সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মায়ের রাখা বন্দুক নিয়ে খেলতে গিয়ে টেক্সাসে ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৭:৩৮
প্রিসিনক্ট ৪-এর ডেপুটিরা
প্রিসিনক্ট ৪-এর ডেপুটিরা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মায়ের রাখা বন্দুক হাতে পেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হ্যারিস কাউন্টির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের অফিস।

কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত ১১টার দিকে চ্যাম্পিয়নস এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে গুলির খবর পেয়ে প্রিসিনক্ট ৪-এর ডেপুটিরা সেখানে যান। তারা গিয়ে দেখতে পান, একটি ক্লোজেটের ভেতরে থাকা অবস্থায় শিশুটি বন্দুকটি খুঁজে পায় এবং গুলিবিদ্ধ হয়।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় শিশুটির মা ও ১০ বছরের এক ভাই বা বোনও বাড়িতে ছিলেন বলে জানিয়েছে শেরিফের অফিস। তদন্তকারীদের মতে, বন্দুকটি শিশুটির মায়ের মালিকানাধীন ছিল এবং ক্লোজেটেই রাখা হয়েছিল। হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের অফিসের সার্জেন্ট জেসন ব্রাউন জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বন্দুকটি নিরাপদভাবে লক বা সুরক্ষিত অবস্থায় রাখা ছিল না। কীভাবে শিশুটি ক্লোজেটে ঢুকে বন্দুকটি হাতে পেল, তা জানতে মায়ের ও ১০ বছর বয়সী শিশুটির সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা। 

 

কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আপাতত দুর্ঘটনাজনিত গুলিবর্ষণ হিসেবে তদন্ত করছে। তবে শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে শেরিফের অফিস। 

 

এই ঘটনায় আবারও শিশুদের নাগালের বাইরে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদভাবে সংরক্ষণের গুরুত্ব সামনে এসেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বাঘের হামলায় তরুণের মৃত্যুর ঘটনার ভিডিও শেয়ারের পর বাঘের সঙ্গে খেলার কৃত্রিম ভিডিও পোস্ট করে বিতর্কে ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের চিড়িয়াখানায় বাঘের হামলায় শিশুশিল্পীর মৃত্যুর পর বাঘ বশ করার এআই ভিডিও পোস্ট ট্রাম্পের

যুক্তরাজ্যের একটি ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে বাঘের হামলায় তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় ধারণ করা ভিডিও শেয়ার করার কয়েক ঘণ্টা পর নিজের সঙ্গে বাঘের খেলার একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও পোস্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৩ অক্টোবর রাতে ট্রুথ সোশ্যালে ভিডিওটি প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে নিহত তরুণের পরিবার অনলাইনে ঘটনার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়ানো বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।    ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ভিডিওতে ট্রাম্পকে বাঘ তাড়াতে এবং প্রাণীটির সঙ্গে খেলার ছলে ধস্তাধস্তি করতে দেখা যায়। শেষে তাঁকে বাঘটি জড়িয়ে ধরতে দেখানো হয়। পুরো দৃশ্যটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি, বাস্তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বাঘের এমন কোনো ঘটনার ভিডিও নয়।    এর আগে ট্রাম্প ইংল্যান্ডের ডনকাস্টারের কাছে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে বাঘের হামলার ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে তাঁর বার্তার অর্থ ছিল, প্রকৃতির সঙ্গে কখনো খেলতে যেও না। আইটিভি নিউজ জানিয়েছে, ওই ভিডিওতে হামলার দৃশ্য থাকলেও তরুণের মৃত্যুর মুহূর্ত দেখানো হয়নি।    নিহত তরুণের নাম উইলিয়াম চ্যাপম্যান, বয়স ২৩ বছর। সাউথ ইয়র্কশায়ার পুলিশের বক্তব্য উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর তিনি বাঘের ঘেরের ভেতরে প্রবেশ করার পর হামলার শিকার হন। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। বাঘটি ঘেরের ভেতরেই ছিল এবং আহত হয়নি।    উইলিয়ামের পরিবার জানিয়েছে, শোকের এই সময়ে আপত্তিকর অনলাইন কনটেন্টের প্রচার তাঁদের গভীর মানসিক কষ্ট দিচ্ছে। তাঁরা এ ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো বন্ধ করতে এবং মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাতে অনুরোধ করেছেন।    আইটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর ডনকাস্টারের করোনার আদালতে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পার্কটির লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ডনকাস্টার সিটি কাউন্সিলও স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তদন্ত শুরু করেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৯:১৭
প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার নতুন নাম ঘোষণা করলেন মেলানিয়া ট্রাম্প

এআই নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তির পর শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার নাম বদলালেন মেলানিয়া ট্রাম্প

বাফলো থেকে তিন শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে

বাফলো থেকে তিন শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে ব্রিজ এয়ারওয়েজ

নিউইয়র্কে স্পিড ক্যামেরার টিকিট চ্যালেঞ্জের নিয়ম

নিউইয়র্কে স্পিড ক্যামেরার ৫০ ডলারের টিকিট চ্যালেঞ্জ করবেন যেভাবে

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা নিয়ে উদ্বেগে বাংলাদেশি পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারভিত্তিক ভিসায় পাবলিক চার্জ নিয়ে উদ্বেগ, স্পনসরের আর্থিক যোগ্যতা নিয়ে চাপে বাংলাদেশিরা

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসা পেতে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধান এবং স্পনসরের আর্থিক যোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েও ভিসা না পাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বয়স্ক বাবা-মায়ের আবেদনও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিবারের দাবি, আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কায় ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(এ)(৪) ধারায় পাবলিক চার্জের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। এর আওতায় আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করা হতে পারে। তবে কয়েকটি পরিবারের অভিজ্ঞতা সামনে এলেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে এ কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে কি না, সে বিষয়ে সামগ্রিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশি আবেদনকারী মিজান সিদ্দিকী জানান, তাঁর বাবার অভিবাসন ভিসার প্রথম সাক্ষাৎকার হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৬ জুন। এরপর দীর্ঘদিন আবেদনটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে ছিল। সম্প্রতি তাঁকে আবার সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎকারের পর পাবলিক চার্জের কারণ দেখিয়ে ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মিজানের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রত্যাখ্যানের নোটিশে বলা হয়েছে, তাঁর বাবা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে কনস্যুলার কর্মকর্তা মনে করেছেন। তবে কোন আর্থিক বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নোটিশে বিস্তারিত উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। সিলেটের ষাটোর্ধ্ব এক বাংলাদেশি নারীর পরিবারের সদস্যরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ওই নারীর ছেলে মিশিগানে বসবাস করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ছেলের আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে প্রথম সাক্ষাৎকার দিলেও ভিসা পাননি ওই নারী। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা ইস্যু স্থগিত থাকায় তখন আবেদনটির নিষ্পত্তি হয়নি। গত ২২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎকার দিতে যান তিনি। পরিবারের দাবি, সাক্ষাৎকারের পর কনস্যুলার কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ওই নারী সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাঁর ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে এই পরিবারের অভিজ্ঞতা দিয়ে সব বয়স্ক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। অন্যদিকে, অনলাইনে আবেদনের স্ট্যাটাস ‘রিফিউজড’ দেখালেই যে পাবলিক চার্জের কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যান হয়েছে, তা নয়। জয়া সরকার নামে এক বাংলাদেশি জানিয়েছেন, তাঁর বাবার অভিবাসন ভিসার সাক্ষাৎকার হয়েছিল ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। সাক্ষাৎকারের পর আবেদনটি ২২১(জি) ধারায় রাখা হয়। পরে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। জয়ার দাবি, ২১ জানুয়ারি থেকে ভিসা ইস্যু স্থগিত হওয়ার পর দূতাবাস পাসপোর্ট ফেরত দেয় এবং ফোন করে স্থগিত থাকার বিষয়টি জানায়। সর্বশেষ ৪ অক্টোবর তাঁর বাবার আবেদনের স্ট্যাটাস হালনাগাদ হলেও কনস্যুলার ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে ‘রিফিউজড’ দেখাচ্ছে। তবে ২২১(জি) ধারায় কোনো আবেদন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় রাখা হলে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ বা যাচাইয়ের জন্য সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে অনলাইন স্ট্যাটাসকে চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যানের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এ ছাড়া বাংলাদেশিসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার যে ব্যবস্থা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল, আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট তা আর কার্যকর নেই বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। ফলে জয়ার বাবার বর্তমান স্ট্যাটাসের কারণ জানতে দূতাবাসের লিখিত নির্দেশনা ও আবেদনের নির্দিষ্ট ধারা যাচাই করা জরুরি। যৌথ স্পনসর খুঁজতেও বিপাকে পরিবার পাবলিক চার্জের আশঙ্কার পাশাপাশি স্পনসরের আয় ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে গিয়েও সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। নিউইয়র্কে বসবাসরত এক বাংলাদেশি-আমেরিকান জানিয়েছেন, তিনি তাঁর বোন, বোনের স্বামী ও তাঁদের সন্তানদের জন্য আবেদন করেছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চলতি অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে চার সদস্যের পরিবারের সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের স্পনসর করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক যোগ্যতা তাঁর একার নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই ব্যক্তি জানান, যৌথ স্পনসরের সহায়তা পেতে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কাউকে রাজি করাতে পারেননি। অনেকে সহায়তা করতে আগ্রহী হলেও আর্থিক দায় এবং যাচাইপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণে পিছিয়ে যাচ্ছেন। সাক্ষাৎকারের সময় ঘনিয়ে আসায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে পরিবারটি। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণত স্পনসরের বার্ষিক আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হয়। তবে সামরিক বাহিনীতে কর্মরত যোগ্য স্পনসর নিজের স্ত্রী বা সন্তানকে স্পনসর করার ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন সীমার সুবিধা পেতে পারেন। আয়সংক্রান্ত এই শর্ত নতুন নয়; পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও প্রযোজ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। ২০২৬ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৪৮টি স্টেট ও ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই সদস্যের স্পনসর পরিবারের জন্য সাধারণ ন্যূনতম বার্ষিক আয় ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের ক্ষেত্রে তা ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার এবং চার সদস্যের ক্ষেত্রে ৪১ হাজার ২৫০ ডলার। পাঁচ সদস্যের জন্য প্রয়োজন ৪৮ হাজার ৩৫০ ডলার, ছয় সদস্যের জন্য ৫৫ হাজার ৪৫০ ডলার, সাত সদস্যের জন্য ৬২ হাজার ৫৫০ ডলার এবং আট সদস্যের জন্য ৬৯ হাজার ৬৫০ ডলার। আটজনের বেশি হলে অতিরিক্ত প্রত্যেক সদস্যের জন্য আরও ৭ হাজার ১০০ ডলার যোগ হয়। আলাস্কা ও হাওয়াইয়ে আলাদা সীমা প্রযোজ্য। এখানে পরিবারের সদস্যসংখ্যা বলতে শুধু বিদেশ থেকে আসতে যাওয়া ব্যক্তিদের বোঝায় না। স্পনসর নিজে, তাঁর স্বামী বা স্ত্রী, নির্ভরশীল সদস্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আগে স্পনসর করা ব্যক্তিদেরও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়। ফলে চারজন আত্মীয়কে স্পনসর করার জন্য প্রয়োজনীয় আয় নির্ধারণ করতে শুধু তাঁদের সংখ্যা বিবেচনা করলেই হবে না। আয় পর্যাপ্ত না হলে কিছু ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য সম্পদের প্রমাণ দেওয়া, যোগ্য পরিবারের সদস্যের আয় যুক্ত করা কিংবা যৌথ স্পনসরের সহায়তা নেওয়া যায়। পরিবারের সদস্যের আয় যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে আই-৮৬৪এ ফরম প্রয়োজন হতে পারে। যৌথ স্পনসরকে তাঁর নিজের পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং যাঁদের স্পনসর করছেন, তাঁদের বিবেচনায় নির্ধারিত আর্থিক শর্ত পূরণ করতে হয়। যৌথ স্পনসর থাকলেও মূল আবেদনকারীর স্পনসরকে সাধারণত নিজস্ব আই-৮৬৪ ফরম জমা দিতে হয়। স্পনসরশিপ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর নয়। আই-৮৬৪ ফরমের মাধ্যমে স্পনসর আইনগতভাবে আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকার করেন। সাধারণভাবে স্পনসর করা ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া অথবা সামাজিক নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৪০টি যোগ্য কর্মকাল অর্জন করা পর্যন্ত এই দায় বহাল থাকতে পারে। নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধার ব্যয় ফেরত দেওয়ার দাবিও স্পনসরের বিরুদ্ধে উঠতে পারে। তাই যৌথ স্পনসর হওয়ার আগে অনেকেই সম্ভাব্য দায় নিয়ে সতর্ক থাকেন। পাবলিক চার্জ বিধিতে পরিবর্তন, তবে সব আবেদন এক নয় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ বিধিমালা বাতিল করে নতুন বিধান কার্যকর করেছে ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে। নতুন বিধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন এবং দেশটির ভেতরে থেকে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার জন্য স্ট্যাটাস সমন্বয়ের নির্দিষ্ট আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিদেশে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অভিবাসন ভিসার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র দপ্তরের বিধান ও নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলাদেশে আলোচিত প্রত্যাখ্যানগুলোর সঙ্গে নতুন বিধানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। একইভাবে বয়স বেশি হলেই ভিসা প্রত্যাখ্যান হবে, এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় নিয়মও নেই। আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষা, দক্ষতা, সম্পদ এবং স্পনসরের আর্থিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। গত ৫ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নির্বাচিত কিছু অভিবাসন ভিসা আবেদনে পাবলিক চার্জ বন্ডের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এটি সব আবেদনকারীর জন্য উন্মুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তা কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য কি না, তা জানাতে পারেন। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ এবং বন্ড অনুমোদিত হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আগে পাবলিক চার্জের কারণে প্রত্যাখ্যাত ভিসা ইস্যুর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে অতিরিক্ত নথি বা বন্ড জমা দিলেই ভিসা নিশ্চিত—এমন নয়। সব মিলিয়ে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষার পর সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাওয়া মানেই ভিসা অনুমোদন নয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, স্পনসরের আয়, পরিবারের সঠিক সদস্যসংখ্যা এবং আর্থিক সহায়তার প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বয়স্ক বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে ইচ্ছুক পরিবার এবং যৌথ স্পনসরের ওপর নির্ভরশীল আবেদনকারীদের জন্য এই অনিশ্চয়তা পারিবারিক পুনর্মিলনের অপেক্ষাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৭:৫৮
অর্থপাচারের অভিযোগে ১২০ কোটি ডলার জরিমানার মুখে ব্যাংক অব আমেরিকা

অর্থপাচার ও নিষেধাজ্ঞা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা

হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে নিজের সম্পদ বাড়ানোতেই ট্রাম্পের মনোযোগ, বলছে নতুন জনমত জরিপ

আটলান্টার শিক্ষাকর্মী হাসান জিহাদ ইবন কারিম

ক্যানসার ও গাড়ির আগুন থেকে বেঁচেও রোলার কোস্টারে প্রাণ  গেল জর্জিয়ার শিক্ষক জিহাদের

জিপ কোড দিয়ে অনলাইনে যাচাই করা যাবে ডেল দম্পতির ২৫০ ডলারের অনুদানের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকা যোগ্য কি না। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আপনার সন্তানের ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে জমা হতে পারে ২৫০ ডলার, জিপ কোড দিয়ে যাচাই করুন যোগ্যতা

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলা বিশেষ বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে ২৫০ ডলার করে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন ডেল টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ডেল ও তাঁর স্ত্রী সুসান ডেল। তাঁদের ৬২৫ কোটি ডলারের অনুদানে ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের অ্যাকাউন্টে এই অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিশু এই অর্থ পাবে না। পরিবারের বসবাসের এলাকার জিপ কোড, ওই এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয় এবং নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগ্রহী অভিভাবকেরা অনলাইনে জিপ কোড দিয়ে তাঁদের এলাকা এই অনুদানের আওতায় পড়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন।   শিশুদের জন্য তৈরি এই বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টগুলো ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম যুক্ত এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। মাইকেল ও সুসান ডেলের অর্থায়নে পরিচালিত অনুদান কর্মসূচির দায়িত্বে রয়েছে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্ট আমেরিকা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবরের মধ্যে যোগ্য অ্যাকাউন্টগুলোতে ২৫০ ডলারের জমা সম্পন্ন হয়েছে। তবে কোনো শিশুর নামে অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া মানেই সেখানে ডেল দম্পতির অনুদান জমা হয়েছে, এমন নয়।   এই অনুদানের জন্য যোগ্য হতে হলে শিশুর জন্ম ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হতে হবে। পরিবারের বসবাসের জিপ কোডের মধ্যম পারিবারিক আয় হতে হবে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ ডলার। এই আয়সীমা নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে ইনভেস্ট আমেরিকা জানিয়েছে। এখানে পরিবারের নিজস্ব আয় নয়, সংশ্লিষ্ট জিপ কোডের মধ্যম পারিবারিক আয় বিবেচনা করা হয়। ফলে কোনো পরিবারের আয় ওই সীমার বেশি বা কম হলেই সরাসরি অনুদানের যোগ্যতা নির্ধারিত হয় না।   যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে বসবাসকারী নির্ধারিত বয়সসীমার যোগ্য শিশুরাও স্থানীয় জিপ কোডের আয়সীমা নির্বিশেষে এই অনুদানের আওতায় রয়েছে। ইনভেস্ট আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রথমে অপেক্ষাকৃত কম মধ্যম পারিবারিক আয়ের এলাকাগুলোকে বিবেচনা করা হয়। এরপর নির্ধারিত ২ কোটি ৫০ লাখ শিশুর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া পর্যন্ত যোগ্য এলাকার পরিধি বাড়ানো হয়। তাই শুধু জিপ কোড দিয়ে এলাকা যোগ্য কি না জানা গেলেও, নির্দিষ্ট শিশুর অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে অ্যাকাউন্টের তথ্য দেখতে হবে।   যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ইনভেস্ট আমেরিকার নির্ধারিত ওয়েবপেজে যেতে হবে: https://investamerica.org/check-dell-250-eligibility/। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জিপ কোড লিখে যাচাই করা যাবে সংশ্লিষ্ট এলাকা ডেল দম্পতির অনুদানের আওতায় রয়েছে কি না। এরপর সন্তানের ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে অর্থ জমা হয়েছে কি না দেখতে হবে। অ্যাকাউন্টের তথ্য ও দাবি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে সরকারি ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত। অচেনা বার্তা, অননুমোদিত ওয়েবসাইট কিংবা অর্থের বিনিময়ে অনুদান পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।   ডেল দম্পতির ২৫০ ডলারের অনুদান যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের দেওয়া ১ হাজার ডলারের প্রাথমিক অর্থের থেকে আলাদা। সরকারের এই অর্থ পাওয়ার জন্য সাধারণত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শিশুর বৈধ সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকতে হবে এবং অভিভাবক বা যোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্ট খোলা ও অর্থ পাওয়ার আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ, এই ১ হাজার ডলারও সব শিশুর অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হয় না। দুই কর্মসূচির জন্মসীমা ও যোগ্যতার শর্ত আলাদা, তাই একটি অনুদানের যোগ্যতা দিয়ে অন্যটির যোগ্যতা ধরে নেওয়া যাবে না।   ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে অভিভাবক, আত্মীয়স্বজন ও অন্যান্য অনুমোদিত ব্যক্তি নির্ধারিত সীমার মধ্যে অর্থ জমা দিতে পারেন। ইনভেস্ট আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ অবদানের বার্ষিক সীমা বর্তমানে ৫ হাজার ডলার। অ্যাকাউন্টের অর্থ নির্দিষ্ট বিনিয়োগ তহবিলে রাখা হয়, তাই এর মূল্য সময়ের সঙ্গে বাড়তেও পারে, কমতেও পারে। ভবিষ্যতে কত অর্থ জমবে, তা নির্ভর করবে জমার পরিমাণ, বিনিয়োগের ফলাফল, খরচ ও সময়ের ওপর। ফলে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ মূল্যকে নিশ্চিত আর্থিক লাভ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   অ্যাকাউন্টধারী ১৮ বছর বয়সে পৌঁছালে নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। শিক্ষা, বাড়ি কেনা বা ব্যবসা শুরু করার মতো যোগ্য খাতে অর্থ ব্যবহারের কথা কর্মসূচির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তবে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কর এবং অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিভাবক বা নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অ্যাকাউন্টটির তত্ত্বাবধান করেন। তাই অনুদানের অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টের বিনিয়োগনীতি, ব্যবহারবিধি ও সম্ভাব্য করের বিষয়গুলোও অভিভাবকদের বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।   সূত্র: ইনভেস্ট আমেরিকার ডেল অনুদান ও যোগ্যতা যাচাই পেজ; যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংস্থা (আইআরএস)।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ০:৪
ইন্দোনেশিয়ার মানুরুং পরিবারের সদস্যরা ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোমের সঙ্গে বসবাস করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের জীবন তুলে ধরছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

‘অভিশপ্ত পরিবার’ বলে দূরে সরিয়ে রাখা হতো, ইন্দোনেশিয়ার ‘টিকটিকি পরিবার’ এখন টিকটক তারকা

ইউএসসিআইএসের অনলাইন সেবায় রিসিট নম্বর ব্যবহার করে গ্রিন কার্ডের আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা যায়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, রিসিট নম্বর দিয়ে অনলাইনে যেভাবে জানবেন

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আইলি ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে সহকর্মীর চায়ে রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সহকর্মীর চায়ে বিষ মিশিয়ে চীনে পালানোর সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার গবেষক

0 Comments