সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

নিউজার্সি

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ নিউজার্সির দম্পতি
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ নিউজার্সির দম্পতি, স্বজনদের আকুতি—‘ওদের ফিরিয়ে আনুন’

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা প্রলয়ংকরী বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির এক দম্পতি। স্থানীয় কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্লুমফিল্ডের বাসিন্দা বিমলভাই প্যাটেল এবং তাঁর স্ত্রী জৈমিনাবেন প্যাটেল একটি ধর্মীয় সফরে গিয়ে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েন। হঠাৎ ধেয়ে আসা বন্যা ও কাদার স্রোতে ওই এলাকার বহু ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এখনও অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   এই আকস্মিক নিখোঁজের খবরে ব্লুমফিল্ডে বসবাসরত প্যাটেল দম্পতির প্রতিবেশীরা চরম হতবাক হয়ে পড়েছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাগ্যক্রমে ওই দম্পতির ৯ বছর বয়সী ছেলে বর্তমানে ভারতে তার আত্মীয়দের কাছে সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছে।   নিখোঁজ দম্পতির সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এক আবেগঘন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "নেপাল সীমান্তের বন্যাদুর্গত এলাকায় আমার বোন ও ভগ্নিপতি নিখোঁজ রয়েছেন।   আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত উদ্ধারের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।" এদিকে, ব্লুমফিল্ডের মেয়র জেনি মান্ডেল এই সংকটময় মুহূর্তে প্যাটেল পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।   দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দলগুলোর জোর তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও নিখোঁজ মানুষের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। প্যাটেল দম্পতির পাশাপাশি এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন নিউইয়র্কের আরেক দম্পতি রমেশ শর্মা ও নীলম শর্মা।   তীর্থযাত্রায় গিয়ে তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় গত বুধবার সকাল থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁদের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
স্পেসএক্সের রকেট উৎক্ষেপণের সময় উচ্চ আকাশে সূর্যের আলোয় তৈরি হতে পারে জেলিফিশের মতো উজ্জ্বল ধোঁয়ার মেঘ। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক-নিউজার্সির আকাশে দেখা যেতে পারে ‘জেলিফিশ মেঘ’, ভোরে চোখে পড়তে পারে বিরল দৃশ্য

নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বাসিন্দাদের জন্য মঙ্গলবার ভোরে আকাশে দেখা যেতে পারে বিরল ও দৃষ্টিনন্দন এক মহাজাগতিক দৃশ্য। আকাশ পরিষ্কার থাকলে স্পেসএক্সের একটি রকেট উৎক্ষেপণের পাশাপাশি এর পেছনে তৈরি হওয়া উজ্জ্বল ‘জেলিফিশ মেঘ’ বা জেলিফিশের মতো দেখতে আলোকিত ধোঁয়ার বিস্তারও দেখা যেতে পারে।   মঙ্গলবার ভোরে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশনের স্পেস লঞ্চ কমপ্লেক্স-৪০ থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেট উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। এই মিশনের নাম ‘স্টারলিংক গ্রুপ ১০-৪৯’। এতে ২৯টি স্টারলিংক উপগ্রহ নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো হবে। উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় ভোর ৫টা ৩৩ মিনিট পূর্বাঞ্চলীয় সময়।   উৎক্ষেপণের পর রকেটটি উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে যাবে, মোটামুটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের সমান্তরাল পথে। ফলে ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও আশপাশের ত্রিরাজ্য এলাকায় থাকা মানুষজন আকাশে রকেটটির গতিপথ দেখতে পারেন। তবে এই দৃশ্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হতে পারে রকেটের পেছনে তৈরি হওয়া ‘জেলিফিশ’ আকৃতির আলোকিত মেঘ।   এটি আসলে কোনো মেঘ নয়। রকেটের ইঞ্জিন থেকে বের হওয়া গ্যাস ও ধোঁয়ার বিস্তৃত নির্গমন বা নিষ্কাশন ধারা উচ্চ বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের সময় মাটিতে তখনও অন্ধকার থাকলেও রকেট ও এর ধোঁয়ার অংশটি যখন অনেক ওপরে উঠে যায়, তখন তা সূর্যের সরাসরি আলো পেতে পারে। ফলে অন্ধকার আকাশের পটভূমিতে ধোঁয়ার বিস্তার উজ্জ্বল হয়ে জেলিফিশের মতো আকৃতি তৈরি করতে পারে।   এই ধরনের দৃশ্যকে সাধারণভাবে ‘জেলিফিশ ইফেক্ট’ বলা হয়। ভোর বা সন্ধ্যার কাছাকাছি সময়ে রকেট উৎক্ষেপণ হলে এ ধরনের আলোকিত নিষ্কাশন ধারা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। জুলাইতেও ফ্লোরিডায় একটি স্পেসএক্স উৎক্ষেপণের সময় একই ধরনের জেলিফিশ আকৃতির উজ্জ্বল দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। মঙ্গলবারের উৎক্ষেপণের জন্য আবহাওয়াও মোটামুটি অনুকূল থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে আকাশে মেঘের উপস্থিতি দৃশ্যটি কতটা পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে, সেটিতে প্রভাব ফেলতে পারে।   এই মিশনে ব্যবহৃত ফ্যালকন-৯ রকেটের প্রথম ধাপের বুস্টারটির নাম বি১০৬৭। এটি রকেটটির ৩৭তম মিশন হতে যাচ্ছে, যা ফ্যালকন-৯-এর পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। উৎক্ষেপণের পর প্রথম ধাপটি আটলান্টিক মহাসাগরে থাকা ‘এ শর্টফল অব গ্র্যাভিটাস’ নামের ড্রোন জাহাজে অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২৯টি স্টারলিংক উপগ্রহ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। এসব উপগ্রহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা দিতে ব্যবহৃত হয়।   তবে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বাসিন্দাদের জন্য এই উৎক্ষেপণের আকর্ষণ শুধু মহাকাশযাত্রা দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে ভোরের অন্ধকার আকাশে রকেটের উজ্জ্বল গতিপথ এবং তার পেছনে সূর্যের আলোয় আলোকিত বিশাল ধোঁয়ার বিস্তার একসঙ্গে দেখা যেতে পারে, যা অনেকটা আকাশে ভাসমান জেলিফিশের মতো দেখাবে।   উৎক্ষেপণের সময় বা দৃশ্যমানতা আবহাওয়া ও রকেটের প্রকৃত গতিপথের ওপর নির্ভর করবে। তাই আকাশ পরিষ্কার থাকলেও সব স্থান থেকে একই মাত্রায় দৃশ্যটি দেখা যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই।   সূত্র: পিক্স১১

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সির অ্যালায়না দুবার ক্যানসারকে হারিয়ে এবার ক্যানসার রোগীদের সেবায় নার্স হচ্ছেন
নিউ জার্সির অ্যালায়না দুবার ক্যানসারকে হারিয়ে এবার ক্যানসার রোগীদের সেবায় নার্স হচ্ছেন

হাইস্কুলের শেষ বছরটি সাধারণত পড়ালেখা, আড্ডা আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে কাটে। কিন্তু নিউজার্সির ১৭ বছর বয়সী কিশোরী অ্যালায়না রিওজি-বোডিনের গল্পটি ছিল একেবারেই ভিন্ন।   ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তার শরীরে স্টেজ টু 'হজকিনস লিম্ফোমা' বা এক ধরনের ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। সাঁতার ও ট্রায়াথলনের মতো কঠোর অ্যাথলেটিক অনুশীলনে থাকা একজন প্রাণবন্ত কিশোরীর জন্য এই খবরটি ছিল চরম হতাশাজনক।   রোগ নির্ণয়ের পর জীবন বাঁচবে কি না, আর কেমোথেরাপির কারণে নিজের প্রিয় চুলগুলো ঝরে যাবে কি না—এই দুই ভয় তাকে সবচেয়ে বেশি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। তবে ভেঙে না পড়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে চুল পড়া রোধে 'কোল্ড ক্যাপ' ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণের মতো সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন তিনি।   টানা আটটি কেমোথেরাপি সেশন শেষে অ্যালায়না প্রথমবার ক্যানসারমুক্ত হওয়ার সুখবর পান। কিন্তু এই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ক্যানসার আবারও ফিরে আসে, এবং এবার তা ছিল আরও আক্রমণাত্মক।   দ্বিতীয়বারের এই লড়াইয়ে কোল্ড ক্যাপ ব্যবহার সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাকে মাথার চুল ফেলে দিতে হয়। নতুন করে ইমিউনোথেরাপি ও কেমোথেরাপির পাশাপাশি তাকে একটি জটিল 'স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট' প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।   কঠিন এই সময়ে হাসপাতালের নার্সরা তার চিকিৎসা কক্ষটিকে টেলর সুইফটের থিমে সাজিয়ে ট্রান্সপ্লান্টের দিনটিকে রীতিমতো উৎসবমুখর করে তুলেছিলেন। নার্সদের এই অভাবনীয় মানসিক সমর্থন অ্যালায়নার যন্ত্রণাদায়ক সময়কে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল।   কঠিন এই লড়াই শেষে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অ্যালায়না চূড়ান্তভাবে তার চিকিৎসা সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত। নিজের অসুস্থতা ও হাসপাতালে কাটানো দিনগুলো তার জীবনের লক্ষ্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।   গত মে মাসে নার্সিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন পেডিয়াট্রিক অনকোলজি নার্স (শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় নিয়োজিত নার্স) হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি চান যে নার্সরা তাকে কঠিন সময়ে ভালোবেসে সুস্থ করে তুলেছেন, ঠিক সেভাবেই তিনি অন্যান্য ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়াবেন।   পাশাপাশি, বয়ঃসন্ধিকালীন ক্যানসার রোগীদের সহায়তা ও অনুপ্রেরণা জোগাতে তিনি 'অ্যালায়না জেইন ফাউন্ডেশন' নামে একটি সংস্থাও পরিচালনা করছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে অ্যালায়না এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং তার ভাষায়—তিনি এখন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দারুণভাবে উপভোগ করছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
নিজে বেঁচে ফিরেছিলেন, কিন্তু মেয়ের টানে আবার ধ্বংসস্তূপে ফিরে গিয়ে প্রাণ হারালেন নিউজার্সির এক মা
নিজে বেঁচে ফিরেছিলেন, কিন্তু মেয়ের টানে আবার ধ্বংসস্তূপে ফিরে গিয়ে প্রাণ হারালেন নিউজার্সির এক মা

কলম্বিয়ায় আঘাত হানা এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে নিজের মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির বাসিন্দা ম্যাগনোলিয়া গার্সিয়া লুগো। ধসে পড়া বাড়ি থেকে তিনি প্রথমে নিরাপদে বের হতে পেরেছিলেন। কিন্তু মেয়ে নাতালিয়া ভেতরে রয়ে গেছে বুঝতে পেরে তাকে উদ্ধারের জন্য আবারও সেই ধ্বংসস্তূপের দিকে ছুটে যান তিনি। দুর্ভাগ্যবশত, তখনই একটি ভারী দেয়াল ধসে পড়ে তাঁর ওপর, কেড়ে নেয় এই সাহসী মায়ের প্রাণ।   মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে ম্যাগনোলিয়ার পরিবার ও তাঁর স্থানীয় চার্চ কমিউনিটিতে। 'মার্সি চার্চ অব গড'-এর মিডিয়া লিড আনা কাস্ত্রো জানান, ভূমিকম্পের পরপরই ম্যাগনোলিয়ার স্বামী এই দুঃসংবাদ পান। ফোনে তাঁকে জানানো হয় যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে মা ও মেয়ে দুজনেই চাপা পড়েছেন এবং তাঁদের খোঁজ মিলছে না। চার্চের সহকারী যাজক অস্কার ফার্নান্দো কাস্ত্রো জানান, কলম্বিয়ায় বসবাসরত ম্যাগনোলিয়ার ভাই (যিনি নিজেও একজন যাজক) উদ্ধারকাজে সরাসরি সহায়তা করেন। দীর্ঘ তল্লাশির পর যখন ম্যাগনোলিয়াকে উদ্ধার করা হয়, ততক্ষণে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন।   গার্সিয়া লুগো পরিবার গত ২২ বছর ধরে নিউজার্সির ওই চার্চের নিবেদিতপ্রাণ সদস্য। মেয়ে নাতালিয়াকে নিয়ে ম্যাগনোলিয়া এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চার্চের বিভিন্ন কার্যক্রমে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণকে কমিউনিটির জন্য এক বিশাল ও অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন চার্চের নেতারা।   এদিকে, নিউজার্সির বার্গেনফিল্ডের মেয়র আরভিন আমাতোরিও জানিয়েছেন, শহর কর্তৃপক্ষ এই শোকসন্তপ্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে ও সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। জানা গেছে, বুধবার কলম্বিয়ার নিজ শহরেই ম্যাগনোলিয়ার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এক বুক শূন্যতা আর স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই পরিবারটিকে এখন তাদের মাতৃভূমি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার কঠিন লড়াই শুরু করতে হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডা থেকে নিখোঁজ, ১১ দিন পর ১২০০ মাইল দূরে নিউজার্সিতে মিলল কিশোরীর সন্ধান
ফ্লোরিডা থেকে নিখোঁজ, ১১ দিন পর ১২০০ মাইল দূরে নিউজার্সিতে এফবিআইয়ের হাতে উদ্ধার কিশোরী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে গত মাসে নিখোঁজ হওয়া ১৬ বছর বয়সী কিশোরী সোফিয়া কভারকে বাড়ি থেকে ১২০০ মাইলেরও বেশি দূরে নিউজার্সিতে নিরাপদে খুঁজে পাওয়া গেছে। গত ৩১ জুলাই গভীর রাতে বাড়ি থেকে চুপিসারে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। সোমবার সন্ধ্যায় সোফিয়ার বাবা রিক কভার ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, এফবিআই (FBI) তার মেয়েকে নিউজার্সিতে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পরিবার অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সুখবরটি পেয়েছে বলে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।   মেয়েকে ফিরে পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রিক কভার। তিনি বিশেষভাবে কলিয়ার কাউন্টি শেরিফ অফিস এবং গোয়েন্দা মারিসল রদ্রিগেজের নাম উল্লেখ করেন। এর পাশাপাশি, যেসব পরিচিত ও অপরিচিত মানুষ সোফিয়ার ছবি শেয়ার করেছেন, তার জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং নানা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন, তাদের সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এই বাবা। তিনি বলেন, হাজারো মানুষ তার মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বলেই আজ তাকে ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়েছে।   সংবাদমাধ্যম 'গালফ কোস্ট নিউজ নাউ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিক কভার জানান, দীর্ঘ ১১ দিন পর মেয়ের সাথে দেখা করতে যত দ্রুত সম্ভব তিনি নিউজার্সিতে উড়ে যাবেন। সোফিয়া নিউজার্সিতে তার বন্ধুদের সাথে অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে। তবে সে কীভাবে এতদূর পৌঁছাল এবং কবে নাগাদ তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। রিক আরও জানান, তারা ধীরে ধীরে পুরো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করবেন এবং ঠিক কী ঘটেছিল তা উদ্ঘাটন করবেন।   গত ৩১ জুলাই গোল্ডেন গেট এস্টেটসে অবস্থিত নিজ বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে সোফিয়াকে ভোরের দিকে অজানা কারণে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর থেকেই চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন তার বাবা। মেয়ে যে স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে, তা কোনোভাবেই মানতে রাজি ছিলেন না তিনি। মেয়েকে খুঁজে বের করতে অনলাইনে ও স্থানীয়ভাবে তিনি ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছিলেন। সেই সময় এক আবেগঘন বার্তায় তিনি সোফিয়াকে যেকোনো পুলিশ সদস্য বা নিরাপদ কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছে আশ্রয় নিয়ে বাড়ি ফিরে আসার আকুতি জানিয়েছিলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সেরা অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আইডাহো, ৫৯.৪১ নিয়ে দ্বিতীয় নিউজার্সি
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সেরা অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আইডাহো, ৫৯.৪১ নিয়ে দ্বিতীয় নিউজার্সি

বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে আর্থিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব। ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ওপর ৫১টি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড বিবেচনা করে তৈরি করা এই তালিকায় সবাইকে চমকে দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে একসময়ের নেতিবাচক পরিচিতি পাওয়া অঙ্গরাজ্য নিউজার্সি। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত স্কোর করে এই অঙ্গরাজ্যটি প্রমাণ করেছে কেন একে 'গার্ডেন স্টেট' বা বাগানের অঙ্গরাজ্য বলা হয়ে থাকে।   ওয়ালেটহাবের সমীক্ষায় মোট ৫৯.৪১ স্কোর পেয়েছে নিউজার্সি। জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সম্পত্তির ওপর উচ্চ কর থাকা সত্ত্বেও দেশের সর্বনিম্ন অপরাধের হার একে বসবাসের জন্য আদর্শ করে তুলেছে। পাশাপাশি, এখানকার উচ্চ গড় আয়, শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা এবং নিউইয়র্ক সিটি ও ফিলাডেলফিয়ার মতো বড় শহরের কাছাকাছি অবস্থান একে মানুষের কাছে ভীষণ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ডগলাস এলিম্যান-এর নিউজার্সি বিভাগের প্রধান লিসা পোগি জানান, মূলত শিল্পাঞ্চল ও তেল শোধনাগারের কারণে এই অঙ্গরাজ্যটি সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সমুদ্রসৈকত, পাহাড় ও ব্রডওয়ে থিয়েটারের অসাধারণ মেলবন্ধন এই অঙ্গরাজ্যটিকে অনন্য এক ভৌগোলিক সুবিধা এনে দিয়েছে।   তবে নিউজার্সিকে পেছনে ফেলে ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষস্থানটি দখল করে নিয়েছে আইডাহো। রিয়েল এস্টেট করের নিম্নহার, বাড়ির মালিকানার উচ্চহার এবং দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ গড় আয় বৃদ্ধির কারণে অঙ্গরাজ্যটি এক নম্বরে উঠে এসেছে। এছাড়া, ওয়াইওমিংয়ের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় নিরাপদ অঙ্গরাজ্য। শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো হলো যথাক্রমে উইসকনসিন, ম্যাসাচুসেটস এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার। অন্যদিকে, মাত্র ৪১.৪২ স্কোর নিয়ে তালিকার একেবারে তলানিতে রয়েছে নিউ মেক্সিকো। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় চরম পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অনিরাপদ অঙ্গরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
নিউজার্সিতে স্কুল বাসে ঘুমিয়ে পড়া শিশুকে ফেলে গেল চালক, উদ্ধার বাস ইয়ার্ডে
নিউজার্সিতে স্কুল বাসে ঘুমিয়ে পড়া শিশুকে ফেলে গেল চালক, উদ্ধার বাস ইয়ার্ডে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে সামার স্কুলে যাওয়ার পথে স্কুল বাসে ঘুমিয়ে পড়া ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে একা ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিশুর মা ওয়ান্ডা চ্যান্ডলার এই ঘটনার সুষ্ঠু জবাব দাবি করেছেন।   তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তার ছেলে সামার স্কুলের শেষ দিনের ক্লাসে যোগ দেওয়ার জন্য যথারীতি বাসে ওঠে।   কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পর স্কুল ডিস্ট্রিক্টের পক্ষ থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয় যে, তার ছেলে সেদিন স্কুলে পৌঁছায়নি। পরবর্তীতে ডিস্ট্রিক্টের বাস ইয়ার্ডে শিশুটিকে একা ঘোরাঘুরি করতে দেখে এক কর্মী তাকে উদ্ধার করেন।   ওয়ান্ডা চ্যান্ডলারের ভাষ্যমতে, স্কুলে যাওয়ার পথে তার ছেলে বাসে ঘুমিয়ে পড়েছিল। পরে ঘুম ভাঙলে সে নিজেকে সম্পূর্ণ ফাঁকা একটি বাসের ভেতর আবিষ্কার করে।   এরপর সে বাস থেকে নেমে ইয়ার্ডের ভেতর একা ঘুরতে থাকে। শিশুটি ঠিক কতক্ষণ সেখানে একা ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে পুরো ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ 'অগ্রহণযোগ্য' ও চরম গাফিলতি আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই মা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
নিউজার্সিতে অসচেতন চালকদের ধরতে গাছ সেজে পুলিশের অভিনব অভিযান, ফাঁদে পড়লেন ৭৪ চালক
নিউজার্সিতে অসচেতন চালকদের ধরতে গাছ সেজে পুলিশের অভিনব অভিযান, ফাঁদে পড়লেন ৭৪ চালক

গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে দুর্ঘটনা রোধে অভিনব এক কৌশল বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির ডানেলেন শহরের পুলিশ। ব্যস্ত রাস্তায় নজরদারি চালাতে রীতিমতো রাস্তার ধারের ঝোপঝাড় বা গাছের ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ডানেলেন বোরো পুলিশ বিভাগের পরিচালিত ছয় ঘণ্টার এই বিশেষ অভিযানে গাড়ি চালানোর সময় ফোন ব্যবহারের দায়ে মোট ৭৪ জন চালককে আটক করে জরিমানা করা হয়েছে।   শহরের নর্থ ওয়াশিংটন অ্যাভিনিউয়ের মতো একটি ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পথচারী ও যানবাহনের প্রচণ্ড ভিড় থাকা সত্ত্বেও যেসব চালক স্টিয়ারিংয়ে বসে ফোনের স্ক্রিনে মগ্ন ছিলেন, তারাই মূলত পুলিশের এই ফাঁদে পড়েন। অভিযানে এক পুলিশ কর্মকর্তা ঘিলি-স্টাইলের ক্যামোফ্লেজ স্যুট পরে একেবারে ঝোপঝাড়ের রূপ ধারণ করেন এবং দূরবীনের সাহায্যে রাস্তার ট্রাফিকের ওপর নজর রাখেন। কোনো চালককে ফোন ব্যবহার করতে দেখলেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে কাছাকাছি থাকা অন্য কর্মকর্তাদের সংকেত দিতেন এবং তারা গাড়িটি থামিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেন।   পরিস্থিতি আরও মজাদার করতে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা এমন একটি কালো টি-শার্ট পরেছিলেন, যার ওপর বড় করে লেখা ছিল 'নট আ কপ' (আমি পুলিশ নই)। পুলিশের মতে, যারা গাড়ি চালানোর চেয়ে ফোনে বেশি মনোযোগী, তারা চারপাশের এই অদ্ভুত বিষয়গুলোও খেয়াল করতে চরমভাবে ব্যর্থ হন। আর চালকদের এই অসচেতনতাই দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় কারণ।   ছয় ঘণ্টার মধ্যে ৭৪টি মামলা দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে যে, জনবহুল এলাকাতেও চালকদের মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা কতটা উদ্বেগজনক। রসিকতার ছলে হলেও এই অভিযানের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে চালকদের একটি কড়া ও বাস্তবমুখী বার্তা দিয়েছে ডানেলেন পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা গাড়ি থামানোর আগে কোনো টেক্সট বা নোটিফিকেশন চেক না করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সিতে ১১ বছরের বোনকে বাঁচাতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল ১০ বছরের ভাই, দুই দিন পর মিলল মরদেহ I ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউ জার্সিতে ১১ বছরের বোনকে বাঁচাতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল ১০ বছরের ভাই, দুই দিন পর মিলল মরদেহ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির প্যাসেক নদীতে সাঁতার কাটতে নেমে নিখোঁজ হওয়া ১০ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার প্যাসেক শহরের মেয়র হেক্টর লোরা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নদীর তীরবর্তী একটি ভবনের এক দম্পতি পানিতে সন্দেহজনক কিছু ভাসতে দেখে দ্রুত ৯১১ নম্বরে কল করেন। এরপরই উদ্ধারকারী ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।   ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বুধবার, যখন ওই কন্যাশিশু তার দুই বন্ধুর (এক ভাই ও বোন) সঙ্গে পুলাস্কি পার্কের কাছে নদীতে নেমেছিল। মেয়র জানান, সাঁতার কাটার একপর্যায়ে ১১ বছর বয়সী বোনটি পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে ১০ বছর বয়সী ভাইটিও পানিতে তলিয়ে যায়। বোনটি কোনোমতে পানি থেকে উঠে এসে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে সক্ষম হলেও ভাইটি নিখোঁজ হয়। নদীতে নামার স্থান থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে, ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   এই মর্মান্তিক ঘটনার সময় এক সহৃদয় ব্যক্তি শিশুদের বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু নদীর প্রবল স্রোতের কারণে তিনি তাদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। প্যাসেক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের নেতৃত্বে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে প্যাসেক কাউন্টি শেরিফ অফিসের নৌকা ও স্কুবা ডাইভ দলও অংশ নিয়েছিল। তবে ঝড়ের কারণে নদীর পানি বেড়ে যাওয়া এবং অন্ধকারের কারণে নিখোঁজ কন্যাশিশুটির অনুসন্ধান কাজ চরমভাবে ব্যাহত হয়েছিল। নিহত শিশুদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় মেয়র হেক্টর লোরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সবাইকে তাদের জন্য প্রার্থনা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউজার্সিতে নিজ বাড়িতে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর ফেডারেল এজেন্টের আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে নিজ বাড়িতে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর নিজেই বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন এক মার্কিন ফেডারেল এজেন্ট। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে নিউজার্সির সেয়ারভিল এলাকার একটি বাড়িতে। মিডলসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে ৪৬ বছর বয়সী কেলি আইটাউরোকে তাদের বাড়ির ভেতরে গুলিবিদ্ধ ও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।   অন্যদিকে, ৫২ বছর বয়সী স্বামী ক্রিস্টোফার আইটাউরোর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বাড়ির পেছনের উঠান থেকে। ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রীকে হত্যার পর তিনি নিজেই নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটিকে একটি 'মার্ডার-সুইসাইড' বা হত্যা ও আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে, যেখানে ক্রিস্টোফারকেই মূল সন্দেহভাজন শুটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রাপ্ত রেকর্ড অনুযায়ী, ক্রিস্টোফার আইটাউরো মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন স্পেশাল বা বিশেষ এজেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সেয়ারভিল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার সকল বাসিন্দাকে সাময়িকভাবে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেয়। সেসময় অন্তত ৪০ মিনিটের জন্য রাস্তাটির একাংশ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল।   এদিকে, এই আকস্মিক ও নির্মম ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন নিহত কেলির ননদ, যেখানে তিনি কেলির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের কথাও জানান। ফেসবুকে তিনি লেখেন, "শুক্রবার আমার সুন্দর মনের ভাবি কেলিকে আমাদের কাছ থেকে চরম অমানবিক ও আকস্মিকভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।" কেলিকে একজন অত্যন্ত দয়ালু, সহানুভূতিশীল ও অসাধারণ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, যারাই কেলির সান্নিধ্য পেয়েছেন, তাদের সবার মাঝেই তিনি এক চিরস্থায়ী ইতিবাচক ছাপ রেখে গেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা । ছবি: সংগৃহীত
চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে মেধা তালিকায় চার বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থী

নিউজার্সির আটলান্টিক সিটিতে অবস্থিত আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলের ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের ব্যাচে চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় স্থান অর্জন করে কমিউনিটির জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।   মঙ্গলবার ঐতিহাসিক জিম হুইলান বোর্ডওয়াকে আয়োজিত গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে মিলনায়তন মুখর হয়ে ওঠে। চার বছরের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের পর শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটে ওঠে সাফল্যের আনন্দ।   অনুষ্ঠানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করা হলে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।   স্কুলের মেধা তালিকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরফিন আশিয়া দ্বিতীয়, সুমাইয়া তাসসুম চতুর্থ, সেন চৌধুরী সপ্তম এবং রাহাত রহমান নবম স্থান অর্জন করেন।   অনুষ্ঠানের সূচনা হয় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। পরে শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রাসহ নির্ধারিত আসনে বসেন এবং পর্যায়ক্রমে মঞ্চে উঠে ডিপ্লোমার প্রতীকী কপি গ্রহণ করেন।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল ড. কনস্ট্যান্ট। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট ড. স্মল, স্কুল বোর্ডের সদস্যবৃন্দ এবং সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা।   শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে শুধু অভিভাবকরাই নয়, পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরা বলেন, বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থীদের এই অর্জন প্রমাণ করে যে অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।   কমিউনিটির নেতারা মনে করেন, এই কৃতিত্ব শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর নয়, বরং পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের গর্ব। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে তারা উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।

Unknown জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউজার্সির প্রাইমারি নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুব্রত চৌধুরী ও লাকী চৌধুরী | ছবি: সংগৃহীত
নিউজার্সির প্রাইমারি নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুব্রত ও লাকী চৌধুরীর জয়

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুব্রত চৌধুরী ও লাকী চৌধুরী। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারা আটলান্টিক কাউন্টির ডেমোক্র্যাটিক কমিটি পারসন পদে জয়লাভ করেন।   এই বিজয়ের মাধ্যমে সুব্রত চৌধুরী টানা চতুর্থবারের মতো ডেমোক্র্যাটিক কমিটি পারসন হিসেবে নির্বাচিত হলেন। অন্যদিকে লাকী চৌধুরী একই পদে দ্বিতীয়বারের মতো জয় অর্জন করেছেন।   নির্বাচনে বিজয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় এই দম্পতি তাদের প্রতি আস্থা রাখার জন্য আটলান্টিক কাউন্টির ভোটারদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।   সুব্রত চৌধুরী বাংলাদেশের চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই গ্রামের বাসিন্দা। ২০১২ সালে তিনি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। বর্তমানে তিনি আটলান্টিক কাউন্টি গভর্নমেন্টের হিউম্যান সার্ভিসেস স্পেশালিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।   পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি কমিউনিটি সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তিনি আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি এবং একজন ছড়াকার, কবি ও অনুবাদক হিসেবেও পরিচিত। বর্তমানে তিনি আটলান্টিক সিটি স্কুল বোর্ডের নির্বাচিত সদস্য এবং প্রথম এশিয়ান-আমেরিকান হিসেবে আটলান্টিক কাউন্টির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবিষয়ক পরামর্শক পর্ষদে তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি আটলান্টিক সিটি ফ্রি পাবলিক লাইব্রেরির ট্রাস্টি বোর্ডেরও সদস্য।   অন্যদিকে লাকী চৌধুরী চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার উত্তর ভূর্ষি গ্রামের বাসিন্দা। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পর বর্তমানে তিনি আটলান্টিক সিটি গভর্নমেন্টের মার্কেন্টাইল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগে কর্মরত রয়েছেন।   পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় মূলধারার রাজনীতি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তার অংশগ্রহণ তাকে স্থানীয় কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।   বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই দম্পতির পুনর্নির্বাচন নিউজার্সিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক মাফিয়া কাউন্সিলম্যান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির এক কাউন্সিলম্যানকে চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জন অ্যালাইট (৬৩) নামের এই ব্যক্তি একসময় কুখ্যাত মাফিয়া চক্রের হয়ে কাজ করতেন এবং নিজের মুখে একাধিক খুনের কথা স্বীকারও করেছিলেন। শুক্রবার নিউজার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ইংলিশটাউনের কাউন্সিলম্যান অ্যালাইটের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি, কর্পোরেট অসদাচরণসহ আরও বেশ কিছু আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।   কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অ্যালাইট আইনি সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে বেশি সুদে লোকজনকে ঋণ দিতেন। কেউ টাকা বা সম্পদ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর পাশবিক সহিংসতার হুমকি দেওয়া হতো। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অবৈধ চাঁদাবাজির স্কিম বা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে অ্যালাইট তাঁর 'স্ট্রেইটেন্ড-আউট এন্টারটেইনমেন্ট ইনকর্পোরেটেড' নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও ব্যবহার করেছিলেন।   নিউজার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট এই গ্রেপ্তারের বিষয়ে বলেন, অপরাধ বিচার বিভাগ এবং নিউজার্সি স্টেট পুলিশের কঠোর তদন্ত ও আন্তরিক সহযোগিতার ফলেই এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে এবং চুরি করে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।   নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে উঠে আসা আলবেনিয়ান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত অ্যালাইট দীর্ঘদিন ধরেই সংঘবদ্ধ অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কুখ্যাত 'গোট্টি' এবং 'গাম্বিনো' ক্রাইম ফ্যামিলির শীর্ষ এনফোর্সার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৫ সালে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাফিয়া জীবন ছাড়ার বিষয়ে কথা বলেছিলেন অ্যালাইট। সেখানে তিনি ১৫টি খুন, ৩০-৪০ জনকে গুলি করা এবং শতাধিক মানুষকে পাইপ ও বেসবল ব্যাট দিয়ে পেটানোর রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন।   একটি সংঘবদ্ধ খুনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, কথাবার্তা চলার মাঝেই তিনি ওই ব্যক্তির মাথায় দুই-তিনটি গুলি করেন এবং তারপর তার ওপর থুথু ফেলেন। এটি তার কাছে বেসবল খেলা দেখতে যাওয়ার মতোই সাধারণ বিষয় ছিল এবং খুন করার পর তিনি বাইরে গিয়ে ডাবল চিজবার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও কোক খেয়েছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের কারাগারে ১৪ বছরেরও বেশি সময় বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে অ্যালাইট মাফিয়া চক্রের সঙ্গে তাঁর অতীতের সব সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। এরপর তিনি 'ক্যাচ মি অন দ্য রান' নামে একটি জনপ্রিয় পডকাস্টও চালু করেন, যেখানে তিনি মাফিয়া জীবনের নানান অজানা গল্প এবং পুলিশের হাত থেকে পালানোর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেন।   এছাড়াও একাধিক বই ও তথ্যচিত্রে তাঁর জীবনের গল্প উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ইংলিশটাউনের মেয়র ড্যানিয়েল ফ্রান্সিসকো তাঁকে কাউন্সিলম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। সে সময় অ্যালাইট গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ফেন্টানাইলের ওভারডোজে মেয়ের মৃত্যুর পর তিনি সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে চান। তিনি আরও বলেছিলেন, তিনি তো আর এখন অপরাধী নন, বরং সবকিছু সঠিক পথে পরিচালনার এক মিশনে নেমেছেন। তবে সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁর সেই দাবির সত্যতা নিয়ে ফের বড় ধরনের প্রশ্ন উঠল।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
বিজনেস অ্যান্ড কমিউনিটি পার্টনারশিপ’ পুরস্কার গ্রহণ করছেন আফসানা আনজুম । ছবি: সংগৃহীত
নিউজার্সিতে ‘বিজনেস অ্যান্ড কমিউনিটি পার্টনারশিপ’ পুরস্কারে পেলেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা আফসানা আনজুম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে আবাসন নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বিজনেস অ্যান্ড কমিউনিটি পার্টনারশিপ’ পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা আফসানা আনজুম। শনিবার রাতে ইটন টাউনের শেরাটন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টারের ১৪তম গালা অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।   আফসানা আনজুম নিউজার্সিভিত্তিক নির্মাণ ও পরিবেশগত পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান ‘তাহশিন কনস্ট্রাকশন’-এর মালিক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি দুই হাজারের বেশি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।   বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি থেকে সিসা ও অ্যাসবেস্টস অপসারণ কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য সুনাম অর্জন করেছে।   অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তাহশিন কনস্ট্রাকশন বর্তমানে নিউজার্সির ১৫টি অনুমোদিত সংস্থার জন্য সিসা দূষণ অপসারণ ও পুনর্বাসনের কাজ করছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি অঙ্গরাজ্য অনুমোদিত অ্যাসবেস্টস অপসারণকারী ঠিকাদার এবং ‘লেড ইন্সপেক্টর’ হিসেবেও স্বীকৃত।   আটলান্টিক কাউন্টিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিবারগুলোর নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে আফসানা আনজুম দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। হারিকেন স্যান্ডির পর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের উন্নয়ন ও বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলাতেও তার সক্রিয় ভূমিকার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নিউজার্সির সিনেটর ও অ্যাসেম্বলিম্যানদের পক্ষ থেকেও তাকে বিশেষ মানপত্র প্রদান করা হয়। আফসানা আনজুম বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ডিগ্রিধারী এবং চার সন্তানের জননী। তার স্বামী জহিরুল ইসলাম বাবুলের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাউথ জার্সির বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়ন, নিরাপদ আবাসন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছেন।   তার এই অর্জনে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।  

Unknown মে ১০, ২০২৬ ১৪:০
নিউজার্সিতে বৈশাখী মেলায় প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা । ছবি: সংগৃহীত
নিউজার্সিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের বৈশাখী মেলা, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রাণময় উৎসব

প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড়কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজার্সি–এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক টুকরো বাংলাদেশে।   শনিবার, ৯ মে নিউজার্সির কল্টস নেক শহরে দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে রঙিন পোশাক, বাংলা গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও লোকজ সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবারসহ অংশ নিয়ে বৈশাখী আনন্দ ভাগ করে নেন।   অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি ফায়জুর রহমান সাবু। তিনি বলেন, প্রবাসে ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং কমিউনিটির ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।   বক্তারা বলেন, বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। প্রবাসে এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।   অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তিত্ব বক্তব্য রাখেন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রীনা আমানুল্লাহ, ডা. ফারুক আজম, শামীমা হোসেন লিপি, মেহের নিগার, শামীম, নাজনীন হোসেইন, মারুফ আলম, ডা. বিল্লা এবং ডা. মনোয়ার হোসেন।   আয়োজনে একটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মনোয়ার হোসেনকে সংবর্ধনা প্রদান। দীর্ঘদিন কমিউনিটি নেতৃত্বে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে সম্মাননা জানানো হয়। একই সঙ্গে ডা. লুসি হোসেনকেও তাঁর অবদানের জন্য সম্মান জানানো হয়।   আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন প্রবাসী শিল্পীরা। বাংলা গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তিতে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা। শিশুদের পরিবেশনা বিশেষভাবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, এই ধরনের আয়োজন কেবল উৎসব নয়, বরং বাংলা সংস্কৃতি ও পরিচয় ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।  

Unknown মে ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টিক সিটিতে বিএএসজের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সির উদ্যোগে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে।   রোববার (৩ মে) রাতে স্থানীয় বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই জার্সি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, আগামী ১০ মে রোববার সকাল ৯টায় আটলান্টিক সিটির বদর ফিল্ডে টুর্নামেন্টটি শুরু হবে। বিএএসজের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মোট আটটি দল অংশ নিচ্ছে।   তাদের মতে, এই আয়োজনের লক্ষ্য হচ্ছে ক্রিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলা।   টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র।   বিএএসজের সভাপতি জহিরুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম খোকা, ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি আবদুর রফিক, টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক শাহ মাহমুদ এবং সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম ক্রীড়াপ্রেমী ও কমিউনিটির সদস্যদের এই আয়োজন উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাবাস্সুম মে ৩, ২০২৬ ১৪:০
এনালিলিয়া মেহিয়া
নিউ জার্সির বিশেষ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এনালিলিয়া মেহিয়ার বিশাল জয়

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ১১তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের বিশেষ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী এনালিলিয়া মেহিয়া (Analilia Mejia)। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জো হ্যাথাওয়েকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি এখন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নতুন সদস্য। সাবেক কংগ্রেস সদস্য মিকি শেরিল নিউ জার্সির গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় এই আসনটি শূন্য হয়েছিল। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মেহিয়া প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয় নিশ্চিত করেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী হ্যাথাওয়ে পেয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট। বিজয় পরবর্তী ভাষণে উচ্ছ্বসিত মেহিয়া বলেন, "আমি এখানে কারো সাথে খেলার জন্য আসিনি, আমি এসেছি মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করতে। এটি বাম বা ডানের লড়াই নয়, এটি ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াই।" এনালিলিয়া মেহিয়া একজন কট্টর প্রগতিশীল রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তিনি বার্নি স্যান্ডার্স এবং আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের মতো নেতাদের সমর্থন পেয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি মূলত নিম্নবিত্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন সুবিধা এবং ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধির মতো প্রগতিশীল ইস্যুগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বেশ আলোচিত হয়েছিলেন। এই জয়ের ফলে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসন সংখ্যা আরও একটি বাড়লো, যা বর্তমানে রিপাবলিকানদের ক্ষীণ সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। মেহিয়া আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত এই মেয়াদের বাকি সময়টুকু দায়িত্ব পালন করবেন এবং আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আবারও পূর্ণ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে মন্দার প্রভাবে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতেই বাড়ির দাম কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শহরে সবচেয়ে দ্রুত কমছে বাড়ির দাম, ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০