যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির লোয়ার ম্যানহাটনের ক্যানাল স্ট্রিট এবং আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের অভিযানে প্রায় ১৫১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের নকল পণ্য জব্দ করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। একই অভিযানে ট্রেডমার্ক জালিয়াতির অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার পরিচালিত এ অভিযানে ক্যানাল স্ট্রিটের পাশাপাশি হেস্টার স্ট্রিট, মালবেরি স্ট্রিট এবং ওয়েস্ট ২৭তম স্ট্রিটেও একযোগে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এনওয়াইপিডি জানায়, উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলো আসল হলে তাদের বাজারমূল্য প্রায় ১৫১ মিলিয়ন ডলার হতো। অভিযানের সময় প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার নগদ অর্থও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল নকল রোলেক্স ঘড়ি, নিউইয়র্ক নিকস দলের জার্সি, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সুগন্ধি, সানগ্লাস, হ্যান্ডব্যাগ, খেলনা এবং আরও বিভিন্ন বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের জাল পণ্য। এসব পণ্য দীর্ঘদিন ধরে লোয়ার ম্যানহাটনের ব্যস্ত পর্যটন এলাকায় অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ক্যানাল স্ট্রিটে অবৈধ রাস্তার ব্যবসা, নকল পণ্যের বেচাকেনা এবং পথচারীদের চলাচলে বিঘ্নের অভিযোগ আসছিল। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, লোয়ার ম্যানহাটনের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নকল পণ্যের অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা ট্রেডমার্ক আইন লঙ্ঘন করে ব্যবসা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্যানাল স্ট্রিট বহু বছর ধরেই নিউইয়র্কে নকল বিলাসবহুল পণ্য বিক্রির অন্যতম পরিচিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। পর্যটকদের ভিড়কে কেন্দ্র করে এখানে বিভিন্ন সময়ে জাল ঘড়ি, ব্যাগ, পোশাক, জুতা ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এর আগে ২০২৩ সালেও একই এলাকায় বড় ধরনের অভিযানে কয়েক কোটি ডলারের নকল পণ্য জব্দ করেছিল এনওয়াইপিডি।
এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে জুনের মধ্যে একই এলাকায় পরিচালিত একাধিক অভিযানে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের নকল পণ্য জব্দ করা হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানটি সেই ধারাবাহিক কার্যক্রমেরই অংশ। পুলিশ বলছে, অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এক বছরে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দান করে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দাতার স্বীকৃতি পেয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ও সমাজসেবী ম্যাকেঞ্জি স্কট। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি মূল্যের বড় অনুদান বা ‘মেগাগিফট’-এর মোট পরিমাণ ছিল ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে স্কটের একার অনুদানই ছিল প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ব্যবসাবিষয়ক সাময়িকী ফরচুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাতব্য খাত নিয়ে গবেষণাকারী Giving USA ও Indiana University Lilly Family School of Philanthropy-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যক্তি, করপোরেশন, বিভিন্ন ফাউন্ডেশন এবং উইলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৬১৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার দাতব্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। এটি দেশটির ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ দাতব্য অনুদানের রেকর্ড। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিল্প-সংস্কৃতি এবং সামাজিক উন্নয়নসহ প্রায় সব খাতেই অনুদান বেড়েছে। ২০১৯ সালে জেফ বেজোসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ম্যাকেঞ্জি স্কট তার প্রাপ্ত সম্পদের একটি বড় অংশ সমাজকল্যাণে ব্যয় করার ঘোষণা দেন। এরপর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে তিনি ২৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ দান করেছেন। তার অনুদানের বড় অংশ গেছে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসন, জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, নারী ও শিশুদের কল্যাণ এবং সামাজিক বৈষম্য কমাতে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ছোট ও স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সংগঠনগুলোকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি আলাদা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ম্যাকেঞ্জি স্কটের দাতব্য কার্যক্রমের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আগাম প্রচার ছাড়াই অনুদান দেন। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অনুদান পাওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ করে। পাশাপাশি অনুদান ব্যবহারে তিনি কঠোর শর্ত আরোপ না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখেন। দাতব্য খাতে এই পদ্ধতিকে ‘ট্রাস্ট-ভিত্তিক অনুদান’ হিসেবে দেখা হয়। ২০২৫ সালে বড় দাতাদের তালিকায় ম্যাকেঞ্জি স্কটের পর রয়েছেন সাবেক নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ। এছাড়া বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট এবং সুসান ও মাইকেল ডেলও গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় দাতাদের মধ্যে ছিলেন। দাতব্য খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে বড় অঙ্কের অনুদান সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে ম্যাকেঞ্জি স্কটের দান কেবল পরিমাণের দিক থেকেই নয়, বরং দ্রুত সিদ্ধান্ত, কম প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থাভিত্তিক সহায়তার কারণেও বিশেষভাবে আলোচিত। বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের একজন হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত প্রচারের পরিবর্তে নীরবে সমাজকল্যাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ম্যাকেঞ্জি স্কট আধুনিক দাতব্য কার্যক্রমে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
নিউইয়র্ক সিটির এক লাখেরও বেশি শিশুর পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। গভর্নর ক্যাথি হোকুল চাইল্ডকেয়ার ভাউচার কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করার পরিকল্পনা আরও দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে বর্তমানে সুবিধাভোগী হাজারো পরিবার এবং চাইল্ডকেয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিক আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকট থেকে আপাতত রক্ষা পেল। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের চাইল্ড কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম (CCAP)-এর আওতায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো শিশুদের পরিচর্যার ব্যয় বহনে সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে অনেক পরিবার প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ৩০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পায়, যা কর্মজীবী অভিভাবকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অভিভাবক যত ঘণ্টা কাজ করেন, প্রশিক্ষণ নেন বা পড়াশোনা করেন, তত ঘণ্টার জন্যই ভাউচার সুবিধা পাওয়ার কথা। তবে দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্ক সিটিতে এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়নি। এর ফলে অনেক পরিবার কাজের সময়সূচির বাইরে অতিরিক্ত সময়ের জন্যও শিশু পরিচর্যার সুবিধা ব্যবহার করতে পারছিল। সম্প্রতি রাজ্যের কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক সিটিকে বিদ্যমান নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিলে উদ্বেগ দেখা দেয়। চাইল্ডকেয়ার সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং শিশু অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেন, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে হাজারো পরিবার তাদের বর্তমান ভাউচার সুবিধা হারাতে পারে। একই সঙ্গে অনেক চাইল্ডকেয়ার কেন্দ্রের আয় কমে গিয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার গভর্নর ক্যাথি হোকুল ঘোষণা দেন, নিউইয়র্ক সিটিকে আরও দুই বছরের জন্য বিশেষ ছাড় বা ওয়েভার দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আপাতত নতুন কড়াকড়ি কার্যকর করতে হবে না। এক বিবৃতিতে গভর্নর বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বর্তমানে যারা চাইল্ডকেয়ার ভাউচার পাচ্ছেন, তাদের সহায়তা কমানো হবে না। পাশাপাশি চাইল্ডকেয়ার সেবাদাতারাও হঠাৎ করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন না। একই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে কর্মসূচিটি ভবিষ্যতে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটিতে এক লাখেরও বেশি শিশু এই ভাউচার সুবিধার আওতায় রয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ২৬ হাজার শিশু অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি গভর্নরের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক অভিভাবকের কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট নয়। কেউ অতিরিক্ত শিফটে কাজ করেন, আবার অনেকের কাজের সময় নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। তাই তাদের জন্য নমনীয় চাইল্ডকেয়ার ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সিদ্ধান্ত কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে শিশু অধিকারকর্মীদের একটি অংশ বলছে, নিউইয়র্ক সিটিকে যেহেতু বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে, তাই অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য কাউন্টির পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের নমনীয়তা বিবেচনা করা উচিত। তাদের মতে, শিশু পরিচর্যার ব্যয় পুরো অঙ্গরাজ্যেই ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে শুধু নিউইয়র্ক সিটি নয়, অন্যান্য এলাকায় বসবাসকারী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকেও সমানভাবে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশু পরিচর্যার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে চাইল্ডকেয়ার ভাউচার কর্মসূচি হাজারো কর্মজীবী পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গভর্নরের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অন্তত আগামী দুই বছর এসব পরিবারের জন্য কিছুটা স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ 'অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট' বা ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা হারিয়েছেন। শুক্রবার মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে এই স্বাস্থ্যবীমার আওতায় থাকা ২ কোটি ২১ লাখ মানুষের সংখ্যা এ বছর ১৩ শতাংশ কমে ১ কোটি ৯২ লাখে দাঁড়িয়েছে। সরকারের দাবি, ভুয়া বা প্রতারণামূলক নিবন্ধনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই এই পতন ঘটেছে। তবে স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, গত ১ জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বীমার খরচ হঠাৎ করে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রিমিয়ামের অর্থ পরিশোধ করা আর সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্য গবেষণাকারী অলাভজনক সংস্থা কেএফএফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এসিএ প্রোগ্রামের পরিচালক সিনথিয়া কক্স জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির কারণে অসংখ্য প্রকৃত গ্রাহক তাদের স্বাস্থ্যবীমার সুরক্ষা হারিয়েছেন। বীমা পরিকল্পনা ছেড়ে দেওয়া মানুষদের ওপর চালানো জরিপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষ যখন প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বা তিনগুণ খরচ বৃদ্ধির সম্মুখীন হয়েছেন, ঠিক তখনই তারা এই অপরিহার্য বীমা সুবিধা হারিয়েছেন। এপ্রিলে সংকলিত এই নতুন তথ্যে মূলত ফেব্রুয়ারি মাসের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে নির্ধারিত গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর বিল পরিশোধে গ্রাহকদের ব্যর্থতা এবং এর প্রভাবে মোট নিবন্ধনের নিম্নমুখী প্রবণতার প্রথম সরকারি প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর আগে জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছিল যে, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় আট লাখ মানুষ কম ওবামাকেয়ারের জন্য নিবন্ধন করেছেন, যা গত চার বছরের মধ্যে প্রথম নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। কেএফএফ আশঙ্কা করছে, বছরের বাকি সময়জুড়ে এই সংখ্যা আরও কমতে পারে এবং তা ১ কোটি ৭৫ লাখে নেমে আসতে পারে। মেডিক্যালের জন্য যোগ্য নন অথচ কর্মক্ষম এমন মানুষদের জন্য সরকারের এই ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। মূলত চুক্তিভিত্তিক কর্মী, কৃষক, খামারি এবং অন্যান্য পেশাজীবী, যাদের নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবীমা পাওয়ার সুযোগ নেই, তাদের কাছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বিকল্প হয়ে উঠেছিল। গত বছর মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান এই ভর্তুকি নবায়নের জোর দাবি জানালেও তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসেবার এই ক্রমবর্ধমান ব্যয় মার্কিন ভোটারদের জন্য অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।