জলবায়ু পরিবর্তন

ছবি: এআই / আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্প প্রশাসনে চাকরি হারানো বিজ্ঞানীদের নতুন জোট, স্বাধীন উদ্যোগে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা

ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সরকারি চাকরি হারানো যুক্তরাষ্ট্রের একদল জলবায়ু বিজ্ঞানী ও গবেষক এবার নিজেদের উদ্যোগেই নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের বাইরে পরিচালিত অলাভজনক ওয়েবসাইট Climate.us-এর মাধ্যমে তারা জলবায়ু–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, গবেষণা এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিবেদনের সংরক্ষিত সংস্করণ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছেন।   প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ফিউচারিজম জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর জলবায়ুবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্লাইমেট গভ এর সাবেক প্রোগ্রাম ম্যানেজার রেবেকা লিন্ডসে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন NOAA-এর আরও বহু সাবেক বিজ্ঞানী, গবেষক এবং তথ্যবিশেষজ্ঞ।   তাদের তৈরি নতুন ওয়েবসাইটে গত ১৫ বছরে প্রকাশিত আবহাওয়া ও জলবায়ু–সংক্রান্ত তথ্য, বিভিন্ন জলবায়ু সূচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম জাতীয় জলবায়ু মূল্যায়ন প্রতিবেদন (Fifth National Climate Assessment) সংরক্ষণ করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, এসব তথ্য গবেষক, শিক্ষার্থী, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহারযোগ্য থাকবে।   এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ৮০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ কাজ করেছেন। পাশাপাশি ২ হাজার ৫০০-এরও বেশি ব্যক্তি অনুদান দিয়ে প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন। সেই অর্থেই অলাভজনক এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে NOAA, পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (EPA)সহ একাধিক ফেডারেল সংস্থায় ব্যাপক জনবল ছাঁটাই করা হয়। এতে জলবায়ু গবেষণা ও জনসাধারণের জন্য তথ্যপ্রকাশে যুক্ত অনেক বিজ্ঞানী চাকরি হারান। এরপর তারা সরকারি কাঠামোর বাইরে একত্রিত হয়ে গবেষণা ও তথ্য সংরক্ষণের এই স্বাধীন উদ্যোগ শুরু করেন।   রেবেকা লিন্ডসে বলেন, নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া উচিত নয়। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা এবং তথ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা যেমন জরুরি, তেমনি জনসাধারণের জন্য তা সহজলভ্য রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   বিশ্লেষকদের মতে, ক্লাইমেট নিয়ে ওয়েবসাইট শুধু একটি নতুন ওয়েবসাইট নয়; এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে সরকারি চাকরি হারানোর পরও গবেষণা থেমে থাকে না। বরং বিজ্ঞানীরা একত্রিত হয়ে স্বাধীনভাবে জনস্বার্থে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যু
ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যু

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার দেশটির জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা স্যঁতে পাবলিক প্রকাশিত এক প্রাথমিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।    একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, তাপপ্রবাহজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের তথ্য এখনো পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।   সংস্থাটি অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রাথমিক হিসাব তুলে ধরে জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই বয়স্ক মানুষ। কেয়ার হোম ও ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে ঘটে যাওয়া মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তথ্য হাতে এলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।    একই সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়ছে।   বিজ্ঞানীদের মতে, গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহ ইউরোপের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি।    তারা বলছেন, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপের জলবায়ু আরও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।   ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে দেশটির পূর্বাঞ্চলের দিকে সরে যাচ্ছে। দেশের বেশিরভাগ এলাকায় চরম গরম কিছুটা কমলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি অঞ্চল এখনও তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তার আওতায় রয়েছে।   ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্তেফানি রিস্ট বলেছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও এই তাপপ্রবাহের স্বাস্থ্যগত প্রভাব প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।   দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এই দুর্যোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি।"   স্যঁতে পাবলিক জানিয়েছে, মৃতদের অধিকাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। তবে তীব্র গরমের স্বাস্থ্যঝুঁকি সব বয়সী মানুষের ওপরই প্রভাব ফেলেছে।   সূত্র: এএফপি

নীলুফা নিশাত জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপে বাড়ছে তাপমাত্রা | ছবি: সংগৃহীত
কেন বিশ্বের অন্য সব মহাদেশের চেয়ে দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে ইউরোপ?

পশ্চিম ইউরোপে এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ আঘাত হেনেছে। এই পরিস্থিতি নতুন করে সামনে এনেছে এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা—গত তিন দশকে বিশ্বের অন্য যেকোনো মহাদেশের তুলনায় সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়েছে ইউরোপ।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপারনিকাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউরোপের গড় তাপমাত্রা প্রতি দশকে প্রায় ০.৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বেড়েছে। এই হার বৈশ্বিক গড় উষ্ণায়নের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমনই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। তবে ইউরোপে তাপমাত্রা অন্য অঞ্চলের তুলনায় দ্রুত বাড়ার পেছনে আরও কয়েকটি আঞ্চলিক ও ভৌগোলিক কারণও কাজ করছে।   ইউরোপের উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের বরফে আচ্ছাদিত ছিল। কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সেই বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। বরফ সরে যাওয়ায় উন্মুক্ত হয়ে পড়ছে সাগরের গাঢ় রঙের জলরাশি, যা বরফের তুলনায় অনেক বেশি সূর্যতাপ শোষণ করে।   ফলে উত্তর ইউরোপ ও আর্কটিক সংলগ্ন অঞ্চলে উষ্ণায়ন আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে ‘আর্কটিক অ্যামপ্লিফিকেশন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ইউরোপে শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এতে বাতাসে অ্যারোসল নামে পরিচিত সূক্ষ্ম কণার পরিমাণ কমেছে।   অ্যারোসল সূর্যের কিছু তাপ মহাকাশে প্রতিফলিত করতে সাহায্য করে। ফলে এই কণার পরিমাণ কমে যাওয়ায় অপেক্ষাকৃত বেশি সৌর বিকিরণ পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছাচ্ছে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে তুষারপাতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কোপারনিকাসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সর্বোচ্চ তুষারপাতের মৌসুমেও তুষারের পরিমাণ গড়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম ছিল।   তুষারের সাদা আবরণ সাধারণত সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। কিন্তু তুষার কমে যাওয়ায় উন্মুক্ত মাটি বেশি তাপ শোষণ করছে। বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশে এর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। ইউরোপের দ্রুত উষ্ণায়নের সঙ্গে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণকারী ‘জেট স্ট্রিম’-এর পরিবর্তনেরও সম্পর্ক রয়েছে।   উত্তর গোলার্ধের আবহাওয়া অনেকাংশে নির্ভর করে উষ্ণ নিরক্ষীয় অঞ্চল এবং শীতল উত্তর মেরুর তাপমাত্রার পার্থক্যের ওপর। কিন্তু মেরু অঞ্চলে দ্রুত উষ্ণায়নের কারণে এই পার্থক্য কমে আসছে। ফলে জেট স্ট্রিমের স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন বলে উল্লেখ করেন।   এর ফলে উচ্চচাপের গরম বায়ু দীর্ঘ সময় ধরে একটি এলাকায় আটকে থাকতে পারে এবং কয়েক দিনের গরম রূপ নিতে পারে সপ্তাহব্যাপী তীব্র তাপপ্রবাহে। ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পশ্চিম ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তীব্র ও পুনরাবৃত্ত তাপপ্রবাহের অন্যতম কারণ এই ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন।   বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন যে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি এই প্যাটার্নের ঘনঘন উপস্থিতির জন্য দায়ী কি না। তবে তারা একমত যে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০০৩ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন প্রায় এক মাস স্থায়ী ছিল।   বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহ হয়তো তত দীর্ঘস্থায়ী হবে না, কিন্তু ইতোমধ্যেই বহু অঞ্চলে তাপমাত্রার পুরোনো রেকর্ড বড় ব্যবধানে ভেঙে গেছে। ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী লিজি কেন্ডনের ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হওয়া এখন স্বাভাবিক ঘটনা। তবে চলতি তাপপ্রবাহে যে মাত্রায় পুরোনো রেকর্ড ভাঙছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এএফপি
ইউরোপে তাপপ্রবাহের তাণ্ডব, ফ্রান্সে বিদ্যুৎহীন ৬৮ হাজার পরিবার

ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, চলমান দাবদাহের মধ্যে এটি সাম্প্রতিক সময়ের প্রথম বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়।   ফ্রান্সের উপকূলীয় ফিনিস্তের বিভাগের প্রশাসন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার একটি ট্রান্সফরমারে ত্রুটির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে এ ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ব্রিটানি অঞ্চলের কিম্পের শহরের কাছে এরগে-গাবেরিক কমিউনে ট্রান্সফরমারটির ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং হাজারো পরিবার অন্ধকারে পড়ে।   ফ্রান্সের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ সংস্থা আরটিই এবং এনেদিসের কর্মীরা রাতভর মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কারিগরি জটিলতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন সম্ভব হচ্ছে না।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের দিকে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন। একই সময়ে ফ্রান্স চলতি বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের মুখোমুখি হয়।   আরটিই জানিয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বুধবার দিনের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। মেরামত কাজ চলমান থাকলেও সব পরিবারকে একযোগে বিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হবে না।   ফ্রান্সের ৫৮টি বিভাগের মধ্যে ফিনিস্তের অন্যতম, যেখানে চরম তাপপ্রবাহের কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্রিটানি থেকে প্যারিস অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বুধবার তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।   আবহাওয়াবিদদের মতে, বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ও বায়ুপ্রবাহের বিশেষ অবস্থানের কারণে গরম বাতাস কয়েক দিন ধরে একই এলাকায় আটকে রয়েছে। এর ফলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে এ ধরনের চরম আবহাওয়া ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
তীব্র তাপপ্রবাহে জ্বলছে ইউরোপ, ভাঙতে পারে জুনের সব রেকর্ড
তীব্র তাপপ্রবাহে জ্বলছে ইউরোপ, ভাঙতে পারে জুনের সব রেকর্ড

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবে ইউরোপজুড়ে আবারও তীব্র তাপপ্রবাহ আঘাত হেনেছে। মহাদেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই অস্বাভাবিক গরম পরিস্থিতি জুন মাসের আগের সব তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদেরা।   ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, বেলজিয়ামসহ একাধিক দেশে ইতোমধ্যে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোথাও জনসমাগমে মদ্যপান নিষিদ্ধ, কোথাও আবার ক্রীড়া আয়োজন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন কর্তৃপক্ষ।   গত মে মাসেই ইউরোপের কয়েকটি দেশে রেকর্ড তাপপ্রবাহ দেখা গিয়েছিল। তার এক মাস না পেরোতেই আবারও চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছে অঞ্চলটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।   বিজ্ঞানীদের মতে, এমন ঘন ঘন তাপপ্রবাহ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সরাসরি প্রভাব। জীবাশ্ম জ্বালানি—বিশেষ করে কয়লা, তেল ও গ্যাসের অতিরিক্ত ব্যবহারই এর প্রধান কারণ। ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।   ফ্রান্সে রোববার তাপপ্রবাহের কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি থাকা এলাকাগুলোতে জনসমাগমে মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ‘ফেত দে লা মিউজিক’ উৎসব চললেও প্যারিসের ল্যুভর পিরামিডের নিচে একটি বড় কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পিসোস শহরে তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে দেশের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চল ‘রেড অ্যালার্ট’-এর আওতায় আনা হয়েছে।   জার্মানির রাজধানী বার্লিনেও তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির ওপরে ওঠে। তীব্র বজ্রঝড়ের কারণে বার্লিন ওপেন টেনিস টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। নিরাপত্তার জন্য দর্শক ও খেলোয়াড়দের সরিয়ে নেওয়া হয়।   বেলজিয়ামে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে দেশটিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদেরা। প্রচণ্ড গরমে রেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় কিছু ট্রেন চলাচল বাতিল করেছে দেশটির রেল কর্তৃপক্ষ।   স্পেনে চলতি বছরের প্রথম আনুষ্ঠানিক তাপপ্রবাহ ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। গরমের কারণে মাদ্রিদে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচের সরাসরি প্রদর্শনী বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্পেন ও পর্তুগালের সমুদ্রসৈকতগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়েছে।   সুইজারল্যান্ডেও তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। নিম্নাঞ্চলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   বলকান অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারির প্রস্তুতি চলছে। ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, বসনিয়া ও আশপাশের এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাড়ানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনগণকে পর্যাপ্ত পানি পান এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।   অন্যদিকে যুক্তরাজ্যেও চরম গরমের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। দেশটির কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে, যা জুন মাসের আগের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রাতেও তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকবে—যাকে ‘ট্রপিক্যাল নাইটস’ বলা হয়।   রয়্যাল মেটিওরোলজিক্যাল সোসাইটির প্রধান নির্বাহী লিজ বেন্টলি বলেন, এ সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের গবেষক অক্ষয় দেওরাস সতর্ক করেছেন, এই তাপপ্রবাহ জনস্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও জরুরি সেবায় বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের এই পরিস্থিতি শুধু একটি মৌসুমি ঘটনা নয়; বরং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট সংকেত। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।   সূত্র: এএফপি

নীলুফা নিশাত জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, নিউইয়র্কে বছরে প্রায় ৫০০ জনের মৃত্যু ঝুঁকিতে আড়াই কোটি মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, শক্তিশালী বজ্রঝড় এবং আকস্মিক বন্যার সম্মিলিত হুমকিতে চলতি সপ্তাহে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ চরম স্বাস্থ্য ও জীবনঝুঁকিতে রয়েছেন। গ্রীষ্মকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে এখনো কয়েকদিন বাকি থাকলেও দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল ইতোমধ্যে রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রার কবলে পড়েছে।   এদিকে নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ ২০২৬ সালের “হিট-রিলেটেড মর্টালিটি রিপোর্ট” প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে শহরটিতে প্রতি বছর তাপজনিত কারণে প্রায় ৫০০ জনের মৃত্যু হচ্ছে। এটিকে নিউইয়র্কে অন্যতম প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   মার্কিন আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল মিলিয়ে অন্তত ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ এই তীব্র তাপপ্রবাহের সরাসরি প্রভাবে রয়েছে। কিছু এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ১০৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা জুন মাসের স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি বেশি।   সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনার র‌্যালি ও উইলমিংটন, সাউথ ক্যারোলাইনার মার্টল বিচ, ফ্লোরিডার টালাহাসি, মিসিসিপির হ্যাটিসবার্গ এবং ওকলাহোমার টালসা। এসব এলাকায় তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে থাকতে পারে।   ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন এবং ওয়াশিংটনের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ থেকে ২৫ ডিগ্রি বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত পোর্টল্যান্ড, সিয়াটল, বেকার্সফিল্ড ও রেডিংয়ে বিশেষ তাপ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, তাপপ্রবাহের পাশাপাশি উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের কারণে শক্তিশালী বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপজনিত মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশ ঘটে তুলনামূলক কম তাপমাত্রার দিনগুলোতে, যখন পারদ ৮২ থেকে ৯৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকে।   স্বাস্থ্য বিভাগের কমিশনার ডা. অ্যালিস্টার এফ. মার্টিন বলেন, “গরম আবহাওয়া একটি নীরব কিন্তু প্রাণঘাতী ঘাতক। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শহর আরও উষ্ণ হয়ে উঠছে। এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য।”   প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে দীর্ঘস্থায়ী তীব্র তাপপ্রবাহে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো জনগোষ্ঠীর হার বেশি ছিল। নিম্নমানের আবাসন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণের অভাব এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য এই ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। বেশিরভাগ মৃত্যুই ঘটেছে ঘরে এসি না থাকা বা বিদ্যুতের উচ্চ খরচের কারণে তা ব্যবহার না করার ফলে।   নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য বিনামূল্যে এয়ার কন্ডিশনার সরবরাহকারী ফেডারেল কর্মসূচি “হোম এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম”-এর বরাদ্দ এ বছর চাহিদার তুলনায় কম ছিল। ফলে চলতি বছরের ৫ জুনেই এই সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়, যা ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্ধ হওয়া বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরমে থাকলে হিট এক্সহসশন এবং হিট স্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। প্রবীণ, শিশু, গর্ভবতী নারী, হৃদরোগী, ডায়াবেটিস রোগী এবং বহিরাঙ্গন শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সাময়িক ব্ল্যাকআউটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিখাতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, গবাদিপশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সেচের পানির সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।   ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের সুরক্ষায় নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ তিনটি নতুন কুলিং সেন্টার চালু করেছে। এগুলো হলো- ব্রাউনসভিল নেবারহুড হেলথ অ্যাকশন সেন্টার, ২৫৯ ব্রিস্টল স্ট্রিট ব্রুকলিন ইস্ট হারলেম নেবারহুড হেলথ অ্যাকশন সেন্টার, ১৫৮ ইস্ট ১১৫তম স্ট্রিট ম্যানহাটন ট্রেমন্ট নেবারহুড হেলথ অ্যাকশন সেন্টার, ১৮২৬ আর্থার অ্যাভিনিউ ব্রঙ্কস তাপমাত্রা সূচক এক বা একাধিক দিনে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে, অথবা টানা দুই বা তার বেশি দিন ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি থাকলে এসব কেন্দ্র খোলা থাকবে। নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট কমিশনার ক্রিস্টিনা ফারেল বাসিন্দাদের এসি না থাকলে কুলিং সেন্টার, লাইব্রেরি বা শীতল স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি “কুল অপশনস ফাইন্ডার” অ্যাপ এবং “নোটিফাই এনওয়াইসি” ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য জানার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাবাস্সুম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কয়লা ও তেল-গ্যাসে বিশ্বের বড় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ আকাশছোঁয়া, জলবায়ু চরম ঝুঁকিতে

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংকগুলো গত বছর জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে ৯০ হাজার ৬০০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি সত্ত্বেও কয়লা, তেল এবং গ্যাস উৎপাদন বাড়িয়ে দিতে ব্যাংকগুলোর এই বিপুল বিনিয়োগের তথ্য একটি নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আজ মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর জোটের তৈরি করা বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর জীবাশ্ম জ্বালানিতে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ বা ৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বেড়েছে। গবেষকরা বলছেন, বিশ্বের শীর্ষ ৬৫টি ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।   প্রতিবেদনে জানানো হয়, জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করেছে মার্কিন ব্যাংক ‘জেপি মরগান চেজ’। গত বছর তারা এই খাতে ৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার দিয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘ব্যাংক অব আমেরিকা’। এরপরই রয়েছে জাপানের দুটি ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিটিগ্রুপ’।   ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের বড় ব্যাংকগুলো জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে মোট ৮.৭ ট্রিলিয়ন ডলার তহবিল জুগিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু রক্ষার এই পুরোনো প্রতিশ্রুতি থেকে ব্যাংকগুলো এখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।   অর্থায়নের এই বিশাল অঙ্কের ৪০ শতাংশেরই জন্য দায়ী শীর্ষ ১২টি ব্যাংক। তবে এর মধ্যেও ইউরোপীয় কিছু ব্যাংক গত বছর এই খাতে তাদের অর্থায়ন কিছুটা কমিয়েছে। গবেষকদের মতে, স্বেচ্ছায় দেওয়া পরিবেশগত প্রতিশ্রুতিগুলো কাজ না করায় এখন বিভিন্ন দেশের সরকারি নীতি নির্ধারকদের আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।

তাবাস্সুম জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে ১০ বছরের রেকর্ড ভাঙল হাড়কাঁপানো শীত ও তুষারপাত

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য কানেকটিকাটে এবারের শীতকাল গত এক দশকের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ২০ মার্চ ‘ভার্নাল ইকুইনক্স’ বা বসন্তকালীন বিষুব অতিক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বসন্তের আগমন ঘটলেও, গত কয়েক মাসের আবহাওয়ার খতিয়ান বলছে—এবারের শীত ছিল রীতিমতো ভয়াবহ। রাজধানী হার্টফোর্ড এলাকায় গড় তাপমাত্রা ছিল ২৭.৯° ফারেনহাইট, যা ২০১৫ সালের পর সর্বনিম্ন। এছাড়া গত ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৫২.৭ ইঞ্চি তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ।   জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ‘ক্লাইমেট সেন্ট্রাল’-এর বিজ্ঞান বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ক্রিস্টিনা ডাহল জানান, ১৯৭০ সালের তুলনায় কানেকটিকাটে শীতকালীন গড় তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি বাড়লেও এবারের তীব্র শীতের পেছনে ‘আর্কটিক এয়ার’ বা মেরু অঞ্চলের শীতল বাতাসের প্রভাব ছিল প্রবল। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ‘জেট স্ট্রিম’ বা বায়ুপ্রবাহের আচরণ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় মেরু অঞ্চলের তীব্র ঠান্ডা বাতাস নিচে নেমে আসছে। তবে এই তুষারপাতের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে; বড় দু-তিনটি আর্দ্র ঝড়েই এবার মৌসুমি গড়ের চেয়ে বেশি তুষারপাত হয়েছে।   মজার ব্যাপার হলো, কানেকটিকাটসহ পূর্ব উপকূলে যখন রেকর্ড শীত অনুভূত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের চিত্র ছিল ঠিক উল্টো। সেখানে অনেক শহরে এবার রেকর্ড উষ্ণতা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবী যত উষ্ণ হচ্ছে, মেরু অঞ্চলের শীতল বাতাসের তীব্রতা বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের মতো দীর্ঘস্থায়ী না হলেও, আকস্মিক ও প্রচণ্ড শীত বা ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েই যাচ্ছে।

তাবাস্সুম মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
২০২৫ সালে পৃথিবীতে তাপের রেকর্ড: জাতিসংঘের সতর্কতা

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আটকে থাকা তাপের পরিমাণ ২০২৫ সালে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু সংস্থা (ডব্লিউএমও) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ক্লাইমেট’-এ এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, এই অতিরিক্ত তাপের প্রভাব শত শত থেকে হাজার বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ডব্লিউএমও-র মতে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়কালটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ ১১টি বছর।   জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতিকে ‘জলবায়ু জরুরি অবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, জলবায়ুর প্রতিটি প্রধান সূচক এখন লাল সংকেত দেখাচ্ছে। ডব্লিউএমও-র প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো পৃথিবীর ‘এনার্জি ইমব্যালান্স’ বা শক্তির ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব গত ৮ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় সূর্য থেকে আসা শক্তি আর বের হতে পারছে না, যা পৃথিবীকে ক্রমেই উত্তপ্ত করে তুলছে।   বিপজ্জনক তথ্য হলো, অতিরিক্ত এই তাপের ৯১ শতাংশেরও বেশি জমা হচ্ছে সমুদ্রে। ফলে ২০২৫ সালে সমুদ্রের তাপমাত্রা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং বরফ গলার হার ত্বরান্বিত হয়েছে। ১৯৯৩ সালের পর থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হলে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ডব্লিউএমও-র উপ-প্রধান কো ব্যারেট এই ভবিষ্যৎ চিত্রকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তাবাস্সুম মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০