সিরিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এক ঝটিকা সফরে বের হয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা। এরই ধারাবাহিকতায় আজ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন এই দুই নেতা। বৈঠকে সিরিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডাউনিং স্ট্রিট সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সিরিয়ার গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য যে, লন্ডনে আসার ঠিক একদিন আগেই আহমেদ আল শারা বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইউরোপের প্রভাবশালী দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে পর পর এই বৈঠকগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সিরিয়ার নতুন সরকারের অবস্থানকে আরও সুসংহত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নবনিযুক্ত ৪২ জন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ১০টার দিকে গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন। গত ১৫ মার্চ সরকার ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়, যারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নবনিযুক্ত প্রশাসকদের সঙ্গে এটি তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের তীব্র উত্তেজনার মাঝে বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং একটি কার্যকর সমাধান খুঁজতে ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে চার দেশীয় উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ সম্মেলন। সোমবার এই সম্মেলনের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। তুরস্ক এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই চতুর্মুখী সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত প্রশমন করা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বর্তমান আঞ্চলিক সংকটে রিয়াদের প্রদর্শিত "অভাবনীয় ধৈর্যের" ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দেশটির শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI) প্রধান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লে. জেনারেল মুহাম্মদ আসিম মালিক। কর্মকর্তাদের এই উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পাকিস্তান কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও এই সংকট সমাধানে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। গত এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের চালানো 'ব্যাকচ্যানেল ডিপ্লোমেসি' বা নেপথ্য কূটনীতির বিস্তারিত সৌদি প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির লক্ষে ইসলামাবাদ সক্রিয়ভাবে বার্তার আদান-প্রদান করছে। মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে শরিফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তান সৌদি আরবের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে। চলতি মাসে রিয়াদের পর এটিই চার দেশের দ্বিতীয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে এখন ১৫ দফার একটি ডি-এস্কেলেশন বা উত্তেজনা প্রশমন ফ্রেমওয়ার্ক বিবেচনার জন্য রয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাকিস্তান। ৩০শে মার্চ পর্যন্ত এই নিবিড় আলোচনা চলবে বলে জানা গেছে।
আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এদিন সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বৈঠক শুরু হবে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী ১২ মার্চ, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম (২০২৬ সালের প্রথম) অধিবেশন আহ্বান করেছেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ প্রদান করেন। ভাষণে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম, সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়। পরে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সদস্য ইতোমধ্যে শপথ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন। আগামী ১২ মার্চ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে।
ভোটের ফলাফল ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। আজ রাতে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান দলের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করবেন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক: পর্যবেক্ষণ: নির্বাচনের ফলাফল তৈরি এবং ঘোষণার প্রক্রিয়া নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে দলটি। রহস্যজনক পরাজয়: অনেক আসনে প্রার্থীদের ‘রহস্যজনক’ পরাজয় ও ফলাফলে গরমিলের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা: ভোটের মাঠে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত। নির্দেশনা: বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মীদের বিচলিত না হয়ে কেন্দ্রীয় ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী জামায়াতের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।
আজকের কূটনৈতিক পাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ঠিক কোন পথে হাঁটছে, তার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এই আলোচনায়। গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক: নির্বাচন ও বাণিজ্য: ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও ট্যারিফ ইস্যু বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কূটনৈতিক তৎপরতা: রাষ্ট্রদূত প্রথমে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামের সাথে এবং পরবর্তীতে উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সাথে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ইতিবাচক সংকেত: বৈঠক শেষে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন এই আলোচনাকে ‘চমৎকার’ ও ‘ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরালো করার ইঙ্গিত দেয়। এই বৈঠক কি বাংলাদেশের আগামীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় কোনো পরিবর্তনের আভাস? আপনাদের মতামত কমেন্টে জানান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এখন তুঙ্গে বিদেশি তৎপরতা। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের সাথে বিশেষ বৈঠকে বসেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) নির্বাচনী পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দল। মূল ঘটনাবলি: সাক্ষাৎকার: বৈঠকে ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইজাবস সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সরাসরি তাদের শঙ্কা, প্রত্যাশা ও বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে মতামত গ্রহণ করেন। ইইউ-এর অবস্থান: প্রতিনিধি দলটি স্পষ্ট করেছে যে, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষের সুচিন্তিত মূল্যায়ন অপরিহার্য। ঐক্য পরিষদের দাবি: বৈঠকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই দিনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার হিসেবে ৫ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা দেশের মানবাধিকার রক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগমুহূর্তে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের এই ঘনঘন বৈঠক দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে? আপনার মন্তব্য নিচে জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।