সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ফ্লোরিডায় দুর্ঘটনার মামলায় টাইগার উডসের লাইসেন্স ৫ বছর স্থগিত, জরিমানা ১ হাজার ডলার

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১২:৫১
ফ্লোরিডায় গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গলফ তারকা টাইগার উডসের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গলফ তারকা টাইগার উডসের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় মার্চ মাসে গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনায় করা মামলায় সমঝোতার পর গলফ তারকা টাইগার উডসের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে এক হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। বুধবারের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ১৫ বারের মেজর চ্যাম্পিয়ন উডস বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগটি মেনে নিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।

 

৫০ বছর বয়সী উডস ফ্লোরিডার স্টুয়ার্টে মার্টিন কাউন্টি কোর্টহাউসে হাজির হন। সেখানে তিনি বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে আদালতের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন। এটি তার বিরুদ্ধে করা মূল মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগের তুলনায় কম গুরুতর অভিযোগ। এই অভিযোগে তাকে এক হাজার ডলার জরিমানা করা হয় এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

 

উডসের বিরুদ্ধে মাদক পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে অস্বীকৃতির অভিযোগও ছিল। ওই পৃথক অভিযোগের বিষয়টিও মামলার সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মার্চের ২৭ তারিখ জুপিটার আইল্যান্ডে দুর্ঘটনার পর উডসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার গাড়িটি একটি পিকআপ ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পরে উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় কোনো আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

 

দুর্ঘটনার কয়েক দিন পর উডস জানিয়েছিলেন, তিনি কিছু সময়ের জন্য পেশাদার গলফ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা নেওয়া এবং নিজের স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য তিনি সাময়িকভাবে পেশাদার গলফ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর উডস মদ্যপানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তবে মাদক পরীক্ষার জন্য প্রস্রাবের নমুনা দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় করা পুলিশি নথিতে দুর্ঘটনার সময় উডসের আচরণ সম্পর্কেও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পুলিশের হলফনামা অনুযায়ী, কর্মকর্তারা উডসকে অতিরিক্ত ঘামতে দেখেছিলেন। তাকে অলস ও ধীরগতির আচরণ করতে দেখা যায় বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার চোখ লাল ও কাচের মতো দেখাচ্ছিল বলেও পুলিশ কর্মকর্তারা বর্ণনা দিয়েছেন।

 

তদন্তকারীদের কাছে উডস জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনার আগে তিনি নিজের মুঠোফোনের দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং গাড়ির রেডিও স্টেশন পরিবর্তন করছিলেন। এ কারণে তার সামনে থাকা গাড়িটি গতি কমিয়ে দিয়েছিল, সেটি তিনি খেয়াল করেননি বলে তদন্তকারীদের জানান উডস।

 

মার্চের এই দুর্ঘটনাটি উডসের গাড়ি-সংক্রান্ত আলোচিত ঘটনার অন্তত চতুর্থ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ওই দুর্ঘটনায় তার ডান পা ও গোড়ালিতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়েছিল।

 

টাইগার উডস গলফের অন্যতম সফল খেলোয়াড়। তিনি ১৫টি মেজর চ্যাম্পিয়নশিপ এবং পিজিএ ট্যুরের ৮২টি প্রতিযোগিতায় জয় পেয়েছেন। মার্চের দুর্ঘটনার পর পেশাদার গলফ থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এবার গাড়ি চালানোর মামলায়ও আদালতের সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হলেন তিনি।

 

ফ্লোরিডার আদালতে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলাটি নিষ্পত্তির পর উডসের পাঁচ বছরের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত এবং এক হাজার ডলার জরিমানার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে অস্বীকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত পৃথক অভিযোগটিও নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

 

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে মামদানির ‘২০০ ইনফ্লুয়েন্সার বাহিনী’ নিয়ে বিতর্ক, ট্যাক্সপেয়ারদের অর্থে নিজস্ব প্রচারণার অভিযোগ
নিউইয়র্কে মামদানির ‘২০০ ইনফ্লুয়েন্সার বাহিনী’ নিয়ে বিতর্ক, ট্যাক্সপেয়ারদের অর্থে নিজস্ব প্রচারণার অভিযোগ

কলম্বিয়া জার্নালিজম রিভিউ-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনের পক্ষে প্রচার চালানোর জন্য প্রায় ২০০ জন সোশ্যাল মিডিয়া ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ বা প্রভাবশালীর একটি বিশাল বাহিনী গড়ে তুলেছেন মেয়র মামদানি।   এসব ইনফ্লুয়েন্সারকে ভিআইপি সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের সরকারি বিভিন্ন বার্তা ও ভিডিও ক্লিপ সরবরাহ করা হচ্ছে। সিটি হলের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ‘সিগন্যাল’ (Signal) নামের একটি এনক্রিপ্টেড বা গোপন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সরকারি কাজে এমন গোপন অ্যাপের ব্যবহার শহরের রেকর্ড সংরক্ষণের আইনি বাধ্যবাধকতাকে লঙ্ঘন করতে পারে বলে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ‘ক্রিয়েটরসফোরজোহরান’ (Creators4Zohran) নামের একটি গ্রুপের মাধ্যমে গত বছরের নির্বাচনী প্রচারণায় এই ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রথম কাজে লাগানো হয়েছিল। বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র কার্যালয়ের নিউ মিডিয়া এবং কালচারাল কমিউনিকেশনস বিভাগের পরিচালক এমিলিয়া রোল্যান্ড ও তাঁর দল এই গ্রুপটি পরিচালনা করছেন।   সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইনফ্লুয়েন্সারদের অর্থায়নের বিষয়টি। সরাসরি তাদের কভারেজের জন্য অর্থ প্রদান না করা হলেও, কিছু নির্দিষ্ট মেসেজিং ক্যাম্পেইনে কাজের জন্য তারা করদাতাদের অর্থ পকেটে পুরছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   যদিও তাদের ঠিক কী পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে, তা এখনও অস্পষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ কোনো সরকারি ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েন্সাররা সাধারণত বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেন না।   এই ইনফ্লুয়েন্সার বাহিনীর কয়েকজন আবার নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাও নন। অ্যালি ও’ব্রায়েন নামের একজন ইনফ্লুয়েন্সার সম্প্রতি মেয়র মামদানিকে ‘অনিয়ন্ত্রিত আনন্দের মেয়র’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট করেছেন, অথচ অনলাইনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তিনি কানেকটিকাটের বাসিন্দা।   একইভাবে ‘ব্যানানাডটগভ’ (bananadotgov) নামের ইনস্টাগ্রাম আইডি থেকে আরেক ইনফ্লুয়েন্সার ওহাইও অঙ্গরাজ্য থেকে মেয়রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সরকারি বার্তা আদান-প্রদানে সিগন্যাল অ্যাপ ব্যবহারের বিষয়টি সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়, সে সময়ও এমন এনক্রিপ্টেড যোগাযোগের কারণে তুমুল সমালোচনা হয়েছিল। কারণ, আইনের বিধান অনুযায়ী সরকারি সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সিটি হলের সব ধরনের বার্তা ও রেকর্ড সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।   এই আইনি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মেয়র মামদানি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে তথ্য ছড়ানো আর রেডিও বা টিভির মাধ্যমে প্রচারণার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।   তবে পরবর্তীতে তিনি আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নেন। তিনি জানান, তাঁর প্রশাসন সরকারি রেকর্ড উপস্থাপনের সব আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণে বদ্ধপরিকর। আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সংশোধনী ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন মেয়র মামদানি।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:৩০
কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হওয়া উচিত: ট্রাম্প

ফ্লোরিডায় গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গলফ তারকা টাইগার উডসের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় দুর্ঘটনার মামলায় টাইগার উডসের লাইসেন্স ৫ বছর স্থগিত, জরিমানা ১ হাজার ডলার

নাসাউ কাউন্টির দুটি ব্যাংকে জাল চেক জমা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার রিচার্ড আলমন্টে। ছবি: সংগৃহীত

নাসাউয়ের দুই ব্যাংকে ৬০ হাজার ডলারের বেশি জাল চেক জমা, অভিযুক্ত গ্রেফতার

ড্যানবারিতে গত সপ্তাহের আইসিই অভিযানে ৭০ জনের বেশি বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আইসিই অভিযানের পর আতঙ্কে কানেকটিকাট অভিবাসী সম্প্রদায়, আটক ৭০

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ড্যানবারিতে গত সপ্তাহের আইসিই অভিযানে ৭০ জনের বেশি বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র রবার্তো আলভেস। তবে আইসিই আনুষ্ঠানিকভাবে আটকের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। অভিযানের পর শহরের অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে স্কুলে উপস্থিতি ও স্থানীয় ব্যবসায়ও।   সোমবার ড্যানবারির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিবাসী অধিকারকর্মী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এবং মেয়র আলভেস। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তারা জানান, আইসিই আবার অভিযান চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় অনেকে কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন। সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও অনেক অভিভাবক উদ্বিগ্ন।   মেয়র আলভেসের হিসাবে, গত সপ্তাহে ড্যানবারিতে ৭০ জনের বেশি মানুষকে আইসিই আটক করেছে। স্থানীয় অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর কাছ থেকেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আইসিই অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অপারেশনাল তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে।   অভিযানের প্রভাব স্থানীয় ব্যবসাগুলোতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, নিয়মিত ক্রেতা ও কর্মীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় দোকান ও রেস্তোরাঁগুলোতে স্বাভাবিক ব্যস্ততা নেই। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অভিবাসী বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক শহরের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলছে।   ড্যানবারিতে আইসিইর তৎপরতা বাড়ার খবর প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের কর্মকর্তারা উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। সিনেটর ব্লুমেনথাল আইসিইর অভিযানের পর আটকদের বিষয়ে তথ্য এবং অভিযানের পদ্ধতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন।   কানেকটিকাটে গত সপ্তাহের অভিযানে ড্যানবারিসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আইসিই তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, অভিযান শেষ হয়ে গেলেও এর কারণে তৈরি হওয়া আতঙ্ক দ্রুত কাটবে না। মেয়র আলভেসও সতর্ক করে বলেছেন, আইসিই আবার কখন অভিযান চালাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় এখনো রয়ে গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১২:৩
মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগান সিনেট দৌড়ে এগিয়ে আবদুল এল-সাইয়েদ, ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনাও পারেনি থামাতে

হামাসের অনলাইন কার্যক্রম ও অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

হামাসের ক্রিপ্টোতে এফবিআইয়ের অভিযানে জব্দ ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, শনাক্ত হাজারো দাতা

টেক্সাসের প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে আটক অভিবাসী বার্নার্ডো মাসেও সাবন। ছবি: সংগৃহীত

২৫ বার গ্রেপ্তার অভিবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চান কংগ্রেসম্যানের প্রতিনিধিরা, বহিষ্কারের উদ্যোগ আইসের

ট্রাফিক টিকিট দেওয়ার পরও অনন্য পেশাদারিত্বের জন্য পুরস্কৃত হলেন পুলিশ কর্মকর্তা ব্রায়ান রামিরেজ। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাফিক মামলা দিয়েও পেলেন প্রশংসা, আচরণে মুগ্ধ হয়ে পুলিশ বিভাগে চিঠি লিখে নারীর কৃতজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর শেরিডান শহরে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে এক নারীকে টিকিট দিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা ব্রায়ান রামিরেজ। কিন্তু টিকিট পাওয়ার পর পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে বরং ওই কর্মকর্তার প্রশংসা করে পুলিশ বিভাগে চিঠি পাঠান তিনি। রামিরেজের আচরণ, ভদ্রতা ও পেশাদারিত্বে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন ওই নারী যে, তাঁকে ধন্যবাদ না জানিয়ে থাকতে পারেননি।   ২৯ বছর বয়সী ব্রায়ান রামিরেজ শেরিডান পুলিশ বিভাগের একজন কর্মকর্তা। পুয়ের্তো রিকোতে জন্ম নেওয়া রামিরেজের মা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একজন কর্নেল। মায়ের চাকরির কারণে তিনি কলোরাডোর ফোর্ট কারসনে বেড়ে ওঠেন। মায়ের সামরিক জীবন ও মানুষের সেবার প্রতি তাঁর নিষ্ঠাই রামিরেজকে পরবর্তী সময়ে পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।   পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে রামিরেজ ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস, ডেনভার শেরিফস ডিপার্টমেন্ট এবং অ্যারাপাহো কাউন্টি শেরিফস অফিসে কাজ করেছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর তিনি যোগ দেন শেরিডান পুলিশ বিভাগে। সেখানে দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই মানুষের সঙ্গে সম্মানজনক ও পেশাদার আচরণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন তিনি।   রামিরেজের বিশ্বাস, একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করাও তার দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, ‘আপনি কাউকে সম্মান দিলে, তারাও আপনাকে সম্মান ফিরিয়ে দেবে।’ সম্প্রতি এক নারীকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে টিকিট দেওয়ার পর তাঁর এই বিশ্বাসেরই যেন বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়।   ট্রাফিক টিকিট পাওয়ার পর ওই নারী সাধারণত যা হওয়ার কথা, অর্থাৎ পুলিশের প্রতি ক্ষোভ বা অভিযোগ প্রকাশ করেননি। বরং টিকিট দেওয়ার সময় রামিরেজ যেভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দায়িত্ব পালন করেছেন, তাতে মুগ্ধ হন তিনি। পরে শেরিডান পুলিশ বিভাগে একটি চিঠি পাঠিয়ে ওই কর্মকর্তার প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার কথা জানান।   চিঠিতে ওই নারী লেখেন, ট্রাফিক টিকিট পাওয়া কারও কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভবত বিরল। কিন্তু অফিসার রামিরেজ ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল, ভদ্র ও পেশাদার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্যের কাছ থেকে এমন দায়িত্বশীল আচরণ দেখা তাঁর কাছে সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল বলে জানান তিনি।   ওই নারী আরও উল্লেখ করেন, রামিরেজের আচরণ শুধু তাঁকেই মুগ্ধ করেনি, বরং এটি শেরিডান পুলিশ বিভাগের নাগরিকসেবার মান ও পেশাদারিত্বেরও উদাহরণ। একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ দেখা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, রামিরেজ আইন প্রয়োগের পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মচারী হিসেবে অসাধারণ উদাহরণ তৈরি করেছেন।   ট্রাফিক টিকিট দেওয়ার মতো একটি সাধারণ দায়িত্ব পালনের ঘটনাই শেষ পর্যন্ত রামিরেজের জন্য বড় স্বীকৃতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নাগরিকের কাছ থেকে পাওয়া সেই প্রশংসাপত্রের পর তাঁকে আগস্ট মাসের ‘সাপোর্ট দ্য শিল্ড অফিসার অব দ্য মান্থ’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এ সম্মাননার মাধ্যমে তাঁর পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ ও মানুষের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল।   সাধারণত ট্রাফিক টিকিট পেলে পুলিশের প্রতি মানুষের বিরক্তি বা ক্ষোভ তৈরি হয়। কিন্তু ব্রায়ান রামিরেজের ক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক তার উল্টোটা টিকিট পাওয়া ব্যক্তির কাছ থেকেই এসেছে প্রশংসা ও ধন্যবাদ। আর সেই ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্যই আগস্টের ‘সাপোর্ট দ্য শিল্ড অফিসার অব দ্য মান্থ’ হিসেবে অভিনন্দন পেয়েছেন শেরিডান পুলিশ বিভাগের এই তরুণ কর্মকর্তা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১০:১৪
ইরান আবার হামলা চালালে আরও কঠোরভাবে আঘাত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ফের হামলা চালালে ইরানকে ‘পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের পর একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন নাইলা ক্রাফট। ছবি: সংগৃহীত

এক গর্ভে তিন সন্তান, কিন্তু বাবা দুইজন! দুই যমজের পিতা এক, তৃতীয় সন্তানের পিতা অন্য

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে পুলিশ অফিসার পদে চাকরির পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরির পরীক্ষার আবেদন চলছে, কীভাবে করবেন রেজিস্ট্রেশন

0 Comments