আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলে পড়েই কেন চাকরি করে শিক্ষার্থীরা? শুধু আয় নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ২৩:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলে পড়েই চাকরি করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলে পড়েই চাকরি করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে নবম-দশম কিংবা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া কোনো শিক্ষার্থী যদি কোনো রেস্টুরেন্ট, দোকান বা কফিশপে কাজ শুরু করে, অনেকেই প্রথমে ধরে নেন পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন থেকেই সে কাজ করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে হাইস্কুলের অসংখ্য শিক্ষার্থী, এমনকি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের সন্তানরাও নিয়মিত খণ্ডকালীন কাজ করে। এর মূল উদ্দেশ্য অর্থ উপার্জন নয়; বরং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন, দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও কর্মজীবনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।

 

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে হয় না। বিশেষ করে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সমাজসেবা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, গবেষণা এবং বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতাও ভর্তি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করে, তাহলে সেটি তার দায়িত্বশীলতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়। এ কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর কর্ম-অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। তবে শুধু চাকরি করলেই যে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়। একাডেমিক ফলাফল, ভর্তি প্রবন্ধ, সুপারিশপত্র, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি কর্ম-অভিজ্ঞতাও সামগ্রিক মূল্যায়নের একটি অংশ মাত্র।

 

যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা সাধারণত গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বেশি কাজ করে। আবার বিদ্যালয় চালু হলে অনেকে সপ্তাহান্তে বা প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা কাজ চালিয়ে যায়, যাতে পড়াশোনার কোনো ক্ষতি না হয়। তারা বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, কফিশপ, মুদি দোকান, সুপারমার্কেট, পোশাকের দোকান, গ্রন্থাগার কিংবা স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পায়।

 

এই কাজের মাধ্যমে তারা শুধু কিছু অর্থ উপার্জনই করে না, বরং গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, সময়ানুবর্তিতা, দলগতভাবে কাজ করার অভ্যাস, দায়িত্ব পালন, সমস্যা সমাধান এবং অর্থ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা অর্জন করে। অনেক অভিভাবকও মনে করেন, এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে সন্তানদের আরও আত্মনির্ভরশীল ও আত্মবিশ্বাসী হতে সহায়তা করে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সৎ কাজকে ছোট করে দেখা হয় না। সমাজে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যেখানে কর্মের ধরন নয়, বরং কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধকে বেশি মূল্য দেওয়া হয়। এর একটি আলোচিত উদাহরণ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর ছোট মেয়ে Sasha Obama। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে তিনি ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মার্থাস ভিনইয়ার্ডের একটি সামুদ্রিক খাবারের রেস্টুরেন্টে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি কর্মী হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেখানে তিনি অন্য কর্মীদের মতোই সাধারণ দায়িত্ব পালন করেন। বিষয়টি সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।

 

অন্যদিকে বাংলাদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের কর্ম-অভিজ্ঞতার সুযোগ এখনও সীমিত। অধিকাংশ পরিবারে পরীক্ষার ফলাফলকেই ভবিষ্যৎ সাফল্যের প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব খণ্ডকালীন কাজ বা শিক্ষানবিশ কর্মসূচির সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম।

 

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি কিংবা সীমিত পরিসরে বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করা গেলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী এবং কর্মমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা অন্তত সেই বার্তাই দেয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
১৭ জন নার্স, একই বিভাগ, সবার ঘরেই আসছে নতুন অতিথি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালের একই বিভাগে ১৭ নার্স অন্তঃসত্ত্বা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটন শহরের মায়ামি ভ্যালি হাসপাতালের প্রসব ও মাতৃসেবা বিভাগে একসঙ্গে ১৭ জন নার্স অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন। একই ইউনিটে এতসংখ্যক নার্সের একসঙ্গে সন্তানসম্ভবা হওয়ার ঘটনা হাসপাতালটির ইতিহাসে নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   এবিসি নিউজ জানিয়েছে, হাসপাতালটির প্রসব ও মাতৃসেবা বিভাগের (Labor and Delivery Unit) ১৭ জন নার্স চলতি বছর সন্তান জন্ম দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এর আগে একই বিভাগে একসঙ্গে ১১ জন কর্মী অন্তঃসত্ত্বা হওয়াই ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যা।   হাসপাতালের নার্স ম্যানেজার অ্যাম্বারলি স্যানার বলেন, প্রথমে কয়েকজনের গর্ভধারণের খবর জানা যায়। এরপর একে একে আরও সহকর্মীর সুখবর আসতে থাকে। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, একই বিভাগে ১৭ জন নার্সই সন্তানসম্ভবা।   সম্প্রতি তাদের মধ্যে ১৫ জন হাসপাতালের একই ইউনিফর্ম পরে একসঙ্গে একটি দলীয় ছবি তোলেন। ছবিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   অন্তঃসত্ত্বা নার্সদের মধ্যে কেউ প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় আছেন, আবার কেউ দ্বিতীয় বা তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন। তাদের মধ্যে ম্যাডি ও রাইলি নামে দুই নার্সের বন্ধুত্বের গল্পও আলোচনায় এসেছে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে তারা কেবল প্রথম নাম প্রকাশ করেছেন।   ম্যাডি বর্তমানে গর্ভধারণের ২৬তম সপ্তাহে রয়েছেন এবং এটি তাঁর দ্বিতীয় সন্তান। অন্যদিকে রাইলি ৩১ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এবং তিনিও দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায়। দুজনই গত পাঁচ বছর ধরে একই হাসপাতালে কর্মরত। রাইলি জানান, ম্যাডি তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাই নিজের সন্তানের জন্মের সময় প্রসবকক্ষে ম্যাডিকেই পাশে চান তিনি।   রাইলির ভাষায়, "আমার সন্তানের জন্মের সময় ম্যাডির চেয়ে বেশি বিশ্বাস করি এমন আর কাউকে আমি ভাবতে পারি না। এখানকার সহকর্মীদের ওপর আমাদের যে আস্থা, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।"   একসঙ্গে এতজন নার্স মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেলে হাসপাতালের সেবায় কোনো সমস্যা হবে কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে। এ বিষয়ে অ্যাম্বারলি স্যানার বলেন, হাসপাতালে প্রায় ২০০ জন নার্স ও সহায়ক কর্মী রয়েছেন। অনেক খণ্ডকালীন নার্স এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়ার মতো কর্মী থাকায় জনবল সংকটের আশঙ্কা নেই।   তিনি বলেন, "আমাদের পর্যাপ্ত বিকল্প কর্মী রয়েছে। তাই রোগীদের সেবায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে বলে আমরা মনে করছি না।" অন্তঃসত্ত্বা নার্সরা জানান, তারা নিয়মিত নিজেদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও মাতৃত্বকালীন নানা বিষয় একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন। অনেকেই আশা করছেন, ভবিষ্যতে তাদের সন্তানরাও একসঙ্গে বড় হবে এবং বন্ধু হিসেবে বেড়ে উঠবে।   রাইলি বলেন, "আমরা সবাই একসঙ্গে এই সময়টা পার করতে পেরে খুব আনন্দিত। এটি পরিকল্পিত ছিল না, কিন্তু ঘটনাক্রমে এমন হয়েছে। আমরা নিজেদের সত্যিই সৌভাগ্যবান মনে করছি।" নার্স ম্যানেজার স্যানারের মতে, এই বিভাগের সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। একে অপরের প্রতি আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশই তাদের বিশেষভাবে আলাদা করে তুলেছে।   তিনি বলেন, "তারা একে অপরকে খুব বিশ্বাস করেন। এমনকি অনেকেই চান, নিজের সন্তানের জন্মের সময় সহকর্মী নার্সরাই পাশে থাকুন। এই পারস্পরিক বিশ্বাস ও বন্ধন সত্যিই অসাধারণ।"

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ০:১৩
জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণের আগে বিমানে ড্রোনের আঘাত। ছবি: সংগৃহীত

জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণের আগে ড্রোনের আঘাতের দাবি জেটব্লু পাইলটের, তদন্ত শুরু এফএএর

যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলে পড়েই চাকরি করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলে পড়েই কেন চাকরি করে শিক্ষার্থীরা? শুধু আয় নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি

ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রেসিডেন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের নাটকীয় দিন: একদিনে চার রায়ের তিনটিতেই পরাজয়

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় পরিবর্তন। ছবি সংগৃহীত
বড় করপোরেট নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে সক্রিয় এখন ছোট বিনিয়োগকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে আবারও বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি। তবে এই প্রবৃদ্ধির নেতৃত্বে নেই ওয়াল স্ট্রিটের বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। বরং স্থানীয় ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীরাই এখন সবচেয়ে বেশি বাড়ি কিনছেন এবং আবাসন বাজারে তাদের প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।   Newsweek–এর এক প্রতিবেদনে Realtor.com–এর নতুন গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট বাড়ি বিক্রির ১১ দশমিক ৩ শতাংশই বিনিয়োগকারীরা কিনেছেন। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ১১ শতাংশ। যদিও এই বৃদ্ধি খুব বেশি নয়, তবুও এটি দেখাচ্ছে যে সাধারণ ক্রেতাদের তুলনায় বিনিয়োগকারীরা এখনো বাজারে তুলনামূলকভাবে সক্রিয়।   গবেষণা অনুযায়ী, গত বছর বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৫ লাখ ৩৪ হাজার বাড়ি কিনেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সাধারণ ক্রেতাদের বাড়ি কেনার সংখ্যা ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। উচ্চ সুদের হার, বাড়ির দাম বৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা এখনো চাপের মধ্যে রয়েছেন।   অন্যদিকে, ২০২৫ সালে বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার বাড়ি বিক্রি করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কম এবং ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বোঝা যায় যে মহামারির সময় কেনা সম্পত্তি দ্রুত বিক্রি করে দেওয়ার প্রবণতা কমে এসেছে এবং বাজার এখন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাতিষ্ঠানিক বা বড় করপোরেট বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি কংগ্রেসে উত্থাপিত ২১শ শতকের ‘রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট’-এও বড় বিনিয়োগকারীদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই আইনে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেননি এবং নাগরিকত্ব যাচাইসংক্রান্ত সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট আগে পাস করার দাবি জানান। ফলে আইনটির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।   তবে গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন বাস্তবতা। বর্তমানে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা, যারা বছরে ৩৫০টির বেশি বাড়ি কেনেন, তারা মোট বিনিয়োগকারী ক্রয়ের মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করছেন। এটি ২০১১ সালের পর সর্বনিম্ন। ২০২১ সালের সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় তাদের বাড়ি কেনার পরিমাণ প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।   Realtor.com–এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হান্না জোন্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারী বাজার এখন একটি নতুন ভারসাম্যে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, বর্তমানে মোট বিনিয়োগকারী ক্রয়ের প্রায় ৬৩ শতাংশই ছোট বিনিয়োগকারীদের, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে আবাসন বাজারে প্রতিযোগিতার ধরন বদলাচ্ছে, যদিও বিশেষ করে তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকার বাড়িগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।   বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছোট বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি বাড়ি কিনছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট ও সান বেল্ট অঞ্চলে। কারণ এসব এলাকায় বাড়ির দাম তুলনামূলক কম, ভাড়ার চাহিদা শক্তিশালী এবং আবাসন বাজারে লেনদেনও সক্রিয়।   ৫০টি বৃহত্তম মহানগর এলাকার মধ্যে মেমফিস (টেনেসি) বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে। সেখানে বিক্রি হওয়া মোট বাড়ির ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ কিনেছেন বিনিয়োগকারীরা। এরপর রয়েছে কানসাস সিটি (২১ দশমিক ২ শতাংশ) এবং সেন্ট লুইস (২১ দশমিক ১ শতাংশ)। এছাড়া বার্মিংহাম (আলাবামা) এবং ওকলাহোমা সিটিতেও বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।   অন্যদিকে, পোর্টল্যান্ড, হার্টফোর্ড, স্যাক্রামেন্টো, সিয়াটল এবং বোস্টনে বিনিয়োগকারীদের বাড়ি কেনার হার সবচেয়ে কম। এসব এলাকায় আবাসনের সরবরাহ সীমিত এবং সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মহামারির পর বড় করপোরেট বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি কমে গেলেও ছোট বিনিয়োগকারীরা এখনো সাধারণ ক্রেতাদের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছেন। ২০২১-২২ সালের বাজারের সর্বোচ্চ সময়ের তুলনায় ২০২৫ সালে মোট বাড়ি বিক্রি ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে। কিন্তু একই সময়ে বিনিয়োগকারীদের ক্রয় কমেছে মাত্র ২২ দশমিক ৬ শতাংশ।   এ ছাড়া মহামারির আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সামগ্রিক বাড়ি বিক্রি এখনো ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ কম থাকলেও বিনিয়োগকারীদের বাড়ি কেনার পরিমাণ ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।   Realtor.com জানিয়েছে, তাদের এই গবেষণায় করপোরেট মালিকানার দলিল বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে তথ্যগুলো মূলত সীমিত পরিসরে করপোরেট কাঠামো, যেমন এলএলসি (LLC), ব্যবহার করে বাড়ি কেনা ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের কার্যক্রমকে প্রতিফলিত করে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ২২:৫০
মেয়ে অক্ষত, কিন্তু হাঁটুর নিচের অংশ হারিয়েও অনুতপ্ত নন তিনি। ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কা থেকে ২ বছরের মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে পা হারালেন বাবা

এসইউভি ও ট্রেইলারে গোপনে বহন করা হচ্ছিল অভিবাসীদের। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় দুটি গাড়িতে লুকিয়ে থাকা ৩৪ অভিবাসীকে আটক করল মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনী

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বেশি লটারির জ্যাকপট জেতেন মানুষ, জিতলে কেমন বাড়ি কেনা সম্ভব?

স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
ইহুদি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় তিন বিল অনুমোদন করল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কমিটি

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইহুদি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং ইহুদিবিদ্বেষমূলক বৈষম্য মোকাবিলার লক্ষ্যে তিনটি বিল এগিয়ে দিয়েছে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের শিক্ষা ও কর্মশক্তি বিষয়ক কমিটি (House Committee on Education and Workforce)।   গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কমিটির এক বৈঠকে বিল তিনটি অনুমোদন পেয়ে পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার জন্য এগিয়ে যায়। ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী সংগঠন Combat Antisemitism Movement (CAM) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রস্তাবিত তিনটি বিলের লক্ষ্য ভিন্ন হলেও মূল উদ্দেশ্য একই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইহুদিবিদ্বেষমূলক আচরণ প্রতিরোধ, বৈষম্যের অভিযোগ তদন্তের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক একাডেমিক বা বাণিজ্যিক বয়কট ঠেকানো।   প্রথম বিল ‘নো অ্যান্টিসেমিটিজম ইন এডুকেশন অ্যাক্ট’ (H.R. 8476) উপস্থাপন করেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন। বিলটি আইনে পরিণত হলে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফেডারেল অর্থায়ন পায়, তাদের ইহুদিবিদ্বেষজনিত বৈষম্যকে সিভিল রাইটস অ্যাক্টের টাইটেল VI–এর আওতায় থাকা অন্যান্য বৈষম্যের মতোই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশে ব্যবহৃত ইহুদিবিদ্বেষের সংজ্ঞা অনুসরণ করা হয়েছে।   দ্বিতীয় বিল ‘প্রোটেক্ট ইকোনমিক অ্যান্ড একাডেমিক ফ্রিডম অ্যাক্ট’ (H.R. 4795) উত্থাপন করেন রিপাবলিকান সদস্য ভার্জিনিয়া ফক্স এবং ডেমোক্র্যাট সদস্য জশ গটহাইমার। এই বিলে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র দেশগুলোর, বিশেষ করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক একাডেমিক বা বাণিজ্যিক বয়কটে অংশ নিলে সংশ্লিষ্ট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় ফেডারেল আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারে।   তৃতীয় বিল ‘স্টুডেন্ট প্রোটেকশন অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যাক্ট’ (H.R. 9203) উপস্থাপন করেন রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান এলিস স্টেফানিক এবং ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান লরা গিলেন। এতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইহুদিবিদ্বেষসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের কাছে সেই প্রক্রিয়া প্রকাশ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি নিয়মিত কংগ্রেসকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা বিভাগের অফিস ফর সিভিল রাইটস (OCR) অন্য কোনো সংস্থা একই ঘটনার তদন্ত করছে, এই অজুহাতে অভিযোগ খারিজ করতে পারবে না। আইন না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ফেডারেল অর্থায়ন হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।   কমিটিতে কণ্ঠভোটের পাশাপাশি পৃথক ভোটাভুটিতেও বিলগুলো সমর্থন পায়। এর মধ্যে H.R. 8476 বিলটি ২০-১২ ভোটে, H.R. 4795 বিলটি ২৪-৯ ভোটে এবং H.R. 9203 বিলটি ১৮-১৫ ভোটে অনুমোদিত হয়। CAM-এর যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক সভাপতি আলাইজা লেউইন বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইহুদিবিদ্বেষমূলক ঘটনার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।   তিনি বলেন, প্রতিটি বিল শিক্ষা ব্যবস্থায় ইহুদিবিদ্বেষের ভিন্ন ভিন্ন দিক মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় দ্রুততা ও গুরুত্বের সঙ্গে অভিযোগগুলোর সমাধান করতে পারেনি। ফলে বহু ইহুদি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মী হয়রানি, ভয়ভীতি ও সামাজিক বঞ্চনার মুখোমুখি হচ্ছেন। CAM-এর অ্যান্টিসেমিটিজম রিসার্চ সেন্টার (ARC)–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১ হাজার ৯৫৫টি ইহুদিবিদ্বেষমূলক ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩১টি ঘটনা ঘটেছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।   লেউইনের দাবি, ‘নো অ্যান্টিসেমিটিজম ইন এডুকেশন অ্যাক্ট’ কার্যকর হলে বিদ্যমান জবাবদিহির ঘাটতি কমবে এবং ইহুদি শিক্ষার্থীরা আইনগত সুরক্ষা আরও কার্যকরভাবে পাবেন। তিনি আরও বলেন, ইহুদিরা কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষ নয়, তাদের একটি অভিন্ন জাতিগত ও ঐতিহাসিক পরিচয়ও রয়েছে। ফলে সেই পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের শিকার হলে টাইটেল VI–এর সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।   অন্যদিকে ‘প্রোটেক্ট ইকোনমিক অ্যান্ড একাডেমিক ফ্রিডম অ্যাক্ট’ সম্পর্কে তিনি বলেন, ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সব কৌশলগত অংশীদার দেশের সঙ্গে সমান আচরণ করা। তাঁর মতে, এই বিল বৈষম্যমূলক একাডেমিক বয়কট প্রতিরোধের পাশাপাশি বিদেশি ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানার সুযোগও সুরক্ষিত রাখবে।   ‘স্টুডেন্ট প্রোটেকশন অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যাক্ট’ প্রসঙ্গে লেউইন বলেন, অভিযোগের তথ্য নিয়মিত সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমস্যা চিহ্নিত করতে পারবে এবং কংগ্রেসও জানতে পারবে কোন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁর মতে, এই আইন শুধু ইহুদি শিক্ষার্থীদের নয়, সব শিক্ষার্থীর জন্যই নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।   বিলগুলোর অন্যতম প্রস্তাবক র্যান্ডি ফাইন বলেন, সঠিক আইন প্রণয়ন করা গেলে বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব। তাঁর ভাষায়, এই বিলগুলো সেই লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এদিকে CAM প্রতিনিধি পরিষদের শিক্ষা ও কর্মশক্তি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান টিম ওয়ালবার্গসহ বিলগুলোর প্রস্তাবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইহুদি নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।   তবে বিলগুলো এখনো আইন হয়নি। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরই এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আইনে পরিণত হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ২০:৩৮
ছবি: মাইলস গুও (সংগৃহীত)

নিউইয়র্কে ১৩০ কোটি ডলারের প্রতারণায় দোষী চীনা ব্যবসায়ী মাইলস গুওর ৩০ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস (সংগ্রহীত)

মুসলিম অভিবাসনে আমেরিকার কী লাভ?’ কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেসের পোস্ট ঘিরে তুমুল বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

নর্থ ক্যারোলিনার কারাগারে কয়েদিদের দখলচেষ্টা, জিম্মি দুই কারারক্ষীকে ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে উদ্ধার

0 Comments