আমেরিকা

আবর্জনা ও ইঁদুরের উপদ্রব ঠেকাতে নিউইয়র্কে ৩০ হাজার পার্কিং স্পটের জায়গায় বসানো হবে ‘এম্পায়ার বিন’

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ৯:৫১
নিউইয়র্ক সিটির ফুটপাত থেকে আবর্জনা সরাতে এবং ইঁদুরের উপদ্রব কমাতে পার্কিং স্পটে বসানো বিশেষ কনটেইনার ‘এম্পায়ার বিন’ | ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির ফুটপাত থেকে আবর্জনা সরাতে এবং ইঁদুরের উপদ্রব কমাতে পার্কিং স্পটে বসানো বিশেষ কনটেইনার ‘এম্পায়ার বিন’ | ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটির ফুটপাত থেকে আবর্জনার স্তূপ সরিয়ে শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন করা এবং ইঁদুরের উপদ্রব কমাতে বড় ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী কয়েক বছরে শহরের পাঁচটি বরোজুড়ে প্রায় ৩০ হাজার রাস্তার পার্কিং স্পট তুলে দিয়ে সেখানে বসানো হবে বিশেষ আবর্জনার কনটেইনার ‘এম্পায়ার বিন’।  

 

নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন প্রকাশিত খসড়া পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩২ সালের মধ্যে শহরজুড়ে প্রায় ৬৬ হাজার ‘এম্পায়ার বিন’ স্থাপন করা হবে। এ জন্য ২৯ হাজার ৮৪২টি বৈধ রাস্তার পার্কিং স্পট সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা শহরের মোট অন-স্ট্রিট পার্কিংয়ের প্রায় ১ দশমিক ৫২ শতাংশ।  

 

‘এম্পায়ার বিন’ হলো তালাবদ্ধ বড় আকারের আবর্জনার কনটেইনার, যা মূলত বড় আবাসিক ভবনের জন্য বরাদ্দ থাকবে। ভবনের অনুমোদিত কর্মীরা নির্দিষ্ট কার্ড ব্যবহার করে এসব কনটেইনারে বর্জ্য ফেলবেন। পরে নতুন সাইড-লোডিং স্যানিটেশন ট্রাকের মাধ্যমে সেগুলো সংগ্রহ করা হবে। এতে ফুটপাতে আবর্জনার ব্যাগের স্তূপ থাকবে না এবং ইঁদুরের খাদ্যের উৎসও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।  

 

পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে ম্যানহাটনে। বরো হিসেবে সেখানে পার্কিং স্পটের প্রায় ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে যেতে পারে। আপার ইস্ট সাইড ও আপার ওয়েস্ট সাইড—দুই এলাকায়ই প্রায় ১০ শতাংশ পার্কিং স্পট হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে ব্রঙ্কসে ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ব্রুকলিনে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, কুইন্সে ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে মাত্র ০ দশমিক ১০ শতাংশ পার্কিং স্পট কমবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  

 

নগর কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতে সারিবদ্ধভাবে আবর্জনার ব্যাগ ফেলে রাখার কারণে দুর্গন্ধ, নোংরা পরিবেশ এবং ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে। তাই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ‘কনটেইনারাইজেশন’ পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে ওয়েস্ট হারলেমে পরীক্ষামূলকভাবে সফল হয়েছে। আগামী বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে আরও এলাকায় এটি সম্প্রসারণ করা হবে।  

 

তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। অনেক বাসিন্দা ও গাড়িচালকের অভিযোগ, নিউইয়র্কে আগে থেকেই রাস্তার পার্কিং সংকট তীব্র। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গাড়ি পার্কিং আরও কঠিন হয়ে পড়বে এবং অনেককে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে ব্যক্তিগত পার্কিং ব্যবহার করতে হতে পারে।  

 

অন্যদিকে ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা, ইঁদুরের উপদ্রব কমানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কিছু পার্কিং স্পট হারানো একটি “অত্যন্ত মূল্যবান সমঝোতা”। খসড়া পরিকল্পনাটি বর্তমানে জনমত গ্রহণ ও পরিবেশগত পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ধাপে ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো সিটির কাছে অ্যাসপেন এক্রেস দাবানল নিয়ন্ত্রণে পানি বর্ষণ করছে একটি অগ্নিনির্বাপক বিমান | ছবি: মাইকেল সিম্যানস/দ্য গেজেট ভাইয়া এপি
আমেরিকায় ভয়াবহ দাবানল, ১৬০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস ও হাজার হাজার মানুষ উচ্ছেদ

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভার শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে এক ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। তীব্র ও প্রতিকূল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত কলোরাডোর দুটি কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবারের মধ্যে ১৬০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ও স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আগুনের তীব্রতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ওই অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।   অ্যাস্পেন একরস নামের এই ভয়াবহ দাবানলটি বর্তমানে আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে জ্বলতে থাকা প্রায় ৪০টি বড় অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকাণ্ডের একটি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত কয়েক মাসের চরম শুষ্ক আবহাওয়া এবং গত শীতকালে রেকর্ড পরিমাণ কম তুষারপাতের কারণেই এই অঞ্চলের বনাঞ্চলগুলো এতটা অগ্নিঝুঁকিতে পড়েছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এই আগুন প্রায় ১১৫ বর্গমাইল এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পুয়েবলো জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। পুয়েবলো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ২ হাজার ২০০ বাসিন্দার বসতি কলোরাডো সিটিসহ বিউলাহ, রাই এবং সান ইছাবেল শহরের সমস্ত মানুষকে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   আগুনের ভয়াবহতা এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় কাস্টার ও পুয়েবলো কাউন্টির সড়কগুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বা চেকপয়েন্ট তদারকি করতে শুক্রবার ন্যাশনাল গার্ডের প্রায় ৫০ জন সেনাকে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহের কাজ নির্বিঘ্ন করতে সাধারণ নৌকাগুলোকে দূরে রাখার কাজে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা স্টেট পার্ক রেঞ্জারদের সহায়তা করছেন।   রকি পর্বতের পশ্চিম দিকে কলোরাডো ও ইউটা সীমান্তের স্নাইডার ফায়ার নামের আরেকটি দাবানলের প্রায় ৬৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন দমকলকর্মীরা। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সেখানে আগুন নেভানোর কাজ করার সময় অগ্নিশিখার কবলে পড়ে একটি হেলিকপ্টার দলের তিন সদস্য নিহত এবং আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এছাড়া ইউটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কটনউড আগুন এবং দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ব্যাবিলন আগুনও দ্রুত বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১১:৭
ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সমালোচিত ও নিজস্ব ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে শতকোটি ডলার আয় করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: কেভিন ওয়ার্ম/রয়টার্স

প্রেসিডেন্ট হয়েই ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের আয় ১০০ কোটি ডলার! ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন মার্কিনিরা

অ্যারিজোনায় ডাক্তার কর্তৃক মৃত ঘোষণার সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর মর্গের কোল্ড রুম থেকে জীবন্ত উদ্ধার হওয়া শিশু | ছবি: গোফান্ডমি

মৃত ঘোষণার সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর মর্গে জীবন্ত মিলল শিশু, মার্কিন ডাক্তারের চরম গাফিলতি!

সান ফ্রান্সিসকোতে ওপেনএআই-এর শেয়ার দিয়ে বাড়ি কেনাবেচার মাধ্যমে আবাসন বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের প্রভাব | ছবি: সংগৃহীত

সান ফ্রান্সিসকোতে ওপেনএআই এর প্রি-আইপিও শেয়ারে বাড়ি কেনাবেচা, নেট দুনিয়ায় ভাইরাল

আমেরিকান এয়ারলাইন্সের এক পাইলটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া বার্ষিক বেতনের স্লিপ | ছবি: রয়টার্টস
বছরে সাড়ে ৪ লাখ ডলার বেতন! মার্কিন পাইলটের বেতনের ছবি দেখে নেট দুনিয়ায় তোলপাড়

বিমানে যাতায়াত করার সময় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, আকাশে উড্ডয়নকারী এই পাইলটদের বেতন আসলে কত? সম্প্রতি আমেরিকান এয়ারলাইন্সের এক ক্যাপ্টেনের বেতনের স্লিপের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ফাঁস হওয়ার পর সাধারণ মানুষের চোখ চড়কগাছ। ওই পাইলটের আকাশচুম্বী বার্ষিক আয় দেখে অনেকেই এখন নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।   ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটটি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিভিত্তিক আমেরিকান এয়ারলাইন্সের এক বোয়িং ৭৩৭ বিমানের ক্যাপ্টেনের। সেখানে দেখা যায়, ওই পাইলটের বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ডলার বা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ডলার! তাঁর এই আয়ের মূল কারণ হলো প্রতি ঘণ্টার বিশাল পারিশ্রমিক। তিনি ঘণ্টায় প্রায় ৩৬০ ডলার আয় করেন, যা পাইলটদের সর্বোচ্চ স্তরের পারিশ্রমিকও নয়।     বিমান চালনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বোয়িং ৭৭৭ বা এয়ারবাস এ৩৫০-এর মতো আরও বিশাল আকৃতির বিমানের ক্যাপ্টেনেরা ঘণ্টায় ৪৫০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন। একজন পাইলট ফেডারেল নিয়মের কারণে ইচ্ছে করলেই আনলিমিটেড সময় বিমান উড়াতে পারেন না। গড়ে বছরে তারা প্রায় ৯০০ ঘণ্টা (মাসে ৭৫ ঘণ্টা) বিমান চালান। সেই হিসেবে তাদের একেকটি বেতনের চেক কত বড় হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। এছাড়া কাজের অভিজ্ঞতা এবং জ্যেষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করেও বিমানসংস্থাগুলো বেতন বাড়িয়ে থাকে।   নেটিজেনদের বড় অংশই এই বিশাল বেতনকে পুরোপুরি যৌক্তিক মনে করছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, "যে মানুষটি ৩৫ হাজার ফুট ওপরে আমার জীবন বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বে আছেন, তিনি এত ডলার বেতন পাবেন—এটাই স্বাভাবিক।" অন্য একজন মজা করে লিখেছেন, "বাচ্চারা, দ্রুত পাইলটের লাইসেন্স জোগাড় করো!" তবে ভিন্নমতও আছে অনেকের। কেউ কেউ বলছেন, যতই লাখ লাখ ডলারের বেতন হোক—পরিবার ছেড়ে বছরের পর বছর হোটেলের রুমে কাটানো, শিডিউল বিপর্যয় এবং বিমানবন্দরের ঝক্কি সামলানোর এই কঠিন জীবন তারা মোটেও হিংসা করেন না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১০:১২
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বিশ্বের শীর্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা | ছবি: সংগৃহীত

টেসলার গাড়ি বিক্রি লাফিয়ে বেড়েছে, তিন মাসে গ্রাহকের হাতে পৌঁছেছে প্রায় ৫ লাখ গাড়ি

নিউইয়র্ক সিটির ফুটপাত থেকে আবর্জনা সরাতে এবং ইঁদুরের উপদ্রব কমাতে পার্কিং স্পটে বসানো বিশেষ কনটেইনার ‘এম্পায়ার বিন’ | ছবি: সংগৃহীত

আবর্জনা ও ইঁদুরের উপদ্রব ঠেকাতে নিউইয়র্কে ৩০ হাজার পার্কিং স্পটের জায়গায় বসানো হবে ‘এম্পায়ার বিন’

পেনসিলভানিয়ায় গরম গাড়ির ভেতরে শিশুকন্যাকে রেখে হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার বাবা ড্যানিয়েল জেফরি মোইস্ট | ছবি: সংগৃহীত

ডে-কেয়ারে দিতে ভুলে গরম গাড়িতে ১৪ মাসের শিশুকন্যার মৃত্যু, পেনসিলভানিয়ার বাবা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার

কলোরাডোর প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেস প্রার্থী মেলাত কিরোস | ছবি: এপি ফটো/রেবেকা স্লেজাক
‘ইসরায়েলের কারণেই বিশ্বজুড়ে ইহুদিরা বিপদে’, মন্তব্য করে তোলপাড় ফেললেন মার্কিন নেত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভার এলাকা থেকে প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেস প্রার্থী মেলাত কিরোস এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণেই বিশ্বের অন্যান্য দেশে বসবাসকারী সাধারণ ইহুদিরা চরম বিপদের মুখে পড়ছেন এবং তাদের ওপর হামলা বাড়ছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় ও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।   ডেমোক্রেটিক পার্টির কট্টর বামপন্থী ও ইসরায়েল-বিরোধী শিবিরের অন্যতম উদীয়মান মুখ মেলাত কিরোস চলতি সপ্তাহের প্রাইমারি নির্বাচনে দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য ডায়ানা ডিগেটকে পরাজিত করে চমক দেখান। সম্প্রতি এক টিভি সাক্ষাৎকারে গত বছর কলোরাডোর বোল্ডারে এক ইসরায়েল-পন্থী সমাবেশে হওয়া প্রাণঘাতী বোমা হামলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এই মন্তব্য করেন। কিরোস বলেন, "বোল্ডারে যা ঘটেছিল তা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা ইহুদিদের ওপর এক ভয়াবহ ও নৃশংস হামলা ছিল। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, খোদ ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডই সাধারণ ইহুদিদের বড় বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে যে ইহুদি-বিদ্বেষ (অ্যান্টিসেমিটিজম) বাড়ছে, তা মোকাবিলা করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।"   উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ জুন বোল্ডারে ইসরায়েল-পন্থী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে মোহামেদ সোলিমান নামের এক ব্যক্তি ছদ্মবেশে এসে পেট্রোল বোমা হামলা চালায়। ওই হামলায় ৮২ বছর বয়সী কারেন ডায়মন্ড নামের এক বৃদ্ধা নিহত হন এবং আরও ডজনখানেক মানুষ আহত হন। গত মে মাসে আদালতের রায়ে সোলিমানকে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও সোলিমান দাবি করেছে সে ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং ‘জায়নবাদ’-এর বিরোধিতার অংশ হিসেবে এই হামলা চালিয়েছিল।   মেলাত কিরোস তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় ইসরায়েল-বিরোধী অবস্থানকে প্রধান হাতিয়ার করেছিলেন এবং জয়ের পর দেওয়া ভাষণে প্যালেস্টাইনে চলমান ‘গণহত্যা’ বন্ধ করাকে তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে ওই বোমা হামলাকে সরাসরি ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ বলতে কিরোসের দ্বিধাবোধ করায় ডেমোক্রেটিক পার্টির হবু গভর্নর প্রার্থী ফিল ওয়াইজারসহ অনেক শীর্ষ নেতাই তাঁর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ৯:২৪
মিশিগানের শপিং মলের ছবি সংগৃহীত

মিশিগানের শপিং মলে গোলাগুলি: দুই জন নিহত, আহত একজন

জানাজা উপলক্ষে ‘এক সপ্তাহের বিরতি’ দিয়েছিলাম: ট্রাম্প

ইরান আপসে আগ্রহী, জানাজা উপলক্ষে ‘এক সপ্তাহের বিরতি’ দিয়েছিলাম: ট্রাম্প

টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসি অনুষ্ঠানের ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, বিবাহবন্ধনে টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসি

0 Comments