যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় কান্ট্রি সংগীতশিল্পী ক্লিন্ট ব্ল্যাক আকস্মিক শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর নির্ধারিত কনসার্ট বাতিল করেছেন। শিল্পীর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, গলায় গুরুতর টনসিল সংক্রমণ ধরা পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দ্রুত শিরায় অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে।
আগামী ৩ জুলাই মিসিসিপির পার্ল রিভার রিসোর্ট ক্যাসিনোতে তাঁর পরিবেশনার কথা ছিল। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, যেসব দর্শক আগেই টিকিট কিনেছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
শিল্পীর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং চিকিৎসকেরা পূর্ণ সুস্থতার ব্যাপারে আশাবাদী। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ক্লিন্ট ব্ল্যাক তাঁর সংগীত সফরের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কনসার্ট করছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুস্থ হলে আগামী ৯ জুলাই নেভাডা অঙ্গরাজ্যে তাঁর পরবর্তী পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কনসার্ট বাতিলের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে শুভকামনা জানিয়েছেন। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও ভক্তদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আয়রনডেকোয়েট (Irondequoit) এলাকার বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী ক্যাথরিন বেথ ওয়াশবার্নকে প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) নামে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) জানিয়েছে, ওয়াশবার্নের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এমন এক ব্যক্তির কাছে অর্থ পাঠিয়েছেন, যিনি নিজেকে গাজায় সক্রিয় প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদের একজন সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত কোনো গোষ্ঠীকে জেনেশুনে অর্থ বা অন্য ধরনের সহায়তা দেওয়া কিংবা দেওয়ার চেষ্টা করা ফেডারেল অপরাধ। বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়াশবার্ন ডাইরেক্ট অ্যাকশন মুভমেন্ট ফর প্যালেস্টিনিয়ান লিবারেশন (DAMPL) নামে একটি উগ্রপন্থী সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংস্থাটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর গঠিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সংগঠনটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পরিবর্তে নাশকতা ও সম্পত্তি ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে এফবিআইয়ের যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্স (JTTF) তল্লাশি চালিয়ে ওয়াশবার্নের ইলেকট্রনিক বার্তা উদ্ধার করে। এসব বার্তায় তিনি নিজেকে পিআইজের যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এক বার্তায় ওয়াশবার্ন লিখেছিলেন, তিনি গাজায় থাকলে সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নিতেন। এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশংসাসূচক মন্তব্যও করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া আরও কিছু বার্তায় ইসরায়েল ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক মন্তব্যও পাওয়া গেছে। আর্থিক লেনদেনের বিশ্লেষণে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওয়াশবার্ন প্রায় ৮০টি পৃথক ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের মাধ্যমে মোট ৩০ হাজার ১১৬ ইউএসডিসি (USDC), অর্থাৎ সমপরিমাণ মার্কিন ডলার, ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত একটি অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত মামলার নথিতে ওয়াশবার্নের একটি ছবিও রয়েছে, যেখানে তাকে হামাসের একটি পতাকার সামনে দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড হাতে দেখা যায়। তবে ছবিটি তদন্তের নথির অংশ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে; এটি নিজেই কোনো অপরাধ প্রমাণ করে না। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ বলেন, বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এফবিআই জানিয়েছে, সন্ত্রাসী সংগঠনের অর্থায়নের পথ বন্ধ করতে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওয়াশবার্নের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে এটি একটি ফৌজদারি অভিযোগ (Criminal Complaint) মাত্র। এখনো আদালতে ক্যাথরিন বেথ ওয়াশবার্নের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় কান্ট্রি সংগীতশিল্পী ক্লিন্ট ব্ল্যাক আকস্মিক শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর নির্ধারিত কনসার্ট বাতিল করেছেন। শিল্পীর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, গলায় গুরুতর টনসিল সংক্রমণ ধরা পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দ্রুত শিরায় অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। আগামী ৩ জুলাই মিসিসিপির পার্ল রিভার রিসোর্ট ক্যাসিনোতে তাঁর পরিবেশনার কথা ছিল। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, যেসব দর্শক আগেই টিকিট কিনেছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। শিল্পীর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং চিকিৎসকেরা পূর্ণ সুস্থতার ব্যাপারে আশাবাদী। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ক্লিন্ট ব্ল্যাক তাঁর সংগীত সফরের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কনসার্ট করছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুস্থ হলে আগামী ৯ জুলাই নেভাডা অঙ্গরাজ্যে তাঁর পরবর্তী পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কনসার্ট বাতিলের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে শুভকামনা জানিয়েছেন। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও ভক্তদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের হার্টফোর্ড শহরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর আহত হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় শহরের ম্যাডিসন স্ট্রিট এলাকায় এই সহিংস ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসা দল পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হার্টফোর্ড পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৭টার কিছু পরে ম্যাডিসন স্ট্রিটের ১০০ ব্লকে একটি বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছে তারা ত্রিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে গুরুতর ছুরিকাঘাতের শিকার অবস্থায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তিকে বাঁচানোর জন্য সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) শুরু করেন। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তদন্ত চলাকালেই পুলিশ জানতে পারে, একই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুইজনকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কাছাকাছি একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ত্রিশোর্ধ্ব ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। অপর আহত ব্যক্তি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। তার শরীরেও গুলির আঘাত রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরে হার্টফোর্ড পুলিশ নিহত দুই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করে। ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যক্তি হলেন ৩৬ বছর বয়সী ট্রয়লন কুপার, যিনি ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা। আর গুলিতে নিহত ব্যক্তি ৩০ বছর বয়সী ব্রায়ান অর্টিজ-সান্তিয়াগো, যার বাড়ি হার্টফোর্ডে। ঘটনার পরপরই ম্যাডিসন স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করে। অপরাধস্থল ঘিরে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। আশপাশের ভবন ও সড়কের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের মেজর ক্রাইমস ইউনিট এবং ক্রাইম সিন ইউনিট যৌথভাবে তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ঘটনার আগে সংঘর্ষ কীভাবে শুরু হয়েছিল, কারা এতে জড়িত ছিল এবং কীভাবে ছুরিকাঘাত ও গুলির ঘটনা ঘটে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা ছিল নাকি তাৎক্ষণিক সংঘর্ষের জেরে সহিংসতা ছড়ায়—সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করেনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। হার্টফোর্ড পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। যারা ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন অথবা কোনো তথ্য, ভিডিও কিংবা ড্যাশক্যাম ফুটেজ সংরক্ষণ করেছেন, তাদের পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়। সাইরেনের শব্দ ও জরুরি যানবাহনের আনাগোনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। হার্টফোর্ড শহরে সাম্প্রতিক সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে সহিংস অপরাধের ঘটনা ঘটলেও, একই ঘটনায় একজন ছুরিকাঘাতে এবং আরেকজন গুলিতে নিহত হওয়ার মতো ঘটনা নতুন করে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো অতিরিক্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য তাদের হাতে নেই। তবুও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় পুলিশি নজরদারি অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এই ঘটনায় কী কারণে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল, কারা অস্ত্র ব্যবহার করেছিল এবং ঘটনার সম্পূর্ণ পটভূমি কী—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনো সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে অনুমানভিত্তিক মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে। হার্টফোর্ডের এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ড এখন কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের অন্যতম আলোচিত অপরাধ তদন্তে পরিণত হয়েছে। তদন্তকারীরা আশা করছেন, সংগৃহীত আলামত, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিগগিরই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।