- প্রচ্ছদ
- Topic
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি প্রচারে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে চালু করা হয়েছে পাঁচটি রেট্রো ধাঁচের ভিডিও গেম। বৃহস্পতিবার চালু হওয়া ‘আর্কেড’ নামের এই বিভাগে অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা, স্কুলের খাবার এবং শিশুদের সঞ্চয় প্রকল্পসহ ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিকে গেমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। গেমগুলোর একটি ‘বিল্ড দ্য ওয়াল’, যেখানে টেট্রিসের মতো ইট সাজিয়ে সীমান্তে দেয়াল তৈরি করতে হয়। আর ‘রিও রান’ গেমে রিও গ্রান্ডে নদীর পাশে সীমান্ত টহল দেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারীদের আটক ও ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আরেকটি গেম ‘সাপ্লাই লাইন’-এ স্কুলের খাবার বাছাই করতে হয়। স্বাস্থ্যকর খাবার রেখে অস্বাস্থ্যকর খাবার সরানোর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ নীতির প্রচার করা হয়েছে। ‘ফ্ল্যাপি বিল’ গেমে একটি ঈগলকে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলের ওপর দিয়ে উড়তে হয়। আর ‘ট্রাম্প সেভিংস টাইকুন’ গেমে অর্থ সংগ্রহ করে শিশুদের ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ পূরণ করার লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এই সঞ্চয় প্রকল্পে যোগ্য শিশুদের জন্য এককালীন ১ হাজার ডলার সরকারি অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। হোয়াইট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেমগুলোর প্রচারে এক্সবক্স, প্লেস্টেশন ও নিনটেন্ডোর পুরোনো গেম চালুর পর্দার আদলে বিভিন্ন অ্যানিমেশনও ব্যবহার করেছে। একটি অ্যানিমেশনে সেগার নাম বদলে ‘মাগা’ দেখানো হয়েছে, যা ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানের সংক্ষিপ্ত রূপ। তবে ‘বিল্ড দ্য ওয়াল’ গেম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে টেট্রিস কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গেমটি তৈরিতে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং টেট্রিসের নাম বা মেধাস্বত্ব ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তারা পর্যালোচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ এখন আর সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন হাউসের ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিস। একই সঙ্গে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা বা ডিএসএর ঘোষিত কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন নেই বলে স্পষ্ট করেছেন নিউইয়র্কের এই ডেমোক্র্যাট নেতা। রোববার এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান জানান জেফরিস। একসময় ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বিলের সহ-উদ্যোক্তা থাকলেও বর্তমানে তিনি এই প্রস্তাবের পক্ষে নেই বলে জানান। জেফরিস বলেন, বর্তমানে তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ সংক্রান্ত কোনো আইনের সহ-উদ্যোক্তা নন এবং এটি সমর্থনও করেন না। ওয়েলকার তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রস্তাব সমর্থন করেন কি না। জবাবে জেফরিস তার বর্তমান অবস্থান অপরিবর্তিত রেখে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কংগ্রেসে উত্থাপিত ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ আইনগুলোতে তিনি সহ-উদ্যোক্তা হননি এবং বর্তমানে এগুলো সমর্থন করছেন না। ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ মূলত যুক্তরাষ্ট্রে একক সরকারি স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালুর একটি প্রস্তাব। এর আওতায় অধিকাংশ বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমার পরিবর্তে সরকার পরিচালিত একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সব নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবটির সমর্থকেরা মনে করেন, এতে সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যক্তির নিজস্ব চিকিৎসা ব্যয় ও বেসরকারি বিমা ব্যবস্থার প্রশাসনিক খরচ কমতে পারে। সমালোচকেরা অবশ্য এর সম্ভাব্য বিপুল সরকারি ব্যয়, কর বাড়ার ঝুঁকি এবং বর্তমান চাকরিভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জেফরিসের অবস্থান পরিবর্তন ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরের মতপার্থক্যকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। দলের প্রগতিশীল অংশের কাছে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। অন্যদিকে জেফরিসসহ দলের মধ্যপন্থী নেতারা স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানো এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। জেফরিস ডিএসএর কর্মসূচি থেকেও নিজেকে দূরে রেখেছেন। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল রাজনীতিতে প্রভাব বাড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রাথমিক নির্বাচনে সংগঠনটির সমর্থিত বা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সাফল্যও দলের মধ্যপন্থী ও প্রগতিশীল অংশের মধ্যে বিতর্ক বাড়িয়েছে। জেফরিস বলেন, ডেমোক্রেটিক ককাসে প্রগতিশীল, মধ্যপন্থী ও ব্লু ডগ ডেমোক্র্যাটদের মতো বিভিন্ন মতের মানুষ রয়েছেন। তবে ডিএসএ নিজে যে কর্মসূচি তুলে ধরেছে, তিনি সেটি সমর্থন করেন না। তার মতে, ডেমোক্র্যাটদের এখন মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি খরচকে তিনি সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে জেফরিস ‘মেডিকেয়ার ফর অল’-এর পরিবর্তে বিদ্যমান ব্যবস্থায় খরচ কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মেডিকেইডে রিপাবলিকানদের করা কাটছাঁট ফিরিয়ে নেওয়া এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের করছাড় বাড়ানোর পক্ষে কথা বলেছেন। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জেফরিসের বর্তমান অবস্থান তার আগের ভূমিকার তুলনায় ভিন্ন। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বিলের সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বে আসার পর সাম্প্রতিক সংস্করণগুলোর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেননি। জেফরিসের সঙ্গে স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে প্রকাশ্য মতপার্থক্যও দেখিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না। পৃথক এক সাক্ষাৎকারে খান্না বলেন, তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রাধিকার হিসেবে দেখেন। তার দাবি, এই ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিতর্ক শুধু স্বাস্থ্যসেবা নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়। অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা আইস বা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিলুপ্ত করার দাবিতেও দলের প্রগতিশীল অংশের সঙ্গে জেফরিসের মতপার্থক্য রয়েছে। জেফরিস আইস পুরোপুরি বিলুপ্ত করার পক্ষে নন। তবে তিনি সংস্থাটির ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত, মানবিক ও যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বর্তমানে আইসের কার্যক্রম ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে গেছে। এর আগে জেফরিস ও সিনেটের ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার আইসের কার্যক্রমে বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখ ঢেকে কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র বহনের বাধ্যবাধকতা, স্কুল ও গির্জার কাছে অভিযান সীমিত করা, কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো এবং বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ম আরোপের প্রস্তাব ছিল। জেফরিসের এই বক্তব্যের ঠিক এক দিন আগে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সদস্যরা আইস বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। একই সময়ে আইস সংস্কারের পক্ষে আরেকটি প্রস্তাবও বেশি ব্যবধানে অনুমোদিত হয়। ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির চেয়ার কেন মার্টিন অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, দলের আনুষ্ঠানিক নীতিমালা প্রতি চার বছর পর জাতীয় সম্মেলনে নির্ধারিত হয়। জেফরিসের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ডেমোক্রেটিক পার্টি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলের ভেতরের মতপার্থক্য সামলে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা আবারও হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাবে। এজন্য অন্তত ২১৮টি আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দল কাজ করছে বলেও জানান তিনি। তার বক্তব্যে মূল বার্তা ছিল, ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়টি রাখা উচিত। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর কাছে দলকে বাস্তবসম্মত সমাধান তুলে ধরতে হবে বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশ মনে করে, বিদ্যমান ব্যবস্থার ছোটখাটো সংস্কারের বদলে স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। ফলে জেফরিসের বর্তমান অবস্থান দলের মধ্যপন্থী নেতৃত্ব ও প্রগতিশীল ঘরানার মধ্যে নীতিগত দূরত্বের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এ অবস্থায় ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ থেকে সরে আসা এবং ডিএসএর কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করে জেফরিস কার্যত ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি মধ্যপন্থী অবস্থানই সামনে এনেছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অবস্থান দলকে বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে কতটা সহায়তা করবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোশাকের একটি ছবি ও ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও শুরু হয়েছে ‘ডায়াপার’ পরার গুঞ্জন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পেছন দিকের পোশাকে অস্বাভাবিক আকৃতি দেখা যাচ্ছে দাবি করে অনেকে নানা মন্তব্য করেন। তবে ট্রাম্প প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার ব্যবহার করেন, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ভিডিওতে একটি অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্পকে হেঁটে চলে যেতে দেখা যায়। এ সময় তার স্যুটের নিচের অংশের আকৃতি নিয়ে কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন। কারও কারও দাবি, পোশাকের নিচে একটি চৌকো ধরনের ফোলা অংশ দেখা যাচ্ছে। এক্সে ব্রায়ান ক্রাসেনস্টেইন নামের এক ব্যবহারকারী ট্রাম্পের পেছনের দিকের পোশাকের আকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার পোস্টের পরপরই মন্তব্যের ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের সমর্থকদের অনেকে এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেন এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত শারীরিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করাকে অশোভন বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, কিছু ব্যবহারকারী ছবিতে দেখা আকৃতিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে দাবি করেন। কেউ কেউ সরাসরি ‘ডায়াপার’ ব্যবহারের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে এসব মন্তব্য মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুমান ও ব্যঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কোনো চিকিৎসা নথি, সরকারি বিবৃতি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব দাবিকে সমর্থন করেনি। ট্রাম্পকে ঘিরে এমন গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেও তাঁর ‘৬০ মিনিটস’ সাক্ষাৎকারের পর একই ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছিল। সিবিএসের অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নোরাহ ও’ডনেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ট্রাম্পের স্যুটের পেছনের দিকে একটি ফোলা অংশ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন কিছু দর্শক। পরে সেই দৃশ্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সেটিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বলে অনুমান করেন। তবে ওই সময়ও দাবিটির পক্ষে কোনো যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ পোশাকের ভাঁজ, স্যুটের কাটিং, শরীরের ভঙ্গি কিংবা নিরাপত্তা সরঞ্জামের মতো বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণের কথা বলেন। অর্থাৎ একটি ছবিতে দেখা আকৃতি থেকেই ট্রাম্পের স্বাস্থ্য বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। মে মাসে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারিতে মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের অংশগ্রহণের ছবিকে ঘিরেও একই ধরনের আলোচনা হয়েছিল। তাঁর যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ করার পর কিছু ব্যবহারকারী ট্রাম্পের স্যুটের আকৃতি নিয়ে মন্তব্য করেন এবং আবারও ডায়াপার ব্যবহারের দাবি তোলেন। কিন্তু সেই দাবিরও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। জুলাই মাসেও একই ধরনের গুঞ্জন ছড়ায়। ট্রাম্পের সহযোগী নাটালি হার্পকে একটি বড় কালো ব্যাগ হাতে তাঁর পেছনে দেখা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী সেটিকে কথিত ‘ডায়াপার ব্যাগ’ বলে দাবি করেন। পরে এসব পোস্ট নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও ট্রাম্পের ডায়াপার ব্যবহারের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি হার্প যে কোনো ধরনের চিকিৎসা বা পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন, এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া এসব গুঞ্জনের পেছনে মূলত ছবি ও ভিডিওর নির্দিষ্ট কিছু অংশকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের অনুমান কাজ করছে। বিশেষ করে স্যুট পরা অবস্থায় তাঁর বসা বা হাঁটার সময় পোশাকের আকৃতি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো ছবির দৃশ্যমান আকৃতি থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়। এ ধরনের গুঞ্জন নিয়ে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়েছে। তবে চলতি বছরের এপ্রিল ও জুলাইয়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার ব্যবহারের অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি বা যাচাই করা চিকিৎসা প্রমাণ নেই। সম্প্রতি জীবনীকার মাইকেল উলফও ট্রাম্পের ডায়াপার ব্যবহারের দীর্ঘদিনের গুঞ্জন নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়, কিন্তু তিনি এমন দাবির কোনো ভিত্তি দেখেননি। একই সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে উলফের বক্তব্য ও তার বিশ্বাসযোগ্যতার সমালোচনা করা হয়েছে। ফলে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ছবিকে ঘিরে আলোচনা থাকলেও ট্রাম্প সত্যিই ডায়াপার ব্যবহার করছেন কি না, তা নিশ্চিত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য ও অনুমানকে তাই প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক নির্বাচনে বিজয়ের পর আবদুল এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী বিদ্বেষমূলক প্রচারণা প্রায় ২০ গুণ বেড়েছে বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (CSOH)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫৫টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্টে এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করা হলেও ৪ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে সেই সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৯৯টিতে পৌঁছে। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ ধরনের পোস্টের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮৯৫ শতাংশ বেড়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে মোট ৩৮ হাজার ২৮০টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ৪ থেকে ১০ আগস্টের সাত দিনেই করা হয়েছে প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ পোস্ট। সবচেয়ে বেশি পোস্ট করা হয় ৫ আগস্ট, সেদিন একদিনেই ৬ হাজার ৯২৩টি পোস্ট প্রকাশিত হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানো ৪ লাখ ৯ হাজার ৬৪০টি পোস্টও পর্যবেক্ষণ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। গ্রীষ্মকালজুড়ে এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৮৩টি এমন পোস্টও করা হয় ৫ আগস্ট। গবেষণা অনুযায়ী, বিদ্বেষমূলক প্রচারণার বড় অংশজুড়ে এল-সায়েদকে ভিত্তিহীনভাবে "ইসলামি জিহাদি" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং তাকে হামাস, হিজবুল্লাহ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে জড়িয়ে নানা দাবি করা হয়েছে। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামী আইন চালু করতে চান, মুসলিম সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক অনুদানকে "সন্ত্রাসে অর্থায়ন" হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তথাকথিত "ইসলামপন্থী ও কমিউনিস্টদের দখলে চলে যাচ্ছে" এমন ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যও ছড়ানো হয়েছে। কিছু পোস্টে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে এল-সায়েদকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। আবার কিছু পোস্টে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে মুসলিমদের ব্যাপকভাবে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই প্রচারণার ধরন অনেকটাই নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে গত বছর মুসলিম প্রার্থী জোহরান মামদানির সফল প্রচারণার সময় দেখা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। কোনো মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে গেলে বা জয়ী হলে একই ধরনের বিদ্বেষমূলক ভাষা ও অভিযোগ বারবার সামনে আসে। আবদুল এল-সায়েদ মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। স্টিভেন্সের পক্ষে প্রভাবশালী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC) ৩ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে। আগামী নভেম্বরে অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের শূন্য আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন এল-সায়েদ। ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই আসনটি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় এল-সায়েদ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার ফর অল), রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো এবং ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব কমাতে চাই, মানুষের পকেটে অর্থ ফেরাতে চাই এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই।" একই সাক্ষাৎকারে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমালোচনাকে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এল-সায়েদকে "র্যাডিক্যাল লেফট সোশ্যালিস্ট", "কমিউনিস্ট" এবং ইহুদি ও ইসরায়েলবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও এক নির্বাচনী বিতর্কে এল-সায়েদ নিজেকে সমাজতন্ত্রী নন উল্লেখ করে বলেন, "আমি সমাজতন্ত্রী নই। আমি এমন একজন পুঁজিবাদী, যিনি পুঁজিবাদ কীভাবে কাজ করে তা বোঝেন।" গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের এক গোলটেবিল বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ব্যঙ্গাত্মকভাবে তাকে "প্রেসিডেন্ট আবদুল এল-সায়েদ" বলে উল্লেখ করেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ডেমোক্রেসি নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এল-সায়েদ বলেন, তিনি প্রথম হওয়ার বিষয়টির চেয়ে নিজের অঙ্গরাজ্যের জন্য একজন কার্যকর সিনেটর হতে চান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি উন্মুক্ত, উদার ও বহুত্ববাদী দেশ, আর সেই মূল্যবোধই তিনি প্রতিনিধিত্ব করতে চান।
নিউইয়র্ক সিটির বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর আরোপিত বিতর্কিত ‘পিয়ে-আ-তের’ (Pied-à-terre) কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন আদালত। এর জেরে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি গভর্নর হোকুলের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মঙ্গলবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ওয়েন ওজি সোমবার কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই করটি নিয়ে রাজ্য সরকার ও সিটি হলের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিতর্কিত এই করের লক্ষ্য নিউইয়র্ক সিটিতে থাকা উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় আবাসন বা বিলাসবহুল বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা। চলতি বছরের মে মাসে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা রাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবে করটির অনুমোদন দেন। এটি ছিল মেয়র মামদানি এবং তার সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর একটি। তবে কর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পরপরই একাধিক জটিলতা সামনে আসে। এরপর আদালতের স্থগিতাদেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এ অবস্থায় গভর্নর হোকুলের কার্যালয় জানিয়েছে, করটির বাস্তবায়নের দায় নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের। গভর্নরের মুখপাত্র জেনিফার গুডম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, এই মামলাটি কর বাস্তবায়নের প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে, যা আদালত এবং সিটি প্রশাসনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তবে গভর্নর এখনও মনে করেন, যারা নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখেন, তারা ন্যায্য হারে কর দেওয়ারও সামর্থ্য রাখেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন গভর্নর নির্বাচন সামনে রেখে হোকুল এই বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইছেন। ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, নির্বাচনের আগে হোকুলের জন্য ‘কর বাড়ানো ও অতিরিক্ত ব্যয়ের’ ভাবমূর্তি মোটেই সুবিধাজনক নয়। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান এই ইস্যুতে গভর্নরকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। কুইন্সে এক নির্বাচনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হোকুল নিজের ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। তার দাবি, ডেমোক্রেটিক পার্টিতে এখন মামদানির প্রভাব বেড়েছে এবং গভর্নর তার চাওয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এদিকে, আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করেছে মামদানির প্রশাসন। তাদের দাবি, স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হলে মামলার শুনানি চলাকালেও কর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী র্যান্ডি মাস্ত্রো অভিযোগ করেছেন, আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরও সিটি প্রশাসন কর বাস্তবায়নের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আদালতে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘আইনের শাসনের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের বর্তমান স্থগিতাদেশ শুধু তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক জটিলতাই নয়, ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির দীর্ঘদিনের জটিল সম্পত্তি কর ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কারের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। কারণ, এই কর কার্যকর করতে হলে শহরের বিদ্যমান সম্পত্তি কর কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হতে পারে, যা অতীতের কোনো মেয়রই বাস্তবে কার্যকর করতে পারেননি। রিপাবলিকান নেতারাও এই সুযোগে গভর্নর হোকুলের সমালোচনা আরও জোরদার করেছেন। অঙ্গরাজ্যের কম্পট্রোলার পদপ্রার্থী জোসেফ হার্নান্দেজ বলেন, মামদানি নতুন কর চেয়েছিলেন, হোকুল সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। এখন এর পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইকেল ট্যানুসিসও দাবি করেন, এই করের বাস্তবায়ন যেমন সমস্যায় পড়েছে, তেমনি করটির প্রয়োজনীয়তাও প্রশ্নবিদ্ধ। তার ভাষায়, শুধু বাস্তবায়ন নয়, এমন করই থাকা উচিত নয়। নিউইয়র্কে ‘পিয়ে-আ-তের’ কর নিয়ে আইনি লড়াই এখনও চলমান। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে করটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না এবং এটি গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক অবস্থানে কতটা প্রভাব ফেলবে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ইরানের গুপ্তহত্যার হুমকির মুখে চরম গোপনীয়তা ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গত মাসে তুরস্ক ত্যাগ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ কোনো প্রটোকল নয়, বরং একটি ক্যাটারিং ট্রাকে লুকিয়ে ছোট একটি সামরিক বিমানে করে তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পুরো সময়টিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিয়মিত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানেই ভ্রমণ করছেন। মূলত হামলাকারীদের বিভ্রান্ত করতেই এই প্রতারণামূলক ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই গোপন যাত্রার রোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ন্যাটোর একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কাতারের উপহার দেওয়া একটি বিলাসবহুল ও নতুনভাবে সাজানো বোয়িং ৭৪৭ বিমানে চড়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সম্মেলন শেষে তার ফেরার সময় দৃশ্যপট পাল্টে যায়। মার্কিন গোয়েন্দারা ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ওপর হামলার গুরুতর একটি হুমকির তথ্য পান। এরপরই প্রেসিডেন্টকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে একটি নিখুঁত ও অভিনব ছক কষা হয়। আঙ্কারা ত্যাগ করার সময় ট্রাম্প প্রথমে সবার সামনে ক্যামেরার আলোতে একটি পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ওঠেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি একটি পোস্ট দিয়ে জানান যে, পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ এবং ব্রিটেনের আরএএফ মিলডেনহল ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি এই পুরোনো বিমানটি ব্যবহার করছেন। এটি ছিল মূলত হামলাকারীদের নজর অন্যদিকে ঘোরানোর একটি সুপরিকল্পিত টোপ। বাস্তবে ক্যামেরার আড়ালে ঘটেছিল অন্য ঘটনা। পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পরপরই ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ট্রাম্পকে বহনকারী সেই সি-৩২এ বিমানটি দ্রুত যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়াল দেয় এবং রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়। অন্যদিকে, মূল টোপ হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটিতে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীকে ওঠানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট চলাকালীন প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিকরা জানতেনই না যে তাদের বিমানে প্রেসিডেন্ট নেই। ট্রাম্পের বিমান পৌঁছানোর কয়েক মিনিট পর ওই ডিকয় বা টোপ হিসেবে ব্যবহৃত বিমানটি যুক্তরাজ্যে অবতরণ করে। পরবর্তীতে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের শুধু এতটুকুই জানিয়েছিলেন যে, তারা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আকস্মিক ও গোপন ফ্লাইটের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চেউং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনেক শত্রু রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রেসিডেন্টের জীবনের সুরক্ষায় এবং সেই হুমকিগুলো মোকাবিলায় হাতে থাকা সম্ভাব্য প্রতিটি উপায় ব্যবহার করে থাকে। তবে এই গোপন অভিযান ও ইরানের নির্দিষ্ট হুমকির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহতের ঘটনার পর থেকে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ট্রাম্পের এই রোমহর্ষক গোপন সফর সেই চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকিরই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একজন হয়ে উঠেছেন তার সহকারী নাতালি হার্প। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দীর্ঘ অনুপস্থিতির মাঝেই গত সপ্তাহান্তটি ট্রাম্পের সঙ্গেই কাটিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি নিউজার্সি থেকে ছেড়ে আসা এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় ৩৫ বছর বয়সী এই নারী কর্মকর্তার হাতে একটি বিশাল আকারের রহস্যময় লাল ব্যাগ দেখা যায়, যা নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে নিউজার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্পের ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে সার্বক্ষণিক তার পাশে ছিলেন নাতালি। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প যখন স্বামীর পাশ থেকে অনেকটাই দূরে এবং তাদের দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের ছায়াসঙ্গী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এই নারী। মরিসটাউন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দর থেকে ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ এই সহকারী। প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, গলফ কোর্সে ট্রাম্পের ঠিক পেছনেই একটি গলফ কার্ট চালাচ্ছেন নাতালি। তার মাথায় ছিল ‘ট্রাম্প’ লেখা বেসবল ক্যাপ। মুখে হাসির পাশাপাশি তার হাতের সেই বিশাল লাল ব্যাগটি সবার নজর কাড়ে, যার ভেতরে কী ছিল তা এখনো অজানা। এদিকে, বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যখন চরম উত্তেজনা চলছে, তখন ট্রাম্পের এমন নির্ভার গলফ খেলা এবং সহকারীর এই উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, দেশে জিনিসপত্রের দাম এখনও চড়া, আশা করি গলফ খেলে তার মাথা খুলবে এবং সমস্যা সমাধানের কোনো পথ তিনি বের করবেন। আরেকজন নাতালির সার্বক্ষণিক উপস্থিতিকে 'ভীতিকর' বলে মন্তব্য করেছেন। নাতালি হার্পের কাজের পরিধি ঠিক কী, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট করা নেই। তবে প্রশাসনে তিনি ট্রাম্পের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত। গত সপ্তাহে আরেকটি সফরে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামার সময় তার হাতে অন্তত চারটি মোবাইল ফোন এবং দুটি ল্যাপটপ দেখা যায়। হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাকে ট্রাম্পের কাছাকাছি দেখা যায়। রক্ষণশীল ওয়েবসাইট থেকে খবর প্রিন্ট করা, গুগলে তথ্য খোঁজা এবং ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টের জন্য পোস্টের পরামর্শ দেওয়াই মূলত তার কাজ। এ কারণে অনেকেই তাকে ট্রাম্পের ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বা মানব প্রিন্টার বলে ডাকেন। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার এই ঘনিষ্ঠতার পেছনে একটি আবেগঘন কারণ রয়েছে বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। এর আগে নাতালির অস্থিমজ্জার ক্যানসার চিকিৎসায় একটি পরীক্ষামূলক ওষুধের অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা তার জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছিল। ‘সার্চলাইট থেরাপি’-এর প্রতিষ্ঠাতা বেন মাশলিন জানান, যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কারও জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখেন, তখন তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ভিন্ন মাত্রা পায়। নাতালি হয়তো ট্রাম্পকে তার ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে দেখেন। তবে এই অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এবং সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা নাতালিকে একটি সম্ভাব্য ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে দেখছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা একটি বই অনুযায়ী, নাতালি প্রায়ই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জায়গাগুলোতে ছোট ছোট চিরকুট রেখে আসতেন। একটি চিরকুটে তিনি লিখেছিলেন, "আপনিই আমার কাছে সবকিছু।" এমন আচরণই নিরাপত্তারক্ষীদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাতালির ভাই প্রেস্টন হার্পও এই সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন। দ্য ডেইলি বিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাদের প্রয়াত বাবার সঙ্গে নাতালির সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। তিনি হয়তো ট্রাম্পের মাঝে সেই পিতৃস্নেহ খুঁজে পেয়েছেন। নিকারাগুয়ায় বসবাসরত ৩৮ বছর বয়সী প্রেস্টন আরও বলেন, ট্রাম্পের 'আমেরিকান এক্সেপশনালিজম' বা আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের আদর্শ নাতালিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং তিনি সম্ভবত ট্রাম্পকে একজন আদর্শ পিতার আসনেই বসিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন থাকা সত্ত্বেও টেনেসির রিপাবলিকান প্রাইমারিতে পরাজিত হয়েছেন কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগলস। ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে সাবেক অঙ্গরাজ্য কৃষি কমিশনার চার্লি হ্যাচারের কাছে প্রায় ৬ শতাংশ ব্যবধানে হেরে যান তিনি। মুসলিমদের নিয়ে তার বিতর্কিত মন্তব্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েক মাস ধরে সমালোচনার মুখে ছিলেন ওগলস। ওগলস ২০২২ সালে প্রথমবার কংগ্রেসে নির্বাচিত হন এবং পরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পান। এবারের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ওগলসকে সমর্থন করেন। এমনকি তার পক্ষে প্রচারণামূলক টেলিফোন সমাবেশেও অংশ নেন ট্রাম্প। কংগ্রেসের স্পিকার মাইক জনসনও ওগলসকে সমর্থন করেছিলেন। তবে রিপাবলিকান ভোটারদের কাছে শেষ পর্যন্ত জয় পাননি ওগলস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী চার্লি হ্যাচার টেনেসির সাবেক কৃষি কমিশনার। রাজ্যের গভর্নর বিল লিসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা হ্যাচারকে সমর্থন করেছিলেন। ওগলসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি ছিল মুসলিমদের নিয়ে তার মন্তব্য। চলতি বছরের ৯ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, “Muslims don’t belong in American society. Pluralism is a lie.” অর্থাৎ, “মুসলিমরা আমেরিকান সমাজের অংশ নয়। বহুত্ববাদ একটি মিথ্যা।” তার এই মন্তব্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। মুসলিম অধিকার সংগঠন, নাগরিক অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্যটির নিন্দা জানান। তার নির্বাচনী এলাকাতেও বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ফলে ওই এলাকার একজন নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্যের মুখে মুসলিমদের আমেরিকান সমাজে জায়গা নেই বলে মন্তব্য ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ওগলস এর আগেও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে মার্চে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। তার মন্তব্যের বিরুদ্ধে কংগ্রেসেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য শ্রী থানেদার ওগলসের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কারের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে ওগলসের পরাজয়ের একমাত্র কারণ তার মুসলিমদের নিয়ে মন্তব্য ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। নির্বাচনী এলাকার নতুন সীমানা, প্রার্থীদের স্থানীয় রাজনৈতিক সমর্থন এবং রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থন করার পরও তার পছন্দের প্রার্থী নিজ দলের প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তবে হ্যাচারও ট্রাম্পের নীতির সমর্থক হওয়ায় ওগলসের পরাজয়কে সরাসরি ট্রাম্পবিরোধী ভোট হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। অ্যান্ডি ওগলসের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে গেলেন চার্লি হ্যাচার। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী চাজ মোল্ডারের সঙ্গে। ওগলসের মুসলিমদের নিয়ে করা মন্তব্যের পর যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই নির্বাচনে এই পরাজয় যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান নাগরিক অধিকার এবং রাজনৈতিক বহুত্ববাদ নিয়ে আলোচনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে নির্বাচনের ফলকে কোনো একটি বক্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখার আগে স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অন্যান্য নির্বাচনী কারণও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্পের চুল আগের তুলনায় বেশি ঘন ও ভলিউমযুক্ত দেখায়। তার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নানা মন্তব্য, প্রশ্ন ও মিম। লাস ভেগাসের ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তবে অনুষ্ঠানের ভিডিও ও ছবিতে তার চুলের চেহারা অনেকের নজর কাড়ে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পুরোনো ছবির সঙ্গে নতুন ছবির তুলনা করে দেখতে শুরু করেন। কেউ কেউ জানতে চান, চুলের এই পরিবর্তন কি নতুন কোনো হেয়ারস্টাইলের কারণে, নাকি অন্য কোনো পরিবর্তন হয়েছে। এরপর থেকেই ট্রাম্প নতুন কোনো উইগ বা হেয়ারপিস ব্যবহার করছেন কি না, তা নিয়ে অনলাইনে নানা জল্পনা শুরু হয়। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প নিজে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এবং নতুন উইগ ব্যবহারের দাবির পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাস ভেগাসের বক্তব্যে ট্রাম্পের চুলকে আগের তুলনায় বেশি পূর্ণ ও কিছুটা ভিন্ন রঙের দেখাচ্ছিল। এই দৃশ্যমান পরিবর্তনই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার মূল কারণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের হেয়ারস্টাইল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনমনে কৌতূহল রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে কেউ এটিকে নতুন হেয়ারস্টাইল বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ উইগ বা হেয়ারপিসের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এসবের পাশাপাশি ট্রাম্পের চুল নিয়ে নানা ধরনের মিমও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে সামাজিক মাধ্যমের এসব মন্তব্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ট্রাম্পের চুল নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। বহু বছর ধরেই তার স্বতন্ত্র হেয়ারস্টাইল যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে আলোচিত হয়ে আসছে। ২০১১ সালের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই তার চুলের স্টাইল নিয়ে কথা বলেছিলেন। পরবর্তী বছরগুলোতেও বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও সামাজিক মাধ্যমে তার চুল নিয়ে নানা রসিকতা ও আলোচনা হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রবল বাতাসে ট্রাম্পের চুলের স্টাইল কিছুটা এলোমেলো হয়ে যাওয়ার একটি ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনার পরও তার চুল নিয়ে নতুন করে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। এবার লাস ভেগাসের উপস্থিতি সেই পুরোনো কৌতূহলকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। তবে চুলের ঘনত্ব বা চেহারায় পরিবর্তন দেখালেই সেটিকে উইগ, হেয়ারপিস বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কসমেটিক পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আলো, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল, চুলের স্টাইলিং এবং মঞ্চের পরিবেশেও একজনের চুলকে ভিন্ন দেখাতে পারে। ফলে আপাতত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, লাস ভেগাসে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উপস্থিতির পর তার চুলের চেহারা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়েছে এবং তা নিয়ে নানা মিম ছড়িয়েছে। কিন্তু তিনি নতুন কোনো উইগ বা হেয়ারপিস ব্যবহার করছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনী সমাবেশে তার নাচ এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি প্রথম নারী মেলানিয়া ট্রাম্পের পছন্দ নয়। তার ভাষায়, মেলানিয়া মনে করেন এসব আচরণ একজন প্রেসিডেন্টের ভাবমূর্তির সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই নয়। নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার নেভাদার লাস ভেগাসে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প ব্যক্তিগত এই কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন। সমাবেশে তিনি বলেন, নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি যে ওজন উত্তোলনের ভঙ্গি করেন, সেটি মেলানিয়ার একদম পছন্দ নয়। ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, "আমি যখন ওজন উত্তোলনের ভঙ্গি করি, মেলানিয়া বলেন এটি প্রেসিডেন্টসুলভ নয়। আমি তাকে বলেছি, হয়তো এটি প্রেসিডেন্টসুলভ নয়, কিন্তু আমি বড় ব্যবধানে নির্বাচন জিতেছি।" বক্তৃতার সময় তিনি সেই পরিচিত অঙ্গভঙ্গিও করে দেখান। এটি প্রথম নয় যে ট্রাম্প প্রকাশ্যে মেলানিয়ার এমন মন্তব্যের কথা জানালেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার বলেছেন, তার নির্বাচনী সমাবেশের নাচ কিংবা মঞ্চে করা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি নিয়ে মেলানিয়ার আপত্তি রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মেলানিয়াকে "অত্যন্ত মার্জিত রুচির মানুষ" বলেও উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশের অন্যতম পরিচিত অংশ হলো বক্তব্য শেষে জনপ্রিয় গান 'ওয়াই.এম.সি.এ.'-এর (Y.M.C.A.) তালে তার নাচ। গত কয়েক বছরে এটি তার সমর্থকদের কাছে এক ধরনের নিয়মিত রাজনৈতিক প্রতীক হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছিলেন, মেলানিয়া তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, "তুমি কি কল্পনা করতে পারো, সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট এভাবে নাচতেন?" ২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া রিপাবলিকান পার্টির এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প একই ধরনের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, মেলানিয়া তাকে বলেছিলেন, "এটা প্রেসিডেন্টসুলভ নয়।" জবাবে তিনি নাকি বলেছিলেন, "কিন্তু মানুষ এটা পছন্দ করে।" ট্রাম্পের দাবি, সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা প্রায়ই তাকে "নাচুন, নাচুন" বলে উৎসাহিত করেন। ট্রাম্প আরও বলেন, শুধু নাচ নয়, নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তার অভিনয়ধর্মী অঙ্গভঙ্গিও মেলানিয়ার ভালো লাগে না। জানুয়ারিতে তিনি স্মরণ করেন, মেলানিয়া তাকে বলেছিলেন, "প্রিয়, দয়া করে ওজন তোলার ভঙ্গিটা কোরো না। এটা খুবই খারাপ দেখায়।" ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তখনও তিনি একই উত্তর দিয়েছিলেন "কিন্তু আমি তো প্রেসিডেন্ট হয়েছি।" এছাড়া অতীতেও ট্রাম্প বলেছেন, টেলিভিশনে তার সাক্ষাৎকার দেখার পর মেলানিয়া মাঝে মাঝে তার উপস্থাপনা বা ক্যামেরায় উপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। একবার তিনি নাকি বলেছিলেন, "তোমাকে ভালো লাগছিল না, আলোটা খুব বেশি ছিল।" যদিও মেলানিয়া ট্রাম্প সাধারণত ব্যক্তিগত এসব কথোপকথন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন না, তবু ট্রাম্প বিভিন্ন সমাবেশে প্রায়ই তাকে এমন একজন হিসেবে তুলে ধরেন, যিনি তার জনসমক্ষে উপস্থিতি ও উপস্থাপনা নিয়ে পরামর্শ দেন। তবে স্ত্রী আপত্তি জানালেও ট্রাম্প তার পরিচিত নাচ ও অঙ্গভঙ্গি চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, সমর্থকেরা এসব মুহূর্ত উপভোগ করেন এবং নির্বাচনী সমাবেশে এগুলো দেখার প্রত্যাশা নিয়েই আসেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আবদুল এল-সাইয়েদ। দলীয় প্রাইমারিতে অল্প ব্যবধানে জয়ের পর নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হতে যাচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের ভোটের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এল-সাইয়েদ মধ্যপন্থী কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে এক শতাংশেরও কম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। এই রাজনৈতিক সাফল্যের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার। এল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচারণার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তার স্ত্রী ডা. সারা জুকাকু একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। দুজনের পরিচয় হয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে পড়াশোনার সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংবাদপত্র 'দ্য মিশিগান ডেইলি'-তে ২০০৬ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। সেই সময় সারা জুকাকু জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে পড়ার সময়ই তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়। একই প্রতিবেদনে আবদুল এল-সাইয়েদ বলেছিলেন, ইসলাম ধর্মের শিক্ষা তাকে অল্প বয়সেই বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করেছিল। তার ভাষায়, "আমি ভাবতাম, একজন মানুষের সঙ্গেই আমার দেখা হবে এবং তাকেই আমি বিয়ে করব। আমার কাছে এটিই একটি সম্পর্কের সবচেয়ে নির্মল রূপ।" নির্বাচনী প্রচারণার বিভিন্ন ভিডিওতেও সারাকে দেখা গেছে। একটি ভিডিওতে তিনি সন্তান জন্মদানের সময় জটিলতার মুখে নিজের শ্রমিক ইউনিয়নের সহায়তার কথা তুলে ধরেন। সে সময় তিনি চিকিৎসক হিসেবে রেসিডেন্সি করছিলেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই ইউনিয়নের গুরুত্ব বোঝেন না, কিন্তু কঠিন সময়ে সেই সহায়তা তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আবদুল এল-সাইয়েদ তার লেখা 'হিলিং পলিটিক্স: আ ডক্টরস জার্নি ইনটু দ্য হার্ট অব আওয়ার পলিটিক্যাল এপিডেমিক' বইতেও স্ত্রী সম্পর্কে লিখেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সারার বাবা-মা ভারতের একটি গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন। স্ত্রীর আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে তিনি লেখেন, জীবনে নিজের পরিচয় খুঁজে পেতে তাকে সংগ্রাম করতে হয়েছে, কিন্তু সারা সবসময় আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তার মতে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়া সারার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দারুণভাবে মানানসই। মাদার্স ডে উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এল-সাইয়েদ সারাকে "আমার সবচেয়ে বড় ভরসা এবং আমাদের দুই কন্যার অসাধারণ মা" বলে উল্লেখ করেন। দম্পতির দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। তাদের নাম এমালি (Emmalee) ও সেরিন (Serene)। এল-সাইয়েদের পারিবারিক শিকড়ও বৈচিত্র্যময়। তার প্রচারণা শিবিরের তথ্য অনুযায়ী, তার বাবা মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। তিনি বাবার পাশাপাশি সৎমা জ্যাকির সঙ্গেও বেড়ে উঠেছেন, যার পরিবারের শিকড় মিশিগানের গ্রাটিয়ট কাউন্টিতে। অন্যদিকে 'আরব আমেরিকা'র তথ্য অনুযায়ী, তার মা ডা. ফাত্তেন এলকোমি মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে নার্স প্র্যাকটিশনার হিসেবে কর্মরত। এদিকে নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান নেতা ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। ইপিক-এমআরএ পরিচালিত এক জরিপে রজার্স ৪৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এল-সাইয়েদের (৪৩ শতাংশ) চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। তবে মিচেল রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের আরেকটি জরিপে দুজনই ৪৫ শতাংশ করে সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে গ্লেনগারিফ গ্রুপের এক জরিপে রজার্স ৪৯ শতাংশ এবং এল-সাইয়েদ ৩৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ 'ব্যাটলগ্রাউন্ড' অঙ্গরাজ্য। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প অল্প ব্যবধানে রাজ্যটিতে জয় পান। ফলে এখানে ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত করতে শুধু দলীয় ভোটার নয়, স্বতন্ত্র ভোটারদেরও সমর্থন অর্জন করতে হবে। সেই দিক থেকে আবদুল এল-সাইয়েদের প্রার্থিতা প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষাও হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জনের ভুল ভোটার নিবন্ধনের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তবে এ ঘটনাকে ভোট জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অভিবাসন ও ভোটাধিকারবিষয়ক গবেষক প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনা। তার মতে, এটি কোনো পরিকল্পিত ভোট জালিয়াতি নয়; বরং সরকারি সফটওয়্যারের ত্রুটির ফল, যা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজের মতামতমূলক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, নিউ জার্সির মোটর ভেহিকেল কমিশনের (MVC) একটি পুরোনো সফটওয়্যার সমস্যার কারণে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন ব্যক্তি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন, যদিও তারা আবেদন করার সময় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি কোনো তথ্য গোপন করেননি কিংবা মিথ্যা তথ্য দেননি। বরং সরকারি ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই তাদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। পরে গভর্নর মিকি শেরিল বিষয়টি জানতে পেরে তা প্রকাশ করেন এবং সংশোধনের উদ্যোগ নেন। প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনা, যিনি নিজেও একজন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, লেখায় নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে তার পরিবারকে বছরের পর বছর আইন মেনে চলতে হয়েছে, কর পরিশোধ করতে হয়েছে, নাগরিকত্ব পরীক্ষা ও ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। তাই নতুন অভিবাসীরা ভোটাধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন এবং আইন ভঙ্গের ঝুঁকি নিতে চান না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীদের ভোট জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। অথচ বর্তমান ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সেই দাবি সমর্থন করে না। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউ জার্সিতে বর্তমানে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬৭ লাখ। ভুলবশত নিবন্ধিত ৬ হাজার ৬০০ জন মোট ভোটারের ০.০১ শতাংশেরও কম। তাদের মধ্যে মাত্র ৪০০ জন ভোট দিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনে পড়া ৪৩ লাখ ভোটের ০.০০৯ শতাংশেরও কম। কাম্পোস-মেদিনার মতে, এসব পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে ঘটনাটি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির প্রমাণ নয়। বরং এটি একটি প্রশাসনিক ত্রুটি, যা দ্রুত শনাক্ত ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি গভর্নর শেরিলের প্রশংসা করে বলেন, একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে তিনি বিষয়টি গোপন না করে প্রকাশ করেছেন, তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ভুলভাবে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তে কীভাবে সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সুপারিশ দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, এই প্রতিবেদনটি প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনার একটি মতামতমূলক নিবন্ধের ভিত্তিতে তৈরি। এতে প্রকাশিত রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও মতামত তার ব্যক্তিগত অবস্থান, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফেডারেল বিচারকদের একটি অংশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের (ডিওজে) আইনজীবীদের আচরণ ও আদালতে দেওয়া তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলায় সরকারের আইনজীবীরা এমন আচরণ করেছেন, যা আদালতের ভাষায় "অবৈধ", "অনৈতিক", "অশোভন" বা বিভ্রান্তিকর। এর ফলে সরকারের বক্তব্যকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বাস করার দীর্ঘদিনের বিচারিক নীতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শত শত মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৪০টিরও বেশি মামলায় বিচারকেরা সরাসরি সরকারের প্রতি প্রচলিত বিচারিক আস্থার নীতি বা "প্রিজাম্পশন অব রেগুলারিটি" নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই নীতির অর্থ হলো, আদালত সাধারণভাবে ধরে নেয় যে সরকারি কর্মকর্তারা আইন ও নীতিমালা মেনেই দায়িত্ব পালন করেছেন, যদি না তার বিপরীত প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিচারকদের সমালোচনার বড় অংশই অভিবাসন অভিযান, ব্যাপক বহিষ্কার, সরকারি কর্মী ছাঁটাই এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য নীতিগত পদক্ষেপসংক্রান্ত মামলাগুলোকে ঘিরে। অনেক বিচারক মন্তব্য করেছেন, সরকারের আইনজীবীদের বক্তব্য এখন আর আগের মতো বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করা যাচ্ছে না। রোড আইল্যান্ডে ট্রাম্প মনোনীত ফেডারেল বিচারক মেরি ম্যাকএলরয় একটি মামলায় অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ তথ্য গোপন করেছে এবং আদালতের কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছে। হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্তে সংবেদনশীল চিকিৎসা নথি সংগ্রহের জন্য সরকারের কৌশল নিয়ে তিনি কড়া ভাষায় প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি যে আস্থা এতদিন ছিল, তা এই মামলায় আর বজায় নেই। নিউ জার্সির ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টিন ও'হার্ন এক অভিবাসন মামলায় মন্তব্য করেন, ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা শপথ নিয়ে তথ্য না দিলে তিনি আর সরকারের বক্তব্য অন্ধভাবে গ্রহণ করবেন না। তার অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এক আটক ব্যক্তিকে অন্য একটি কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছিল। মিনেসোটার একটি মামলায় বিচারক প্যাট্রিক শিল্টজও সরকারের পদক্ষেপকে "ভিত্তিহীন" বলে সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি বা চাপ সৃষ্টি করতে ফৌজদারি তদন্তের ব্যবহার আইনের সুস্পষ্ট অপব্যবহার এবং অনৈতিক আচরণ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিভাগের মুখপাত্র কিয়ারস্টেন পেলস এক বিবৃতিতে বলেন, ডিওজের আইনজীবীরা সততা, পেশাদারিত্ব এবং আইনগত দায়িত্ব মেনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে বিভাগ একমত নয়। প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন মামলায় বিচারকেরা সরকারের নথিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি অস্তিত্বহীন মামলার নজির, ভুল তারিখ, তথ্যগত অসঙ্গতি এবং বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার উদাহরণও উল্লেখ করেছেন। এসব ঘটনার কারণে সরকারের প্রতি আদালতের আস্থায় ধীরে ধীরে ভাঙন তৈরি হচ্ছে বলে আইন বিশেষজ্ঞদের মত। সাবেক ফেডারেল বিচারক জন ই. জোনস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি। তার মতে, বর্তমানে অনেক বিচারকই সরকারি কৌঁসুলিদের বক্তব্যকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছেন না। আইন বিশেষজ্ঞ জেরেমি ফোগেলের ভাষায়, আদালতে যা ঘটছে তা এখন শুধু আইনি বিরোধ নয়, বরং সরকারের একটি শাখা আরেকটি শাখার বৈধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিলের প্রধান আইনজীবী মিচ বার্নার্ড বলেন, বিচার বিভাগের বর্তমান আচরণের কারণে সরকার ভবিষ্যতে আরও বেশি মামলায় পরাজিত হতে পারে।
মিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই গুরুত্বপূর্ণ একটি সমর্থন পেলেন প্রগ্রেসিভ প্রার্থী ডা. আবদুল এল-সায়েদ। ওয়েন কাউন্টি ডেপুটি শেরিফস অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স সামাজিক মাধ্যমে জানান, এল-সায়েদের পক্ষে এখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিভিন্ন সংগঠন মিলিয়ে ২০০টিরও বেশি এনডোর্সমেন্ট রয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে আবদুল এল-সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স। এই নির্বাচনকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগ্রেসিভ ও প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ওয়েন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে লড়ছেন। তার প্রচারণায় ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ, রাশিদা তালিব, এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ ডেমোক্রেটিক পার্টির একাধিক প্রগ্রেসিভ নেতা। পাশাপাশি ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স (ইউএডব্লিউ), ন্যাশনাল নার্সেস ইউনাইটেডসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক সংগঠনও তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে এল-সায়েদকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির অন্যতম শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। যদিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনও হাড্ডাহাড্ডি, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে বড় বড় এনডোর্সমেন্ট তার প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারলে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তার মুখোমুখি হবেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। মিশিগান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলোর একটি। ফলে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হলেও সাধারণ নির্বাচনে তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। তবে আবদুল এল-সায়েদের প্রার্থিতা ইতোমধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে আরেকটি কারণে। তিনি যদি ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন জিতে পরবর্তীতে সাধারণ নির্বাচনেও বিজয়ী হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়বেন। এই সম্ভাবনাই তার প্রচারণাকে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ, অভিবাসী, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দুর্বল করতে ট্রাম্প প্রশাসন বিভাজনমূলক নীতি অনুসরণ করছে এমন অভিযোগ তুলেছেন ফ্লোরিডার ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা অ্যাঞ্জি নিক্সন। নিউজউইকে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড দেশজুড়ে অবিশ্বাস, বৈষম্য এবং সহিংসতার পরিবেশকে আরও উসকে দিচ্ছে। তবে লেখাটি কোনো নিরপেক্ষ সংবাদ প্রতিবেদন নয়। নিউজউইক এটিকে স্পষ্টভাবে মতামত হিসেবে প্রকাশ করেছে এবং এতে উত্থাপিত বক্তব্য লেখকের নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন। নিবন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়াও যুক্ত করা হয়নি। নিক্সনের বক্তব্যের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল অভিবাসন নীতি। তার অভিযোগ, অভিবাসন আইন প্রয়োগের নামে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএসের আওতায় থাকা পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। টিপিএস হলো যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য দেওয়া সাময়িক সুরক্ষা। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা ব্যক্তিরা এর আওতায় নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কারণে ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বহু পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করেন নিক্সন। সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিবাসন অভিযান ও মৃত্যুর ঘটনাও মতামত নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন এই আইনপ্রণেতা। তার মতে, এসব ঘটনা শুধু আইন প্রয়োগের প্রশ্ন নয়; বরং অভিবাসী পরিবারের নিরাপত্তা, জীবিকা এবং সমাজে তাদের অবস্থানের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। তবে উল্লিখিত প্রতিটি ঘটনার দায় ও পরিস্থিতি পৃথক তদন্তের বিষয়। অভিবাসনের পাশাপাশি ভোটাধিকার ও নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিক্সন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধা ধরে রাখতে এমনভাবে নির্বাচনী মানচিত্র তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কৃষ্ণাঙ্গসহ কিছু জনগোষ্ঠীর ভোটের প্রভাব কমে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ভোটাররা প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার পরিবর্তে ক্ষমতাসীনরাই কার্যত নিজেদের সুবিধামতো ভোটার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ট্রাম্পের পাশাপাশি কংগ্রেসের সদস্যদেরও সমালোচনা করেছেন নিক্সন। তার মতে, সম্ভাব্য সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শুধু বক্তব্য, চিঠি কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আরও কার্যকরভাবে নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন। নিক্সনের অভিযোগ, কিছু আইনপ্রণেতা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ আপত্তি জানালেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন না। তার দৃষ্টিতে, এই নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক করে তুলছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার সমর্থকেরা অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থানকে আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছেন। ভোট ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পক্ষেও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রচলিত আইন অনুসরণের যুক্তি দেওয়া হয়। তবে নিক্সনের মতামত নিবন্ধে এই পাল্টা অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি। নিবন্ধের শেষাংশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে আরও বেশি জবাবদিহি দাবি করার আহ্বান জানান নিক্সন। তার বক্তব্য, নেতারা যদি সত্যিই মনে করেন নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে, তাহলে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ নয় সেই ক্ষতি ঠেকাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপও নিতে হবে।
মাত্র ২৪ বছর বয়সে নিউ জার্সির বেলভিল টাউনশিপের মেয়র নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় এসেছেন ফ্র্যাঙ্ক ভেলেজ তৃতীয়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিক এবং টানা আট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা বর্তমান মেয়র মাইকেল মেলহ্যামকে পরাজিত করে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। গত ১ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ১২ মে অনুষ্ঠিত বেলভিলের অদলীয় (নন-পার্টিজান) মেয়র নির্বাচনে ভেলেজ প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। শুধু তাই নয়, টাউনশিপের ২৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতেই তিনি জয় পান, যা স্থানীয় নির্বাচনে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলকে বেলভিলের ভোটারদের পরিবর্তনের পক্ষে স্পষ্ট রায় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফ্র্যাঙ্ক ভেলেজের জনসেবার পথচলা শুরু হয় মাত্র ১৯ বছর বয়সে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তার বোনের অভিজ্ঞতা তাকে সমাজসেবামূলক কাজে অনুপ্রাণিত করে। এরপর তিনি বেলভিল বোর্ড অব এডুকেশনের সদস্য হিসেবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পক্ষে কাজ করেন। পরে দ্বিতীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হয়ে শিশু ও প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি সম্প্রসারণ, স্থানীয় ব্যবসার উন্নয়ন এবং কমিউনিটির অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করেন। তিনি প্রয়াত মার্কিন কংগ্রেসম্যান বিল পাসক্রেলের ফেডারেল স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত ইস্যু ছিল চলতি বছরের শুরুতে বেলভিলে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ ১৪-অ্যালার্ম গুদাম অগ্নিকাণ্ড। ওই ঘটনায় বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয় এবং স্থানীয় স্কুলগুলো এক সপ্তাহেরও বেশি সময় বন্ধ থাকে। সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের যোগাযোগ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক বাসিন্দা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই পরিস্থিতি নির্বাচনে পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে। নির্বাচনী প্রচারণায় ভেলেজ দায়িত্বশীল উন্নয়ন, জননিরাপত্তা জোরদার, স্থানীয় ব্যবসার প্রসার, পার্ক ও জনসেবার উন্নয়ন এবং কর্মজীবী পরিবারের দৈনন্দিন সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তার প্রচারণার মূল বার্তা ছিল—স্থানীয় সরকারের সিদ্ধান্তে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর নিজ শহরেই জনসেবায় যুক্ত হন ভেলেজ। নির্বাচনে জয়ের পর তিনি বলেন, বেলভিলবাসীর এই আস্থা তার জন্য বড় দায়িত্ব। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে কাজ করবেন। নিউ জার্সির এসেক্স কাউন্টিতে অবস্থিত বেলভিল টাউনশিপের আয়তন প্রায় ৩ বর্গমাইল এবং এটি নিউয়ার্ক শহরের পাশেই অবস্থিত। মাত্র ২৪ বছর বয়সে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে ফ্র্যাঙ্ক ভেলেজ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, তার এই বিজয় প্রমাণ করে যে বয়স নয়, জনগণের আস্থা, ধারাবাহিক জনসেবা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি।
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইরানের বদলে ভুল করে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব জাপান’ বলে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব জাপান আমাদের লক্ষ্য করে ১১১টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।” পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নিয়ে মন্তব্য করেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প আসলে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান বলতে চেয়েছিলেন। কারণ ইরানের সরকারি নাম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান, আর জাপানের সঙ্গে এমন কোনো সম্পর্ক নেই। বক্তব্যের ওই অংশ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একই সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। তার ভাষায়, এখনো সর্বোচ্চ মাত্রার হামলা চালানো হয়নি। প্রয়োজন হলে সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এছাড়া পারস্য উপসাগরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, সেখানে হামলা চালিয়ে একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে ওই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নেওয়া হতে পারে। এটি ছিল ওই দিন ট্রাম্পের একমাত্র ভাষাগত ভুল নয়। একই সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে উদ্দেশ্য করে ভুলবশত 'প্রেসিডেন্ট পুতিন' বলেও সম্বোধন করেন। পরে অবশ্য তিনি নিজের বক্তব্য সংশোধনের চেষ্টা করেন। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের ভিডিও এবং বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।
নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির সাম্প্রতিক প্রাথমিক নির্বাচনে একের পর এক জয়ের মধ্য দিয়ে নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের শক্তিশালী প্রমাণ দিলেন মেয়র জোহরান মামদানি। তার সমর্থন পাওয়া তিন প্রার্থীই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় দলটির ভেতরে নতুন শক্তিকেন্দ্র হিসেবে মামদানির উত্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মামদানির সমর্থিত প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে দুজন বর্তমান কংগ্রেস সদস্যকে পরাজিত করে জাতীয় পর্যায়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল জেলায় মামদানির সমর্থন পাওয়া ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার বিজয়ী হন। সপ্তম জেলায় জয় পান ক্লেয়ার ভালদেজ। আর ১০ম জেলায় মামদানির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী ব্র্যাড ল্যান্ডার বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করেন। এই সাফল্যের পর বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে উদযাপনে অংশ নিয়ে মামদানি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন চিন্তা, নতুন নেতৃত্ব এবং ভিন্নধর্মী নীতির প্রয়োজন রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলাফল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে প্রগতিশীল ধারার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির আদর্শিক অবস্থান ও নেতৃত্বের প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এবারের নির্বাচনে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কয়েকজন প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল-সংক্রান্ত নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেন। বিজয়ী প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার বলেন, এ বিষয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তবে সব আসনে প্রগতিশীল প্রার্থীরা সফল হননি। নিউইয়র্কের ১২তম কংগ্রেসনাল আসনে দলীয় মূলধারার সমর্থন পাওয়া মাইকা ল্যাশার বিজয়ী হয়েছেন। একইভাবে উটাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেও মধ্যপন্থি প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। এদিকে রিপাবলিকান পার্টিতেও নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক প্রাথমিক নির্বাচন। দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনের শুরুতে ট্রাম্প পাম এভেটকে সমর্থন দিলেও পরে দুই প্রার্থীর প্রতিই সমর্থন জানান। শেষ পর্যন্ত অ্যালান উইলসন বড় ব্যবধানে জয় পান। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প সমর্থিত আরও কয়েকজন গভর্নর প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হওয়ায় রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে তার রাজনৈতিক প্রভাব আগের মতো শক্তিশালী আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত কয়েকজন প্রার্থীও প্রত্যাশিত ফল পাননি। বিভিন্ন নির্বাচনে তারা উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রাথমিক নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলেই পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন রাজনৈতিক ধারার উত্থান যেমন স্পষ্ট হচ্ছে, তেমনি রিপাবলিকানদের মধ্যেও ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ প্রভাব ও ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণের জন্য যে ভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রাথমিক নির্বাচন বা প্রাইমারি বলা হয়। বর্তমানে অনুষ্ঠিত এসব নির্বাচন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেটিক সমাজতান্ত্রিক নেতা নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানের বাইরে গিয়ে একাধিক প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছেন। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, মামদানিকে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারাই কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলেছিলেন। তবে বামপন্থী মহলে আগে থেকেই জনপ্রিয় এই নেতা এখন বিভিন্ন মহল থেকে প্রশংসা পাচ্ছেন। অ্যালবানি থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক পার্টিকে নতুনভাবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনৈতিক প্রভাবের পরিধি আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছেন। এই লক্ষ্যেই তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানের বাইরে গিয়ে একাধিক প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ব্রুকলিনে ভোটারদের উৎসাহিত করতে আয়োজিত এক সমাবেশে স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে মামদানির সমর্থিত কয়েকজন প্রার্থীও অংশ নেবেন। বার্নি স্যান্ডার্সের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও মামদানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়েজ শাকির বলেন, “তিনি মনে করেন ডেমোক্রেটিক পার্টিকে বদলে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। তিনি নেতৃত্বের সমালোচনার জন্য এটি করছেন না। তিনি মনে করেন, যাদের সমর্থন করছেন তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও শক্তিশালী। প্রয়োজন হলে পরাজয় মেনেও তিনি সেই অবস্থানে অটল থাকবেন।” নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল জেলায় বর্তমান ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এস্পাইয়াতের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংগঠক দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়েরকে সমর্থন দিয়েছেন মামদানি। এ ছাড়া ১০তম জেলায় বর্তমান কংগ্রেসম্যান ড্যান গোল্ডম্যানের বিরুদ্ধে সাবেক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডারকে এবং সপ্তম জেলায় ডেমোক্রেটিক সমাজতান্ত্রিক অ্যাসেম্বলি সদস্য ক্লেয়ার ভালদেজকে সমর্থন করছেন তিনি। ক্লেয়ার ভালদেজ বলেন, “গত বছরের মেয়র নির্বাচনে মামদানি যেভাবে ভোটারদের উজ্জীবিত করেছিলেন, এখন সেই শক্তিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সময়।” তবে দলের মূলধারার নেতারা মামদানির এই অবস্থানে সন্তুষ্ট নন। প্রতিনিধিপরিষদে ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিজ মামদানি-সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীদের বিরোধিতা করে বর্তমান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মামদানির সমর্থিত প্রার্থীরা গাজা যুদ্ধ এবং নিউইয়র্কের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়কে নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন। তাদের অভিযোগ, কয়েকজন ডেমোক্রেটিক নেতা ইসরায়েলের প্রতি অতিমাত্রায় নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা নিজেদের করপোরেট প্রভাবমুক্ত নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরছেন। ওয়াশিংটনের অনেক ডেমোক্রেটিক নেতা মনে করছেন, মামদানি এখন দলের জন্য রাজনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়েছেন। তাদের মতে, তিনি এমন অনেক ভোটারকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন, যারা আগে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। তবে মধ্যপন্থী ডেমোক্রেটদের একটি অংশ আশঙ্কা করছে, তার বামপন্থী অবস্থান দলীয় রাজনীতিতে নতুন বিভাজন তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা মামদানির জনপ্রিয়তাকে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলে ব্যবহার করতে চাইছে। ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটির মুখপাত্র মাইক মারিনেলা বলেন, “মামদানির সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি অত্যন্ত বিতর্কিত এবং এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।” তবে ফয়েজ শাকির এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তার ভাষায়, “জোহরান মামদানি রাজনৈতিক বোঝা নন। তিনি ক্রমেই ডেমোক্রেটিক রাজনীতির একটি শক্তিশালী সম্পদে পরিণত হচ্ছেন।” সূত্র: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচিত পদে ফিলিস্তিনি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব এখনো সীমিত। এ পর্যন্ত ১০ জনেরও কম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এ ধরনের পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করার লক্ষ্যে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে লড়ছেন আবের কাওয়াস। আগামী ২৩ জুন নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরো থেকে সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-১২ এর ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। মঙ্গলবার প্রকাশিত মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাওয়াসের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন ফিলিপিনো-আমেরিকান আইনপ্রণেতা স্টিভেন রাগা। প্রাইমারি নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেবেন। নির্বাচিত হলে আগামী জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী অ্যালবানিতে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থন পেয়েছেন কাওয়াস। এর আগে ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনে মামদানির প্রচারণাকে সমর্থন করেছিলেন স্টিভেন রাগা। কাওয়াস বলেন, “মামদানি আন্দোলন বহু তরুণ এবং প্রগতিশীল বামপন্থির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এটি হতাশা কাটিয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।” তিনি জানান, সেই রাজনৈতিক গতি ও জনসমর্থন ধরে রাখার লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন। ২০২৫ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়লাভের আগে মেয়র মামদানিকে একজন বহিরাগত প্রার্থী হিসেবে দেখা হতো। ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের মতো নীতিগত প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তবে ফিলিস্তিন প্রশ্নে তার দৃঢ় অবস্থানই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তার অবস্থানের কারণে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে। তবু ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থান প্রাইমারি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাওয়াসের ব্যক্তিগত জীবনও অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতির অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তিনি একজন ফিলিস্তিনি অভিবাসী, যিনি নিজের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিমদের ওপর নজরদারি ও নিরাপত্তা অভিযান বাড়লে তার নথিপত্রহীন বাবাকে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) আটক করে। প্রায় তিন বছর আটককেন্দ্রে রাখার পর তাকে জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কারণে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার যে অভিযোগ উঠছে, কাওয়াস জানান তার পরিবারও একসময় একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। তিনি এবং তার ভাইবোনেরা দীর্ঘ সময় একক অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে বড় হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কাওয়াস বলেন, “আমি চাই না এমন ঘটনা আর কারও সঙ্গে ঘটুক।” নিউইয়র্কের কুইন্সের পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে গঠিত সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-১২ একটি বৈচিত্র্যময় এলাকা। এর আওতায় রয়েছে অ্যাস্টোরিয়া, লং আইল্যান্ড সিটি এবং সানিসাইডের মতো জনবহুল অঞ্চল। হিজাব পরিহিত কাওয়াস ইতোমধ্যে কয়েকটি ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছেন। সেখানে আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্কবিষয়ক কাউন্সিল এবং ফিলিস্তিনি অধিকারের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচারণা সংগঠনের সঙ্গে তার অতীত কাজের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। ইসরাইলপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এসব সংগঠনের সমালোচনা করে আসছে। কাওয়াস জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি মসজিদভিত্তিক সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে অভিবাসীদের অধিকার, ভাষাগত সহায়তা এবং পুলিশি সংস্কার নিয়ে কাজ করেছেন। তার মতে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে আরও কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল করতে এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক ধারা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে বিভিন্ন পটভূমির মানুষকে আইনসভায় প্রবেশ করতে হবে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে নির্বাচন করাকে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মনে করেন। মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে মুসলিম-আমেরিকান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হামলা ও হয়রানির ঘটনা গত ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গত মার্চে নিউইয়র্কের পরিচিত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান অধিকারকর্মী নার্দিন কিসওয়ানির বাসভবনে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই মাসে দীর্ঘদিন আটক থাকার পর ১ লাখ ডলার বন্ডের বিনিময়ে মুক্তি পান ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী লেকা কর্দিয়া। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।