আমেরিকা

এপস্টেইন নথি প্রকাশে আদালতের নির্দেশ মানল না মার্কিন বিচার বিভাগ, গোপনীয়তার যুক্তি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ৬:১৭
সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত অতিরিক্ত নথি প্রকাশে আপাতত অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালতে দাখিল করা এক আবেদনে বিভাগটি জানায়, সংশ্লিষ্ট নথিগুলোতে যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে। এছাড়া আইনের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী অনেক তথ্য গোপন রাখাই প্রয়োজন।

 

এর আগে এক ফেডারেল বিচারক নির্দেশ দিয়েছিলেন, এপস্টেইন-সংক্রান্ত কিছু নথির ওপর থাকা গোপনীয়তা কমিয়ে প্রকাশ করতে হবে অথবা কেন তা সম্ভব নয়, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আদালতে জমা দিতে হবে। সেই নির্দেশনার জবাবেই বিচার বিভাগ জানায়, যেসব তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি, সেগুলোর বড় অংশ ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সেগুলো প্রকাশ করলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। 

 

বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে আরও ৬০ দিন সময় চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা আদালতকে অনুরোধ করেছে, ইতোমধ্যে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সেটিকে যথেষ্ট বিবেচনা করে অতিরিক্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করা হোক। 

 

এই মামলাটি শুরু হয় একজন স্বাধীন সাংবাদিকের করা আইনি আবেদনের পর। অভিযোগ ছিল, সরকার এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রণীত আইনের পূর্ণ অনুসরণ করেনি এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বহু তথ্য গোপন রেখেছে। পরে আদালত সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে কিছু নথির রিড্যাকশন কমানোর নির্দেশ দেন। 

 

তবে বিচার বিভাগের বক্তব্য, অনেক নথিতে ভুক্তভোগীদের পরিচয়, ব্যক্তিগত তথ্য এবং এমন কিছু অভিযোগ রয়েছে যেগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে। তাই আইন মেনেই এসব অংশ গোপন রাখা হয়েছে। 

 

জেফ্রি এপস্টেইনের যৌন পাচার কাণ্ড বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত একটি মামলা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন নথি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় আদালত ও বিচার বিভাগের মধ্যে নথি প্রকাশ নিয়ে টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন সাবেক সেনাদের সহায়তায় খাবার, আবাসন ও যাতায়াত সুবিধা দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন সাবেক সেনাদের জন্য ২৯ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা, বিনা মূল্যে পাবেন খাবার, ফোন ও যাতায়াত সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন অবস্থায় থাকা সাবেক সেনাদের জন্য নতুন একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করছে দেশটির ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগ (ভিএ)। এ কর্মসূচির আওতায় খাবার, পোশাক, প্রয়োজনীয় সামগ্রী, স্মার্টফোন, অস্থায়ী আবাসন এবং যাতায়াতসহ বিভিন্ন মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে মোট ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।   ভিএ জানিয়েছে, এই অর্থের মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার বিভিন্ন পণ্য ও সেবা দেওয়ার জন্য এবং বাকি ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার যাতায়াত সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে। গৃহহীন সাবেক সেনাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের আবাসন সহায়তা কর্মসূচি ‘হাড-ভ্যাশ’-এ অংশ নেওয়া যোগ্য সাবেক সেনারাও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।   ভিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ আগামী অক্টোবর থেকে বিভিন্ন ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা দেওয়া শুরু হতে পারে। অন্যদিকে যাতায়াত সেবার জন্য চুক্তি সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর এসব পরিবহন সুবিধা চালু হবে।   ভিএর সচিব ডগ কলিন্স বলেছেন, গৃহহীন সাবেক সেনাদের রাস্তায় থাকা থেকে বিরত রাখতে বিভাগটি বিভিন্ন উদ্যোগে অগ্রগতি করছে এবং নতুন কর্মসূচিটি সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।   নতুন কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সাবেক সেনারা খাবার, পোশাক, কম্বল, পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীসহ নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস পেতে পারেন। যারা রাস্তায় বা ঘরের বাইরে রাত কাটান, তাদের জন্য তাঁবু ও স্লিপিং ব্যাগের মতো সামগ্রীও দেওয়া হতে পারে।   আবাসনের ক্ষেত্রেও রয়েছে সহায়তার সুযোগ। যোগ্য ব্যক্তিদের ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। এমনকি আগের কয়েক মাসের বকেয়া ভাড়া বা বিলও নির্দিষ্ট শর্তে পরিশোধ করা হতে পারে, যদি এর মাধ্যমে ওই সাবেক সেনা আবাসন পেতে পারেন বা বর্তমান আবাসন ধরে রাখতে পারেন।   এ ছাড়া নিরাপত্তা জামানত, ইউটিলিটি সংযোগের জামানত, বাসা বদলের খরচ এবং স্বল্পমেয়াদি জিনিসপত্র রাখার খরচও এই সহায়তার আওতায় আসতে পারে। সাধারণভাবে ভাড়া ও ইউটিলিটি সহায়তা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন বলে ভিএর চিকিৎসকরা মনে করলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে।   অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে। প্রয়োজন হলে হোটেল বা মোটেলে স্বল্পমেয়াদি থাকার খরচ কর্মসূচির অর্থ থেকে বহন করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আসবাব, বিছানাপত্র, রান্নার সরঞ্জাম, ছোট গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীও দেওয়া হতে পারে।   যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতেও সহায়তা দেওয়া হবে। ভিএর চিকিৎসকরা প্রয়োজন মনে করলে সাবেক সেনাদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, একবার ব্যবহারযোগ্য ফোন এবং ফোনের সংযোগের খরচ দেওয়া হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো তারা যেন চিকিৎসক, সরকারি সেবা প্রদানকারী, সম্ভাব্য বাড়ির মালিক কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন।   যাতায়াতের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিস্তৃত সুবিধা। সরকারি পরিবহনের ভাউচার বা যাতায়াত সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া, বাসা খোঁজা, চাকরি খোঁজা, আদালত বা আইনি কাজে যাওয়া, জরুরি আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের মতো কাজে সহায়তা দেওয়া হতে পারে।   তবে এই অর্থ সরাসরি নগদ হিসেবে সাবেক সেনাদের হাতে দেওয়া হবে না। ভিএর চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে অথবা সংশ্লিষ্ট সেবার মূল্য সরাসরি পরিশোধ করবে। প্রধানত সমাজকর্মীসহ ভিএর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকর্মীরা প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে কোন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করবেন।   কর্মসূচির আওতায় আসার জন্য একজন সাবেক সেনাকে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত গৃহহীনতার সংজ্ঞার আওতায় পড়তে হবে। এর মধ্যে স্থায়ী ও পর্যাপ্ত রাত কাটানোর জায়গা না থাকা, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কিংবা ঘুমানোর জন্য নির্ধারিত নয় এমন জায়গায় বসবাসের মতো পরিস্থিতি রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে যারা শিগগিরই বাসস্থান হারাতে পারেন এবং বিকল্প থাকার জায়গা নেই, তারাও এই সংজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন। পারিবারিক সহিংসতা বা অনুরূপ হুমকির কারণে অনিরাপদ আবাসনে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিধান রয়েছে।   এ ছাড়া হাড-ভ্যাশ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাবেক সেনারাও নতুন সহায়তা পেতে পারেন। এই কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ (হাড) ভাড়ার ভাউচার দেয় এবং ভিএ আবাসন ধরে রাখা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য কেস ম্যানেজমেন্ট সেবা দেয়। স্থানীয় আবাসন কর্তৃপক্ষ ভাড়ার সহায়তা পরিচালনা করে এবং ভিএর কর্মীরা সাবেক সেনাদের বাসা খুঁজে পাওয়া ও তা ধরে রাখতে সহায়তা করেন।   গৃহহীন সাবেক সেনাদের পরিস্থিতিতে গত দেড় দশকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ভিএর ২০২৫ সালের ‘পয়েন্ট-ইন-টাইম’ হিসাবে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক রাতে যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ হাজার ৪৯৫ জন সাবেক সেনা গৃহহীন অবস্থায় ছিলেন। ২০০৯ সালে এই হিসাব শুরু হওয়ার পর এটি সর্বনিম্ন সংখ্যা। ২০১০ সালের তুলনায় সংখ্যাটি ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।   ২০২৫ অর্থবছরে ভিএ ৫১ হাজার ৯৩৬ জন গৃহহীন সাবেক সেনাকে স্থায়ী আবাসনে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভিএর তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে স্থায়ী আবাসন পাওয়া এসব ব্যক্তির ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ অর্থবছর শেষ হওয়ার সময়ও আবাসনে ছিলেন।   তবে গৃহহীনতা কমলেও আবাসন ও জনবল সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত সরকারি হিসাব নিরীক্ষা সংস্থার (জিএও) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে হাড-ভ্যাশ কর্মসূচিতে কেস ম্যানেজারের ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ পদ খালি ছিল। ২০২৪ অর্থবছরে ১২৯টি ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টিতে কেস ম্যানেজারের অন্তত ২০ শতাংশ পদ শূন্য ছিল।   জিএও আরও জানিয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হাড-ভ্যাশে পাঠানোর জন্য বিবেচিত ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫টি ক্ষেত্রে সাবেক সেনাদের শেষ পর্যন্ত ওই কর্মসূচিতে পাঠানো হয়নি। এর মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ২৯৬টি ক্ষেত্রে কেন পাঠানো হয়নি, সে বিষয়ে কোনো কারণ নথিভুক্ত করা হয়নি। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের তথ্যের ঘাটতির কারণে কোথায় অতিরিক্ত কর্মী প্রয়োজন এবং কতজন সাবেক সেনা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।   অর্থাৎ নতুন ২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের কর্মসূচিটি গৃহহীন সাবেক সেনাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য সরকারি সেবার সঙ্গে যুক্ত রাখার একটি অতিরিক্ত উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে। তবে এর বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও আবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২১:১৯
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ঝড় ও তীব্র গরমের পূর্বাভাস রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে ঝড়, আকস্মিক বন্যা ও তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

অ্যামাজনের ডেলিভারি গাড়ির প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের ডেলিভারি ভ্যানে মৃত নারী চালকের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ

এআইয়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের চাপ বাড়ছে। ছবি:সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বাড়ছে চাকরি ছাঁটাই

নিউইয়র্কের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছবি:সংগৃহীত।
নিউইয়র্কের উৎপাদন খাতে বড় সুখবর, চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উৎপাদন খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আগস্টে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের এম্পায়ার স্টেট উৎপাদন জরিপের সাধারণ ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সূচক পাঁচ পয়েন্ট বেড়ে ২০ দশমিক ৬-এ পৌঁছেছে, যা চার বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।   নতুন ক্রয়াদেশের সূচক ১৭ দশমিক ৩ এবং পণ্য সরবরাহের সূচক ১১ দশমিক ৭ হয়েছে। একই সঙ্গে অসম্পূর্ণ ক্রয়াদেশের সূচক বেড়ে ১৫ দশমিক ৫-এ উঠেছে, যা ২০২২ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। এসব তথ্য উৎপাদন খাতে চাহিদা ও কার্যক্রম বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   শ্রমবাজারেও ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে। কর্মীর সংখ্যার সূচক ৯ দশমিক ৩ এবং কর্মসপ্তাহের সূচক ৬ দশমিক ৯ হয়েছে, যা কর্মসংস্থান ও কাজের সময় কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।   তবে পুরো পরিস্থিতি চাপমুক্ত নয়। উৎপাদনকারীদের জন্য কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায়ও কিছুটা চাপ দেখা দিয়েছে। আগস্টে উৎপাদনকারীদের দেওয়া মূল্যসংক্রান্ত সূচক ৫৮ দশমিক ৬-এ উঠেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিউইয়র্কের উৎপাদন খাতের এই শক্তিশালী অবস্থান ব্যবসা ও শিল্প খাতে আশার নতুন বার্তা দিচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৭:৫০
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির কর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির কর নিয়ে আজ সিটি কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

উদ্ধারের ছবি:সংগৃহীত।

জীবন বাজি রেখে ১০ বছরের শিশুকে বাঁচাল ১৬ বছরের কিশোর, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রশংসা

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেতা আকৃষ্ট করতে নতুন বাড়ির নির্মাতারা মূল্যছাড় ও বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছেন। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রিতে নির্মাতাদের ছাড়, ৩৫ শতাংশ কমিয়েছে দাম গড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত

নিউ ইয়র্কে অভিবাসন নীতি নিয়ে অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বিরোধ তীব্র হয়েছে। ছবি:সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন সংঘাত, মুখোমুখি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ

নিউ ইয়র্কে অভিবাসন নীতি ঘিরে অঙ্গরাজ্য সরকার, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা—আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কতটা থাকবে, তা নিয়ে মতবিরোধ তীব্র হয়েছে।   নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নতুন নীতিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগে সহযোগিতা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় কারাগারগুলোর বিশেষ সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও বিধিনিষেধ রয়েছে। গভর্নর ক্যাথি হোকুলের প্রশাসন বলছে, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।   তবে নিউইয়র্কের কিছু স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা এই নীতির বিরোধিতা করেছেন। ক্যাটারগাস কাউন্টির শেরিফ এরিক বাটলার প্রকাশ্যে গভর্নর হোকুলের অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করা জননিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়। এ নিয়ে অঙ্গরাজ্য সরকার ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে।   অন্যদিকে নিউইয়র্কে আইসিইর কার্যক্রমও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্যাপিটাল অঞ্চলের অভিবাসী অধিকারকর্মীরা গত কয়েক সপ্তাহে আটক ও গ্রেপ্তারের ঘটনা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অনেক অভিযান হচ্ছে হঠাৎ করে এবং প্রকাশ্য এলাকায়।   এই পরিস্থিতিতে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের সদস্যদের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা রয়েছে, তারা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।আইনি পর্যায়েও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্কের অভিবাসন-সংক্রান্ত কিছু বিধান নিয়ে ফেডারেল আদালতে আইনি লড়াই চলছে। ফলে অঙ্গরাজ্যের আইন এবং ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগের মধ্যে সীমারেখা কোথায় থাকবে, তা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।   নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগ জোরদার হলে গ্রেপ্তার, আটক ও নির্বাসন-সংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ে কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।   নিউ ইয়র্কে অভিবাসন নীতি নিয়ে এই সংঘাত শুধু রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; এটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৫:৫৩
রোহিঙ্গা ছবি:সংগৃহীত

বাংলাদেশে থাকা ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকার করল মিয়ানমার

ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে বন, বসতি; বাড়ছে প্রাণহানি ও উদ্বেগ। ছবি:সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ফ্রান্স-বেলজিয়াম-গ্রিসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সবজি বিক্রি বাড়াতে নৃত্যের আয়োজন, চেন্নাইয়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি:সংগৃহীত

সবজি বিক্রি বাড়াতে দোকানের সামনে নাচের আয়োজন, চেন্নাইয়ে ভিডিও ভাইরাল

0 Comments