আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কিছু রাজনৈতিক মহলের নেতিবাচক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শুক্রবার (২০ মার্চ) পারমাতাং পাও-এ এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং এটি সম্পূর্ণ বৈশ্বিক সংঘাতের ফল। অথচ অনেকে প্রকৃত কারণ না বুঝেই সরকারকে দোষারোপ করছেন, যা মোটেও দায়িত্বশীল আচরণ নয়। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম উল্লেখ করেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান হামলা-পাল্টা হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আনোয়ার জানান, বিশ্বের অনেক দেশ দাম বাড়াতে বাধ্য হলেও মালয়েশিয়া সরকার জনগণের স্বার্থে এখনো তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি 'পেট্রোনাস'-এর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী মে মাস পর্যন্ত দেশে জ্বালানি মজুত স্থিতিশীল থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনে মালয়েশিয়া কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, মালয়েশিয়া একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে বিশ্বশান্তির পক্ষে কাজ করে যাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাব এখন আকাশপথেও পড়তে শুরু করেছে। এই যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, ফলে বিশ্বজুড়ে বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং যাত্রীদের জন্য সামনে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। সিএনএন-এ প্রকাশিত আলেকজান্দ্রা স্কোরেস ও ক্রিস ইসিডোরের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তেলের দাম বাড়ায় বিমান সংস্থাগুলোর জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। একটি বিমানের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশই জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যত বাড়ছে, তার প্রভাব টিকিটের দামেও পড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। গত চার বছরের মধ্যে এই প্রথম তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি গেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্কট কিরবি সিএনবিসিকে জানিয়েছেন, তেলের দাম বাড়ার প্রভাব খুব দ্রুতই বিমানের ভাড়ায় পড়তে পারে এবং এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ব্যবসায়িক কৌশলেও পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে। এই যুদ্ধের কারণে শুধু তেলের বাজারই অস্থির হয়নি, বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিমান চলাচল বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক বিমান সংস্থা লাভজনক রুটও বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে ফ্লাইটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাজারে টিকিটের সংকট তৈরি হচ্ছে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্সের সাবেক নির্বাহী রব ব্রিটন বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণত বিমান ভাড়াও বাড়ে। তার মতে, জ্বালানির দাম যে হারে বাড়ে, টিকিটের দামও প্রায় একই অনুপাতে বাড়তে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লেই সব সময় বিমান সংস্থাগুলো পুরো বাড়তি খরচ যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। এভিয়েশন নিউজলেটার ‘ফ্রম দ্য ট্রে টেবিল’-এর লেখক জ্যাক গ্রিফ বলেন, ভাড়ার ওপর চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতির বড় প্রভাব থাকে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হলে বা ভ্রমণের চাহিদা কমে গেলে বিমান সংস্থাগুলো সহজে ভাড়া বাড়াতে পারে না। এদিকে তেলের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক রুটে ফ্লাইট কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লাইট কমে গেলে বাজারে সিটের জোগান কমে যাবে এবং এর ফলে টিকিটের দাম আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে যারা জুন বা জুলাই মাসে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তারা আগে থেকেই টিকিট বুক করে রাখা ভালো। বিশেষ করে পরিবর্তনযোগ্য বা ফেরতযোগ্য টিকিট কিনলে পরে পরিস্থিতি বদলালে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সিএনএনের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্য রয়েছেন। সর্বশেষ লেবাননের দক্ষিণ উপকূলে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় ১২ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২০৫ জন শিশুসহ প্রায় ১ হাজার ২৯৮ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১ হাজার ১২২ জন সামরিক সদস্য রয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৮২৬ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০৬ জন শিশু রয়েছে। অন্যদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। বেইত শেমেস শহরে একটি আবাসিক ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন এবং লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ২ জন সেনা সদস্য মারা গেছেন। সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা সদস্যের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তারা ইরাকে বিমান দুর্ঘটনা এবং কুয়েতে ইরানি হামলায় নিহত হন। ইরাকে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের সদস্য। সেখানে একজন ফরাসি সেনাও নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য দেশেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কুয়েতে ৬ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬ জন (বাংলাদেশি নাগরিকসহ), বাহরাইনে ২ জন এবং সৌদি আরবে ২ জন নিহত হয়েছেন। ওমান উপকূলে ড্রোন ও বোট হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিকসহ ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং প্রতিদিনই বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা।
জ্বালানি সাশ্রয় এবং তেলের দামের অস্থিরতা সামাল দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য হোম অফিস পদ্ধতি চালুর নির্দেশ দিয়েছে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দেশ দুটির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা থেকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। থাইল্যান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকার সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই যেসব ক্ষেত্রে দূর থেকে কাজ করা সম্ভব, সেখানে রিমোট ওয়ার্ক বা হোম অফিস ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তরগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তাদের কাছে প্রায় দুই মাসের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বজায় রাখতে আপাতত জ্বালানি তেল রপ্তানি স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের জন্য ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ৩০ বাথের নিচে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী ভিয়েতনামও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটি বিভিন্ন আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকে সুযোগ থাকলে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার অনুমতি দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। হ্যানয়ের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন বা সাইকেল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাবে ভিয়েতনামে জ্বালানির দামও বেড়েছে। খবরে বলা হয়েছে, দেশটিতে পেট্রলের দাম ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে হাজারো মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব সামাল দিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ধীরে ধীরে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় কিছু তেল–সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি দেশের ওপর আরোপিত তেলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “কিছু দেশের ওপর আমাদের নিষেধাজ্ঞা আছে। পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছি।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে নতুন করে আর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজনই হবে না। তার ভাষায়, “তারপর কে জানে? হয়তো এতটাই শান্তি থাকবে যে আর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে না।” একই সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, সম্প্রতি তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি “খুব ভালো” ফোনালাপ করেছেন। তবে ঠিক কোন দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যাতে সমুদ্রপথে আটকে থাকা রুশ তেল ক্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ কমানোর চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান বৈশ্বিক তেলবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের মুখে চরম বিপাকে পড়েছে পাকিস্তান। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার রাতে এক জরুরি ঘোষণায় ‘যুদ্ধকালীন কৃচ্ছ্রসাধন’ (War Austerity Plans) পরিকল্পনা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। ডন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্বালানি সাশ্রয় করতে এখন থেকে সরকারি অফিসগুলোতে সপ্তাহে মাত্র ৪ দিন কাজ চলবে। এছাড়া আগামী দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল ও কলেজ পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইনে পাঠদান অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অন্তত ৫০ শতাংশ কর্মী দিয়ে বাড়ি থেকে কাজ (Work from Home) করানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আগামী দুই মাসের জন্য সকল সরকারি ও দাপ্তরিক যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। দেশের এই কঠিন সময়ে সংহতি প্রকাশ করে সংসদ সদস্যদের বেতনও ২৫ শতাংশ কাটার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতে নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড। তারা জানিয়েছে, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ২৩তম দফার হামলা শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা শুরু করে। বিপ্লবী গার্ডের সর্বশেষ ঘোষণার আগে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র আসার খবরও পাওয়া যায়, যা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক উত্তেজনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে বেসামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে স্কুল ও হাসপাতালে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এ ধরনের বর্বরোচিত হামলার মুখেও ইরান কোনোভাবেই মাথা নত করবে না। সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “হাসপাতালে হামলা মানে জীবনের ওপর আঘাত, আর স্কুলে হামলা মানে একটি জাতির ভবিষ্যতের ওপর আঘাত।” অসুস্থ রোগী এবং শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করাকে আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালার চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুরো বিশ্বের উচিত এই বর্বরোচিত কাজের নিন্দা জানানো। ইরান এই ধরনের অপরাধের মুখে চুপ থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় ইরানের পক্ষ থেকে এই কড়া হুঁশিয়ারি এলো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেসামরিক স্থাপনায় হামলার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে নিজেদের কোনো বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্পেন। মাদ্রিদের এই অনড় অবস্থানের পর সোমবার স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুটি সামরিক ঘাঁটি থেকে অন্তত ১৫টি মার্কিন যুদ্ধবিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর মানচিত্রে দেখা গেছে, স্পেনের রোটা ও মোরন সামরিক ঘাঁটি ত্যাগ করা এসব বিমানের মধ্যে বেশিরভাগই ‘বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার’, যা আকাশে জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত থাকে। এর মধ্যে অন্তত সাতটি বিমান জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে হামলার জন্য স্পেন তাদের কোনো ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। তিনি বলেন, “জাতিসংঘের সনদের বাইরে বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিপন্থী কোনো কাজে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের সুযোগ নেই।” যদিও এসব ঘাঁটি যৌথভাবে পরিচালিত হয়, তবে এর সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণ স্পেনের হাতে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। স্পেনের সম্প্রচারমাধ্যম ‘টেলেসিনকো’কে আলবারেস আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে মাদ্রিদ। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের এই কঠোর অবস্থান ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্পেনের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সংঘাতের শুরুতে যুক্তরাজ্যও তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে গত রোববার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ‘সম্মিলিত আত্মরক্ষার’ যুক্তি দেখিয়ে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।