দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার মধ্যে এবার সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে মিসর ও তুরস্ক। দুই দেশ যৌথ বিমান বাহিনীর মহড়া শুরু করেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিসরের সশস্ত্র বাহিনী বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির একাধিক বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং যৌথ অভিযানে সমন্বয় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। মিসরের সামরিক মুখপাত্র জানান, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে উভয় দেশের বহুমুখী যুদ্ধবিমান অংশ নিচ্ছে। কয়েক দিনব্যাপী চলা এই মহড়ায় আধুনিক নিরাপত্তা ও যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মহড়ার প্রথম ধাপে দুই দেশের পাইলট ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে তাত্ত্বিক আলোচনা, পেশাগত মতবিনিময় এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে যৌথ অভিযানের ধারণা ও কৌশলগত সমন্বয় আরও সুসংহত করার চেষ্টা চলছে। পরবর্তী ধাপে বাস্তব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। এতে মিসর ও তুরস্কের পাইলটরা যৌথভাবে প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন পরিচালনা করছেন এবং বিভিন্ন কল্পিত সামরিক পরিস্থিতিতে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার অনুশীলন করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো যৌথ অভিযানে পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সমন্বয় আরও কার্যকর করা। মিসরের সামরিক বাহিনী বলেছে, এই মহড়া অংশগ্রহণকারী সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, যুদ্ধ প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে যৌথ বিমান অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ মহড়া শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ নয়, বরং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এক সময় আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে কায়রো ও আঙ্কারার মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে ২০১৩ সালে মিসরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শীতল হয়ে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উভয় দেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, রাষ্ট্রদূত বিনিময় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় মিসর ও তুরস্কের এই ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা কৌশল এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান যৌথ বিমান মহড়া সেই পরিবর্তিত সম্পর্কেরই একটি বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয় দেশই আশা করছে, এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সামরিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের পথ সুগম করবে।
বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে দিতে এবার কি তবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ‘মুসলিম ন্যাটো’? পশ্চিম এশিয়া তথা মুসলিম বিশ্বের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এক বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। আগামী সপ্তাহেই তুরস্কে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এক মেগা বৈঠক, যেখানে অংশ নিতে যাচ্ছে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং মিশর। তুরস্কের 'আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম'-এর সমান্তরালে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এই তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেবেন। মূলত আমেরিকা, চীন কিংবা রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো যাতে নিজস্ব একটি সামরিক ও নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সম্ভাব্য জোটকে 'মুসলিম ন্যাটো' হিসেবে অভিহিত করছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই চার দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যৌথ নিরাপত্তা কৌশলের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভিনদেশের হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করেই এই জোট গঠিত হচ্ছে। যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তবে বিশ্ব রাজনীতিতে পশ্চিমা শক্তির একাধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। একই সাথে কাশ্মীর ইস্যুসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন মেরুকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফিলিস্তিনিদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়ন এবং বর্ণবাদী নীতি অনুসরণের অভিযোগে ইসরায়েলকে জাতিসংঘ (UN) থেকে স্থগিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার নুমান কুর্তুলমুস। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ১৫২তম ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU) অ্যাসেম্বলির উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, কুর্তুলমুস তার ভাষণে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৪ সালে বর্ণবাদী নীতির কারণে যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জাতিসংঘ থেকে স্থগিত করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ইসরায়েল বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের জন্য পৃথক আইন এবং বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চালু রেখেছে, যা স্পষ্টত একটি বর্ণবাদী বা 'অ্যাপার্থাইড' ব্যবস্থার প্রতিফলন। ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা ও গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা চরম সংকটের মুখে পড়বে। কুর্তুলমুস আরও সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, নির্বিচারে আটক এবং অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে তুরস্ক। দেশটি বলেছে, যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দিতে সংলাপের বিকল্প নেই এবং এ প্রক্রিয়ায় তারা সমর্থন অব্যাহত রাখবে।' আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ন্যাটো সদস্য ও ইরানের প্রতিবেশী তুরস্ক ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। দেশটি শুরু থেকেই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানায়, চলমান যুদ্ধবিরতি ধরে রেখে তা স্থায়ী শান্তিতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে আঙ্কারা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনায় গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান সংলাপকে আরও এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সপ্তাহের শেষে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আনতালিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে বৈঠকে বসতে পারেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাতার সফর শেষে তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর এই ধারাবাহিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে রূপ দিতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা তুরস্কের কাছে এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। তিনি সোমালিয়ায় উগান্ডার দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের ‘পুরস্কার’ হিসেবে তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার এবং সেই দেশের সবচাইতে সুন্দরী নারীকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আল্টিমেটাম দেন। জেনারেল মুহুজি অভিযোগ করেন, সোমালিয়ায় উগান্ডার সেনারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শান্তি রক্ষা করলেও এর বাণিজ্যিক সুবিধা ভোগ করছে তুরস্ক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই দাবি মানা না হলে উগান্ডায় অবস্থিত তুর্কি দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তুর্কি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট উগান্ডার আকাশসীমায় নিষিদ্ধ করা হবে। এমনকি তিনি উগান্ডার নাগরিকদের তুরস্কে ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, জেনারেল মুহুজি উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির ছেলে। ইতিপূর্বেও তিনি ইতালির নারী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে এবং বিনিময়ে ১০০টি গরু দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিতর্কিত হয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে তার এমন আচরণের জন্য প্রেসিডেন্ট মুসেভেনিকে ক্ষমা পর্যন্ত চাইতে হয়েছিল। এবার তুরস্ককে ঘিরে তার এই নতুন দাবি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে ইসরায়েলি কনস্যুলেটের আশপাশে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত দুইজন হামলাকারী নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্স জানায়, ঘটনাস্থলে কয়েক মিনিট ধরে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কনস্যুলেট ভবনের সামনে টানা গুলিবর্ষণ চলছে এবং এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য কিছু ফুটেজে এক হামলাকারীকে পার্ক করা নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ির আড়াল নিয়ে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও হ্যান্ডগান দিয়ে গুলি চালাতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশে দুইজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। কনস্যুলেটটি ওই এলাকার একটি বহুতল ভবনের ওপরের দিকে অবস্থিত। ২০২৩ সালে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছিল। অন্যদিকে, একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তুরস্কে কোনো ইসরায়েলি কূটনীতিক অবস্থান করছেন না। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফতচি জানিয়েছেন, হামলায় জড়িত তিনজন একটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত, যারা ধর্মকে অপব্যবহার করে। নিহতদের মধ্যে দুজন সহোদর ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তুরস্কের বাণিজ্যিক রাজধানী ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ইসরায়েলি কনস্যুলেটের বাইরে ভয়াবহ এক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে ঘটা এই সংঘর্ষে সন্দেহভাজন তিন হামলাকারী নিহত হয়েছেন। তুর্কি সংবাদমাধ্যম এবং সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের লেভেন্ট ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত ইসরায়েলি কনস্যুলেট লক্ষ্য করে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। এতে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেয় তুর্কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের পাল্টা গুলিতে ঘটনাস্থলেই তিন হামলাকারী নিহত বা "নিউট্রালাইজড" হয়। তুর্কি চ্যানেল 'হ্যাবারতুর্ক'-এর প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, কনস্যুলেট ভবনের চারপাশ ঘিরে রেখেছে পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য এবং বিশেষ ইউনিট। পুরো এলাকাটি বর্তমানে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢাকা রয়েছে এবং সাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। আহত পুলিশ সদস্যদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ইস্তাম্বুল জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তুর্কি প্রশাসন জানিয়েছে, এটি কোনো পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা কি না তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
তুরস্কের জলসীমায় এক ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে এজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, একটি মোটরচালিত রাবার বোটে করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি দল সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছিল। তুরস্কের কোস্টগার্ড বারবার নৌকাটিকে থামার সংকেত দিলেও চালক তা উপেক্ষা করে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের তোড়ে একপর্যায়ে নৌকাটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বোদরুমের কাছে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ড।
তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে প্রায় এক হাজার মানুষ। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও শত শত মানুষ সমবেত হয়ে ইরান, লেবানন ও ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাতের প্রতিবাদ জানায়। বিক্ষোভ আয়োজন করে কয়েকটি ধর্মভিত্তিক রক্ষণশীল এনজিও। অংশগ্রহণকারীরা ‘প্রতিরোধ গড়ো, গাজা জিতবে’, ‘মুসলমানরা অন্যায়কে মাথা নত করে না’ এবং ‘খুনি ইসরাইল, খুনি যুক্তরাষ্ট্র’ লিখিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। তারা আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন। একজন বিক্ষোভকারী মেহমেত ইয়িলমাজ বলেন, আমরা বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষের জন্য এখানে—লেবানন, ইরান, ফিলিস্তিন। গতকাল ভেনেজুয়েলা ছিল, আগামীকাল হয়তো কিউবা হবে। আরেক বিক্ষোভকারী একরাম সায়লান বলেন, ইরান যখন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, কেউ আয়রন ডোম দিয়ে তাদের আটকাতে পারবে না। তারপরও তারা [ইসরাইলিরা] ইঁদুরের মতো গর্তে ঢুকে পড়ে। ইরানিরা রাস্তায় নেমে আসে, এটি বিশ্বাস ও ইমানের বিষয়। যদি তাদের বিশ্বাস থাকত, মৃত্যুকে ভয় পেত না। সূত্র: আল জাজিরা
ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে অবশেষে শান্তি আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আগ্রাসন ও পাল্টা হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে আজ রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আজ প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের উদ্দেশ্যেই এই দেশগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে। উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন-ইসরাইলি হামলা এবং এর জবাবে ইরানের কঠোর সামরিক তৎপরতার কারণে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান আসবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল। চার দেশের এই যৌথ উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। সূত্র: আল জাজিরা
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন দলের এক সভায় এরদোয়ান এই মন্তব্য করেন। এরদোয়ান মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ক্রমবর্ধমান বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধ আমাদের অঞ্চলকে রক্ত ও বারুদের গন্ধে ডুবিয়ে দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, নিরীহ শিশুরাও এই সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে, যা মানবিক মূল্যকে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরে। এরদোয়ান এই সংঘাতকে ইসরাইলের যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর খেসারত দিতে হচ্ছে সমগ্র মানবজাতিকে। তিনি আরও জানান, কঠিন এই সময়ে তুরস্ক তার ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর পাশে থাকবে।
কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার বন্দর থেকে ছেড়ে আসা একটি তুর্কি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইস্তাম্বুলের বসফরাস প্রণালীর অদূরে সংঘটিত এই বিস্ফোরণে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন এতে থাকা ২৭ জন নাবিক। তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ‘আলতুরা’ নামক জাহাজটি যখন বসফরাস প্রণালী থেকে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার দূরে ছিল, তখনই এই হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে আসা এই জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করেই মূলত হামলাটি চালানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের পরপরই তুর্কি কোস্টগার্ড দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, জাহাজটি প্রায় পূর্ণ বোঝাই ছিল এবং এর উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার তেল সরবরাহ করা। তুরস্কের জলসীমার ঠিক বাইরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি ওই অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে তুরস্ক তার সমস্ত শক্তি ও সম্পদ নিয়ে কাজ করে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। মঙ্গলবার আঙ্কারায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, এই যুদ্ধ কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি তুরস্কের অর্থনীতিসহ পুরো বিশ্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম সংকটের মুখে পড়েছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি "অগ্নিবলয়" হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করে বলেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে আজ পুরো বিশ্বকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথগুলো এই যুদ্ধের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়ায় বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও জানান, এই যুদ্ধ থেকে তুরস্কের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ইতিমধ্যেই বহুমুখী পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। আঙ্কারা বর্তমানে পাকিস্তান, মিশর এবং কাতারসহ বিভিন্ন দেশের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে যাতে একটি দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব হয়। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বকে এই মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চার দেশ—তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তান—প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে বৈঠক করেছে। সৌদি রাজধানী রিয়াদ-এ একটি সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশগুলোর সক্ষমতা একীভূত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্রগুলোর মতে, এ উদ্যোগের লক্ষ্য কোনো সামরিক জোট গঠন নয়; বরং প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা খাতে সমন্বিত সহযোগিতা গড়ে তোলা। তুরস্ক গত বছর থেকেই এ ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং এতে মিসরকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। বৈঠক শেষে হাকান ফিদান বলেন, “অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশগুলো কীভাবে নিজেদের শক্তি একত্র করে সমস্যার সমাধান করতে পারে, তা আমরা পর্যালোচনা করছি।” তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সমস্যার সমাধানে নিজেদের উদ্যোগেই এগিয়ে আসা জরুরি, নতুবা বাইরের শক্তি তাদের স্বার্থ অনুযায়ী সমাধান চাপিয়ে দিতে পারে। আলোচনায় ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলার বিষয়ও উঠে আসে। যৌথ বিবৃতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার সমালোচনা করা হলেও, ইসরায়েলের ভূমিকা সীমিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নির্দিষ্ট ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, পাকিস্তানের কৌশলগত সক্ষমতা, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি এবং মিসরের সামরিক উপস্থিতি—এই চার দেশের সমন্বয় ভবিষ্যতে একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার-এ একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাতজন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন তুরস্কের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তুর্কি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের একজন ছিলেন তুর্কি সেনাবাহিনীর সদস্য। বাকি দুজন দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাসেলসান-এর নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দুর্ঘটনায় নিহত অন্য চারজন কাতার সশস্ত্র বাহিনী-এর সদস্য বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। রোববার ভোরে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ছয়জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ থাকার তথ্য দেওয়া হলেও পরে নিশ্চিত করা হয়, সাতজনই নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়। এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, ইরান বা তার মিত্র বাহিনী তুরস্ক বা ওমানকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি। শুক্রবার (২০ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও ওমানে সংঘটিত হামলাগুলো ইরানের কোনো কর্মকাণ্ড নয়। তিনি এগুলোকে “শত্রুদের সাজানো ঘটনা (ফলস ফ্ল্যাগ)” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এসব ঘটনার উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাজানো হামলা অন্যান্য দেশে ঘটতে পারে। এছাড়া আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন খামেনি। তিনি দুই দেশকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে ইরান তাদের সহায়তায় প্রস্তুত। খামেনি আরও বলেন, “এই দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ যেন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে।” সূত্র: আল-জাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।