আন্তর্জাতিক

আমেরিকা সেনা কমালে ন্যাটোতে তুরস্কের ক্ষমতা বাড়বে, বললেন নেদারল্যান্ডসের সেনাপ্রধান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ১০:৫৫
ডাচ সেনাপ্রধানের মতে, ইউরোপে মার্কিন সেনা কমলে ন্যাটোর ভরসা তুরস্ক | ছবি: সংগৃহীত
ডাচ সেনাপ্রধানের মতে, ইউরোপে মার্কিন সেনা কমলে ন্যাটোর ভরসা তুরস্ক | ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সক্ষমতা ও সৈন্য কমিয়ে নিলে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটে (ন্যাটো) তুরস্কের গুরুত্ব ও ভূমিকা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের সেনাপ্রধান জেনারেল অনো আইশেলশেইম। তুরস্কের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং দেশটির ক্রমাগত বিস্তৃত হতে থাকা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্পের কারণে ন্যাটোর কাছে আঙ্কারা দিন দিন আরও বেশি অপরিহার্য হয়ে উঠছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন।

 

ডাচ সেনাপ্রধান জানান, আঙ্কারা সম্মেলনটি ন্যাটোর জন্য বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মোড় হিসেবে চিহ্নিত হবে। জোটের বর্তমান শীর্ষ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত আগের সম্মেলনে নির্ধারিত প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা। নেদারল্যান্ডস এ ক্ষেত্রে একটি শ্বেতপত্র বা হোয়াইট পেপার প্রস্তুত করেছে এবং তারা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় ৫ শতাংশে নিয়ে যেতেও নিজেদের সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে।

 

জেনারেল আইশেলশেইম স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে তাদের সামরিক শক্তি গুটিয়ে নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এখন ইউরোপীয় দেশগুলোকেই ন্যাটোর ভেতর বড় ধরনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। তিনি এটিকে ইউরোপের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সাথে তিনি চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে এই সম্মেলন থেকে একটি শান্তির পথ খোঁজার তাগিদ দেন।

 

নতুন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ন্যাটোর নতুন রূপ বা 'ন্যাটো ৩.০' ভিশন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডাচ সেনাপ্রধান বলেন, যুদ্ধ শুরু হলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য আমাদের এখন সহনশীল সমাজ এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প দরকার। সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে শুধু অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের পেছনে ছুটলে হবে না, একই সাথে স্বল্প খরচের হালকা চালকহীন ড্রোন (ইউএভি) এবং কম খরচের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে। আর তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্য অর্জনে দারুণ সক্ষমতা দেখিয়েছে।

 

তুরস্কের অনন্য গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণেই তুরস্ক ন্যাটোর দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের মূল অভিভাবক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর এই জোটে তুরস্কেরই রয়েছে দ্বিতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র বাহিনী। মার্কিনরা নিজেদের গুটিয়ে নিলে ন্যাটোর যে শক্তির ঘাটতি তৈরি হবে, তা পূরণে তুরস্কের সামরিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হবে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো পরিদর্শন করে নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপের অন্যান্য দেশের চেয়ে তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্প এখন অনেক এগিয়ে এবং তাদের সাথে যৌথ সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
‘সিনেমা বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয় মুছে ফেলা যায় না’, ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে পাকিস্তান I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
‘সিনেমা বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয় মুছে ফেলা যায় না’, ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে পাকিস্তান

বলিউড সিনেমা বা তথ্যচিত্র বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয়ের স্মৃতি মুছে ফেলা কিংবা ইতিহাস বদলে ফেলা একেবারেই অসম্ভব বলে কড়া মন্তব্য করেছে পাকিস্তান। ভারতের তৈরি ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামক একটি সাম্প্রতিক তথ্যচিত্রের তীব্র সমালোচনা করে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।   সংস্থাটির দাবি, ভারত তাদের সামরিক ব্যর্থতা ও পরাজয় স্বীকার না করে নাটকীয় ও সিনেমাটিক উপায়ের আশ্রয় নিয়ে ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে নতুন রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা করছে।   পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মতে, তথাকথিত ওই তথ্যচিত্রে ভুল তথ্য ও অতিরঞ্জিত ঘটনার মাধ্যমে নিজেদের একতরফা জয় হিসেবে দেখানোর যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং বাস্তবতাবহির্ভূত। সত্য গোপন করার উদ্দেশ্যে নির্মিত এই ভিডিওটিকে একই সঙ্গে একটি ট্র্যাজেডি এবং কমেডি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। তাদের মতে, ভারত মূলত নিজেদের জনগণের কাছে মুখরক্ষার জন্যই বারবার এ ধরনের কল্পকাহিনির আশ্রয় নিচ্ছে।   আইএসপিআর তাদের বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, ‘মারকা-ই-হক’ এবং পাকিস্তানের পাল্টা পদক্ষেপ ‘অপারেশন বুনিয়ানোম মারসুস’-এর প্রকৃত নথি, বৈশ্বিক প্রতিবেদন এবং ভারতের নিজস্ব স্বীকারোক্তিই ওই যুদ্ধের আসল সত্য তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট। সেখানে ভারতের একাধিক সামরিক বিমান ভূপাতিত করা এবং ২৬টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার যে ইতিহাস পাকিস্তান রচনা করেছে, তা কখনোই ঢেকে রাখা সম্ভব নয়।   কোনো ধরনের সিনেমাটিক কারসাজি বা অপপ্রচার চালিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের চরম সত্য ও পরাজয়কে জয়ে রূপান্তর করা যায় না উল্লেখ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে যে, ভবিষ্যতে ভারত এমন কোনো সামরিক দুঃসাহস দেখালে তার আরও কঠিন জবাব দেওয়া হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৫:৫৯
‘রহমতের ধর্মে তোমাকে স্বাগতম’, ইসলাম গ্রহণের খবরে রবার্তো কার্লোসকে কাবার ইমাম I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

‘রহমতের ধর্মে তোমাকে স্বাগতম’, ইসলাম গ্রহণের খবরে রবার্তো কার্লোসকে কাবার ইমাম

৭০ বছরের তালেবান কমান্ডারকে বিয়ে না করায় ১৭ বছরের কিশোরী ২১ মাস ধরে কারাগারে

৭০ বছরের তালেবান কমান্ডারকে বিয়ে না করায় ১৭ বছরের কিশোরী ২১ মাস ধরে কারাগারে

শিশু হিন্দ রাজাব I ছবি: সংগৃহীত

গাজায় শিশু হিন্দ রাজাব হ ত্যার কথা স্বীকার করল ই সরায়েলি সেনাবাহিনী, শুরু হচ্ছে ফৌজদারি তদন্ত

বাবা হোসাম আল-খাওয়াস, মা জেইনা আলায়ন I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
সাগরে ডুবে ফিলিস্তিনি দম্পতি ও ১৪ বছরের মেয়ের মৃত্যু, জীবন-মৃ ত্যুর সন্ধিক্ষণে ৬ বছরের শিশু

ব্রিটেনের সাসেক্সের শোরহ্যাম-বাই-সি উপকূলে সপরিবারে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে এক ফিলিস্তিনি দম্পতি ও তাদের ১৪ বছর বয়সী কিশোরী কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। লন্ডনের ফিলিস্তিনি দূতাবাস নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন বাবা হোসাম আল-খাওয়াস, মা জেইনা আলায়ন এবং তাদের মেয়ে সারা আল-খাওয়াস।   তারা লেবাননের রাশিদিয়েহ শরণার্থী শিবির থেকে আসা ফিলিস্তিনি। মঙ্গলবার ঘটা এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় তাদের ছয় বছর বয়সী আরেক কন্যাকে উদ্ধারকর্মীরা জীবিত উদ্ধার করলেও বর্তমানে সে হাসপাতালে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, পানিতে নামার পর পরিবারের এক শিশু মাছ ধরার জালে আটকে পড়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটি সম্ভবত ওই এলাকায় ক্যাম্পিং করছিল এবং একপর্যায়ে হার্বারে সবাই মিলে সাঁতার কাটতে নামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শোরহ্যাম হার্বারের সমুদ্রের তলদেশ হঠাৎ করেই অনেক গভীর হয়ে গেছে, যার ফলে সাঁতারুদের ভারসাম্য বজায় রাখা সেখানে বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।   মর্মান্তিক এই ঘটনায় ব্রিটেনে ফিলিস্তিনি ফোরাম ও ফিলিস্তিনি দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করার পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছোট মেয়েটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পুরো পরিবারটি বর্তমানে চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ নিহতদের স্বজনদের খবর দিয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।   এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এটি একটি চরম পারিবারিক ট্র্যাজেডি। সরকারের পক্ষ থেকে পানি নিরাপত্তা বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি গ্রীষ্মের দাবদাহে উন্মুক্ত জলাশয়ে সাঁতার কাটার বিপদ সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেন।   আবহাওয়া গরম থাকলেও উন্মুক্ত জলাশয়ের শীতল পানি যে হঠাৎ বিপদ ডেকে আনতে পারে, সে বিষয়ে তিনি জোর দেন। একই সঙ্গে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য জরুরি সেবাকর্মীদের প্রশংসাও করেন তিনি। ইস্ট ওয়ার্দিং এবং শোরহ্যামের সংসদ সদস্য টম রুটল্যান্ডও এই ঘটনায় স্থানীয়দের শোকাহত হওয়ার কথা জানিয়ে সমুদ্র উপকূলে সাঁতারের বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:১৭
যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হা মলার দুঃসাহস দেখালে সমান শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানবে তেহরান I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হা মলার দুঃসাহস দেখালে সমান শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানবে তেহরান

পর্তুগালে বোরকা-নিকাবসহ মুখঢাকা পোশাক পরলে গুনতে হবে ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা

পর্তুগালে বোরকা-নিকাবসহ মুখঢাকা পোশাক পরলে গুনতে হবে ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পর মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা কমাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইরান থেকে আমিরাতের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দাবি আবুধাবির; অভিযোগ অস্বীকার তেহরানের

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে দেশটির দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় আমিরাতজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলেও ক্ষেপণাস্ত্র দুটির কারণে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। পরে মূল্যায়নে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়ে থাকতে পারে। দুটিই শেষ পর্যন্ত সাগরে পড়ে। ঘটনার পর আমিরাতের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়। কিছু এলাকায় মোবাইল ফোনে নিরাপত্তা সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়। পরে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা জানিয়ে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফেরার আহ্বান জানায়।    তবে ইরান এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আমিরাতের বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ইরান থেকে ছোড়া হয়েছিল—এমন দাবি অস্বীকার করা হয়েছে।   ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৯ আগস্ট ঘোষণা করেছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত থাকবে। আবুধাবি বলেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের জন্য এই সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। দুবাই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও পুনঃরপ্তানি কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত হলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে সামরিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা তীব্র। ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে এবং তেলের সরবরাহ নিয়েও আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি—সংযুক্ত আরব আমিরাত বলছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ইরান থেকে ছোড়া এবং সমুদ্রপথের লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে ছিল; অন্যদিকে ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাই এটিকে নিশ্চিতভাবে ‘ইরানের আমিরাতের ভূখণ্ডে হামলা’ হিসেবে না লিখে ‘আমিরাতের দাবি, ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে’—এই ভাষা ব্যবহার করাই সবচেয়ে তথ্যনির্ভর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১২:৫৯
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাবেক প্রেমিকাকে হয়রানির ঘটনায় যুক্তরাজ্যে আসাদ হুসেইনকে (ডানে) আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

প্রেম ভাঙার প্রতিশোধে প্রেমিকার নামে ভুয়া টিন্ডার, যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে পাঠান একের পর এক পুরুষ

তুরস্কে ছুটি কাটাতে গিয়ে হোটেলের এক গায়কের সঙ্গে পরিচয় ও বিয়ের পর এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্রিটিশ নারী র‍্যাচেল ম্যাকে। ছবি: সংগৃহীত

ঘুরতে গিয়ে প্রেম, বিয়ে-সন্তানের পরও স্বামীকে যুক্তরাজ্যে নিতে পারছেন না ব্রিটিশ নারী

স্ত্রী হর্ষিতা ব্রেল্লার কাছ থেকে সম্পূর্ণ আনুগত্য চাওয়া পঙ্কজ লাম্বার বিরুদ্ধে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের পর স্বামীর নির্যাতনে খুন তরুণী, অভিযুক্ত স্বামী এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে

0 Comments