ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সক্ষমতা ও সৈন্য কমিয়ে নিলে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটে (ন্যাটো) তুরস্কের গুরুত্ব ও ভূমিকা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের সেনাপ্রধান জেনারেল অনো আইশেলশেইম। তুরস্কের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং দেশটির ক্রমাগত বিস্তৃত হতে থাকা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্পের কারণে ন্যাটোর কাছে আঙ্কারা দিন দিন আরও বেশি অপরিহার্য হয়ে উঠছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন।
ডাচ সেনাপ্রধান জানান, আঙ্কারা সম্মেলনটি ন্যাটোর জন্য বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মোড় হিসেবে চিহ্নিত হবে। জোটের বর্তমান শীর্ষ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত আগের সম্মেলনে নির্ধারিত প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা। নেদারল্যান্ডস এ ক্ষেত্রে একটি শ্বেতপত্র বা হোয়াইট পেপার প্রস্তুত করেছে এবং তারা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় ৫ শতাংশে নিয়ে যেতেও নিজেদের সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে।
জেনারেল আইশেলশেইম স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে তাদের সামরিক শক্তি গুটিয়ে নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এখন ইউরোপীয় দেশগুলোকেই ন্যাটোর ভেতর বড় ধরনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। তিনি এটিকে ইউরোপের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সাথে তিনি চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে এই সম্মেলন থেকে একটি শান্তির পথ খোঁজার তাগিদ দেন।
নতুন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ন্যাটোর নতুন রূপ বা 'ন্যাটো ৩.০' ভিশন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডাচ সেনাপ্রধান বলেন, যুদ্ধ শুরু হলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য আমাদের এখন সহনশীল সমাজ এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প দরকার। সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে শুধু অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের পেছনে ছুটলে হবে না, একই সাথে স্বল্প খরচের হালকা চালকহীন ড্রোন (ইউএভি) এবং কম খরচের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে। আর তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্য অর্জনে দারুণ সক্ষমতা দেখিয়েছে।
তুরস্কের অনন্য গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণেই তুরস্ক ন্যাটোর দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের মূল অভিভাবক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর এই জোটে তুরস্কেরই রয়েছে দ্বিতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র বাহিনী। মার্কিনরা নিজেদের গুটিয়ে নিলে ন্যাটোর যে শক্তির ঘাটতি তৈরি হবে, তা পূরণে তুরস্কের সামরিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হবে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো পরিদর্শন করে নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপের অন্যান্য দেশের চেয়ে তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্প এখন অনেক এগিয়ে এবং তাদের সাথে যৌথ সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নিপীড়ন ও শোষণমূলক (সিএসইএএম) সব ধরনের কনটেন্ট অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার জন্য মেটাকে নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। ইনস্টাগ্রামের পেইড বিজ্ঞাপনে (টাকা দিয়ে চালানো বিজ্ঞাপন) শিশুদের যৌন নির্যাতনের উপাদান প্রদর্শিত হওয়ার অভিযোগে মার্কিন এই প্রযুক্তি জায়ান্টকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ৭ দিনের মধ্যে এর বিস্তারিত জবাব চাওয়া হয়েছে। আজ রবিবার ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, ইনস্টাগ্রাম ভারতে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট প্রচারের জন্য পেইড বিজ্ঞাপন বা প্রমোশন ব্যবহার করতে দিয়েছে। প্ল্যাটফর্মটিতে "রেপ ভিডিও" এবং "চাইল্ড ভিডিও" এর মতো আপত্তিকর শব্দসহ পেইড বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হচ্ছিল, যা ব্যবহারকারীদের সরাসরি টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে যেত। আর সেসব টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই ধরনের নিষিদ্ধ উপাদান বিক্রি করা হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ভারত সরকার এই ধরনের ভয়াবহ কনটেন্টগুলোর 'অ্যালগরিদমিক অ্যামপ্লিফিকেশন' বা সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টির তীব্র বিরোধিতা করে মেটার কাছে অবিলম্বে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে—কীভাবে এই ধরনের সংবেদনশীল বিজ্ঞাপনগুলো মেটার সিস্টেমে অনুমোদিত হলো, অভিযোগ ওঠার পর মেটা কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের সুরক্ষাকবচ ব্যবহার করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাযথ তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে মেটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বিবিসি’র এই অনুসন্ধান এবং মন্তব্যের অনুরোধের প্রেক্ষিতে মেটা জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই এই ধরনের বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিয়েছে এবং যে অ্যাকাউন্টগুলো থেকে এগুলো ছড়ানো হচ্ছিল, সেগুলো স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং সীমান্ত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ নতুন করে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ—সব মিলিয়ে কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে নানা দাবি সামনে এলেও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য বলছে, সেখানে এখনো সংঘাত পুরোপুরি থেমে যায়নি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি। বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান হলো, নতুন করে কোনো বাস্তুচ্যুত মানুষ যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে এবং একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে, সে জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে টহল বাড়ানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। অতীতের মতো গোলাগুলি বা সংঘাতের প্রভাব যাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে না পড়ে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। রাখাইনের পরিস্থিতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় বাংলাদেশ কূটনৈতিক পর্যায়ে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। সরকার বলছে, প্রত্যাবাসন অবশ্যই হতে হবে স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ। আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে অনিরাপদ পরিবেশে কাউকে ফেরত পাঠানো হবে না। এ কারণে রাখাইনে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই প্রত্যাবাসনের প্রধান পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আট লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছে, যাতে নাগরিকত্ব যাচাই শেষে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যায়। মিয়ানমারও কয়েক লাখ মানুষের তথ্য যাচাই করেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে রাখাইনের চলমান সংঘাত এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন কার্যকরভাবে শুরু করা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে আরাকান আর্মি (এএ) "কোণঠাসা" হয়ে পড়েছে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য এমন দাবিকে নিশ্চিত করে না। বরং বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনের বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় এখনো আরাকান আর্মির উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে এবং বাস্তব পরিস্থিতি জটিল রয়ে গেছে। বাংলাদেশের জন্য সীমান্ত নিরাপত্তা এখন শুধু মানবিক নয়, নিরাপত্তাগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মাঝে মধ্যেই বাংলাদেশি জেলে আটকের ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরও একাধিক ঘটনায় বাংলাদেশি জেলেদের আটক করার খবর প্রকাশিত হয়েছে। পরে কয়েকটি ঘটনায় সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অস্ত্র ও মাদক পাচার ঠেকাতেও বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর লক্ষ্য, সীমান্ত পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে না পারে। বর্তমানে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের আশ্রয়, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ বহন করতে হচ্ছে। এ কারণে সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে শুধু মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নয়, রাখাইনের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গেও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদ পরিবেশে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন এবং সেখানে তাদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়। এ মুহূর্তে রাখাইনের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও বাস্তবায়নের আগে নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব যাচাই এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের বিষয়গুলো নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্ট—নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হলেই কেবল রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষকৃত্য কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তবে এই শোকাবহ ও সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানকে নিয়ে চরম কটাক্ষ ও উপহাস করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘ভয়াবহভাবে আঘাত করেছে’ এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মার্কিন প্রশাসন দেশটিকে ‘এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে’। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে মাউন্ট রাশমোরের কাছে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। ভূ-রাজনৈতিক মঞ্চে নিজের আগ্রাসী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা একদিনেই ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছি এবং ইরানকে ভয়াবহভাবে আঘাত করেছি। তারা এখন সমঝোতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে আমরা ভালো মানুষ বলেই তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য এই এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি।” উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হন, যার পরশ্রুতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দাফন সম্পন্ন করার বিধান থাকলেও, তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া দীর্ঘ সময় বিলম্বিত হয়। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বারবার নাজুক অবস্থায় পৌঁছালেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘর্ষের মাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। এর সূত্র ধরেই ইরান গত ৪ জুলাই থেকে খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা কর্মসূচি শুরু করে। ছয় দিনের এই বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৭ জুলাই কোম শহরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ জুলাই তাঁর জন্মস্থান পবিত্র মাশহাদ শহরে দাফনের মাধ্যমে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে। জানাজা উপলক্ষে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খামেনির ছবি সংবলিত পোস্টার ও বিলবোর্ড টানানো হয়েছে এবং তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক শোকগ্রস্ত জনতাকে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান সংবলিত ব্যানার বহন করতে দেখা গেছে। এদিকে তীব্র নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে আলি খামেনির ছেলে ও ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর বাবার শেষকৃত্যে প্রকাশ্যে অংশ নেবেন না বলে জানা গেছে। ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি জানিয়েছেন, ইসরাইলের সম্ভাব্য ড্রোন হামলা ও গোয়েন্দা নজরদারির উচ্চ ঝুঁকির কারণে মোজতবার প্রকাশ্যে উপস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। বিদায়ের এই করুণ মুহূর্তে আলি খামেনির কফিনের পাশেই রাখা হয়েছে তাঁর ১৪ মাস বয়সি নাতনির ছোট একটি কফিন, যে ওই মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছিল। একই সঙ্গে ওই হামলায় প্রাণ হারানো খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের মরদেহও শেষ শ্রদ্ধার জন্য তাঁর কফিনের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে।