যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ডেলিভারি রোবট দেখে অবাক ভারতীয় দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির জার্সি সিটিতে প্রথমবার খাবার সরবরাহকারী রোবট দেখে বিস্মিত ভারতীয় এক দম্পতির প্রতিক্রিয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ইন্ডিয়া স্কয়ার এলাকায় মেয়ের সঙ্গে হাঁটার সময় চালকবিহীন ছোট্ট রোবটটি দেখতে পান তারা।
ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাথ দিয়ে ছোট রোবটটি এগিয়ে যাওয়ার সময় দম্পতি প্রথমে কিছুটা বিভ্রান্ত হন। এরপর রোবটটির দিকে ফিরে তাকান তারা। প্রযুক্তিটি কীভাবে কাজ করছে, তা দেখে তাদের মুখে বিস্ময় ও কৌতূহল ফুটে ওঠে।
ভিডিওটি প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রিয়াঙ্কা। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি জানান, তার বাবা-মা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে ‘চাকার ওপর ছোট্ট একটি বাক্স’ নিজে নিজেই খাবার পৌঁছে দিতে পারে। তাদের বিস্ময়, বিভ্রান্তি ও আনন্দের মুহূর্তটিকে তিনি পরিবারের জন্য ‘অ্যাবসলিউট কোর মেমোরি’ বা চিরস্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরাও দম্পতির প্রতিক্রিয়াকে বেশ মজার ও হৃদয়ছোঁয়া হিসেবে দেখেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, নতুন প্রযুক্তি প্রথমবার দেখার এমন সরল প্রতিক্রিয়া সত্যিই আনন্দদায়ক।
জার্সি সিটিতে রোবট ডেলিভারি নতুন নয়
তবে জার্সি সিটির বাসিন্দাদের জন্য এমন রোবট এখন আর একেবারে নতুন দৃশ্য নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাভরাইড তাদের চালকবিহীন ডেলিভারি রোবট নিয়ে জার্সি সিটিতে কার্যক্রম শুরু করে। শুরুতে ডাউনটাউন এলাকার হ্যামিল্টন পার্ক, হিস্টোরিক ডাউনটাউন ও ওয়াটারফ্রন্ট এলাকায় এসব রোবট খাবার পৌঁছে দিত। গ্রাহকরা উবার ইটস অ্যাপের মাধ্যমে রোবট ডেলিভারি বেছে নিতে পারতেন।
রোবটটি সাধারণত ফুটপাথ ও নির্দিষ্ট ক্রসওয়াক ব্যবহার করে চলাচল করে। এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫ মাইল পর্যন্ত হতে পারে এবং সেন্সরের মাধ্যমে পথচারী ও আশপাশের বাধা শনাক্ত করে চলতে পারে। খাবার পৌঁছালে গ্রাহক অ্যাপের মাধ্যমে রোবটের লক খোলেন এবং নির্দিষ্ট compartment থেকে খাবার সংগ্রহ করেন।
২০২৬ সালেও জার্সি সিটিতে এ ধরনের প্রযুক্তির বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারিতে কোকো রোবোটিকস শহরের দ্য হাইটস এলাকায় ২০টি এআই-চালিত ডেলিভারি রোবট নিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করে।
ফলে প্রিয়াঙ্কার বাবা-মায়ের কাছে ঘটনাটি ছিল একেবারে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের মুহূর্ত হলেও, জার্সি সিটির রাস্তায় এমন চালকবিহীন খাবার সরবরাহ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে দৈনন্দিন নগরজীবনের অংশ হয়ে উঠছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পর ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান আবার হামলা চালালে দেশটিকে আরও কঠোরভাবে আঘাত করা হবে। এমনকি তৃতীয় দফায় সংঘাত হলে ইরান ‘দেশ হিসেবে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ হয়ে যেতে পারে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালায়, তাহলে তাদের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তৃতীয়বার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের জন্য পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য তিনি কোনো চাপ প্রয়োগ করছেন না। ইরান কোনো চুক্তিতে সই করল কি না, সেটি নিয়েও তিনি খুব বেশি চিন্তিত নন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই সর্বশেষ মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, মার্কিন হামলায় বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল এমন একটি বাড়িতে হামলায় পাঁচজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। তবে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। মঙ্গলবারের মার্কিন হামলার পর বুধবার বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েত ইরানের হামলার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন করে সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রায় ৯৫ ডলারে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বাড়ছে। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশটির নিয়মিত গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম প্রতিদিনই গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের ওপরে ছিল। বুধবার জাতীয় গড় দাম দাঁড়িয়েছে গ্যালনপ্রতি ৪.১২ ডলার। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। এর মধ্যেই মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের পরিবর্তনের খবর এসেছে। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। হোয়াইট হাউস ড্রিসকলের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেছে, তাঁর সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনী আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে তাঁর পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানানো হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ড্রিসকল ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে মতবিরোধের কথা উঠে এসেছে। সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জ এবং ইউরোপে মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডারকে সরানো নিয়েও মতবিরোধের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ড্রোন আধুনিকায়নের একটি কর্মসূচি, যেটির পক্ষে ড্রিসকল ছিলেন, সেটিও পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ড্রিসকলের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেনি হোয়াইট হাউস। অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির পর এখন দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
এক গর্ভে তিন সন্তান, কিন্তু বাবা দুইজন! দুই যমজের পিতা এক, তৃতীয় সন্তানের পিতা অন্য
নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরির পরীক্ষার আবেদন চলছে, কীভাবে করবেন রেজিস্ট্রেশন
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ডেলিভারি রোবট দেখে অবাক ভারতীয় দম্পতি
অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের দায়িত্বে থাকছেন টিম কুক। মঙ্গলবার জন টার্নাস অ্যাপলের নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কুক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী চেয়ারম্যান হয়েছেন। অ্যাপলের পূর্বঘোষিত উত্তরাধিকার পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিইও পদ ছাড়ার পর কুক বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও নীতিগত বিষয়ে কাজ করবেন। ফলে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে অ্যাপলের সম্পর্ক বজায় রাখতে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের সঙ্গে কুকের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৯ সালে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ভুল করে তাঁকে ‘টিম অ্যাপল’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। এরপর থেকে কুক নানা সময় সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে নীতিগত আলোচনা করেছেন এবং অ্যাপলের পক্ষ থেকে বড় বিনিয়োগের ঘোষণাও দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখতে অ্যাপল বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। কুক ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেক অনুষ্ঠানে ১০ লাখ ডলার অনুদান দেন। অ্যাপলও হোয়াইট হাউসে নতুন বলরুম নির্মাণে অর্থ দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে কুক ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপলের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেন। তখন ট্রাম্প এই ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বড় বিনিয়োগ উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন। তবে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধও হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানান, তিনি কুককে ভারতে আইফোনসহ অ্যাপলের পণ্য উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তির কথা বলেছেন। ট্রাম্প চেয়েছিলেন অ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রে আরও বেশি উৎপাদন করুক। এদিকে নতুন সিইও জন টার্নাসের রাজনৈতিক যোগাযোগ কুকের মতো শক্তিশালী নয়। ফেডারেল নির্বাচনী অর্থায়নের তথ্য অনুযায়ী, টার্নাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অনুদানগুলোর একটি ছিল ২০২১ সালে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের প্রচারে দেওয়া ৫ হাজার ৮০০ ডলার। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কুকের যোগাযোগও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় অভিষেক থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা গেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে কুক সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। তবে তিনি নিজেকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ দাবি করেন। কুকের ভাষায়, তিনি রাজনীতি নয়, নীতিগত বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ফলে সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপলের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় কুকের ভূমিকা শেষ হচ্ছে না। বরং নতুন দায়িত্বে তাঁর রাজনৈতিক ও নীতিগত অভিজ্ঞতা অ্যাপলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজ করতে পারে।
মাদকের আসক্তি ও গৃহহীনতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪.০ জিপিএ নিয়ে গ্র্যাজুয়েট ড্যানি
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট স্কোর না থাকলেও অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার ৭টি কার্যকর উপায়
১ লাখ ডলারের বেশি বেতন! যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়ছে যে ১৩ চাকরির চাহিদা, জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রে এক নারী একজন এফবিআই কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করে দেওয়ার অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা গোপন দায়িত্বে কাজ করছিলেন এবং তার পরিচয় প্রকাশের ফলে চলমান তদন্ত ও নিরাপত্তা কার্যক্রম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। ইয়াহু নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোপন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নারী কীভাবে ওই কর্মকর্তার পরিচয় জানতে পেরেছিলেন এবং তা প্রকাশ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এফবিআই কর্মকর্তা একটি সংবেদনশীল তদন্তে কাজ করছিলেন। তার পরিচয় প্রকাশ্যে চলে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা এবং চলমান তদন্তের গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ধরনের গোপন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পরিচয় সাধারণত প্রকাশ না করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরিচয় ফাঁস হলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাই নয়, তার সঙ্গে কাজ করা অন্য এজেন্ট, তথ্যদাতা এবং চলমান তদন্তও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে ওই নারীর বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মামলাটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সীমিত তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গোপন তদন্তে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিচয় সুরক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সংবেদনশীল তদন্তের ক্ষেত্রে পরিচয় প্রকাশ পেলে তদন্তের স্বার্থে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি হারিয়েছে প্রায় ২৫ লাখ শিশু
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হলেন বুয়েটের লুৎফুর রহমান