পিটিআই

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
ইমরান খানের জন্য মেডিকেল বোর্ডের নির্দেশ

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নতুন একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, এই বোর্ড ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবে যে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাইরে কোনো হাসপাতালে স্থানান্তর করা প্রয়োজন কি না। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছে আদালত।   বিচারপতি আরবাব মুহাম্মদ তাহির শুনানিকালে জানান, নতুন গঠিত বোর্ডে শিফা চক্ষু হাসপাতালের ডাক্তার নাদিম কুরেশিসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। বোর্ডের চূড়ান্ত রিপোর্ট ছাড়া তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। শুনানিতে আদালত আগের মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট উপস্থাপন না করায় উষ্মা প্রকাশ করলে ইসলামাবাদ অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, ইমরান খানের স্বাস্থ্য বর্তমানে সন্তোষজনক এবং সরকার তার চিকিৎসার বিষয়ে দায়বদ্ধ।   শুনানি চলাকালে পিটিআই আইনজীবী বাবর আওয়ান বন্দীদের সঠিক চিকিৎসার অধিকার তুলে ধরেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের দৃষ্টান্ত দিয়ে ব্যক্তিগত ডাক্তারদের প্রবেশের অনুমতি দাবি করেন। অন্যদিকে ইমরান খানের বোন আলীমা খানও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে তবে এর সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে। নতুন মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই এখন তার পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থা নির্ধারিত হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান কারাবন্দী ইমরান খানের সঙ্গে পিটিআই নেতা শাহবাজ গিল (ডানে)। ছবি: টুইটার
৯ মে সহিংসতার মামলায় পিটিআইয়ের ৪৭ নেতাকে কারাদণ্ড

পাকিস্তানে ২০২৩ সালের ৯ মে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের ৪৭ জন নেতা-কর্মীকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাওয়ালপিন্ডির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের বিচারক আমজাদ আলী শাহ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, দণ্ডিত নেতারা ওই সহিংসতার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন।   দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতা ওমর আইয়ুব, জারতাজ গুল, মুরাদ সাইদ, শিবলি ফারাজ, শাহবাজ গিল এবং হাম্মাদ আজহারসহ আরও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন। এছাড়া কানওয়াল শোজাব, জুলফি বুখারি ও উসমান সাইদ বাসরাসহ অন্তত ১৫ জন কেন্দ্রীয় নেতার নামও দণ্ডিতদের তালিকায় রয়েছে।   রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, আসামিরা জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সের গেট, হামজা ক্যাম্প এবং আর্মি মিউজিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫ লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   ২০২৩ সালের ৯ মে পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শুরুতে ইমরান খান ও শাহ মাহমুদ কোরেশিসহ মোট ১১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তবে মামলার শুরু থেকেই পলাতক থাকা ৪৭ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় পৃথকভাবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে এই রায় দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বেকারত্ব বাড়াচ্ছে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা -শিক্ষামন্ত্রী

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং উল্টো বেকারত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষা বেকার তৈরির জন্য নয়; বরং দক্ষ মানবসম্পদ ও কর্মসংস্থানের প্রধান মাধ্যম হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থাকে এখনই পুনর্গঠন করা জরুরি।   শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাকার মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “যে শিক্ষাব্যবস্থা কর্মসংস্থানের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে পারে না, তা অর্থহীন। আমাদের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে কর্মমুখী ও যুগোপযোগী শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। নতুন কলেজ বা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বাজারের চাহিদা ও বাস্তব কর্মসংস্থানের ওপর। কেবল আবেগ দিয়ে নয়, প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাঠ্যসূচি অনুমোদিত হবে।”   শিক্ষাক্ষেত্রে নৈতিকতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে ড. মিলন বলেন, “কেবল আর্থিক দুর্নীতি নয়, নৈতিক অবক্ষয়ও আমাদের বড় শত্রু। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারের কোষাগার থেকে অর্থ নেবে, অথচ শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারবে না—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের ট্যাক্সের পয়সার প্রতিটি হিসাব আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।”   ভাষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলা আমাদের আবেগ ও অস্তিত্বের প্রধান বাহন। একুশের চেতনাকে রাষ্ট্রীয় ও কর্মজীবনের প্রতিটি স্তরে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে একই সাথে বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও অন্যান্য বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনকে তিনি অপরিহার্য বলে অভিহিত করেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা রক্ষা ও বিকাশেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি জানান।   অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। আলোচকরা একটি দক্ষ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়তে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান
কারাবন্দি ইমরান খানকে ইসলামাবাদে নেওয়ার পরিকল্পনা

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের কারাজীবনে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রাওয়ালপিন্ডির কুখ্যাত আদিয়ালা জেল থেকে তাঁকে নবনির্মিত ইসলামাবাদ কারাগারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে পাকিস্তান সরকার। শুক্রবার ইসলামাবাদ পুলিশের এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, নবনির্মিত এই ইসলামাবাদ কারাগারে উন্নত সকল চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। যেহেতু ইমরান খান ইসলামাবাদের একটি আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হয়েছেন, তাই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁকে এই নতুন কারাগারে নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন।   তবে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরি সালমান সাফদার অ্যাডভোকেট কারাগারে তাঁর সাথে দেখা করার পর একটি সাত পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে ইমরান খানকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে কমে গেছে—তিনি এখন মাত্র ১৫ শতাংশ দেখতে পাচ্ছেন। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাঁর মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি জোরালো হচ্ছে।   এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফেডারেল সরকার সুপ্রিম কোর্টকে আশ্বস্ত করেছে যে, ইমরান খানকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত টেলিফোনে যোগাযোগের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।   এদিকে, ইমরান খানকে অবিলম্বে শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবিতে পাকিস্তানের রাজনীতি এখন রাজপথে গড়িয়েছে। তেহরিকে তাহফুজ আয়িনি পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা জুমার নামাজের পর থেকে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন। মাহমুদ খান আচাকজাই, আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস এবং ব্যারিস্টার গহর আলী খানের নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। অন্যদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী এবং পিটিআইয়ের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা খাইবার পাখতুনখোয়া হাউসে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুই স্থানেই বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও জেল স্থানান্তর ইস্যুটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতায় বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবরটি পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0