লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে প্রায় তিন হাজারে পৌঁছেছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২ হাজার ৯৫৪ জনে। শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে মৃতের সংখ্যা আরও তিন শতাধিক বেড়েছে, যা দুর্যোগের প্রকৃত ভয়াবহতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে। গত ২৪ জুন পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই দুই ভূকম্পন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে সংঘটিত হয়, যা মুহূর্তেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের পর উদ্ধার তৎপরতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা এখন ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধীরে ধীরে তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে। তবে হতাশার মাঝেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই এখনো আশায় বুক বেঁধে দুর্ঘটনাস্থলগুলোর আশপাশে অবস্থান করছেন। নিখোঁজ স্বজনদের কোনো খোঁজ বা চিহ্ন পাওয়ার অপেক্ষায় তারা দিন গুনছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ হাজার ৫০০ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এবং নিখোঁজ আরও হাজার হাজার মানুষের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এদিকে, প্রধান দুটি ভূমিকম্পের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। দেশটির আবহাওয়া ও ভূতাত্ত্বিক দপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট ৯৪২টি আফটারশক বা মৃদু কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে, যা উদ্ধার কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক এই দুর্যোগ লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বিধ্বংসী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিপর্যয়ের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দেশটির সামনে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আট দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন এক নিরাপত্তারক্ষী। দীর্ঘ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের পর হার্নান গিলকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। গত ২৪ জুন দেশটির উত্তর উপকূলে আঘাত হানা যমজ ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের কাছে কাতিয়া লা মার এলাকার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিংমলের একটি অংশ ধসে পড়ে। ওই সময় পার্কিং এলাকার বেজমেন্টে অবস্থিত একটি ছোট কংক্রিটের নিরাপত্তা বুথে দায়িত্ব পালন করছিলেন হার্নান গিল। ভবন ধসে পড়ার পর প্রায় ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন তিনি। উদ্ধারকারীরা জানান, দুর্ঘটনার কয়েক দিন পর গিলের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হলেও তার কাছে পৌঁছানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। ধ্বংসস্তূপের বিশাল চাপ, অস্থিতিশীল কাঠামো এবং উদ্ধারপথ বারবার ধসে পড়ায় অভিযান আরও জটিল হয়ে ওঠে। নিরাপদ করিডোর তৈরি করে ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তার কাছে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লেগে যায়। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া চিলির এক দমকল কর্মকর্তা বলেন, এটি তার কর্মজীবনের সবচেয়ে কঠিন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি। ছোট ক্যামেরা, বিশেষ অনুসন্ধান যন্ত্র এবং সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করে ধাপে ধাপে গিলের অবস্থানে পৌঁছান উদ্ধারকর্মীরা। কোস্টারিকার রেড ক্রসের প্যারামেডিক অ্যালান মাদ্রিগাল জানান, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে প্রথমে ক্ষীণ কণ্ঠে সাহায্যের আবেদন শুনতে পান তিনি। পরে সহকর্মীরাও একই শব্দ শুনলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে নিচে একজন জীবিত রয়েছেন। এরপরই উদ্ধার অভিযান নতুন গতি পায়। উদ্ধারকারীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অবস্থায় গিলকে সরু একটি নলের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে শিরায় স্যালাইনও দেন। দীর্ঘ সময় আটকে থাকলেও তার শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত লাগেনি বলে তিনি উদ্ধারকারীদের জানিয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় যে কংক্রিটের নিরাপত্তা বুথে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন, সেটি ধসে পড়া ভবনের ভেতরে তার চারপাশে একটি সুরক্ষিত ফাঁকা জায়গা তৈরি করে। এ কারণেই তিনি প্রাণে বেঁচে যান বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। এই উদ্ধার অভিযানে ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল অংশ নেয়। কয়েকবার উদ্ধারপথ ধসে পড়লেও তারা অভিযান চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত সফল হন। ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৪ জুনের ওই যমজ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পের দীর্ঘ ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল অলৌকিকভাবে এই শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার হওয়া ওই ছেলেশিশুটির নাম ক্লিয়েবার মোরান। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের একটি ভেঙে পড়া ভবনের নিচে সে আটকে ছিল। উদ্ধারের পর ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা যখন ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনেন, তখন চারপাশের মানুষ আনন্দে উল্লাস ফেটে পড়েন। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এই ঘটনাকে দেশের এই চরম বিপর্যয়ের মাঝে একটি 'আশার আলো' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দ্রুত রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বা 'গোল্ডেন আওয়ার' মনে করা হয়। সেই সময়সীমা পার হওয়ারও তিন দিন পর ক্লিয়েবারকে জীবিত উদ্ধার করা এক প্রকার অলৌকিক বিষয়। ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট জর্জে রদ্রিগেজ বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষের জীবিত থাকার আশা ফুরিয়ে যায়নি। দেশি ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো তাই এখনো উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২৪ জুন বুধবার ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। নাসার স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, এই জোড়া ভূমিকম্পে দেশটিতে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, উপদ্রুত এলাকায় খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং মৌলিক সেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ত্রাণের খাবারের জন্য মানুষ মরিয়া হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তবে আন্তর্জাতিক সাহায্য আসতে শুরু করেছে এবং ইতিমধ্যেই ৪৭ টন মানবিক ত্রাণ সামগ্রী সেখানে পৌঁছেছে। আগামী ৬ মাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার জন্য প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়ায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা দিতে দেশটির ভেতরে ৯ শতাধিক সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে পুয়ের্তো রিকো ও কুরাসাওতে আরও প্রায় ৮০০ মার্কিন সামরিক সদস্য প্রস্তুত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ডোনোভান বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিচ্ছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দর পুনরায় সচল করতে সহায়তা করছে এবং আকাশ ও নৌপথে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে চার থেকে পাঁচটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মায়ামিভিত্তিক একটি সমন্বিত তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে এসব ড্রোন থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা, সড়ক যোগাযোগ এবং ধসে পড়া স্থাপনার অবস্থান শনাক্তে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ডোনোভানের ভাষায়, সাধারণত আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত সামরিক সক্ষমতাগুলো বর্তমানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে কাজে লাগানো হচ্ছে। তিনি বলেন, কিছু পরিস্থিতিতে আকাশপথ থেকে পর্যবেক্ষণ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য মাটির পর্যায়ের মূল্যায়নের তুলনায় বেশি কার্যকর হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সহযোগিতাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারসংক্রান্ত অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তবে মাদুরো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার কারাগারভিত্তিক অপরাধী গোষ্ঠী ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’র নেতাকে লক্ষ্য করে আরেকটি অভিযান চালায়। ডোনোভান জানান, ওই অভিযান ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সমন্বয়েই পরিচালিত হয়েছিল। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এখন দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। এতে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে ভেনেজুয়েলার আইনসভার প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এখন পর্যন্ত মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটির বয়স তিন বছর। তবে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। ডোনোভান বলেন, মার্কিন মেরিন সদস্যরাই প্রথম ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে অংশ নেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক উদ্ধারকারী দল পরিবহনেও সহায়তা করেছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স থেকে যাওয়া একটি উদ্ধারকারী দল একজন মা ও তার ৯ মাস বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ করেছে। ত্রাণ কার্যক্রমে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে লজিস্টিক ব্যবস্থাপনাকে উল্লেখ করেন ডোনোভান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা যেন প্রবেশপথে আটকে না পড়ে এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটিই এখন প্রধান লক্ষ্য। দুর্যোগের শুরুর দিকে পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল না পাঠানোয় সমালোচনার মুখে পড়ে ভেনেজুয়েলা সরকার। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে প্রথম কয়েক দিন হাত, কোদাল ও দড়ি ব্যবহার করে নিজেরাই স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। গত শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে কয়েকটি এলাকায় ভারী নির্মাণযন্ত্র দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো মরদেহ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডোনোভান বলেন, কয়েক দশকের দুর্বল নেতৃত্বের কারণে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওষুধ ও হাসপাতালের জনবলসংকট মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়াতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কত দিন ভেনেজুয়েলায় সামরিক সহায়তা কার্যক্রম চালাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি ডোনোভান। তিনি বলেন, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এবং বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির কোনো পরিকল্পনা নেই। ডোনোভানের ভাষায়, "থেকে যাওয়ার কোনো আলোচনা নেই। ত্রাণ কার্যক্রম শেষ হলে আমরা চলে যাব।" তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই মানবিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সামরিক সম্পর্কোন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ভেনেজুয়েলায় স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মধ্যে রাজধানী কারাকাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও এখনও বহু দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি উদ্ধারকর্মীরা। সীমিত যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে আসছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, অনেক ভবন ধসে পড়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই ধ্বংসস্তূপ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে, যা সময়ের সঙ্গে আরও বাড়ছে। এই পরিস্থিতি উদ্ধারকাজকে যেমন কঠিন করে তুলছে, তেমনি স্বজনদের খোঁজে অপেক্ষমাণ মানুষের জন্য মানসিক যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমনই এক হৃদয়বিদারক চিত্র তুলে ধরেছেন মিরেল্লা হেরেরা নামের এক নারী। ধসে পড়া একটি ভবনের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি এখনও তার ছেলের অপেক্ষায় রয়েছেন। সিএনএনকে তিনি বলেন, “এই অপেক্ষা মানুষকে পাগল করে দেওয়ার মতো। নিজেকে সামলে রাখতে পানি খাচ্ছি, হাঁটছি। মনে হয়, তারা যদি এখনও বেঁচে থাকে, তাহলে হয়তো বের হওয়ার জন্য লড়াই করছে।” এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে। ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের ও জ্যামন ভ্যান ডেন হোক ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেনটিনেল-১ স্যাটেলাইট থেকে সংগৃহীত রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তবে তারা এটিকে দ্রুত করা একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন বলে উল্লেখ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার ঘনবসতিপূর্ণ নগরায়ন এবং অনেক পুরোনো ও দুর্বল অবকাঠামো এই বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছানো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে, সিএনএন
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চার দিন আটকে থাকার পর এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রোববারের এই উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারের পর বাবা ও ছেলেকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষ উদ্ধারকারী দলের সাফল্যে স্বস্তি প্রকাশ করেন। দেশটির উপকূলীয় লা গুইরা অঙ্গরাজ্য গত বুধবারের ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৪৫০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া হাজারো মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী দল জানায়, বিশেষায়িত অনুসন্ধান ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রায় ১২ ঘণ্টার টানা তল্লাশির পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা বাবা-ছেলের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাদের উদ্ধার করা হয়। ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির এক সদস্য বলেন, চার দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকায় তারা স্বাভাবিকভাবেই খুব দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাদের শরীরে পানিশূন্যতা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীরগতিতে সম্পন্ন করতে হয়েছে, যাতে নতুন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। এলাকাটিতে উদ্ধার অভিযানে ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির সদস্যদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দলের সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন। এর আগের দিন একই এলাকায় এক মা ও তার নয় মাস বয়সী শিশুকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় উদ্ধারকারীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর ৭২ ঘণ্টা অতিক্রম করলে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তাই প্রতিটি সফল উদ্ধারকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র। দেশটির চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় তিনি ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি টাকার সমান। ভেনেজুয়েলার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এল সুমারিও–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই অর্থ সরাসরি জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। বিশেষ করে গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানীয় পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে এই তহবিল ব্যবহার করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় নেইমার বলেন, “ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য আমার হৃদয় কাঁদছে। আমি আশা করি, এই সামান্য সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি ও শক্তি বয়ে আনবে।” উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি সর্বশেষ তথ্যে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোর সদস্যরাও দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশায়। চিকিৎসা ও খাদ্যসংকট মোকাবিলায় জরুরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তাও ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন দুর্যোগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিত্বদের সহায়তা শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নেইমারের এই উদ্যোগ ভেনেজুয়েলার সংকটকে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরবে বলেও মনে করছেন তারা।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৮ দিন বয়সী নবজাতক সন্তানকে বুকে নিয়ে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন এক মা। টানা কয়েকদিন অন্ধকার গহ্বরে আটকে থেকেও সন্তানকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার যে সংগ্রাম তিনি চালিয়েছেন, তা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই নারী দায়ানা পাতিনো জানান, তার ছেলে হুয়ান ডেভিডই তাকে জীবনের শেষ সীমা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে। তিনি বলেন, “যতক্ষণ আমার সন্তান শ্বাস নিচ্ছিল, আমি জানতাম আমাকেও বাঁচতে হবে। বারবার ওর নাকে হাত দিয়ে দেখতাম, সে এখনও বেঁচে আছে কি না।” গত বুধবার আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত অন্তত দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আর নিখোঁজ রয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেই দায়ানা ও তার নবজাতক সন্তানের জীবিত উদ্ধারের ঘটনা অনেকের কাছে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ভূমিকম্পের সময় দেশটির উত্তর উপকূলীয় এলাকা লা গুয়াইরায় নিজেদের আট তলা অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘরে ছিলেন দায়ানা। প্রথমে কম্পনটিকে তেমন গুরুতর মনে না হলেও হঠাৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। তিনি দ্রুত ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এরপরই ভবনটি ধসে পড়ে। সেই মুহূর্তের বর্ণনায় তিনি বলেন, “হঠাৎ মনে হলো আমি বাতাসে ভাসছি। তারপরই বুঝতে পারলাম আমি কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে গেছি।” ধসে পড়া আসবাবপত্রের নিচে পুরোপুরি চাপা পড়ে গেলেও তিনি কোনোভাবে সন্তানকে আঁকড়ে ধরে রাখতে সক্ষম হন। আটকে পড়ার পর শুরুতে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও পরে নিজেকে সংযত করেন তিনি। বুঝতে পারেন, অযথা চিৎকার করে শক্তি নষ্ট করলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমে যাবে। তাই আশপাশে মানুষের উপস্থিতির শব্দ পেলেই কেবল সাহায্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দায়ানা জানান, তার একটি পা কংক্রিটের নিচে আটকে ছিল এবং তিনি নড়াচড়া করতে পারছিলেন না। তবুও মানসিকভাবে নিজেকে স্থির রাখার চেষ্টা করেন। অন্ধকারের মধ্যে ছোট একটি আলোর রেখা দেখতে পেয়ে তিনি আশাবাদী হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একসময় তিনি নিজের ভাইয়ের কণ্ঠে নাম ধরে ডাক শুনতে পান। তখনই তিনি সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করে জানান, “আমি এখানে।” তার ভাইও আশ্বাস দেন, তাকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত তিনি সেখানেই থাকবেন। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কর্মীরা জানান, এটি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অভিযান। ভূমিকম্পে দায়ানার দুই পায়ে আঘাত লাগলেও আশ্চর্যজনকভাবে নবজাতক হুয়ান প্রায় অক্ষত রয়েছে। এদিকে দায়ানার স্বামী গারসন ভূমিকম্পের সময় বাইরে ছিলেন এবং অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। নিজের চোখের সামনে ভবনটি ধসে পড়তে দেখে তিনি স্ত্রী ও সন্তানের বেঁচে থাকার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। পরে তাদের জীবিত ফিরে পাওয়া মুহূর্তটিকে তিনি “অলৌকিক” বলে বর্ণনা করেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম ওরা আর নেই। কিন্তু যখন ছেলেকে অক্ষত দেখলাম, মনে হলো আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।” এই ঘটনায় তাদের বাড়িঘর ও সব সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। এমনকি তাদের পোষা কুকুরটিও এখনও নিখোঁজ। তবুও নতুন করে জীবন শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা। গারসন বলেন, “আমরা সব হারিয়েছি, কিন্তু আমরা বেঁচে আছি—এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আমরা আবার সবকিছু গড়ে তুলব।” ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে এখনও উদ্ধার তৎপরতা চললেও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়ানা ও তার শিশুর বেঁচে ফেরার গল্প অনেকের কাছে নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৮ দিন বয়সী নবজাতক সন্তানকে বুকে নিয়ে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন এক মা। টানা কয়েকদিন অন্ধকার গহ্বরে আটকে থেকেও সন্তানকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার যে সংগ্রাম তিনি চালিয়েছেন, তা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই নারী দায়ানা পাতিনো জানান, তার ছেলে হুয়ান ডেভিডই তাকে জীবনের শেষ সীমা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে। তিনি বলেন, “যতক্ষণ আমার সন্তান শ্বাস নিচ্ছিল, আমি জানতাম আমাকেও বাঁচতে হবে। বারবার ওর নাকে হাত দিয়ে দেখতাম, সে এখনও বেঁচে আছে কি না।” গত বুধবার আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত অন্তত দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আর নিখোঁজ রয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেই দায়ানা ও তার নবজাতক সন্তানের জীবিত উদ্ধারের ঘটনা অনেকের কাছে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ভূমিকম্পের সময় দেশটির উত্তর উপকূলীয় এলাকা লা গুয়াইরায় নিজেদের আট তলা অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘরে ছিলেন দায়ানা। প্রথমে কম্পনটিকে তেমন গুরুতর মনে না হলেও হঠাৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। তিনি দ্রুত ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এরপরই ভবনটি ধসে পড়ে। সেই মুহূর্তের বর্ণনায় তিনি বলেন, “হঠাৎ মনে হলো আমি বাতাসে ভাসছি। তারপরই বুঝতে পারলাম আমি কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে গেছি।” ধসে পড়া আসবাবপত্রের নিচে পুরোপুরি চাপা পড়ে গেলেও তিনি কোনোভাবে সন্তানকে আঁকড়ে ধরে রাখতে সক্ষম হন। আটকে পড়ার পর শুরুতে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও পরে নিজেকে সংযত করেন তিনি। বুঝতে পারেন, অযথা চিৎকার করে শক্তি নষ্ট করলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমে যাবে। তাই আশপাশে মানুষের উপস্থিতির শব্দ পেলেই কেবল সাহায্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দায়ানা জানান, তার একটি পা কংক্রিটের নিচে আটকে ছিল এবং তিনি নড়াচড়া করতে পারছিলেন না। তবুও মানসিকভাবে নিজেকে স্থির রাখার চেষ্টা করেন। অন্ধকারের মধ্যে ছোট একটি আলোর রেখা দেখতে পেয়ে তিনি আশাবাদী হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একসময় তিনি নিজের ভাইয়ের কণ্ঠে নাম ধরে ডাক শুনতে পান। তখনই তিনি সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করে জানান, “আমি এখানে।” তার ভাইও আশ্বাস দেন, তাকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত তিনি সেখানেই থাকবেন। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কর্মীরা জানান, এটি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অভিযান। ভূমিকম্পে দায়ানার দুই পায়ে আঘাত লাগলেও আশ্চর্যজনকভাবে নবজাতক হুয়ান প্রায় অক্ষত রয়েছে। এদিকে দায়ানার স্বামী গারসন ভূমিকম্পের সময় বাইরে ছিলেন এবং অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। নিজের চোখের সামনে ভবনটি ধসে পড়তে দেখে তিনি স্ত্রী ও সন্তানের বেঁচে থাকার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। পরে তাদের জীবিত ফিরে পাওয়া মুহূর্তটিকে তিনি “অলৌকিক” বলে বর্ণনা করেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম ওরা আর নেই। কিন্তু যখন ছেলেকে অক্ষত দেখলাম, মনে হলো আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।” এই ঘটনায় তাদের বাড়িঘর ও সব সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। এমনকি তাদের পোষা কুকুরটিও এখনও নিখোঁজ। তবুও নতুন করে জীবন শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা। গারসন বলেন, “আমরা সব হারিয়েছি, কিন্তু আমরা বেঁচে আছি—এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আমরা আবার সবকিছু গড়ে তুলব।” ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে এখনও উদ্ধার তৎপরতা চললেও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়ানা ও তার শিশুর বেঁচে ফেরার গল্প অনেকের কাছে নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ার চার দিন পর এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। দুর্যোগের কয়েক দিন পর এই উদ্ধার অভিযান বিপর্যস্ত মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করলেও দেশজুড়ে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনাও দিন দিন কমে আসছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মার এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা নিরলসভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর পাশাপাশি স্বজনদের খোঁজে স্থানীয় বাসিন্দারাও খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন। রোববার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৭৭৪টি ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ১৫০ জন। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্দরনগরী লা গুয়াইরা। প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থিত এই শহরের বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলার মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় ফার্মেসি, সুপারমার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, ভূমিকম্পের পর সরকারি সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় ধীরগতিতে পৌঁছাচ্ছে। অনেক এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও আশ্রয়ের সংকট রয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, সামরিক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধান বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর পুনরায় সচল করতে আরও ২৩০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য ভেনেজুয়ায় পৌঁছাচ্ছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ২৫০ সদস্যের একটি দুর্যোগ মোকাবিলা দল পাঠিয়েছে। এছাড়া মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছে। তবে উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, সময় যত এগোচ্ছে জীবিত মানুষ উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এল সালভাদরের এক উদ্ধারকর্মী বলেন, "এ পর্যায়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মরদেহ উদ্ধার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও আমরা আশা ছাড়ছি না। ঈশ্বরের কৃপায় এখনো কিছু মানুষকে জীবিত পাওয়া যেতে পারে।" ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে মানুষের ক্ষোভও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের তানাগুয়ারেনা এলাকায় এক বাসিন্দাকে সেনাদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, "দেশের এখন আপনাদের প্রয়োজন। অস্ত্র নামিয়ে রাখুন, কোদাল আর শাবল হাতে নিন।" স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য বিভিন্ন দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ২৪টি দেশ ভেনেজুয়েলায় ৫২১ টন ত্রাণসামগ্রী, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষ শনাক্তে প্রশিক্ষিত ৮৬টি অনুসন্ধানী কুকুর এবং ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে সর্বোচ্চ ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা এবং ত্রাণসামগ্রীর প্রয়োজন হবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প। এমন সময় এই বিপর্যয় আঘাত হেনেছে, যখন দেশটি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি এই সংকটে হাসপাতাল, জনসেবা ও অবকাঠামো ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং লাখো মানুষ দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রায় ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান। এদিকে নির্বাসিত বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি শিগগিরই ভেনেজুয়েলায় ফিরবেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এখন আমাদের একসঙ্গে থাকার সময়। শোক ভাগাভাগি করার পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।"
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ট্রেজোর স্ত্রী ও সন্তানদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবার দেশটিতে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৪৩০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ট্রেজোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেল্লা এবং দুই সন্তান অ্যারন ও আইনোহা মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। ট্রেজোর পারিবারিক বন্ধু এবং আরেক ফুটবলার এডসন টরটোলিরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে স্প্যানিশ ভাষায় এই দুঃসংবাদটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, "আমরা ভেনেজুয়েলা এবং আর্জেন্টিনার সকলকে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি যে, লুকাস ট্রেজোর পরিবারের সদস্যদের প্রাণহীন দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ এবং তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর অনুরোধ করছি। আমরা তাদের অনন্ত জীবনের জন্য প্রার্থনা করি।" দীর্ঘ ৭৪ ঘণ্টা ধরে চলা শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের পর তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রেজোর বর্তমান ক্লাব 'ক্লাব স্পোর্ট মেরিটিমো দে লা গুয়াইরা'। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার এই ক্লাবটি জানায়, "লুকাস ট্রেজোর পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে ক্লাব স্পোর্ট মেরিটিমো লা গুয়াইরা গভীরভাবে শোকাহত। ৭৪ ঘণ্টার তল্লাশি শেষে তাঁদের মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আমরা তাঁর স্বজন এবং সতীর্থদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অনুরোধ জানাচ্ছি।" ৩৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার লুকাস ট্রেজো তাঁর ক্যারিয়ারের বড় একটি সময় ভেনেজুয়েলায় কাটিয়েছেন এবং চলতি বছরের শুরুতেই মেরিটিমোতে যোগ দেন। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজে এই যন্ত্রণাদায়ক তল্লাশি অভিযানে অংশ নিতে তাঁর বাবা ও ভাই আর্জেন্টিনা থেকে ভেনেজুয়েলায় ছুটে এসেছিলেন। সদ্য হারানো স্ত্রীর জন্মদিনে গত এপ্রিলে ট্রেজো ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, "শুভ জন্মদিন আমার ভালোবাসা! ঈশ্বর তোমার জীবনকে আশীর্বাদে ভরিয়ে দিন এবং তোমার মনের বাসনা পূর্ণ করুন। তোমাকে পাওয়া আমাদের পরিবারের জন্য এক বিরাট আশীর্বাদ। তোমার সাথে সবকিছুই সবসময় অনেক সহজ এবং সুন্দর।" দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কেবল ট্রেজোর পরিবারই নয়, তাঁর ক্লাব মেরিটিমো আরও একটি শোকের সম্মুখীন হয়েছে। সম্প্রতি ক্লাবটি তাদের ১৪ বছর বয়সী নিজস্ব খেলোয়াড় ভিক্টর প্যালাসিওসের মৃত্যুতেও গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প এখন লাতিন আমেরিকায় মার্কিন ক্ষমতার এক নতুন পরীক্ষা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের এক ঝটিকা অভিযানে ভেনিজুয়েলার দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র শাসক নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত ও বন্দি করার পর দেশটির বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিজেদের মিত্র হিসেবে ঘোষণা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। আর সেই মিত্র দেশটিতেই এই প্রলয়ংকরী দুর্যোগের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি বিশাল, দ্রুত এবং কার্যকর উদ্ধার ও ত্রাণ মিশন পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ২৫০ জনেরও বেশি সদস্যের একটি বিশেষ বিপর্যয় সহায়তা রেসপন্স টিম পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল সহায়তা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে, যা যেকোনো দুর্যোগের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম বড় অনুদান। তবে এই উদ্ধার অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি মরণপণ পরীক্ষা। কারণ, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা বা ইউএসএআইডির বাজেট ও জনবল ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করেছেন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার পুরো দায়িত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করেছেন। এই কাটছাঁটের কারণে ওই অঞ্চলে আগে যেখানে ১৪৪ জন অভিজ্ঞ ত্রাণকর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করতেন, সেখানে এখন মাত্র ১৪ জন সদস্য অবশিষ্ট আছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কারাকাসে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে এবং আমাদের অনেক লোক সেখানে সাহায্য করছে। মাদুরোকে বন্দি করার পর থেকে ভেনিজুয়েলার সাথে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আমরা সেখান থেকে লাখ লাখ ব্যারেল তেল তুলে নিয়েছি, যা যুদ্ধের খরচ বহুবার পুষিয়ে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই ভূমিকম্পের ঘটনা বাদ দিলে ভেনিজুয়েলা এখন একটি সুখী দেশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের নির্দেশে গঠিত ভেনিজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেসের সরকারকে টিকিয়ে রাখা এবং অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এই বিপর্যয় মোকাবিলা করা ওয়াশিংটনের জন্য এখন অত্যন্ত মর্যাদার লড়াই।
ভয়াবহ দুই দফা ভূমিকম্পে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে ঘরবাড়ি, হারিয়ে যায় পুরো পরিবার। তবু ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে এখনো অপেক্ষা করছেন এক মা—তার বিশ্বাস, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা প্রায় দুই বছরের ছেলে এখনো বেঁচে আছে। ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর এমন অসংখ্য হৃদয়বিদারক দৃশ্য এখন দেশজুড়ে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটিতে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ভূমিকম্পের খবর পেয়ে কর্মস্থল থেকে ছুটে বাড়ি ফেরেন আন্দ্রেইনা ভ্যালেরিও। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ছোট ছেলে সান্তিয়াগোকে নিরাপদে নিয়ে আসা। কিন্তু লা গুয়াইরায় পৌঁছে তিনি দেখেন, যেখানে তার ছেলেটি ছিল, সেই ভবনটি পুরোপুরি ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সান্তিয়াগো তখন তার বাবা রামসেস মেনদোজার সঙ্গে দাদা-দাদির বাসায় ছিল। ধসে পড়া সেই ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আন্দ্রেইনা জানান, তার ছেলে, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি, এমনকি পরিবারের আরও সদস্যরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। তবুও তিনি আশা ছাড়েননি। তার ভাষায়, “আমি এখনো বিশ্বাস করি আমার ছেলে বেঁচে আছে। আমি যে কান্নার শব্দ শুনেছি, সেটি আমার ছেলেরই। আমি জানি, তারা ফিরে আসবে।” পরিবারের আরেক সদস্য স্যামুয়েল মেনদোজা জানান, ভূমিকম্পের পরের সকালে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক নারীর কণ্ঠ তিনি শুনেছিলেন। “ঠিক বুঝতে পারিনি তিনি কী বলছিলেন, তবে একটি শব্দ পরিষ্কার ছিল—‘বাঁচান’,” বলেন তিনি। এদিকে, আন্দ্রেইনার দাবি, পরদিন তিনি নিজেও একটি শিশুর কান্নার শব্দ শুনেছেন। সেই বিশ্বাসই তাকে এখনো ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহস জোগাচ্ছে। শুধু এই পরিবারই নয়, এমন হাজারো মানুষ এখন তাদের স্বজনদের খুঁজে ফিরছেন। লা গুয়াইরা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে বহু মানুষ খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রিয়জনদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। অনেকেই টানা কয়েক রাত ঘুমাননি; ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডাকতে ডাকতে কারও কারও কণ্ঠ ভেঙে গেছে। শনিবার এল সালভাদর ও স্পেন থেকে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ধসে পড়া ভবনের ভেতরে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই ভবন থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ভূমিকম্পের পর ধীরে ধীরে স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে যুক্ত হন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্বেচ্ছাসেবকেরা এসে সহায়তার হাত বাড়ান। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ভেনেজুয়েলার প্রস্তুতি যে পর্যাপ্ত ছিল না, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদকের বর্ণনায়, হোটেল এডওয়ার্ড এলাকায় পৌঁছানোর পর বাতাসে মৃত্যুর গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ আর হতাশার চিত্র—যেখানে দীর্ঘ সময় কেউ বেঁচে থাকতে পারে, এমন আশা ধরে রাখা কঠিন। সরকারি হিসাবে, শুধু লা গুয়াইরা শহরেই অন্তত ৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, আহত হয়েছেন ৩ হাজার ২৩৮ জন। তবে এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ এই ভূমিকম্পকে গত ১২৩ বছরের মধ্যে দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ বলে উল্লেখ করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে লা গুয়াইরার বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ১৪ হাজার সদস্য মাঠে কাজ করছেন। শুরুর দিকে উদ্ধারকাজে সীমিত সরঞ্জাম থাকলেও পরে ধীরে ধীরে ভারী যন্ত্রপাতি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে শুরু করেছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরা ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করছেন, যাতে দুর্গত মানুষ কিছুটা সহায়তা পান। তবুও ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের চোখে একটাই প্রশ্ন—তাদের প্রিয়জনরা কি এখনো বেঁচে আছেন? আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সময়ের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৮ দিনের এক নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই অলৌকিক ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর একই ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটির মাকেও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার (২৬ জুন) গভীর রাতে দেশটির রাজধানী কারাকাসের উত্তরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৭ জুন) বার্তা সংস্থা এএফপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্দ্রেয়িনা কুইন্তেরো নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা সর্বপ্রথম এই ভিডিওটি প্রকাশ করেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, লা গুয়াইরা শহরে ফ্লাডলাইটের আলো জ্বালিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন কর্মীরা। গভীর রাতে যখন কংক্রিটের নিচ থেকে অক্ষত অবস্থায় শিশুটিকে বের করে আনা হয়, তখন সেখানে উপস্থিত সবার মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় এবং তারা হাততালি দিয়ে ওঠেন। কাঁথামোড়ানো শিশুটিকে অত্যন্ত সাবধানে উদ্ধার করে টিস্যু দিয়ে তার শরীর পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টা ধুলাবালু ও অন্ধকূপের নিচে আটকে থাকার পরও শিশুটির শরীরে বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শিশুটিকে উদ্ধারের ঠিক এক ঘণ্টা পর তার মাকেও জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন কর্মীরা। পরবর্তীতে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া মা হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মূলত মায়ের অসীম আত্মত্যাগের কারণেই শিশুটির প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। ভূমিকম্পের সময় মা নিজের শরীর অথবা অন্য কোনো শক্ত বস্তু দিয়ে সন্তানকে ঢেকে রেখেছিলেন, ফলে ভারী কংক্রিট বা পাথর পড়ার পরও শিশুটি অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মাকে ইতিমধ্যে সন্তানের সম্পূর্ণ সুস্থতার খবর জানিয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে ভেনেজুয়েলায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত ৯২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ এবং এখনো ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আঘাত হানা ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে বেঁচে যাওয়া মানুষদের উদ্ধারে সেখানে যাচ্ছেন দক্ষিণ ফ্লোরিডার শীর্ষ উদ্ধারকারী দলগুলোর সদস্যরা। ফ্লোরিডা টাস্ক ফোর্স ১ এবং ২-এর প্রায় ৮০ জন অভিজ্ঞ সদস্য গত বুধবারের ওই শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে ইতিমধ্যে কারাকাসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ উদ্ধারকারী দলটির সদস্যদের মধ্যে অনেকেই ভেনেজুয়েলীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় এই মানবিক মিশনটি উদ্ধারকর্মীদের কাছে অত্যন্ত আবেগঘন এবং ব্যক্তিগত একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ফ্লোরিডা টাস্ক ফোর্স ওয়ানের ১৫ বছরের অভিজ্ঞ সদস্য এবং মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেস্কিউয়ের ক্যাপ্টেন জার্মান লিয়াল বলেন, কারাকাসের যেসব রাস্তায় তিনি ছোটবেলায় খেলে বড় হয়েছেন, আজ ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া সেই চেনা রাস্তাগুলোতেই তাঁকে উদ্ধারকাজ চালাতে হবে। দুর্যোগের পর মাত্র কয়েক দিন পার হওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক মানুষের জীবিত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মিয়ামি-ডেড কাউন্টির মেয়র ড্যানিয়েলা লেভিন কাভা জানিয়েছেন, এই উদ্ধারকারী দলের পুরুষ ও নারী সদস্যরা কারাকাসের বিপর্যস্ত মানুষের জন্য প্রকৃত স্বস্তি ও নিপুণ উদ্ধারকাজ নিশ্চিত করতে যাচ্ছেন। এর আগে এই বিশেষ দলটির সদস্যরা মিয়ামি-ডেডের চ্যামপ্লেইন টাওয়ার ধস এবং হাইতির ভয়াবহ ভূমিকম্পের মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক দুর্যোগে সফলভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেছেন। উদ্ধারকারী দলটির সঙ্গে কংক্রিট কেটে সুড়ঙ্গ তৈরির আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াও যোগ দিয়েছে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কে-নাইন (K9) ডগ স্কোয়াড, যারা ধ্বংসস্তূপের গভীরে আটকে থাকা জীবিত মানুষের উপস্থিতি সহজেই শনাক্ত করতে সক্ষম। এছাড়া ফ্লোরিডা টাস্ক ফোর্স টু-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই অভিযানে যাচ্ছেন বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং স্ট্রাকচারাল বা কাঠামো প্রকৌশলী, যারা ক্ষতিগ্রস্ত জরাজীর্ণ ভবনগুলোর নিরাপত্তা তদারকি করবেন। মিয়ামি ফায়ার চিফের মতে, এই মিশনটি কেবল ফ্লোরিডা শহর নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করার এক বিশাল ও গৌরবময় দায়িত্ব। অন্যদিকে মিয়ামির স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি শহরের প্রায় প্রতিটি বাসিন্দারই কোনো না কোনো বন্ধু বা পরিবারের সদস্য ভেনেজুয়েলায় বসবাস করেন, যার ফলে সেখানে থাকা প্রিয়জনদের সুরক্ষার বিষয়ে পুরো মিয়ামিবাসী এখন চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মার্কিন সরকারের এই জরুরি মানবিক সহায়তা কারাকাসের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে এবং বহু মূল্যবান প্রাণ বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৯৮০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কারাকাস এবং লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা দিন-রাত অবিরাম উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও আটকে পড়া মানুষের বাঁচার আকুতি শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের প্রধান দুটি হাসপাতাল রোগীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এবং চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চিকিৎসা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। ভয়াবহ এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত সাড়া দিয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড থেকে ৮০ সদস্যের একটি বিশেষায়িত দল এবং মেক্সিকো, এল সালভাদরসহ কয়েকটি দেশের উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছে অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা এই আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করছেন। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম'-এর আওতায় স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, লুক্সেমবার্গ, চেকিয়া ও নেদারল্যান্ডস থেকে মানবিক সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার এই বিপর্যয় মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, জাতিসংঘ এই সহায়তা সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেবে। উল্লেখ্য, বুধবার রাতে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূকম্পনটিকে ১৯০০ সালের পর দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভূতত্ত্ববিদদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, ভেনেজুয়েলার উপকূলজুড়ে বিস্তৃত 'সান সেবাস্তিয়ান ফল্ট'-এ ফাটল সৃষ্টির কারণেই এই দুর্যোগের সূত্রপাত। যুক্তরাজ্যের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যার প্রভাষক ড. অ্যামি গিলিগানের মতে, এত বড় মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফল্ট লাইনে ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি করতে সক্ষম।
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৯৮০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কারাকাস এবং লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা দিন-রাত অবিরাম উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও আটকে পড়া মানুষের বাঁচার আকুতি শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের প্রধান দুটি হাসপাতাল রোগীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এবং চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চিকিৎসা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। ভয়াবহ এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত সাড়া দিয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড থেকে ৮০ সদস্যের একটি বিশেষায়িত দল এবং মেক্সিকো, এল সালভাদরসহ কয়েকটি দেশের উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছে অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা এই আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করছেন। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম'-এর আওতায় স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, লুক্সেমবার্গ, চেকিয়া ও নেদারল্যান্ডস থেকে মানবিক সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার এই বিপর্যয় মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, জাতিসংঘ এই সহায়তা সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেবে। উল্লেখ্য, বুধবার রাতে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূকম্পনটিকে ১৯০০ সালের পর দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভূতত্ত্ববিদদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, ভেনেজুয়েলার উপকূলজুড়ে বিস্তৃত 'সান সেবাস্তিয়ান ফল্ট'-এ ফাটল সৃষ্টির কারণেই এই দুর্যোগের সূত্রপাত। যুক্তরাজ্যের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যার প্রভাষক ড. অ্যামি গিলিগানের মতে, এত বড় মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফল্ট লাইনে ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি করতে সক্ষম।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের কাছে পাঠানো এক বার্তায় এ প্রস্তাব দেন। বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই বার্তায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, এই দুর্যোগের সময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য জরুরি ত্রাণ, চিকিৎসা সামগ্রী ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা পাঠাতে ইরান প্রস্তুত। তিনি ভূমিকম্পকে একটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ ঐক্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। বুধবার রাতে ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ এবং বহু ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে এবার দেখা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুৎ ও পানির সংকট, খাদ্যের অভাব এবং ত্রাণ সহায়তা না পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার লা গুয়াইরা রাজ্যের উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারের একটি বড় সুপারমার্কেটে প্রকাশ্যে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ভূমিকম্পে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ও অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ওই সুপারমার্কেটে সাধারণ মানুষ এবং কিছু দুষ্কৃতকারী প্রবেশ করে খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যেতে দেখা যায়। এএফপির প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মীরা জানান, ভূমিকম্পের পর পুরো এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্ধকার ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অনেকে ব্যাগভর্তি করে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে চলে যান। ঘটনাস্থলে তখন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। গত বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা অঞ্চল। সেখানে অসংখ্য বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনা ধসে পড়েছে। কয়েকটি এলাকায় গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণের কারণে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডও ঘটে, যা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত ত্রাণ না পৌঁছানো এবং খাদ্য সংকটের কারণেই কিছু মানুষ লুটপাটে জড়িয়ে পড়ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা আরও বাড়ছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে দ্রুত অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, ত্রাণ বিতরণ জোরদার এবং বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর খাদ্য, নিরাপত্তা ও জরুরি সেবার ঘাটতি দেখা দিলে অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তাই উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি দ্রুত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৮৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরাসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। কয়েক সেকেন্ড পরই আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, দুটি ভূমিকম্পই ছিল অগভীর গভীরতায়, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। কারাকাস ও লা গুয়াইরার বিভিন্ন এলাকায় বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের সাহায্যের আর্তনাদ শোনা গেছে। জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে লা গুয়াইরা এলাকায়। সেখানে একটি ১০ তলা হোটেল সম্পূর্ণ ধসে পড়ার ঘটনাও নিশ্চিত করেছে বিবিসি। কারাকাসের বাসিন্দা ও মেডিকেল শিক্ষার্থী হুয়ান অর্টিজ বিবিসিকে জানান, তার এক বন্ধু নিহত হয়েছেন, আরেকজন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী তার পরিচিত অন্তত ২০ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে তিনি অসহায় ও হতবিহ্বল বোধ করছেন। কারাকাসের চাকাও এলাকার মেয়র গুস্তাভো দুকে জানান, একটি ধসে পড়া ভবন থেকেই ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখনও জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। রাজধানীর বাইরে ত্রুহিয়ো, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগুয়া ও মিরান্ডা অঙ্গরাজ্যেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর কাছের মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিমানবন্দরের ভেতরের ভিডিওতে ছাদের অংশ ভেঙে ধুলাবালি পড়ে যেতে দেখা গেছে। ভূমিকম্পের পর অন্তত ৩০টির বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এতে আতঙ্কিত অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরে না গিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। ইউএসজিএস সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সংস্থাটির প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়নে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩৩ শতাংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে তারা স্পষ্ট করেছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাস নয়; অতীতের একই ধরনের ভূমিকম্প, জনঘনত্ব, ভবনের মান এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে জরুরি সাড়া কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তৈরি করা একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলা দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্লেটগুলোর মধ্যে জমে থাকা চাপ হঠাৎ মুক্ত হয়ে যাওয়ায় এ ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ সালের পর এটি দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এর আগে ১৯৬৭ সালে কারাকাসে বড় ধরনের ভূমিকম্পে প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এদিকে উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, এল সালভাদর, মেক্সিকো ও কাতার সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জরুরি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সহায়তা এবং মানবিক সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনিজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চালাতে নিজেদের শীর্ষস্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাণঘাতী এই ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির 'ইউএসএ-০১' এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের 'ইউএসএ-০২' নামক আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমগুলোকে সক্রিয় করা হয়। বর্তমানে 'ইউএসএ-০১' দলের ৭৯ জন সদস্য, ছয়টি স্নিফার ডগ বা সন্ধানী কুকুর এবং প্রায় ৭০ হাজার পাউন্ডের বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত দুর্যোগকবলিত এলাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এই এলিট উদ্ধারকারী দলে মূলত অভিজ্ঞ অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা থাকলেও তাদের সঙ্গে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী এবং কুকুর পরিচালনাকারীরাও যুক্ত রয়েছেন। এর আগে ২০১০ সালের হাইতির ভূমিকম্প এবং ২০১১ সালের জাপানের সুনামির মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও তারা সাহসিকতার সঙ্গে সফল উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেছিলেন। বড় আকারের ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত মাসেই ভার্জিনিয়ায় এই দুই দল যৌথভাবে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জন মরিসন জানিয়েছেন, ভেঙে পড়া শক্তিশালী কংক্রিটের ভবনের গভীরে আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছানোই তাদের মূল দক্ষতা, যেখানে সাধারণ উদ্ধারকারীদের পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট উদ্ধারকারী দলগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের উপায় নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঠিক এই ধরনের চরম পরিস্থিতির জন্যই তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রস্তুত করেছেন এবং তারা সম্পূর্ণভাবে তৈরি আছেন। উদ্ধার অভিযানের এই ঘোষণার পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউথকম (SOUTHCOM) জানিয়েছে, তারাও দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও জনবল প্রস্তুত করছে। উল্লেখ্য, দশকের পর দশক ধরে চলা সমাজতান্ত্রিক শাসনের কারণে ভেনিজুয়েলার অবকাঠামোগত অবস্থা এমনিতেই বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশটির জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।