যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত অতিরিক্ত নথি প্রকাশে আপাতত অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালতে দাখিল করা এক আবেদনে বিভাগটি জানায়, সংশ্লিষ্ট নথিগুলোতে যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে। এছাড়া আইনের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী অনেক তথ্য গোপন রাখাই প্রয়োজন।
এর আগে এক ফেডারেল বিচারক নির্দেশ দিয়েছিলেন, এপস্টেইন-সংক্রান্ত কিছু নথির ওপর থাকা গোপনীয়তা কমিয়ে প্রকাশ করতে হবে অথবা কেন তা সম্ভব নয়, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আদালতে জমা দিতে হবে। সেই নির্দেশনার জবাবেই বিচার বিভাগ জানায়, যেসব তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি, সেগুলোর বড় অংশ ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সেগুলো প্রকাশ করলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে আরও ৬০ দিন সময় চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা আদালতকে অনুরোধ করেছে, ইতোমধ্যে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সেটিকে যথেষ্ট বিবেচনা করে অতিরিক্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করা হোক।
এই মামলাটি শুরু হয় একজন স্বাধীন সাংবাদিকের করা আইনি আবেদনের পর। অভিযোগ ছিল, সরকার এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রণীত আইনের পূর্ণ অনুসরণ করেনি এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বহু তথ্য গোপন রেখেছে। পরে আদালত সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে কিছু নথির রিড্যাকশন কমানোর নির্দেশ দেন।
তবে বিচার বিভাগের বক্তব্য, অনেক নথিতে ভুক্তভোগীদের পরিচয়, ব্যক্তিগত তথ্য এবং এমন কিছু অভিযোগ রয়েছে যেগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে। তাই আইন মেনেই এসব অংশ গোপন রাখা হয়েছে।
জেফ্রি এপস্টেইনের যৌন পাচার কাণ্ড বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত একটি মামলা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন নথি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় আদালত ও বিচার বিভাগের মধ্যে নথি প্রকাশ নিয়ে টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময় দেশটির অন্যতম প্রাচীন খ্রিস্টান ধর্মীয় সম্প্রদায় কোয়াকার মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাদের ভাষ্য, স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য তখনই রক্ষা পাবে, যখন দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার ও মর্যাদা সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ফিলাডেলফিয়ায় আয়োজিত শোভাযাত্রায় কোয়াকাররা ‘প্রতিরোধের ঘোষণা’ নামে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে। এতে অভিবাসীদের গণগ্রেপ্তার, জোরপূর্বক বহিষ্কার, যুদ্ধনীতি এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এসব বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোয়াকারদের মানবিক সংগঠন আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটি জানিয়েছে, এই ঘোষণাপত্র হাজারো মানুষের মতামত ও সমর্থনের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, এটি কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা নয়; বরং মানবিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার আহ্বান। ইতিহাসে কোয়াকারদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দাসপ্রথার বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে অবস্থান নেওয়া প্রথম ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তারা অন্যতম। পরবর্তী সময়ে দাসপ্রথা বিলোপ আন্দোলনেও তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এবং নিপীড়িত মানুষকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নেয়। বর্তমানে কোয়াকারদের প্রধান কার্যক্রমের একটি হলো অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তা করা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে তারা আইনি সহায়তা, জরুরি আশ্রয়, খাদ্য ও অন্যান্য মানবিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। পাশাপাশি অভিবাসীদের প্রতি আরও মানবিক নীতি গ্রহণের দাবিও জানিয়ে আসছে। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি শুধু উৎসবের উপলক্ষ নয়, বরং দেশের মৌলিক আদর্শ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা মূল্যায়নেরও সময়। তাদের মতে, গণতন্ত্রের শক্তি মানুষের অধিকার রক্ষা এবং আইনের সমান প্রয়োগের মধ্যেই নিহিত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন অভিবাসন নীতিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদ্যমান আইন কার্যকরের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে আসছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রচলিত আইন বাস্তবায়ন সরকারের দায়িত্ব। স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে যখন নানা আয়োজন চলছে, তখন কোয়াকারদের এই উদ্যোগ মানবাধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে এটি দেশটির দীর্ঘ ইতিহাসে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ধারাবাহিকতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের হ্যামডেন নামের একটি ছোট গ্রামে এক বাড়ি থেকে ১৬ জন ভাইবোনকে অত্যন্ত নোংরা ও জঘন্য পরিবেশ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় শিশুদের মা-বাবা এবং দাদা-দাদিকে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চোখের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও প্রতিবেশী বা স্থানীয় প্রশাসনের কেউ বিষয়টি টের না পাওয়ায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স দেড় বছর থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, অন্য একটি মামলার তদন্তে গত মঙ্গলবার আকস্মিকভাবে ওই বাড়িতে গিয়ে তারা এই শিশুদের সন্ধান পান। শিশুরা একটি মাত্র ১২ বাই ১২ ফুটের ছোট ঘরে গাদাগাদি করে বন্দি থাকত, যার চারপাশ মানুষের মলমূত্রে ভরা ছিল। ওহাইও’র অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডি উইলসন বলেন, "উদ্ধারের সময় শিশুদের দেখতে প্রায় বন্য পশুর মতো লাগছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তাদের মধ্যে কয়েকজন ঠিকমতো কথাও বলতে পারছে না।" উদ্ধারের পর ৭টি শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে শিশুরা শিশু কল্যাণ দপ্তরের অস্থায়ী হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র (৩৬), এলিজাবেথ সাইডার্স (৩৩), গ্যারি সাইডার্স (৭৩) এবং ক্রিস্টিনা সাইডার্স (৬৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন এবং প্রত্যেকের জামিন ৩ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, এই পরিবারটি গত দুই দশকে ওহাইও’র বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেছে। তারা এমনভাবে চলাচল করত যেন কোনো সরকারি হাসপাতাল বা সংস্থায় শিশুদের কোনো নথিপত্র না থাকে। স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ১৬ শিশুর কোনোদিনই স্কুলে নাম নিবন্ধন করা হয়নি। স্কুলে না যাওয়া এবং নিয়মিত ডাক্তার না দেখানোর ফলেই দীর্ঘ বছর ধরে এই শিশুরা সমাজের আড়ালে বন্দি থেকে গেছে। শিশুদের মা এলিজাবেথের আইনজীবী টমাস স্টলি জানান, এলিজাবেথ মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন এবং তিনি নিজেকে একজন ফুল-টাইম মা মনে করেন। আইনজীবীর দাবি, এটি কোনো অপরাধমূলক মানসিকতা নয়, বরং চরম সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ফল। তিনি সবাইকে আদালতের চূড়ান্ত রায় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশ ওই বাড়িটি সিলগালা করে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছর আগে দত্তক দেওয়া নিজের সন্তানকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায় খুঁজে পেয়েছেন এক মা। দীর্ঘ দুই দশক পর তাদের এই পুনর্মিলনের পর জানা গেছে এক অবিশ্বাস্য তথ্য। তারা দুজনই দীর্ঘদিন ধরে অজান্তে একই হাসপাতালে একসঙ্গে চাকরি করছিলেন, অথচ কেউ কাউকে চিনতেন না। এই অদ্ভুত ও আবেগঘন ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার ইউটা অঙ্গরাজ্যের সল্ট লেক সিটির সেন্ট মার্কস হাসপাতালে। ঘটনার শুরু ২০০১ সালে, যখন মাত্র ১৫ বছর বয়সে সন্তান জন্ম দেন হলি শিয়ারার নামের এক কিশোরী। সে সময় সন্তানের একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি ছোট্ট বেঞ্জামিনকে একটি নিঃসন্তান দম্পতির কাছে দত্তক দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। আইনি প্রক্রিয়ার কারণে পরবর্তীতে তাদের মধ্যকার সব ধরনের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তবে মা ও ছেলে—উভয়ই মনে মনে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একে অপরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে গত বছর বেঞ্জামিনের ২০তম জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান হলি। সেখান থেকেই শুরু হয় মা ও ছেলের নতুন করে যোগাযোগের সূত্রপাত। মেসেজ পাওয়ার পর বেঞ্জামিনও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পরদিনই তারা সপরিবারে একটি নৈশভোজে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি সাক্ষাৎ করেন। প্রথম দেখাতেই তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বেশ কিছুক্ষণ কাঁদেন। আবেগঘন সেই সাক্ষাতেই তারা জানতে পারেন যে, হলি ও বেঞ্জামিন দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে সেন্ট মার্কস হাসপাতালে কর্মরত আছেন। হলি সেখানে হার্ট সেন্টারের একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন এবং বেঞ্জামিন একই হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত আছেন। তারা প্রতিদিন একই পার্কিং লট ও একই প্রবেশপথ ব্যবহার করতেন এবং একই ক্যাফেটেরিয়াতে খাবার খেতেন। প্রতিদিন এত কাছাকাছি থেকেও কেউ জানতেন না যে তাদের রক্তের সম্পর্কের মানুষটি পাশেই রয়েছে। ২০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই অবিশ্বাস্য পুনর্মিলনের গল্পটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।