মায়ের রাখা বন্দুক নিয়ে খেলতে গিয়ে টেক্সাসে ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মায়ের রাখা বন্দুক হাতে পেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হ্যারিস কাউন্টির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের অফিস।
কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত ১১টার দিকে চ্যাম্পিয়নস এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে গুলির খবর পেয়ে প্রিসিনক্ট ৪-এর ডেপুটিরা সেখানে যান। তারা গিয়ে দেখতে পান, একটি ক্লোজেটের ভেতরে থাকা অবস্থায় শিশুটি বন্দুকটি খুঁজে পায় এবং গুলিবিদ্ধ হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় শিশুটির মা ও ১০ বছরের এক ভাই বা বোনও বাড়িতে ছিলেন বলে জানিয়েছে শেরিফের অফিস। তদন্তকারীদের মতে, বন্দুকটি শিশুটির মায়ের মালিকানাধীন ছিল এবং ক্লোজেটেই রাখা হয়েছিল। হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের অফিসের সার্জেন্ট জেসন ব্রাউন জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বন্দুকটি নিরাপদভাবে লক বা সুরক্ষিত অবস্থায় রাখা ছিল না। কীভাবে শিশুটি ক্লোজেটে ঢুকে বন্দুকটি হাতে পেল, তা জানতে মায়ের ও ১০ বছর বয়সী শিশুটির সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা।
কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আপাতত দুর্ঘটনাজনিত গুলিবর্ষণ হিসেবে তদন্ত করছে। তবে শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে শেরিফের অফিস।
এই ঘটনায় আবারও শিশুদের নাগালের বাইরে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদভাবে সংরক্ষণের গুরুত্ব সামনে এসেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। বিভিন্ন শহর ও শহরতলিতে নতুন মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিন্দু মন্দির ও ধর্মীয় কমিউনিটি সেন্টার গড়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন ভবন নির্মাণের পরিবর্তে পুরোনো চার্চ, বাড়ি, অফিস কিংবা বাণিজ্যিক ভবন কিনে সেগুলোকে উপাসনালয় ও কমিউনিটি ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনের পেছনে অভিবাসনের ভূমিকা স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর সর্বশেষ বিস্তারিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৬২ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪ কোটি। অর্থাৎ এক দশকে বিদেশে জন্ম নেওয়া জনসংখ্যা ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রেও অভিবাসীদের মধ্যে বৈচিত্র্য তুলনামূলক বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৩-২৪ সালের ধর্মীয় চিত্রবিষয়ক গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ১৪ শতাংশ খ্রিস্টান ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসারী। তাদের মধ্যে প্রায় ৪ শতাংশ মুসলিম, ৪ শতাংশ হিন্দু এবং ৩ শতাংশ বৌদ্ধ। পিউ রিসার্চ সেন্টারের একই গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ৫৯ শতাংশ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ৭৭ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। ফলে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে দেশটির ধর্মীয় বৈচিত্র্যের সম্পর্কটি জনসংখ্যার পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মসজিদের ক্ষেত্রেও গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য বিস্তার দেখা গেছে। সর্বশেষ বড় আকারের জাতীয় মসজিদ জরিপের ২০২০ সালের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ৭৬৯টি মসজিদ শনাক্ত করা হয়েছিল। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১০৬টি। অর্থাৎ এক দশকে মসজিদের সংখ্যা ৩১ শতাংশ বেড়েছিল। তবে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এর চেয়ে নতুন কোনো সমমানের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মসজিদ জরিপ প্রকাশিত হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ২ হাজার ৭৬৯ সংখ্যাটিকে বর্তমানের নিশ্চিত সংখ্যা হিসেবে নয়, সর্বশেষ বড় জাতীয় জরিপের সংখ্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মসজিদ এখন শুধু নামাজের স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না। অনেক ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে শিশুদের ইসলামিক শিক্ষা, কোরআন শিক্ষা, ইসলামিক স্কুল, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক সহায়তা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এসব প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় জীবনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ ও কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থাকার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে। মন্দিরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরের কোনো একক সরকারি জাতীয় তালিকা নেই। তবে ২০২৬ সালের একটি হিন্দু মন্দিরভিত্তিক তথ্যভান্ডারে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ১ হাজার ২৫৬টি মন্দিরের তালিকা রয়েছে। এটি সরকারি গণনা নয়, বরং একটি বেসরকারি তথ্যভান্ডার। ফলে এই সংখ্যাকে বর্তমান মন্দিরের আনুষ্ঠানিক জাতীয় সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। হিন্দু মন্দিরগুলোও অনেক ক্ষেত্রে শুধু পূজার স্থান নয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা, ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা, সংগীত, নৃত্য এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ফলে মন্দিরগুলো অভিবাসী পরিবারগুলোর কাছে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা রাখছে। পুরোনো ভবনকে নতুন ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করার প্রবণতাও এই পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান দিক। কোনো এলাকায় নতুন অভিবাসী কমিউনিটি গড়ে উঠলে তারা অনেক সময় নতুন করে জমি কিনে ভবন নির্মাণের পরিবর্তে আগে থেকেই থাকা চার্চ, বাড়ি, অফিস বা অন্য কোনো স্থাপনা কিনে সেটিকে মসজিদ, মন্দির কিংবা কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তর করে। এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন গড়ে ওঠে, তেমনি পুরোনো ভবনও নতুন কমিউনিটির সামাজিক জীবনের অংশ হয়ে যায়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের আরেকটি বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ কোনো না কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ খ্রিস্টান। মুসলিম, হিন্দু ও বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। সামগ্রিক জনসংখ্যার চিত্রেও পরিবর্তনটি ধরা পড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৩-২৪ সালের জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৭ দশমিক ১ শতাংশ খ্রিস্টান ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের পরিচয় দিয়েছেন। ২০০৭ সালে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। নতুন জরিপে মুসলিম ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং হিন্দু ০ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে এই পরিবর্তনকে শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজের বিকাশের সঙ্গে যুক্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। নতুন প্রজন্মের অভিবাসী পরিবারগুলো যেমন আমেরিকান সমাজের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছে, তেমনি নিজেদের ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির পরিচয়ও ধরে রাখছে। ফলে আমেরিকার অনেক শহরের দৃশ্যপটে এখন পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে পুরোনো চার্চ, নতুন মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিন্দু মন্দির এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কমিউনিটি সেন্টার। অভিবাসনের ধারাবাহিকতার সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানও যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের আরও দৃশ্যমান অংশ হয়ে উঠছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং অভিবাসনের ধারাবাহিক প্রভাব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় মানচিত্র যে আগের তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে, মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিস্তার তারই দৃশ্যমান প্রতিফলন।
গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ লাইনে প্রায় ১০ লাখ ভারতীয়, অপেক্ষা করতে হতে পারে ১৭৯ বছর
মায়ের রাখা বন্দুক নিয়ে খেলতে গিয়ে টেক্সাসে ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ধরনের ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণমূলক কাজের অনুমোদনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই - এমন প্রশিক্ষণ বা ইন্টার্নশিপের অনুমোদন দিলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হবে। ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট, অর্থাৎ আইসিইর অধীন স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়েছে, কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা সিপিটি অবশ্যই শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে। আইসিই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু সিপিটি অনুমোদন তাদের নজরে এসেছে, যেগুলো বিদ্যমান নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এসব নিয়ম মেনে না চললে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন হারাতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনার পর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ধরনের সিপিটি অনুমোদনের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি। ইউসিএলএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ফেডারেল নির্দেশনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ না করা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু সিপিটি অনুমোদন স্থগিত রাখা হয়েছে। ইউসি বার্কলির আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক দপ্তর বলেছে, ২৪ আগস্টের নির্দেশনাটি আগের নির্দেশনার তুলনায় আরও নির্দিষ্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে বেশি কঠোর। তাই নির্দিষ্ট কিছু কর্ম-অনুমোদনের আবেদন আপাতত স্থগিত থাকবে। তবে ডিগ্রি অর্জনের জন্য বাধ্যতামূলক সিপিটি স্বাভাবিকভাবেই প্রক্রিয়া করা হবে। পাশাপাশি ডক্টরাল গবেষণা ও মাস্টার্স থিসিস গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত সিপিটিও চালু রাখার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন ফেডারেল নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবেদন প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা নির্ধারণে আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করছে। এদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, এসব নিয়মে নতুন কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বরং বিদ্যমান নিয়মের প্রয়োগ আরও কঠোর করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার আর সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেছে বিভাগটি। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের ওপর নতুন কড়াকড়ি ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্ববিদ্যালয় ও অভিবাসননীতি কঠোর করার বৃহত্তর পদক্ষেপের অংশ। এর আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন এবং ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে নতুন নির্দেশনার অর্থ সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ইন্টার্নশিপ বা কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। মূলত শিক্ষার্থীর নির্ধারিত শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন বা নিয়মবহির্ভূত সিপিটি অনুমোদনের ওপরই নজরদারি ও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও, অনুমোদনের আগে তাদের প্রশিক্ষণটি শিক্ষাক্রমের সঙ্গে কতটা সরাসরি সম্পর্কিত - সেটি আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে নেভি জাহাজে নারী ইঞ্জিনিয়ারকে ধর্ষণ! ‘কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা’ হিসেবে আদালতে বিবেচনা
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি ট্রাম্পের! ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল মজুদে এখন ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে
নিউইয়র্কে ফ্রিতে ইংলিশ ও সিটিজেনশিপ প্রস্তুতির ক্লাস, বাংলাদেশিদের জন্য সুযোগ
কানাডার রাজধানী অটোয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে থাকা একটি সড়কের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কাউন্সিল। বুধবার সর্বসম্মত ভোটে কাউন্সিল ট্রাম্প অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ এগিয়ে নেয়। সম্ভাব্য নতুন নামের তালিকায় রয়েছে ‘ওবামা অ্যাভিনিউ’, ‘কানাডা অ্যাভিনিউ’, ‘অন্টারিও অ্যাভিনিউ’ এবং ব্যতিক্রমীভাবে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’। অটোয়ার সেন্ট্রাল পার্ক এলাকায় থাকা আবাসিক সড়কটির নাম প্রায় ২৫ বছর ধরে ট্রাম্প অ্যাভিনিউ। এলাকাটির অন্যান্য সড়কের নামও নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থান বা পরিচিতির সঙ্গে যুক্ত, যেমন স্ট্যাটেন ওয়ে, ম্যাডিসন পার্ক ও গথাম প্রাইভেট। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়তে থাকা এবং কানাডাকে নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্যের পর স্থানীয় কয়েকজন কাউন্সিলর সড়কটির নাম নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, অটোয়ার কোনো সড়ক ট্রাম্পের নামে থাকা এখন বিব্রতকর। অটোয়া সিটি কাউন্সিলর টিম টিয়ার্নির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন নাম হিসেবে আরও যেসব প্রস্তাব এসেছে তার মধ্যে রয়েছে বিউভার অ্যাভিনিউ, কানাডা গুজ অ্যাভিনিউ, পেলোসি অ্যাভিনিউ, গালফ অব মেক্সিকো অ্যাভিনিউ এবং রোজি ও’ডনেল অ্যাভিনিউ। ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ নামটি মূলত ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক শব্দবন্ধ ‘Trump Always Chickens Out’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ TACO থেকে এসেছে। নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অবশ্য এখনই চূড়ান্ত হচ্ছে না। সড়কটির অর্ধেকের বেশি বাসিন্দাকে নাম পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে হবে। এরপর নতুন নাম নিয়ে আলাদা করে জনসম্পৃক্ততা ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া হবে। অটোয়ার পৌর নির্বাচন অক্টোবরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায়, এর আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ট্রাম্প অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০২১ সালে সড়কটির ৬২টি পরিবারের মধ্যে নাম পরিবর্তন নিয়ে ভোট হয়েছিল। তখন ২১টি পরিবার পরিবর্তনের পক্ষে এবং ২১টি বিপক্ষে ভোট দেয়। আরও ২০টি পরিবার ভোট দেয়নি। কাউন্সিলর টিয়ার্নির মতে, যারা নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের সবাই ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন এমন নয়। ঠিকানা, নথিপত্রসহ বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তনের ঝামেলার কারণেও কেউ কেউ বিরোধিতা করেছিলেন। এবার লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। ২৭ আগস্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নামে উল্লেখ করার নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি গালফ অব মেক্সিকোর নাম যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কাউন্সিলর টিয়ার্নি অবশ্য বলেছেন, নাম নিয়ে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের চেয়ে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য ও শুল্ক বিরোধই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, নাম পরিবর্তনের বিতর্ক যেন দুই দেশের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা থেকে মনোযোগ সরিয়ে না দেয়।
ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
৯/১১ হামলার দায় ইসরায়েলের, বিন লাদেনের লেখা পড়ার পরামর্শ: সেই স্কুল গাইড সরাল মার্কিন মুসলিম সংগঠন কেয়ার