মৃত্যুও এখন ব্যয়বহুল! আমেরিকায় প্রিয়জনের মৃত্যুতে খরচের চাপে পরিবারগুলো
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর পর পরিবারের ওপর পড়া আর্থিক চাপও বাড়ছে। শেষকৃত্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের এই বাড়তি বোঝা বিশেষ করে মধ্য ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলছে।
দেশটিতে একের পর এক বেবি বুমার প্রজন্মের মানুষ জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শেষকৃত্যের খরচও অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক উদ্বেগ হয়ে উঠছে। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি পরিবারকে সামলাতে হচ্ছে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ব্যয়।
মধ্য ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর এই চাপ তুলনামূলক বেশি। কারণ এসব পরিবারের অনেকেই বড় ধরনের উত্তরাধিকার পাওয়ার সুযোগ কম থাকায় প্রিয়জনের শেষকৃত্যের খরচ সামলাতে নিজেদের সঞ্চয় বা আয় থেকে অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হন।
ফলে অনেক পরিবারের কাছে মৃত্যুর পরের আনুষ্ঠানিকতাগুলোও ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। শেষকৃত্য, দাফন বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে পরিবারের দৈনন্দিন আর্থিক পরিকল্পনাতেও চাপ তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে যখন পরিবারগুলো আগে থেকেই বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছে, তখন মৃত্যুর পরের এই ব্যয় আরেকটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য প্রিয়জনের শেষকৃত্যের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে সরকারি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিগুলোকে এখন তাদের নেতৃত্বে ডাইভারসিটির তথ্য এবং আইসিইসহ বিভিন্ন সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ২৬ আগস্ট নতুন নির্বাহী আদেশে এসব নিয়ম চালু করেন। নতুন নীতির আওতায় সিটি কন্ট্রাক্টর ও সাবকন্ট্রাক্টরদের নিজেদের কর্মী ও নেতৃত্বের ডাইভারসিটি সম্পর্কিত তথ্য জানাতে হবে। বিশেষ করে বড় কোম্পানিগুলোকে তাদের করপোরেট নেতৃত্ব ও পরিচালনা পর্ষদের গঠন এবং ডাইভারসিটি বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো কোম্পানি গত পাঁচ বছরে আইসিই বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কের ব্যবসা করেছে কি না, সেটিও প্রকাশ করতে হবে। সরকারি কন্ট্রাক্টের সঙ্গে সম্পর্কিত নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক বা বৈষম্যের অভিযোগের তথ্যও প্রকাশের আওতায় থাকবে। মেয়র জনসন বলেছেন, কর্মক্ষেত্রের তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে বৈষম্য শনাক্ত করা সহজ হবে। তার ভাষায়, শিকাগোর সঙ্গে ব্যবসা করতে চাইলে কোম্পানির নেতৃত্ব শহরের যেসব মানুষের করের অর্থে ওই কন্ট্রাক্ট দেওয়া হচ্ছে, তাদের ডাইভারসিটিকে কতটা প্রতিফলিত করে তা জানা প্রয়োজন। নতুন নির্বাহী আদেশে শুধু ডাইভারসিটির তথ্য নয়, কোম্পানির ব্যবসায়িক আচরণ নিয়েও কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, মজুরি চুরি বা নির্দিষ্ট ধরনের ‘পাবলিক ইন্টিগ্রিটি ভায়োলেশন’-এ জড়িত থাকলে সেটি সিটি কন্ট্রাক্টের জন্য অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এ জন্য ১২ সদস্যের একটি Ethical Procurement Standards Task Force গঠনের কথাও বলা হয়েছে। শহরের প্রধান procurement কর্মকর্তা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়মগুলোর বিস্তারিত বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করবেন। শিকাগোর এই পদক্ষেপের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জনসন প্রশাসন এমন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারি অর্থের সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে চাইছে, যেগুলো ফেডারেল সরকারের অভিবাসন অভিযান বা ডিপোর্টেশন কার্যক্রমে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত। তবে নতুন নিয়মের অর্থ এই নয় যে কোনো কোম্পানির আইসিইর সঙ্গে কন্ট্রাক্ট থাকলেই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিকাগোর ব্যবসা থেকে বাদ পড়বে। বরং কোম্পানিগুলোর সম্পর্ক ও কর্মকাণ্ড প্রকাশের পর সিটি কর্তৃপক্ষ সেগুলো মূল্যায়ন করবে। শিকাগো সিটি ক্লার্কের রেকর্ড অনুযায়ী, জনসনের এই নির্বাহী আদেশের নাম Executive Order 2026-6 এবং এটি ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষর করা হয়। আদেশটির লক্ষ্য হিসেবে করদাতা ও স্থানীয় কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষা এবং সিটি কন্ট্রাক্টে নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শিকাগোর সরকারি অর্থ কোন কোম্পানির কাছে যাচ্ছে এবং সেই কোম্পানিগুলো অন্য সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কী ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখছে, সে বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।
মৃত্যুও এখন ব্যয়বহুল! আমেরিকায় প্রিয়জনের মৃত্যুতে খরচের চাপে পরিবারগুলো
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা সব কানাডীয় কোম্পানিকে ‘অবিলম্বে’ আমেরিকায় আসাতে ট্রাম্পের ঘোষণা
মাত্র সাড়ে সাত মাস বয়সেই নেটফ্লিক্সে অভিনয়! দিনে আয় ৩৬০ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ বা ব্যবসা করার অনুমতি থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তুলনামূলক কম পুঁজিতে বিভিন্ন ছোট ব্যবসা শুরু করার সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী অঙ্গরাজ্য, শহর ও এলাকার নিয়ম আলাদা হতে পারে। কোথাও ব্যবসার লাইসেন্স, কোথাও বিশেষ অনুমতি, বীমা বা পেশাগত সনদের প্রয়োজন হতে পারে। তাই ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় নিয়মকানুন যাচাই করা জরুরি। ১. ক্লিনিং ব্যবসা বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দিয়ে তুলনামূলক কম খরচে ব্যবসা শুরু করা যায়। একা কিংবা দুই-তিনজনের ছোট দল নিয়ে কাজ শুরু করে পরিচিতজন, স্থানীয় কমিউনিটি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কাস্টমার পাওয়া সম্ভব। তবে ব্যবসার লাইসেন্স বা স্থানীয় অনুমতি প্রয়োজন কি না, তা সংশ্লিষ্ট শহর বা অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করতে হবে। ২. ফুড কার্ট বা হালাল খাবারের ব্যবসা বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটিতে হালাল খাবারের চাহিদা থাকায় ফুড কার্ট একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও অনুমতির প্রয়োজন হয়। নিউইয়র্কে খাবারের কার্ট বা ট্রাক পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স, অনুমতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের শর্ত রয়েছে। ৩. রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি নিজস্ব গাড়ি থাকলে রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি কাজের মাধ্যমে আয় শুরু করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ড্রাইভার লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র, বীমা এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার বৈধ অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে। শুধু আইটিআইএন থাকলেই সব রাইডশেয়ার বা ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কাজ করা যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ৪. বাসাভিত্তিক শিশু যত্নের ব্যবসা নিজের বাসা থেকে শিশুদের দেখাশোনার ব্যবসা করার সুযোগ কিছু এলাকায় রয়েছে। তবে এটি নিয়ন্ত্রিত একটি সেবা এবং অঙ্গরাজ্য ও এলাকার নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স বা নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে। নিউইয়র্কে বাসাভিত্তিক পারিবারিক শিশু যত্নের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এ ধরনের সেবা সংশ্লিষ্ট শিশু ও পরিবারসেবা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ৫. কাপড়ের ব্যবসা ও অনলাইন বুটিক কম পরিসরে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। থ্রিফট স্টোর থেকে পোশাক কিনে অনলাইনে বিক্রি করা কিংবা বাংলাদেশি থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি ও অন্যান্য পোশাক নিয়ে অনলাইন বুটিক চালু করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে স্থানীয় কাস্টমারের কাছে পণ্য পৌঁছানো যায়। ৬. নাপিত ও বিউটি সার্ভিস চুল কাটা, সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যসেবা দেওয়ার দক্ষতা থাকলে এই খাতে ব্যবসা করা যেতে পারে। কেউ বাসা থেকে সেবা দিতে পারেন, আবার চাইলে দোকানেও কাজ শুরু করতে পারেন। তবে নাপিত, কসমেটোলজি বা বিউটি সার্ভিসের লাইসেন্সের নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। তাই প্রশিক্ষণ বা ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি। ৭. নোটারি ও ভাষা সহায়তা বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ ব্যক্তিরা নোটারি সেবা এবং বৈধ অনুবাদ বা নথিপত্র প্রস্তুতিতে সহায়তার কাজ করতে পারেন। তবে নোটারি পাবলিকের দায়িত্ব ও ফি অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। একইভাবে ইমিগ্রেশন বিষয়ে আইনি পরামর্শ বা প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা পেশাগত যোগ্যতা ছাড়া ইমিগ্রেশন আইনজীবীর কাজ করা যাবে না। ৮. ট্যাক্স ও আইটিআইএন সহায়তা ট্যাক্স মৌসুমে ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তুত করা কিংবা আইটিআইএন আবেদনে অনুমোদিতভাবে সহায়তা করার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ অনুমোদিত গ্রহণকারী প্রতিনিধি কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইটিআইএন আবেদনে সহায়তার সুযোগ দেয়। তবে এ ধরনের কাজের জন্য নির্দিষ্ট আবেদন, যোগ্যতা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে। ৯. মুভিং হেল্প ও হ্যান্ডিম্যান সার্ভিস ফার্নিচার জোড়া লাগানো, বাসা বদলের কাজে সহায়তা এবং ছোটখাটো মেরামতের মতো দক্ষতাভিত্তিক সেবা দিয়ে ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। এ ধরনের ব্যবসায় বড় ধরনের পণ্য মজুত রাখার প্রয়োজন না থাকায় প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে বৈদ্যুতিক কাজ, প্লাম্বিং বা নির্মাণের মতো নির্দিষ্ট সেবার জন্য স্থানীয় লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে। ১০. ইউটিউব ও টিকটক কনটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির জীবনযাপন, চাকরি, ব্যবসা, গাড়ি চালানো, স্কুল, অভিবাসন প্রক্রিয়া ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিডিও তৈরি করেও দীর্ঘমেয়াদে আয়ের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আয় নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নীতিমালা পূরণ করতে হয়। ব্যবসা শুরুর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় আইন ও নিয়ম জানা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসার ধরন নির্বাচন, নিবন্ধন, কর শনাক্তকরণ নম্বর, লাইসেন্স, অনুমতি এবং ব্যবসায়িক বীমার বিষয়গুলো শুরুতেই যাচাই করা উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ থেকে নিয়োগকর্তা শনাক্তকরণ নম্বর বা ইআইএন নেওয়া যায়। যোগ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে এই নম্বর নেওয়ার জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। নতুন ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা উন্নয়ন কেন্দ্রগুলো থেকেও পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যবসার পরিকল্পনা, অর্থায়ন, পরিচালনা ও অন্যান্য বিষয়ে এসব কেন্দ্র সহায়তা করতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, যুক্তরাষ্ট্রে এক অঙ্গরাজ্যে যে ব্যবসা সহজে করা যায়, অন্য অঙ্গরাজ্য বা শহরে সেটির জন্য আলাদা লাইসেন্স, অনুমতি কিংবা এলাকার ব্যবহার সংক্রান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু কম পুঁজি দিয়ে শুরু করা যাবে কি না, সেটিই নয়, ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় আইন, কর, লাইসেন্স, অনুমতি ও বীমার বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
২০ বছর পর কর্মস্থলে হঠাৎ মেয়ের দেখা, কিশোরী বয়সে দত্তক দেওয়া সন্তানকে ফিরে পেলেন মা
পরিবারসহ পড়তে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ১৪টি দেশ, কোন দেশে কেমন নিয়ম ও কাজের সুযোগ
ইঁদুর, প্রস্রাব ও কুকুরের মুখ দেওয়া মাংস: লস অ্যাঞ্জেলেসের স্ট্রিট ফুড ঘিরে ১০ হাজার অভিযোগের তথ্য প্রকাশ্যে
দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে কাজ, সন্তান, সংসার ও নানা দায়িত্বের চাপে অনেক দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এক দম্পতির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল। ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর কাজ ও সন্তান পালনের ব্যস্ততায় তাদের দাম্পত্য জীবনের ঘনিষ্ঠতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এআই-নির্ভর একটি অন্তরঙ্গতা সহায়ক সেবা ব্যবহার করে তারা নিজেদের সম্পর্কের নতুন দিক আবিষ্কার করেছেন বলে জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীকে প্রতিবেদনে ‘জুনিপার’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। গোপনীয়তার কারণে তাঁর পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর স্বামী জেফের সঙ্গে তাদের যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। দুজনই শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তাদের রয়েছে আরও নানা দায়িত্ব। স্কুলে সন্তানদের নিয়ে যাওয়া, খেলাধুলার অনুষ্ঠান, রাতে পড়াশোনায় সহায়তা এবং বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনার পাশাপাশি দুজনেরই কাজের চাপ রয়েছে। জুনিপারের ভাষায়, দিনের পর দিন এই ব্যস্ততার কারণে নিজেদের জন্য সময় ও শক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল। কয়েক বছর ধরে মাসে এক বা দুইবারের বেশি তাদের অন্তরঙ্গ সময় কাটানোও সম্ভব হতো না। তিনি চেয়েছিলেন স্বামীর সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠ হতে, তবে কীভাবে সেই পরিবর্তন শুরু করবেন, তা বুঝতে পারছিলেন না। পরিস্থিতি বদলাতে তারা প্রথমে দাম্পত্য পরামর্শকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে ‘আরিয়া’ নামের একটি সেবা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি দম্পতিদের সম্পর্ক ও অন্তরঙ্গতা নিয়ে কথা বলা, নতুন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ বুঝতে সহায়তা করার জন্য এআই ও মানব বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাজ করে। আরিয়ার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এর এআই ব্যবস্থা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর ও পরামর্শ দিতে পারে, আর জটিল বা সংবেদনশীল বিষয় সামনে এলে মানব বিশেষজ্ঞ যুক্ত হন। সেবাটি ব্যবহারের শুরুতে জুনিপার ও জেফকে তাদের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে ২০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এসব উত্তরের ভিত্তিতে সিস্টেম তাদের একটি নির্দিষ্ট ‘এরোটিক পারসোনা’ বা অন্তরঙ্গতার ধরন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। দম্পতির দুজনকেই ‘অ্যাডভেঞ্চারার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ নতুনত্ব ও বৈচিত্র্যের প্রতি তাদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি বলে সিস্টেমটি ধরে নেয়। আরিয়ার সেবায় ‘সিন’ নামে পরিচিত বিভিন্ন পরিকল্পিত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কথোপকথনের বিষয়, পরিবেশ তৈরির পরামর্শ, নির্দেশনামূলক লেখা, ভিডিও এবং অন্যান্য উপকরণ থাকে। উদ্দেশ্য হলো দম্পতিদের নিজেদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলার সুযোগ তৈরি করা এবং দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি ভাঙতে সাহায্য করা। জুনিপার জানান, এই ব্যবস্থার একটি বড় সুবিধা ছিল, এটি তাদের সরাসরি কথোপকথন শুরু করার সুযোগ করে দেয়। কখনো একজন অন্যজনকে কোনো কনটেন্ট পাঠিয়ে জানতে চাইতেন, সেটি একসঙ্গে চেষ্টা করতে আগ্রহী কি না। ফলে আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা কঠিন মনে হতো, সেগুলো নিয়েও আলোচনা সহজ হয়ে যায়। দম্পতিটি তাদের ফোনও এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করতেন। তারা একসঙ্গে বসে আরিয়ার দেওয়া নির্দেশনা পড়তেন এবং নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করতেন। তবে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তারা এআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করতেন না। বরং ফোনটি ব্যবহার করতেন আগে থেকে দেওয়া নির্দেশনা ও পরিকল্পনা দেখার জন্য। আরিয়ার সেবার সঙ্গে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যও সরবরাহ করা হয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো তাদের পরিকল্পিত ‘সিন’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করা হয় এবং গোপনীয় প্যাকেজিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। গত এক বছরে নিজেদের সম্পর্কের পরিবর্তন নিয়ে সন্তুষ্ট জুনিপার বলেন, আগে তিনি জানতেন যে তাদের দাম্পত্য জীবনে আরও কিছু করা সম্ভব, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন সেটিই বুঝতেন না। নতুন এই পদ্ধতি তাকে নিজের পছন্দ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আরও খোলামেলা হতে সাহায্য করেছে বলে তাঁর দাবি। জেফও জানান, এই প্রক্রিয়ার ফলে তিনি সম্পর্কের অন্তরঙ্গ দিকটিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন। তার মতে, নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াও বেড়েছে। দম্পতির জন্য সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তারা এমন কিছু পছন্দ ও আগ্রহ আবিষ্কার করেন যেগুলো সম্পর্কে আগে একে অপরের ধারণা ছিল না। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রিত ভূমিকা ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কিছু নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। জেফের ভাষায়, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আগে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। এই নতুন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাদের সম্পর্কের যোগাযোগও উন্নত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। জেফ বলেন, নতুন কিছু চেষ্টা করার আগে নিজেদের সীমা, পছন্দ ও সম্মতি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হয়েছে। সেই অভ্যাস শোবার ঘরের বাইরেও তাদের পারস্পরিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আরিয়ার সম্পর্কবিষয়ক গবেষণা বিভাগের প্রধান নিকোলাস ভেলোটা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সময় সমস্যা ভালোবাসার অভাব নয়, বরং অন্তরঙ্গতা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে না পারা। তাঁর মতে, অনেক দম্পতির মধ্যে নিজেদের কৌতূহল বা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে অস্বস্তি থাকে। এ ধরনের প্রযুক্তি সেই কথোপকথনের শুরুটা সহজ করতে পারে। তবে আরিয়ার ভূমিকা শুধু এআইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোম্পানির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এআই সাধারণ নির্দেশনা ও ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি শনাক্ত করার জন্য তৈরি, যেখানে একজন বাস্তব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে মানব বিশেষজ্ঞ কথোপকথনে যুক্ত হন। এদিকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দাম্পত্য সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর এই প্রবণতা নিয়ে গবেষণাও শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলাস ভেলোটার একটি গবেষণায় আরিয়ার প্রথম ‘সিন’ ব্যবহারকারী ১৮০ জন সম্পর্কের অংশগ্রহণকারীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের এবং এর ফলাফলকে সাধারণ সব দম্পতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলা যায় না। তবে এতে ডিজিটালভাবে পরিচালিত অন্তরঙ্গতা সহায়তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আরিয়ার ওয়েবসাইটে বর্তমানে বার্ষিক সদস্যতার ক্ষেত্রে মাসিক খরচ ২৯ দশমিক ৯৫ ডলার থেকে শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদের সদস্যতায় দুই অংশীদারের অ্যাকাউন্ট, নির্দেশনামূলক কনটেন্ট, ‘সিন’, পরামর্শ সহায়তা এবং নির্বাচিত পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে এই দম্পতির অভিজ্ঞতাকে সবার জন্য একই ফল দেবে এমন প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাদের ঘটনা মূলত একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত তথ্য কোনো প্রযুক্তি সেবায় দেওয়ার আগে গোপনীয়তা, তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নীতিও বিবেচনা করা জরুরি। জুনিপার ও জেফের ক্ষেত্রে অবশ্য পরিবর্তনটি তাদের কাছে স্পষ্ট। তাদের দাবি, এখন তারা সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার একে অপরের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটান। কখনো কখনো টানা কয়েক দিনও তারা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর এআই তাদের সম্পর্কের জায়গায় কোনো মানুষকে প্রতিস্থাপন করেনি। বরং তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি এমন কিছু কথোপকথনের দরজা খুলে দিয়েছে, যেগুলো তারা নিজেরা আগে শুরু করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত সেই কথোপকথনই তাদের দাম্পত্য জীবনে নতুন করে ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, ৬২ জনকে উদ্ধার, নিখোঁজ আরও ১৫
নিউ ইয়র্কের জলাভূমিতে ছবি তুলতে গিয়ে তরুণীর ক্যামেরায় ধরা পড়লো রহস্যময় প্রাণী