যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ পুরুষকে বিয়ে করে লাখো ডলার হাতিয়ে নিলেন চীনা তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসে এক চীনা নারীকে ঘিরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন তিনি। এরপর অনেক ক্ষেত্রেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তিনি অন্তত ১৫টি বিয়ের আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে আটটি বিয়ের সনদ ইস্যু হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রায় ১৪ জন পুরুষকে বিয়ের ফাঁদে ফেলেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেভিভিইউ (KVVU) ও আদালতের নথির বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত জিয়াইং চেনকে (Jiaying Chen) গত ৪ জুন লাস ভেগাসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি রেস্তোরাঁ থেকে আটক করা হয়। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছিলেন, তিনি সেখানে এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্ভাব্য বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালায় লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশ।
গ্রেপ্তারের সময় তদন্তকারীরা তার কাছ থেকে 'ভিকি লিয়াং' (Vicky Liang) নামে একটি সন্দেহভাজন জাল মার্কিন পাসপোর্ট এবং নেভাডা অঙ্গরাজ্যের একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করেন। পরে নেভাডা মোটরযান বিভাগের তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ওই লাইসেন্স নম্বর বা নাম-জন্মতারিখের সঙ্গে সরকারি কোনো রেকর্ডের মিল নেই।
তদন্তে ক্লার্ক কাউন্টির বিয়ে নিবন্ধন সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, 'ভিকি লিয়াং' নামেও একাধিক বিয়ের আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি বিয়ের সনদ ইস্যু করা হয়েছে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক একটি বিয়ের আবেদন করা হয় ২৩ এপ্রিল ২০২৫ সালে এবং বিয়ের সনদ নিবন্ধিত হয় একই বছরের ৫ মে। ওই বিয়ের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের জানান, তিনি চেনকে অর্থ দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, একই সময়ে তিনি আরও একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন। এরপর তিনি আদালতে বিয়ে বাতিলের আবেদন করেন।
আরেক ব্যক্তি, যিনি ২৩ এপ্রিল ২০২৬ সালের একটি বিয়ের সনদে চেনের স্বামী হিসেবে তালিকাভুক্ত, তদন্তকারীদের জানান যে বিয়ের আগে ছয় মাস তাদের পরিচয় ছিল। তিনি দাবি করেন, চেনের সৎবোনের চিকিৎসার কথা শুনে তিনি তাকে ২০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। তবে তারা এখনও আইনগতভাবে স্বামী-স্ত্রী।
এছাড়া ২১ মে জমা দেওয়া আরেকটি বিয়ের আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, তিনি চেনকে ৩০ হাজার ডলার দিয়েছেন এবং এখনও তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রয়েছে। তদন্তকারীরা এপ্রিল ও মে মাসে করা আরও কয়েকটি বিয়ের আবেদনও পর্যালোচনা করেছেন। তবে সেসব বিয়ে বাতিল বা বিচ্ছেদের কোনো নথি এখনও পাওয়া যায়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় চেনের সঙ্গে ছয়জন পুরুষের বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল ছিল। এর বেশিরভাগ বিয়েই গত তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
কাউন্টির নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত চেন ক্লার্ক কাউন্টি ম্যারেজ লাইসেন্স ব্যুরোতে ১৫টি বিয়ের আবেদন জমা দেন। এর মধ্যে আটটি বিয়ের সনদ ইস্যু হয়। তদন্তকারীদের কাছে তিনি স্বীকার করেন, সব আবেদনই বিয়েতে গড়ায়নি, কারণ তার ভাষায়, "সবাই টাকা দেয় না।" এছাড়া তিনি পুলিশকে জানান, একটি বিয়ে থেকে তিনি সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারতেন এবং লাস ভেগাসে বিয়ে করতেন কারণ সেখানে বিয়ের প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ।
তদন্তকারীদের দাবি, চেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরুষদের সঙ্গে পরিচিত হতেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব দিতেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ চাইতেন। কিছু মামলায় অভিযোগ রয়েছে, তিনি অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার কথা বলে অর্থ নিতেন। তবে কেন এসব ব্যক্তি এত দ্রুত বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন, সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে লাস ভেগাস রিভিউ-জার্নাল-এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে যে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের একটি অংশ জুয়ায় ব্যয় করা হয়েছে। আদালতে তিনি ইতোমধ্যে একটি সমঝোতার অংশ হিসেবে বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকারে সম্মত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তার সাজা ঘোষণা করা হবে আগামী ২০ আগস্ট।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনুরুল্লাহ সাঈদ । আমেরিকা বাংলা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিতর্কমঞ্চে কিশোরী বয়সে যুক্তি ও বাগ্মিতার পরিচয় দেওয়া রেবেকা শাফি আজ যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক গবেষণাজগতের একজন পরিচিত গবেষক। বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই গবেষক ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন নিয়ে গবেষণার মধ্য দিয়ে তাঁর বৈজ্ঞানিক কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। পরে তিনি গবেষণার ক্ষেত্র বিস্তৃত করে মানুষের মস্তিষ্কের গঠন, স্নায়ুবিজ্ঞান ও জিনতত্ত্বের দিকে এগিয়ে যান। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর এই পথচলা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য জ্ঞানচর্চা, অধ্যবসায় ও নতুন বিষয় অনুসন্ধানের এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ। রেবেকার গল্পের শুরু বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জাতীয় স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সেরা বক্তার স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি। কৈশোরে বিতর্কের মঞ্চে তাঁর বক্তব্য ও উপস্থাপনা দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। বহু বছর পর সেই সময়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। অনেকেই জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, একসময় টেলিভিশনের পর্দায় দেখা সেই কিশোরী এখন কোথায়, কী করছেন। তবে তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য দিক শুধু সেই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সাফল্য নয়, বরং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞান গবেষণায় যুক্ত হওয়ার দীর্ঘ যাত্রা। রেবেকার নিজের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই বেড়ে উঠেছেন। তাঁর শিক্ষাজীবনের একটি ব্যতিক্রমী দিক হলো, তিনি বাংলাদেশের এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষাক্রমের পাশাপাশি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ও-লেভেল ও এ-লেভেল পরীক্ষাও একই সময়ে সম্পন্ন করেন। দুটি শিক্ষাব্যবস্থার পড়াশোনা সামলানোর এই অভিজ্ঞতা তাঁর প্রাথমিক শিক্ষাজীবনকে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য করে তুলেছে। তবে তাঁর সাফল্যের পেছনে শুধু একাধিক শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করার বিষয়টিই নয়, বরং দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের আগ্রহ এবং কঠিন বিষয় শেখার মানসিকতাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উচ্চশিক্ষার জন্য রেবেকা পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। তাঁর গন্তব্য ছিল ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, যা বিশ্বজুড়ে ক্যালটেক নামে পরিচিত। ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠান পদার্থবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণায় আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনা করে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এই পর্যায়ে তাঁর বৈজ্ঞানিক শিক্ষার ভিত্তি তৈরি হয়, যা পরবর্তী সময়ে মহাবিশ্বের জটিলতম বিষয়গুলোর একটি কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণায় কাজে আসে। ক্যালটেক থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি আরও উচ্চতর গবেষণার জন্য বোস্টনে যান। রেবেকার পরবর্তী গন্তব্য ছিল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত হন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন পরিমাপ। কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্বের এমন এক অঞ্চল, যার মহাকর্ষ এত প্রবল যে নির্দিষ্ট সীমার ভেতর থেকে আলোও বেরিয়ে আসতে পারে না। এর ভর, ঘূর্ণন এবং আশপাশের পদার্থের আচরণ সম্পর্কে ধারণা পেতে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও গাণিতিক মডেল ব্যবহার করেন। রেবেকার গবেষণাও এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের অংশ ছিল। হার্ভার্ডের গবেষণা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর পিএইচডি অভিসন্দর্ভের শিরোনাম ছিল ‘মেজারিং ব্ল্যাক হোল স্পিন’। ২০০৯ সালে তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেন। কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন নিয়ে গবেষণা কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে হলে মহাবিশ্বের এই রহস্যময় বস্তুগুলোর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার। কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন আশপাশের পদার্থের গতিবিধি এবং সেখান থেকে নির্গত বিকিরণের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকেরা কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে ঘূর্ণায়মান উত্তপ্ত পদার্থ থেকে নির্গত এক্স-রে বিশ্লেষণ করে এর ঘূর্ণন সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। রেবেকা শাফির পিএইচডি গবেষণায় এ ধরনের পরিমাপের পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে কাজ করা হয়। তাঁর গবেষণার সঙ্গে হার্ভার্ডের অধ্যাপক রমেশ নারায়ণ ও জেফ্রি ম্যাকক্লিনটকের নাম যুক্ত ছিল। হার্ভার্ডে তাঁর গবেষণার স্বীকৃতিও আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর থিওরি অ্যান্ড কম্পিউটেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে তাত্ত্বিক জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে সেরা পিএইচডি অভিসন্দর্ভের জন্য প্রদত্ত এরিক আর. কেটো পুরস্কার যৌথভাবে পান রেবেকা শাফি ও ম্যাট ম্যাককুইন। রেবেকার অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন পরিমাপ। এই স্বীকৃতি তাঁর গবেষণাকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি একটি গবেষণাক্ষেত্রে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের দিকে এগিয়ে যান। পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জনের পর রেবেকা গবেষণার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন স্নায়ুবিজ্ঞান। পরে তিনি মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যকারিতার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে কাজ শুরু করেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মস্তিষ্কবিষয়ক গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত থাকার পর তিনি ব্রড ইনস্টিটিউট অব এমআইটি অ্যান্ড হার্ভার্ডে জিনতত্ত্বভিত্তিক গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তাঁর এই পরিবর্তন দেখায়, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের আগ্রহ একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয় না। পদার্থবিজ্ঞানে অর্জিত গাণিতিক বিশ্লেষণ, জটিল তথ্য ব্যাখ্যা এবং বৈজ্ঞানিক মডেল ব্যবহারের দক্ষতা অন্য গবেষণাক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে। বর্তমানে রেবেকা শাফি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের সেকশন অন ডেভেলপমেন্টাল নিউরোজিনোমিকসে গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর গবেষণার মূল আগ্রহের মধ্যে রয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যকারিতার সঙ্গে জিনগত বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক বোঝা। মানুষের মস্তিষ্কের গঠন কেন ব্যক্তি ভেদে আলাদা হয়, জিনগত বৈচিত্র্য এসব পার্থক্যের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত এবং নির্দিষ্ট কিছু স্নায়বিক ও মানসিক রোগের ঝুঁকির পেছনে কী ধরনের জৈবিক বৈশিষ্ট্য ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে আধুনিক বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন। রেবেকার কাজও এই বিস্তৃত গবেষণাক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত। ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘নেচার কমিউনিকেশন্স’ সাময়িকীর একটি গবেষণাপত্রে সহলেখক হিসেবে যুক্ত ছিলেন রেবেকা শাফি। গবেষণাটিতে মানুষের মস্তিষ্কের গঠনসংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যের জিনগত ভিত্তি এবং নারী ও পুরুষের মধ্যে এসব জিনগত সম্পর্কের সম্ভাব্য পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়। এ ধরনের গবেষণায় বৃহৎ জিনগত তথ্যভান্ডার, মস্তিষ্কের চিত্র এবং পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জৈবিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করা হয়। গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে নতুন অনুসন্ধানের পথ তৈরি করতে পারে, যদিও কোনো একটি গবেষণার ফলাফলকে সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। রেবেকার জীবনযাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি গবেষণার বিষয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রেখেছেন। কৃষ্ণগহ্বরের মতো মহাজাগতিক বস্তু থেকে মানুষের মস্তিষ্কের জিনগত বৈশিষ্ট্য, এই দুই ক্ষেত্রের মধ্যে বিষয়গত পার্থক্য অনেক। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই জটিল তথ্য বিশ্লেষণ, প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অজানা বিষয় সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর কর্মজীবন দেখায়, একজন গবেষক নতুন বিষয় শেখার মাধ্যমে নিজের জ্ঞানের পরিসর বাড়াতে পারেন এবং পূর্বের অভিজ্ঞতাকে নতুন ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারেন। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য রেবেকা শাফির গল্পের গুরুত্ব এখানেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণায় যুক্ত হতে হলে কেবল একটি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, মৌলিক বিষয়ের ওপর দক্ষতা, গবেষণার সুযোগ এবং কঠিন সমস্যার সমাধানে ধৈর্য ধরে কাজ করার মানসিকতা। একই সঙ্গে তাঁর যাত্রা মনে করিয়ে দেয়, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও দক্ষতা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। কেউ পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে শুরু করে পরবর্তী সময়ে জীববিজ্ঞান বা স্নায়ুবিজ্ঞানে কাজ করতে পারেন। জ্ঞানচর্চার এই আন্তবিষয়ক পথ আধুনিক বিজ্ঞানে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিটিভির বিতর্কমঞ্চ থেকে ক্যালটেক, হার্ভার্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত রেবেকা শাফির পথচলা তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে বেড়ে ওঠা একজন মানুষের আন্তর্জাতিক গবেষণায় যুক্ত হওয়ার বাস্তব উদাহরণ। তাঁর অর্জনকে অতিরঞ্জিত না করেও বলা যায়, পদার্থবিজ্ঞান থেকে স্নায়ুবিজ্ঞান ও জিনতত্ত্বে বিস্তৃত এই গবেষণাযাত্রা তরুণদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়। যে কিশোরী একসময় বিতর্কের মঞ্চে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন, তিনি পরবর্তী জীবনে বিজ্ঞানের জটিল প্রশ্ন নিয়ে কাজ করার পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁর এই যাত্রার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হলো, জানার আগ্রহকে ধরে রেখে নতুন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে থাকা এবং শেখার জন্য নিজের দিগন্তকে বারবার প্রসারিত করা।
ঢাকা থেকে মহাবিশ্বের গভীরে: বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা লামিয়া মওলার জ্যোতির্বিজ্ঞানে অসাধারণ অগ্রযাত্রা
অভিবাসন অভিযান ঘিরে উদ্বেগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা চাইছে সংগঠনগুলো
যুক্তরাষ্ট্রে ঘড়ির কাঁটা বদলের সময় ঘনিয়ে আসছে, আইন পাসে সিনেটকে ফের তাগিদ দিলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে এত দিন বিশ্বাস করতেন নিউইয়র্কের সিরাকিউজ এলাকার ৬৬ বছর বয়সী মারভা কুক। ছোটবেলায় দত্তক নেওয়া হওয়ায় নিজের জন্মপরিচয় সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ধারণা ছিল না। সম্প্রতি জৈবিক মাকে খুঁজতে গিয়ে জার্মানিতে জন্মের সনদ খুঁজে পান তিনি। এরপর জানা যায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। এবার ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। তবে কুকের দাবি, তিনি এত দিন নিজেকে মার্কিন নাগরিক বলেই মনে করতেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অভিযোগে দেশজুড়ে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ জোরদার করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় কুকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। ফেডারেল কৌঁসুলিদের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে গ্রিন কার্ডধারী হওয়া সত্ত্বেও কুক সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কুকের সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এ ছাড়া ফেডারেল আইনের আওতায় তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অধিকারও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। চলতি মাসের শুরুতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলার সময় কুক নিজের শৈশব ও জন্মপরিচয় নিয়ে বিস্তারিত জানান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ছোটবেলায় দত্তক নেওয়ার পর থেকেই তিনি ধরে নিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। কিন্তু নিজের জৈবিক মাকে খুঁজতে গিয়ে জার্মানিতে জন্মের সনদ পাওয়ার পর তাঁর সেই ধারণা বদলে যায়। গত শুক্রবার ফোনে কথা বলার সময় কুক মামলার বিস্তারিত, নিজের ভোট দেওয়ার ইতিহাস কিংবা অতীতে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা নিয়ে আলোচনা করতে চাননি। তবে আদালতে হাজিরার অভিজ্ঞতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বুধবার স্বেচ্ছায় কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নেওয়া হয়। এ অভিজ্ঞতাকে কঠিন সময় হিসেবে বর্ণনা করেন কুক। তিনি বলেন, মানুষের প্রতি সদয় থাকা, অন্যের সেবা করা এবং নিজের সঙ্গে যেমন আচরণ প্রত্যাশা করেন, অন্যদের সঙ্গেও তেমন আচরণ করাই তাঁর বিশ্বাস। আদালতে হাজিরার সময় তাঁর পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সমর্থন ও প্রার্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। কুক বলেন, এই সমর্থন তাঁকে কঠিন সময় পার করতে সাহায্য করবে এবং সৃষ্টিকর্তার ওপর তাঁর গভীর আস্থা রয়েছে। কুকের আইনজীবী পল টাকও মামলার বিস্তারিত নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, আপাতত নতুন কোনো শুনানির তারিখ বা আদালতে নথি জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা নেই। কুকের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রমও চলমান নেই। পরিস্থিতি বদলালে সহায়তার জন্য তাঁর একজন অভিবাসন আইনজীবী রয়েছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্কের উত্তরাঞ্চলে মামলাটি পরিচালনাকারী ফেডারেল কৌঁসুলি জন এ সারকোন তৃতীয় কুকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপকে রাজ্যে ভোট জালিয়াতির ব্যাপকতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার করেছে প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক পোস্টে বলা হয়, অ-মার্কিন নাগরিকদের অবৈধ ভোটের কারণে মার্কিন নাগরিকদের ভোটের মূল্য ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া হবে না। তবে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার প্রকৃত ব্যাপকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন তদন্তে এমন ঘটনা বিরল বলে উঠে এসেছে এবং এ ধরনের ভোট নির্বাচনের ফল বদলে দিয়েছে—এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় এর আগে কয়েক ডজন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া বা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে মিনেসোটায় গত তিনটি নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে প্রশাসনের তৎপরতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে, কুকের পরিচিতজনেরা তাঁকে সিরাকিউজ এলাকার একজন সম্মানিত ও সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কয়েক দশক ধরে তিনি ওই এলাকায় বসবাস করছেন। সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী বাস্কেটবল দলের হয়ে খেলার সময়ও তিনি পরিচিতি পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বিভাগ নিশ্চিত করেছে, ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে তিনি দলের সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রাহক ছিলেন। প্রতি ম্যাচে তাঁর গড় পয়েন্ট ছিল ১৫। এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি বল ছিনিয়ে নেওয়ার রেকর্ডও তাঁর রয়েছে। অল সেইন্টস উপাসনালয়ের যাজক ফ্রেড ডেলি জানান, কুক দীর্ঘদিন ধরে সেখানে সক্রিয় এবং বসন্তের ইস্টার উৎসবে খরগোশের পোশাক পরে শিশুদের আনন্দ দেওয়ার কাজেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর মতে, কুককে ঘিরে কমিউনিটির মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। প্রায় ২০ বছর ধরে কুককে চেনেন ডেল অ্যাভার্স। তাঁর ভাষায়, কুক সব সময় অন্যের সেবায় নিয়োজিত থেকেছেন, কিন্তু কখনো প্রচারের আলোয় আসতে চাননি। ওয়াইএমসিএর একটি কমিউনিটি স্কুল কর্মসূচির পরিচালক হিসেবে তিনি স্বল্প আয়ের পরিবারের শিশু ও তরুণদের সহায়তা করেন। কুকের বিরুদ্ধে মামলায় এত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, কুকের কাজের মধ্যে প্রতারণা বা অসৎ উদ্দেশ্য ছিল—এমন ধারণা তাঁর কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়। মামলার চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কুকের ঘটনা একদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার যোগ্যতা ও নাগরিকত্বের আইনি শর্ত নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে মার্কিন নাগরিক বলে বিশ্বাস করা একজন মানুষের ব্যক্তিগত পরিচয়সংকটকেও সামনে এনেছে।
চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা, আমেরিকায় স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা হারানোর ঝুঁকি
১ নভেম্বর নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথন, সেন্ট্রাল পার্কে দর্শকদের জন্য ৩৫০ বিনামূল্যের টিকিট
ভোটার জালিয়াতির তদন্তে বাড়ি বাড়ি ফেডারেল এজেন্ট, নিউইয়র্কে অভিবাসীদের উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবার প্রেসিডেন্সির সুযোগ কাজে লাগিয়ে যে মুনাফা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেই অর্থ দিয়ে এক বছর ১৩ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তার খরচ মেটানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তাঁর দাবি, ওই অর্থ দিয়ে ৬০ কোটিরও বেশি বিনা মূল্যের স্কুলের খাবার সরবরাহ করা অথবা খাদ্যসহায়তা হারানো ৫২ লাখ মানুষের তিন মাসের মুদিখানার খরচ মেটানো সম্ভব। গত বুধবার সাংবাদিক কারা সুইশারের উপস্থাপনায় ‘অন উইথ কারা সুইশার’ অনুষ্ঠানের ‘হাই স্টেকস’ নামের বিশেষ পর্বে এসব কথা বলেন হিলারি। সেখানে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক মুনাফা, সরকারের ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে পরিবর্তনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। হিলারি বলেন, ট্রাম্প পরিবারের প্রেসিডেন্সিকে কেন্দ্র করে অর্জিত মুনাফার পরিমাণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যয় বহন করা সম্ভব। তাঁর ভাষায়, এসব হিসাব সামনে আনলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। তিনি অভিযোগ করেন, করদাতাদের অর্থের অপচয় হচ্ছে এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাব সরকারি সেবার পাশাপাশি জাতীয় প্রতিরক্ষার ওপরও পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। হিলারির মতে, এ ধরনের অনিয়মের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেই মানুষ, যাঁদের খাবার কেনা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় বিল পরিশোধের জন্য সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, একদিকে প্রেসিডেন্সিকে ঘিরে ব্যবসায়িক মুনাফার অভিযোগ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ার বাস্তবতা। ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের দেওয়া সরকারি চুক্তি নিয়েও সমালোচনা করেন হিলারি। তাঁর অভিযোগ, এসব চুক্তির কারণে করদাতাদের অর্থ অপচয় হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ট্রাম্পের ক্ষমা প্রদানের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ তুলে হিলারি বলেন, তাঁর সমালোচনার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু আইনি ঘটনার ভিত্তি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৩৪টি ফৌজদারি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়, দেওয়ানি জালিয়াতির মামলার সিদ্ধান্ত এবং লেখক ই. জিন ক্যারলের করা মামলায় আদালতের রায়। এসব ঘটনার উল্লেখ করে ট্রাম্পকে ‘প্রতারক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন হিলারি। এগুলো তাঁর বক্তব্য ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন; সংশ্লিষ্ট আইনি ঘটনাগুলোর প্রকৃতি এক নয়। দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ চালুর পরিবর্তে বিচারপতির সংখ্যা বাড়িয়ে ১৩ করার বিষয়টি বিবেচনার পক্ষে মত দেন হিলারি। খাদ্যসহায়তা নিয়ে তাঁর মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপের নিয়মে বড় পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। গত ১ অক্টোবর থেকে কর্মসূচিটির প্রশাসনিক ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ রাজ্যগুলোকে বহন করতে হচ্ছে। আগে এই অংশ ছিল ৫০ শতাংশ। ফলে কর্মসূচি পরিচালনার আর্থিক দায় রাজ্যগুলোর ওপর আরও বেড়েছে। খাদ্য গবেষণা ও নীতিবিষয়ক সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যানেও স্ন্যাপে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমার চিত্র উঠে এসেছে। ফুড রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন সেন্টারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এইচআর ১ আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ কর্মসূচিটির আওতা থেকে বাদ পড়েছেন। তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং প্রত্যেক ব্যক্তির সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ এক নয়; নীতিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ও এতে ভূমিকা রাখতে পারে। আইনটির সমর্থকেরা অবশ্য পরিবর্তনগুলোর পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এর আগে বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যাঁদের খাদ্যসহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের জন্য কর্মসূচিটিকে আরও শক্তিশালী করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন আইনে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত শর্ত পুনর্বহাল করা হয়েছে এবং রাজ্যগুলোর সঙ্গে ব্যয় ভাগাভাগির ব্যবস্থা চালু হয়েছে। হিলারি ক্লিনটনের বক্তব্যে তাই দুটি বিষয় সামনে এসেছে—প্রেসিডেন্সিকে ঘিরে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক মুনাফা নিয়ে তাঁর অভিযোগ এবং খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর পড়া প্রভাব। তবে ট্রাম্প পরিবারের মুনাফা দিয়ে ঠিক কত মানুষের সহায়তার ব্যয় বহন করা সম্ভব, সে হিসাবটি হিলারির বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; এটিকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা আর্থিক হিসাব হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাসন মামলা স্থগিতের সুযোগ বন্ধই থাকছে
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় গাড়ি বিকল ভেবে সাহায্য করতে গিয়ে বন্দুকের মুখে ছিনতাইয়ের শিকার নারী