ইসরায়েল

মহাকাশে হামলা সক্ষমতা অর্জনে কাজ করছে ইসরায়েল
মহাকাশে হামলা সক্ষমতা অর্জনে কাজ করছে ইসরায়েল, জানালেন কাটজ

মহাকাশকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনায় রেখে নতুন ধরনের সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে কাজ করছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে হামলা চালাতে সক্ষম এমন লেজার প্রযুক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে তাদের সরকার।   সোমবার সামরিক প্রতিবেদকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে কাটজ বলেন, এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের সেরা মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, এখনো পর্যন্ত কোনো দেশেরই মহাকাশ থেকে সরাসরি হামলা চালানোর পূর্ণ সক্ষমতা নেই, তবে এই ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে ইসরায়েল।   তিনি আরও বলেন, এই সক্ষমতা অর্জন করা গেলে তা শুধু প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেই নয়, বরং শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে আঘাত হানা ও সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সুবিধা দেবে।   এর আগে গত বৃহস্পতিবারও কাটজ একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রথমবারের মতো তিনি স্পষ্ট করে মহাকাশভিত্তিক লেজার প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে ইসরায়েল স্থলভিত্তিক ‘আয়রন বিম’ নামে একটি লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা স্বল্প দূরত্বের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত। পাশাপাশি যুদ্ধবিমান থেকে লেজার নিক্ষেপের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, কাটজের বক্তব্যে পরোক্ষভাবে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে। চলতি বছরে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার সময় ইসরায়েল ইরানের মহাকাশ-সম্পর্কিত কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল, যেগুলো স্যাটেলাইট প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়।   তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, মহাকাশে সামরিক সক্ষমতার দৌড়ে ইসরায়েল একা নয়। রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যেই নিজেদের স্যাটেলাইট ধ্বংস করে পরীক্ষামূলক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। ফলে মহাকাশকে কেন্দ্র করে নতুন এক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট অচল করা বা ধ্বংস করার পাশাপাশি মহাকাশে তৈরি হওয়া বিপজ্জনক ধ্বংসাবশেষ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ এখন স্যাটেলাইটে হস্তক্ষেপ, সংকেত জ্যামিং বা কক্ষপথ পরিবর্তনের মতো বিকল্প কৌশল নিয়েও গবেষণা চালাচ্ছে।   এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের নতুন পরিকল্পনা মহাকাশভিত্তিক সামরিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নীলুফা নিশাত জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গাজায় পুনর্গঠন শুরু করতে ইসরায়েলকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণ না করলেও গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ইসরায়েলের কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনার আলোকে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।   প্রস্তাবের বিষয়বস্তু থেকে ইঙ্গিত মিলছে, গাজায় নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র এখন ইসরায়েল সরকারের কাছ থেকে এই শান্তি উদ্যোগে লিখিত সম্মতি বা আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর চাইছে, যাতে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা যায়।   মার্কিন পরিকল্পনায় গাজার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য জরুরি নাগরিক সেবা পুনরায় চালু করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে এসব খাতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে, যা গাজার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।   তবে প্রস্তাবটি নিয়ে এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সরকার। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় টানা সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক মহলে পুনর্গঠন নিয়ে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে মানবিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে দ্রুত অবকাঠামো পুনরুদ্ধার জরুরি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে অচলাবস্থা থাকলেও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আলাদাভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার সতর্ক করে বলেছে, অবকাঠামো পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তা ছাড়া এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।   এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান কূটনৈতিক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
গাজায় চিকিৎসাসেবায় ভয়াবহ সংকট, বাইরে চিকিৎসার অনুমতি পেয়েছেন মাত্র ৩৬ শতাংশ রোগী

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির আওতায় প্রায় ২১ হাজার মানুষের চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত অনুমতি পেয়েছেন ৭ হাজার ৫০০ জনেরও কম, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৬ শতাংশ।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী গাজার বাইরে যাওয়ার কথা ছিল এমন ব্যক্তিদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিলেন জরুরি চিকিৎসাপ্রার্থী রোগী। প্রত্যেক রোগীর সঙ্গে দুইজন করে সহযাত্রীর অনুমতি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ফলে হাজারো গুরুতর অসুস্থ রোগী এখনও গাজায় আটকা রয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে তাদের অনেকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   এমন পরিস্থিতির মধ্যেও সীমিত সক্ষমতা নিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে নাসের হাসপাতাল। তবে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য চিকিৎসা উপকরণের তীব্র সংকটে হাসপাতালটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।   এদিকে খান ইউনিসে সামরিক অভিযানের সময় ইসরায়েলি হামলায় একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি নাসের হাসপাতালে দুই দফা অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।   স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাম্বুলেন্সগুলোর গায়ে গুলির অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে। অধিকাংশ যানবাহনের জানালা ও ভেতরের আসন আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া অতিরিক্ত ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।   গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ এবং রোগীদের বাইরে পাঠানোর সুযোগ দ্রুত বাড়ানো না হলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাইবার হামলায় বিধ্বস্ত ইসরায়েল

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরানি সাইবার হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত এক বছরে এসব হামলার সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।   সোমবার (২৯ জুন) জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদপত্র ডাই ওয়েল্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ইসরায়েলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালক ইয়োসি কারাদি।   তার দাবি, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলাকালে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি শত্রুভাবাপন্ন সাইবার হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০টিতে পৌঁছেছে।   ইয়োসি কারাদি বলেন, “কিছু হ্যাকিং গোষ্ঠী প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ। আমরা তাদের মোকাবিলা করতে সক্ষম হলেও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মতো সাইবার জগতেও কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি নেই।”   তিনি জানান, এসব হামলার মূল লক্ষ্য ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো, সরকারি সংস্থা, বিভিন্ন পাবলিক সেক্টর এবং ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে আইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও হিসাবরক্ষণ সংস্থাগুলো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে।   ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জাতীয় অবকাঠামোর বিরুদ্ধে চালানো সব সাইবার হামলা এখন পর্যন্ত প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে যেসব ছোট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল ছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পূর্ণ মুছে ফেলেছে হ্যাকাররা।   ইসরায়েলের এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের কাছ থেকে অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কিনেছে সৌদি-কাতার

ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বা প্রকাশ্য প্রতিরক্ষা সম্পর্ক না থাকলেও সৌদি আরব ও কাতারের কাছে ইসরায়েলি সামরিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ। বিভিন্ন নথি, চুক্তিপত্র এবং প্রকাশ্যে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে রোববার প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমটি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাজপরিবারের ব্যবহৃত অন্তত তিনটি বিমানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস নির্মিত ‘সি-মিউজিক’ (C-MUSIC) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বাসেলে বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের সময় এই ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়।   হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি তেহরান সফরে যে বিমান ব্যবহার করেছিলেন, সেটিও এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত ছিল। সি-মিউজিক মূলত কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বা ম্যানপ্যাডস শনাক্ত করে এবং শক্তিশালী লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যচ্যুত করার সক্ষমতা রাখে। ভিআইপি ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যবহৃত বিমানের নিরাপত্তা বাড়াতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ভিআইপি বিমানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই নয়, কাতারের যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতেও ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ ছিল। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কাতারের এফ-১৫ কিউএ আবাবিল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ থেকে ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের উপ-চুক্তি পায়। এসব চুক্তির মাধ্যমে উন্নত যুদ্ধ হেলমেট, নাইট-ভিশন চশমা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়।   হারেৎজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবের এফ-১৫এসএ যুদ্ধবিমান প্রকল্পেও একই ধরনের ইসরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সৌদি আরবকে ৪৬২টি উন্নত জয়েন্ট হেলমেট-মাউন্টেড কিউয়িং সিস্টেম (JHMCS) এবং সমসংখ্যক নাইট-ভিশন চশমা সরবরাহ করা হয়। ইন্টারনেটে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতেও সৌদি বিমানবাহিনীর পাইলটদের এসব হেলমেট ব্যবহার করতে দেখা গেছে।   এই উন্নত হেলমেটের বিশেষত্ব হলো, এর সামনের স্বচ্ছ কাচেই উড্ডয়নের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদর্শিত হয়। ফলে পাইলট মাথা বা চোখের দৃষ্টির মাধ্যমে দ্রুত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে পারেন এবং আরও নির্ভুলভাবে অস্ত্র পরিচালনা করতে সক্ষম হন।   প্রতিবেদনটি বলছে, এসব সরঞ্জাম সরাসরি ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক প্রকল্প ও উপ-চুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো কয়েক কোটি থেকে কয়েকশ কোটি শেকেল সমপরিমাণ ব্যবসা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রকল্প, প্রযুক্তি সরবরাহ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সেই আলোচনায় আরও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব, কাতার কিংবা সংশ্লিষ্ট ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সিএনএন
লেবাননের দুই এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে সম্মত ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চার দিনব্যাপী আলোচনার পর দক্ষিণ লেবাননের দুটি এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে প্রাথমিক চুক্তি করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ওই দুটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।  চুক্তিটিকে ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্র—তিন পক্ষই বৃহত্তর শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।   এমন সময়ে এই অগ্রগতি এলো, যখন লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তির প্রচেষ্টাকেও জটিল করে তুলেছে। ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত শান্তিচুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ বলেন, এই চুক্তি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লিতানি নদীর উত্তর ও দক্ষিণের দুটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সরে যাবে।   তার ভাষ্য, যেসব অবস্থান সামরিক প্রয়োজনের জন্য আর অপরিহার্য নয়, সেখান থেকেই সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এর আগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল, লেবানন সরকারের প্রতি সদিচ্ছার বার্তা হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত কয়েকটি এলাকা থেকে প্রতীকীভাবে সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছিল ইসরায়েল।   চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “এটি কেবল শুরু। সামনে আরও কঠিন পথ রয়েছে। তবে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর অংশ হতে পেরে আমরা সম্মানিত।” তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই দক্ষিণ লেবাননে একটি ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। আইডিএফের দাবি, তাদের বাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল এমন এক সশস্ত্র ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়েছে।   চুক্তি অনুযায়ী, লিতানি নদীসংলগ্ন নির্ধারিত এলাকাগুলোতে পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোতায়েন হবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী। নেতানিয়াহু এই সমঝোতাকে ইসরায়েলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের অধিকাংশ এলাকায় ইসরায়েলি সেনা অবস্থান বজায় রাখতে পারবে।   তিনি আরও বলেন, “এটি ইরানের জন্যও বড় ধাক্কা। তারা চাপ প্রয়োগ করে আমাদের দক্ষিণ লেবানন থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে এটি ইরানের বিষয় নয়।”   লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও চুক্তিটিকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনকে আলোচনার আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এর ফলে লেবাননের জনগণ নিজেদের সম্পূর্ণ মুক্ত ভূখণ্ডে রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্বের অধীনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে।   অন্যদিকে হিজবুল্লাহ এই সমঝোতার তীব্র সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, এই চুক্তি লেবাননের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করেছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
হিজবুল্লাহ প্রধান
শর্তহীনভাবে লেবানন ছাড়তে হবে ইসরায়েলকে: হিজবুল্লাহ প্রধানের হুঁশিয়ারি

লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের অবিলম্বে ও শর্তহীন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম। শুক্রবার (২৬ জুন) এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।   ভাষণে কাসেম স্পষ্ট করে বলেন, “ইসরায়েলকে লেবাননের প্রতিটি এলাকা থেকে পুরোপুরি সেনা সরিয়ে নিতে হবে। যুদ্ধবিরতি মানে কেবল আংশিক শান্তি নয়—সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ হওয়া।” তার মতে, এমন কোনো যুদ্ধবিরতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না যেখানে এক পক্ষ হামলা চালিয়ে যাবে, আর অন্য পক্ষ নীরব থাকবে।   সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধাপেই লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা উল্লেখ করা হয়। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যেও পৃথক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।   দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি অঞ্চলে এখনো ইসরায়েলি সেনা অবস্থান করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে মাঝে মধ্যেই হামলার ঘটনাও ঘটছে। যদিও ইসরায়েল দাবি করছে, নিরাপত্তাজনিত হুমকি মোকাবিলায় তাদের বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান চালানোর অধিকার রাখে।   এই অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করে নাঈম কাসেম বলেন, “ইসরায়েল কেবল নিরাপত্তার অজুহাতে সেখানে নেই; বরং লেবাননের ভূখণ্ডে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে বিদেশি সেনা উপস্থিতির কোনো বৈধতা নেই এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব লেবাননের নিজস্ব জাতীয় সেনাবাহিনীর।   হিজবুল্লাহ প্রধান আরও সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলে তাদের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। “প্রতিরোধের অধিকার আমরা সংরক্ষণ করি,”—যোগ করেন তিনি।   ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রসঙ্গে কাসেম দাবি করেন, এই চুক্তি ইরানের কৌশলগত সাফল্যের প্রতিফলন এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এক ধরনের রাজনৈতিক পরাজয়ের ইঙ্গিত বহন করে।   ভাষণে লেবাননের সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিও বার্তা দেন হিজবুল্লাহ প্রধান। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে সরকার যেন কোনো আপস না করে এবং বিদেশি প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে। “জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। দেশের অর্ধেক জনগণকে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকি সরকার নিতে পারে না,”—বলেন তিনি।   একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ বাস্তবায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে কাসেম বলেন, লেবানন এখন একটি নতুন রাজনৈতিক ও কৌশলগত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং এই সময়ে জাতীয় ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি।   আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মিসরের সেনাবাহিনীর একটি দল। ছবি: এএফপি
মিসরের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগে ইসরায়েল

মিসরের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা এবং সিনাই উপদ্বীপে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক মহলে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে এ বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্ল্যাটফর্ম নিউজ–১ দেশটির নিরাপত্তা মূল্যায়নের সূত্র উল্লেখ করে দাবি করেছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিসরীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সামরিক উন্নয়ন কর্মসূচি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তেল আবিবের নীতিনির্ধারকেরা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের কিছু নিরাপত্তা মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, মিসরের সামরিক ক্রয়, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিসর দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণ সীমান্তের প্রচলিত নিরাপত্তা চাহিদার তুলনায় বেশি। ফলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এই সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে কায়রোর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্য কী হতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরুর পর এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের প্রেক্ষাপটে সিনাই উপদ্বীপে মিসরের সামরিক তৎপরতা আরও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। বিশেষ করে অঞ্চলটিতে অবকাঠামো উন্নয়ন, লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামরিক স্থাপনা শক্তিশালী করার বিভিন্ন উদ্যোগ তেল আবিবের নজরে রয়েছে।   ইসরায়েলি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিজেদের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় যেকোনো সামরিক পরিবর্তনকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করে দেশটি। বিশেষ করে সিনাই উপদ্বীপের ক্ষেত্রে এ সংবেদনশীলতা আরও বেশি, কারণ অঞ্চলটি ১৯৭৯ সালের মিসর-ইসরায়েল শান্তিচুক্তির আওতায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত।   তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনাই অঞ্চলে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কায়রো ও তেল আবিবের মধ্যে বিস্তৃত নিরাপত্তা সমন্বয় ও সহযোগিতা বজায় রয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই এই আলোচনা সামনে এসেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য নতুন হুমকির প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদারে পদক্ষেপ নিচ্ছে।  

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা প্রতিহত করে ‘মর্যাদাপূর্ণ শক্তিশালী রাষ্ট্র’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ
ইরানের দাবি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা প্রতিহত করে ‘মর্যাদাপূর্ণ শক্তিশালী রাষ্ট্র’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অপ্রত্যাশিতভাবে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর ভাষায়, এই প্রতিরোধ শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।   বুধবার (২৪ জুন) এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, সাম্প্রতিক এই সংঘাতের মাধ্যমে ইরান এখন “বিশ্বের কাছে একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।”   বক্তৃতায় তিনি দাবি করেন, হামলার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করেছিল খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে ফেলতে পারবে।   “আমাদের শত্রুরা বিশ্বাস করেছিল, মাত্র তিন দিনের মধ্যে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সেখানে নিজেদের অনুগত একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করবে,” বলেন তিনি।   তবে বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয় বলে দাবি করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে এমন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, যা প্রতিপক্ষের কল্পনারও বাইরে ছিল।   “আমাদের সেনারা এমন এক বীরত্বগাথা রচনা করেছে, যা শত্রুরা কখনো ভাবেনি,”—যোগ করেন পেজেশকিয়ান।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মুখে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের সামরিক কৌশল পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। শুরুতে কঠোর অবস্থান নিলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতির পরিবর্তনে তাদের অবস্থান নরম হয় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।   প্রসঙ্গত, সংঘাতের শুরুর দিকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ইরানের প্রতিরোধ এবং প্রত্যাশিত সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়।   বর্তমানে এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই দুই পক্ষ কূটনৈতিক আলোচনার পথে এগিয়েছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনের লক্ষ্যে উভয় দেশ এখন আলোচনার টেবিলে বসেছে বলে জানা গেছে।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিই নয়, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণকেও নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে।   সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক যান চলাচল। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের দাবি ইসরায়েলি সেনাদের পরিবারের, ‘সন্তানদের আর বলি দেব না’

লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে এবার প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাদের মা-বাবারা। তারা যুদ্ধ বন্ধ করে দ্রুত সেনাদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এবং সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের কাছে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন।   মঙ্গলবার ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে সেনাদের পরিবারগুলো অভিযোগ করে বলেছে, লেবাননে দায়িত্ব পালনরত ইসরায়েলি সেনারা কার্যত ‘হাত-পা বাঁধা অবস্থায়’ কাজ করছেন এবং যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে স্পষ্টতা নেই।   তারা লিখেছেন, “আমাদের সেনারা এমন একটি পরিস্থিতিতে কাজ করছে যেখানে মনে হচ্ছে বাইরের কোনো শক্তি যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদাসীনতা কিংবা অন্য কোনো স্বার্থের কারণে আমরা আমাদের সন্তানদের জীবন বলি হতে দেব না।”   চিঠিতে যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে সরকারের প্রতি কঠোর সমালোচনাও করা হয়েছে। সেনাদের মা-বাবারা বলেছেন, লেবাননে সামরিক অভিযানের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য এখনো দৃশ্যমান নয় এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে সেনাদের ফেলে রাখা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।   তাদের ভাষ্য, “হয় শত্রুকে পরাজিত করুন, না হয় এখনই যুদ্ধ শেষ করে সব সেনাকে ঘরে ফিরিয়ে আনুন।” এছাড়া যেসব মন্ত্রী বা রাজনৈতিক নেতার সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিরা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে চিঠিতে।   চিঠিতে বলা হয়, যারা নিজের পরিবারের সদস্যদের সেনাবাহিনীতে পাঠাননি এবং এ নিয়ে গর্ব করেন, তাদের যুদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেনাদের পরিবারের এই অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন লেবানন সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হলেও বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে অস্পষ্টতা ও ঝুঁকি রয়েছে
ইসরায়েলসহ যে তিন কারণে ভেস্তে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা

কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কতটা কঠিন হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবানন ও ইসরায়েল ইস্যু, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এই সমঝোতার সামনে সবচেয়ে বড় তিনটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।   বুধবার সাংবাদিকদের, যাদের মধ্যে বিবিসিও ছিল, ১৪ অনুচ্ছেদের একটি সমঝোতা স্মারক পড়ে শোনান যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। চুক্তিটি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেভাগেই এতে স্বাক্ষর করেন।   তেহরানও নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চুক্তিতে সই করেছেন। সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি হবে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।   চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ধাপে ধাপে প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু এবং ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা শুরুর অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিনিময়ে তেহরান পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।   তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও উভয় পক্ষ সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এই সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত নয় এবং এটি ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযানে ফিরে যেতে পারে। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের অবিশ্বাস এখনও রয়েছে এবং ইরানের “আঙুল ট্রিগারের ওপরই আছে”।   লেবানন ও ইসরায়েল ইস্যু প্রাথমিক সমঝোতা ঘোষণার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, উভয় পক্ষ লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। সমঝোতা স্মারকেও লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবাননের বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানালেও ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা ও কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে হামলা চালিয়েছে।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লেবানন যুদ্ধবিরতির কাঠামোর মধ্যে থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর লেবানন থেকে প্রত্যাহার এই চুক্তির শর্ত নয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার বহাল থাকবে। অন্যদিকে ইরান বলছে, লেবানন যুদ্ধের অবসান যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইরান-সমর্থিত হেজবুল্লাহও একই অবস্থান নিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, পরবর্তী আলোচনায় লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে।   ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, দেশটির বাহিনী লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, লেবানন ইস্যুতে ইরান হামলা চালালে ইসরায়েল পূর্ণ শক্তিতে পাল্টা জবাব দেবে।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এইচ. এ. হেলিয়ারের মতে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযান কূটনৈতিক অগ্রগতির জন্য সবচেয়ে বড় একক হুমকি। তার আশঙ্কা, তেহরান সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে পারমাণবিক ইস্যুতে কার্যকর আলোচনা শুরুর আগেই পুরো প্রক্রিয়া ভেঙে পড়তে পারে।   পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা সমঝোতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল অংশ হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পর্যন্ত ইরান প্রায় ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুদ করেছিল। সাধারণভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধির প্রয়োজন হয়।   তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। নতুন সমঝোতাতেও তারা পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে বিদ্যমান ইউরেনিয়াম মজুদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে যে ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধির মাত্রা কমিয়ে আনা হবে এবং এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে।   ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ওই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর ইরান তাদের কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সাবেক উপপ্রধান ডারিন সেলনিক বলেছেন, যদি ইরান আবার অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পথে এগোয়, তাহলে ট্রাম্প পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারেন। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ সমঝোতার অন্যতম লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা। ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় অচল হয়ে থাকা এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হতো। চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরের পরপরই প্রণালিটি খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত বাধা, বিশেষ করে মাইন অপসারণের কাজ শেষ হলে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।   সমঝোতায় বলা হয়েছে, প্রথম ৬০ দিনের জন্য প্রণালিটি টোলমুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে ইরান, ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে জলপথের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করবে। তবে ভবিষ্যতে ফি আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে সেবা ফি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও সেই ফি কী ধরনের সেবার জন্য হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।   আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নৌ চলাচলের জন্য সরাসরি টোল আরোপ করা না গেলেও নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে ফি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করছেন, ভবিষ্যতেও প্রণালিটি কার্যত টোলমুক্ত থাকবে। তাদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এমন কোনো ব্যবস্থা সমর্থন করবে না, যা অবাধ নৌ চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে।   তবুও বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি বলেছেন, মাইন অপসারণে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো সতর্ক অবস্থানেই থাকবে।   সংকট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইওএস রিস্ক গ্রুপের মার্টিন কেলির ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে হলে অত্যন্ত সাহসী কোনো অধিনায়ক প্রয়োজন হবে। ড. হেলিয়ারও সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সমঝোতা কেবল একটি কাঠামোগত স্মারক, এটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়। তার ভাষায়, কঠিন কাজ এখনো শুরুই হয়নি।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর নির্যাতন
ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর নির্যাতন: জবাবদিহি নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে তারা জাতিসংঘের প্রকাশিত একটি নতুন প্রতিবেদনের প্রশংসা করে বলেছে, এতে শিশুদের লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার সুস্পষ্ট প্রমাণ উঠে এসেছে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে এমন গুরুত্বপূর্ণ আইনি তথ্য তুলে ধরা হয়েছে যা ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ব্যাপকতা স্পষ্ট করে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে এনেছে।   বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। তাদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, খাদ্য থেকে বঞ্চিত করা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, নির্বিচার আটক, নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন কেবল অভিযোগের নথিভুক্তি নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব লঙ্ঘন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে। তারা অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা জরুরি।   বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শিশুদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানালেও বাস্তবে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।   এই প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক আহ্বান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নীলুফা নিশাত জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
অন্তত ১১ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে
ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত দক্ষিণ লেবানন, ধ্বংস ১১ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই সংঘাতে অন্তত ১১ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে, আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও প্রায় ২ হাজার ২০০টি ভবন।   নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংস্থাটির মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ পরিবারেরই এখন আর ফিরে যাওয়ার মতো কোনো ঘর অবশিষ্ট নেই। ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।   দুজারিকের ভাষায়, চলমান অনিশ্চয়তা, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের ঝুঁকি নিরাপদে ঘরে ফেরা প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে যুদ্ধশেষে ফেলে যাওয়া অবিস্ফোরিত অস্ত্র সাধারণ মানুষের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।   তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও কিছু মানুষ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এক রাতেই প্রায় ১৯ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়েছেন। এর ফলে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের সংখ্যা কমে প্রায় ৯০ হাজারে নেমে এসেছে।   এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটনে নতুন দফার সরাসরি সংলাপও শুরু হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।   যদিও দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের মাত্রা আগের তুলনায় কমেছে, তবুও মাঝে মাঝে গোলাগুলি ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটছে। সোমবার ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।   ইসরায়েল এখনো দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। দেশটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিলে তারা আবারও অভিযান চালাতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চলে উত্তেজনা পুরোপুরি কমবে না এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও অব্যাহত থাকতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
‘যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়ায় ইরানে সঙ্গে যুদ্ধ করবে ইসরায়েল’

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব সিদ্ধান্তে পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে ইসরায়েলের একটি অংশের নীতিগত মতপার্থক্য রয়েছে।   ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ৭-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেন-গভীর বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ হবে বলে যারা বিশ্বাস করেন, তারা বাস্তবতা থেকে দূরে আছেন। তাঁর দাবি, তেহরান শুধু পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে না, বরং দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে আসছে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমেরিকানরা খুবই সরল, যদি তারা মনে করে ইরান স্বেচ্ছায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করবে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান থেকে সরে আসবে।”   ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর মতে, ইরান থেকে আসা যেকোনো সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলা করা দেশটির নিজস্ব দায়িত্ব। তাই প্রয়োজন হলে ইসরায়েল একাই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকবে। তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল কোনো দেশের নির্দেশে পরিচালিত হবে না। এমনকি সেই দেশ আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমাদেরই।”   বেন-গভীরের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা কার্যকর করার আলোচনা চলছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও উত্তেজনার পর ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগ্রহী। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে এখনও মতবিরোধ রয়ে গেছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের বর্তমান সরকারে থাকা কট্টরপন্থী নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, শুধুমাত্র কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বেন-গভীরের বক্তব্য সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অন্যদিকে তেহরান বরাবরই দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং তা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় রয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের সম্পর্ক আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বেন-গভীরের বক্তব্য নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের ভেতরে কূটনৈতিক সমাধান ও সামরিক কৌশল নিয়ে যে মতপার্থক্য রয়েছে, এই মন্তব্য তারও একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে এটি ইরান প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অবস্থানের সূক্ষ্ম পার্থক্যও সামনে নিয়ে এসেছে।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন সামরিক নির্ভরতা থেকে ইসরায়েলকে ‘মুক্ত’ হতে হবে: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশকে ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।   ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের গুশ এতজিওন এলাকায় রিজার্ভ কমব্যাট অফিসারদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব মন্তব্য করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। নেতানিয়াহু বলেন, গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তবে দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং অস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভর হতে হবে।   তার ভাষায়, “আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনকে আমরা গভীরভাবে মূল্যায়ন করি। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের নিজস্ব স্বাধীন অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র আমাদেরই তৈরি করতে হবে।” ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশটি ইরান এবং ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এসব চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।   তিনি বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। এই প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। আগামী ৩০ বছরে ইসরায়েল কোথায় থাকবে, তা নির্ভর করবে আমাদের নিজস্ব শক্তি, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর।” নেতানিয়াহু আরও বলেন, কেবল অস্ত্র উৎপাদন নয়, নতুন প্রজন্মের সামরিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং উন্নত প্রযুক্তিকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করাও জরুরি। তার মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দক্ষ নেতৃত্বই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হয়ে উঠছে।   বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নের প্রতিযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান সামরিক ও কৌশলগত মিত্র, তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প ও অস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি খাতে দেশটি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে।   নেতানিয়াহুর সর্বশেষ মন্তব্যকে সেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইসরায়েল নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার পথে এগোতে চায়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ লেবাননে ভূগর্ভস্থ ড্রোন কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি ইসরায়েলের
দক্ষিণ লেবাননে ভূগর্ভস্থ ড্রোন কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি ইসরায়েলের

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল সীমান্তের কাছে একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ অস্ত্র কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। সংস্থাটির অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই স্থাপনাটি ব্যবহার করে উন্নত ড্রোন তৈরি ও পরিচালনা করত, যার পেছনে ইরান-এর আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছিল।   ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল সোমবার (২২ জুন) এক প্রতিবেদনে জানায়, দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জৌন গ্রামে একটি সুড়ঙ্গপথের সন্ধান পায় আইডিএফ। ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে প্রবেশ করে সেনারা পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি বড় ভূগর্ভস্থ স্থাপনা খুঁজে পায়।   আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকশ মিটার দীর্ঘ এই সুড়ঙ্গের গভীরে, প্রায় ২৯ মিটার নিচে অবস্থিত অস্ত্রভান্ডারটি বিস্ফোরণরোধী বিশেষ ইস্পাতের দরজায় সুরক্ষিত ছিল। ভেতরে ড্রোন তৈরির উপযোগী একাধিক কক্ষ, সংরক্ষণাগার ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গত এক দশকে ইরানের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়। চোরাইপথে আনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সেখানে ড্রোন তৈরি করা হতো এবং সেগুলো দিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ছিল।   অভিযান চালিয়ে ওই স্থান থেকে প্রায় ৫০টি ড্রোন এবং প্রায় আট টন বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। পাশাপাশি পাহাড়ের দক্ষিণাংশে ড্রোন উৎক্ষেপণের জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ লঞ্চিং পয়েন্টও শনাক্ত করা হয়েছে।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার করা ড্রোনগুলো দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি ছিল। এই অভিযানের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সেই সক্ষমতা অনেকটাই নষ্ট করা গেছে।   সম্প্রতি আইডিএফ ওই ভূগর্ভস্থ স্থাপনার কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের সেখানে নিয়ে গিয়ে পুরো এলাকা পরিদর্শনের সুযোগও দেওয়া হয়।   তবে এ বিষয়ে এখনো হিজবুল্লাহ বা ইরান-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে পারে, বিশেষ করে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
যুদ্ধে ইরানকে বিজয়ী মনে করেন ৯২% ইসরায়েলি
জরিপে চমক: যুদ্ধে ইরানকে বিজয়ী মনে করেন ৯২% ইসরায়েলি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত এবং পরবর্তীতে ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতাকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন অধিকাংশ ইসরায়েলি নাগরিক। এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে, যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে সরকার যে সফলতার দাবি করছে, তা দেশের মানুষের বড় অংশই বিশ্বাস করছেন না।   জরিপটি পরিচালনা করে হিব্রু ইউনিভার্সিটি-এর সহযোগিতায় একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এতে অংশ নেওয়া ৯২ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরানই কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে ৮২ দশমিক ৯ শতাংশের মতে, এই সামরিক অভিযান ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করেছে।   জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ যুদ্ধ-পরবর্তী চুক্তি নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৮৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, সামগ্রিকভাবে যুদ্ধ ও চুক্তির ফলাফল তাদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। ফলে সরকার যে ‘সাফল্যের’ চিত্র তুলে ধরছে, তা জনমনে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে দেশ একটি বড় ধরনের অস্তিত্বগত হুমকি থেকে মুক্ত হয়েছে। তবে জরিপ বলছে, ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ ইসরায়েলি এই বক্তব্যে আস্থা রাখছেন না। আরও ৮৭ দশমিক ৮ শতাংশের মতে, ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ইসরায়েল হয় ব্যর্থ হয়েছে, নয়তো আংশিক সফল হয়েছে।   নেতৃত্বের মূল্যায়নেও নেতানিয়াহুর জন্য খুব ইতিবাচক বার্তা নেই। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ তার যুদ্ধ পরিচালনাকে দুর্বল বা ব্যর্থ হিসেবে দেখেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরকারের প্রতি জনআস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ইসরায়েলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলেও, প্রায় ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর বিরুদ্ধে নতুন করে বড় সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন।   ১৭ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সী ৩ হাজার ৬৪৪ জন ইসরায়েলির মতামত নেওয়া হয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, ৯৯ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতার মাত্রায় জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটির হার ২ দশমিক ২ শতাংশ।   জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে জনমত ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। যুদ্ধের ফলাফল, কূটনৈতিক সমঝোতা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা—এই তিনটি প্রশ্নেই সরকারের অবস্থান ও জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে।   তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

নীলুফা নিশাত জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে নরওয়ে

ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে নরওয়ে সরকার। শুক্রবার (১৯ জুন) নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, নরওয়ের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনোভাবেই অবৈধ বসতি টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে অবদান রাখা উচিত নয়, কারণ ইসরায়েলের এই উপনিবেশিক নীতি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।   নরওয়ে সরকারের প্রস্তাবিত এই নতুন বিল অনুযায়ী, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড—গাজা এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইসরায়েলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব বসতিতে সম্পত্তির কেনাবেচা, নির্মাণ বা সংস্কার সংক্রান্ত কোনো ধরনের পরিষেবা দেওয়া এবং সেখানে প্রধান কার্যালয় বা উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে এমন কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী এই খসড়া বিলটির ওপর প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও আলোচনা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে অসলো প্রশাসন।   নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে এক বিবৃতিতে বলেন, তারা এই অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে চান। কারণ এসব বসতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত এই বিলে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনের বৈধ সীমানায় ফিলিস্তিনিদের যেকোনো বৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং মানবিক সহায়তার সঙ্গে নরওয়ের সম্পর্ক ও বাণিজ্য আগের মতোই নির্বিঘ্নে অব্যাহত থাকবে।   উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য না হয়েও ২০২৪ সালে আয়ারল্যান্ড ও স্পেনের সঙ্গে একযোগে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল নরওয়ে। বর্তমানে আয়ারল্যান্ড ইইউভুক্ত ২৭টি দেশকে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছে। ১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে রাখা ইসরায়েলের এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে স্বীকৃত। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলার পরিমাণও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শনিবার (২০ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই কৌশলগত পদক্ষেপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।   বিবৃতিতে ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যে পূর্ববর্তী সমঝোতা হয়েছিল, ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপ সেই চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চুক্তি ভঙ্গের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তেহরান স্পষ্ট করেছে।   ইরানের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে কেবল প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, ইসরায়েল যদি লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরান আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। মূলত প্রতিপক্ষকে তাদের অঙ্গীকার ও চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করতেই এই চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।   বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে ইরানের এই ঘোষণার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ফলে এই পথ দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।   ইরানের এই আকস্মিক ও কঠোর ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত এই উত্তেজক পরিস্থিতির দিকে বিভিন্ন দেশ, পরাশক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগের সঙ্গে নজর রাখছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শনিবার (২০ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই কৌশলগত পদক্ষেপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।   বিবৃতিতে ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যে পূর্ববর্তী সমঝোতা হয়েছিল, ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপ সেই চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চুক্তি ভঙ্গের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তেহরান স্পষ্ট করেছে।   ইরানের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে কেবল প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, ইসরায়েল যদি লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরান আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। মূলত প্রতিপক্ষকে তাদের অঙ্গীকার ও চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করতেই এই চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।   বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে ইরানের এই ঘোষণার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ফলে এই পথ দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।   ইরানের এই আকস্মিক ও কঠোর ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত এই উত্তেজক পরিস্থিতির দিকে বিভিন্ন দেশ, পরাশক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগের সঙ্গে নজর রাখছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্পের ইরান চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে নেতানিয়াহুর কারণে: মার্কিন গোয়েন্দাদের সতর্কতা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কিছু সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।   প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে—লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে হওয়া ইরান-সংক্রান্ত সমঝোতার কাঠামোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।   চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনসহ একাধিক তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে অনাগ্রহী। অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং লেবাননে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত করা।   মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে, লেবাননে এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে যা চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগকে ব্যাহত করতে পারে।   হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এর ফলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।   গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় লেবাননে সামরিক অবস্থান কঠোর রাখতে পারেন। এতে তার সরকারকে দেশটির জনগণের সামনে নিরাপত্তা ইস্যুতে শক্ত অবস্থান দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়।   ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, হিজবুল্লাহর আক্রমণ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাদের সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একাংশের গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক লক্ষ্যকে দুর্বল করে দিতে পারে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতা কাঠামো নিয়ে আলোচনা চললেও, ইসরায়েলের সামরিক অবস্থান সেই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরায়েল পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারে অনাগ্রহ দেখালে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।   সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিজ বলেন, নেতানিয়াহু বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইসরায়েলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।   তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনার দিকে যেতে পারে।   এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ওয়াশিংটনের হাতে বিভিন্ন কৌশলগত চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে, যার মধ্যে সামরিক সহায়তা সীমিত করা বা গোয়েন্দা সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার মতো পদক্ষেপও থাকতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন ধরনের কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছে, যার প্রভাব ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর পড়তে পারে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০