সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২৩:৩৯
ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুতে এখন রয়েছে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল।

 

মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই পরিমাণ ২০২৩ সালে রেকর্ড হওয়া ৩৪ কোটি ৬৮ লাখ ব্যারেলের আগের ৪০ বছরের সর্বনিম্ন অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ এবার দেশটির কৌশলগত তেল মজুত আরও নিচে নেমেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুতে ছিল ৪১ কোটি ৫৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। যুদ্ধ শুরুর পর ছয় মাসে সেখান থেকে ১২ কোটি ৫৭ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহার করা হয়েছে।

 

যুদ্ধের শুরুতেই তেলের সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশ্বের তেল ও তরল জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে সরবরাহ ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও জ্বালানি সরবরাহ উভয়ের ওপরই চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

 

গত ১১ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানি বিভাগকে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার অনুমতি দেন। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানান, প্রায় ১২০ দিনের মধ্যে এই তেল সরবরাহ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগ ছিল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ৩২ সদস্য দেশের সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ। ওই সময় সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে তাদের জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া সরবরাহ সংকট সামাল দেওয়া এবং জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা করা।

 

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত মূলত বড় ধরনের জ্বালানি সংকট, সরবরাহ ব্যাহত হওয়া কিংবা জাতীয় নিরাপত্তাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের সময়ে এই মজুত ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। টেক্সাস ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ভূগর্ভস্থ লবণের গুহায় এসব অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণ করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে বড় আকারে এই মজুত ব্যবহার করেছিল ২০২২ সালে। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রায় ১৮ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়ার অনুমোদন দেন। ওই সময় মজুত নেমে ৩৪ কোটি ৬৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল, যা সে সময় প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।

 

এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ৪১ কোটি ৫৪ লাখ ব্যারেল থেকে মজুত কমে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ব্যারেলে নেমে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা জরুরি তেলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তবে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, মজুত পুনরায় পূরণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। মার্চে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছিলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় ২০ কোটি ব্যারেল তেল যোগ করে মজুত পুনর্গঠন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, যে পরিমাণ তেল বের করা হবে, তার চেয়েও বেশি তেল পরবর্তীতে মজুতে ফিরিয়ে আনা হবে।

 

তবে কৌশলগত মজুত থেকে দ্রুত তেল বের করা গেলেও তা একই গতিতে আবার পূরণ করা সহজ নয়। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে একদিকে যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকট সামাল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের জরুরি পরিস্থিতির জন্য পর্যাপ্ত তেল মজুত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালির ওপর চাপ এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা এখনো বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অন্যতম বড় উদ্বেগ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ মজুত পুনর্গঠন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

সূত্র: কেসিআরএ

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে ফ্রিতে ইংলিশ ও সিটিজেনশিপ প্রস্তুতির ক্লাস
নিউইয়র্কে ফ্রিতে ইংলিশ ও সিটিজেনশিপ প্রস্তুতির ক্লাস, বাংলাদেশিদের জন্য সুযোগ

নিউইয়র্কে ইংরেজিতে কথা বলা, পড়া ও লেখার দক্ষতা বাড়াতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বিনামূল্যে বিভিন্ন ক্লাস করার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি, কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি ও অনলাইনে এসব ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। কিছু কর্মসূচিতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাধা নয়।   নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের অভিবাসীবিষয়ক দপ্তরের ‘উই স্পিক এনওয়াইসি’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নিউইয়র্কবাসী বিনামূল্যে ইংলিশ শেখার সুযোগ পান। নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর বিভিন্ন স্থানে সরাসরি ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনেও শেখার সুযোগ রয়েছে।   নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরিতেও বিনামূল্যে ইংলিশ শেখার বিভিন্ন ক্লাস চালু রয়েছে। একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ক্লাস রয়েছে। কিছু ধারাবাহিক ক্লাসে ভর্তি হওয়ার আগে ইংলিশ দক্ষতার মূল্যায়ন করা হতে পারে। আবার কিছু ক্লাসে নির্দিষ্ট বয়স এবং নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে বসবাস, কাজ বা পড়াশোনার সম্পর্কের শর্ত থাকতে পারে। তাই সব ক্লাসের যোগ্যতা এক নয়।   নাগরিকত্বের প্রস্তুতির জন্যও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির নাগরিকত্ব প্রস্তুতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বিষয়ক ক্লাসে দেশটির ইতিহাস, সরকারব্যবস্থা, নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রশ্ন এবং নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের জন্য প্রয়োজনীয় ইংলিশ অনুশীলন করানো হয়।   কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতেও বিভিন্ন পর্যায়ের ইংলিশ ভাষার ক্লাস রয়েছে। এসব ক্লাস সরাসরি এবং ভার্চুয়াল দুইভাবেই করা যায়। সাধারণভাবে ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং ইংলিশ যাদের মাতৃভাষা নয়, তারা এসব ক্লাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট ক্লাসের যোগ্যতা আলাদা হতে পারে।   এ ছাড়া নিউইয়র্ক সিটির যুব ও কমিউনিটি উন্নয়ন বিভাগের আওতায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ইংলিশ ও সাক্ষরতা শিক্ষার বিভিন্ন বিনামূল্যের কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বয়সের পাশাপাশি আয়, শিক্ষাগত অবস্থা বা অন্য কিছু যোগ্যতার শর্ত থাকতে পারে।   গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা বয়সের ভিত্তিতে সব ক্লাসে ভর্তি হওয়া যাবে এমন নয়। কোন ক্লাসে কারা আবেদন করতে পারবেন, ক্লাসটি সরাসরি নাকি অনলাইনে হবে, কখন শুরু হবে এবং আসন খালি আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট লাইব্রেরি বা কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য দেখে নিশ্চিত হওয়া উচিত।   ইংলিশ শেখার আগ্রহীরা নিজেদের কাছের পাবলিক লাইব্রেরিতে যোগাযোগ করতে পারেন। নিউইয়র্ক সিটির ৩১১ নম্বরেও বিনামূল্যের ইংলিশ ক্লাস, নাগরিকত্বের প্রস্তুতি এবং অভিবাসী সহায়তা কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।   ক্লাসের সময়সূচি, বয়সসীমা, ভর্তি প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভর্তি হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা নিউইয়র্ক সিটি সরকারের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১:০
ট্রাম্পের নামে থাকা সড়কের নাম বদলাতে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ চায় কানাডা

ট্রাম্পের নামে থাকা সড়কের নাম বদলাতে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ চায় কানাডা

ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

স্কুল গাইডে ওসামা বিন লাদেনের লেখা অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

৯/১১ হামলার দায় ইসরায়েলের, বিন লাদেনের লেখা পড়ার পরামর্শ: সেই স্কুল গাইড সরাল মার্কিন মুসলিম সংগঠন কেয়ার

নতুন মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে মসজিদ আল-রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় নতুন মসজিদ নির্মাণে ২.৯ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার কামিং এলাকায় ক্রমবর্ধমান মুসলিম কমিউনিটির জন্য নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদ আল-রহমানের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি ক্রয়ে মোট ২.৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১,০৩৩,৬১৬ ডলার সংগ্রহ হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে জমি কেনার ক্লোজিং সম্পন্ন করতে বাকি অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।   নতুন মসজিদের জন্য ১৩০০ Peachtree Parkway এ ৭.৫ একর জমি কেনার চুক্তি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে ৩০০টির বেশি পার্কিং স্পেস, একটি মাল্টিপারপাস হল এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগসহ নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হবে।   মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে প্রতি জুমায় ৫০০ এর বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। বর্তমান স্থানে জায়গা ও পার্কিং সংকট ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে রমজানে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং বয়স্কদের জন্য অ্যাক্সেসিবল সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। নতুন মসজিদে এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিশু ও তরুণদের জন্য থাকবে আলাদা কার্যক্রম এবং আউটডোর স্পোর্টসের সুযোগ।   নতুন মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি ১২৩৫ Peachtree Parkway এ অবস্থিত বর্তমান ভবনটিকে একটি ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুলটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে।   তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। মসজিদ কমিউনিটির পক্ষ থেকে আমেরিকা বাংলাকে জানানো হয়, এটি কোনো একক দেশের মানুষের মসজিদ নয়। বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের সমন্বয়ে এখানে একটি বৃহৎ কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।   বাংলাদেশি কমিউনিটির যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সাধ্যমতো দান করার পাশাপাশি যারা প্রকল্পটি সম্পর্কে জানেন না, তাদেরও বিষয়টি জানিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   প্রচারাভিযানে ১০০ ডলারকে একটি ইট, ১,০০০ ডলারকে একটি নামাজের স্থান বা মুসাল্লা, ৬,০০০ ডলারকে একটি পার্কিং স্পেস এবং ২৫,০০০ ডলারকে একটি ক্লাসরুমের প্রতীকী অনুদান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এককালীন অনুদানের পাশাপাশি মাসিক ভিত্তিতেও দানের সুযোগ রয়েছে।   মসজিদ কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু বর্তমান স্থান সংকটের সমাধান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী ইসলামিক ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। ৩১ আগস্টের ক্লোজিং সামনে রেখে বাংলাদেশিসহ বৃহত্তর মুসলিম কমিউনিটির সবাইকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   মসজিদ প্রকল্পটি সরাসরি দেখতে এবং অনুদান দিতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন: https://cummingcommunitycenter.com

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২২:১২
প্রসূতি মায়েদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় কাজ করেন ডুলা বা প্রসূতি সহায়করা। ছবি: সংগৃহীত

মাতৃমৃত্যু কমাতে নিউইয়র্কের নতুন উদ্যোগ, ২০২৭ থেকে সিটি কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমায় যুক্ত হচ্ছে প্রসূতি সহায়তা

ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশি করছেন সিবিপি কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে লাগেজে মিলল ৯০ হাজার ডলারের নিষিদ্ধ মাদক, গ্রেপ্তার দুই

ম্যাডেলিন ডেলি ও তার ১১ মাস বয়সী শিশু বাসিল স্টোনার। ছবি: সংগৃহীত

বাবার হেফাজতে সন্তানকে দিতে অস্বীকৃতি, ১১ মাসের ছেলেকে গুলি করে হত্যা করলেন মা

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮১ লাখ ডলারের ট্যাক্স রিফান্ড ও সামাজিক সুরক্ষার চেক জালিয়াতি, গ্রেপ্তার র‍্যাপার
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮১ লাখ ডলারের ট্যাক্স রিফান্ড ও সামাজিক সুরক্ষার চেক জালিয়াতি, গ্রেপ্তার র‍্যাপার

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮.১ মিলিয়ন বা ৮১ লাখ ডলারের এক বিশাল চেক জালিয়াতির অভিযোগে অ্যাডা উইলিয়াম ওবায়ুয়ানা নামের এক উদীয়মান র‍্যাপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। "কোল্ডহার্টেডএসি" (ColdheartedAC) এবং "এসি" (AC) নামে পরিচিত এই র‍্যাপারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ২৫টি ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরিতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, এই চক্রটি আট মিলিয়নেরও বেশি মূল্যের অন্তত ৫০টি চুরি যাওয়া ইউএস ট্রেজারি চেক নিজেদের দখলে রেখেছিল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেগুলো ভাঙানোর চেষ্টা করেছিল।   অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওবায়ুয়ানা এবং তার দুই সহযোগী—ওয়েস্টমিনস্টারের অ্যালবার্ট টাই ভু (২৮) এবং সান দিয়েগোর ক্যাসান্দ্রা মারি মুরিলো (৩১)—চুরি করা চেকগুলো সংগ্রহ করে সেগুলোতে নকল স্বাক্ষর, নাম এবং ঠিকানা বসিয়ে জালিয়াতি করত।   এই চক্রটি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল এবং ভুক্তভোগীদের নাম ও তথ্যের আদলে নকল ব্যবসায়িক নথিপত্র তৈরি করত। পরবর্তীতে চুরি করা সেই অর্থ লস অ্যাঞ্জেলেস, অরেঞ্জ এবং সান দিয়েগো কাউন্টির বিভিন্ন ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নে জমা করা হতো।   প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ওবায়ুয়ানা ৩ লাখ ৮২ হাজার ১০৯ ডলার মূল্যের অন্তত তিনটি ট্রেজারি ট্যাক্স রিফান্ডের চেক ভাঙানোর চেষ্টা করেন। এর মধ্যে তিনি একটি চেক সফলভাবে ভাঙিয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ১০৯ ডলার তুলেও নেন।   বিচার বিভাগ আরও জানায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ওশানসাইডে ওবায়ুয়ানার গাড়ি থেকে ৬.১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১০০টিরও বেশি চুরি করা ও জাল চেক উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ট্যাক্স রিফান্ড, প্রবীণ ভাতা এবং সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা সংক্রান্ত ২.৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪৮টি চুরি করা ইউএস ট্রেজারি চেক ছিল। তার দখলে থাকা এই চেকগুলোর মধ্যে ৮টি সফলভাবে ভাঙিয়ে মোট ১.৭ মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছিল।   গত বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে ওবায়ুয়ানাকে প্রথমবারের মতো হাজির করা হয়। বর্তমানে তিনি ফেডারেল কাস্টডিতে রয়েছেন এবং শুক্রবার তার রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ৩১ বছর বয়সী এই র‍্যাপারের বিরুদ্ধে নয়টি ব্যাংক জালিয়াতি, তিনটি চুরি করা ট্রেজারি চেক সরবরাহ এবং একটি গুরুতর পরিচয় চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।   এছাড়া তার সহযোগী ভু-এর বিরুদ্ধে চুরি করা ট্রেজারি চেক সরবরাহ, অর্থ পাচার এবং পরিচয় চুরির মোট ১১টি এবং মুরিলোর বিরুদ্ধে একটি চেক চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৯:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণসামগ্রীর দাম ৬.৭% বৃদ্ধি, চাপে আবাসন খাত ও নতুন বাড়ির বাজার

যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণসামগ্রীর দাম ৬.৭% বৃদ্ধি, চাপে আবাসন খাত ও নতুন বাড়ির বাজার

৯/১১ হা মলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিউইয়র্কের বদলে পেন্টাগনে  নি হতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন ট্রাম্প

৯/১১ হা মলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিউইয়র্কের বদলে পেন্টাগনে নি হতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন ট্রাম্প

ক্যালিফোর্নিয়ায় রোলারকোস্টারে চড়ে কোমায় তরুণী, সিক্স ফ্ল্যাগসের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ পরিবার

ক্যালিফোর্নিয়ায় রোলারকোস্টারে চড়ে কোমায় তরুণী, সিক্স ফ্ল্যাগসের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ পরিবার

0 Comments