- প্রচ্ছদ
- Topic
মানবিক সহায়তা
পর্তুগালের হোসে মেস্ত্রের মুখের এক পাশ ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলেছিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা বিশাল এক টিউমার। ঠোঁট থেকে শুরু করে মুখের বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই টিউমারের কারণে তিনি এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। শ্বাস নিতে কষ্ট হতো, খাবার খাওয়াও হয়ে উঠেছিল কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে গিয়েও কার্যকর সমাধান পাননি তিনি। একসময় তাঁর চিকিৎসার সম্ভাবনা প্রায় শেষ বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু লিসবনের রাস্তায় এক অচেনা ব্রিটিশ পর্যটকের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তাঁর জীবনে নতুন আশার সূচনা হয়। ১৯৫০-এর দশকে জন্ম নেওয়া মেস্ত্রের মুখে জন্মগত রক্তনালির অস্বাভাবিকতা ছিল। কৈশোরে, প্রায় ১৪ বছর বয়স থেকে, সেটি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের সমস্যাকে ভাসকুলার ম্যালফরমেশন বা রক্তনালির গঠনগত ত্রুটি বলা হয়। তাঁর মুখের টিউমারটি সময়ের সঙ্গে এত বড় হয়ে ওঠে যে ঠোঁট, মুখ ও জিহ্বার স্বাভাবিক গঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, রক্তপাত ও অন্যান্য জটিলতার কারণে তাঁর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মেস্ত্রের চিকিৎসার জন্য পর্তুগালের পাশাপাশি স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের চিকিৎসাকেন্দ্রেও পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। তবে রোগের জটিলতা এবং অস্ত্রোপচারের ঝুঁকির কারণে চিকিৎসা নিয়ে একমত হওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসও চিকিৎসার সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছিল। মেস্ত্রে ও তাঁর মা রক্ত সঞ্চালন নিয়ে আপত্তি করতেন। ফলে এমন একটি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না, যেখানে অতিরিক্ত রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল। মায়ের মৃত্যুর পর ছোট বোন এডিথ আব্রেউ তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি নতুন করে সাহায্য খুঁজতে থাকেন। এ সময় ‘পিটার’ নামে পরিচিত এক ব্রিটিশ পর্যটক লিসবনের রাস্তায় মেস্ত্রেকে দেখেন। এর আগে মুখের জটিল টিউমার নিয়ে অস্ত্রোপচারের একটি তথ্যচিত্র দেখেছিলেন তিনি। সেই সূত্রে চিকিৎসক ম্যাককে ম্যাককিননের কথা মনে পড়ে তাঁর। পরে ই-মেইলের মাধ্যমে মেস্ত্রের চিকিৎসার বিষয়ে যোগাযোগের উদ্যোগ নেন ওই পর্যটক। মেস্ত্রের পরিবার তাঁকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করত বলে সে সময়ের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০১০ সালে মেস্ত্রে ও তাঁর বোন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে যান। সেখানে সেন্ট জোসেফ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ম্যাককে ম্যাককিনন এবং তাঁর দল কয়েক ধাপে অস্ত্রোপচার করেন। প্রথমে শ্বাস নেওয়ার পথ নিরাপদ করা হয় এবং টিউমারের বড় অংশ অপসারণ করা হয়। পরবর্তী অস্ত্রোপচারগুলোতে মুখ, নাক ও মুখগহ্বরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠনের কাজ চলে। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাঁকে কয়েক মাস শিকাগোয় থাকতে হয়েছিল। অস্ত্রোপচার ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। টিউমারটি রক্তনালিতে ভরা থাকায় অতিরিক্ত রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল। চিকিৎসকদের লক্ষ্য ছিল শুধু টিউমার অপসারণ নয়, মেস্ত্রের শ্বাস নেওয়া, খাবার খাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের সক্ষমতাও ফিরিয়ে আনা। চিকিৎসার পর তাঁর মুখের চেহারায় বড় পরিবর্তন আসে। তবে অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব সমস্যা দূর হয়ে যায়নি। ক্ষত সারানো, মুখের গঠন পুনর্গঠন এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতা কাটিয়ে ওঠার জন্য আরও সময় প্রয়োজন ছিল। মেস্ত্রের জীবনের এই অধ্যায় শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির গল্প নয়, অপরিচিত একজন মানুষের উদ্যোগ কীভাবে অন্যের জীবনে পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে, তারও উদাহরণ। যাঁরা আগে তাঁর মুখের দিকে কৌতূহল নিয়ে তাকাতেন, তাঁদের আচরণে তিনি প্রায়ই অস্বস্তিতে পড়তেন বলে সে সময়ের প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে। অস্ত্রোপচারের পর তিনি বাইরে বের হতে এবং মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতে আগের তুলনায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পে তাঁর নামে প্রচারিত ‘আমার মুখ কুৎসিত, কিন্তু মন নয়’ বক্তব্যটির নির্ভরযোগ্য মূল উৎস নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এটিকে তাঁর যাচাই করা সরাসরি উদ্ধৃতি হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। নিশ্চিতভাবে জানা যায়, মেস্ত্রে দীর্ঘদিন একটি জটিল জন্মগত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেছেন এবং ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর মুখের বড় টিউমার অপসারণ করা হয়। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোসে মেস্ত্রে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মারা যান। তাঁর জীবন ও চিকিৎসার গল্প আজও মানুষের সহমর্মিতা, চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার এবং শারীরিক ভিন্নতার কারণে কাউকে অবজ্ঞা না করার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। সূত্র: এবিসি নিউজ, এবিসি৭ শিকাগো, পর্তুগালের Notícias ao Minuto।
ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরের ১০ লাখ ডলারের অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউব তারকা ও শিশুদের শিক্ষামূলক কনটেন্ট নির্মাতা মিস র্যাচেল। তাঁর আসল নাম র্যাচেল অ্যাকুরসো। ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য কাজ করা একটি ত্রাণ সংস্থায় এই অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ১৭ সেপ্টেম্বর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে মিস র্যাচেল জানান, ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় ম্যাকলমোরের অনুদানের সঙ্গে সমপরিমাণ অর্থ দিতে চান তিনি। তাঁর অনুদান যাবে প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ডে, যা ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে। মিস র্যাচেল তাঁর পোস্টে শিশুদের সুরক্ষা ও মানবাধিকারের পক্ষে জনপরিচিত ব্যক্তিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি অন্য ধনী তারকাদেরও একই ধরনের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ইউটিউবে শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান তৈরি করে পরিচিতি পাওয়া মিস র্যাচেলের ২১ মিলিয়নের বেশি গ্রাহক রয়েছে। ম্যাকলমোর গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’-এ উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে পাওয়া তাঁর ১০ লাখ ডলারের আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ছয়টি সংগঠনের মধ্যে দান করবেন। এই ঘোষণা আসে তাঁকে শিরানের যুক্তরাষ্ট্রের সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর। এর আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি কনসার্টে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বক্তব্য দেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন। পরে তাঁর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয় এবং তাঁকে এড শিরানের সফরের বাকি অনুষ্ঠানগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়। ম্যাকলমোরের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন গায়িকা পিংকও। তিনি ইহুদি দর্শকদের অনুভূতির বিষয়টি তুলে ধরে ম্যাকলমোরের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি ২০১৪ সালে ম্যাকলমোরের একটি বিতর্কিত পোশাক পরার ঘটনাও উল্লেখ করেন। ওই ঘটনার জন্য ম্যাকলমোর তখন প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন। পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে ম্যাকলমোর ইহুদি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে ইহুদিদের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বার্তা শান্তি, ভালোবাসা এবং সব মানুষের মর্যাদা, সম্মান ও সমতার পক্ষে। এদিকে এড শিরান জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর একক সিদ্ধান্ত ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের মালিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর চাপের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিরান একই সঙ্গে বলেছেন, সংঘাত নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মত রয়েছে, তবে তিনি সেগুলো প্রকাশ্যে না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের আরও কয়েকজন সহযোগী শিল্পী সফরের বাকি অংশ থেকে সরে দাঁড়ান। তাদের মধ্যে ফিনিয়াস, অ্যারন রো, লুকাস গ্রাহাম ও বিওগা রয়েছেন। ম্যাকলমোরের অনুদানের ঘোষণার পর মানবিক সহায়তায় অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিরান ও নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটও। প্রত্যেকে ২০ লাখ ডলার করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের অর্থ কোন কোন সংস্থার মাধ্যমে দেওয়া হবে, তা সব ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়। মিস র্যাচেলের অনুদানের ফলে ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় ম্যাকলমোরের উদ্যোগটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে গাজা ও ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য মানবিক সহায়তায় বিনোদন জগতের পরিচিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ন্যাশনাল
এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া নিজের পুরো ১০ লাখ ডলার নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোর। ট্যুরের উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে পাওয়া এই অর্থ ছয়টি সংস্থার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর পর রবার্ট ক্রাফট জানিয়েছেন, এড শিরান ও তিনি প্রত্যেকে ২০ লাখ ডলার করে ওই অঞ্চলের মানবিক সহায়তায় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফিলিস্তিনের পক্ষে মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার পর এড শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের বাকি অংশ থেকে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই ঘোষণা এলো। ম্যাকলমোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি আলোচনাকে আবার ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে চান। ম্যাকলমোর জানান, তাঁর ১০ লাখ ডলারের পুরো নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সরাসরি সহায়তা করা ছয়টি সংস্থাকে দেওয়া হবে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড, হিল প্যালেস্টাইন, গাজা স্যুপ কিচেন, মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস, ইউএনআরডব্লিউএ ইউএসএ ন্যাশনাল কমিটি এবং আনেরা। ম্যাকলমোর একই সঙ্গে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক ও গিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটকে তাঁর অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রাফট একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি জানান, এড শিরান তাঁকে ফোন করে ২০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে অনুরোধ করেছিলেন এবং তিনি সেই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্রাফট নিজেও আরও ২০ লাখ ডলার দেওয়ার কথা জানান। ক্রাফটের বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যাকলমোরের প্রকাশ্য আহ্বানের আগেই শিরানের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, মানবিক সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহায়তার অংশ হিসেবে শিরান ২০ লাখ ডলার দিতে চেয়েছেন এবং তিনি নিজেও একই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিরান অন্যান্য স্টেডিয়াম মালিকের সঙ্গেও এ ধরনের সহায়তা নিয়ে যোগাযোগ করবেন বলেও ক্রাফট জানান। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের সঙ্গে সফরের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানান এবং গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের পর ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি আবেদন শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ম্যাকলমোর জানান, সফরের কয়েকটি ভেন্যুর মালিক তাঁকে সঙ্গে রেখে অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অবস্থান নিয়েছেন। সফরের প্রোমোটার মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপও জানায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে বাকি অনুষ্ঠানগুলোতে ম্যাকলমোর আর অংশ নেবেন না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, কয়েকজন স্টেডিয়াম মালিক তাঁর অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন। এড শিরান পরে স্পষ্ট করেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সফরের প্রোমোটার ও ভেন্যু কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভেন্যু ও প্রোমোটারের সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়। ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের বাকি উদ্বোধনী শিল্পীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফিনিয়াস, লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো এবং বেওগা সফরের বাকি অংশ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁরা ম্যাকলমোরের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন এবং শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে আনেন। রবার্ট ক্রাফট অবশ্য ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, ম্যাকলমোরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাশাপাশি অতীতে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগও সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল। ম্যাকলমোর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, এই অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন। ম্যাকলমোরের ট্যুর থেকে বাদ পড়ার ঘটনাটি এখন সংগীতাঙ্গনের বাইরেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিল্পীদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় কলিন ক্যাপারনিকও ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মানবিক সহায়তার বিষয়টি। ম্যাকলমোর তাঁর ট্যুরের আয় থেকে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে ক্রাফটের বিবৃতি অনুযায়ী, শিরান ও ক্রাফটের পক্ষ থেকে আরও ৪০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এসেছে। ফলে তিন পক্ষের ঘোষিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে মোট ৫০ লাখ ডলার। তবে এই অর্থের ব্যবহার ও কোন কোন সংস্থা তা পাবে, বিশেষ করে শিরান ও ক্রাফটের ঘোষিত ৪০ লাখ ডলারের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান-
ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের কাছে পাঠানো এক বার্তায় এ প্রস্তাব দেন। বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই বার্তায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, এই দুর্যোগের সময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য জরুরি ত্রাণ, চিকিৎসা সামগ্রী ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা পাঠাতে ইরান প্রস্তুত। তিনি ভূমিকম্পকে একটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ ঐক্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। বুধবার রাতে ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ এবং বহু ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নয় বছর পার হলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত ৩৩টি শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠী বসবাস করছে। মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এই জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার মধ্যে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি অন্যতম। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় সহায়তা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে শরণার্থীদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে সীমিত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় তরুণদের বড় একটি অংশ বেকার সময় কাটাচ্ছে। এতে মানবপাচার, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন। শিবির এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধচক্রের সক্রিয়তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। খুন, অপহরণ, সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি মাঝে মাঝে জটিল হয়ে উঠছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং কম মজুরিতে শ্রম দিতে রাজি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি জনসংখ্যার চাপের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবেশগত প্রভাবও উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে। শরণার্থী বসতি স্থাপনের কারণে বনভূমি উজাড় এবং পাহাড় কাটার ঘটনা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকার কক্সবাজারের চাপ কমাতে বঙ্গোপসাগরের ভাসানচরে আবাসন প্রকল্প চালু করেছে। সেখানে ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ স্থানান্তর করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভাসানচরে আবাসন, দুর্যোগ সুরক্ষা এবং জীবিকাভিত্তিক কিছু কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে। এদিকে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জীবিকায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্যেই সম্ভব। বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে এবং যাচাইকৃত তালিকাও মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই মানবিক সংকট বহন করায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভূমিকা পালন করে আসছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর উদ্যোগ এবং সমন্বিত কূটনৈতিক চাপ জরুরি। ততদিন পর্যন্ত মানবিক সহায়তা, পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সহায়তা বৃদ্ধি এই সংকট ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে ইরান ও লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তার অংশ হিসেবে বেইজিং এই সহায়তা প্রদান করবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান রাজধানী বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরান ও লেবাননের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে চীন গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চীন ইরান ও লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশ দুটির জনগণকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা করার পাশাপাশি অর্থনীতি ও জীবিকার উন্নয়নে সহযোগিতা করা হবে।” চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এই সহায়তার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মানবিক সংকট মোকাবিলা নয়, বরং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন কার্যক্রমকে সহায়তা করা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো তেহরানের জন্য মানবিক সহায়তা ঘোষণা করল বেইজিং। এর আগে মার্চ মাসেও চীন ইরানের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছিল। এদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সমঝোতার আলোচনা চলছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসান ও সমঝোতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। চীনের এই সহায়তা ঘোষণাকে বিশ্লেষকরা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বেইজিংয়ের সক্রিয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতির অংশ হিসেবে দেখছেন।
কানাডা ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন করে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। শুক্রবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘প্যারিস কল ফর দ্য টু-স্টেট সল্যুশন’ সম্মেলনে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Anita Anand এ ঘোষণা দেন। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এবং ভবিষ্যতে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নেন। কানাডার বৈশ্বিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন এই সহায়তা জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করা বেসরকারি মানবিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। এই অর্থের মাধ্যমে গাজা ও পশ্চিম তীরের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা, খাদ্য, পুষ্টি সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে এসব অঞ্চলে মানবিক চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে আসছে। নতুন এ বরাদ্দের ফলে ফিলিস্তিনিদের জন্য কানাডার মোট সহায়তার পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতি এবং পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার সংকট বাড়তে থাকায় কানাডা ধারাবাহিকভাবে সহায়তা বাড়িয়ে আসছে। এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জোরদার করার চেষ্টা করছে। এর এক দিন আগে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা যৌথভাবে একটি নতুন আন্তর্জাতিক শান্তি তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়। ‘ইন্টারন্যাশনাল পিস ফান্ড’ নামে এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে সহায়তা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা আগামী তিন বছরে প্রত্যেকে ১০ লাখ পাউন্ড করে অর্থায়ন করবে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও এই তহবিলে অবদান রাখার সুযোগ থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান মানবিক সংকটের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমাধানের প্রশ্নও এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। একদিকে জরুরি ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগও গুরুত্ব পাচ্ছে। কানাডার নতুন সহায়তা ঘোষণা সেই দুই দিককেই সমর্থন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটানো, অন্যদিকে ভবিষ্যতে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে। প্যারিস সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে আলোচনাভিত্তিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাদের মতে, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
চলমান যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন ভারতের কাশ্মীর অঞ্চলের বাসিন্দারা। ঈদুল ফিতরের পরপরই শিয়া অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকেরা ত্রাণ সংগ্রহ শুরু করেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অর্থ ও সহায়তা সংগ্রহ করা হচ্ছে, আর মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছেন। বিশেষ করে বুদগাম ও বারামুল্লা জেলার বাসিন্দারা এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। শুধু নগদ অর্থ নয়, সোনা-রুপার গয়না, গবাদি পশু এবং ঐতিহ্যবাহী তামার সামগ্রীও দান করছেন স্থানীয়রা, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের সহায়তায় ব্যবহৃত হবে। ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মানবিক উদ্যোগের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে কাশ্মীরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা এই সহায়তাকে ‘মানবতা ও সংহতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানায়। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, নারী-পুরুষ-শিশুসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষ এতে অংশ নিচ্ছেন। অনেক নারী তাদের ব্যক্তিগত গয়না ও মূল্যবান সামগ্রী দান করেছেন। এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনায়, এক কাশ্মীরি বিধবা তার প্রয়াত স্বামীর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ২৮ বছর ধরে সংরক্ষিত একটি স্বর্ণালংকার দান করেন। এছাড়া শিশুদের মধ্যেও এই মানবিকতা দেখা গেছে। কেউ কেউ তাদের সঞ্চয়ের টাকা, এমনকি ঈদের উপহার হিসেবে পাওয়া অর্থও দান করেছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক কিশোরী তিন বছর ধরে জমানো টাকা ভর্তি তার মাটির ব্যাংকটি ত্রাণ তহবিলে তুলে দিচ্ছে। এদিকে বুদগামের স্থানীয় বিধায়ক মুনতাজির মেহেদী ত্রাণ তহবিলে এক মাসের বেতন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যুদ্ধের কারণে ইরানে যে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তা জরুরি। সংগৃহীত অর্থ ও সামগ্রী ইরানি দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট ত্রাণ সংস্থার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।