সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হলেন বুয়েটের লুৎফুর রহমান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ০:১৬
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হলেন বুয়েটের লুৎফুর রহমান
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হলেন বুয়েটের লুৎফুর রহমান

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী লুৎফুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসে টেনিওরড অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর আগে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে শিক্ষকতা ও গবেষণা করছিলেন।

 

বগুড়ায় শিক্ষাজীবন শুরু করা লুৎফুর রহমান মর্তুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। বুয়েটে পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি।

 

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুৎফুর রহমান জানান, ২০১৬ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডে পিএইচডি শুরু করেন এবং ২০২০ সালে তা শেষ করেন। পরের বছর ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন।

 

শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও গবেষণাক্ষেত্রেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস আর্মি কমব্যাট ক্যাপাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট কমান্ড আর্মি রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে ভিজিটিং রিসার্চার ও ভিজিটিং রিসার্চ ইন্টার্ন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

 

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪ সালের একটি কনফারেন্স প্রোগ্রামেও। সেখানে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বগুড়ার স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বুয়েট, এরপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাঙ্গনে লুৎফুর রহমানের পথচলা বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষকতা ও গবেষণায় তাঁর এই অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের সাফল্যের ধারাকেও আরও সমৃদ্ধ করেছে।

 


সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
১ লাখ ডলারের বেশি বেতন! যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়ছে যে ১৩ চাকরির চাহিদা
১ লাখ ডলারের বেশি বেতন! যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়ছে যে ১৩ চাকরির চাহিদা, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে ১ লাখ ডলারের বেশি বার্ষিক বেতন পাওয়া যায় এমন বেশ কয়েকটি পেশায় কর্মসংস্থান দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির শ্রম বিভাগ। তালিকায় স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক একাধিক পেশা রয়েছে।   শ্রম বিভাগের সর্বশেষ কর্মসংস্থান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মোট কর্মসংস্থান বাড়বে প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এর বিপরীতে, তালিকার সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা পেশা নার্স প্র্যাকটিশনারদের চাকরি বাড়তে পারে ৪১ শতাংশ।   ২০২৫ সালে নার্স প্র্যাকটিশনারদের গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ ডলার। এই পেশায় আগামী ১০ বছরে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০০ নতুন চাকরি তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।   দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেটা সায়েন্টিস্ট। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান বাড়তে পারে ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে এ পেশার মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ২৩০ ডলার।   তৃতীয় অবস্থানে থাকা মেডিকেল অ্যান্ড হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজারদের চাকরি বাড়তে পারে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ। এ পেশায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ১০০টি নতুন চাকরি তৈরির পূর্বাভাস রয়েছে এবং ২০২৫ সালে মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৬০ ডলার।   তালিকায় কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের চাকরি বাড়ার হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। এ পেশায় ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৩০০ ডলার।   ফিজিশিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্টদের চাকরি বাড়তে পারে ২১ দশমিক ১ শতাংশ। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮০ ডলার। একই সময়ে ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্টদের চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস ২১ শতাংশ এবং তাদের মধ্যম বার্ষিক বেতন প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৮০ ডলার।   এ ছাড়া পোস্টসেকেন্ডারি হেলথ স্পেশালটি শিক্ষকদের চাকরি ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ, কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ম্যানেজারদের ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অকুপেশনাল থেরাপিস্টদের ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে।   তালিকার বাকি পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিকেল সায়েন্টিস্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার, বায়োকেমিস্ট ও বায়োফিজিসিস্ট এবং ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট। এসব পেশার ক্ষেত্রেও ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় হেলথ কেয়ার ও সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স খাতে কর্মীর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত এই খাতে প্রায় ২২ লাখ নতুন চাকরি যোগ হতে পারে, যা দেশটিতে তৈরি হতে যাওয়া মোট নতুন চাকরির প্রায় ৩৭ শতাংশ।   অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারও চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন আনছে। ডেটা সায়েন্টিস্ট এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের মতো প্রযুক্তিনির্ভর পেশাগুলো উচ্চ বেতনের পাশাপাশি দ্রুত বর্ধনশীল চাকরির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের এই নতুন পূর্বাভাসে ৮০০টির বেশি পেশা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের হিসাব ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এবং বেতনের সর্বশেষ তথ্য নেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ২:১৩
রুশ ধনকুবেরের সঙ্গে এফবিআই কর্মকর্তার গোপন যোগাযোগ ফাঁস করা নারী মৃত উদ্ধার

রুশ ধনকুবেরের সঙ্গে এফবিআই কর্মকর্তার গোপন যোগাযোগ ফাঁস করা নারী মৃত উদ্ধার

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি হারিয়েছে প্রায় ২৫ লাখ শিশু

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি হারিয়েছে প্রায় ২৫ লাখ শিশু

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হলেন বুয়েটের লুৎফুর রহমান

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হলেন বুয়েটের লুৎফুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে শিশুদের পাসপোর্ট নিয়মে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ, শিশুদের পাসপোর্ট পেতে বাবা মায়ের বৈধতার প্রমাণ দিতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের পাসপোর্ট আবেদনের নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত নতুন নির্দেশনায়, সন্তানের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময় বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকদের নিজেদের মার্কিন নাগরিকত্ব কিংবা অভিবাসন status-এর প্রমাণ দিতে হতে পারে।   রয়টার্সের পর্যালোচনা করা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়া নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে শিশুদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়। তবে বাবা-মা মার্কিন নাগরিক কি না, তা জানাতে আবেদনপত্রে ঘর পূরণ করলেও সাধারণত আলাদা করে নাগরিকত্বের প্রমাণ জমা দিতে হয় না।   প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বাবা-মাকে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট বা জন্মসনদ দিতে হতে পারে। আর মার্কিন নাগরিক না হলে বৈধ অভিবাসন status-এর প্রমাণ হিসেবে স্থায়ী বসবাসের কার্ড, যেটি গ্রিন কার্ড নামে পরিচিত, কিংবা আই-৯৪-এর মতো নথি জমা দিতে হতে পারে। এসব তথ্য ব্যবহার করে সরকার নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট শিশু নতুন নির্বাহী আদেশের আওতায় মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য কি না।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়ায় বলা হয়েছে, সন্তানের পাসপোর্ট আবেদনের সময় বাবা-মায়ের তথ্য এবং তাদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন status-এর প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। এর উদ্দেশ্য হবে, সংশ্লিষ্ট শিশু প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের আওতায় পড়ছে কি না, তা নির্ধারণ করা। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের আগে আরও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বসংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ নিয়েও আদালতে মামলা চলছে।   জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর আগে ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করা। সেই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ব্যাপক আইনি চ্যালেঞ্জ হয়।   ২০২৬ সালের জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের প্রচেষ্টাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মনে করেন, ওই আদেশ সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ববিষয়ক ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এরপর ৬ আগস্ট ট্রাম্প আরও সীমিত পরিসরে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে বিশেষভাবে তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   ‘জন্ম পর্যটন’ বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়, যেখানে কোনো নারী যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ করেন এবং সন্তানের জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   ট্রাম্পের নতুন আদেশে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমন ক্ষেত্রে, যখন শিশুর বাবা-মায়ের একজন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রতারণা বা বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকে, অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘শত্রু বিদেশি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।   এই নতুন নির্দেশনা নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে। শিশুদের হয়ে মামলা করা আইনজীবীরা দুটি পৃথক ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন, যাতে ট্রাম্পের নতুন আদেশ কার্যকর হওয়া ঠেকানো যায়। এর মধ্যে একটি মামলা মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে মার্কিন জেলা বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যানের আদালতে রয়েছে। গত ২৮ আগস্ট তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আদেশটি স্থগিত করেননি। তবে এর আইনি ভিত্তি নিয়ে তিনি গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন এবং বাদীপক্ষকে তাদের মামলার আবেদন সংশোধনের অনুমতি দিয়েছেন, যাতে নতুন আদেশটি আটকে দেওয়া যায় কি না তা আদালত বিবেচনা করতে পারে।   অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, নতুন নির্দেশনার বিরুদ্ধে এখনই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উপযুক্ত হবে না। কারণ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো কীভাবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা তখনও প্রকাশ করা হয়নি।   বর্তমান মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবস্থায়ও শিশুদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, শিশুর মার্কিন জন্মসনদ, আগের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট কিংবা নাগরিকত্বের অন্য গ্রহণযোগ্য নথি দিয়ে তার নাগরিকত্ব প্রমাণ করা যায়। ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর পাসপোর্ট আবেদনে সাধারণত বাবা-মা বা অভিভাবকদের উপস্থিতি এবং তাদের পরিচয়পত্রও প্রয়োজন হয়।   তবে নতুন প্রস্তাবের পার্থক্য হলো, সন্তানের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পাশাপাশি বাবা-মায়ের নিজেদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন status-এর নথিও চাওয়া হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের অর্থ ও মূল্য রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পাসপোর্ট যাচাই প্রক্রিয়াও সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে।   তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তা শুধু পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক পরিবর্তন আনবে না, বরং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক বিতর্ককেও আরও তীব্র করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব নির্ধারণে বাবা-মায়ের status কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, সেটিই এখন আদালত ও প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।   প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় ঠিক কবে থেকে এবং কোন কোন পরিবারের ক্ষেত্রে নতুন নথি বাধ্যতামূলক হবে, তা নিশ্চিত নয়। আদালতে চলমান মামলাগুলোর সিদ্ধান্তও এই নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   সূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ২২:৩৮
সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত নিহত মার্কিন সেনার স্ত্রী ও তিন সন্তান। ছবি: সংগৃহীত

আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ যুদ্ধ ঘোষণা না করায় সুবিধা বঞ্চিত ইরানে নিহত মার্কিন সেনার পরিবার

মেটার নতুন নীতি কার্যকর হলে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম চালাতে পারবে। ছবি: সংগৃহীত

দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের সুযোগ পাবে কিশোররা, নতুন নিয়ম আনছে মেটা

জিরো ক্লিক অ্যাটাকের মাধ্যমে স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ না নিয়েই মেসেজিং অ্যাপের তথ্য চুরি করতে সক্ষম গ্রাফাইট। ছবি: সংগৃহীত

ফোনে গোপনে নজরদারি করতে পারে ‘গ্রাফাইট’, এই স্পাইওয়্যার নির্মাতার সঙ্গে আইসিইর ২০ লাখ ডলারের চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া এখন আরও কঠিন, ৯৪ শতাংশ অ্যাসাইলাম আবেদন বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া এখন আরও কঠিন, ৯৪ শতাংশ অ্যাসাইলাম আবেদন বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম পাওয়ার পথ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন অভিবাসন আদালত ব্যবস্থায় বড় ধরনের রদবদল আনায় আশ্রয় আবেদন বাতিলের হার বিস্ময়করভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   নির্দলীয় গবেষণা সংস্থা ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাক্সেস ক্লিয়ারিংহাউস (টিআরএসি)-এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে অভিবাসন বিচারকরা ১৪ হাজারের বেশি আশ্রয় আবেদনের রায় দিয়েছেন, যার মধ্যে ৯৪.১ শতাংশ আবেদনই সরাসরি বাতিল করা হয়েছে। এই মাসে মাত্র ৭৭১ জন ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের অনুমতি পেয়েছেন।   টিআরএসি-এর তথ্য বলছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের শুরুর দিকে এই অনুমোদনের হার ছিল ৫০ শতাংশের বেশি, যা তার মেয়াদের শেষে ৩২ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই পরিস্থিতি আমূল পালটে গেছে।   অভিবাসন আদালত ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে ২০২৫ এবং ২০২৬ অর্থবছরে অন্তত ২৭৯ জন অভিবাসন বিচারক পদত্যাগ করেছেন অথবা তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে, যা বাইডেন আমলের শেষ দিকের মোট বিচারক সংখ্যার প্রায় ৩৮ শতাংশ। এর বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯২ জন নতুন বিচারক এবং ৫৩ জন অস্থায়ী বিচারককে নিয়োগ দিয়েছে। ফলে চলতি বছর যারা আশ্রয়ের রায় দিচ্ছেন, তাদের অর্ধেকের বেশি ট্রাম্পের আমলে নিয়োগ পাওয়া।   তবে কেবল নতুন বিচারক নিয়োগের কারণেই যে বাতিলের হার বেড়েছে, বিষয়টি এমন নয়। টিআরএসি-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১ সাল থেকে বিচারকের আসনে থাকা ১৩০ জন পুরনো বিচারকও আগের চেয়ে অনেক বেশি আবেদন বাতিল করছেন। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে তাদের আবেদন বাতিলের হার গড়ে ৩৩ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।   তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, সামগ্রিক বাতিলের হার ৯৪ শতাংশ হওয়ার মানে এই নয় যে, প্রত্যেক আবেদনকারীর আবেদন বাতিলের আশঙ্কা ৯৪ শতাংশ। আবেদনকারীর জাতীয়তা, আইনি সহায়তা, আটকের পরিস্থিতি এবং নির্দিষ্ট বিচারকের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি মামলার রায় ভিন্ন হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ২০:০
যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা বা বের হওয়ার সময় $১০ হাজারের বেশি নগদে ঘোষণা বাধ্যতামূলক, না করলে জব্দের ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা বা বের হওয়ার সময় $১০ হাজারের বেশি নগদে ঘোষণা বাধ্যতামূলক, না করলে জব্দের ঝুঁকি

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করল জন্মদাতা বাবা, উদ্ধার নবজাতকের মরদেহ

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করল জন্মদাতা বাবা, উদ্ধার নবজাতকের মরদেহ

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে পদত্যাগ করলেন মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ডিসক্রল

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে পদত্যাগ করলেন মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ডিসক্রল, নতুন চ্যালেঞ্জে পেন্টাগন

0 Comments