহাসিক ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট’ (এনডিএএ) অনুমোদন করেছে। বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এখন মার্কিন সিনেটে পেশ করার অপেক্ষায় রয়েছে। মূলত এই বিশাল খসড়া বিলেই ইসরায়েলকে সামরিক প্রযুক্তিতে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার বিধান রয়েছে, যার বিরুদ্ধে এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০